প্রকাশ : 2020-02-12

এলাকার উন্নয়ন ও মাদক নির্মূলে কাজ করাটাই আমার একমাত্র চাওয়াঃ কাউন্সিলর তারেক সোলেমান সেলিম

১২ফেব্রুয়ারী,বুধবার,কমল চক্রবর্তী,বিশেষ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে ,নিউজ একাত্তর ধারাবাহিক ভাবে বর্তমান কাউন্সিলরদের নির্বাচন ভাবনা, এলাকার উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন , মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে ভুমিকা এবং এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনার চিত্র তুলে ধরছে। এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৩১ নং আলকরন ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর তারেক সোলেমান সেলিম এলাকার উন্নয়ন ও আগামী নির্বাচন নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা নিউজ একাত্তর এর কাছে তুলে ধরেন। সোমবার ৩ ফেব্রুয়ারি্ দুপুরে তার নিজ কার্যালয়ে নিউজ একাত্তরকে দেয়া একান্ত এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার নানা কর্মকাণ্ড ও এলাকার উন্নয়ন চিত্র তথা আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি এলাকা উন্নয়নে কি কি কাজ করবেন তা সবিস্তর ব্যক্ত করেছেন। কাউন্সিলর তারেক সোলেমান সেলিম জানিয়েছেন, তিনি সংগঠন করেন তাই সংগঠনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ও এলাকার জনগন চাইলে তিনি আগামী নির্বাচনে আবারও প্রার্থী হবেন। তিনি আশাবাদী এলাকায় যে সকল কাজ করেছেন তাতে এলাকার জনগন তাকে পুনরায় আবার কাউন্সিলর হিসাবে নির্বাচিত করবে। তিন একটানা চার টার্ম ধরে কাউন্সিলর হিসাবে কাজ করছেন। বিগত তিন মেয়াদে যে পরিমান কাজ হয় নাই চলতি মেয়াদে অনেক বেশি কাজ হয়েছে। এলাকার উন্নয়ন ও মাদক নির্মূলে কাজ করাটাই আমার একমাত্র চাওয়া। তিনি আরো জানান, বর্তমান মেয়রের সহায়তায় চলতি মেয়াদে তার এলাকায় সর্বমোট প্রায় ২৫ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পে উন্নয়ন কাজ হয়েছে। উল্লেখযোগ্য কাজ গুলো হল এলাকার প্রতিটি রাস্তা পাকাকরন ও সম্প্রসারণ করেছেন। সকল কাঁচা রাস্তা গুলো পাকাকরনের কাজ করছেন। ড্রেন ও নালা গুলো সম্প্রসারণ ও সংস্কার করেছেন। রাস্তায় ব্যপক আলোকায়নের ব্যবস্থা করেছেন। এলাকার প্রতিটি সড়ক সংস্কার করেছেন। ড্রেন ও নালা গুলো পরিস্কার করেছেন। বিশেষ করে অভয়মিত্রঘাটে নতুন ব্রিজ স্থাপন ও ব্রিজ সংগ্লগ্ন রাস্তা সংস্কার , ওয়াকওয়ে নির্মাণ ও বিনোদনের উপযোগী করা হয়েছে। কবি নজরুল ইসলাম রোড এর উভয় পাশে নতুন ড্রেন নির্মাণ ও সম্প্রসারণ। ফলমন্ডি থেকে নিউ মার্কেট পর্যন্ত ও স্টেশন রোড এর দক্ষিন পাশে নতুন ড্রেন নির্মাণ। নিউ মার্কেট মোড়ে স্বাধীনতা স্থম্ভ নির্মাণ যেটি কামাল চত্ত্বর নামে পরিচিত। আলকরন মোড়ে আলকরন চত্ত্বর নির্মাণ ও সজ্জিতকরন। সদরঘাট রোড থেকে কবি নজরুল ইসলাম মোড় ও সাইকেল পার্টস রোড থেকে নিউ মার্কেট পর্যন্ত সড়কের উন্নয়ন ও কারপেটিং। স্টেশন রোড এর ফুট ওভার ব্রিজ সংস্কার ও টাইলস বসানো। নিউ মার্কেট রোড এলাকার জলসা মার্কেটের এর সামনের ফুট ওভার সংস্কার। আলকরন ওয়ার্ডের ছোট ছোট গলি-উপগলি কারপেটিং ও সিসি ঢালাই কাজ। সড়কে ব্যাপক আলোকায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পূর্বে বেশ কিছু এলাকায় ডাস্টবিন ছিল যারফলে মানুষকে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হত। বিশেষ করে স্টেশন রোড ,জুবলী রোড, অপর্ণাচরন স্কুল, রিয়াজ উদ্দিন বাজার ও এর আশপাশ এলাকা। এখন ডাস্টবিন গুলো সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ময়লা আবর্জনা অপসারনে মেয়রের ঘোষিত ক্লিন সিটি ও গ্রিন সিটি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন। সেইসাথে ডোর টু ডোর ময়লা অপসারনের ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। চট্টগ্রামের বৃহত্তর পাইকারী বাজার রিয়াজুদ্দিন বাজারের ও ফলগলির সামনের বড় ডাস্টবিন অপসারণ। বাজার ও এলাকার ভিতরের ডাস্টবিন অপসারণ। ডোর টু ডোর ময়লা অপসারণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তবে জনসচেতনতার অভাবে ডোর টু ডোর ময়লা অপসারনে অনেকটা বেগ পেতে হয়। তাই ক্লিন সিটি ও গ্রিন সিটি বাস্তবায়নে জনগনের সচেতনতা জরুরি। রিয়াজ উদ্দিন বাজারের জলজট নিরসনে নালার মাটি অপসারন ও সংস্কার। স্টেশন রোড থেকে নিউ মার্কেট পর্যন্ত ড্রেন সম্প্রসারন ও মেরামত করা হয়েছে। মাদক ও সন্ত্রাস ব্যপারে তিনি জিরো টলারেন্স। মাদক নিয়ন্ত্রনের জন্য জনসচেতনতার কোন বিকল্প নেই। তাই জনসচেতনতা তৈরি ও মাদক নিয়ন্ত্রনের জন্য উঠান বৈঠক ও সভা সমাবেশ করেছি। সেই সাথে প্রশাসনকে ও সহযোগিতা করেছি মাদক নির্মূলে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের একটি আইন শৃঙ্খলা স্ট্যান্ডিং কমিটি আছে। এই স্ট্যান্ডিং কমিটি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৪১টি ওয়ার্ডে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, শিক্ষক, ছাত্র, সমাজের বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের উপস্থিতিতে সভা সমাবেশ করা হয়েছে। তিনি জানান, আগামী ৬ তারিখ বিকালে লালদিঘী মাঠে মেয়র মহোদয় এর উদ্দ্যেগে চসিক ৪১ ওয়ার্ড এর সমন্বয়ে একটি মাদক ও সন্ত্রাস বিরোধী বিশাল এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে উপস্থিত থাকবে সকল প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ ও বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ। এই সমাবেশ থেকে মেয়র মহোদয় মাদক ও সন্ত্রাস এর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করবেন বলেও জানান। তিনি জানান, আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে এলাকার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে চান। মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে কাজ করে যাবেন। ওয়ার্ডকে মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত একটি মডেল ওয়ার্ডে রুপান্তরিত করবেন। প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় ৩১ নং আলকরন ওয়ার্ডের কয়েকজন এলাকাবাসীর সাথে এখানে তাদের মতামত তুলে ধরা হলঃ ৩১ নং আলকরন ওয়ার্ডের সাইকেল পার্টস রোড এলাকার স্থানীয় এক বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন (৪৬) জানান, বর্তমান কাউন্সিলর তারেক সোলেমান সেলিম ভাই এই নিয়ে চার টার্ম কাউন্সিলর হসাবে কাজ করছেন। তিনি বিগত সময়ের চেয়ে এই চলতি মেয়াদে এলাকা্র উন্নয়নে বেশ কিছু কাজ করেছেন। রাস্তা ঘাট গুলো সংস্কার করেছেন ও কারপেটিং এর কাজ করেছেন। মাদক নির্মূলে ওনি মোটামুটি কাজ করেছেন। তাকে আবারও সুযোগ দেওয়া দরকার কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে।আগামী নির্বাচনে আবারও নির্বাচিত হবে বলে আশা করি। ৩১ নং আলকরন ওয়ার্ডের স্টেশন রোড এলাকার এক হোটেল ব্যবসায়ী মোঃ সাইদুজ্জামান খালেদ (৪৭) জানান,বর্তমান কাউন্সিলর তারেক সোলেমান সেলিম ব্যক্তি হিসাবে অনেক ভালো।এলাকায় ওনার যেমন প্রভাব আছে তেমনি গ্রহণযোগ্যতাও আছে। তিনি এলাকার রাস্তা ঘাটের উন্নয়নে কাজ করেছেন। জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন ও নালা গুলোর সংস্কার করেছেন। আশা করছি এলাকার জনগন আবার নির্বাচিত করবে। ৩১ নং আলকরন ওয়ার্ডের নিউ মার্কেট এলাকার এক কাপড় ব্যবসায়ী মোঃ সাইদ (৪৮) জানান, কাউন্সিলর তারেক সোলেমান সেলিম ভাই এই এলাকার সন্তান। তাছাড়া তিনি বেশ কয়েকবার নির্বাচিত হয়েছেন।এলাকার রাস্তা ঘাটের ব্যাপক সংস্কার কাজ হয়েছে। তিনি আবারও নির্বাচিত হবেন বলে আশা করি।

সাক্ষাৎকার পাতার আরো খবর