প্রকাশ : 2018-09-16

এমপিওভুক্তির বিষয়ে ‌-ফয়সালা অক্টোবরে

অনলাইন ডেস্ক: শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতামত নিয়ে আগামী মাসের মধ্যে এমপিওভুক্তির বিষয়ে আমরা ফয়সালা করে দেব। এখন সংখ্যা বা অন্য কিছু বলছি না। কারণ এতে ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হবে। তবে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য আমরা চেষ্টা করছি। রোববার জাতীয় সংসদের আ খ ম জাকির হোসেনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি। এর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। এসময় প্রশ্নকর্তা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে কখন, কতগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি করা হবে তা জানানোর দাবি জানান। এর জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা ২০১০ সালে ২৪’শ স্কুল-কলেজ মাদ্রাসা এমপিওভুক্তি করেছিলাম। পরে অর্থ মন্ত্রণালয় টাকা ছাড় না দেয়ায় আমরা এমপিওভুক্তি করতে পারিনি। তিনি বলেন, এবার অর্থমন্ত্রী রাজি হয়েছেন। ইতোমধ্যে আমরা প্রকাশ্য প্রজ্ঞাপন দিয়েছি যারা এমপিওভুক্ত হতে চান তারা অনলাইনে আবেদন করবেন। একটি ক্রাইটেরিয়া দেয়া হয়েছে, সেই নীতিতেই বাছাই করা হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর মতামত নিয়ে আগামী মাসের মধ্যে এটা আমরা ফয়সালা করে দেব। তিনি আরও জানান, প্রশ্নপত্র প্রণয়নে গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে সব বোর্ডের সমন্বিত উদ্যোগে ‘প্রশ্ন ব্যাংক’ তৈরির পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। বর্তমানে প্রশ্ন ব্যাংকের জন্য সফটওয়ার তৈরির কাজ চলছে। তিনি জানান, সফটওয়ারটি তৈরি হলে বাংলাদেশ পরীক্ষা মূল্যায়ন ইউনিট থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকরা অনলাইনে তৈরিকৃত প্রশ্নপত্র প্রশ্ন ব্যাংকে পাঠাবেন। তাদের পাঠানো প্রশ্ন থেকে সুপার মডারেটর কর্তৃক মডারেশন হয়ে পরীক্ষার জন্য চূড়ান্ত প্রশ্নপত্র তৈরি হবে। এর ফলে পাবলিক পরীক্ষাগুলোর প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। উন্নয়নকে গতিশীল ও স্থায়ী করতে এসডিজিতে শিক্ষাকে মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। দেশের সবার জন্য যুযোপযোগী শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশ্বমান অর্জনে যে অগ্রগতি সাধিত হয়েছে তার ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতেও শিক্ষা ক্ষেত্রে গুণগত পরিবর্তন অব্যাহত থাকবে এবং জ্ঞানভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টিতে এ প্রয়াস সহায়ক হবে বলে আশা করি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শিক্ষক-অভিভাবক-সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি, কমিউনিটি নেতা-ইমাম-গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হচ্ছে। কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষকতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সংসদ সদস্য সেলিম উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুযোপযোগী করে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে মূল ধারায় সম্পৃক্তকরণের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে ‘আল হাইয়াতুল উলুম লিলজামি আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এর অধীন কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) এর সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) এর সমমান প্রদানের উদ্দেশ্যে খসড়া আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। আইনটি বর্তমানে সংসদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে রয়েছে।

জাতীয় পাতার আরো খবর