প্রকাশ : 2019-03-28

এরশাদকে হুমকি

২৮মার্চ,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: অস্থিরতা কমছে না সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টিতে (জাপা)। দলের অভ্যন্তরীণ বিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে। হঠাৎ পার্টির কো-চেয়ারম্যানের পদ থেকে ভাই জিএম কাদেরকে অব্যাহতি দেয়া, এর ১৮ ঘণ্টার মাথায় বিরোধী দলের উপনেতা পদ থেকেও তাকে সরিয়ে দেয়া এবং স্ত্রী রওশন এরশাদকে সংসদের উপনেতা করা, এসব কিছুকে কেন্দ্র করে আবারো গৃহবিবাদ সৃষ্টি হয়েছে দলটিতে। আর সেই গৃহবিবাদ এখন তুঙ্গে। এ নিয়ে অনেকটা অসহায় দলটির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলের নেতা এইচএম এরশাদ। একটি সুবিধাভোগী চক্রের কাছে জিম্মি তার পরিবার ও পার্টি এমনটাই মনে করছেন দলের তৃনমূলের নেতারা। দলটির মূল রাজনীতি রংপুরকে কেন্দ্র করে আর সেই রংপুরের নেতারা জিএম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান পদে পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে এরই মধ্যে আলটিমেটাম দিয়েছেন। অন্যথায় সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতিসহ রংপুর বিভাগে পার্টির সব কার্যক্রম প্রতিহতের হুমকি দিয়েছেন। সব মিলিয়ে আবারো সংকটের পড়েছে সাবেক এ রাষ্ট্রপতির দলটি। এদিকে ৫ এপ্রিলের মধ্যে জিএম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান পদে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির রংপুর বিভাগের নেতারা। বুধবার দুপুরে রংপুর মহানগরীর দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দিয়েছেন পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। লিখিত বক্তব্যে রসিক মেয়র মোস্তফা বলেন, জিএম কাদের দেশে ও বিদেশে পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবি থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত পার্টির জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। দলের সুসময়ে চক্রান্তকারী মহল পার্টির চেয়ারম্যানকে ভুল বুঝিয়ে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণে উৎসাহিত করেছেন। মেয়র অভিযোগ করে বলেন, জাতীয় পার্টিকে ধ্বংসের গভীর এবং পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র চলছে। কুচক্রী মহলের প্ররোচনায় জিএম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান পদ থেকে সরানো হয়েছে। জাতীয় পার্টির মূল ধারার কোনো স্তরের নেতাকর্মীর পক্ষেই কাদেরের অব্যাহতি মেনে নেয়া সম্ভব নয়। মোস্তফা আরো বলেন, আমরা রংপুর বিভাগের আট জেলার মহানগর, পৌরসভা, ও উপজেলার নেতারা পার্টির চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নই। জাতীয় পার্টিকে বাঁচাতে দলীয় প্রধানের ভুল সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও রংপুর মহানগরের সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির, জেলার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাজী আবদুর রাজ্জাক, সহ-সভাপতি ও সাবেক কাকসু ভিপি আলাউদ্দিন মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম সিদ্দিকী, মহানগরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, রংপুর সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান মাসুদার রহমান মিলন। বার বার দলটিতে কেন এমন অস্থিরতা হয়, কেন গৃহবিবাদ হয়, এমন প্রশ্ন একজন শীর্ষনেতার কাছে করলে তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আসলে জাতীয় পার্টি (স্যারের) এরশাদের একক সিদ্ধান্ত থাকলেও একটি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে দলটিকে। এ সিন্ডকেট অনেক প্রভাবশালী তারা দলের চেয়ারম্যানকে যেমন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, তেমনি তার স্ত্রী রওশনকেও প্রয়োজনে ভাইকেও ব্যবহার করেন। তাদের সুবিধায় গড়মিল হলেই অস্থিরতা বিবাদ লেগে যায়। -আলোকিত বাংলাদেশ

রাজনীতি পাতার আরো খবর