প্রকাশ : 2020-08-08

দিন যতই যাচ্ছে ডিজিটাল সেবায় আগ্রহ বাড়ছে

০৮আগস্ট,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনার এই সময়ে দিন যতই যাচ্ছে ডিজিটাল সেবার প্রতি অনেকের আগ্রহ বাড়ছে। বাইরে না গিয়ে ঘরে বসেই ব্যাংকিং সেবা পেতে কন্টাক্টলেস লেনদেন, কন্টাক্টলেস শপিং করতে অনেকে উদ্যোগী হচ্ছেন। কল সেন্টারের পরিবর্তে চ্যাটবটের ব্যবহার, তথ্য জানতে বটের সাহায্য পাওয়া যাচ্ছে এখন। ঘরে বসেই পরিচালনা করা যাচ্ছে অফিস। ডকুমেন্টেশন ও সইয়ের জন্য অফিসে না গিয়েও সফটওয়্যার ব্যবহার করে ভেরিফাই করা যাচ্ছে। দিন দিন বাড়ছে ডিজিটাল রিচার্জ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মানুষ ঝামেলা এড়ানোর জন্য এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ডিজিটাল সার্ভিসের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন। তাই নতুন নতুন ডিজিটাল সেবা ব্যবহারের প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। এই সময়ে হোয়াটসঅ্যাপকে কাস্টমাইজ করে ব্যবহার করা যাচ্ছে। জুড়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে চ্যাটবট। করোনার এই সময়ে এসেছে কন্টাক্টলেস শপিংয়ের সুবিধা। ওটিটি (ওভার দ্য টপ) সেবা হোয়াটসঅ্যাপ দিচ্ছে চ্যাট ও ভিডিও কলের মাধ্যমে কেনাকাটার সুবিধা। স্যামসাং পণ্য কেনা যাচ্ছে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এজন্য প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপ আইকনে ক্লিক করে আউটলেট ম্যানেজারের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। এরপর ভিডিও কলের (ভার্চুয়াল ট্যুর) মাধ্যমে পণ্য পছন্দ করে অর্ডার কনফার্ম করে দাম পরিশোধ করতে হবে। ক্রেতা ঘরে বসে পছন্দের পণ্যটি পেয়ে যাবেন। মোবাইল ফোন অপারেটর রবি ও এয়ারটেল তার গ্রাহকদের ঝামেলামুক্ত সেবা দিতে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটবট তৈরি করেছে। হোয়াটসঅ্যাপে প্রবেশ করে রবি বা এয়ারটেলবাজ লিখে সার্চ দিলে পাওয়া যাবে চ্যাটবট। গ্রাহকের কোনও প্রশ্ন বা কোয়েরি থাকলে এখানে লিখলে চ্যাটবট উত্তর দেবে। জানা গেছে, কল সেন্টারের ওপর থেকে চাপ কমাতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে করে গ্রাহককে কল-সেন্টারে ফোন করে যাতে ওয়েটিংয়ে থাকতে না হয় সেজন্য এই ব্যবস্থা। প্রসঙ্গত দেশে, হেয়াটসঅ্যাপের ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩ কোটির বেশি। আর ভাইবারের ব্যবহারকারী দেড় কোটি। করোনা ভাইরাসের এই সময়ে স্বাস্থ্য অধিদফতর হোয়াটসঅ্যাপ ও ভাইবারের সহযোগিতায় দেশের মানুষকে করোনা ভাইরাস সম্পর্কিত তথ্য সরবরাহ করতে চালু করেছে চ্যাটবট তথা বট। এসব বট তৈরি করছে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান প্রেনিউর ল্যাব। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা আরিফ নিজামি বলেন, মানুষকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সেবা দিতে হলে এ ধরনের উদ্ভাবন আরও বেশি বেশি করতে হবে। সেবা গ্রহণকারীদের এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহী করতে পারলে সেবাদানও সহজ হয়ে যাবে। তিনি মনে করেন, করোনাকালে প্রযুক্তি অনেক অগ্রগতি হয়েছে। এখন কোথাও ফোন না করে শুধু হাতের মোবাইল ফোনটি ব্যবহার করে অনেক ধরনের সেবা পাওয়া সম্ভব। কেনাকাটা, খাবার অর্ডার দেওয়াতে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে। তিনি জানালেন তার প্রতিষ্ঠান থেকে বেশ কয়েকটি বট তৈরি করা হয়েছে। এই সময়ে ই-কমার্সে বড় বড় লেনদেনও সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে প্রযুক্তি ব্যবহার করে। দামি দামি মোটরবাইক অনলাইনে বিক্রি করা এবং সেই ডিজিটাল লেনদেন সুরক্ষিত করার মতো ঘটনা এই ঈদেই ঘটেছে বলে জানা গেছে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি ব্র্যান্ডের দামি দামি কয়েকশত মোটরবাইক বিক্রি করা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাসায় বসে অফিসে যাবতীয় কাজ করা যাচ্ছে এখন। বাসায় বসে কর্মীদের উপস্থিতি, কাজ ব্যবস্থাপনা, নোটিশ দেওয়া ইত্যাদি কাজও করা যাচ্ছে। এজন্য রয়েছে অফিস ডট এআই নামের প্রযুক্তি। কয়েকটি অফিস এই সময়ে এগুলো ব্যবহারও করছে। এই সময়ে ডিজিটাল ফরম্যাটে ডকুমেন্টেশন ও ডকুমেন্ট আদান প্রদানের হার বেড়েছে। ফলে সামনে চলে এসেছে ভেরিফিকেশনের বিষয়টি। আর এ ধরনের কাজের জন্য আছে ই-স্ট্যাম্প প্রযুক্তি। ডকুমেন্ট ভেরিফাই করা, সাইন করা ইত্যাদি ঘরে বসেই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্পাদন করা যাচ্ছে। করোনা টেস্টের রিপোর্ট যাতে কেউ পরিবর্তন করতে না পারে এজন্য এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তা সুরক্ষিত রাখায় সম্ভব বলে জানান এর এই প্রযুক্তির ডেভেলপাররা। এছাড়া লকডাউনের শুরুতে মোবাইল আউলেট, রিচার্জের দোকান, খুচরা ব্যবসায়ীদের দোকান বন্ধ থাকায় মোবাইলে ডিজিটাল পদ্ধতিতে রিচার্জের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। মোবাইল ফোন অপারেটর রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন এই তথ্য। বিকাশ, নগদের মতো মোবাইল আর্থিক সেবা, বিভিন্ন ব্যাংকের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমেও মোবাইলে রিচার্জের পরিমাণ বেড়েছে বলে জানা গেছে।- দেশ বিদেশ

জাতীয় পাতার আরো খবর