প্রকাশ : 2020-10-29

চট্টগ্রামে এবার লাখো মানুষের সমাগম হচ্ছে না : কাল পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.)

২৯অক্টোবর,বৃহস্পতিবার,সাহেনা আক্তার,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: ৩০ অক্টোবর পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী। ১২ রবিউল আউয়াল নশ্বর পৃথিবীতে রহমতের ফুলগুধারা ও মুক্তির দূত হয়ে আসা হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিবস। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনোপলক্ষ্যে প্রতিবছর আন্জুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাষ্টের পক্ষথেকে চট্টগ্রামে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে ধর্মপ্রাণ-মুসলিম উম্মাহ ও নবীপ্রেমী মানুষ নগরীতে জশনে জুলুসের মাধ্যমে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করে আসলেও এবার সীমিত আকারে এই জুলুস পালিত হবে। আজ শুক্রবার সকাল ৮টায় ষোলশহর আলমগীর খানকায়ে কাদেরীয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া জশনে জুলুস বের হবে। করোনার কারণে প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে জশনে জুলুস উদযাপনের এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। জুলুসটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পূনরায় জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ফিরে আসবে। সেখানে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) এর তাৎপর্য ও শিক্ষা বিষয়ক আলোচনা সভায় ওলামায়ে কেরাম ও ইসলামী চিন্তাবীদগণ বক্তব্য পেশ করবেন। এছাড়া যথাসময়ে সেখানে জুমার নামাজ, মিলাদ-কিয়াম এবং বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বের সুস্থ্যতা ও শান্তি কামনায় মুনাজাত করা হবে। সীমিত আকারে জুলুস বের করার বিষয়টি নিশ্চিত করে গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশের যুগ্ন মহাসচিব অ্যাডভোকেট মোসাহেব উদ্দিন বখতেয়ার গণমাধ্যমকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)র বিশেষ শাখা থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে জুলুস আয়োজনের অনুমতি দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, মাস্ক না পড়লে কাউকে জুলুসে অংশ নিতে কিংবা আলমগীর খানকাহ, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ এলাকায় ঢুকতে দেয়া হবে না। এছাড়া মাদ্রাসা মাঠ, খানকাহ এবং আশপাশের সব সড়কে জীবানুনাশক পানি ছিটানো হবে। তিনি বলেন, যেহেতু সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে জুলুস করার অনুমতি পাওয়া গেছে তাই অন্যান্যবারের মতো এবার লাখো লোকের সমাগম হবে না। যারা জুলুসে আসবেন তাদের বিতরণের জন্য আমরা ভক্ত আশেকদের বেশী-বেশী মাক্স, হ্যান্ড স্যানিটাইজার আনার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি। আন্জুমানে ও গাউসিয়া কমিটিসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগেও মাক্স বিতরণের ব্যবস্থা থাকবে। উল্লেখ্য পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের এই দিনেই হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিবস। আবার পবিত্র এ দিনেই আমাদের সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ (দ.)-এর পবিত্র ওফাত দিবস। ৬৩ বছর বয়সের এই দিনেই তিনি ইন্তেকাল করেন। চৌদ্দ শত বছর পূর্বে ৫শ ৭০ খৃষ্টাব্দের এ দিনে সুব্হে সাদেকের সময় মক্কা নগরীর সম্ভ্রান্ত কুরাইশ বংশে মা আমেনার কোলে আসেন আমাদের প্রাণ প্রিয় নবী (দ.) এই ধরাকে আলোকিত করে। তিঁনি বিশ্বমানবতার মুক্তির দিশারী নবী কুলের শিরোমণি সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ (স:)। তিনি ছিলেন সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মহাপুরুষ। তিনি মুসলিম উম্মাহ তথা সমগ্র বিশ্বের মানব জাতির কল্যাণ ও রহমত স্বরূপ। যার গুন ও মহিমা গাঁথা এ বিশ্বের শেষ দিন পর্যন্ত লক্ষ কোটি অযুত-নিযুত প্রাণে প্রতিটি মূহূর্তে প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরবে। জশনে জুলুছে ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী ২০২০ হবে প্রাচীন ধারাবাহিকতায় ৪৭ তম মিলাদুন্নবী। তবে প্রতিবছর মহান ও মহামান্বিত এই দিনটিতে নবীপ্রেমী লাখো-লাখো জনতা ঈমানী উদ্দীপনায় জেগে ওঠে নারায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবার, নারায়ে রেসালাত ইয়া রাসুল্লাহ, নারায়ে গাউসিয়া ইয়া গাউসুল আযম দস্তগীর (রাহ.) শাহেন শাহ সিরিকোট শ্লোগানে মুখরিত ধ্বণির মাধ্যমে আওলাদে রাসুলকে সামনে রেখে প্রিয় নবী (দ.)র প্রতি তাজিম ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলীয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবীতে চট্টগ্রামের প্রতিটি প্রান্ত থেকে দলে-দলে ক্লান্তিহীন পাঁয়ে হেঁটে এবং যানবাহনের মাধ্যমে উৎসব মূখর আনন্দঘন পরিবেশে হামদ্, নাত, দুরুদ শরীফ, ধর্মীয় গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিয়ে লাখো মুসলিম জনতা আওলাদে রাসুল সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহর (মু.জি.আ.) নেতৃত্বে নবীর প্রতি মহব্বত-শ্রদ্ধা নিবেদন ও তাজিমের উদ্দেশ্যে ছুটে আসে। হাতে থাকে বর্ণাঢ্য ফেস্টুন ও প্লাকার্ড। আলোক সজ্জায় সজ্জিত হয়ে উঠবে চারপাশ। বর্ণনাতীত এমন মুসলিম জনসমুদ্র দেখে মনে হবে যেন আসমান হতে জমিনে ফেরেস্তারাই নেমে এসেছে পবিত্র মিলাদুন্নবীর প্রিয় নবী-শ্রেষ্ঠ নবীর জন্নদিন আনন্দে শরীক হতে। কিন্তু করোনার কারণে এবার লাখো মানুষের সমাগম হচ্ছে না পবিত্র এই ঈদে মিলাদুন্নবীর জশনে জুলুসে।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর