রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০
প্রকাশ : 2020-05-23

মানবতা হোক মানুষের জন্য

২৩মে,শনিবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: আজও মানুষকে ভাবায় বিখ্যাত সংগীত শিল্পী ভূপেন হাজারিকার সেই গান- মানুষ মানুষের জন্যে, জীবন জীবনের জন্যে, একটু সহানুভূতি কি পেতে পারে না ও বন্ধু। পরপারে পাড়ি দেওয়া একজন বিখ্যাত সংগীত শিল্পী আজ আমাদের মাঝে না থাকলেও আছে তার গান। আমরা মানুষ যখন ক্রান্তিকাল সময় পার করি ঠিক তখনই আমাদের কাছে ফিরে আসে কালজয়ী সেই গানটি। কিন্তু আমরা আজও মানুষ হয়ে অসহায়দের পাশে দাঁড়াচ্ছি? অবশ্যই অনেকে দাঁড়াচ্ছেন। কিন্তু যাদের কে দেখতে চাই তাড়াই কি অসহায়দের পাশে দাঁড়াচ্ছি? নাকি নি:স্ব কোন মানুষই অসহায়দের পাশে গিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন? অথচ মহান আল্লাহ যাকে অর্থ-সম্পদ দিয়েছেন তিনি সে সম্পদ থেকে অভাবী অসহায় মানুষকে সাহায্য করলে তাতে মহান সৃষ্টি কর্তা খুশি হন। কিন্তু আমাদের অনেক বিত্তশালীরা হা-হুতাশ করে বেড়ায়। তাদের নাই নাই অভ্যাসটা যায় না। আপনার যা আছে তা নিয়েই সুখে থাকুন। বেশি চাওয়া পাওয়া করে লাভ কি বলুন, কতদিনেই বাঁচবেন এ জগতে একদিন না একদিনতো চলে যেতেই হবে। নিজের বিবেক-বুদ্ধি-মনুষ্যত্ব ও মূল্যবোধকে কাজে লাগালেই তো হয়। দেখুন বাইরে অসহায় মানুষরা একমুঠো খাবারের জন্য হাত বাড়িয়ে অপেক্ষা করছে। ওদের কোন কাজ নেই। তাই রোজগার ও নেই। একজন অসহায় মা তাঁর সন্তানের মুখে খাবার দিতে পারছেন না। সেই মায়ের যন্ত্রণা একটু বোঝার চেষ্টা করুন! তার সন্তান যখন কাঁন্নাকাটি করে, তখন তিনি কতটা অসহায় বোধ করেন! হঠাৎ বেকার হয়ে যাওয়া বাবা যখন তাঁর সন্তানের মুখে আহার জোগাতে ব্যর্থ হন, তখন তাঁর মনের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করুন। তিনিই হয়তো সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। এই কঠিন বিপদে তাঁর যাওয়ার যায়গা কোথায় বলুন! ভালোই তো ছিলো সব কিছু। কেন হটাৎ এমনটি ঘটল? এতে কি ওই অসহায় মানুষগুলোর কোন হাত ছিলো? আমারা মানুষ হয়ে ওদের পাশে দাঁড়াবো না? ওদের কষ্টের সময় সহানুভূতির হাত বাড়াব না! তাহলে আর আমরা কিসের মানুষ! মানুষের মানবিক গুনাবলিই যদি না থাকে তাহলে কিসের মানুষ আমরা! মানবিকতাই তো মানুষের আসল পরিচয়! সাড়া বিশ্বে যখন করোনাভাইরাসের কারণে মানুষ ক্রন্তিকাল সময় কাটাচ্ছেন, ঠিক তখনই শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের গান্ধীগাঁও গ্রামের একজন সাধারন ভিক্ষুক নাজিমুদ্দিনই দেখিয়ে দিলেন মানবিক গুন। বয়স আশি বছর। একটা সময় কৃষি কাজ করলে ও দুর্ঘটনায় পা হারানো নাজিমুদ্দিন কাজ করতে না পারায় বর্তমানে ভিক্ষা করেন। ভিক্ষা করে সংসার চালান তিনি। নিজের বসতঘর মেরামতের জন্য ভিক্ষা থেকে খুব কষ্ট করে গত কয়েক বছরে জমিয়েছিলেন ১০ হাজার টাকা। তিনি তাঁর সে জমানো টাকা ঝিনাইগাতির কর্মহীনদের খাদ্য সহায়তার জন্য উপজেলা প্রশাসনের তহবিলে দান করেন। ভিক্ষুক নাজিমুদ্দিনের প্রসংসা করেছেন স্বয়ং সরকার প্রধান শেখ হাসিনা ও। তিনি বলেন, তার এই উদারতা এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো বিশ্বে। মানুষ বসবাসযোগ্য একটি গ্রহ। আর এই গ্রহটিকে আমরা যাতনা যত্মে রাখার কথা রাখিনি ততটা যত্মে। অন্যদিকে আমরা কিছু কিছু বিত্তশালীরা শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার জন্য এবং নিজেদের ভোগ বিলাস আর লোভ-লালসাকে পরিপূর্ণ করতে এই গ্রহটিকে নিংড়ে নিয়েছি। একবার ও ভাবিনি এর পরিণাম কি হবে? আমাদের অসীম চাহিদার লাগাম ধরব দূরে থাক বরঞ্চ ডাইনোসরের মতো খাই খাই লালসায় আজ আমরা নিজেদেরকেই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছি। মানুষ বাঁচলে বাঁচবে মানবতা, বাঁচবে দেশ। মানুষ বাঁচানোর সর্বজনীন প্রচেষ্টায় আমরা সকলে এক, এটা মনে প্রাণে বিশ্বাস করতে হবে। এখন থেকে আমাদের সক্রিয়তা, ঐক্যবদ্ধতা এবং দায়িত্বশীল আচরণ খুব বেশি প্রয়োজন। করোনাভাইরাস এমন এক অজানা আতঙ্ক যে বিশ্বের কোন দেশই এর থেকে মুক্ত হতে পারেনি, নিজেদের রক্ষা করতে পারেনি। পৃথিবীর সব মানুষরাই এখন অজানা আতঙ্কে ভূগছে। এ বুঝি করোনাভাইরাসের কবলে পড়ছে! মানবজাতির উপর প্রকৃতির এ এক ভয়ঙ্কর শাস্তি ছাড়া আর কিছুই নয়। সামান্য এক ভাইরাস, যা চোখে দেখা যায় না, অথচ তার ভয়ে সবার ঘুম হারাম! জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে যখন খেটে খাওয়া মানুষেরা না খেয়ে দিন পার করছেন। তখন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সকল প্রত্যন্ত অঞ্চলে ত্রাণ সামগ্রী ও উপহার সামগ্রী বিতরণের উদ্যেগ নেন। দেশের সরকার প্রধানের এমন মানবিকতাই সকলে সন্তুষ্ঠ হলেও অত্যান্ত দু:খ প্রকাশ করে বলতে হয়, ত্রাণ বিতরন শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ত্রাণ চুরির ঘটনা ও শুরু হয়েছে দেশে। এই মহাবিপর্যয়ের সময় অনেক জনপ্রতিনিধি ত্রাণ চুরি করছে বলা হচ্ছে ভিবিন্ন সংবাদ মাধ্যমে। আবার অধিকাংশ সময়ই দেখা যচ্ছে যে সকল জনপ্রতিনিধিরা ত্রাণ চুরি করছেন তার চেয়ে ঢের বেশি জনপ্রতিনিধিরা মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। আবার অনেক বিত্তশালী পরিবারের সন্তানেরা ও অসহায় মানুষের পাশে থেকে সহদরে নিনিন্মবিত্ত পরিবারকে সহযোগীতা করছেন। এই দুর্যোগ সময়ে যে শুধু অসহায়, নিন্মবিত্ত, মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষেরা কষ্ট পাচ্ছে তা কিন্তু নই, এর সাথে খাদ্য না পেয়ে কষ্ট পাচ্ছে, বিড়াল, কুকুর, কাক ও। বিড়াল, কুকুর, কাকদের প্রদান খাদ্যের উৎস হলো, হোটেলে বা ঘর বাড়ি থেকে বাদ পড়া খাবার গুলো। যা থেকে বঞ্চিত আজ এই প্রাণী গুলো ও। তবে বেশ কিছুদিন আগে এক নিউজ চ্যানেলে দেখলাম বেশ কিছু তরুণরা কিছু কুকুর এবং কাকদের খাবার দিয়েছেন। তা সত্যিই প্রসংশনীয়। কিন্তু এই প্রসংশনীয় উদ্যেগে আমরা আরো অনেক মানুষকে দেখতে চাই। আসুন আমরা মানবতার হাত বাড়াই। সাধারণ মানুষের পাশে দাড়ায়। মানুষের চরিত্র নিয়ে লিখে শেষ করা যাবে না। তবে দিন শেষে এই কথাটি বলতে হবে, বিশ্বাস করতে হবে যে এখনো পৃথিবীতে খারাপ মানুষের চেয়ে ভালো মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। না হলে পৃথিবী টিকে থাকতো না। মহামারী এই করোনাভাইরাস থেকে মানুষকে বাঁচাতে দিনরাত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন, ডাক্তার, স্বাস্থ্য কর্মী, গণমাধ্যমকর্মী, পুলিশ সহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এমনকি প্রিয়জন, প্রিয়মুখকে এক নজর দেখার অদম্য ইচ্ছেটিকে দমন করছেন তারা। লেখক: মো.ইরফান চৌধুরী,এডমিন- তরুণ প্রজন্মের ডাক,প্রকাশক- অধিকার নিউজ বিডি,কলামিস্ট,মানবাধিকার কর্মী ও সংগঠক।

বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর