প্রকাশ : 2020-01-29

যৌতুকমুক্ত বাংলা চান? তবে লাখো কোটি দেনমোহর দাবি বন্ধ করুন--

২৯জানুয়ারী,বুধবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেনমোহর ও যৌতুক বর্তমান আধুনিক যুগে যেন একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী বা একে অপরের পরিপূরক। এখন বিবাহ বন্ধনটা যেন প্রতিযোগিতা আসর। কে, কার চেয়ে বেশি দেনমোহর দাবি করবে বা কে বেশি দিবে? আবার, কার বাবা কার মেয়ের জন্য শ্বশুর বাড়িতে যৌতুক কত দিচ্ছে বা ফার্ণিচার কয় পদের? বর্তমান এমন সমাজ ব্যবস্হায় নিজেদের মাঝে এমন আদিপত্য বজায় রাখতে গিয়ে সংসার আগুন, খুন পর্যন্ত সম্মুখীন হচ্ছে স্বামী স্ত্রী। ভাঙ্গণ হচ্ছে শত শত পরিবার সুখ সংসার। যদি এই দু-সমস্যা হতে আমরা মুক্তি চাই তবে উভয়দিকে নমনীয় ও ধর্মীয় নিয়মকানুন অনুসরণ হবে একমাত্র মুক্তিদিশারী। আপনি যদি মেয়েকে যৌতুকমুক্ত বিবাহ দিতে চান তবে পাত্র আয়ের উপর নির্ভর করে দেনমোহর দাবি করুন। কেননা, মুসলিম বিয়েতে স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রী যে অর্থ সম্পদ পেয়ে থাকে তাকেই দেনমোহর বলে। বিয়ের সময় স্ত্রীকে দেনমোহর প্রদান করা স্বামীর উপর ফরজ। পবিত্র কুরআনুল কারীমে এই বিষয়ে সরাসরি আল্লাহর হুকুম রয়েছে- ইরশাদ হচ্ছে- وَاَتُوْا النِّسَاءَ صَدُقَتِهِنَّ نِحْلَةً فَاِنْ طِبْنَ لَكُمْ عَنْ شَىْءٍ مِنْهُ نَفْسًا فَكُلُوْهُ هَنِيْئًا مَّرِيْئًا . অর্থাৎ- আর তোমাদের স্ত্রীদের তাদের দেনমোহর দিয়ে দাও খুশি মনে। অবশ্য স্ত্রী চাইলে দেনমোহর কিছু অংশ কিংবা সম্পূর্ণ অংশ ছেড়ে দিতে পারে । এছাড়াও পবিত্র কুরআনের আরো বিভিন্ন জায়গায় স্ত্রীকে মোহর প্রদান করার কথা বলা হয়েছে। কেউ মোহর দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার জন্য হাদিস শরীফে কঠিন হুশিয়ারী উচ্চারণ করা হয়েছে। রাসুলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- যে ব্যক্তি কোন মেয়েকে মোহরানা দেওয়ার ওয়াদায় বিয়ে করেছে, কিন্তু মোহরানা দেওয়ার ইচ্ছা নেই, সে কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট ব্যভিচারী হিসেবে দাঁড়াতে বাধ্য হবে। বর্তমানে আমাদের সমাজে মোহর নির্ধারণ নিয়ে অনেক বাড়াবাড়ি হয়। অনেক ক্ষেত্রে কন্যা পক্ষের পছন্দ মোতাবেক মোহর নির্ধারিত না হওয়ায় বিবাহ ভেঙ্গে যায়। পাত্রের সামর্থ্যরে বাইরে তার উপর মোহরের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। অথচ ইসলামে মোহর নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করা থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে। হাদিস শরীফে এসেছে- قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ: لَا تُغَالُوا صَدَاقَ النِّسَاءِ، فَإِنَّهَا لَوْ كَانَتْ مَكْرُمَةً فِي الدُّنْيَا، أَوْ تَقْوًى عِنْدَ اللَّهِ، كَانَ أَوْلَاكُمْ وَأَحَقَّكُمْ بِهَا مُحَمَّدٌ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ;مَا أَصْدَقَ امْرَأَةً مِنْ نِسَائِهِ، وَلَا أُصْدِقَتِ امْرَأَةٌ مِنْ بَنَاتِهِ أَكْثَرَ مِنِ اثْنَتَيْ عَشْرَةَ أُوقِيَّةً، وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيُثَقِّلُ صَدَقَةَ امْرَأَتِهِ حَتَّى يَكُونَ لَهَا عَدَاوَةٌ فِي نَفْسِهِ .অর্থাৎ- হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, মহিলাদের মোহরের ব্যাপারে তোমরা বাড়াবাড়ি করো না। কেননা তা যদি পার্থিব জীবনে সম্মান অথবা আল্লাহর কাছে তাক্বওয়ার প্রতীক হতো, তাহলে তোমাদের মধ্যে মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে অধিক যোগ্য ও অগ্রগণ্য ছিলেন। তিনি তার স্ত্রী ও কন্যাদের মোহর বারো উকিয়ার বেশি ধার্য করেননি। কখনও অধিক মোহর স্বামীর উপর বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। মোহরের পরিমান বেশি নির্ধারণ করার কারণে আমাদের সমাজে অধিকাংশ স্বামীর ক্ষেত্রেই মোহর পরিশোধ না করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এটা সম্পূর্ণরুপে ইসলাম পরিপন্থী কাজ। তাই আমাদের এই ব্যাপারে অধিক সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। আর পাত্র সামর্থ্য বিবেচনায় যদি আয়ের উপর দেনমোহর ধার্য হয় তবে কখনও কোনো পুরুষ বিবাহের সময় যৌতুক হিসেবে একটা সুতাও নিবে না। তাই পরিশেষে বলতেই হয়- যৌতুকমুক্ত বাংলা চান, তবে লাখো কোটি দেনমোহর দাবি বন্ধ করুন।- মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম আলফি, ব্লগার ও সোশ্যাল এওয়ারন্যাস ওয়ার্কার, শিক্ষার্থী, স্নাতক ৪র্থ বর্ষ, হিসাববিজ্ঞান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

নকশা পাতার আরো খবর