প্রকাশ : 2019-10-31

পটিয়ায় ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে মাদ্রাসার পরিচালককে গ্রেপ্তার

৩১অক্টোবর,বৃহষ্পতিবার,পটিয়া প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে পটিয়া উপজেলার জিরি থেকে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মওলানা ফারুক চৌধুরীকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার (৩০ অক্টোবর) সকালে মাদ্রাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ফারুক চৌধুরী উপজেলার জিরি ইউনিয়নের মোহাম্মদিয়া তালিমুল কুরআন নুরানী মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। ওই মওলানা জিরি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মৌলভী মো. মিয়ার পুত্র। বেশ কিছুদিন ধরে ওই মাদ্রাসার শিশু ছাত্রীদের নানাভাবে যৌন নিপীড়ন করে আসছিলেন কওমী আকিদার মওলানা ফারুক চৌধুরী। প্রায় সময় ক্লাস রুম থেকে মওলানার ব্যক্তিগত রুমে ঢেকে নিয়ে নানাভাবে যৌন নিপীড়ন করতেন বলে অভিযোগ। মাদ্রাসার পাশে রয়েছে মওলানার বাড়ি। আজ সকাল সাড়ে ৮টায় ছাত্রীকে মাদ্রাসার ব্যক্তিগত রুমে কৌশলে ঢেকে নিয়ে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে তৃতীয় শ্রেণির ওই ছাত্রী চিৎকার শুরু করলে এলাকাবাসী ও মাদ্রাসার শিক্ষকরা দৌড়ে এসে ছাত্রীকে উদ্ধার করে। পরে স্থানীয় লোকজন মওলানাকে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ সময় এলাকাবাসী বিক্ষোভ করে মাদ্রাসার দরজা, জানালাসহ বেশকিছু আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে পটিয়া থানার এসআই মো. মোক্তারসহ একদল পুলিশ ছুটে যায়। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারায় পরে পটিয়া থানার ওসি বোরহান উদ্দিনসহ আরেকদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মওলানাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জিরি ইউনিয়নের মোহাম্মদিয়া তালিমুল কুরআন মাদ্রাসাটি মূলত কওমী আকিদার। এখানে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করা হয়। মাদ্রাসার পাশাপাশি হেফজখানা রয়েছে। মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মওলানা ফারুক চৌধুরী প্রায় সময় শিশু ছাত্রীদের ব্যক্তিগত রুমে ঢেকে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করতেন। গত বৃহস্পতিবার মাদ্রাসার ৫ ছাত্রীকে বাড়িতে ঢেকে নিয়ে যায়। এর মধ্যে তিন শিশুকে বাড়িতে ঝাড়ু দিতে বলে, দুই শিশু ছাত্রীকে তার শয়ন কক্ষে নিয়ে যায় এবং একজনকে পাশের রুমে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের যৌন নিপীড়ন করে। এভাবে মওলানা প্রায় সময় ছাত্রীদের যৌন নিপীড়ন করে থাকে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব কর্মকান্ডে মাদ্রাসার অন্য শিক্ষকরা অবগত হলেও ভয়ে চুপ থাকতেন। এসবের প্রতিবাদ করতে গিয়ে শিক্ষক মো. হোছাইন, হাফেজ রিফাত ও জিয়াউর রহমান লাঞ্ছিত হয়েছেন বলেও শিক্ষরা জানান এবং ছাত্রীদেরকে প্রায় সময় ফারুক যৌন নিপিড়ন করতো বলে ছাএীরা তাকে জানান। জিরি ইউনিয়নের কতিপয় মেম্বার ও স্থানীয়ারা জানান, কওমী আকিদার এই মাদ্রাসার মওলানা ফারুক শিশুদের আদর করার কৌশলে প্রায় সময় যৌন নিপীড়ন করে আসছেন। সে একজন দুশ্চরিত্রের লোক বলে তারা জানান। পটিয়া থানার ওসি বোরহান উদ্দিন জানিয়েছেন, মাদ্রাসার শিশু ছাত্রীকে নিয়মিত যৌন নিপীড়ন করার অভিযোগে পুলিশ মাদ্রাসার মওলানাকে গ্রেপ্তার করেছেন। এ ব্যাপারে ছাত্রীর অভিভাবক জেসমিন আক্তার বাদি হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে পটিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন বলে জানান।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর