প্রকাশ : 2020-01-07

চট্টগ্রাম-কলকাতা পরীক্ষামূলক ট্রান্সশিপমেন্ট এ মাসেই: বন্দর চেয়ারম্যান

০৭জানুয়ারী,মঙ্গলবার,ষ্টাফ রিপোর্টার,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারতকে ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা দিতে চট্টগ্রাম বন্দর প্রস্তুত রয়েছে জানিয়ে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল জুলফিকার আজিজ বলেছেন, এ মাসেই দুই দফা পরীক্ষামূলক (ট্রায়াল রান) ট্রান্সশিপমেন্ট হবে। মঙ্গলবার দুপুরে বন্দর ভবনে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন,বন্দরের পক্ষ থেকে আমরা প্রস্তুত। আমাদের যথেষ্ট সক্ষমতা আছে। যদি জাহাজ আসে আমরা সেবা দিতে পারব। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্থিং দেয়া বা স্পেশাল এরিয়া থাকবে কিনা সেটা নির্ভর করবে চুক্তির উপর। আমাদের জানানো হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারব। জানুয়ারিতেই দুটি ট্রায়াল রান হবে চট্টগ্রাম বন্দর ও ক্যালকাটা বন্দরের মধ্যে। তারপরে রেগুলার রান হবে। ট্রান্সশিপমেন্টের ট্যারিফ (মাশুল) বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত যেটা সেটাই হবে। বন্দর সম্প্রসারণের বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, ২০১৩ সালে একটা স্ট্র্যাটেজিক মাস্টারপ্ল্যান করা হয়। সেটা পরবর্তী ৩০ বছরের জন্য, ২০৪৩ সাল পর্যন্ত। তখন কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ১৪ মিলিয়ন টিইইউএস (টোয়েন্টিফিট ইক্যুভেলেন্ট ইউনিট, প্রতিটি ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের কন্টেইনার) হবে। আমরা এখন ৩ মিলিয়ন ক্লাবে। আরো ১১ মিলিয়ন টিইইউএস বাড়বে। যতই সম্প্রসারণ করি চট্টগ্রাম বন্দরে ৪ মিলিয়ন টিইইউএস এর বেশি হ্যান্ডলিং করতে পারব না। এজন্য আমরা বে টার্মিনাল ও মাতারবাড়ি করছি। তখন বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরও ছিল না। এখন আরেকটা প্ল্যান করা হচ্ছে সারাদেশে কি পরিমাণ ট্রেড হবে সেটাসহ যোগ করে। বে-টার্মিনালের বিষয়ে জুলফিকার আজিজ লিখিত বক্তব্যে বলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে বে-টার্মিনালের দেড় হাজার মিটার মাল্টিপারপাস টার্মিনাল এবং ১২২৫ ও ৮৩০ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণের লক্ষ্যে কাজ চলছে। এখন জোয়ারের সময় গড়ে চার ঘণ্টায় সাড়ে নয় মিটার ড্রাফটের (জাহাজের পানির নিচে থাকা অংশের গভীরতা) ও সর্বোচ্চ ১৯০ মিটির দৈর্ঘ্যের জাহাজ দিন-রাত ভিড়ানোর সুযোগ থাকবে। কর্ণফুলী নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে প্রশ্নে জুলফিকার আজিজ বলেন, দূষণ নিয়ন্ত্রণে ফ্লোটিং গার্বেজ (ভাসমান আর্বজনা) নিয়ন্ত্রণে চীন থেকে বিশেষ নৌকা আনা হবে। মোহনায় দুইটা এবং সদরঘাটে দুইটা রাখব। যাতে ময়লা না পড়ে নদীতে। ড্রেজিং চলমান প্রক্রিয়া। কর্ণফুলীতে নরমাল ড্রেজিং সম্ভব না। গ্র্যাব দিয়ে ট্রায়াল করা হচ্ছে। সফল হলে আরো গ্র্যাব দিয়ে কাজ করা হবে। কর্ণফুলীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়ে হাই কোর্টে তলবের বিষয়ে জানতে চাইলে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন,উচ্ছেদ অভিযান চলমান প্রক্রিয়া। প্রস্তুতি নিয়ে আবার উচ্ছেদ হবে। যতটুকু দখলে ছিল তার ৩০ শতাংশ আমরা উচ্ছেদ করেছি। বাকিটা ধীরে ধীরে করব। নতুন ধাপের জন্য পরিকল্পনা করছি। আবারো ২৫-৩০ শতাংশ উচ্ছেদ একসাথে করবে। উচ্ছেদ থেমে নেই। স্ক্যানিং মেশিন বন্দর না কাস্টমস কিনবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাস্টমস নতুন দুটি স্ক্যানিং মেশিন স্থাপন শেষ করেছে। আমদানি-রপ্তানি কার্গো এগুলো দিয়ে স্ক্যান করতে পারবে। আইএসপিএসর চাহিদা- রপ্তানি কার্গো স্ক্যান করা। আমরাও কয়েকটা স্ক্যানিং মেশিন কিনব। বন্দর সম্প্রসারণে বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, বছরে সাড়ে চার লাখ টিইইউএস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং এর লক্ষ্যে নির্মিতব্য পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালের (পিসিটি) প্রায় ৫২ শতাংশ কাঠামো সম্পন্ন হয়েছে। এখানে ছয়শ মিটার জেটিতে ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ১০ মিটার ড্রাফটের তিনটি কন্টেইনারবাহী জাহাজ এবং ২২০ মিটার দৈর্ঘ্যের ডলফিন জেটিতে একটি তেলবাহী জাহাজ ভিড়বে। ব্যাকআপ ইয়ার্ড থাকবে প্রায় ১৬ একর, যেখানে সাড়ে চার হাজার টিইইউএস কন্টেইনার ধারণক্ষমতা থাকবে। মুজিববর্ষে পিসিটিতে অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু করা যাবে। এক প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন,আপনারা লিখে নিয়ে যান, ২০২৫ সালে চট্টগ্রামে কোনো ট্রাক ঢুকবে না। চট্টগ্রাম বন্দর ও বে-টার্মিনালের মধ্যে আলাদা সংযোগ সড়ক হবে। কন্টেইনার বন্দর থেকে সেখানে চলে যাবে। বে-টার্মিনাল এলাকায় আট হাজার ট্রাক ধারণক্ষমতার টার্মিনাল হবে। সেখান থেকে ডেলিভারি হয়ে যাবে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে বন্দরের পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই দাবি করে চেয়ারম্যান বলেন, আইএসপিএস (ইন্টারন্যাশনাল শিপ অ্যান্ড পোর্ট ফ্যাসিলিটি সিকিউরিটি) কোড আমাদের মানতে হয়। বন্দর সংলগ্ন সড়কে ট্রাক চলাচলে যেন কোনো বাধা না হয়। এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ের নিচের রাস্তা ট্রাক চলাচলের জন্য যেন কমে না যায়। এজন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে নতুন লে-আউট দিতে বলেছি। সেটা দিয়েছে। আমরা অনুমোদন করেছি। সে অনুযায়ী কন্সট্রাকশন ডিজাইন করা তাদের কাজ। লিখিত বক্তব্যে বন্দর চেয়ারম্যান জানান, ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে ২৯ লাখ ৩ হাজার টিইইউএস কন্টেইনার ওঠানামা হয়, যা ২০২৯ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৩০ লাখ ৮৮ হাজার টিইইউএসে। এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। পাশাপাশি কার্গো ওঠানামা হয় ১০ কোটি ৩০ লাখ মেট্রিক টন; প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ০৩ শতাংশ। ২০১৮ সালে বন্দরে জাহাজ আসে ৩৭৪৭টি এবং ২০১৯ সালে জাহাজ আসে ৩৮০৭টি। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বন্দরের সদস্য জাফর আলম, কমডোর এম শফিউল বারী এবং ক্যাপ্টেন এম মহিদুল হাসানসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর