শুক্রবার, মে ২৯, ২০২০
প্রকাশ : 2019-12-16

বীর শহীদদের প্রতি জাতীয় স্মৃতিসৌধে লাখো মানুষের শ্রদ্ধা

১৬ডিসেম্বর,সোমবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধের শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে লাখো জনতা। এ সময় সর্বস্তরের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় ফুলে ফুলে ভরে উঠে শহীদ বেদী। জাতির সূর্য-সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দিনের শুরুতেই ফুলেল শুভেচ্ছা জানান রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিদেশি কূটনৈতিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। সোমবার সকালে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে একাত্তরের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী বলেন, সাম্প্রদায়িক অপশক্তির কারণে স্বাধীনতাকে এখনো সুসংহত করা যায়নি। স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি মুক্তিযুদ্ধের পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর যে দোসর, তাদের প্রেতাত্মারা আজও বাংলার মাটিতে বিজয়কে সুসংহতকরণের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির বংশধরদের ক্ষেত্রে আমাদের কোনো আপস নেই। তাই দলে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে কেউ থাকলে আগামী সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের বের করে দেয়া হবে। আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, কেবলমাত্র মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তিই আওয়ামী লীগ করতে পারবে। এদিকে স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পর জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির হুমকির বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, 'বাংলাদেশ এখনও নিরাপদ হয়নি। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর আগে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সস্পূর্ণরূপে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য রাজাকার সমর্থিত সরকার যেন ক্ষমতায় আসতে না পারে সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে। তিনি আরও বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে যে লক্ষ্য ও চেতনা ছিল, সে লক্ষ্য অনুযায়ী আমরা সম্পূর্ণভাবে এগোতে পারিনি। যদি পঁচাত্তরে রাজনৈতিক বিপর্যয় না হতো, সামরিক শাসন না থাকত তাহলে আমরা আরও এগোতে পারতাম। তাই আর যাতে আমরা হোঁচট না খাই, তার গ্যারান্টি অর্জন করাটাই এ মুহূর্তের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্তব্য। এছাড়াও বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি-জামায়াত একটি অশান্তির বিষবৃক্ষ বলেও মন্তব্য করে হাসানুল হক ইনু বলেন, আমরা রাজনৈতিক অঙ্গনে আর কোন অশান্তি চাই না। বিএনপি-জামায়াত চক্র এখনও বাংলাদেশের অস্তিত্ব স্বীকার করে না। জাতির পিতাকে স্বীকার করে না। গণহত্যা মানে না। সংবিধানের চার নীতিও মানে না। বিএনপি নামক বিষবৃক্ষ যেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়াতে না পারে তার নিশ্চয়তার মধ্য দিয়েই আমরা বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করতে চাই। অন্যদিকে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, রাজাকারের তালিকাটি এখনও পরীক্ষা করে দেখা হয়নি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তবেই তিনি মন্তব্য করবেন। এছাড়া গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন বলেছেন, স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। স্বাধীনতাকে অসম্ভব মনে করে একাত্তরে সারা পৃথিবী বলেছে, বাংলাদেশ স্বাধীন হতে পারবে না। কিন্তু আমরা সেই অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলাম। ড. কামাল হোসেন বলেন, আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো স্বাধীনতা। জনগণের ঐক্যের শক্তিতে যেটা অর্জন করলাম। স্বাধীনতা অর্জনের পরে আমাদের কী কী লক্ষ্য, আমরা কী ধরনের সমাজ চাই, সমাজ পরিবর্তন চাই, ব্যবধান আছে ধনী এবং গরিবের মধ্যে, তা থেকে যদি আমরা মুক্ত করতে চাই সমাজকে, তাহলে সবাইকে এক হতে হবে। এর আগে সকাল সাড়ে ৬টার পর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শেখ হাসিনা। পর্যায়ক্রমে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও বিভিন্ন বাহিনীর প্রধানরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর জাতীয় স্মৃতিসৌধ সর্বস্তরের জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।