শুক্রবার, এপ্রিল ১৬, ২০২১
প্রকাশ : 2021-02-06

শেষ পর্যন্ত ভ্যাকসিনেই আস্থা

৬,ফেব্রুয়ারী,শনিবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: একুশ শতকের শুরুতেই মানবজাতির ইতিহাসে নেমে আসে ভয়াবহ এক দুর্যোগ। একটি ভাইরাস সারা বিশ্বের মানুষকে থামিয়ে দেয়। থামিয়ে দেয় কর্মচঞ্চল প্রতিটি রাষ্ট্রের চলমান গতি। প্রায় গত এক বছর বিশ্ব থমকে গিয়েছিল। এখনও বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের প্রকোপ কমেনি সবটা। তাই পৃথিবী তার ছন্দে ফেরেনি। গত দশ মাসে সারাবিশ্বে করোনা ভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ২২ লাখ মানুষের। এর মাঝেই উন্নত বিশ্বের দেশগুলো এই ভাইরাসের ভ্যাক্সিন আবিস্কারের জন্য বা প্রতিষেধকের জন্য বিস্তর গবেষণা চালিয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে শিল্পোন্নত দেশগুলিতে। এর মাঝে অক্সফোর্ডের গবেষক দল অনেক চড়াই উৎরাই পার হয়ে তাদের ভ্যাকসিন সাধারণ মানুষের জন্য উৎপাদন শুর করে। আরও কয়েকটি দেশ এবং ওষুধ কোম্পানিগুলোও করোনা ভ্যাকসিন উৎপাদন ও বাজারজাত করে। এই ভ্যাকসিন নিয়ে সাধারণ মানুষ নানা উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় ছিল। সিদ্ধান্তহীনতায় ছিল। পাশপাশি গুজবের কারণেও বিভ্রান্ত ছিল। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানা যায়: করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের প্রতি আস্থা বেড়েছে বিশ্ববাসীর। আগে যেসব মানুষ টিকা নেয়ার ব্যাপারে সন্দিহান ছিলেন তারাও এখন টিকা নিতে চাইছেন। স্বেচ্ছায় টিকা নেয়ার আগ্রহ বাড়ায় মহামারি অবসানের আশা তৈরি হয়েছে। এক জরিপের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার এমন তথ্য জানানো হয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের অর্ধেকই বলেছেন, আগামী সপ্তাহে ভ্যাকসিন দেওয়া হলে তারা তা গ্রহণ করবেন। ভ্যাকসিনের প্রতি আস্থার কথা বলেছেন আরও বেশি মানুষ। রয়টার্স আরও জানায়: অক্সফোর্ড এর ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি ইউনিট এবং যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রগুলোর সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, প্রায় সাড়ে ১০ কোটি ভ্যাকসিন ডোজ দেয়া হয়েছে। রয়টার্সের গ্লোবাল ট্র্যাকারে এখন মোট টিকা দেয়ার সংখ্যা প্রায় প্রায় সাড়ে নয় কোটি। করোনা এখনও বিশ্বের ৪৪টি দেশে রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক জানান: মহামারি অবসানের জন্য বিশ্বব্যাপী নিদিষ্ট পর্যায়ে ভ্যাকসিন প্রয়োজন। এর জন্য বড় দেশগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন। অবশেষে করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক হিসেবে করোনা ভ্যাকসিন নতুন আশার আলো দেখাতে শুরু করেছে। মানুষের আস্থায় ফিরে এসেছে বিজ্ঞান। আবারও ঘুরে দাঁড়াবে পৃথিবী। আবারও বিশ্ব ফিরবে তার চিরাচয়িত কর্মযজ্ঞে। শেষ পর্যন্ত বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা মনে করি।- সম্পাদকীয় মতামত

মুক্ত কলম পাতার আরো খবর