রবিবার, মার্চ ৭, ২০২১
প্রকাশ : 2020-11-13

লিবিয়া উপকূলে নৌকা ডুবে কমপক্ষে ৭৪ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু

১৩নভেম্বর,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবিতে অন্তত ৭৪ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী মারা গেছেন। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম গতকাল বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানায়। লিবিয়ার খোমসের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। বন্দরনগরী খোমস লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি থেকে ১২০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। আইওএম এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার লিবিয়ার খোমস উপকূলে এই নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। নৌকাটিতে অন্তত ১২০ জন আরোহী ছিলেন। তাদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশু ছিল। নৌকাটি ডুবে যাওয়ার পর ৪৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করে তীরে আনা হয়েছে। আর এখন পর্যন্ত ৩১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর থেকে এ নিয়ে মধ্য ভূমধ্যসাগরে অন্তত আটটি অভিবাসনপ্রত্যাশীবাহী নৌকাডুবির ঘটনা ঘটলো। নৌকাডুবির ঘটনায় এখনো নিখোঁজ থাকা লোকজনকে উদ্ধারে তল্লাশি কার্যক্রম চালাচ্ছে কোস্টগার্ড। সঙ্গে স্থানীয় জেলেরাও আছেন। আইএমও জানিয়েছে, গত দুই দিনে মধ্য ভূমধ্যসাগরে দুটি নৌকাডুবির ঘটনায় আরও অন্তত ১৯ জন মারা গেছেন। গত সাত বছরে সমুদ্রপথে ২০ হাজারের বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। আইওএমর তথ্য মতে, ২০১১ সালের গণভ্যুত্থানে মুয়াম্মার গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত ও নিহত হওয়ার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত লিবিয়া আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ২০১৪ সাল থেকে ভূমধ্যসাগরের বিপজ্জনক এই পথ পাড়ি দিতে গিয়ে অন্তত ২০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গত মঙ্গলবার লিবিয়ার উপকূলে একই ধরনের নৌকাডুবির ঘটনায় তিন নারী ও এক শিশুসহ ১৩ জন আফ্রিকান অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছিল। চলতি বছর কেবল ভূমধ্যসাগরেই ইউরোপ পৌঁছানোর চেষ্টা করা অন্তত ৯০০ মানুষের সলিল সমাধি হয়েছে বলে জানিয়েছে আইওএম। সমুদ্রের বিপজ্জনক এ পথ পাড়ি দিতে চেষ্টা করা ১১ হাজারেরও বেশি মানুষকে উদ্ধার করে লিবিয়ায় ফেরতও পাঠানো হয়েছে। সেখানে তারা মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বন্দিশিবিরে অনির্দিষ্টকাল আটকের মতো ঘটনার মুখোমুখি হয়েছিল। আইওএম জানিয়েছে, অভিবাসীদের প্রত্যাবর্তনের জন্য লিবিয়া নিরাপদ বন্দর নয়। এজন্য সংস্থাটি প্রত্যাবর্তন ও শোষণের চক্র বন্ধের জন্য জরুরি ও সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর