প্রকাশ : 2018-08-02

ফটিকছড়ি কাঞ্চননগর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের বেহাল দশাঃ ৫ বছর ধরে ডাক্তার নে

সজল চক্রবর্ত্তী, ফটিকছড়ি , চট্রগ্রাম :চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চন নগর ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে বেহাল দশা। ৫ বছর ধরে কোন ডাক্তার আসে না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।কাঞ্চন নগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রশিদ উদ্দিন চৌধুরী কাতেব জানায়,এ বিষয়ে উপজেলা সমন্বয় সভা ও আইন-শৃঙ্খলা সভায় এ বিষয়ে অনেকবার বলা হয়েছে কোন কাজ হয়নি। এলাকাবাসী তাদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে বারবার আমাকে তাগিদ দিয়েছেন।সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কোন ডাক্তার নাই। ডাক্তারের কক্ষ সহ অন্যান্য সব কক্ষ খালি, তিন থেকে চারটি কক্ষ তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা যায়। প্রবেশ করতে প্রথমে ডাক্তার রুমের পাশে কিছু নতুন ফার্নিচার রয়েছে। নেই কোন কর্মকর্তাও ডাক্তারের সহযোগিকে পাওয়া যায়নি। সংবাদকর্মীরা অাসার খবর পেয়ে প্রায় এক ঘন্টা পর ছুটে আসেন ডাক্তারের সহযোগী।এলাকাবাসীর অভিযোগ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রায় পাঁচ বছর ধরে কোন ডাক্তার আসে না মাঝেমধ্যে ফটিকছড়ি বিবিরহাট ২০ শয্যা হাসপাতালের দায়িত্বরত এক ডাক্তার সকাল ৯ টা বাজে আসেন ১০ টার মধ্যে আবার চলে যান। এলাকাবাসীরা অারো জানায়,একসময় ডাক্তার আসতেন তখন রোগীর উপস্থিতি খুব বেশি ছিল বর্তমানে ডাক্তার না আসার কারণে রোগী আসলেও ডাক্তার কে না পেয়ে তারা ফটিকছড়ি বাজার না হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নাজিরহাট চলে যায় সেবা নিতে।তারা আরো জানায় ডাক্তার আসার অনেক সময় খবর শুনেছি কিন্তু গত পাঁচ বছর ধরে ডাক্তারকে আমরা কখনও দেখিনি। ফটিকছড়ি উপজেলার অন্যতম ইউনিয়ন কাঞ্চননগর। এ ইউনিয়নের অধিবাসীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে কাঞ্চন নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রশিদ উদ্দিন চৌধুরী কাতেব জানায়, এলাকাবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উপজেলা সমন্বয় সভায় জানানো হয়েছে এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে আশা করছি খুব দ্রুত ইউনিয়নের জন্য একজন ডাক্তার। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ফটিকছড়ি উপজেলা কাঞ্চননগর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ডাক্তার মহিউদ্দিন প্রেষণে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ছিলেন। এখান থেকে ছাড়পত্র নিয়ে সদ্য তিনি অন্য জায়গায় বদলি হয়েছেন। এ ব্যাপারে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক কুমার রায় জানান শুধু কাঞ্চন নগর ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র নয় ফটিকছড়ি উপজেলার অধিকাংশ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বেহাল দশা। আমি নিজেও অধিকাংশ ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে ডাক্তারকে পায়নি, এ বিষয়ে একাধিকবার উপজেলা আইন শৃংখলা ও সমন্বয় সভায় জানানো হয়েছে এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকেও বলেছি এবং জেলা সিভিল সার্জন কে জানানো হয়েছে। ফটিকছড়ি উপজেলাবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত একটি ব্যবস্থা নেবেন বলে আশা করছি।

সারা দেশ পাতার আরো খবর