শুক্রবার, এপ্রিল ৩, ২০২০
প্রকাশ : 2020-03-05

বিচারক বদলি আইন মন্ত্রণালয়-বিচার বিভাগের বিষয়: কাদের

০৫মার্চ,বৃহস্পতিবার,রাজনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পিরোজপুরে বিচারক বদলির ঘটনা আইন মন্ত্রণালয় ও বিচার বিভাগের বিষয় জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সরকার বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। বিএনপির সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের বিরোধিতার নামে বিএনপি মুজিববর্ষের আয়োজনকে পণ্ড করতে চাইছে। পিরোজপুরের জেলা ও দায়রা জজ বদলির ঘটনায় বিএনপি ইস্যু খোঁজার চেষ্টা করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিএনপি এখন ইস্যু খুঁজে বেড়ায়। তারা খালেদা জিয়াকে নিয়ে ইস্যু খোঁজার চেষ্টার করে, পিরোজপুরের ঘটনায়ও ইস্যু খোঁজার চেষ্টার করছে। মূলত তারা ইস্যু খোঁজার রাজনীতিতে ব্যস্ত। পিরোজপুরের ঘটনায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কিছুই করার নেই। এটা সম্পূর্ণভাবে আইন ও বিচার বিভাগের বিষয়। বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। তাই বিচারক বদলির বিষয়টি সম্পূর্ণই বিচার বিভাগ ও আইন মন্ত্রণালয়ের বিষয়। যদি কোনো ভুল বোঝাবোঝির সৃষ্টি হয়, সমাধান তারাই করবে। তিনি বলেন, বিষয়টি আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা আইনের শাসনে এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। এ বিষয়ে দলীয়ভাবে মন্তব্য করব না। তাতে দলীয় কোনো ভুল বা বিচ্যুতি দেখলে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেব। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির করা মন্তব্যের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, অনেকে আছে যারা বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করছে। যেমন বিএনপি, তারা কখনও বঙ্গবন্ধুকে সহ্য করতে পারে না। তারা জাতির পিতাকে হত্যাও করেছে। তাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা মেজর জিয়াউর রহমান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার মাস্টার মাউন্ড হিসেবে ৭৫-এ ভূমিকা রেখেছিল। কাদের আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার মাস্টার মাইন্ড, অতীতেও তারা এ অপচেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু তাদের শত চেষ্টা করেও বঙ্গবন্ধুর ঔজ্জ্বল্য ঢেকে দিতে পারেনি। এখন তারা বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী পণ্ডের পাঁয়তারা করছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাদের জন্য একটা উপলক্ষ তাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী পণ্ড করা। এর আগে গত মঙ্গলবার দুর্নীতির মামলায় পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়াল এবং তার স্ত্রী লায়লা পারভীনের জামিন আবেদন বাতিল করে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন জেলা ও দায়রা জজ আব্দুল মান্নান। এ ঘটনার পর তাৎক্ষণিক বদলি করা হয় জেলা ও দায়রা জজ আব্দুল মান্নানকে। পরে বিকেলে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা যুগ্ম জেলা জজ নাহিদ নাসরিনের দ্বিতীয় আদালত থেকে জামিন পান তারা। মঙ্গলবার সকালে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়াল ও তার স্ত্রী লায়লা পারভীন পিরোজপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিন আবেদন নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। আবেদন নাকচ করে তাদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক আব্দুল মান্নান।

রাজনীতি পাতার আরো খবর