প্রকাশ : 2020-10-17

চট্টগ্রামে ৪২ বছরের পূরনো সিলিন্ডারে ঝুঁকি নিয়ে এলপিজি বিক্রি,ডিলারদের মাঝে অসন্তোষ

১৭,অক্টোবর,শনিবার,মো.এনামুল হক লিটন,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: লিকেজ সমস্যাসহ বেসরকারি কোম্পানীতে লিকুইড বিক্রি নিয়ে চট্টগ্রামে এলপিজি ডিলারদের মাঝে অসন্তোষ বিরাজ করছে। এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের জরাজীর্ণতা, লিকেজ সমস্যা, কয়েক হাজার ডিলারের জামানত ও বিনিয়োগকৃত সিলিন্ডারের টাকা ফেরত না দিয়ে বেসরকারি খাতে লিকুইড বিক্রির সিদ্ধান্ত বাতিলসহ এলপি গ্যাস প্লান্টের উপর চাপিয়ে দেয়া সমস্যাগুলো সমাধান করা না হলে, এলপিজি ডিলাররা আন্দোলনে যাবে এমন আভাস পাওয়া যাচ্ছে। চট্টগ্রাম মহানগর এলপি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর-ডিলার এসোসিয়েশন সৃষ্ট এসব সমস্যা সমাধানে সম্প্রতি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান বরাবরে পাঁচ দফা দাবী সম্বলিত একটি স্মারকলিপি পেশ করেছে। জানা গেছে, পতেঙ্গার গুপ্তখাল ও সিলেটের কৈলাশ টিলায় দুটি এলপিজি প্লান্টের মাধ্যমে এলপিজি বাজারজাত করা হয়। পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তিনটি তেল কোম্পানীর মাধ্যমে এলপিজি বিপনন করা হয়। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন সূত্র জানায়, ১৯৭৮ সালে সিলিন্ডার ভর্তি করে এলপিজি বিপনন শুরু হয়। সারাদেশে এলপিজির সাড়ে তিন হাজার ডিলার রয়েছে। চট্টগ্রামে ডিলার সংখ্যা ১ হাজার। চট্টগ্রাম মহানগর এলপিজি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর-ডিলার এসোসিয়েশনের সভাপতি আলহাজ সাইফুল আলম জানান, আমরা কয়েকশত এলপি গ্যাস ডিলাররা বর্তমানে চরম দূরাবস্থায় আছি। অসম প্রতিযোগীতার বাজারে টিকে থাকতে না পেরে অনেকেই এ ব্যবসা ছেড়ে দিচ্ছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার জরাজীর্ণ ও লিকেজ প্রকট হওয়ায় ডিলাররা মারাত্নক সঙ্কটে ভূগছে। এছাড়া একটি সিলিন্ডারের মেয়াদ মাত্র পনের বছর হলেও ৪২ বছর পূর্বে সরকারিভাবে যে তিন লাখ সিলিন্ডার আমদানী করা হয়েছিল তা দিয়ে এখনো সরকারিভাবে এলপিজি বিক্রি চলছে। যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণে ভয়াবহ দূর্ঘটনার আশঙ্কাও করেছেন তিনি। এসোসিয়েশনের প্রচার সম্পাদক হাজী মো. ইব্রাহিম এ রহমান জানান, বিপিসি সরকারি সিলিন্ডার দোকানে লিকেজ এবং পুরাতন পাওয়া গেলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জেল জরিমানা করা হয়। অথচ মূল জায়গা থেকেই অনেক সিলিন্ডার লিকেজ আসে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পতেঙ্গার গুপ্তখাল এলাকার এলপিজি সিলিন্ডার বিপনন কেন্দ্রে সরেজমিনে গিয়ে জরাজীর্ণ সিলিন্ডার ও সিলিন্ডারের লিকেজের বিষয়টির সত্যতা পাওয়া যায়। তবে পতেঙ্গা এলপি গ্যাস প্লান্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুর রহমান লিকেজ সমস্যার বিষয়টি তিনি ইতিমধ্যে জেনেছেন এবং এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে উল্লেখ করে সিলিন্ডারের জরাজীর্ণতা ও অন্যান্য সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, এরইমধ্যে ২৫ হাজার সিলিন্ডারের টেন্ডার করা হয়েছে এবং আরো ১ লাখ সিলিন্ডারের জন্য টেন্ডার করা হবে। যা পর্য়ায়ক্রমে ডিলারডের সৃষ্ট সমস্যার অনেকটা সমাধান হবে। এদিকে যত্রতত্র তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি বিক্রি বন্ধ করে দিতে যাচ্ছে সরকার। গত বছরে ৮১টি এলপিজি দূর্ঘটনায় অন্তত শতাধিক লোক নিহত হওয়ায় ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের এই পদক্ষেপ বলে জানা গেছে।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর