শুক্রবার, জুলাই ৩, ২০২০
প্রকাশ : 2019-12-26

জুমার দিনের বিশেষ মুহূর্ত

২৬ডিসেম্বর,বৃহস্পতিবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: সপ্তাহিক দিন গুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন জুমা। এই দিন মুসলমানদের জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ। রাসুল (সা.) বলেছেন,সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এই দিন তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিন তাঁকে জান্নাত থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে (মুসলিম, হাদিস: ১৮৬১)। তার মানে দুনিয়াতে মানুষের আগমন ঘটেছিল এই জুমার দিনেই। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) আমাদের সঙ্গে একদিন শুক্রবারের ফজিলত ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন,জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে,সেই সময়টায় যদি কোনো মুসলিম নামাজ আদায়রত অবস্থায় থাকে এবং আল্লাহর কাছে কিছু চায়, আল্লাহ অবশ্যই তার সে চাহিদা বা দোয়া কবুল করবেন এবং এরপর রাসুল (সা.) তার হাত দিয়ে ইশারা করে সময়টির সংক্ষিপ্ততার ইঙ্গিত দেন। (বুখারি,হাদিস : ৬৪০০)। উক্ত হাদিস দ্বারা বোঝা যাচ্ছে,জুমার দিনের বিশেষ একটি মুহূর্ত আছে,যখন আল্লাহ তাঁর বান্দার সব দোয়া কবুল করেন। কিন্তু জুমার দিনের সেই বিশেষ মুহূর্তটি কোনটি-তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। ইমাম মিম্বরে উঠার পর থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত ঃ আবু দারদা ইবনে আবু মুসা আশআরি (রা.) হতে বর্ণিত,তিনি বলেন,আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি,তিনি বলেন,আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি,তিনি জুমার দিনের বিশেষ মুহূর্তটি সম্পর্কে বলেছেন, ইমামের মিম্বরে বসার সময় থেকে নামাজ শেষ করা পর্যন্ত সময়টিই সেই বিশেষ মুহূর্ত। (আবু দাউদ,হাদিস: ১০৪৯)। আসরের শেষ সময় ঃ অর্থাৎ সূর্য ডোবার আগমুহূর্তে। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত,রাসুল (সা.) বলেছেন,জুমার দিনের বারো ঘন্টার মধ্যে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে যদি কোনো মুসলিম এ সময়ে আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করে,তাহলে মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাকে দান করেন। এ মুহূর্তটি তোমরা আসরের শেষ সময়ে অনুসন্ধান করো। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন,রাসুল (সা.) বলেছেন, সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিনই হচ্ছে সর্বোত্তম। আদম (আ.)-কে এই দিনেই সৃষ্টি করা হয়েছিল। এই দিনই তাঁকে জান্নাত থেকে বের করে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল। এই দিনই তাঁর তাওবা কবুল হয়েছিল। এই দিনই তিনি ইন্তেকাল করেছিলেন এবং এই দিনই কিয়ামত সংঘটিত হবে। জিন ও মানুষ ছাড়া প্রতিটি প্রাণী শুক্রবার দিন ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কিয়ামতের ভয়ে ভীত থাকে। এই দিন এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, নামাজরত অবস্থায় কোনো মুসলিম বান্দা মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে কোনো অভাব পূরণের জন্য দোয়া করলে মহান আল্লাহ তাকে তা দান করেন। কাআব (রা.) বলেন,এই সময়টি প্রতি এক বছরে একটি জুমার দিনে থাকে। আমি (আবু হুরায়রা) বললাম,না,বরং প্রতি জুমার দিনে থাকে। অতঃপর কাআব (রা.) (এর প্রমাণে) তাওরাব পাঠ করে বলেন,রাসুল (সা.) সত্যই বলেছেন। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, অতঃপর আমি আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি অবহিত করি। সেখানে কাআব (রা.) ও উপস্থিত ছিলেন। আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বললেন,আমি দোয়া কবুলের বিশেষ সময়টি সম্পর্কে জানি। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন,আমাকে তা অবহিত করুন। তিনি বলেন, সেটি হলো জুমার দিনের সর্বশেষ সময়। আমি (আবু হুরায়রা) বললাম,জুমার দিনের সর্বশেষ সময় কেমন করে হবে? অথচ রাসুল (সা.) বলেছেন,যেকোনো মুসলিম বান্দা নামাজরত অবস্থায় ওই সময়টি পাবে। কিন্তু আপনার বর্ণনাকৃত সময়ে তো নামাজ আদায় করা যায় না। আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বলেন,রাসুল (সা.) কি বলেননি,যে ব্যক্তি নামাজের জন্য বসে অপেক্ষা করবে সে নামাজ আদায় করা পর্যন্ত নামাজরত বলে গণ্য হবে। আবু হুরায়রা বলেন,আমি বলালাম,হ্যাঁ। আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বলেন,তা এরুপই। (আবু দাউদ,হাদিস : ১০৪৬)। লেখকঃ মোঃ ইরফান চৌধুরী,প্রকাশক,ই-প্রিয়২৪,প্রাবন্ধিক ও মানবাধিকার কর্মী,(ছাত্র)।

বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর