শুক্রবার, এপ্রিল ১৬, ২০২১
প্রকাশ : 2021-02-01

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়াটা জরুরী নাকি ছাত্রছাত্রীদের সুস্থতা জরুরী?

১,ফেব্রুয়ারী,সৃজন দত্ত,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: মহামারী করোনা ভাইরাসের কবলে পতিত ১১ মাস সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। এর মধ্যে ৩০শে জানুয়ারী সকালে গণভবন থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে এইচ এস সি পরীক্ষার ফল প্রকাশ কালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেনে ফেব্রুয়ারীতে পর্যবেক্ষণের পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নিবেন। তিনি আরো বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত সকলের করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিশ্চিৎ করতে হবে। বিশে^র গুটি কয়েক দেশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে আবার বন্ধ করে দিয়েছে। কারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিয়ে তাদের সংক্রমনের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এবং অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী মহামারীর করালগ্রাসে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী ডাঃ দিপু মনি চলতি বছরের এস এস সি, এইচ এস সি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়ার তারিখ ঘোষনায় শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া সহ অটো পাশের দাবীতে রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকদিন ধরে মানব বন্ধন কর্মসূচী পালন করে আসছে, তাছাড়া তাদের দাবী ফিরিয়ে দিন ১১ মাস, নয়তো দিন অটো পাস। তাছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষাবিদরা মন্তব্য করেছেন, দীর্ঘ সময় ছাত্র ছাত্রীদের সংগে বইয়ের দুরত্ব বজায় থাকার কারণে বিপুল শিক্ষার্থীদেরকে বই মুখী করা এখন চ্যালেঞ্জ। কারণ দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পড়াশুনায় বিচ্যুতি ঘটেছে, নিত্য নৈমত্তিক পড়াশুনা করার প্রবণতা হ্রাস পেয়ে পড়াশুনা না করার একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। একবার অটোপাশ দেওয়ায় ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে অটো পাশ চাওয়ার প্রবণতা সৃষ্টি হয়েছে। তা ভবিষ্যতে ভোগান্তি বাড়াবে, কারণ অটোপাশ সুফলের চেয়ে কুফল বয়ে আনবে। এতে করে মেধার সঠিক বিকাশ উন্মোচিত হবে না, সাথে দক্ষ মানব সম্পদ তৈরীর পথ চলার গতির বাধার সম্মুখীন হবে। অনতিবিলম্বে ছাত্র ছাত্রীদেরকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মুখী করে পড়াশুনার অভ্যাস ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন জন ও গণমাধ্যম সহ শিক্ষক, অভিভাবক, সমাজের সচেতন নাগরিকদেরকে দূর্যোগের করাল গ্রাস থেকে উত্তোরণে অগ্রনী ভূমিকা পালন করতে হবে। সবকিছু সঠিক বটে, তা স্বত্তেও বাস্তবতাকে অস্বীকার করা কারো উচিৎ নয়। কারণ শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের আদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলল বটে, তাতে আমাদের সকল শ্রেনীর জন সাধারণের মনে রাখতে হবে- আমাদের সন্তানদের স্স্থু থাকার নৈতিক ও কর্তব্য শুধু সরকারের একা নয়, সকলের উপর দায়িত্ব ও কর্তব্য বর্তায়। তাছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৩০/০১/২০২১ ইং তারিখে তাহার মহা মূল্যবান বক্তব্যে অনেকে সেন্টিমেন্টাল হচ্ছেন, বক্তব্য দিচ্ছেন, পরীক্ষা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করছেন কিন্তু এগুলো করতে গিয়ে যদি এর সাথে জড়িত কেউ সংক্রমিত হয় তবে তার দায়িত্ব কে নেবে? যারা সমালোচনা করছেন এ পদ্ধতিতে ফলাফল দেওয়ার কারণে তারা কি দায়িত্ব নেবেন? নিশ্চয় তারা কেউ নেবেন না। বাস্তব বড়ই কঠিন। বাস্তবতার আলোকে সবকিছু মেনে নিয়ে সম্মুখে এগিয়ে যেতে হবে এটাই সকলের প্রত্যাশা।

মুক্ত কলম পাতার আরো খবর