প্রকাশ : 2020-09-29

আর্মেনিয়া-আজারবাইজান দ্বিতীয় দিনের যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪০

২৯সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: গতকাল দ্বিতীয় দিনে প্রবেশ করেছে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার যুদ্ধ। এতে উভয় পক্ষের মোট ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ অবস্থায় চিরবৈরী দেশ দুটির মধ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। খবর এএফপি। বহু দশক ধরেই নাগোর্নি কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে আঞ্চলিক বিরোধে লিপ্ত রয়েছে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান। এর আগে ২০১৬ সালে অঞ্চলটির অধিকার নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়ায় উভয় দেশ। ১৯৯০ দশকের দিকে এক যুদ্ধের পর নাগোর্নি কারাবাখ আজারবাইজান থেকে তার স্বাধীনতা ঘোষণা করে। ওই যুদ্ধে প্রাণ হারায় ৩০ হাজারের মতো মানুষ। কিন্তু কোনো দেশই নাগোর্নি কারাবাখকে এখন পর্যন্ত স্বীকৃতি দেয়নি। এমনকি স্বীকৃতি দেয়নি আর্মেনিয়াও। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অঞ্চলটিকে আজারবাইজানের অংশ হিসেবেই মনে করে। এ অবস্থায় উভয় দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে তাদের সেনারা তীব্র লড়াইয়ে লিপ্ত হয়েছে। আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ সোমবার আংশিক সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেন। অন্যদিকে জেনারেল মাইস বারখুদারোভ শত্রুদের ধ্বংস করে দিয়ে বিজয়ের আগ পর্যন্ত শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছেন। এদিকে আর্মেনিয়ার বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ঘোষণা করেছে, তাদের ১৫ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছে। এছাড়া আজারবাইজান জানিয়েছে বিদ্রোহীদের বোমাবর্ষণে তার্তারে নিহত বেসামরিক মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয়জনে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০ জনে। চলমান এ যুদ্ধের জন্য একে অপরকে দোষারোপ করছে উভয় পক্ষ। এ অবস্থায় বিশ্ব নেতারা তাদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। কারণ কোনোভাবে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হলে এতে আঞ্চলিক শক্তি রাশিয়া ও তুরস্কও জড়িয়ে পড়তে পারে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকোভ সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, রাশিয়া নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তাদের জন্য বর্তমানে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সংঘাত থামানো। এ মুহূর্তে কে ঠিক কিংবা কে ভুল তা নির্ধারণের সময় নেই। কারাবাখের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সর্বশেষ এ সংঘাতে তাদের ৩২ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছে। বেসামরিক মানুষ মারা গেছে আটজন। নিহতদের মধ্যে আজারবাইজানের এক পরিবারের ছয় সদস্য রয়েছে। অন্যদিকে আর্মেনিয়ার এক নারী ও এক শিশু নিহত হয়েছে। আজারবাইজান এখন পর্যন্ত কোনো সামরিক ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহতের খবর জানায়নি। কিন্তু আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সুসান স্তেপানিয়ান দাবি করেছেন, যুদ্ধে আজারবাইজানের কয়েক ডজন সেনাসদস্য নিহত হয়েছে। তিনি বলেন, সোমবার সকালেও উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ হয়। এছাড়া আর্মেনীয় সেনারা আজারবাইজানের সেনাদের দখল করে নেয়া এলাকা পুনরুদ্ধার করেছে। তবে বাকু কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তাদের সেনারা আরো সামনে অগ্রসর হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের সেনাসদস্যরা শত্রুর ঘাঁটিতে আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে তালিশ গ্রামের কাছে কৌশলগত বেশ কয়েকটি অবস্থান দখলে নিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে শত্রুরা এখন পিছু হঠছে। আর্মেনীয় সামরিক কর্মকর্তারা বলেছেন, আজারবাইজানের সেনারা বিদ্রোহীদের ঘাঁটিতে ভারী অস্ত্র নিয়ে হামলা করছিল। অন্যদিকে আজারবাইজানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তার্তারে বিদ্রোহীরা বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা করেছে বলে অভিযোগ করে।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর