প্রকাশ : 2017-11-26

চট্টগ্রামে ভর্তি বানিজ্যে অভিযুক্ত বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সামাজিক ভাবে বয়কটে প্রচ

জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম, জেলা শিক্ষা অফিস, শিক্ষা বোর্ড ও ক্যাব প্রতিনিধি সমন্বয়ে গঠিত মনিটরিং টিমের তদন্তে প্রাথমিক ভাবে ৪৬টি প্রতিষ্ঠান অভিযুক্ত হয়ে পরবর্তীতে তারা অতিরিক্ত অর্থ ফেরত/সমন্বয় করতে রাজি হলেও ভর্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভর্তি নীতিমালা অনুসরণ না করে অতিরিক্ত ফিস আাদায়, পূনঃ ভর্তিতে বিপুল পরিমান অর্থ আদায়, টিসি গ্রহনে পুরো বছরের ফিস আদায়সহ নামে-বেনামে বিপুল পরিমান অর্থ আদায়ে অভিযোগ প্রমানিত ০৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সর্বশেষ পর্যায়ে একাডেমিক স্বীকৃতি বাতিল ও ০৫টিকে কারন দর্শানো প্রদান করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা বোর্ডের একাডেমিক স্বীকৃতি বাতিলকৃত প্রতিষ্ঠানগুলো হলোঃ মেরন সান স্কুল অ্যান্ড কলেজ, চকবাজার, মেরিট বাংলাদেশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, চিটাগাং আইডিয়াল স্কুল, জামালখান, চিটাগাং ন্যাশনাল ইংলিশ স্কুল(চকবাজার), মির্জা আহম্মেদ ইস্পাহানী উচ্চ বিদ্যালয়, পাহাড়তলী, এলিমেন্টারী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দামপাড়া এবং চট্টগ্রাম ক্যান্টমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, চিটাগাং ক্যান্টমেন্ট ইংলিশ স্কুল, হালিশহর ক্যান্টমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বিএএফ শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজকে স্বীকৃতি কেন বাতিল হবে না তার ব্যাখ্যা জানানোর জন্য কারন দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছেন। পরবর্তীতে এ সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের মুল্যবান শিক্ষা জীবনের কথা বলে মাননীয় হাইকোর্টে গিয়ে স্থগিতাদেশ নিয়ে আসেন। হাইকোর্টে মামলা চলাকালীন সময়ে এসমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ২০১৮ শিক্ষা বর্ষে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর উদ্যোগ নিতে পারেন। ভর্তি বানিজ্যে অভিযুক্ত ও এ বিষয়ে হাইকোর্টে মামলা চলাকালীন প্রতিষ্ঠানে আপনার সন্তান ভর্তি হলে আপনার সন্তানের শিক্ষা জীবন হুমকিতে পতিত হতে পারেন। একই সাথে এসমস্ত অভিযুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সামাজিক ভাবে বয়কটের আহবান জানানো হয়েছে। ২৫ নভেম্বর ২০১৭ইং চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে ভর্তি বানিজ্যে অভিযুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সামাজিক ভাবে বয়কটে প্রচারণা কর্মসুচি ্উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ আহবান জানান দেশের ক্রেতা-ভোক্তাদের জাতীয় প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(ক্যাব) চট্টগ্রাম নগর ও বিভাগীয় কমিটি। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ক্যাব মহানগর কমিটির সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, ক্যাব দক্ষিন জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান, ক্যাব মহানগর সাধারন সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, যুগ্ন সম্পাদক এ এম তৌহিদুল ইসলাম, ক্যাব নেতা জান্নাতুল ফেরদৌস, ফারহানা জসিম, হারুন গফুর ভুইয়া, সেলিম জাহাঙ্গীর, সেলিম সাজ্জাদ, জানে আলম, জহিরুল ইসলাম প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে ক্যাব নেতৃবৃন্দ বলেন অভিযুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে কিছু কিছু গণমাধ্যম, সামাজিক প্রতিষ্ঠান, কর্পোরেট হাউজ ও এনজিও কর্তৃক বিজ্ঞান উৎসব, ভাষা উৎসব, বির্তকসহ নানা অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘটনা দুঃখ ও উদ্বেগ জনক। অনিয়মে অভিযুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন, পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান, প্রতিষ্ঠানগুলিতে বিভিন্ন কর্মসুচিতে সরকারী-বেসরকারী কর্মকর্তা, মন্ত্রী, সাংসদ, শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান, গণমাধ্যম ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দদের উপস্থিতির অর্থ দাঁড়ায় তাঁরা এ ধরনের অনিয়ম ও পুকুর চুরিকে স্বীকৃতি প্রদান করা। কারন অভিযুক্ত এ সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলি সরকারী নির্দেশনা না মেনে চাল-ডালের ব্যবসায়ীদের মতো জনগনের পকেট কাটছে। আর তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে যারা শিক্ষা জীবন শেষ করে বের হবে তারাও কোন নিয়ম শৃংখলা মানতে আগ্রহী না হয়ে সত্যিকারের মানুষ হবার পরিবর্তে অমানুষ হয়ে গড়ে উঠতে পারে, যা পুরো জাতির জন্য ভয়ংকর হতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শিক্ষায় পচনরোধে ভর্তি বানিজ্যে অনিয়মে অভিযুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে সামাজিক ভাবে বর্জন করা, আগামী শিক্ষা বর্ষে আপনার সন্তানকে ভর্তি করাতে এখনই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেয়া, প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ, শিক্ষার মান, প্রতিষ্ঠানটি সরকারী নিয়ম-নীতি মেনে চলার ইতিহাস ইত্যাদি খোঁজ না নিয়ে ভর্তি করালেই আপনার সন্তানের শিক্ষা জীবন মাজপথে থেমে যেতে পারে। তাই সম্মানিত অভিভাবকমন্ডলী, শিক্ষক/শিক্ষিকা, সমাজের সচেতন জনগোষ্ঠি, ছাত্র, যুবগোষ্ঠি, গণমাধ্যম, নারী, মানবাধিকার, পেশাজীবিসহ সকল মহলকে সচেতন করার লক্ষ্যে ভর্তি বানিজ্যে অভিযুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে সামাজিক ভাবে বয়কটে প্রচারণা কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। কর্মসুচির আওতায় ক্যাব প্রতিনিধিদল অভিযুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক, জেলা প্রশাসন, শিক্ষা বোর্ড ও অধিদপ্তর, সিটিকর্পোরেশন, শিক্ষক সমিতি, গণমাধ্যম, পেশাজীবি, রাজনৈতিক দল, নারী ও মানবাধিকার সংগঠন, ছাত্র ও যুব সংগঠনগুলির সাথে মতবিনিময় সভার আয়োজন, স্মারকলিপি প্রদান, প্রচারপত্র বিলি, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসুচি আয়োজন করা হবে। এ প্রচারনা কর্মসুচিকে সফল করতে গণমাধ্যম কর্মীসহ সকলের সক্রিয় সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করা হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

সারা দেশ পাতার আরো খবর