বুধবার, মার্চ ৩, ২০২১
প্রকাশ : 2020-12-15

মহান বিজয় দিবস: জাতির শ্রেষ্ঠ গৌরব ও উজ্জ্বলতার সাক্ষ্য বহনকারী অনন্য দিন

১৫,ডিসেম্বর,মঙ্গলবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। জাতির শ্রেষ্ঠ গৌরব, অহঙ্কার ও আনন্দ উজ্জ্বলতার সাক্ষ্য বহনকারী একটি অনন্য দিন। ১৯৭১ সালের এই বিশেষ দিনটিতে ২৬ মার্চ ১৯৭১-এ সূচিত মহান মুক্তিযুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে। আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা মিত্রবাহিনীর সক্রিয় সহযোগিতায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে এ বিজয় ছিনিয়ে আনে। ১৬ ডিসেম্বর ৯৫ হাজার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সদস্য রমনা রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। ৩০ লাখ বাঙালির বুকের রক্তে, ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি ও অগণিত মানুষের সীমাহীন দুঃখ-দুর্ভোগের বিনিময়ে বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন এই বিজয় মুকুট শিরে পরেছিল বাংলাদেশ। পাকিস্তানি শাসকরা বাঙালির আশা-আকাঙ্খাকে পদদলিত করে ২৫ মার্চ গভীর রাতে, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি জনগণের ওপর অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। বঙ্গবন্ধু চূড়ান্ত ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়ে ওই রাতেই গ্রেপ্তারের আগে, বাংলার স্বাধীনতা ঘোষণা করে দেশবাসীকে যার যা আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই বর্বরতার নিন্দা এবং বাংলাদেশের পক্ষে সাহায্য ও সহযোগিতার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছিলেন। যে রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চ কার্যত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন, সেই ময়দানেই ৯৫ হাজার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সদস্যকে ১৬ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ করতে হয়। বিজয়ের এই দিনে স্বাধীনতার সেই মহানায়কের প্রতি জানাই আমাদের অকুণ্ঠ শ্রদ্ধা। তার সঙ্গে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি তাদের, যাদের অমূল্য সংগ্রামী জীবনের বিনিময়ে আজ আমরা স্বাধীন জাতি হিসেবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পেরেছি, মুক্ত স্বাধীন স্বদেশভূমি পেয়েছি। বিজয় দিবসে আমাদের শপথ হোক সব ষড়যন্ত্রের অর্গল ভেঙে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাসম্পন্ন-গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, সুখী-সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ গড়ার মাধ্যমেই অর্জিত হবে আমাদের প্রকৃত বিজয়।- লেখক: সাবরিন জেরিন, সহ সম্পাদক, নিউজ একাত্তর ডট কম।

মুক্ত কলম পাতার আরো খবর