প্রকাশ : 2021-03-03

উন্নয়নের পূর্বশর্ত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা: অনিন্দ্য ব্যানার্জী

৩,মার্চ,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: উন্নয়নের প্রধান পূর্বশর্ত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা উল্লেখ করে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার অনিন্দ্য ব্যানার্জী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা নিশ্চিত করেছেন বলেই বাংলাদেশ এখন সারা বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। বুধবার (৩ মার্চ) সকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) টাইগারপাসের অস্থায়ী কার্যালয়ে মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে প্রত্যক্ষ সমর্থন ও সবধরনের সহযোগিতা করেছিলেন। তিনি ওষুধ, তৈরি পোশাক রফতানি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প খাতে বাংলাদেশ বেশ ভালো অবস্থানে আছে বলে মন্তব্য করে বলেন, ক্রমবিকাশমান এ খাতগুলো বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধিতে গতিশীলতা এনেছে। পর্যটনশিল্প বিকাশে বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে পর্যটনশিল্প দৃশ্যমান। এই খাতে ধারাবাহিক উন্নয়ন দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে মজবুত ও সমৃদ্ধ করবে। চট্টগ্রাম বন্দরের বহুমুখী ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে সহকারী হাইকমিশনার বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে রিজিওনাল কানেকটিভিটি সংযুক্ত হলে বাংলাদেশ ও ভারত উভয়ই উপকৃত হবে। চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ, পতেঙ্গায় উপকূলবর্তী বে-টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ীতে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক কানেকটিভিটির সঙ্গে সংযুক্ত হবে এবং বৈশ্বিক আর্থিক সমৃদ্ধির অংশীদার হবে। কোভিড-১৯ অতিমারি মোকাবেলায় বাংলাদেশের সাফল্যের প্রশংসা করে বলেন, অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন কোভিড-১৯ সংক্রমণের ছোবলে বাংলাদেশের অবস্থা ভয়াবহ হবে। বাংলাদেশ একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। বিশ্বের অনেক উন্নত ও ক্ষমতাধর দেশের চেয়ে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বাংলাদেশে তুলনামূলক ভাবে অনেক কম। বাংলাদেশ দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছে এবং এটা সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদক্ষ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে। তিনি চট্টগ্রামের সৌন্দর্যবর্ধন ও মশার উপদ্রব কমানোর জন্য সিটি মেয়রের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। মেয়র বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকা ও অবদানের জন্য সে দেশের সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই এবং অশেষ ঋণ স্বীকার করি। একাত্তরে ভারত আমাদের দেশের এক কোটি মানুষকে আশ্রয় দিয়েছিল। তাদের সেনাবাহিনীর অনেক কর্মকর্তা ও জওয়ান প্রাণ বিসর্জন দিয়েছে। এই ঋণ কোনো দিন শোধ হবে না। তিনি বলেন, যারা একসময় বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলে মন্দবাক্য উচ্চারণ করেছিল তারা এখন বাংলাদেশের নজিরবিহীন উন্নতি দেখে লজ্জা পায় এবং তারা স্বীকার করে যে, বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের চট্টগ্রাম বন্দরের বহমুখী ব্যবহারের মতামতের সঙ্গে সহমত প্রকাশ করে মেয়র বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে মনে করি চট্টগ্রাম বন্দরের বহুমুখী ব্যবহারে রিজিওনাল ও ইন্টারন্যাশনাল কানেকটিভিটির সংযুক্তিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। নগরের সৌন্দর্যবর্ধন পরিকল্পিতভাবে করা হবে। জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রামে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। সে কারণে প্রকল্পের আওতায় খালের কোন কোন স্থানে বাঁধ দেওয়ার পানি জমে আছে। এ জন্য মশা প্রজনন হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে মশার উপদ্রব অনেক লাঘব হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক, ভারপ্রাপ্ত সচিব ও প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, মেয়রের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম প্রমুখ।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর