প্রকাশ : 2019-09-25

সামর্থ্যের সেরাটা দিতে পারিনি: মাহমুদুল্লাহ

২৫সেপ্টেম্বর,বুধবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রামে আফগানিস্তানের কাছে একমাত্র টেস্ট ম্যাচটাও বাঁচাতে পারেনি বাংলাদেশ। নিজেদের তৃতীয় টেস্ট ম্যাচেই বাংলাদেশকে হারিয়ে চমক দেখায় টেস্ট ক্রিকেটের সর্বকনিষ্ঠ দল আফগানিস্তান। এরপর টি-টোয়েন্টি সিরিজেও নিজেদের প্রথম দেখায় বাংলাদেশকে পরাজিত করে তারা। দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড় মাহমুদুল্লাহ রিয়াদও হতাশ করেছেন টেস্ট, টি-টোয়েন্টি দুই ফরম্যাটেই। ফাইনাল ম্যাচের সংবাদ সম্মেলনে এসে নিজের এবং দলের অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করেন তিনি। টেস্টে অবশ্যই হতাশাজনক ছিল। কারণ আমি শতভাগ বিশ্বাস করি যে আমাদের দল এরচেয়ে ভালো খেলতে পারে এবং সামর্থ্য আছে। টেস্ট ম্যাচ শেষ হওয়ার পর যখন নিজেদের মধ্যে কথা হলো তখন চিন্তা করলাম যে, না আমাদের শক্তভাবে ফিরতে হবে। এরপর টি-টোয়েন্টি সিরিজে আফগানিস্তানের সঙ্গে প্রথম ম্যাচটি হেরে যাই। আমরা সব মিলে কিছুটা ব্যাক-ফুটে ছিলাম সত্যি বলতে। এরপরও সবার ভেতরে যে স্পৃহাটি ছিল সেটি কাজে দিয়েছে দল হিসেবে। এই জিনিসগুলোর পুনরাবৃত্তি যেন না হয়। চট্টগ্রাম টেস্টে ব্যাট হাতে দুই ইনিংস মিলে করেছিলেন মাত্র ১৪ রান। উইকেট পেয়েছিলেন মাত্র ১টি। টি-টোয়েন্টি সিরিজে চার ম্যাচে রান করেছেন ১৪, ৪৪, ৬২ ও ৬। সব মিলে একটি মাত্র অর্ধশত রানের ইনিংস। অথচ তিনিও বোঝেন, তার কাছে দলের চাওয়া কি। একজন ক্রিকেটার হিসেবে আমি ফাইনাল ম্যাচটা খেলতে পারলে ভালো হতো। আর এটি আমাদের ক্রিকেটের জন্যই ভালো হতো। এই সিরিজে সবমিলিয়ে হতাশার জায়গা অনেক বেশিই ছিল। আমি আগে যেটি বললাম যে আমাদের যতটুকু সামর্থ্য ছিল আমরা সেই অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারিনি। সামর্থ্য অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারলে হয়তো আরও ভালো কিছু দেখাতে পারতাম প্রতিটি বিভাগে। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের এই সিরিজটা হতাশায় কাটলেও ফিরে আসতে চান নিজের সেরা ফর্মে। এর জন্য জাতীয় লিগকে লক্ষ্য করেছেন তিনি। কেন না, আগামী নভেম্বরে ভারতের মাটিতে খেলতে হবে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচ। আছে টি-টোয়েন্টি সিরিজও। আমরা সবাই কম বেশি সিরিয়াস। কারণ আমরা যখন ক্রিকেট খেলতে যাই সেটা এনসিএল হোক বা বিসিএল হোক যেখানেই খেলি আমাদের পারফর্ম করতে হবে। পারফর্ম করলে মনে হয়না প্রশ্ন উঠবে। সবাই যার যার জায়গা থেকে পারফর্ম করার চেষ্টা করি। যখন আজ বৃষ্টি হচ্ছিল তখন আমরা এনসিএল নিয়ে কথা বলছিলাম কে কোন দলে খেলবে বা কার খেলা কোথায়। আমার মনে হয় সবাই পারফর্ম করার চেষ্টা করবে যারা ইন্ডিয়াতে খেলবে। আমি মনে হয় কোনও এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলাম বিশ্বকাপে আমাদের আশানুরূপ ফলাফল আসেনি। এরপর আবার শ্রীলঙ্কায় গিয়ে তিনটা ম্যাচ হারলাম। অবশ্যই আপনি যখন ফলাফল খারাপ করবেন এটার নেতিবাচক দিক আপনার ভেতর অনুভব হয়। গোটা দলই এমন অনুভব করে। কারণ কেউই চায় না মাঠে গিয়ে হারতে। সারাদিন যখন আপনি এটার জন্য কষ্ট করবেন কিন্তু ফলাফল পাবেন না তখন স্বাভাবিকভাবেই আপনার মন খারাপ লাগবে। ব্যক্তিগতভাবে তো বটেই দলগত ভাবেও। সেই দিক থেকে এই সিরিজটি ভালো কেটেছে। আমাদের আত্মবিশ্বাস ফিরে এসেছে, আশা করছি এটা পরবর্তী সিরিজে ধরে রাখতে পারব ইনশাআল্লাহ্।