বুধবার, আগস্ট ৫, ২০২০
প্রকাশ : 2020-07-31

পটিয়াবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন হুইপ সামশুল হক চৌধুরী

৩১জুলাই,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আধুনিক পটিয়ার উন্নয়নের স্থপতি ও রূপকার, জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ্ব সামশুল হক চৌধুরী এমপি ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত ঈদুল আজহা উপলক্ষে, পটিয়াবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক মহামারী করোনার মধ্যে ঈদুল ফিতরের পর ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে। এবার তার সাথে যুক্ত হয়েছে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বন্যা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে এসব দুর্যোগ কাটিয়ে দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ঈদুল আজহার দিন তিনি তাঁর গ্রামের বাড়ি পটিয়া হাউসে স্বাস্থ্য বিধি মেনে এলাকাবাসীর সাথে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে যারা মারা গেছেন এবং যারা অসুস্থ হয়েছেন, তাদের পরিবারের প্রতি শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। হুইপ সামশুল হক চৌধুরী বলেন, আল্লাহর কাছে আমরা শুকরিয়া আদায় করছি, পটিয়ায় করোনাকে আমরা দেশের অন্যান্য এলাকার চাইতে এলাকাবাসীর সচেতনতার কারণে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি। ঈদুল আজহার দিনগুলোতেও স্বাস্থ্য বিধি মেনে কুরবানীর পশু ক্রয় ও জবাই করার পর পশুর বর্জ্য মাটিতে পুঁতে ফেলার এবং জবাইকৃত স্থানে ব্লিচিং পাউডার দিয়ে পরিস্কার করার পরামর্শ দেন তিনি। তিনি বলেন, ঈদের আনন্দ যাতে বিষাদে পরিণত না হয় সে ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হতে হবে। তিনি বলেন, পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত ২ মাসে অর্ধকোটি টাকার উন্নয়ন করা হয়েছে। এখন উপজেলা পর্যায়ে এটি একটি আধুনিক হাসপাতালে পরিণত হয়েছে। পটিয়াবাসীকে এখন আর সাধারণ রোগ বা অক্সিজেনের প্রয়োজনে শহরে দৌড়তে হবেনা। হুইপ সামশুল হক চৌধুরী বলেন, পটিয়ার গ্রামীন রাস্তাঘাটের সংস্কার ও আরসিসি ঢালাই রাস্তা নির্মান,পটিয়ার সাথে বোয়ালখালী,আনোয়ার, রাঙ্গুনিয়, বান্দরবানের কানেক্টিভিটি রাস্তার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে , পটিয়ায় একটি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, হর্টিকালচার সেন্টার, ইপিজেড, শেখ রাসেল স্টেডিয়াম, মডেল মসজিদ, গভীর নলকূপ, ইলেকট্রনিক সার্কুলার বাস সার্ভিস চালুসহ নানামূখী উন্নয়ন কাজ চলছে। এসব কাজ শেষ হলে পটিয়া একটি আধুনিক শহরে পরিণত হবে। তিনি বলেন বিগত ১১ বছর এমপি হওয়ার সুবাদে অনেক দেশেই যেতে হয়েছে এবং তাদের উন্নয়ন চিত্র নিজ চোখে দেখে এসেছি। এসব অভিজ্ঞতার আলোকে এখন আমি পটিয়াকে সাজাতে চাই। ৫ লক্ষ জনসংখ্যা অধ্যুষিত পটিয়ার ১৭টি ইউনিয়নে ১২৪টি গ্রামে যত উন্নয়ন হয়েছে গত ১১ বছর, বিগত সরকারগুলোর সময়ে তা হয়নি। ঐসময় পটিয়া ছিল অবহেলিত। গ্রাম হবে শহর- এই মূলমন্ত্রে শেখ হাসিনার সরকার গ্রামের উন্নয়নে জোর দিয়েছে। আর সে লক্ষ্যেই পটিয়ার প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে বৈদ্যুতিক সংযোগ দিয়েছি। পটিয়া এখন শতভাগ বিদ্যুতের আওতায়। লোডশেডিংও নেই। সন্ধ্যা নামলেই গ্রামে যে নিস্তব্ধতা নেমে আসতো এখন তা নেই। গ্রামের রাস্তায় এখন রাতে শহরের মত বাতি জ্বলে। গ্রামে বিদ্যুত থাকার কারণে ছোট ছোট ফার্ম,কারখানা ও দোকান পাট গড়ে উঠছে। পটিয়ার ছেলেদের কর্মসংস্থান হয়েছে। বেকারত্ব নেই বললেই চলে। তিনি বলেন, পটিয়ায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি মডেল মসজিদ, শেখ রাসেল স্টেডিয়াম, হাইদগাঁও এলাকায় হর্টিকালচার সেন্টার এবং চা বাগান এলাকায় কৃষি নির্ভর অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠার মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়নাধীনের পথে। আশা করছি ২ বছরের মধ্যেই এসব শেষ করতে পারলে পটিয়া হবে শহরের পাশে উপশহর। কর্ণফুলী টানেলের সাথে পটিয়ার সংযোগ সড়ক হয়েছে। এটিকে আরো কীভাবে সম্প্রসারণ করে পটিয়ার সাথে কানেকটিভি বাড়ানো যায় সে পরিকল্পনাও রয়েছে। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম শহর ও কক্সবাজারের সাথে রেল কানেকটিভিটির সাথে আমরা পটিয়াকে যুক্ত করেছি। পটিয়া পৌরসভাকে চীনের অাদলে একটি মডেল ও দৃষ্টিনন্দন পৌরশহর গড়ে তোলা হবে। আমজুর হাট থেকে পৌরসভার শেষ প্রান্ত শ্রীমাই পর্যন্ত চার লেইন রাস্তার কাজও চলমান রয়েছে। পৌরসভার ড্রেনের উপর দিয়ে ফুটপাত দিয়ে লোকজন হাঁটছে। প্রতি ১০ মিনিট পর পর যাতায়াত করবে এমন আভ্যন্তরীন গাড়ীর উদ্যোগ নেয়া হবে। মাত্র ৫ টাকায় লোকেরা যাতে শহরের এ প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে যেতে পারে সে জন্য বিশেষ ধরণের এ গাড়ির ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন চীনে এ ধরণের গাড়ি চলতে আমি দেখেছি। তিনি বলেন, আমি পটিয়ার, পটিয়া আমার এটি একসময় শ্লোগান মনে হলেও এখন এটি বাস্তবতা। পটিয়াকে আমি যেমন ভালবাসি তেমনি পটিয়ার মানুষও আমাকে ভালবেসে পরপর ৩ বার হ্যাট্টিক বিজয়ী করেছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও তিনি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে দুস্থদের মাঝে উপহার সামগ্রী প্রদান করেন।- - পটিয়া নিউজ

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর