প্রকাশ : 2018-02-07

দেশের বেসরকারি চিকিৎসাসেবা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে :টিআইবি

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে, দেশের বেসরকারি চিকিৎসাসেবা খাতে বাণিজ্যিকীকরণের প্রবণতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। ঘাটতি রয়েছে বেসরকারি চিকিৎসাসেবায় সরকারের যথাযথ মনোযোগের । এতে একদিকে এটি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে, অন্যদিকে কিছু ব্যক্তির এ খাত থেকে বিধিবহির্ভূত সুযোগ-সুবিধা আদায়ের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। আজ বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। গবেষণায় দেশের বিভিন্ন জেলায় নিবন্ধিত ১১৬টি (হাসপাতাল ৬৬টি এবং রোগনির্ণয় কেন্দ্র ৫০টি) বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গবেষণায় বেসরকারি চিকিৎসা খাত সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতি পর্যালোচনা, প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, এসব প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসাসেবা, বেসরকারি চিকিৎসাসেবার বিপণন ব্যবস্থা, তথ্যের স্বচ্ছতা, তদারকির বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা সুমাইয়া খায়ের, টিআইবির গবেষণা ও পলিসি পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান। গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির প্রোগ্রাম ম্যানেজার তাসলিমা আক্তার এবং ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. জুলকারনাইন। ফলাফলে দেখা যায়, গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ১১৬টির মধ্যে ৯৭টি প্রতিষ্ঠান পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেয়নি। এ ছাড়া বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রধান আইন দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অরডিন্যান্স ১৯৮২ প্রণয়নের পর এখন পর্যন্ত হালনাগাদ করা হয়নি। এ আইনের কোনো বিধিমালাও করা হয়নি। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় বেসরকারি চিকিৎসাসেবা আইনের খসড়া নিয়ে কাজ করা হলেও তা এখনো আইন হিসেবে প্রণয়ন করা হয়নি। অনুষ্ঠানে টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি সুলতানা কামাল বলেন, বেসরকারি চিকিৎসা খাতে তদারকির চিহ্ন দেখতে পাই না। সরকার এ ক্ষেত্রে পুরো উদাসীন। সেখানে কি স্বার্থের দ্বন্দ্ব আছে সরকারের? কোনো ধরনের জবাবদিহির সম্মুখীন না হয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। যাঁরা তদারকের দায়িত্বে আছেন, তাঁরা তাঁদের কাজ গুরুত্বসহকারে নিচ্ছেন না। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারী খানার প্রায় সাড়ে ৬৩ শতাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হতে সেবা নেয়। কিন্তু বাংলাদেশে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা উচ্চ মুনাফাভিত্তিক খাত। মালিকেরা বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়েছে। তদারকির অভাব থাকায় সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করে উচ্চ মুনাফা আদায়ের সুযোগ রয়েছে।