প্রকাশ : 2019-07-15

প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে মুক্তি ভবন এর চাবি তুলে দিলেন মেয়র

১৫জুলাই২০১৯,সোমবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: উত্তর কাট্টলীর মাওলানা তমিজুর রহমান বাড়ির প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইলিয়াছের পরিবারের নিকট নবনির্মিত ঘরের চাবি হস্তান্তর করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। চসিকের অর্থায়নে এ ঘর নির্মিত হয়। এ উপলক্ষে গতকাল রোববার দুপুরে সিটি করপোরেশনের কনফারেন্স রুমে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাণের মেলা বসে। অনুষ্ঠানে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইলিয়াছের স্ত্রী মিসেস খোরশেদা বেগমের নিকট মুক্তি ভবন এর চাবি হন্তান্তর করেন মেয়র। করপোরেশন ২০১৭ সালে নগরের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বসতভিটায় পাকা বাড়ি তৈরি করার বিশেষ উদ্যোগ নেয়। নগরীর ৫০ জন অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধার গৃহ নির্মাণের ব্যয় ধরা হয় ১৫ কোটি টাকা। এরই ধারাবাহিকতায় ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডের প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইলিয়াছ, ৪১ নম্বর দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ডের মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন, ২৫ নম্বর রামপুর ওয়ার্ডের মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম, ৩০ নম্বর পূর্ব মাদারবাড়ী ওয়ার্ডের মুক্তিযোদ্ধা নুর আহম্মদ এবং ৪ নম্বর চান্দগাঁও ওয়ার্ডের মুক্তিযোদ্ধা কুতুব উদ্দিনের গৃহ নির্মাণের কাজ শুরু করে চসিক। ইতোমধ্যে মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইলিয়াছের গৃহ নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সাড়ে ৯শ বর্গফুট বিশিষ্ট এ মুক্তি ভবন নির্মাণ করতে চসিকের ব্যয় হয়েছে ২৬ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। এটাই চট্টগ্রাম শহরের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রথম মুক্তি ভবন। এতে থাকছে ২টি বেডরুম, ১টি কিচেন, ১টি ডাইনিং, ২টি টয়লেট এবং ১টি ড্রইনিং রুম। বাকি মুক্তিযোদ্ধাদের গৃহ নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি মেয়র বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তারা দেশ স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন। তাদের কারণেই আজ আমরা স্বাধীনভাবে চলার ও বলার অধিকার লাভ করেছি। জাতিকে সেই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের ঋণ অবশ্যই শোধ করতে হবে। তাই অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের গৃহ নির্মাণ করে দিয়ে তাদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ দেখার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে চসিক। অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মহানগর ইউনিট কমান্ডার মোজাফফর আহমদ স্বাগত বক্তব্য রাখেন। মেয়রের কাছ থেকে মুক্তি ভবনের চাবি পেয়ে যারপরনাই খুশি প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইলিয়াছের পরিবার। মরহুমের পুত্র হুমায়ুন মোহাম্মদ বাবর বলেন, ৪ বছর আগে আমার পিতা মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি ২ গণ্ডার চেয়ে কম বসত ভিটে রেখে যেতে পেরেছেন। এই ভিটার উপর একটি বেড়ার ঘর ছিল। সেখানে আমি, মা ও বোন কষ্টে দিন কাটাচ্ছিলাম। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রস্তাবে সিটি করপোরেশন এই মুক্তি ভবন নির্মাণ করে দিয়েছে। এজন্য চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের নিকট আমাদের পরিবার কৃতজ্ঞ। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, চসিক প্যানেল মেয়র ড. নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু, কাউন্সিলর সাইয়েদ গোলাম হায়দার মিন্টু, মো. জহুরুল আলম জসিম, সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবিদা আজাদ, সচিব আবু সাহেদ চৌধুরী, ডেপুটি কমান্ডার শহীদুল হক সৈয়দ, সহকারী কমান্ডার সাধন চন্দ্র বিশ্বাস, খোরশেদ আলম (যুদ্ধাহত), এফ এফ আকবর খান, কোতোয়ালী থানা কমান্ডার সৌরিন্দ্রনাথ সেন, আকবরশাহ থানা কমান্ডার মো. সেলিমউল্লাহ, পাহাড়তলী থানা কমান্ডার হাজী জাফর আহামদ, খুলশী থানা কমান্ডার মো. ইউসুফ, বন্দর থানা কমান্ডার কামরুল আলম, বাকলিয়া থানা কমান্ডার মো. আলী হোসেন, সদরঘাট থানা কমান্ডার মো. জাহাঙ্গীর আলম, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাক্ষী কাজী নুরুল আবছার প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর