ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সিএনএন-এর মামলা

অনলাইন ডেস্ক :মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সে দেশের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ক্যাবল নিউজ নেটওয়ার্ক (সিএনএন)। গত সপ্তাহে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের সঙ্গে বিতর্কে জড়ানোর পর সিএনএন এর প্রধান হোয়াইট হাউজ সংবাদদাতা জিম অ্যাকোস্টার হোয়াইট হাউজে প্রবেশে মার্কিন প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা এবং তার প্রেস পাস বাতিল করা হয়। এ ঘটনার জেরে মঙ্গলবার ওয়াশিংটনের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে এ মামলা দায়ের করা হয় বলে জানিয়েছে সিএনএন ও ওয়াশিংটন পোস্ট। মামলার বাদী হয়েছে সিএনএন এবং অ্যাকোস্টা। আর বিবাদী করা হয়েছে ছয়জনকে। এরা হলেন- প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, চিফ অব স্টাফ জন এফ কেলি, প্রেস সেক্রেটারি সারাহ স্যান্ডার্স, হোয়াইট হাউজের যোগাযোগ বিষয়ক উপ-প্রধান বিল শাইন, গোয়েন্দা পরিচালক র‌্যানডলফ অ্যালেস ও অপর এক কর্মকর্তা যিনি অ্যাকোস্টার 'হার্ড পাস' জব্দ করে নিয়ে যান। সিএনএন এক বিবৃতিতে বলেছে, অ্যাকোস্টার প্রেস পাস ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে মঙ্গলবার সকালে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এতে অভিযোগ করা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ট্রাম্প সিএনএন এবং সাংবাদিক অ্যাকোস্টার সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করছেন। গত ৭নভেম্বর সাংবাদিক অ্যাকোস্টার হোয়াইট হাউজে প্রবেশের প্রেস পাস বাতিল করে ট্রাম্প প্রশাসন। যা সিক্রেট সার্ভিস 'হার্ড পাস' নামে পরিচিত। ওই দিন এক সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নত্তোর পর্বে সীমান্তে শরণার্থীদের ঢল ঠেকানোর ইস্যু থেকে শুরু করে অভিবাসন বিরোধী বিজ্ঞাপন প্রচার এমনকি ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়টি নিয়েও ট্রাম্পকে নানা রকম প্রশ্ন করে যাচ্ছিলেন অ্যাকোস্টা। তার প্রশ্নবানে বিব্রত ট্রাম্প এক পর্যায়ে বলে ওঠেন, ‘যথেষ্ট হয়েছে। এবার মাইক্রোফোন রাখুন।’ তার এ কথার পরই হোয়াইট হাউজের এক নারী কর্মী এগিয়ে এসে অ্যাকোস্টার হাত থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু অ্যাকোস্টা তাকে বাধা দেন। ট্রাম্প তাৎক্ষণিকভাবে সম্মেলনকক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান। তবে একটু পরই ফিরে এসে অ্যাকোস্টাকে ‘অত্যন্ত রূঢ়’ ও ‘ভয়ঙ্কর’ বলে মন্তব্য করেন। ওই নারী কর্মীর সঙ্গে অ্যাকোস্টার আচরণকেও ‘ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। হোয়াইট হাউজ একজন সাংবাদিকের এ ধরনের কখনো সহ্য করবে না। আর এ কারণেই তার প্রেস পাস বাতিল করা হয়েছে বলে পরে জানান হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি সারাহ স্যান্ডার্স। তবে অ্যাকোস্টাকে সমর্থন করে কথা বলেন অন্য আরেক সাংবাদিক। তিনি অ্যাকোস্টাকে ‘অত্যন্ত পরিশ্রমী একজন প্রতিবেদক’ বলে মন্তব্য করেন। সিএনএন বলেছে, অ্যাকোস্টা চ্যালেঞ্জিং সব প্রশ্ন করার কারণেই তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। অ্যাকোস্টার পক্ষ সমর্থন করেছে হোয়াইট হাউজ করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনও। তারা বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে যা ঘটেছে তার জন্য অ্যাকোস্টার হোয়াইট হাউজে প্রবেশ নিষিদ্ধ করাকে বাড়াবাড়ি আখ্যা দিয়েছে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সিএনএন এর মামলাকেও জোর সমর্থন দিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন। সিএনএন এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব অ্যাকোস্টা যাতে সঠিক উপায়ে হোয়াইট হাউজে ফিরে আসতে পারেন, প্রাথমিকভাবে তারা সেই চেষ্টা করছেন। হোয়াইট হাউজ থেকে অ্যাকোস্টার কার্ড প্রত্যাহারের বিষয়ে আদালতের রায় চাওয়া হয়েছে।...

২ কমান্ডারসহ ৬ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করল ইসরাইলি সেনারা

অনলাইন ডেস্ক: ইহুদিবাদী ইসরাইলি সেনারা অবরুদ্ধ গাজায় অনুপ্রবেশ করে ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের একজন শীর্ষস্থানীয় কমান্ডারকে হত্যা করেছে। একইসঙ্গে ইহুদিবাদী সেনাদের আগ্রাসী হামলায় হামাসের আরেকজন স্থানীয় কমান্ডারসহ আরো পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। হামাস রোববার এক বিবৃতিতে জানিয়ছে, ইসরাইলি বিশেষ বাহিনীর একটি দল প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে একটি বেসামরিক গাড়িতে করে গাজা উপত্যকায় অনুপ্রবেশ করে। তারা চলন্ত গাড়ি থেকে গুলি চালিয়ে হামাসের সামরিক শাখা ইজ্জাদ্দিন আল-কাস্সাম ব্রিগেডের সিনিয়র কমান্ডার নূর বারাকাকে হত্যা করে। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরের কাছে এই গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। ইসরাইল সীমান্ত থেকে গাজা উপত্যকার তিন কিলোমিটার ভেতরে এই হামলা হয় বলে হামাস জানিয়েছে। কমান্ডার নিহত হওয়ার পর হামাস যোদ্ধারা ঘাতক ইসরাইলি সেনা বহনকারী গাড়িটির ওপর হামলা চালালে দু পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময় শুরু হয়। এ সময় আকাশে উড়ে আসে একটি ইহুদিবাদী জঙ্গিবিমান। ইসরাইলি বিশেষ সেনা বহনকারী গাড়িটিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করার জন্য ওই বিমান থেকে অন্তত ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এই গুলি বিনিময় ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে হামাসের স্থানীয় কমান্ডার মোহাম্মাদ আল-কারা সহ আরো পাঁচজন নিহত হন। ...

ভারতের প্রতিরক্ষা তথ্য তছনছে চীনের গোপন ইউনিট

অনলাইন ডেস্ক: ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো সাইবার হামলার লক্ষ্যবস্তু করতে পারে চীন। সম্ভাব্য এ সাইবার হামলার ব্যাপারে সতর্ক করেছে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। গোয়েন্দা রিপোর্ট মতে, চীনের লক্ষ্য মোটেও অস্ত্রে ঘায়েল করা নয়। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর সাইবার হামলা চালিয়ে সব তথ্য তছনছ করে দিতে চায় দেশটি। এ লক্ষ্যে একটি গোপন সামরিক ইউনিট গড়ে তুলেছে চীনা সেনাবাহিনী পিপল’স লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)। নাম দেয়া হয়েছে ‘ইউনিট ৬১৩৯৮’। সাইবার হামলার মাধ্যমে স্পর্শকাতর যেকোনো তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে দলটি। শনিবার এ খবর দিয়েছে রয়টার্স। গোয়েন্দাদের দাবি, বিশ্বব্যাপী বৃহৎ পরিসরে সাইবার যুদ্ধ শুরু করেছে চীন। এ যুদ্ধের অন্যতম প্রতিপক্ষ ভারত। পিএলএর ইউনিট ৬১৩৯৮ বর্তমানে ভূ-অবস্থানগত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিভিন্ন তথ্যসূত্র ট্র্যাকিং বা শনাক্তকরণ, উৎসগুলোতে ঢুকে পড়ে তথ্য চুরির সঙ্গে জড়িত রয়েছে। ইউনিটটির সদর দফতর সাংহাইয়ে। চীনের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ ইউনিটে প্রস্তুত একদল হ্যাকারও। এর আগেও বিদেশি সংস্থায় হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে এই ইউনিটের বিরুদ্ধে। তাই আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না ভারত। বিভিন্ন ম্যালওয়্যারের সাহায্যে মূলত তথ্য চুরি করে এই ইউনিট। এরা চীনা সেনার স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সের অংশ। গেল অক্টোবরেই যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ আনে, জেট ইঞ্জিন ডেটা হ্যাক করেছেন চীনা গোয়েন্দা কর্মকর্তরা। ভারত সম্প্রতি দেশের মাটিতে বেশ কয়েকটি এয়ারক্রাফট তৈরি করেছে। সদ্য জলে নেমেছে নিউক্লিয়ার সাবমেরিন। তাই ভারতের সামরিক শক্তিতে চীনের নজর বাড়ছে বলে মনে করছেন ভারতীয় গোয়েন্দারা। সম্প্রতি চীনা সেনাবাহিনীর এই বিশেষ ইউনিট বিশ্বজুড়ে সাইবার-গুপ্তচরবৃত্তি চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠলে তা অস্বীকার করে চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এর আগে আমেরিকাভিত্তিক একটি কম্পিউটার নিরাপত্তা সংস্থা দাবি করেছিল তারা আন্তর্জাতিক একটি হ্যাকিং সিস্টেমের সঙ্গে সাংহাইয়ের একটি সামরিক ইউনিটের যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে। কিন্তু চীন বলছে, এ অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। আর তা ছাড়া হ্যাকিং কাকে বলে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সেরকম কোনো সংজ্ঞাও নেই। চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে যে জবাব দেয়া হয়, তার প্রধান যুক্তি- সাইবার জগতে যারা হামলা চালায় তারা প্রায়শই তাদের নাম-পরিচয় গোপন রাখে। তারা বলছে, যে ইন্টারনেট ঠিকানা থেকে এসব হামলা চালানো হয়েছে তার সঙ্গে চীনের যোগাযোগটি মার্কিন কম্পিউটার কোম্পানি ম্যানডিয়েন্ট প্রমাণ করতে পারেনি। শীর্ষ নিউজ...

ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ দাবানলে নিহত ৫, এলাকা ছেড়েছে দেড় লাখ মানুষ

অনলাইন ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যে ভয়াবহ দাবানলে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মৃতদেহগুলো একটি আগুনে পোড়া গাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। প্রাণে বাঁচাতে এলাকা ছেড়েছে অন্তত দেড় লাখ মানুষ। লস এঞ্জেলেসের দুটি বড় বনাঞ্চলের ১৪ হাজার একর অঞ্চল জুড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। রাজ্যটির পশ্চিমাঞ্চলে মহাসড়ক পর্যন্ত দাবানলের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। খবর বিবিসির। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুরে (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা) দাবানল ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। আগুন নিয়ন্ত্রণে দমকল বাহিনী চেষ্টা চালিয়ে গেলেও শুষ্ক আবহাওয়া ও তীব্র বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। দাবানলে উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি শহর পুরোপুরি পুড়ে গেছে। পুড়ে ছাই হয়ে গেছে প্রায় বিশ হাজার একর বনাঞ্চল। এরমধ্যে প্যারাডাইস শহরটি সবচে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আশপাশের এলাকাগুলো থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় গভর্নর।...

আমি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছি :অর্থমন্ত্রী

অনলাইন :অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, আমাদের ভোটাররা সচেতন। তারা যে ভুল করবে না, সে ব্যাপারে আমি খুবই নিশ্চিত। তারা নিজের পায়ে কুড়াল মারবে না। আমি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছি। সোমবার রাতে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিঅার) ট্যাক্স কার্ড ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ২০১৭-১৮ করবর্ষের জন্য ৬৫৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে শীর্ষ করদাতা হিসেবে নির্বাচিত করে এনবিআর। গত ১ নভেম্বর এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়। ৩৬ ক্যাটাগরিতে কেন্দ্রীয়ভাবে সেরা ১৪১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে ট্যাক্স কার্ড তুলে দেয়া হয় এ অনুষ্ঠানে। এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান ও এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করেছিলাম, আমাদের যে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আছে তার তুলনায় বাজেটের আকার ২৩ থেকে ২৪ শতাংশ করা গেলে বিরাট পরিবর্তন আসবে। এখনো চেষ্টা করছি। এটা করতেই থাকবো। অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, এনবিঅার করদাতাদের উদ্বুদ্ধ করতে যে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার এতে স্বাগত জানায়। এতে করে কর প্রদান অারও সহজ ও গ্রহণযোগ্য হবে। বিশেষ সম্মাননা ক্যাটাগরিতে সেরা করদাতা সম্মাননা পেলেন পেয়েছেন একুশে টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান সম্পাদক মনজুরুল আহসান বুলবুল। সাংবাদিক ক্যাটাগরিতে সেরা করদাতা হিসেবে সম্মাননা পেয়েছেন দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক ও প্রকাশক মতিউর রহমান, ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম, চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদীর সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল মালেক, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম ও চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ। সিনিয়র সিটিজেন ক্যাটাগরিতে ট্যাক্স কার্ড পেয়েছেন গোলাম দস্তগীর গাজী, তপন চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার বদরুল হাসান, স্যামুয়েল এস চৌধুরী ও অনিতা চৌধুরী। অন্যদিকে তরুণ ক্যাটাগরিতে কার্ড পেয়েছেন গাজী গোলাম মর্তুজা, নাফিস সিকদার, মো. আমজাদ খান, মো. হাসান ও মো. জুলফিকার হোসেন মাসুদ রানা। গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা ক্যাটাগরিতে কার্ড পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন লে. জেনারেল (অব.) আবুল সালেহ মো. নাসিম, মো. নাসির উদ্দিন মৃধা, ইদ্রিস আলী মিয়া, এস এম আবদুল ওয়াহাব ও মো. আতাউর রউফ। প্রতিবন্ধী ক্যাটাগরিতে কার্ড পেয়েছেন সুকর্ণ ঘোষ, কাজী আখতার হোসেন ও ডা. মামুনুর রশিদ। নারী ক্যাটাগরিতে কার্ড পেয়েছেন রুবাইয়াত ফারজানা হোসেন, রত্না পাত্র, পারভীন হাসান, নিশাত ফারজানা চৌধুরী, মাহমুদা আলী শিকদার। ব্যবসায়ী ক্যাটাগরিতে কার্ড পেয়েছেন মো. কাউছ মিঞা, মো. নুরুজ্জামান খান, কামরুল আশরাফ খান, সৈয়দ আবুল হোসেন ও আবদুল কাদির মোল্লা। বেতনভোগী ক্যাটাগরিতে এই কার্ড পেয়েছেন লায়লা হোসেন, মো. ইউসুফ, হোসনে আরা হোসেন, খাজা তাজমহল, এম এ হায়দার হোসেন। পেশাজীবীদের মধ্যে চিকিৎসক ক্যাটাগরিতে অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল হক, অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, ডা জাহাঙ্গীর কবির, অধ্যাপক ডা. মো. নূরুল ইসলাম ও ডা. এন এ এম মোমেনুজ্জামান; আইনজীবী ক্যাটাগরিতে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, আহসানুল করিম, অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম, কাজী মো. তানজীবুল আলম ও ব্যারিস্টার নিহাদ কবীর; প্রকৌশলী ক্যাটাগরিতে মো. আনোয়ার হোসেন, হাফিজুর রহমান ও হামিদুল হক; স্থপতি ক্যাটাগরিতে ফয়েজ উল্লাহ, হাসান সামস্ উদ্দীন ও ইকবাল হাবিব এবং অ্যাকাউন্ট্যান্ট ক্যাটাগরিতে মোক্তার হোসেন, এ বি এম লুৎফুল হাদী ও বিমলেন্দু চক্রবর্তী এই ট্যাক্স কার্ড পেয়েছেন। নতুন করদাতা হিসেবে ট্যাক্স কার্ড পেয়েছেন মনিকা রফিকুলোভনা, তাফিজুল ইসলাম পিয়াল, রানা মালিক, ছিয়াতুন নেছা, সেলিনা আক্তার, সাইফুল ইসলাম ও রাসেল রায়; খেলোয়াড় ক্যাটাগরিতে সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল ও মাশরাফি বিন মর্তুজা; অভিনেতা-অভিনেত্রী ক্যাটাগরিতে মাহফুজ আহমেদ, এম এ জলিল অনন্ত ও এস এ আবুল হায়াত; শিল্পী ক্যাটাগরিতে তাহসান রহমান খান, রুনা লায়লা ও এস ডি রুবেল এবং অন্যান্য ক্যাটাগরিতে সদর উদ্দিন খান, আবু মো. জিয়াউদ্দিন খান ও নজরুল ইসলাম মজুমদার পেয়েছেন ট্যাক্স কার্ড। এর বাইরে প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে ব্যাংকিং খাতে ইসলামী ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, দি হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন লি. (এইচএসবিসি), সাউথইস্ট ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংক। অ-ব্যাংকিং আর্থিক খাতে আইডিএলসি ফাইন্যান্স লি, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লি. ও উত্তরা ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লি। টেলিযোগাযোগ খাতে গ্রামীণফোন, প্রকৌশল খাতে বিএসআরএম স্টিলস লি, পিএইচপি কোল্ড রোলিং মিলস লি, পিএইচপি নফ কন্টিনিউয়াস গ্যালভানাইজিং মিলস লি। খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে নেসলে বাংলাদেশ লি., অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ লি., ট্রান্সকম বেভারেজেস লি.। জ্বালানি খাতে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লি., সিলেট গ্যাস ফিল্ড লি., শেভরন বাংলাদেশ ব্লকস থারটিন অ্যান্ড ফোরটিন লি.। পাট শিল্প খাতে জনতা জুট মিলস লি., সুপার জুট মিলস লি., ওআইয়ান জুট মিলস লি. এবং স্পিনিং ও টেক্সটাইল খাতে কোটস বাংলাদেশ লি., এপেক্স টেক্সটাইল প্রিন্টিং মিলস লি., বাদশা টেক্সাটাইল লি., স্কয়ার টেক্সটাইল লি., এনভয় টেক্সটাইল লি., ফখরুদ্দিন টেক্সটাইল মিলস লি., স্কয়ার ফ্যাশান ইয়ার্নস লি. পেয়েছে ট্যাক্স কার্ড। প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে আরও ট্যাক্স কার্ড পাওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাতে ইউনিলিভার বাংলাদেশ লি., স্কয়ার ফার্মাসিটিক্যালস লি., রেনাটা ফার্মাসিউটিক্যালস লি., ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লি.। প্রিন্ট ও ইলেট্রনিক মিডিয়া খাতে ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লি., ট্রান্সক্রাফট লি., মিডিয়া ওয়ার্ল্ড লি. ও মিডিয়া স্টার লি.। আবাসন খাতে স্পেসজিরো লি., বে ডেভেলপমেন্টস লি. ও স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার্স লি.। চামড়া শিল্প খাতে বাটা সু, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার ও লালমাই ফুটওয়্যার। তৈরি পোশাক শিল্প খাতে রিফাত গার্মেন্টস লি., জিএমএস কম্পোজিট, দ্যাটস ইট স্পোর্টস ওয়্যার, ফোর এইচ ফ্যাশন, কেডিএস গার্মেন্ট, অ্যাপেক্স লেনজারি এবং অন্যান্য খাতের মধ্যে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, মেটলাইফ, লাফার্জহোলসিম ও নিটল মোটরস লি.। এছাড়াও ফার্ম ক্যাটাগরিতে ওয়ালটন মাইক্রোটেক করপোরেশন, এস এন করপোরেশন, ওয়ালটন প্লাজা ও এ এস বি এস ট্যাক্স কার্ড পেয়েছে। সম্মাননা হিসেবে পাওয়া ট্যাক্স কার্ডের মেয়াদ থাকবে এক বছর। কার্ডপ্রাপ্তরা বিভিন্ন ধরনের রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাবেন। কার্ডধারীরা রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণসহ সড়ক, বিমান ও নদীপথে ভ্রমণে অগ্রাধিকারভিত্তিতে টিকেট পাবেন। একইসঙ্গে হোটেল-রেঁস্তোরায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবা পাবেন। তারা সুযোগ পাবেন বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারের। ট্যাক্স কার্ডধারী ব্যক্তি ও তার পরিবার চিকিৎসায় হাসপাতালে অগ্রাধিকারভিত্তিতে শয্যা সুবিধা পাবেন।...

প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে চট্টগ্রামে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির আনন্দ মিছিল

বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারিদের জন্য বৈশাখী ভাতা ও ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট দেয়ার ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে মঙ্গলবার (১৩ নভেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম মহানগরীতে আন্দরকিল্লাস্থ চত্বরে আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ শিক্ষক সিমিতি চট্টগ্রাম আঞ্চলিক শাখা। আজ মঙ্গলবার (১৩ নভেম্বর) সকালে নগরীর আন্দরকিল্লাস্থ চত্বরে এ সমাবেশ হয়েছে। সমাবেশ শেষে আনন্দ মিছিলে মহানগর ও জলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেন। বাশিস, চট্টগ্রাম আঞ্চলিক শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ লকিতুল্লাহর সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বাশিস কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি রনজিৎ কুমার নাথ। মুখ্য আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক শাখার সাধারণ সম্পাদক অঞ্চল চৌধুরী। সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিমুল মহাজনের সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আঞ্চলিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে শান্তিরঞ্জন চক্রবর্ত্তী, আকম শহীদুল্লাহ মানিক, সৃষ্টিব্রত পাল, মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কানুনগো, দেবেশ দাস, ভানু দে, বিচিত্রা চৌধুরী, উপজেলা/থানা নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উত্তম দাশ, আব্দুল মালেক, আমির হোসেন, মাকসুদুল করিম, মুকুল ভট্টাচার্য, মোঃ আহসান প্রমুখ। সভায় শিক্ষক নেতৃবৃন্দ বর্তমান শিক্ষা বান্ধব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনায় শিক্ষক সমিতির দীর্ঘ আন্দোলনের ফসল। তিনি সঠিক সময়ে এ ঘোষণা প্রদান করেছেন। বক্তারা প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণা শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণে এক ধাপ এগিয়ে গেলো বলে উল্লেখ করেন। তাছাড়া জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ বাস্তবায়ন ও মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ নির্বাচনি ইশতেহারে সংযোজনের আহ্বান জানান। আন্দরকিল্লা চত্বরে সমাবেশ শেষে আনন্দ মিছিল নগরীর রাজপথ প্রদক্ষিণ শেষে প্রেস ক্লাব চত্বরে সম্পন্ন হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি ...

মানুষের কল্যাণই বড় সমাজসেবা :ড. নিছার উদ্দীন আহমেদ মঞ্জু

চট্টগ্রাম সাহিত্য পাঠচক্রের উদ্যোগে ফুলকলির জেনারেল ম্যানেজার সমাজসেবক এম,এ,সবুরের মাতা মরিয়ম খাতুন স্মরণ এক স্মরণ আলোচনা, দোয়া মাহফিল ও দুঃস্থ পরিবারের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠান সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক ডাঃ জামাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে সম্প্রতি বিকেলে নগরীর তনজিমুল মোছলেমিন এতিমখানায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র ড. নিছার উদ্দীন আহমেদ মঞ্জু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট কেন্দ্রীয় কমিটির শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ আজাদ খান, সাবেকমন্ত্রী জহুর আহমদ চৌধুরীর কনিষ্ঠ সন্তান শরফুদ্দীন চৌধুরী রাজু, তনজিমুল মোছলেমিন এতিমখানার তত্ত্বাবধায়ক হাফেজ মোঃ আমানউল্লাহ, লেখক এম,এ,সবুর, রাজনীতিবিদ জসিম উদ্দীন চৌধুরী, চট্টগ্রাম সাহিত্য পাঠচক্রের সাধারণ সম্পাদক আসিফ ইকবাল, জাকির হোসেন, মোঃ রানা প্রমুখ। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন হাফেজ ফজলুল হক। সভায় প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে মরহুম মরিয়ম খাতুন আজ আমাদের মাঝে নেই কিন্তু তার পরকালের আত্মার মাগফেরাত কামনার জন্য আমাদেরকে ভালো ও কল্যাণমূলক কাজ করতে হবে। তিনি বলেন মরহুমা মরিয়ম খাতুন তাঁর সুযোগ্য সন্তানরা রেখে গেছেন। যারা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠিত ও শিক্ষিত। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন মরহুমের স্বজন আজকে সেলাই মেশিন বিতরণের মত যে মহৎ উদ্যোগ নিয়েছে তা ভবিষ্যতে আর বৃহত্তরভাবে করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরো বলেন, মানুষের কল্যাণই বড় সমাজসেবা, বড় কর্ম। সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য এভাবে আমাদেরকে বিশেষ সংগঠনসমূহকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি সেলাই মেশিন বিতরণের মহৎ উদ্যোগের জন্য চট্টগ্রাম সাহিত্য পাঠচক্র ধন্যবাদ ও এরকম কার্যক্রম চালু রাখার আহবান জানান। সভা শেষে একজন দুঃস্থ এতিম পরিবারের মাঝে একটি সেলাই মেশিন বিতরণ করেন প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।প্রেস বিজ্ঞপ্তি ...

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় চালকের দুই চোখ উপড়ে অটোরিকশা ছিনতাই

অনলাইন ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় দুই চোখ উপড়ানো অবস্থায় শাকিল (১৮) নামে এক অটোরিকশা চালকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের গজারিয়াপাড়া এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত শাকিল আড়াইহাজার উপজেলার বালিয়াপাড়ার আবু বকরের ছেলে। নিহতের বড় ভাই শরিফ জানান, শাকিল প্রতিদিনের মতো রোববার বিকেলে অটোরিকশা নিয়ে বের হয়। সোমবার সকালে ফেসবুকে তার লাশের ছবি দেখে তালতলা ফাঁড়িতে গিয়ে পরিচয় শনাক্ত করেন তারা। সোনারগাঁ তালতলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আহসান উল্লাহ জানান, সোমবার সকালে উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের গজারিয়াপাড়া কবরস্থানের পাশে একটি লাশ দেখে পুলিশে খবর দেয় এলাকাবাসী। পরে ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়। তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে দুর্বৃত্তরা অটোরিকশা চালকের দুই চোখ উপড়ে ফেলে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে অটোরিকশাটি ছিনতাই করে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।...

পাবনায় পুকুরের পানি থেকে ভাইকে তুলতে গিয়ে ডুবে গেল আরেক ভাই

অনলাইন ডেস্ক: পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শিশু দুটি সম্পর্কে চাচাতো ভাই। রোববার দুপুরে উপজেলার খাগরবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। দুই শিশুর পরিবার জানায়, খাগরবাড়িয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে তামিম (৭) তার ভাই সাইফুল ইসলামের ছেলে সিয়াম (৭) এবং তাদের ভাগ্নে শিপন (৪) দুপুর ১২টার দিকে বাড়ির বাইরে পুকুর পাড়ে খেলা করছিল। এ সময় তামিম পা পিছলে পুকুরের পানিতে পড়ে গেলে তাকে তুলতে গিয়ে সিয়ামও ডুবে যায়। দুপুর ২টার দিকে এলাকাবাসী ও পরিবারের সদস্যরা পুকুরে নেমে তামিম ও সিয়ামকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। দুই শিশুর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।...

আমি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছি :অর্থমন্ত্রী

অনলাইন :অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, আমাদের ভোটাররা সচেতন। তারা যে ভুল করবে না, সে ব্যাপারে আমি খুবই নিশ্চিত। তারা নিজের পায়ে কুড়াল মারবে না। আমি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছি। সোমবার রাতে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিঅার) ট্যাক্স কার্ড ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ২০১৭-১৮ করবর্ষের জন্য ৬৫৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে শীর্ষ করদাতা হিসেবে নির্বাচিত করে এনবিআর। গত ১ নভেম্বর এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়। ৩৬ ক্যাটাগরিতে কেন্দ্রীয়ভাবে সেরা ১৪১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে ট্যাক্স কার্ড তুলে দেয়া হয় এ অনুষ্ঠানে। এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান ও এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করেছিলাম, আমাদের যে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আছে তার তুলনায় বাজেটের আকার ২৩ থেকে ২৪ শতাংশ করা গেলে বিরাট পরিবর্তন আসবে। এখনো চেষ্টা করছি। এটা করতেই থাকবো। অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, এনবিঅার করদাতাদের উদ্বুদ্ধ করতে যে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার এতে স্বাগত জানায়। এতে করে কর প্রদান অারও সহজ ও গ্রহণযোগ্য হবে। বিশেষ সম্মাননা ক্যাটাগরিতে সেরা করদাতা সম্মাননা পেলেন পেয়েছেন একুশে টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রধান সম্পাদক মনজুরুল আহসান বুলবুল। সাংবাদিক ক্যাটাগরিতে সেরা করদাতা হিসেবে সম্মাননা পেয়েছেন দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক ও প্রকাশক মতিউর রহমান, ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম, চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদীর সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল মালেক, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম ও চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ। সিনিয়র সিটিজেন ক্যাটাগরিতে ট্যাক্স কার্ড পেয়েছেন গোলাম দস্তগীর গাজী, তপন চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার বদরুল হাসান, স্যামুয়েল এস চৌধুরী ও অনিতা চৌধুরী। অন্যদিকে তরুণ ক্যাটাগরিতে কার্ড পেয়েছেন গাজী গোলাম মর্তুজা, নাফিস সিকদার, মো. আমজাদ খান, মো. হাসান ও মো. জুলফিকার হোসেন মাসুদ রানা। গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা ক্যাটাগরিতে কার্ড পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন লে. জেনারেল (অব.) আবুল সালেহ মো. নাসিম, মো. নাসির উদ্দিন মৃধা, ইদ্রিস আলী মিয়া, এস এম আবদুল ওয়াহাব ও মো. আতাউর রউফ। প্রতিবন্ধী ক্যাটাগরিতে কার্ড পেয়েছেন সুকর্ণ ঘোষ, কাজী আখতার হোসেন ও ডা. মামুনুর রশিদ। নারী ক্যাটাগরিতে কার্ড পেয়েছেন রুবাইয়াত ফারজানা হোসেন, রত্না পাত্র, পারভীন হাসান, নিশাত ফারজানা চৌধুরী, মাহমুদা আলী শিকদার। ব্যবসায়ী ক্যাটাগরিতে কার্ড পেয়েছেন মো. কাউছ মিঞা, মো. নুরুজ্জামান খান, কামরুল আশরাফ খান, সৈয়দ আবুল হোসেন ও আবদুল কাদির মোল্লা। বেতনভোগী ক্যাটাগরিতে এই কার্ড পেয়েছেন লায়লা হোসেন, মো. ইউসুফ, হোসনে আরা হোসেন, খাজা তাজমহল, এম এ হায়দার হোসেন। পেশাজীবীদের মধ্যে চিকিৎসক ক্যাটাগরিতে অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল হক, অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, ডা জাহাঙ্গীর কবির, অধ্যাপক ডা. মো. নূরুল ইসলাম ও ডা. এন এ এম মোমেনুজ্জামান; আইনজীবী ক্যাটাগরিতে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, আহসানুল করিম, অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম, কাজী মো. তানজীবুল আলম ও ব্যারিস্টার নিহাদ কবীর; প্রকৌশলী ক্যাটাগরিতে মো. আনোয়ার হোসেন, হাফিজুর রহমান ও হামিদুল হক; স্থপতি ক্যাটাগরিতে ফয়েজ উল্লাহ, হাসান সামস্ উদ্দীন ও ইকবাল হাবিব এবং অ্যাকাউন্ট্যান্ট ক্যাটাগরিতে মোক্তার হোসেন, এ বি এম লুৎফুল হাদী ও বিমলেন্দু চক্রবর্তী এই ট্যাক্স কার্ড পেয়েছেন। নতুন করদাতা হিসেবে ট্যাক্স কার্ড পেয়েছেন মনিকা রফিকুলোভনা, তাফিজুল ইসলাম পিয়াল, রানা মালিক, ছিয়াতুন নেছা, সেলিনা আক্তার, সাইফুল ইসলাম ও রাসেল রায়; খেলোয়াড় ক্যাটাগরিতে সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল ও মাশরাফি বিন মর্তুজা; অভিনেতা-অভিনেত্রী ক্যাটাগরিতে মাহফুজ আহমেদ, এম এ জলিল অনন্ত ও এস এ আবুল হায়াত; শিল্পী ক্যাটাগরিতে তাহসান রহমান খান, রুনা লায়লা ও এস ডি রুবেল এবং অন্যান্য ক্যাটাগরিতে সদর উদ্দিন খান, আবু মো. জিয়াউদ্দিন খান ও নজরুল ইসলাম মজুমদার পেয়েছেন ট্যাক্স কার্ড। এর বাইরে প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে ব্যাংকিং খাতে ইসলামী ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, দি হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন লি. (এইচএসবিসি), সাউথইস্ট ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংক। অ-ব্যাংকিং আর্থিক খাতে আইডিএলসি ফাইন্যান্স লি, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লি. ও উত্তরা ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লি। টেলিযোগাযোগ খাতে গ্রামীণফোন, প্রকৌশল খাতে বিএসআরএম স্টিলস লি, পিএইচপি কোল্ড রোলিং মিলস লি, পিএইচপি নফ কন্টিনিউয়াস গ্যালভানাইজিং মিলস লি। খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে নেসলে বাংলাদেশ লি., অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ লি., ট্রান্সকম বেভারেজেস লি.। জ্বালানি খাতে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লি., সিলেট গ্যাস ফিল্ড লি., শেভরন বাংলাদেশ ব্লকস থারটিন অ্যান্ড ফোরটিন লি.। পাট শিল্প খাতে জনতা জুট মিলস লি., সুপার জুট মিলস লি., ওআইয়ান জুট মিলস লি. এবং স্পিনিং ও টেক্সটাইল খাতে কোটস বাংলাদেশ লি., এপেক্স টেক্সটাইল প্রিন্টিং মিলস লি., বাদশা টেক্সাটাইল লি., স্কয়ার টেক্সটাইল লি., এনভয় টেক্সটাইল লি., ফখরুদ্দিন টেক্সটাইল মিলস লি., স্কয়ার ফ্যাশান ইয়ার্নস লি. পেয়েছে ট্যাক্স কার্ড। প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে আরও ট্যাক্স কার্ড পাওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাতে ইউনিলিভার বাংলাদেশ লি., স্কয়ার ফার্মাসিটিক্যালস লি., রেনাটা ফার্মাসিউটিক্যালস লি., ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লি.। প্রিন্ট ও ইলেট্রনিক মিডিয়া খাতে ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লি., ট্রান্সক্রাফট লি., মিডিয়া ওয়ার্ল্ড লি. ও মিডিয়া স্টার লি.। আবাসন খাতে স্পেসজিরো লি., বে ডেভেলপমেন্টস লি. ও স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার্স লি.। চামড়া শিল্প খাতে বাটা সু, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার ও লালমাই ফুটওয়্যার। তৈরি পোশাক শিল্প খাতে রিফাত গার্মেন্টস লি., জিএমএস কম্পোজিট, দ্যাটস ইট স্পোর্টস ওয়্যার, ফোর এইচ ফ্যাশন, কেডিএস গার্মেন্ট, অ্যাপেক্স লেনজারি এবং অন্যান্য খাতের মধ্যে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, মেটলাইফ, লাফার্জহোলসিম ও নিটল মোটরস লি.। এছাড়াও ফার্ম ক্যাটাগরিতে ওয়ালটন মাইক্রোটেক করপোরেশন, এস এন করপোরেশন, ওয়ালটন প্লাজা ও এ এস বি এস ট্যাক্স কার্ড পেয়েছে। সম্মাননা হিসেবে পাওয়া ট্যাক্স কার্ডের মেয়াদ থাকবে এক বছর। কার্ডপ্রাপ্তরা বিভিন্ন ধরনের রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাবেন। কার্ডধারীরা রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণসহ সড়ক, বিমান ও নদীপথে ভ্রমণে অগ্রাধিকারভিত্তিতে টিকেট পাবেন। একইসঙ্গে হোটেল-রেঁস্তোরায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবা পাবেন। তারা সুযোগ পাবেন বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারের। ট্যাক্স কার্ডধারী ব্যক্তি ও তার পরিবার চিকিৎসায় হাসপাতালে অগ্রাধিকারভিত্তিতে শয্যা সুবিধা পাবেন।...

৪ অক্টোবরের-রবিবারের জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা শুক্রবার

অনলাইন ডেস্ক: অনিবার্য কারণে আগামীকাল রবিবারের (৪ অক্টোবর) অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। রবিবার জেএসসি-জেডিসিতে যেসব পরীক্ষা ছিল, তা আগামী শুক্রবার নেওয়া হবে। সেদিন সকাল নয়টা থেকে পরীক্ষা নেয়া হবে। গত বৃহস্পতিবার শুরু হয় জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা। সারাদেশে এবার ২৬ লাখ ৭০ হাজার ৩৩৩ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৪ লাখ ৪৬ হাজার ৬০১ জন ছাত্রী এবং ১২ লাখ ২৩ হাজার ৭৩২ জন ছাত্র। এবার ছাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৮৬৯ জন। ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত দুই হাজার ৯০৩টি কেন্দ্রে পরীক্ষা নিচ্ছে তারা। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর প্রথম দিনেই সারা দেশে ৪৩ হাজার ৬৪২ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। আর প্রথম দিন বহিষ্কার করা হয় ১৯ জন পরীক্ষার্থীকে।...

সময় বাড়ল ইবিতে স্নাতকে ভর্তি আবেদনের

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি আবেদনের সময় আরো দুদিন বাড়ানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এম এম আবদুল লতিফ বলেন, ‘গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি আবেদন নেওয়া হয়েছে। আবেদন জমা নেওয়ার সময় দুই দিন বাড়ানো হয়েছে। ফলে ১২ অক্টোবর রাত ১২টা পর্যন্ত আবেদন নেওয়া হবে।’ সূত্র জানায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ অক্টোবর সময়ে মোট ৪৭ হাজার ২৯৫ জন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। এর মধ্যে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদভুক্ত ‘এ’ ইউনিটে এক হাজার ৯৬৫ জন, মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘বি’ ইউনিটে ২০ হাজার ৬০৮ জন, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদভুক্ত ‘সি’ ইউনিটে ছয় হাজার ৯২১ জন, ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদভুক্ত ‘ডি’ ইউনিটে ১৭ হাজার ৮০১ জন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়টিতে পাঁচটি অনুষদের অধীনে ৩৩টি বিভাগে দুই হাজার ২৭৫ আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হবে। এবারই প্রথম ভর্তি পরীক্ষায় বহুনির্বাচনী পদ্ধতির পাশাপাশি লিখিত পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। সর্বমোট ১২০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলের উপর থাকবে (এসএসসি ও এইচএসসি মিলে ২০+২০=৪০) ৪০ নম্বর। এ ছাড়া ৬০ নম্বরের বহুনির্বাচনী এবং ২০ নম্বরের (এককথায় উত্তর দিতে হবে) লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে। ভর্তি সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইটে (www.iu.ac.bd) পাওয়া যাবে।...

ডাবল সেঞ্চুরি মুশফিকের

অনলাইন ডেস্ক: নির্ভরতার অপর নাম মুশফিকুর রহিম। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টেও সেই পরিচয় দিচ্ছেন তিনি। বুক চিতিয়ে লড়ছেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল। ইতিমধ্যে ডাবল সেঞ্চুরি করে ফেলেছেন এ উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। এ নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটে অনন্য নজির গড়লেন মুশি। বিশ্বের প্রথম উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান এবং দেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে দুইবার দ্বিশতক করার কীর্তি গড়লেন তিনি। এর আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০১৩ সালে গলে কাঁটায় ২০০ রান করেন তিনি। সেটিও ছিল দেশের টেস্ট ইতিহাসে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি। বাংলাদেশের হয়ে ক্রিকেটের আদি ফরম্যাটে ডাবল সেঞ্চুরি আছে কেবল দুজনের-সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের। টাইগারদের হয়ে সর্বোচ্চ ২১৭ রানের ইনিংসটি সাকিবের। ২০১৭ সালে ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এ ইতিহাস গড়েন। আর ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে খুলনায় ২০৬ রানের অনিন্দ্যসুন্দর ইনিংস খেলেন তামিম। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার ও ড্যাশিং ওপেনার দুজনকেই ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকছে মুশফিকের সামনে। শেষ খবর পর্যন্ত দ্বিতীয় সেশন শেষে ১৬০ ওভারে ৭ উইকেটে ৫২২ রান করেছে বাংলাদেশ। ২১৯ রান নিয়ে ক্রিজে আছেন মুশফিক। মিস্টার পার্টনারকে দারুণ সঙ্গ দিচ্ছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তিনিও ফিফটি তুলে নিয়েছেন। তার সংগ্রহ ৬৮ রান। আগের দিনের ৫ উইকেটে ৩০৩ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহিম ১১১ এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ শূন্য রান নিয়ে খেলা শুরু করেন। প্রথম ইনিংসে চারশ, সাড়ে চারশ ছাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিং শুরু করেন তারা। তাদের অসাধারণ নৈপুণ্যে দুর্দান্ত গতিতে সেই পথে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। দারুণ মেলবন্ধন গড়ে উঠে তাদের মধ্যে। কোনো উইকেট না দিয়ে প্রথম সেশনে ৬২ রান যোগ করেন তারা। উইকেটশূন্য সেশনে বড় একটা ধাক্কা খায় জিম্বাবুয়ে। স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন দারুণ বোলিং করা টেন্ডাই চাতারা। টানা পঞ্চম ওভার করছিলেন তিনি। কিন্তু ওভার শেষ করতে পারেননি। তৃতীয় বল করার পর বাম পায়ের পেশিতে টান পান। স্ট্রেচারে দ্রুত মাঠের বাইরে নেয়া হয়। ম্যাচে তাকে পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। ওভারের বাকি চার বল করেন ডোনাল্ড তিরিপানো। সাবলীল ব্যাটিংয়ে নির্বিঘ্নে কঠিনতম সেশনটা কাটিয়ে দেন মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু লাঞ্চ বিরতির পর হঠাৎই কক্ষচ্যুত হন মাহমুদউল্লাহ। কাইল জার্ভিসের বলে রেজিস চাকাভাকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক (৩৬)। এর আগে মিস্টার পার্টনারের সঙ্গে ৭৩ রানের জুটি গড়েন তিনি। খানিক বাদেই তার পথ অনুসরণ করেন আরিফুল হক। ফের শিকারী কাইল জার্ভিস। তার বলে ব্রায়ান চারির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন গেল টেস্টে বাংলাদেশের সেরা পারফরমার। তাকে শিকার বানানোর বদৌলতে ক্রিকেটের অভিজাত সংষ্করণে তৃতীয়বারের মতো ৫ উইকেট ঝুলিতে ভরেন জার্ভিস।...

শুরুটা ভালোই করেছেন মুশফিক-রিয়াদ

অনলাইন ডেস্ক: রোববার মিরপুরের সকালটা ছিল দুঃস্বপ্নময়। প্রথম ঘণ্টায় ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল বাংলাদেশ। কিন্তু মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহীমের দুইটি ধ্রুপদী ইনিংসে দিনটা চালকের আসনে থেকেই শেষ করতে পেরেছিল স্বাগতিকরা। প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ৩০৩ রান। আজ সোমবার দ্বিতীয় দিনের খেলা ৯টা ৩০ মিনিটে শুরু হয়েছে।এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ১১১ ওভারে ৩৪১/৫ উইকেট। মুশফিক(১১৮) ও মাহমুদউল্লাহ (২৯) রান নিয়ে মাঠে আছে। গতকাল দিনটা বাংলাদেশের হলেও মুমিনুলের ডাবল সেঞ্চুরি না হওয়ার আক্ষেপ ছিল কিছুটা। দিনের চতুর্থ সেশনের শেষ দিকে ব্যক্তিগত ১৬১ রানে টেন্ডাই চাতারার বলে আউট হয়ে যান মুমিনুল। এরপর নাইট ওয়াচ ম্যান তাইজুলও খুব বেশিক্ষণ স্থায়ী হননি ক্রিজে। কাইল জার্ভিস ফিরিয়ে দেন তাইজুলকে (৪)। তাপরই প্রথম দিনের খেলা শেষের ঘোষণা দেন আম্পায়ার।...

জিতবে কে? ঢাকা না কলকাতা?

অনলাইন ডেস্ক :মঞ্চ একটি। ৩০ জন তারকা। দুই বাংলার দুই বিচারক। দুই উপস্থাপক। প্রতিযোগিতা শুরু হলো। জিতবে কে? ঢাকা না কলকাতা? এমনি প্রশ্ন রেখে নাগরিক টিভিতে গত মাস থেকে শুরু হয় বাজলো ঝুমুর তারার নূপুর নামের প্রতিযোগিতা মুলক তারকাদের লড়াই এর অনুষ্ঠান। এই লড়াইয়ে সামিল হয়েছে দর্শকরার। দর্শকদের মধ্যে সাড়া জাগিয়েছে নাগরিক টিভির রিয়েলিটি শো বাজলো ঝুমুর তারার নূপুর। এটি টেলিভিশন ভিওয়ার্স রিপোর্টে (টিআরপির টিভিআর) শীর্ষে অবস্থান করছে বলে জানিয়েছে চ্যানেলটি। চ্যানেলটির তথ্যমতে, গত সপ্তাহের (৪৪তম সপ্তাহ) রিপোর্টে দেখা যায়, নাচের অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে মোট টিভিআর ০.১৮৩১ নিয়ে শীর্ষস্থান দখল করে আছে এ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের এমন সাফল্যে চ্যানেলটির অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান কামরুজ্জামন বাবু বললেন, এ অনুষ্ঠানটি নতুন ধরনের একটি উদ্যোগ। প্রত্যাশা ছিলো দর্শক অনুষ্ঠানটি গ্রহণ করবেন। ভাল লাগছে সত্যি অনুষ্ঠানটি দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে দেখে। আবারো প্রমাণ হল যে, অনুষ্ঠান ভাল হলে তা দর্শক গ্রহণ করবেন। বাংলাদেশ এবং কলকাতার টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রশিল্পীদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করতে ও দুই বাংলার সংস্কৃতির ঐতিহ্যের ধারা দুই বাংলার টেলিভিশন দর্শকদের মাঝে তুলে ধরার জন্য বাজলো ঝুমুর তারার নূপুর প্রচার করছে নাগরিক টিভি। এর পৃষ্ঠপোষকতায় আছে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড। পাওয়ার্ড বাই সোহানা ইলেকট্রনিক্স। এই আয়োজনে সহযোগিতায় আছে মমতাজ হারবাল লিমিটেড। বাজলো ঝুমুর তারার নূপুর-এর মূল প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ এবং ভারত থেকে অংশগ্রহণ করেছেন ছয় জন করে মোট বারোজন তারকা। বাংলাদেশ থেকে যোগ দিয়েছেন টিভি অভিনেত্রী ইশানা, ভাবনা, জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া, স্পর্শিয়া, অমৃতা এবং সাফা কবির। আর কলকাতা থেকে রিমঝিম, সোহিনী, এনা সাহা, লাভলী, তিথি ও প্রীতি। এই রিয়েলিটি শোয়ে আরও প্রতিযোগিতা করেছেন বাংলাদেশ থেকে চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি, টিভি অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা এবং জাকিয়া বারী মম। আর কলকাতা থেকে অংশ নিয়েছেন জি বাংলার রাশি সিরিয়ালের রাশি চরিত্রের অভিনেত্রী গিতশ্রী, চিত্রনায়কা পায়েল এবং ঋ। প্রতিটি পর্বে প্রধান বিচারক হিসেবে আছেন বাংলাদেশের ইলিয়াস কাঞ্চন এবং কলকাতার এক সময়ের সাড়া জাগানো নায়িকা ও বর্তমান ভারতীয় লোকসভার সংসদ সদস্য শতাব্দী রায়। বিভিন্ন পর্বে বাংলাদেশ থেকে অতিথি বিচারক হিসেবে যুক্ত চিত্রনায়িকা মৌসুমী, চিত্রনায়ক ফেরদৗস, সংগীতশিল্পী আঁখি আলমগীর, অভিনেতা তৌকীর আহমেদ এবং সজল। অপরদিকে কলকাতা থেকে সংগীতশিল্পী জোজো, অনিন্ধ, শ্রীলেখা মিত্র এবং নৃত্যবিশারদ তনুশ্রী শংকর। বাজলো ঝুমুর তারার নূপুর-এর প্রতিটি পর্ব যৌথভাবে উপস্থাপনা করেছেন কলকাতার সৌরভ এবং বাংলাদেশের মাসুমা রহমান নাবিলা। অনুষ্ঠানটি সপ্তাহের প্রতি সোম, মঙ্গল, বুধ, এবং বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় প্রচার হচ্ছে নাগরিক টিভিতে। জানা গেছে, সামনের পর্বগুলোতে আরো বেশি চ্যালেঞ্জিং পারফরমেন্স দেখা যাবে শিল্পীদের।...

রাজনীতির মাঠে তারকারা

অনলাইন ডেস্ক: শোবিজ জগৎ থেকে অনেকে রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন। এটা শুধু এদেশেই নয়, দেশের বাইরেও বিভিন্ন তারকারা রাজনীতির মাঠে এসেও বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। দেশের জন্য কাজের সরাসরি সুযোগ পেয়েছেন তারা। দেশের আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন সেই তালিকায় রয়েছেন চিত্রনায়ক ফারুক, চিত্রনায়িকা কবরী, সঙ্গীতশিল্পী মমতাজ, অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী, তারানা হালিম ও নায়ক শাকিল খান। গতকাল মনোনয়নপত্র কিনেছেন চিত্রনায়ক ফারুক। গাজীপুর-৫ আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে এমপি নির্বাচন করতে চান চলচ্চিত্রের মিঞা ভাই নামে পরিচিত এই সিনিয়র তারকা। নির্বাচন প্রসঙ্গে ফারুক বলেন, আমি বিশ্বাস করি কালিগঞ্জ এলাকাবাসী আমাকে ভোট দেবেন। সেখানে আমাদের ৪শ বছরের বসতি। ভাওয়াল ছাড়া এত পুরোনো লোক নেই ওখানে। জনগণ আমাকে চাচ্ছে। নির্বাচনে আসাকে আমিও আমার একটা দায়িত্ব মনে করি। এছাড়া আবারো আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়নে লড়বেন অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র কিনেছেন তিনি। মানিকগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র কিনেছেন সঙ্গীতশিল্পী মমতাজ বেগম। এর আগে ২০১৪ সালের ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন করেছেন। বর্তমানে তিনি একই আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। ঢাকা-১৪ (মিরপুর) আসন থেকে আওয়ামীলীগের মনোনয়নপত্র কিনেছেন চলচ্চিত্র অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল। ২০১৮ সালে তথ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন অভিনেত্রী তারানা হালিম। এবার আসন্ন সংসদ নির্বাচনের জন্য আওয়ামীলীগের মনোনয়নপত্র কিনেছেন তারানা হালিম। তিনি টাঙ্গাইল-৬ আসন থেকে নির্বাচন করবেন। অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী ফেনী-৩ আসন থেকে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এছাড়াও বাগেরহাট-৩ আসন থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়তে আওয়ামীলীগের মনোনয়নপত্র কিনেছেন চিত্রনায়ক শাকিল খান। এ প্রসঙ্গে শাকিল বলেন, এটি আমার জন্য অনেক সম্মানের বিষয়। কাজের মাধ্যমে এই সম্মান ধরে রাখার চেষ্টা করবো।...

শত বছরের পুরোনো দুর্গাবাড়ী

বাঙালি হিন্দু সমাজের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দুর্গোৎসব। আর এই পুজোয় আপনিও ঘুরে আসতে পারেন সিলেটের শত বছরের পুরোনো দুর্গাবাড়ী থেকে। আর খরচের কথা ভাবছেন, মাত্র ৮০০ টাকা।শোনা যায় কলকাতার পাথরঘাটা নামক স্থানের এক সম্ভ্রান্ত জমিদার এই দুর্গাবাড়ী প্রতিষ্ঠান করেন। এই ব্যাপারে ব্রজেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী সম্পাদিত স্মৃতি প্রতিতি নামক বই এ উল্লেখ আছে। ব্রজেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী ছিলেন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা। স্বদেশি আন্দোলনে অনেক বীর এখানে এসে মায়ের পায়ে নিজের রক্ত দিয়ে প্রতিজ্ঞা করতেন নিজের আদর্শ থেকে এক চুলও বিচ্যুত হবেন না। স্বদেশকে পরাধীনতা থেকে মুক্ত করেই তবে ঘরে ফিরবেন।টিলার ওপর মূল মন্দির অবস্থিত। অর্ধশত সিঁড়ি ডিঙিয়ে আপনাকে পৌঁছাতে হবে মূল মন্দিরে। মূল মন্দিরে স্থাপিত দুর্গা প্রতিমা শত বছর ধরে পুজিত হয়ে আসছেন। পাশেই আছে আপনার বসার জন্য জায়গা। এর সাথেই আছে শিব মন্দির। টিলার থেকে দূরের দৃশ্য আপনাকে অভিভূত করবে। পূজার সময় ধূপ-ধূনার মোহনীয় গন্ধ আপনাকে নিয়ে যাবে এক অন্য জগতে।কীভাবে যাবেন,দুর্গাবাড়ী মন্দির যেতে হলে আপনাকে বাস/টেনে করে আসতে হবে সিলেট শহরে। প্রতিদিন ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশে বাস/ট্রেন ছাড়ে, ভাড়া পড়বে ৩২০ টাকা থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। সিলেট শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকে দুর্গাবাড়ী যাব বললেই আপনাকে নিয়ে যাবে শত বছরের পুরোনো দুর্গাবাড়িতে। রিকশা/সিএনজি ভাড়া নেবে ৮০ থেকে ১৫০ টাকা।...

ঈদের ছুটিতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে

বর্ষা মৌসুম তারপরও ঈদের ছুটিতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ছুটে আসছেন পর্যটকরা। তাদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত কক্সবাজার। সৈকত শহরের ৪ শতাধিক হোটেল-মোটেল-গেষ্টহাউজ ও কটেজ কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতিও শেষ। আর পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশও। রমজানে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার পর্যটক শূন্য থাকলেও ঈদের ছুটিতে ভ্রমণ পিপাসুদের ঢল নামে এই সৈকতে। বর্ষা মৌসুম হওয়ায় প্রথমে পর্যটকের সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল কক্সবাজারে। তবে সব আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে এরই মধ্যে হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউস ও কটেজের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকড হয়ে গেছে। আর ব্যবসায়ীরাও নতুন সাজে সাজিয়েছেন তাদের প্রতিষ্ঠান। হোটেল কর্তৃপক্ষও পর্যটকদের নানান সুযোগ-সুবিধা দেয়াসহ শেষ করছে যাবতীয় প্রস্তুতি। তারা আশা , প্রতি বছরেই মতো এবারও ঈদের ছুটিতে ভালো ব্যবসা হবে। বর্ষা মৌসুম তাই সাগর উত্তাল থাকবে। এক্ষেত্রে অনাকাঙ্কিত দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যটকদের সমুদ্রে স্নান ও নিরাপত্তায় কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানালেন হোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের এ নেতা। কক্সবাজার হোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের মুখপাত্র মো. সাখাওয়াত হোসাইন জানান, 'সমুদ্র উত্তাল থাকবে। এখানে লাইফগার্ড ও পুলিশ ট্যুরিস্টদের তৎপরতাটা বৃদ্ধি করলে আমার মনে হয়, যারা কক্সবাজারে আসবেন তারা নিবিঘ্নে এখান থেকে ফিরতে পারবেন।' আর ট্যুরিস্ট পুলিশের এ কর্মকর্তা জানালেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটকরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে কক্সবাজার ভ্রমণ করতে পারে সেজন্য সব ধরণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।...

৩০০ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকা তৈরি,চট্রগ্রাম-১ ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন,চট্টগ্রাম-৯ মহ

নিজেস্ব প্রতিনিধি :সরকারের হাইকমান্ড গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পৃথক রিপোর্ট বিচার-বিশ্লষণপূর্বক ৩০০ আসনে একটি প্রার্থী তালিকা তৈরি করে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র। সূত্র মতে, নির্বাচনকে সামনে রেখে হাইকমান্ড প্রার্থি তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে শরীক দলগুলোর বর্তমান আসনগুলোর প্রতি দৃষ্টি রেখেছেন। স্বল্পসংখ্যক আসন প্রার্থী নির্বাচন বাদ রাখা হয়েছে শরীক দলগুলোর কয়েকজন সংসদ সদস্যের কথা মাথায় রেখে। নির্বাচনের প্রাক্কালে তারা মনোনয়নের বিনিময়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করবেন বলে জানা যায়। হাইকমান্ড কর্তৃক তৈরিকৃত মনোনয়ন তালিকাটি এই মুহূর্তে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করলেও শিগগিরই মনোনীত প্রার্থীদের মৌখিকভাবে মাঠে নামার নির্দেশ দেয়া হবে হাইকমান্ড থেকে। প্রার্থী তালিকাটি যথাসময়ে দলের সংসদীয় বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত হয়ে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবে বলেও জানা গেছে। অনিবার্য কারণ ব্যতীত তালিকায় খুব একটা যোগ-বিয়োগের সম্ভাবনা নেই বলে দাবি করেছে এ সূত্রটি।সূত্র :ঢাকা রিপোর্ট ।সূত্র মতে,অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেয়ার নীতিগ্রহণ করে আওয়ামী লীগ তার গতি প্রকৃতি নির্ধারণ করছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নাম ও আসন নিম্নে দেয়া হলো। ঢাকা-১ আব্দুল মান্নান খান, ঢাকা-২ শাহীন আহমেদ, ঢাকা-৩ নসরুল হামিদ বীপু, ঢাকা-৪ ডঃ আওলাদ হোসেন, ঢাকা-৫ মশিউর রহমান সজল, ঢাকা-৬ শাহে আলম মুরাদ, ঢাকা-৭ ডাঃ মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীন, ঢাকা-৮ ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, ঢাকা-৯ মোজাফফর হোসেন পল্টু, ঢাকা-১০ শেখ ফজলে নূর তাপস, ঢাকা-১১ একেএম রহমতউল্লাহ, ঢাকা-১২ আসাদুজ্জামান খান কামাল, ঢাকা-১৩ জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা-১৪ সাবিনা আকতার তুহিন, ঢাকা-১৫ গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু, ঢাকা-১৬ এম এ মান্নান কচি, ঢাকা-১৭ মুহম্মদ ফারুক খান, ঢাকা-১৮ অ্যাডঃ সাহারা খাতুন, ঢাকা-১৯ তৌহিদ জং মুরাদ, ঢাকা-২০ বেনজীর আহমেদ। নারায়ণগঞ্জ-১ গোলাম দস্তগীর গাজী,নারায়ণগঞ্জ-২ নজরুল ইসলাম বাবু, নারায়ণগঞ্জ-৩ কায়সার হাসনাত, নারায়ণগঞ্জ-৪ একেএম শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৫ এস এম আকরাম। গাজীপুর-১ আকম মোজাম্মেল হক, গাজীপুর-২ জাহিদ আহসান রাসেল,গাজীপুর-৩ জামিল হাসান দুর্জয়,গাজীপুর-৪ সিমিন হোসেন রিমি,গাজীপুর-৫ আখতারুজ্জামান। মুন্সিগঞ্জ-১ ডাঃ বদিউজ্জামান ডাব্লু, মুন্সিগঞ্জ-২ অ্যাডঃ মাহবুবে আলম, মুন্সিগঞ্জ-৩ মৃণাল কান্তি দাস। কিশোরগঞ্জ-১ সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ সোহরাব উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ-৩ ডঃ মিজানুল হক, কিশোরগঞ্জ-৪ রেজওয়ান আহমেদ তৌফিক, কিশোরগঞ্জ-৫ আফজাল হোসেন, কিশোরগঞ্জ-৬ নাজমুল হাসান পাপন। নরসিংদী-১ নজরুল ইসলাম, নরসিংদী-২ কামরুল আশরাফ খান, নরসিংদী-৩ সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, নরসিংদী-৪ নুরুল মজিদ হুমাউন, নরসিংদী-৫ রাজিউদ্দীন আহমেদ রাজুর পুত্র। গোপালগঞ্জ-১ শেখ রেহানা, গোপালগঞ্জ-২ শেখ ফজলুল করিম সেলিম, গোপালগঞ্জ-৩ শেখ হাসিনা। মাদারীপুর-১ নূরে আলম চৌধুরী লিটন, মাদারীপুর-২ শাহজাহান খান, মাদারীপুর-৩ আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম। শরিয়তপুর-১ বি এম মোজাম্মেল হক, শরিয়তপুর-২ একেএম এনামুল হক শামীম,শরিয়তপুর-৩ নাহিম রাজ্জাক। ফরিদপুর-১ ডাঃ দিলীপ রায়, ফরিদপুর-২ আয়মন আকবর চৌধুরী, ফরিদপুর-৩ ইঞ্জিনয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ফরিদপুর-৪ মজিবর রহমান চৌধুরী। কুমিল্লা-১ সুবিদ আলী ভুঁইয়া, কুমিল্লা-২ সেলিমা আহমেদ, কুমিল্লা-৩ ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন, কুমিল্লা-৪ রাজী মোহাম্মদ ফখরুল, কুমিল্লা-৫ আব্দুল মতিন খসরু, কুমিল্লা-৬ আফম বাহাউদ্দীন বাহার, কুমিল্লা-৭ ডাঃ প্রাণ গোপাল দত্ত, কুমিল্লা-৮ অধ্যাপক আলী আশরাফ, কুমিল্লা-৯ তাজুল ইসলাম, কুমিল্লা-১০ আহম মোস্তফা কামাল, কুমিল্লা-১১ মজিবুল হক মুজিব। চট্রগ্রাম-১ ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, চট্টগ্রাম-২ চট্টগ্রাম-৩ মাহফুজুর রহমান মিতা, চট্টগ্রাম-৪, চট্টগ্রাম-৫, চট্টগ্রাম-৬, চট্টগ্রাম-৭ ডঃ হাসান মাহমুদ, চট্টগ্রাম-৮, চট্টগ্রাম-৯ মহিবুল হাসান নওফেল, চট্টগ্রাম-১০ মঞ্জুরুল আলম, চট্টগ্রাম-১১ আব্দুল লতিফ, চট্টগ্রাম-১২ শামসুল হক চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৩ সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, চট্টগ্রাম-১৪ নজরুল ইসলাম চৌধুরী। চাঁদপুর-১ গোলাম হোসেন, চাঁদপুর-২ মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, চাঁদপুর-৩ সুজিৎ রায় নন্দী, চাঁদপুর-৪ শামসুল হক ভুঁইয়া, চাঁদপুর-৫ রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম। দিনাজপুর-১ মনোরঞ্জণ শীল গোপাল, দিনাজপুর-২ খালিদ মাহমুূদ চৌধুরী, দিনাজপুর-৩ ইকবালুর রহিম, দিনাজপুর-৪ আবুল হাসান মাহমুদ আলী, দিনাজপুর-৫ মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার, দিনাজপুর-৬ শিবলী সাদিক। ঠাকুরগাঁও-১ রমেশ চন্দ্র সেন, ঠাকুরগাঁও-২ মাজহারুল ইসলাম সুজন, ঠাকুটগাঁও-৩। নীলফামারী-১ আফতাবউদ্দিন সরকার, নীলফামারী-২ আসাদুজ্জামান নূর, নীলফামারী-৩ অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা, নীলফামারী-৪ আমেনা কোহিনুর আলম। লালমনিরহাট-১ মোতাহার হোসেন, লালমনিরহাট-২ নুরুজ্জামান আহমেদ, লালমনিরহাট-৩ আবু সালেহ সাইদ দুলাল। রংপুর-১ রংপুর-২ আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক, রংপুর-৩ আনোয়ারুল ইসলাম, রংপুর-৪ টিপু মন্সী, রংপুর-৫ এইচ এন আশিকুর রহমান, রংপুর-৬ সজীব ওয়াজেদ জয়। কুড়িগ্রাম-১, কুড়িগ্রাম-২ জাফর আলী, কুড়িগ্রাম-৩ শওকত আলী বীরবিক্রম, কুড়িগ্রাম-৪ জাকির হোসেন। গাইবান্ধা -১ গোলাম মোস্তফা আহমেদ, গাইবান্ধা-২ সৈয়দ শামস উল আলম হীরা, গাইবান্ধা-৩ ডাঃ ইউনুস আলী সরকার, গাইবান্ধা-৪ আবুল কালাম আজাদ, গাইবান্ধা-৫ মাহমুদ হোসেন রিপন। রাজশাহী-১ মতিউর রহমান, রাজশাহী-২ আব্দুল খালেক, রাজশাহী-৩ আয়েন উদ্দীন, রাজশাহী-৪ এনামুল হক, রাজশাহী-৫ এম এ ওয়াদুদ দারা, রাজশাহী-৬ শাহরিয়ার আলম। নাটোর-১ আবুল কালাম, নাটোর-২ শফিকুল ইসলাম শিমুল, নাটোর-৩ জুনায়েদ আহম্মেদ পলক। পাবনা-১ অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, পাবনা-২ আজিজুল হক আরজু, পাবনা-৩ মকবুল হোসেন, পাবনা-৪ গোলাম ফারুক প্রিন্স। নওগাঁ-১ সাধন চন্দ্র মজুমদার, নওগাঁ-২ শহীদুজ্জামান সরকার, নওগাঁ-৩ ছলিম উদ্দিন, নওগাঁ-৪ ইমাজ উদ্দীন প্রামাণিক, নওগাঁ-৫ ব্যারিস্টার নিজামউদ্দীন জলিল জন, নওগাঁ-৬ ইসরাফিল আলম। টাঙ্গাইল-১ ডঃ আব্দুর রাজ্জাক, টাঙ্গাইল-২ খন্দকার মশিউজ্জামান রোমেল, টাঙ্গাইল-৩ সৈয়দ আবু ইউসুফ, টাঙ্গাইল-৪ সোহেল হাজারী, টাঙ্গাইল-৫ ছানোয়ার হোসেন, টাঙ্গাইল-৬ খন্দকার এম এ বাতেন, টাঙ্গাইল-৭ একাব্বর হোসেন ও টাঙ্গাইল-৮ অনুপম শাহজাহান জয়। মানিকগঞ্জ-১ আনোয়ারুল হক, মানিকগঞ্জ-২ মমতাজ বেগম, মানিকগঞ্জ-৩ জাহিদ মালেক স্বপন। সিরাজগঞ্জ-১ মোহাম্মদ নাসিম, সিরাজগঞ্জ-২ হাবিবে মিল্লাত, সিরাজগঞ্জ-৩, সিরাজগঞ্জ-৪ তানভীর ইমাম, সিরাজগঞ্জ-৫ আব্দুল মজিদ মন্ডল ও সিরাজগঞ্জ-৬ হাসিবুর রহমান স্বপন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ গোলাম রাব্বানী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ জিয়াউর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আব্দুল ওয়াদুদ বিশ্বাস। নরসিংদী-১ নজরুল ইসলাম, নরসিংদী-২ কামরুল আশরাফ খান, নরসিংদী-৩ সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, নরসিংদী-৪ নুরুল মজিদ হুমায়ুন ও নরসিংদী-৫ রাজি উদ্দীন আহমেদ রাজু তনয়। বি বাড়িয়া-১ এটিএম মনিরুজ্জামান সরকার, বিবাড়িয়া-২ বি বাড়িয়া-৩ উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী, বি বাড়িয়া-৪ ব্যারিস্টার আনিসুল হক, বি বাড়িয়া-৫, বি বাড়িয়া-৬ মহিউদ্দীন আহমেদ মহি। সিলেট-১ ডঃ আবুল মোমেন, সিলেট-২ শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট-৩ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস, সিলেট-৪ ইমরান আহমেদ, সিলেট-৫ মাশুক উদ্দীন, সিলেট-৬ নুরুল ইসলাম নাহিদ, হবিগঞ্জ-১ আমাতুল কিবরিয়া চৌধুরী কেয়া, হবিগঞ্জ-২ আব্দুল মজিদ খান, হবিগঞ্জ-৩ । সুনামগঞ্জ-১ মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, সুনামগঞ্জ-২ জয়া সেন গুপ্তা, সুনামগঞ্জ-৩ আজিজ উস সামাদ ডন, সুনামগঞ্জ-৪ পীর ফজলুর রহমান, সুনামগঞ্জ-৫ মহিবুর রহমান মানিক। মৌলভীবাজার-১ আব্দুল মতিন, মৌলভীবাজার-২, মৌলভীবাজার-৩, মৌলভীবাজার-৪ উপাধ্য আব্দুস শহীদ। নোয়াখালী-১ এইচ এম ইব্রাহিম, নোয়াখালী-২ মোরশেদ আলম, নোয়াখালী-৩ মামুনুর রশীদ কিরণ, নোয়াখালী-একরামুল করিম চৌধুরী, নোয়াখালী-৫ ওবায়দুল কাদের, নোয়াখালী-৬ আয়েশা সিদ্দিকী। লক্ষ্মীপুর-১ আবদুল্লাহ, লক্ষ্মীপুর-২ মোহাম্মদ নোমান, লক্ষ্মীপুর-৩ শাহজাহান কামাল, লক্ষ্মীপুর-৪। ফেনী-১ আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, ফেনী-২ নিজামউদ্দীন হাজারী, ফেনী-৩ সাইফুদ্দীন নাসির। বান্দরবান- বীর বাহাদুর ও রাঙামাটিঃ দীপঙ্কর তালুকদার। জয়পুরহাট-১ শামসুল আলম দুদু জয়পুরহাট-২ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। বরিশাল-১ আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ, বরিশাল- ২ গোলাম ফারুক, বরিশাল-৩, বরিশাল-৪ পঙ্কজ দেবনাথ, বরিশাল-৫ জেবুন্নেছা হক, বরিশাল-৬ তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস। পটুয়াখালী-১ শাজাহান মিয়া,পটুয়াখালী-২ আসম ফিরোজ, পটুয়াখালী-৩ আখম জাহাঙ্গীর হোসাইন, পটুয়াখালী-৪ মাহবুবুর রহমান তালুকদার। বরগুণা-১ ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, বরগুনা-২ শওকত হাছানুর রহমান। ঝালকাঠি-১ মনিরুজ্জামান মনির, ঝালকাঠি-২ আমির হোসেন আমু। ভোলা-১ তোফায়েল আহমেদ, ভোলা-২ আলী আজম মুকুল, ভোলা-৩ নুরুন্ববী চৌধুরী শাওন, ভোলা-৪ আব্দুল্লাহ আল জ্যাকব। পিরোজপুর-১ অ্যাডঃ রেজাউল করিম, পিরোজপুর-২ শাহে আলম, পিরোজপুর-৩ ইসহাক আলী খান পান্না। শেরপুর-১ আতিয়ার রহমান আতিক, শেরপুর-২ বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেরপুর-৩ ফজলুল হক। ময়মনসিংহ-১ জুয়েল আরেং, ময়মনসিংহ-২ হায়াতুর রহমান খান, ময়মনসিংহ-৪ আব্দুস ছাত্তার, ময়মনসিংহ-৫ কে এম খালিদ, ময়মনসিংহ-৬ মোসলেম উদ্দীন, ময়মনসিংহ-৭ এম এ হান্নান, ময়মনসিংহ-৮, ময়মনসিংহ-৯ আনোয়ার আবেদীন তুহিন, ময়মনসিংহ-১০ ফাহমী গোলান্দাজ বাবেল। নেত্রকোনা-১ মোশতাক আহমেদ রুহী, নেত্রকোনা-৩ ইত্তেকার তালুকদার, নেত্রকোনা-৪ রেবেকা মোমিন। যশোর-১ শেখ আফিল উদ্দীন, যশোর-২ মনিরুল ইসলাম, যশোর-৩ কাজী নাবিল আহমেদ, যশোর-৪, যশোর-৫ স্বপন ভট্টাচার্য, যশোর-৬। খুলনা-১ পঞ্চানন বিশ্বাস, খুলনা-২ মিজানুর রহমান, খুলনা-৩ মন্নুজান সুফিয়ান, খুলনা-৪ মোস্তফা রশিদী সূজা, খুলনা-৫ নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। রাজবাড়ি-১ কাজী কেরামত আলী, রাজবাড়ী-২ জিল্লুল হাকিম। সাতক্ষীরা-১ শেখ মুজিবুর রহমান, সাতক্ষীরা-২ মীর মোশতাক আহমেদ রবি, সাতক্ষীরা-৩ অধ্যাপক ডাঃ তআফম রুহুল হক, সাতক্ষীরা-৪ এসএম জগলুল হায়দার। মাগুরা-১ সাইফুজ্জামান শেখর, মাগুরা-২ বীরেন শিকদার। নড়াইল-১ কবিরুল হক মুক্তি, নড়াইল-২ শেখ হাসিনা। বাগেরহাট-১ শেখ হেলাল উদ্দীন, বাগেরহাট-২ বাগেরহাট-৩ তালুকদার আব্দুল খালেক বাগেরহাট-৪ ডাঃ মোজাম্মেল হোসেন . দিনাজপুর-১ মনোরঞ্জণ শীল গোপাল, দিনাজপুর-২ খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দিনাজপুর-৩ ইকবালুর রহিম, দিনাজপুর-৪ আবুল হাসান মাহমুদ আলী, দিনাজপুর-৫ মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার, দিনাজপুর-৬ শিবলী সাদিক। ঠাকুরগাঁও-১ রমেশ চন্দ্র সেন, ঠাকুরগাঁও-২ মাজহারুল ইসলাম সুজন, ঠাকুটগাঁও-৩। নীলফামারী-১ আফতাবউদ্দিন সরকার, নীলফামারী-২ আসাদুজ্জামান নূর, নীলফামারী-৩ অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা, নীলফামারী-৪ আমেনা কোহিনুর আলম। লালমনিরহাট-১ মোতাহার হোসেন, লালমনিরহাট-২ নুরুজ্জামান আহমেদ, লালমনিরহাট-৩ আবু সালেহ সাইদ দুলাল। রংপুর-১ রংপুর-২ আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক, রংপুর-৩ আনোয়ারুল ইসলাম, রংপুর-৪ টিপু মন্সী, রংপুর-৫ এইচ এন আশিকুর রহমান, রংপুর-৬ সজীব ওয়াজেদ জয়। কুড়িগ্রাম-১, কুড়িগ্রাম-২ জাফর আলী, কুড়িগ্রাম-৩ শওকত আলী বীরবিক্রম, কুড়িগ্রাম-৪ জাকির হোসেন। গাইবান্ধা -১ গোলাম মোস্তফা আহমেদ, গাইবান্ধা-২ সৈয়দ শামস উল আলম হীরা, গাইবান্ধা-৩ ডাঃ ইউনুস আলী সরকার, গাইবান্ধা-৪ আবুল কালাম আজাদ, গাইবান্ধা-৫ মাহমুদ হোসেন রিপন। রাজশাহী-১ মতিউর রহমান, রাজশাহী-২ আব্দুল খালেক, রাজশাহী-৩ আয়েন উদ্দীন, রাজশাহী-৪ এনামুল হক, রাজশাহী-৫ এম এ ওয়াদুদ দারা, রাজশাহী-৬ শাহরিয়ার আলম। নাটোর-১ আবুল কালাম, নাটোর-২ শফিকুল ইসলাম শিমুল, নাটোর-৩ জুনায়েদ আহম্মেদ পলক। পাবনা-১ অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, পাবনা-২ আজিজুল হক আরজু, পাবনা-৩ মকবুল হোসেন, পাবনা-৪ গোলাম ফারুক প্রিন্স। নওগাঁ-১ সাধন চন্দ্র মজুমদার, নওগাঁ-২ শহীদুজ্জামান সরকার, নওগাঁ-৩ ছলিম উদ্দিন, নওগাঁ-৪ ইমাজ উদ্দীন প্রামাণিক, নওগাঁ-৫ ব্যারিস্টার নিজামউদ্দীন জলিল জন, নওগাঁ-৬ ইসরাফিল আলম। টাঙ্গাইল-১ ডঃ আব্দুর রাজ্জাক, টাঙ্গাইল-২ খন্দকার মশিউজ্জামান রোমেল, টাঙ্গাইল-৩ সৈয়দ আবু ইউসুফ, টাঙ্গাইল-৪ সোহেল হাজারী, টাঙ্গাইল-৫ ছানোয়ার হোসেন, টাঙ্গাইল-৬ খন্দকার এম এ বাতেন, টাঙ্গাইল-৭ একাব্বর হোসেন ও টাঙ্গাইল-৮ অনুপম শাহজাহান জয়। মানিকগঞ্জ-১ আনোয়ারুল হক, মানিকগঞ্জ-২ মমতাজ বেগম, মানিকগঞ্জ-৩ জাহিদ মালেক স্বপন। সিরাজগঞ্জ-১ মোহাম্মদ নাসিম, সিরাজগঞ্জ-২ হাবিবে মিল্লাত, সিরাজগঞ্জ-৩, সিরাজগঞ্জ-৪ তানভীর ইমাম, সিরাজগঞ্জ-৫ আব্দুল মজিদ মন্ডল ও সিরাজগঞ্জ-৬ হাসিবুর রহমান স্বপন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ গোলাম রাব্বানী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ জিয়াউর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আব্দুল ওয়াদুদ বিশ্বাস। নরসিংদী-১ নজরুল ইসলাম, নরসিংদী-২ কামরুল আশরাফ খান, নরসিংদী-৩ সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, নরসিংদী-৪ নুরুল মজিদ হুমায়ুন ও নরসিংদী-৫ রাজি উদ্দীন আহমেদ রাজু তনয়। বি বাড়িয়া-১ এটিএম মনিরুজ্জামান সরকার, বিবাড়িয়া-২ বি বাড়িয়া-৩ উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী, বি বাড়িয়া-৪ ব্যারিস্টার আনিসুল হক, বি বাড়িয়া-৫, বি বাড়িয়া-৬ মহিউদ্দীন আহমেদ মহি। সিলেট-১ ডঃ আবুল মোমেন, সিলেট-২ শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট-৩ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস, সিলেট-৪ ইমরান আহমেদ, সিলেট-৫ মাশুক উদ্দীন, সিলেট-৬ নুরুল ইসলাম নাহিদ, হবিগঞ্জ-১ আমাতুল কিবরিয়া চৌধুরী কেয়া, হবিগঞ্জ-২ আব্দুল মজিদ খান, হবিগঞ্জ-৩ । সুনামগঞ্জ-১ মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, সুনামগঞ্জ-২ জয়া সেন গুপ্তা, সুনামগঞ্জ-৩ আজিজ উস সামাদ ডন, সুনামগঞ্জ-৪ পীর ফজলুর রহমান, সুনামগঞ্জ-৫ মহিবুর রহমান মানিক। মৌলভীবাজার-১ আব্দুল মতিন, মৌলভীবাজার-২, মৌলভীবাজার-৩, মৌলভীবাজার-৪ উপাধ্য আব্দুস শহীদ। বরিশাল-১ আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ, বরিশাল- ২ গোলাম ফারুক, বরিশাল-৩ অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন , বরিশাল-৪ পঙ্কজ দেবনাথ, বরিশাল-৫ জেবুন্নেছা হিরন , বরিশাল-৬ তালুকদার মো,ইউনুস । পটুয়াখালী-১ শাজাহান মিয়া, পটুয়াখালী-২ আসম ফিরোজ,পটুয়াখালী-৩ আখম জাহাঙ্গীর হোসাইন, পটুয়াখালী-৪ মাহবুবুর রহমান তালুকদার। বরগুণা-১ ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, বরগুনা-২ শওকত হাছানুর রহমান। ঝালকাঠি-১ মনিরুজ্জামান মনির, ঝালকাঠি-২ আমির হোসেন আমু। ভোলা-১ তোফায়েল আহমেদ, ভোলা-২ আলী আজম মুকুল, ভোলা-৩ নুরুন্ববী চৌধুরী শাওন ও ভোলা-৪ আব্দুল্লাহ আল জ্যাকব। পিরোজপুর-১ অ্যাডঃ রেজাউল করিম, ও পিরোজপুর-৩ ইসহাক আলী খান পান্না। শেরপুর-১ আতিয়ার রহমান আতিক, শেরপুর-২ বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেরপুর-৩ ফজলুল হক। যশোর-১ শেখ আফিল উদ্দীন, যশোর-২ মনিরুল ইসলাম, যশোর-৩ কাজী নাবিল আহমেদ, যশোর-৪, যশোর-৫ স্বপন ভট্টাচার্য, যশোর-৬। খুলনা-১ পঞ্চানন বিশ্বাস, খুলনা-২ মিজানুর রহমান, খুলনা-৩ মন্নুজান সুফিয়ান, খুলনা-৪ মোস্তফা রশিদী সূজা, খুলনা-৫ নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। সাতক্ষীরা-১ সাতক্ষীরা-২ মীর মোশতাক আহমেদ রবি, সাতক্ষীরা-৩ অধ্যাপক ডাঃ তআফম রুহুল হক, সাতক্ষীরা-৪ এসএম জগলুল হায়দার। মাগুরা-১ মাগুরা-২ বীরেন শিকদার। নড়াইল-১ কবিরুল হক মুক্তি, নড়াইল-২ শেখ হাসিনা। বাগেরহাট-১ শেখ হেলাল উদ্দীন, বাগেরহাট-২ বাগেরহাট-৩ তালুকদার আব্দুল খালেক বাগেরহাট-৪ ডাঃ মোজ্জামেল হোসেন। ...

বঙ্গবন্ধুর স্বাধীন বাংলাদেশ আজ তার খুনিদের পদচারণামুক্ত

মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী :শোকাবহ ১৫ আগস্ট। জাতীয় শোক দিবস। বাঙালির অশ্রু ঝরার দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিন বাঙালি জাতির ইতিহাসে কলংক লেপন করেছিল সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী উচ্ছৃঙ্খল সদস্য। ঘাতকের নির্মম বুলেটে সেদিন ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর সড়কের ঐতিহাসিক ভবনে শাহাদতবরণ করেছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৫ আগস্ট কালরাতে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী মহীয়সী নারী বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠপুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল ও তাদের স্ত্রীদ্বয় যথাক্রমে সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর শিশুপুত্র শেখ রাসেল, বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ নাসেরসহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের ২৮ সদস্য। একই দিন ঘাতকের নির্মম বুলেটে প্রাণ হারান বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বেগম আরজু মনি, বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, শহীদ সেরনিয়াবাত, শিশু সুকান্ত বাবু, আরিফ, রিন্টু প্রমুখ। ঘাতকরা সেদিন বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বর বাড়িতে আক্রমণ করে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সব সদস্যকেই হত্যা করে। কিন্তু দেশে না থাকায় প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা। ঘাতকরা সেদিন বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবারের সদস্যদেরই কেবল হত্যা করেনি, বাঙালি জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দুকে নস্যাৎ করতে চেয়েছিল। আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রথম শোক দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু এরপর ২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট ক্ষমতায় এসে সে সিদ্ধান্ত বাতিল করে। তবে ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এলে আবারও ১৫ আগস্টকে জাতীয় শোক দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। বাঙালি জাতির ইতিহাসে অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু এদেশের স্বাধীনতার স্থপতিই ছিলেন না, ভাষা আন্দোলন, ৬ দফা আন্দোলনসহ প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামেই তার ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। এই মহানায়কের জন্ম না হলে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ স্বাধীনভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারত না। যারা এ মহানায়ককে হত্যা করেছিল। ২০১১ সালের জানুয়ারিতে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বঙ্গবন্ধুর পাঁচ খুনির ফাঁসি কার্যকর হয় । বঙ্গবন্ধুর স্বাধীন বাংলাদেশ আজ তার খুনিদের পদচারণামুক্ত। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সারা দেশের মন্দির, গির্জা ও অন্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার এবং সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ এবং বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশনগুলো বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের জন্য আলোচনা সভা এবং মিলাদ মাহফিলসহ জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজ নিজ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠন ধানমণ্ডির বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করবে। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও সাংবাদিক সমাজ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সম্মেলন কক্ষে সর্বধর্ম প্রার্থনা সভার আয়োজন করবে। এছাড়াও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করবে। লেখক, মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী ,সম্পাদক, নিউজ একাত্তর ডট কম ও দৈনিক সংবাদের কাগজ । ...

পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে সরকার: রিজভী

অনলাইন ডেস্ক :বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, বিনা উস্কানিতে মনোনয়ন ফরম নিতে আসা নেতাকর্মীদের ওপর সরকার পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। বুধবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সাথে নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সংঘর্ষের পরই তাৎক্ষণিক এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। রিজভী আরও বলেন, শেখ হাসিনার নির্দেশে নির্বাচন কমিশন পুলিশ দিয়ে এ হামলা চালাচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। তিনি বলেন, ‘আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আপনাদের শান্ত হতে বলেছেন। আপনারা রাস্তা ছেড়ে ফুটপাতে বসে পড়ুন। এটা তারেক রহমানের নির্দেশ।...

নির্বাচন আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন :রিজভী

অনলাইন ডেস্ক :নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পরও প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানো টেলিভিশন বিজ্ঞাপন প্রচারের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রিজভী বলেন, “টিভি খুললেই দেখছি, অনেক চ্যানেলে ‘থ্যাঙ্ক ইউ পিএম’ বিজ্ঞাপন চলছে। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর এ ধরনের বিজ্ঞাপন প্রচারে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘিত হচ্ছে কি না?”‌ আজ বুধবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এ কথা বলেন। রিজভী বলেন, ‘কিছু বিজ্ঞাপনের পর বোঝাও যায় না, বিজ্ঞাপনদাতা কে? আবার কিছু বিজ্ঞাপনের পর বোঝা যায় বিজ্ঞাপনদাতা মন্ত্রণালয়।’ রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‌‘নির্বাচন সামনে রেখে এখন কেন সরকারি অর্থে এ ধরনের প্রচার চালু রাখা হচ্ছে? এ বিজ্ঞাপন তো দেশের মানুষের ট্যাক্সের টাকায় প্রচারিত হচ্ছে। আর বিজ্ঞাপন প্রচার করে আওয়ামী লীগ ভোটের সুবিধা নেবে। এটা নির্বাচন আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে সরকারি টাকায় আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এটার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণায় সমান সুযোগের বিধান লঙ্ঘন করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন এসব দেখেও না দেখার ভান করছে।’ নির্বাচন কমিশন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় বলেও অভিযোগ করেন রিজভী। ‌‘এ জন্য ভোটকেন্দ্র থেকে সংবাদমাধ্যমগুলোকে সরাসরি সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রিটার্নিং অফিসারদের এ নির্দেশনা দেন নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম। নির্দেশনাগুলো হলো, প্রিসাইডিং অফিসারের অনুমতি ছাড়া কোনো ভোটকক্ষে প্রবেশ করা যাবে না। একসঙ্গে পাঁচজনের বেশি সাংবাদিক প্রবেশ করতে পারবে না। ১০ মিনিটের বেশি কেন্দ্রে অবস্থান করতে পারবে না। ভোটকক্ষে নির্বাচনী কর্মকর্তাসহ কারো সঙ্গে আলাপ করতে পারবে না। নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাজে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। কোনো প্রকার নির্বাচনী উপকরণ স্পর্শ বা অপসারণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রার্থী বা রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো ধরনের কর্মকাণ্ড হতে বিরত থাকতে হবে। সংবিধান, নির্বাচনী আইন ও বিধিবিধান মেনে চলতে হবে।...

সকালের নাস্তায় স্বাস্থ্যকর খাবার সম্পর্কে জেনে নেন

অনলাইন ডেস্ক : সকালের নাস্তা আমাদের শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি সারা দিন আমাদেরকে প্রাণবন্ত ও সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, সকালের নাস্তা বেশি পরিমাণে ক্যালরি পোড়াতে সাহায্য করে এবং সারাদিন ধরে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন সকালে স্বাস্থ্যকর এবং ভারী নাস্তা খেলে মস্তিষ্ক পুরোদিনের জন্য তৈরি হয়ে যায় এবং সারাদিন শক্তি পাওয়া যায়। কিন্তু সব ভারী খাবারই স্বাস্থ্যকর নয়। তাই আমাদের জানতে হবে সকালের নাস্তায় কোন খাবারগুলো খাওয়া একেবারেই উচিত নয় এবং কোনগুলো খাওয়া উচিত। তবে আর দেরি না করে চলুন জেনে নেই সকালের নাস্তায় ৭টি স্বাস্থ্যকর খাবার সম্পর্কে। ১. ফল সকালের নাস্তার জন্য সব চাইতে ভালো খাবার হচ্ছে ফলমূল। কলা, আপেল, কমলা, আঙুর ইত্যাদি ধরণের ফলমূল অথবা মৌসুমি ফলমূল দিয়ে সকালের নাস্তা করা সব চাইতে ভালো। ২টি কলা, ১টি আপেল, ১টি কমলা, ২/৩টি স্ট্রবেরি এভাবে শুধুমাত্র ফল দিয়ে নাস্তা করা সকালের জন্য ভালো। চাইলে ফলমূল দিয়ে সালাদের মত তৈরি করেও খেতে পারেন। ২. ওটস ওটস জিনিসটা খেতে ভালো না লাগলেও এটি আমাদের দেহের জন্য অনেক ভালো একটি খাবার। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। ওজন কমাতে এবং কলেস্টোরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওটসের জুড়ি নেই। সকালে হাবিজাবি খাবার বাদ দিয়ে একবাটি ওটস রাখুন। তবে কোন ফ্লেভারড বা চিনিযুক্ত ওটমিল খাবেন না। চিনির পরিবর্তে মধু এবং সাথে কিছু ফলমূল যোগ করে নিতে পারেন। ওটস খিচুড়িও নাস্তা হিসেবে চমৎকার। ৩. ডিম ডিমকে বলা হয় ‘সুপারফুড’। ডিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এবং মিনারেলস। প্রোটিনের সব চাইতে ভালো উৎস হচ্ছে ডিম। এতে ক্যালোরিও থাকে বেশ কম। সকালের নাস্তায় অবশ্যই প্রত্যেকের ডিম খাওয়া উচিৎ। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ হিসেবে সকালে ২ টি ডিম খেলেই যথেষ্ট। তবে যারা একটু বেশি স্বাস্থ্যবান তাদের ডিমের কুসুম এড়িয়ে যাওয়া উচিৎ। সকালে ডিম সেদ্ধ বা ডিমের অমলেট দিয়ে নাস্তা সারতে পারেন। ৪. আটার রুটি সকালের নাস্তার জন্য বেশ ভালো একটি খাবার হচ্ছে আটার রুটি। বিশেষ করে যারা ভারী খাবার পছন্দ করেন। সকালে পাউরুটি বা ভাত খাবার চাইতে আটার রুটি সবজি ভাজি বা ডিম অথবা ঝোলের তরকারি কিংবা কলা দিয়ে খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ভালো। এছাড়া রুটি বেশ ভালো এনার্জি সরবরাহ করে আমাদের দেহে যা পুরো দিনই রাখবে সতেজ। তবে অবশ্যই তেলে ভাজা পরটা থেকে দূরে থাকবেন। ৫. খিচুড়ি অনেকেরই সকালে ভাত খাওয়ার অভ্যাস। তারা ভাতের বদলে সকালের নাস্তায় রাখতে পারেন খিচুড়ি। তবে অবশ্যই সবজি খিচুড়ি। চালের পরিমাণ কমিয়ে বেশি পরিমাণে সবজি দিয়ে রান্না করা সবজি খিচুড়ি দিয়ে সেরে নিতে পারেন সকালের নাস্তা। এতে করে ভারী নাস্তা করা হলেও দেহে পৌঁছাবে পর্যাপ্ত পুষ্টি। ৬. দই দিনের শুরুটা দই দিয়ে শুরু হোক অনেকেই তা চান না। কিন্তু দই দেহের জন্য অনেক বেশি কার্যকরী একটি খাবার। এতে রয়েছে ক্যালসিয়াম যা হাড়ের গঠনে কাজ করে। দিনের শুরু দই দিয়ে করলে পুরো দিন আপনার দেহে থাকবে অফুরন্ত এনার্জি। ক্লান্তি স্পর্শ করবে না দিনের শেষেও। সুতরাং সকালের নাস্তায় কিছু ফলমূলের পাশাপাশি রাখুন দই। ৭. সালাদ সালাদ মানেই যে শসা, টমেটো এবং গাজরের হতে হবে এমনটা মনে করার কোনো কারণ নেই। সুস্বাস্থ্যের জন্য এই সকল সবজির সাথে সালাদে ব্যবহার করতে পারেন সেদ্ধ ডিম বা সেদ্ধ মাংস অথবা সেদ্ধ ছোলাবুট। এছাড়া খেতে পারেন ফলমূলের সালাদ। এইসব ধরণের সালাদ স্বাস্থ্যের জন্য ভালো এবং দিনের শুরুটা চমৎকার করতে বেশ কার্যকরী।...

শীতে আপনার ত্বকের যত্ন

অনলাইন ডেস্ক :শীতে শুষ্ক ত্বকের যত্ন নিতে অনেকেই হাবুডুবু খান। দেখা যায়, ত্বকের যত্ন নেওয়ার সঠিক পদ্ধতি জানলেও সময় পান না অনেকেই। অনেকে আবার একাধিক জিনিস ব্যবহার করে ত্বকের ক্ষতি করে ফেলেন। গ্লিসারিন, বডি ওয়েল, ফেস ক্রিম, লোশনের মতো প্রয়োজনীয় অনেক উপাদানই পাবেন বাজারে। এর মধ্যে মাত্র তিনটি জিনিস ব্যবহারে শীতে আপনার ত্বক রাখবে মসৃণ, বাড়াবে উজ্জ্বলতা। চলুন তাহলে দেখে নেওয়া যাক ঘরোয়া উপায়ে শীতের ত্বকের যত্ন নেওয়ার সহজ পদ্ধতি- যা যা লাগবে- গ্লিসারিন- ৫ ফোঁটা গোলাপ জল- ২০ মিলিলিটার লেবুর রস- একটা আস্ত লেবু ১. এই তিনটি উপাদান একসঙ্গে মিশিয়ে একটি কাচের শিশিতে রেখে দিন। ফ্রিজে রাখলে ভাল হয়। ২. ফলাফল বেশি ভালো পেতে চাইলে, এই মিশ্রণের সঙ্গে একটি ভিটামিন ই ক্যাপস্যুল মিশিয়ে নিন। ৩. প্রতিদিন অল্প অল্প করে এই মিশ্রণ মুখে মেখে নিন। এতে মুখের শুষ্ক ভাব কেটে ত্বক হবে ঝলমলে। প্রসঙ্গত, যারা মেক-আপ ব্যবহার করেন, মেক আপ তুলে ফেলার পরে এই মিশ্রণ মুখে স্প্রে বা তা দিয়ে মুখ মুছে নিন। উপকার পাবেন। ...

জয় বাংলা এবং আওয়ামী লীগ

সিরাজুল আলম খান :জয় বাংলা এমন একটি স্লোগান যা বাংলাদেশের সশস্ত্র যুদ্ধের সময় জনগণকে তাঁদের স্বাধীনতার লক্ষ্যে প্রবল উদ্দীপক ও তেজোদীপ্ত করেছিলো। এর আগে বাঙালি আর কখনো এতো তীব্র, সংহত ও তাৎপর্যপূর্ণ স্লোগান দেয়নি, যার একটি পদেই প্রকাশ পেয়েছে রাজনীতি, দেশ, দেশপ্রেম, সংস্কৃতি, ভাষার সৌন্দর্য ও জাতীয় আবেগ। জয় বাংলা স্লোগান ছিলো সশস্ত্র যুদ্ধকালীন সময়ে বাঙালির প্রেরণার উৎস। যুদ্ধে সফল অপারেশন শেষে কিংবা যুদ্ধ জয়ের পর অবধারিতভাবে স্বাধীনতা সংগ্রামীরা চিৎকার করে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে চারপাশের জনগণকে বিজয়ের বার্তা পৌঁছে দিতো। কখন, কীভাবে কিংবা কী বিশেষ প্রয়োজনে এ জয় বাংলাস্লোগানটির উৎপত্তি হয়েছিলো, তার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরা হলো- সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৯। সেদিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের একটি সভা ছিলো। মধুর ক্যান্টিনের সে সভায় ১৭ মার্চ শিক্ষা দিবস যৌথভাবে পালনের জন্য কর্মসূচি প্রণয়ন নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা করছিলেন। সেদিন, সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদর আহূত সভায় আলোচনার এক পর্যায়ে তৎকালীন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে (তৎকালীন জিন্নাহ হল, যা বর্তমানে সূর্যসেন হল) প্রথম বর্ষের ছাত্র ও ছাত্রলীগ নেতা আফতাব উদ্দিন আহমেদ এবং দর্শন বিভাগে (ইকবাল হল, যা বর্তমানে সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ছাত্র ও ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক চিশতি শাহ হেলালুর রহমান (৭১ সালে শহীদ) জয় বাংলা স্লোগানটি উচ্চারণ করেন। সভা চলাকালীন সময়ে অনেকটা আকস্মিকভাবেই সকলকে চমকে দিয়ে চিৎকার করে জয় বাংলা স্লোগান দেন ছাত্রলীগ নেতা আফতাব উদ্দিন আহমেদ, পরক্ষণেই সেই স্লোগানের প্রত্যুত্তর দেন তৎকালীন ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক চিশতি শাহ হেলালুর রহমান। সঙ্গে সঙ্গেই আরো সাত-আটজন কর্মী প্রতিধ্বনি দিলো, জয় বাংলা। সেদিনের সেই সভায় আফতাব বেশ কয়েকবার জয় বাংলা স্লোগানটি দেন এবং শেষের দিকে উপস্থিত সংখ্যাগরিষ্ঠ কর্মীরাও এর প্রত্যুত্তর দেন। এরপর এভাবেই কিছুক্ষণ ওই স্লোগান চললো। বলা হয়ে থাকে সেটাই এ বাংলার বুকে জয় বাংলা স্লোগানের সর্বপ্রথম উচ্চারণ। আর এ দুই ছাত্রনেতাই ছিলেন নিউক্লিয়াস বা স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ-এর সদস্য। যদিও তার বেশ আগেই ১৯৬২ সালে গঠিত গোপন সংগঠন নিউক্লিয়াসর নেতৃবৃন্দ এবং ছাত্রলীগকর্মীরা যেকোনো আন্দোলনে স্বকীয়তা আর স্বাধীনতা প্রকাশ করার জন্য এবং আত্মপ্রত্যয় সৃষ্টির লক্ষ্যে জয় বাংলাকে প্রতীকী স্লোগান হিসেবে উচ্চারণ করতেন। এছাড়াও স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদতখন হাতে লেখা তিন পাতার একটি পত্রিকায় কয়েকটি সংখ্যা প্রকাশ করে যার নাম ছিলো জয় বাংলা। রবিবার, ১১/১৮ জানুয়ারি (তবে নিশ্চিতভাবে ১৮ জানুয়ারি-ই হবে), ১৯৭০। সেদিন, ঢাকা শহরের পল্টনে আওয়ামী লীগের জনসভায় সিরাজুল আলম খান সর্বপ্রথম জয় বাংলা স্লোগানটি উচ্চারণ করেছিলেন। স্লোগানটি ছিলো বাংলা শব্দ। জয়+বাংলা= জয় বাংলা অর্থাৎ বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষার জয়। বাংলার জয়ের কথা বলা হচ্ছে, তাই এ স্লোগান সকলের ভালো লেগেছিলো। সকলেই জয় বাংলা স্লোগানকে গভীর আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানেরও এ স্লোগান বেশ মনে ধরে। এরপর ৭০-এর ৭ জুন ঢাকার রেসকোর্স ময়দানের বিশাল এক জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার ভাষণে প্রথম যুক্ত করেন এ স্লোগানটি এবং উচ্চারণ করেন জয় বাংলা। আমাদের অস্তিত্বে জয় বাংলা শব্দের / স্লোগানের/ ধ্বনির ব্যবহার ও কার্যকারিতা আরো ব্যাপকভাবে বিস্তৃত। জয় বাংলা স্লোগানের উৎপত্তি এবং জাতীয় স্লোগানে পরিণত হবার রয়েছে এক ইতিহাস। সংক্ষেপে তা হলো- নিউক্লিয়াসর পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্লোগান নির্ধারণের জন্য তিনটি সেলকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো। এর মধ্যে একটি সেল জিয়ে সিন্ধ বা জিও সিন্ধ (জয় সিন্ধু)-এর মতো করে জয় বাংলা শব্দটি কাজে লাগানো যায় কি না সিরাজুল আলম খান এর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এ সেলটির মূল দায়িত্বে ছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আফতাব উদ্দীন আহমেদ (পরবর্তীতে ড. আফতাব আহমেদ)। সুবিধা মতো সময়ে জয় বাংলা স্লোগানের বিষয়টি নিউক্লিয়াস র বিবেচনায় আসে। নিউক্লিয়াসর সদস্যদের প্রত্যেকেরই ভেটো (Veto) দেয়ার সুযোগ ছিলো। এ ভেটো(Veto) প্রয়োগের কারণে প্রায় ৮-১০ দিন সময় লাগে জয় বাংলাকে অনুমোদন দানের ক্ষেত্রে। পাশাপাশি বলে দেয়া হয়েছিলো স্লোগানটিকে সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করার জন্য। যেন আর দশটা স্লোগানের মতো জয় বাংলাকে যত্রতত্র ব্যবহার না করা হয়। তুমি কে? আমি কে? বাঙালি-বাঙালি তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা-মেঘনা-যমুনা পি- না ঢাকা? ঢাকা-ঢাকা ছয় দফা-ছয় দফা, না হলে এক-দফা এগার দফা-এগার দফা, নাহলে এক-দফাবীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করোস্বাধীন করো স্বাধীন করো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো। এ স্লোগানগুলো নিউক্লিয়াস সেলর মাধ্যমে স্লোগান হিসেবে গ্রহণ করা হয়, যা পরবর্তীতে জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এসব কোনো সাধারণ স্লোগান নয়, যেন একেকটি ঐশী বাণী। স্বাধীনতাকামী বাঙালির প্রাণের স্পন্দন স্বাধীনতার বীজমন্ত্র মুক্তি ও বিজয়ের মূলমন্ত্র সশস্ত্র যুদ্ধের অনুপ্রেরণা এবং এগারোশো বছরের পরাধীনতার শেকল ভেঙে বাঙালির কাক্সিক্ষত স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের এক শক্তিশালী অস্ত্র। জয় বাংলা স্লোগানের বিষয়ে ছাত্রলীগের দুয়েকজন এবং আওয়ামী লীগের সবাই (বঙ্গবন্ধু ছাড়া) ঘোর আপত্তি করতো। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটিতেও জয় বাংলার বিষয়ে আলাপ আলোচনা হয় এবং তাঁরা জয় বাংলাকে নিয়ে ভারত ঘেঁষা রাজনীতি করা হচ্ছে এ যুক্তি তুলে ধরেন। শুধু কমিটিতেই নয়, আওয়ামী লীগ সভার সকলেই জয় বাংলার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন (তাজউদ্দিন আহমদ ছাড়া)। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের বৃহত্তর অংশই জয় বাংলা স্লোগানের সরাসরি বিরোধিতা করেন এবং তাঁরা এ স্লোগানের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর কাছে অভিযোগও করেন। //এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধুর সরাসরি উত্তর ছিলো, এ বিষয় নিয়ে তোমাদের মাথা ঘামাবার দরকার নেই। আওয়ামী লীগের বৃহত্তর অংশ এ আবদারমূলক রাজনীতির //প্রতি বঙ্গবন্ধুর কোনো রকম সমর্থন না পেয়ে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছিলো। তাঁরা জয় বাংলা স্লোগানকে ভারতের জয় হিন্দ ও সিন্ধুর জিয়ে সিন্ধ বা জিও সিন্ধ এর সঙ্গে মিশিয়ে এক ধরনের বিদ্রুপ করতো। আর সুযোগ পেলে জয় বাংলা স্লোগান দেয়া ছাত্রলীগ কর্মীদের ওপর চড়াও হতো। রবিবার, ৪ জানুয়ারি ১৯৭০। সেদিন, ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন প্রধান অতিথি। অনুষ্ঠানের শুরুতে জয় বাংলা স্লোগান দেয়া শুরু হলে দুয়েকজন আপত্তি করেন এবং এ স্লোগানটি বন্ধ করার জন্য সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অনুরোধ জানান। তা সত্ত্বেও জয় বাংলা স্লোগান বারবার উচ্চারিত হতে থাকে। সৈয়দ নজরুল ইসলাম তাঁর বক্তব্য প্রদানকালে জয় বাংলার পক্ষে বিপক্ষে অবস্থান পরিষ্কার করলেন না। বিষয়টি বুঝতে পেরে নিউক্লিয়াস নেতৃবৃন্দ চার-পাঁচজন মিলে একটি গ্রুপ হয়ে সন্ধ্যার পর থেকে শুরু করে রাত ১২/১টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের হল-হোস্টেলে জয় বাংলা স্লোগান দিতো। তখন রাতের অন্ধকারে হাতে লেখা পোস্টার লাগানো হতো ঢাকা শহরের প্রায় সর্বত্র (সে সময়কালে বৃহত্তর ঢাকার লোকসংখ্যা ছিলো দশ লাখের মতো, আজকের ঢাকা দিয়ে সেদিনের ঢাকাকে বোঝা একেবারেই অসম্ভব; বর্তমানে বৃহত্তর ঢাকার লোকসংখ্যা হলো দুই কোটি বিশ লাখ)। তখন ক্ষুদ্রাকার মিছিল করে জয় বাংলা স্লোগান দেয়া হতো। জয় বাংলা স্লোগানে মুখরিত মানুষ আন্দোলিত পুরো ঢাকা শহর। বিষয়টি বঙ্গবন্ধু পর্যন্ত পৌঁছানো হলো। তখন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি হিসেবে কে এম ওবায়দুর রহমানকে বঙ্গবন্ধুর কাছে পাঠানো হয়। কে এম ওবায়দুর রহমান বঙ্গবন্ধুর কাছে জয় বাংলাকে তুলে ধরেন গুরুতর আপত্তিমূলক স্লোগান হিসেবে। সিরাজুল আলম খান ওই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু তখন কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে পরবর্তীতে বিষয়টি সুরাহা করবেন বলে জানান। আসলে বিষয়টি ছিলো অত্যন্ত জটিল। তবে স্বাধীনতার প্রশ্নে জয় বাংলা স্লোগানের গুরুত্ব বিবেচনায় আসে। এ বিষয়ে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব নিউক্লিয়াসর পক্ষ থেকে সিরাজুল আলম খানকে দেয়া হয়। রবিবার, ১১/১৮ জানুয়ারি (তবে নিশ্চিতভাবে ১৮ জানুয়ারি-ই হবে), ১৯৭০। সেদিন, পল্টন ময়দানে আওয়ামী লীগের জনসভা হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ওই দিনটিতে কৌশলগতভাবে জয় বাংলা কে জনগণের কাছে প্রথমবারের মতো তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেয় নিউক্লিয়াস। গাজী গোলাম মোস্তফাকে (সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা শহর আওয়ামী লীগ) নিউক্লিয়াসর প্রতি পরোক্ষ একজন সহযোগী হিসেবে অতি নিপুণভাবে গড়ে তোলা হয়েছিলো। সভা উপলক্ষে পল্টনে আওয়ামী লীগের অন্যসব জনসভার চাইতে পাঁচ ফুট উঁচু করে বিশেষভাবে মঞ্চ নির্মাণ করার জন্য গাজী গোলাম মোস্তফাকে অনুরোধ জানানো হয়। ১৯৬৪-৬৫ সালে ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন সৈয়দ মজহারুল হক বাকি। ছাত্র রাজনীতির পর তিনি বিজ্ঞাপনী নামে একটি বিজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে ছিলেন, যার অফিস ছিলো জিন্নাহ এভিনিউতে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ)। কামাল আহমেদ ছিলেন যশস্বী খ্যাতিসম্পন্ন একজন অংকন শিল্পী (বর্তমানে তিনি কানাডা প্রবাসী) তবে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না এবং একই বয়স না হলেও (কামাল আহমেদ ছিলেন সিরাজুল আলম খান-এর চেয়ে ৪-৫ বছরের বড়) সিরাজুল আলম খান-এর সঙ্গে তাঁর সখ্যা ছিলো। শিল্পী কামাল আহমেদকে আনা হলো বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানে। সে সময় রবিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছিলো। সৈয়দ মজহারুল হক বাকি ও কামাল আহমেদকে সিরাজুল আলম খান (দৈর্ঘে প্রায় ৪ ফুট লম্বা পাশে ১০ ফুট চওড়া) কাঠের উপরে জয় বাংলা শব্দটি লেখার জন্য বলেন। লেখার পর এ কাঠটিকে দুভাগে ভাগ করা হয়। তখন বেলা তিনটে, পাঁচটায় জনসভা শুরু হবে। সে সময়কালে শহর আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য পনর-বিশ জনের বেশি ছিলো না। বাকিরা সবাই খ্যাতিমান এডভোকেট আব্দুস সালাম খান (সম্পর্কে বঙ্গবন্ধুর মামা)-র নেতৃত্বাধীন ছয় দফার বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা পিডিএম (Peoples Democratic Movement-PDM)-এ চলে যায়। সে সময় থেকে শুরু করে পরবর্তী সকল জনসভায় এবং অন্যান্য সাংগঠনিক কাজে ব্যস্ত থাকতে হতো নিউক্লিয়াস সদস্যদের। তখনই নিউক্লিয়াসর রাজনৈতিক উইং হিসেবে বিএলএফ (BLF-Bangladesh Liberation Force) গঠন করা হয়। এসব সময়ে ঢাকা শহরের সব স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং তখনকার ঢাকা শহরের অন্তর্ভুক্ত ৪২টি ওয়ার্ডে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠনের পাশাপাশি বিএলএফ (BLF)-এর সদস্য সংখ্যা খুব দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পেতে থাকে। গোটা বাংলাদেশেও তখন একই অবস্থা। শুধুমাত্র ঢাকা শহরেই তখন বিএলএফর সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন (৩.৫০) হাজার। আর জেলা-থানা (বর্তমানে উপজেলা) পর্যায়ে আড়াই (২.৫) হাজার। এ সংখ্যা গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান এবং সশস্ত্র সংগ্রামকালে বৃদ্ধি পেয়ে সাত (৭) হাজারে উন্নীত হয়। জনসভাসমূহে লোক সমাগম, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব বিএলএফ (BLF)-র সদস্যদের উপর দেয়া হয়। মূল দায়িত্বে ছিলেন কাজী আরেফ এবং মনিরুল ইসলাম (মার্শাল মনি)। অন্যান্য জনসভার মতো কবিয়াল শফি আহমেদ এখানেও তাঁর জনপ্রিয় কবিগান প্রায় একঘণ্টা ব্যাপী গেয়ে শুনালেন। রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ১৯৭০। দিনটি ছিলো স্বাধীনতার লক্ষ্যে পৌঁছানোর এমন এক সন্ধিক্ষণ, যার দায়িত্ব বর্তিয়ে ছিলো নিউক্লিয়াসর পক্ষ থেকে সিরাজুল আলম খান-এর উপর। সাধারণত সিরাজুল আলম খান সরাসরি কোনো দায়িত্বে থাকতেন না। তিনি যেসব দায়িত্বে থাকতেন তা হলো, রণনীতি ও রণকৌশল প্রণয়ন এবং জটিল বিষয়ে ও ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত দানের ব্যাপারে। সে দিনের গুরুত্বের কারণেই সিরাজুল আলম খান-এর উপরে এ দায়িত্ব দেয়া হয়। বেলা তিনটের দিকে কাঠের দুই অংশের এক অংশ আগেই বেশ উঁচু করে নির্মাণ করা মঞ্চের মাঝামাঝি জায়গায় শামিয়ানায় আটকানো হার্ডবোর্ডের ওপর লাগিয়ে দেয়া হয়। বাকি অংশ লাগানো হয় পাশাপাশি করে জনসভা শুরু হওয়ার দশ-পনেরো (১০-১৫) মিনিট আগে। জয় বাংলা লেখাটি রঙতুলিতে মাস্টারপিস (masterpiece) হিসেবে কাঠের খণ্ডে লিখেছিলেন শিল্পী কামাল আহমেদ। বেলা চারটে নাগাদ জনসভায় আগত মানুষের দ্বারা পল্টন ময়দানের আউটার স্টেডিয়াম ছিলো কানায় কানায় ভরপুর। যেসব খুঁটিতে মাইক হর্ণ (সরশব যড়ৎহ) লাগানো হয়েছিলো, প্রত্যেকটি খুঁটির গোড়ায় দুজন করে বিএলএফ (BLF) সদস্য ছিলেন। আর তাঁদের হাতে দেয়া হয়েছিলো একটি চিরকুট। নির্দেশ ছিলো সিরাজুল আলম খান যখন মঞ্চ থেকে স্লোগান দেবেন সে মুহূর্তে এ চিরকুট খোলা হবে। প্রায় ১০০টি মাইক হর্ণ লাগানো বাঁশের খুঁটির গোড়ায় ছাড়াও গোটা পল্টনের বিশেষ বিশেষ জায়গায়ও বিএলএফ(BLF) সদস্যদের দায়িত্ব ভাগ করে দেয়া হয়েছিলো। নিচে, মঞ্চের সামনে, পিছনে এবং চারপাশে বিএলএফ(BLF) সদস্যরা বিশেষ নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। সেদিন, আওয়ামী লীগের জনসভায় পুরো পল্টন জুড়ে ছিলো প্রচুর জনসমাগম। একমাত্র মসজিদটি ছাড়া তখনকার আউটার স্টেডিয়ামে আর কোনো স্থাপনা ছিলো না। পেছনে ডিআইটির দিকে বাস্কেটবল খেলার জন্য ছোটো ছোটো কাঠের গ্যালারির (স্টেডিয়াম) মতো কয়েকটি স্থাপনা ছিলো মাত্র। সেসময় পল্টন ময়দানে এক লক্ষের মতো লোকসমাগম হতে পারতো। তেমনই লোকে লোকারণ্য অবস্থায় ১৯৭০ সালের ১৮ জানুয়ারির জনসমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। সে মুহূর্তে ঢাকা শহরের লাখো মানুষের জনস্রোত যেন মিশে গিয়েছিলো পল্টন ময়দান (আউটার স্টেডিয়াম)। সভার বক্তৃতা মঞ্চটি ছিলো বিশেষভাবে নির্মিত বেশ কিছুটা উঁচু। মঞ্চের শামিয়ানায় আটকানো হার্ডবোর্ডের ওপর লাগানো কাঠের খণ্ডে উজ্জ্বল লাল রঙের দুটি শব্দ জয় বাংলা জ্বল জ্বল করছিলো। বেশ কিছুটা উঁচু করে মঞ্চ তৈরি করার কারণে দর্শকরা দূর থেকেও তা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলেন। সভার শুরুতে তাজউদ্দীন আহমদ বক্তব্য রাখলেন। সভাপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু। মঞ্চে উপবিষ্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, খন্দকার মোশতাক আহমেদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও গাজী গোলাম মোস্তফা ছাড়া আর কোনো আওয়ামী লীগ নেতা ছিলেন না। তবে আওয়ামী লীগ করতেন না কিন্তু তৎকালীন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের প্রধান কাজে সদা ব্যস্ত থাকতেন এমন একজন ব্যক্তির সেই মঞ্চে উপস্থিতি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। আর সেই ব্যক্তিটি ছিলেন সিরাজুল আলম খান। গাজী গোলাম মোস্তফার উপর একটি দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো, যেভাবে হোক বঙ্গবন্ধুকে স্লোগান দেয়ার জন্য সিরাজুল আলম খানকে অনুরোধ করা। তাজউদ্দীন আহমদের বক্তব্যের পর বঙ্গবন্ধু মঞ্চে বসা অবস্থায় বললেন, সিরাজ স্লোগান দে। কথাটি বঙ্গবন্ধু দুবার বললেন। সিরাজুল আলম খানও এ মুহূর্তটির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। যেনো অনেকটা যাদু দেখানোর মতো ভঙ্গিতে সিরাজুল আলম খান মাইকের সামনে এলেন। এসে অত্যন্ত আবেগ মিশ্রিত বলিষ্ঠ কণ্ঠে বললেন, আজকের এ দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে বাংলাদেশের জন্য। প্রিয় ভাই-বোনেরা আপনারা দেখছেন ওই উপরে জ্বল জ্বল করছে দুটি শব্দ জয় বাংলা। আসুন, সাত কোটি মানুষের পক্ষ হয়ে আমরা সকলকে জানিয়ে দিতে চাই, বাঙালি আমাদের পরিচয়। আসুন, যার কণ্ঠে যতো জোর আছে সবটুকু দিয়ে আমরা একই সঙ্গে বলে উঠি, জয় বাংলা। আজ থেকে জয় বাংলাকে আমাদের ভবিষ্যৎ আন্দোলনের স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করা হবে। আসুন, আমরা সবাই কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে আওয়াজ তুলি জয় বাংলা। তিনি আবারো বললেন, জয় বাংলা। তখন লক্ষ কণ্ঠের সমস্বরে আকাশ থেকে বাজ পড়ার মতো কানফাটা আওয়াজে জয় বাংলা স্লোগানের ধ্বনি পল্টনকে মুখরিত করে তোলে। প্রত্যেক খুঁটির গোড়ায় চিরকুট ইতিমধ্যে খোলা হয়ে গেছে। নির্দেশ ছিলো জয় বাংলাকে প্রতিধ্বনিত করে জয় বাংলা বলা। পল্টনেই শুধু নয়, ফিরে যাবার মুহূর্তেও সকলের মুখে মুখে ধ্বনিত হচ্ছিলো জয় বাংলা! আত্মপ্রত্যয়ের এক শব্দ জয় বাংলা বাঙালি জাতির পরিচয়ের এক শব্দ জয় বাংলা যেনো একটি ব্যক্ত আবেগের শব্দ জয় বাংলা! সেই থেকে বাংলাদেশের জনগণ প্রথম জানালো তাদের আগামী দিনের স্লোগান জয় বাংলা। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, নিউক্লিয়াস (স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ)-এর সিদ্ধান্ত অনুসারে আনুষ্ঠানিকভাবে এটাই প্রথম জনসম্মুখে জয় বাংলা স্লোগানের উদ্বোধন। তাজউদ্দীন আহমদের পর একে একে বক্তৃতা দিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, খন্দকার মোশতাক আহমেদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী। সভাপতি হিসেবে এবার বক্তব্য দিবেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাও ঘোষণা করলেন সিরাজুল আলম খান। আবারো সিরাজুল আলম খান মাইকের সামনে গেলেন। ঘোষণা দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে বক্তব্য দেয়ার জন্য আহ্বান জানালেন। এ সিরাজুল আলম খান যেন অতি পরিচিত সিরাজুল আলম খান নয়। নতুন পরিচিতি। নতুন অভিব্যক্তি। নতুন প্রকাশভঙ্গি। নতুন প্রাণশক্তি। নতুন রাজনীতির সূর্যোদয়ের আহ্বান। সিরাজুল আলম খান বঙ্গবন্ধুকে বক্তব্য দেবার আহ্বানের সময় জয় বাংলা ধ্বনি দিলেন। আবারো দিলেন, তখন সভা থেকে লক্ষ কন্ঠের প্রতিধ্বনি অনুরণিত হয়ে আকাশে গর্জনের মতো শোনা গেল। গর্জনের শব্দের তীব্রতা মুহুর্মুহু প্রতিধ্বনি হলো। সে গর্জন শেষ বিকেলের শীতল বাতাস বয়ে নিয়ে গেল গোটা ঢাকা শহরে। লক্ষাধিক বাঙালির বাঁধভাঙ্গা আবেগ আর প্রত্যাশায় এ যেনো এক নবজাগরণের ইঙ্গিত। বঙ্গবন্ধু বক্তৃতা করছেন সে সুযোগে মঞ্চে বসা খন্দকার মোশতাক আহমেদ সিরাজুল আলম খানকে কাছে ডেকে নিয়ে বললেন, ভাইডি কামডা সাইরে দিসো। তুমি বলেই পারলা। আর কেউ পারতো না! জানো সিরাজ, পৃথিবীর ইতিহাসে আর একজন মানুষ রাশিয়া বিপ্লবের স্লোগান হিসেবে দিয়েছিলো, জমি, রুটি, স্বাধীনতা! জানো সে লোকটা ক্যাডা? লেনিন, লেনিন। ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতা শেষ। জনসভার লক্ষাধিক মানুষের কণ্ঠে একই শব্দ এবং আওয়াজ জয় বাংলা। মনে হচ্ছিলো সারা ঢাকা যেন নতুনভাবে জেগেছে। পাখির ডাকে নয়, গগণবিদারী গর্জনের শব্দে। আর সে শব্দ হলো জয় বাংলা। জয় বাংলা কোনো দল বা ব্যক্তির স্লোগান নয়, এ স্লোগান ছিলো বাঙালির আত্মপরিচয়ের স্লোগান, স্বাধীনতাকামী জনগণের ঐক্যের স্লোগান, অর্জিত সাহসের স্লোগান, শত্রুমুক্ত করে স্বাধীন সার্বভৌমত্ব অর্জনের স্লোগান। জয় বাংলা শুধু একটি স্লোগান নয়, একটি ইতিহাস সংগ্রাম আর ভবিষ্যতের নাম। এ স্লোগান ৭১-এ বাঙালি জাতিকে করেছিলো ঐক্যবদ্ধ আর সশস্ত্র যুদ্ধকে করেছিলো ত্বরান্বিত। এ স্লোগান কণ্ঠে নিয়ে বাঙালিরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো সশস্ত্র সংগ্রামে। রণাঙ্গনে বুলেটের চেয়েও শক্তিশালী ছিলো এ জয় বাংলা। এগারশবছর ধরে যে বাঙালিদের নিরস্ত্র করে রাখা হয়েছিলো স্বাধীনতা সংগ্রামের শেষ পর্যায়ে সে বাঙালিদের হাতে রাইফেল তুলে নেয়ার জন্যও জয় বাংলাস্লোগান ছিলো বীজমন্ত্র। এ বীজমন্ত্রই প্রতিটি সশস্ত্র যোদ্ধা এবং জনগণকে বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো-স্লোগানের মাধ্যমে উজ্জীবিত করেছিলো। জয় বাংলা মানে- সে সকল মানুষের জয়, যারা এ বাংলার মাটি ও মানুষকে শোষণ-নির্যাতন থেকে মুক্ত করার প্রত্যয়ে যুগে যুগে লড়াই করে হটিয়ে দিয়েছে- সেন, আর্য, সুলতান, মুঘল, পাঠান, মারাঠি, পর্তুগিজ, দিনেমার, ওলন্দাজ, ফিরিঙ্গি, বর্গি, ইংরেজ, নীলকর, কাবুলিওয়ালা, জমিদার-জোতদার, পাকিস্তানিসহ বিদেশি পরাশক্তিকে। আর বুঝিয়ে দিয়েছে জয় বাংলা শুধু সাধারণ একটি স্লোগান নয়, জয় বাংলা বাঙালির মটো (motto)। আন্দোলন-সংগ্রাম এমন কি সশস্ত্র যুদ্ধের কোথাও কোনোদিন বাঙালিরা বলেননি বাংলাদেশ জিন্দাবাদ কিংবা বাংলাদেশ চিরজীবী হোক। সময়ের ব্যবধানে সে জয় বাংলা আজ ষোল-সতের (১৬/১৭) কোটি মানুষের প্রিয় স্লোগান/ধ্বনি। বঙ্গবন্ধু তাঁর ৭ মার্চের ভাষণে জয় বাংলা স্লোগান দিয়েই বক্তব্য শেষ করেছিলেন। আজকাল দুয়েকজন আহাম্মক অতি পা-িত্য জাহির করার মধ্য দিয়ে বাঙালি বিরোধী কিছু কথা বলার চেষ্টা করছেন। তা হলো-বঙ্গবন্ধু নাকি জয় বাংলা বলার পর জয় পাকিস্তান উচ্চারণ করেছিলেন। এরা পঞ্চম বাহিনীর লোক (5th columnist) লোক। এরা পাকিস্তান থাকতে পাকিস্তানিদের দালালি করতো। মার্চ মাসের আগের দিন পর্যন্ত এরা পাকিস্তানি হয়েই কাজ করতো। সর্বশেষ না পেরে এরা বাঙালি বন্ধু হয়ে উঠেন। ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধু কেন জয় পাকিস্তান শব্দ উচ্চারণ করবেন? ওই সময় গোটা আন্দোলন ছিলো নিউক্লিয়াস-বিএলএফ-এর হাতে। এ নিউক্লিয়াস-বিএলএফ-এর মাধ্যমেই গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা হয়েছিলো। বঙ্গবন্ধু ছিলেন স্বাধীনতাকামী জনগণের নেতা। আহাম্মকরা তাদেরকে যতোই চতুর মনে করুন না কেনো, তারা আসলে সার্কাসের ভাঁড়। লেখক: তাত্ত্বিক, রাজনৈতিক গবেষক ও মুক্তিযুদ্ধকালীন নিউক্লিয়াস-এর সদস্য সূত্র: মানবজমিন...

দেশের বেসরকারি চিকিৎসাসেবা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে :টিআইবি

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে, দেশের বেসরকারি চিকিৎসাসেবা খাতে বাণিজ্যিকীকরণের প্রবণতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। ঘাটতি রয়েছে বেসরকারি চিকিৎসাসেবায় সরকারের যথাযথ মনোযোগের । এতে একদিকে এটি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে, অন্যদিকে কিছু ব্যক্তির এ খাত থেকে বিধিবহির্ভূত সুযোগ-সুবিধা আদায়ের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। আজ বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। গবেষণায় দেশের বিভিন্ন জেলায় নিবন্ধিত ১১৬টি (হাসপাতাল ৬৬টি এবং রোগনির্ণয় কেন্দ্র ৫০টি) বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গবেষণায় বেসরকারি চিকিৎসা খাত সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতি পর্যালোচনা, প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, এসব প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসাসেবা, বেসরকারি চিকিৎসাসেবার বিপণন ব্যবস্থা, তথ্যের স্বচ্ছতা, তদারকির বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা সুমাইয়া খায়ের, টিআইবির গবেষণা ও পলিসি পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান। গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির প্রোগ্রাম ম্যানেজার তাসলিমা আক্তার এবং ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. জুলকারনাইন। ফলাফলে দেখা যায়, গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ১১৬টির মধ্যে ৯৭টি প্রতিষ্ঠান পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেয়নি। এ ছাড়া বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রধান আইন দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অরডিন্যান্স ১৯৮২ প্রণয়নের পর এখন পর্যন্ত হালনাগাদ করা হয়নি। এ আইনের কোনো বিধিমালাও করা হয়নি। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় বেসরকারি চিকিৎসাসেবা আইনের খসড়া নিয়ে কাজ করা হলেও তা এখনো আইন হিসেবে প্রণয়ন করা হয়নি। অনুষ্ঠানে টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি সুলতানা কামাল বলেন, বেসরকারি চিকিৎসা খাতে তদারকির চিহ্ন দেখতে পাই না। সরকার এ ক্ষেত্রে পুরো উদাসীন। সেখানে কি স্বার্থের দ্বন্দ্ব আছে সরকারের? কোনো ধরনের জবাবদিহির সম্মুখীন না হয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। যাঁরা তদারকের দায়িত্বে আছেন, তাঁরা তাঁদের কাজ গুরুত্বসহকারে নিচ্ছেন না। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারী খানার প্রায় সাড়ে ৬৩ শতাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হতে সেবা নেয়। কিন্তু বাংলাদেশে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা উচ্চ মুনাফাভিত্তিক খাত। মালিকেরা বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়েছে। তদারকির অভাব থাকায় সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করে উচ্চ মুনাফা আদায়ের সুযোগ রয়েছে।...

৩০০ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকা তৈরি,চট্রগ্রাম-১ ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন,চট্টগ্রাম-৯ মহ

নিজেস্ব প্রতিনিধি :সরকারের হাইকমান্ড গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পৃথক রিপোর্ট বিচার-বিশ্লষণপূর্বক ৩০০ আসনে একটি প্রার্থী তালিকা তৈরি করে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র। সূত্র মতে, নির্বাচনকে সামনে রেখে হাইকমান্ড প্রার্থি তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে শরীক দলগুলোর বর্তমান আসনগুলোর প্রতি দৃষ্টি রেখেছেন। স্বল্পসংখ্যক আসন প্রার্থী নির্বাচন বাদ রাখা হয়েছে শরীক দলগুলোর কয়েকজন সংসদ সদস্যের কথা মাথায় রেখে। নির্বাচনের প্রাক্কালে তারা মনোনয়নের বিনিময়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করবেন বলে জানা যায়। হাইকমান্ড কর্তৃক তৈরিকৃত মনোনয়ন তালিকাটি এই মুহূর্তে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করলেও শিগগিরই মনোনীত প্রার্থীদের মৌখিকভাবে মাঠে নামার নির্দেশ দেয়া হবে হাইকমান্ড থেকে। প্রার্থী তালিকাটি যথাসময়ে দলের সংসদীয় বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত হয়ে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবে বলেও জানা গেছে। অনিবার্য কারণ ব্যতীত তালিকায় খুব একটা যোগ-বিয়োগের সম্ভাবনা নেই বলে দাবি করেছে এ সূত্রটি।সূত্র :ঢাকা রিপোর্ট ।সূত্র মতে,অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেয়ার নীতিগ্রহণ করে আওয়ামী লীগ তার গতি প্রকৃতি নির্ধারণ করছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নাম ও আসন নিম্নে দেয়া হলো। ঢাকা-১ আব্দুল মান্নান খান, ঢাকা-২ শাহীন আহমেদ, ঢাকা-৩ নসরুল হামিদ বীপু, ঢাকা-৪ ডঃ আওলাদ হোসেন, ঢাকা-৫ মশিউর রহমান সজল, ঢাকা-৬ শাহে আলম মুরাদ, ঢাকা-৭ ডাঃ মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীন, ঢাকা-৮ ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, ঢাকা-৯ মোজাফফর হোসেন পল্টু, ঢাকা-১০ শেখ ফজলে নূর তাপস, ঢাকা-১১ একেএম রহমতউল্লাহ, ঢাকা-১২ আসাদুজ্জামান খান কামাল, ঢাকা-১৩ জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা-১৪ সাবিনা আকতার তুহিন, ঢাকা-১৫ গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু, ঢাকা-১৬ এম এ মান্নান কচি, ঢাকা-১৭ মুহম্মদ ফারুক খান, ঢাকা-১৮ অ্যাডঃ সাহারা খাতুন, ঢাকা-১৯ তৌহিদ জং মুরাদ, ঢাকা-২০ বেনজীর আহমেদ। নারায়ণগঞ্জ-১ গোলাম দস্তগীর গাজী,নারায়ণগঞ্জ-২ নজরুল ইসলাম বাবু, নারায়ণগঞ্জ-৩ কায়সার হাসনাত, নারায়ণগঞ্জ-৪ একেএম শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৫ এস এম আকরাম। গাজীপুর-১ আকম মোজাম্মেল হক, গাজীপুর-২ জাহিদ আহসান রাসেল,গাজীপুর-৩ জামিল হাসান দুর্জয়,গাজীপুর-৪ সিমিন হোসেন রিমি,গাজীপুর-৫ আখতারুজ্জামান। মুন্সিগঞ্জ-১ ডাঃ বদিউজ্জামান ডাব্লু, মুন্সিগঞ্জ-২ অ্যাডঃ মাহবুবে আলম, মুন্সিগঞ্জ-৩ মৃণাল কান্তি দাস। কিশোরগঞ্জ-১ সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ সোহরাব উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ-৩ ডঃ মিজানুল হক, কিশোরগঞ্জ-৪ রেজওয়ান আহমেদ তৌফিক, কিশোরগঞ্জ-৫ আফজাল হোসেন, কিশোরগঞ্জ-৬ নাজমুল হাসান পাপন। নরসিংদী-১ নজরুল ইসলাম, নরসিংদী-২ কামরুল আশরাফ খান, নরসিংদী-৩ সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, নরসিংদী-৪ নুরুল মজিদ হুমাউন, নরসিংদী-৫ রাজিউদ্দীন আহমেদ রাজুর পুত্র। গোপালগঞ্জ-১ শেখ রেহানা, গোপালগঞ্জ-২ শেখ ফজলুল করিম সেলিম, গোপালগঞ্জ-৩ শেখ হাসিনা। মাদারীপুর-১ নূরে আলম চৌধুরী লিটন, মাদারীপুর-২ শাহজাহান খান, মাদারীপুর-৩ আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম। শরিয়তপুর-১ বি এম মোজাম্মেল হক, শরিয়তপুর-২ একেএম এনামুল হক শামীম,শরিয়তপুর-৩ নাহিম রাজ্জাক। ফরিদপুর-১ ডাঃ দিলীপ রায়, ফরিদপুর-২ আয়মন আকবর চৌধুরী, ফরিদপুর-৩ ইঞ্জিনয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ফরিদপুর-৪ মজিবর রহমান চৌধুরী। কুমিল্লা-১ সুবিদ আলী ভুঁইয়া, কুমিল্লা-২ সেলিমা আহমেদ, কুমিল্লা-৩ ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন, কুমিল্লা-৪ রাজী মোহাম্মদ ফখরুল, কুমিল্লা-৫ আব্দুল মতিন খসরু, কুমিল্লা-৬ আফম বাহাউদ্দীন বাহার, কুমিল্লা-৭ ডাঃ প্রাণ গোপাল দত্ত, কুমিল্লা-৮ অধ্যাপক আলী আশরাফ, কুমিল্লা-৯ তাজুল ইসলাম, কুমিল্লা-১০ আহম মোস্তফা কামাল, কুমিল্লা-১১ মজিবুল হক মুজিব। চট্রগ্রাম-১ ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, চট্টগ্রাম-২ চট্টগ্রাম-৩ মাহফুজুর রহমান মিতা, চট্টগ্রাম-৪, চট্টগ্রাম-৫, চট্টগ্রাম-৬, চট্টগ্রাম-৭ ডঃ হাসান মাহমুদ, চট্টগ্রাম-৮, চট্টগ্রাম-৯ মহিবুল হাসান নওফেল, চট্টগ্রাম-১০ মঞ্জুরুল আলম, চট্টগ্রাম-১১ আব্দুল লতিফ, চট্টগ্রাম-১২ শামসুল হক চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৩ সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, চট্টগ্রাম-১৪ নজরুল ইসলাম চৌধুরী। চাঁদপুর-১ গোলাম হোসেন, চাঁদপুর-২ মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, চাঁদপুর-৩ সুজিৎ রায় নন্দী, চাঁদপুর-৪ শামসুল হক ভুঁইয়া, চাঁদপুর-৫ রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম। দিনাজপুর-১ মনোরঞ্জণ শীল গোপাল, দিনাজপুর-২ খালিদ মাহমুূদ চৌধুরী, দিনাজপুর-৩ ইকবালুর রহিম, দিনাজপুর-৪ আবুল হাসান মাহমুদ আলী, দিনাজপুর-৫ মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার, দিনাজপুর-৬ শিবলী সাদিক। ঠাকুরগাঁও-১ রমেশ চন্দ্র সেন, ঠাকুরগাঁও-২ মাজহারুল ইসলাম সুজন, ঠাকুটগাঁও-৩। নীলফামারী-১ আফতাবউদ্দিন সরকার, নীলফামারী-২ আসাদুজ্জামান নূর, নীলফামারী-৩ অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা, নীলফামারী-৪ আমেনা কোহিনুর আলম। লালমনিরহাট-১ মোতাহার হোসেন, লালমনিরহাট-২ নুরুজ্জামান আহমেদ, লালমনিরহাট-৩ আবু সালেহ সাইদ দুলাল। রংপুর-১ রংপুর-২ আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক, রংপুর-৩ আনোয়ারুল ইসলাম, রংপুর-৪ টিপু মন্সী, রংপুর-৫ এইচ এন আশিকুর রহমান, রংপুর-৬ সজীব ওয়াজেদ জয়। কুড়িগ্রাম-১, কুড়িগ্রাম-২ জাফর আলী, কুড়িগ্রাম-৩ শওকত আলী বীরবিক্রম, কুড়িগ্রাম-৪ জাকির হোসেন। গাইবান্ধা -১ গোলাম মোস্তফা আহমেদ, গাইবান্ধা-২ সৈয়দ শামস উল আলম হীরা, গাইবান্ধা-৩ ডাঃ ইউনুস আলী সরকার, গাইবান্ধা-৪ আবুল কালাম আজাদ, গাইবান্ধা-৫ মাহমুদ হোসেন রিপন। রাজশাহী-১ মতিউর রহমান, রাজশাহী-২ আব্দুল খালেক, রাজশাহী-৩ আয়েন উদ্দীন, রাজশাহী-৪ এনামুল হক, রাজশাহী-৫ এম এ ওয়াদুদ দারা, রাজশাহী-৬ শাহরিয়ার আলম। নাটোর-১ আবুল কালাম, নাটোর-২ শফিকুল ইসলাম শিমুল, নাটোর-৩ জুনায়েদ আহম্মেদ পলক। পাবনা-১ অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, পাবনা-২ আজিজুল হক আরজু, পাবনা-৩ মকবুল হোসেন, পাবনা-৪ গোলাম ফারুক প্রিন্স। নওগাঁ-১ সাধন চন্দ্র মজুমদার, নওগাঁ-২ শহীদুজ্জামান সরকার, নওগাঁ-৩ ছলিম উদ্দিন, নওগাঁ-৪ ইমাজ উদ্দীন প্রামাণিক, নওগাঁ-৫ ব্যারিস্টার নিজামউদ্দীন জলিল জন, নওগাঁ-৬ ইসরাফিল আলম। টাঙ্গাইল-১ ডঃ আব্দুর রাজ্জাক, টাঙ্গাইল-২ খন্দকার মশিউজ্জামান রোমেল, টাঙ্গাইল-৩ সৈয়দ আবু ইউসুফ, টাঙ্গাইল-৪ সোহেল হাজারী, টাঙ্গাইল-৫ ছানোয়ার হোসেন, টাঙ্গাইল-৬ খন্দকার এম এ বাতেন, টাঙ্গাইল-৭ একাব্বর হোসেন ও টাঙ্গাইল-৮ অনুপম শাহজাহান জয়। মানিকগঞ্জ-১ আনোয়ারুল হক, মানিকগঞ্জ-২ মমতাজ বেগম, মানিকগঞ্জ-৩ জাহিদ মালেক স্বপন। সিরাজগঞ্জ-১ মোহাম্মদ নাসিম, সিরাজগঞ্জ-২ হাবিবে মিল্লাত, সিরাজগঞ্জ-৩, সিরাজগঞ্জ-৪ তানভীর ইমাম, সিরাজগঞ্জ-৫ আব্দুল মজিদ মন্ডল ও সিরাজগঞ্জ-৬ হাসিবুর রহমান স্বপন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ গোলাম রাব্বানী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ জিয়াউর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আব্দুল ওয়াদুদ বিশ্বাস। নরসিংদী-১ নজরুল ইসলাম, নরসিংদী-২ কামরুল আশরাফ খান, নরসিংদী-৩ সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, নরসিংদী-৪ নুরুল মজিদ হুমায়ুন ও নরসিংদী-৫ রাজি উদ্দীন আহমেদ রাজু তনয়। বি বাড়িয়া-১ এটিএম মনিরুজ্জামান সরকার, বিবাড়িয়া-২ বি বাড়িয়া-৩ উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী, বি বাড়িয়া-৪ ব্যারিস্টার আনিসুল হক, বি বাড়িয়া-৫, বি বাড়িয়া-৬ মহিউদ্দীন আহমেদ মহি। সিলেট-১ ডঃ আবুল মোমেন, সিলেট-২ শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট-৩ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস, সিলেট-৪ ইমরান আহমেদ, সিলেট-৫ মাশুক উদ্দীন, সিলেট-৬ নুরুল ইসলাম নাহিদ, হবিগঞ্জ-১ আমাতুল কিবরিয়া চৌধুরী কেয়া, হবিগঞ্জ-২ আব্দুল মজিদ খান, হবিগঞ্জ-৩ । সুনামগঞ্জ-১ মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, সুনামগঞ্জ-২ জয়া সেন গুপ্তা, সুনামগঞ্জ-৩ আজিজ উস সামাদ ডন, সুনামগঞ্জ-৪ পীর ফজলুর রহমান, সুনামগঞ্জ-৫ মহিবুর রহমান মানিক। মৌলভীবাজার-১ আব্দুল মতিন, মৌলভীবাজার-২, মৌলভীবাজার-৩, মৌলভীবাজার-৪ উপাধ্য আব্দুস শহীদ। নোয়াখালী-১ এইচ এম ইব্রাহিম, নোয়াখালী-২ মোরশেদ আলম, নোয়াখালী-৩ মামুনুর রশীদ কিরণ, নোয়াখালী-একরামুল করিম চৌধুরী, নোয়াখালী-৫ ওবায়দুল কাদের, নোয়াখালী-৬ আয়েশা সিদ্দিকী। লক্ষ্মীপুর-১ আবদুল্লাহ, লক্ষ্মীপুর-২ মোহাম্মদ নোমান, লক্ষ্মীপুর-৩ শাহজাহান কামাল, লক্ষ্মীপুর-৪। ফেনী-১ আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, ফেনী-২ নিজামউদ্দীন হাজারী, ফেনী-৩ সাইফুদ্দীন নাসির। বান্দরবান- বীর বাহাদুর ও রাঙামাটিঃ দীপঙ্কর তালুকদার। জয়পুরহাট-১ শামসুল আলম দুদু জয়পুরহাট-২ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। বরিশাল-১ আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ, বরিশাল- ২ গোলাম ফারুক, বরিশাল-৩, বরিশাল-৪ পঙ্কজ দেবনাথ, বরিশাল-৫ জেবুন্নেছা হক, বরিশাল-৬ তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস। পটুয়াখালী-১ শাজাহান মিয়া,পটুয়াখালী-২ আসম ফিরোজ, পটুয়াখালী-৩ আখম জাহাঙ্গীর হোসাইন, পটুয়াখালী-৪ মাহবুবুর রহমান তালুকদার। বরগুণা-১ ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, বরগুনা-২ শওকত হাছানুর রহমান। ঝালকাঠি-১ মনিরুজ্জামান মনির, ঝালকাঠি-২ আমির হোসেন আমু। ভোলা-১ তোফায়েল আহমেদ, ভোলা-২ আলী আজম মুকুল, ভোলা-৩ নুরুন্ববী চৌধুরী শাওন, ভোলা-৪ আব্দুল্লাহ আল জ্যাকব। পিরোজপুর-১ অ্যাডঃ রেজাউল করিম, পিরোজপুর-২ শাহে আলম, পিরোজপুর-৩ ইসহাক আলী খান পান্না। শেরপুর-১ আতিয়ার রহমান আতিক, শেরপুর-২ বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেরপুর-৩ ফজলুল হক। ময়মনসিংহ-১ জুয়েল আরেং, ময়মনসিংহ-২ হায়াতুর রহমান খান, ময়মনসিংহ-৪ আব্দুস ছাত্তার, ময়মনসিংহ-৫ কে এম খালিদ, ময়মনসিংহ-৬ মোসলেম উদ্দীন, ময়মনসিংহ-৭ এম এ হান্নান, ময়মনসিংহ-৮, ময়মনসিংহ-৯ আনোয়ার আবেদীন তুহিন, ময়মনসিংহ-১০ ফাহমী গোলান্দাজ বাবেল। নেত্রকোনা-১ মোশতাক আহমেদ রুহী, নেত্রকোনা-৩ ইত্তেকার তালুকদার, নেত্রকোনা-৪ রেবেকা মোমিন। যশোর-১ শেখ আফিল উদ্দীন, যশোর-২ মনিরুল ইসলাম, যশোর-৩ কাজী নাবিল আহমেদ, যশোর-৪, যশোর-৫ স্বপন ভট্টাচার্য, যশোর-৬। খুলনা-১ পঞ্চানন বিশ্বাস, খুলনা-২ মিজানুর রহমান, খুলনা-৩ মন্নুজান সুফিয়ান, খুলনা-৪ মোস্তফা রশিদী সূজা, খুলনা-৫ নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। রাজবাড়ি-১ কাজী কেরামত আলী, রাজবাড়ী-২ জিল্লুল হাকিম। সাতক্ষীরা-১ শেখ মুজিবুর রহমান, সাতক্ষীরা-২ মীর মোশতাক আহমেদ রবি, সাতক্ষীরা-৩ অধ্যাপক ডাঃ তআফম রুহুল হক, সাতক্ষীরা-৪ এসএম জগলুল হায়দার। মাগুরা-১ সাইফুজ্জামান শেখর, মাগুরা-২ বীরেন শিকদার। নড়াইল-১ কবিরুল হক মুক্তি, নড়াইল-২ শেখ হাসিনা। বাগেরহাট-১ শেখ হেলাল উদ্দীন, বাগেরহাট-২ বাগেরহাট-৩ তালুকদার আব্দুল খালেক বাগেরহাট-৪ ডাঃ মোজাম্মেল হোসেন . দিনাজপুর-১ মনোরঞ্জণ শীল গোপাল, দিনাজপুর-২ খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দিনাজপুর-৩ ইকবালুর রহিম, দিনাজপুর-৪ আবুল হাসান মাহমুদ আলী, দিনাজপুর-৫ মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার, দিনাজপুর-৬ শিবলী সাদিক। ঠাকুরগাঁও-১ রমেশ চন্দ্র সেন, ঠাকুরগাঁও-২ মাজহারুল ইসলাম সুজন, ঠাকুটগাঁও-৩। নীলফামারী-১ আফতাবউদ্দিন সরকার, নীলফামারী-২ আসাদুজ্জামান নূর, নীলফামারী-৩ অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা, নীলফামারী-৪ আমেনা কোহিনুর আলম। লালমনিরহাট-১ মোতাহার হোসেন, লালমনিরহাট-২ নুরুজ্জামান আহমেদ, লালমনিরহাট-৩ আবু সালেহ সাইদ দুলাল। রংপুর-১ রংপুর-২ আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক, রংপুর-৩ আনোয়ারুল ইসলাম, রংপুর-৪ টিপু মন্সী, রংপুর-৫ এইচ এন আশিকুর রহমান, রংপুর-৬ সজীব ওয়াজেদ জয়। কুড়িগ্রাম-১, কুড়িগ্রাম-২ জাফর আলী, কুড়িগ্রাম-৩ শওকত আলী বীরবিক্রম, কুড়িগ্রাম-৪ জাকির হোসেন। গাইবান্ধা -১ গোলাম মোস্তফা আহমেদ, গাইবান্ধা-২ সৈয়দ শামস উল আলম হীরা, গাইবান্ধা-৩ ডাঃ ইউনুস আলী সরকার, গাইবান্ধা-৪ আবুল কালাম আজাদ, গাইবান্ধা-৫ মাহমুদ হোসেন রিপন। রাজশাহী-১ মতিউর রহমান, রাজশাহী-২ আব্দুল খালেক, রাজশাহী-৩ আয়েন উদ্দীন, রাজশাহী-৪ এনামুল হক, রাজশাহী-৫ এম এ ওয়াদুদ দারা, রাজশাহী-৬ শাহরিয়ার আলম। নাটোর-১ আবুল কালাম, নাটোর-২ শফিকুল ইসলাম শিমুল, নাটোর-৩ জুনায়েদ আহম্মেদ পলক। পাবনা-১ অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, পাবনা-২ আজিজুল হক আরজু, পাবনা-৩ মকবুল হোসেন, পাবনা-৪ গোলাম ফারুক প্রিন্স। নওগাঁ-১ সাধন চন্দ্র মজুমদার, নওগাঁ-২ শহীদুজ্জামান সরকার, নওগাঁ-৩ ছলিম উদ্দিন, নওগাঁ-৪ ইমাজ উদ্দীন প্রামাণিক, নওগাঁ-৫ ব্যারিস্টার নিজামউদ্দীন জলিল জন, নওগাঁ-৬ ইসরাফিল আলম। টাঙ্গাইল-১ ডঃ আব্দুর রাজ্জাক, টাঙ্গাইল-২ খন্দকার মশিউজ্জামান রোমেল, টাঙ্গাইল-৩ সৈয়দ আবু ইউসুফ, টাঙ্গাইল-৪ সোহেল হাজারী, টাঙ্গাইল-৫ ছানোয়ার হোসেন, টাঙ্গাইল-৬ খন্দকার এম এ বাতেন, টাঙ্গাইল-৭ একাব্বর হোসেন ও টাঙ্গাইল-৮ অনুপম শাহজাহান জয়। মানিকগঞ্জ-১ আনোয়ারুল হক, মানিকগঞ্জ-২ মমতাজ বেগম, মানিকগঞ্জ-৩ জাহিদ মালেক স্বপন। সিরাজগঞ্জ-১ মোহাম্মদ নাসিম, সিরাজগঞ্জ-২ হাবিবে মিল্লাত, সিরাজগঞ্জ-৩, সিরাজগঞ্জ-৪ তানভীর ইমাম, সিরাজগঞ্জ-৫ আব্দুল মজিদ মন্ডল ও সিরাজগঞ্জ-৬ হাসিবুর রহমান স্বপন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ গোলাম রাব্বানী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ জিয়াউর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আব্দুল ওয়াদুদ বিশ্বাস। নরসিংদী-১ নজরুল ইসলাম, নরসিংদী-২ কামরুল আশরাফ খান, নরসিংদী-৩ সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, নরসিংদী-৪ নুরুল মজিদ হুমায়ুন ও নরসিংদী-৫ রাজি উদ্দীন আহমেদ রাজু তনয়। বি বাড়িয়া-১ এটিএম মনিরুজ্জামান সরকার, বিবাড়িয়া-২ বি বাড়িয়া-৩ উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী, বি বাড়িয়া-৪ ব্যারিস্টার আনিসুল হক, বি বাড়িয়া-৫, বি বাড়িয়া-৬ মহিউদ্দীন আহমেদ মহি। সিলেট-১ ডঃ আবুল মোমেন, সিলেট-২ শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট-৩ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস, সিলেট-৪ ইমরান আহমেদ, সিলেট-৫ মাশুক উদ্দীন, সিলেট-৬ নুরুল ইসলাম নাহিদ, হবিগঞ্জ-১ আমাতুল কিবরিয়া চৌধুরী কেয়া, হবিগঞ্জ-২ আব্দুল মজিদ খান, হবিগঞ্জ-৩ । সুনামগঞ্জ-১ মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, সুনামগঞ্জ-২ জয়া সেন গুপ্তা, সুনামগঞ্জ-৩ আজিজ উস সামাদ ডন, সুনামগঞ্জ-৪ পীর ফজলুর রহমান, সুনামগঞ্জ-৫ মহিবুর রহমান মানিক। মৌলভীবাজার-১ আব্দুল মতিন, মৌলভীবাজার-২, মৌলভীবাজার-৩, মৌলভীবাজার-৪ উপাধ্য আব্দুস শহীদ। বরিশাল-১ আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ, বরিশাল- ২ গোলাম ফারুক, বরিশাল-৩ অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন , বরিশাল-৪ পঙ্কজ দেবনাথ, বরিশাল-৫ জেবুন্নেছা হিরন , বরিশাল-৬ তালুকদার মো,ইউনুস । পটুয়াখালী-১ শাজাহান মিয়া, পটুয়াখালী-২ আসম ফিরোজ,পটুয়াখালী-৩ আখম জাহাঙ্গীর হোসাইন, পটুয়াখালী-৪ মাহবুবুর রহমান তালুকদার। বরগুণা-১ ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, বরগুনা-২ শওকত হাছানুর রহমান। ঝালকাঠি-১ মনিরুজ্জামান মনির, ঝালকাঠি-২ আমির হোসেন আমু। ভোলা-১ তোফায়েল আহমেদ, ভোলা-২ আলী আজম মুকুল, ভোলা-৩ নুরুন্ববী চৌধুরী শাওন ও ভোলা-৪ আব্দুল্লাহ আল জ্যাকব। পিরোজপুর-১ অ্যাডঃ রেজাউল করিম, ও পিরোজপুর-৩ ইসহাক আলী খান পান্না। শেরপুর-১ আতিয়ার রহমান আতিক, শেরপুর-২ বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেরপুর-৩ ফজলুল হক। যশোর-১ শেখ আফিল উদ্দীন, যশোর-২ মনিরুল ইসলাম, যশোর-৩ কাজী নাবিল আহমেদ, যশোর-৪, যশোর-৫ স্বপন ভট্টাচার্য, যশোর-৬। খুলনা-১ পঞ্চানন বিশ্বাস, খুলনা-২ মিজানুর রহমান, খুলনা-৩ মন্নুজান সুফিয়ান, খুলনা-৪ মোস্তফা রশিদী সূজা, খুলনা-৫ নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। সাতক্ষীরা-১ সাতক্ষীরা-২ মীর মোশতাক আহমেদ রবি, সাতক্ষীরা-৩ অধ্যাপক ডাঃ তআফম রুহুল হক, সাতক্ষীরা-৪ এসএম জগলুল হায়দার। মাগুরা-১ মাগুরা-২ বীরেন শিকদার। নড়াইল-১ কবিরুল হক মুক্তি, নড়াইল-২ শেখ হাসিনা। বাগেরহাট-১ শেখ হেলাল উদ্দীন, বাগেরহাট-২ বাগেরহাট-৩ তালুকদার আব্দুল খালেক বাগেরহাট-৪ ডাঃ মোজ্জামেল হোসেন।


জয় বাংলা এবং আওয়ামী লীগ

সিরাজুল আলম খান :জয় বাংলা এমন একটি স্লোগান যা বাংলাদেশের সশস্ত্র যুদ্ধের সময় জনগণকে তাঁদের স্বাধীনতার লক্ষ্যে প্রবল উদ্দীপক ও তেজোদীপ্ত করেছিলো। এর আগে বাঙালি আর কখনো এতো তীব্র, সংহত ও তাৎপর্যপূর্ণ স্লোগান দেয়নি, যার একটি পদেই প্রকাশ পেয়েছে রাজনীতি, দেশ, দেশপ্রেম, সংস্কৃতি, ভাষার সৌন্দর্য ও জাতীয় আবেগ। জয় বাংলা স্লোগান ছিলো সশস্ত্র যুদ্ধকালীন সময়ে বাঙালির প্রেরণার উৎস। যুদ্ধে সফল অপারেশন শেষে কিংবা যুদ্ধ জয়ের পর অবধারিতভাবে স্বাধীনতা সংগ্রামীরা চিৎকার করে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে চারপাশের জনগণকে বিজয়ের বার্তা পৌঁছে দিতো। কখন, কীভাবে কিংবা কী বিশেষ প্রয়োজনে এ জয় বাংলাস্লোগানটির উৎপত্তি হয়েছিলো, তার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরা হলো- সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৯। সেদিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের একটি সভা ছিলো। মধুর ক্যান্টিনের সে সভায় ১৭ মার্চ শিক্ষা দিবস যৌথভাবে পালনের জন্য কর্মসূচি প্রণয়ন নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা করছিলেন। সেদিন, সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদর আহূত সভায় আলোচনার এক পর্যায়ে তৎকালীন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে (তৎকালীন জিন্নাহ হল, যা বর্তমানে সূর্যসেন হল) প্রথম বর্ষের ছাত্র ও ছাত্রলীগ নেতা আফতাব উদ্দিন আহমেদ এবং দর্শন বিভাগে (ইকবাল হল, যা বর্তমানে সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ছাত্র ও ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক চিশতি শাহ হেলালুর রহমান (৭১ সালে শহীদ) জয় বাংলা স্লোগানটি উচ্চারণ করেন। সভা চলাকালীন সময়ে অনেকটা আকস্মিকভাবেই সকলকে চমকে দিয়ে চিৎকার করে জয় বাংলা স্লোগান দেন ছাত্রলীগ নেতা আফতাব উদ্দিন আহমেদ, পরক্ষণেই সেই স্লোগানের প্রত্যুত্তর দেন তৎকালীন ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক চিশতি শাহ হেলালুর রহমান। সঙ্গে সঙ্গেই আরো সাত-আটজন কর্মী প্রতিধ্বনি দিলো, জয় বাংলা। সেদিনের সেই সভায় আফতাব বেশ কয়েকবার জয় বাংলা স্লোগানটি দেন এবং শেষের দিকে উপস্থিত সংখ্যাগরিষ্ঠ কর্মীরাও এর প্রত্যুত্তর দেন। এরপর এভাবেই কিছুক্ষণ ওই স্লোগান চললো। বলা হয়ে থাকে সেটাই এ বাংলার বুকে জয় বাংলা স্লোগানের সর্বপ্রথম উচ্চারণ। আর এ দুই ছাত্রনেতাই ছিলেন নিউক্লিয়াস বা স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ-এর সদস্য। যদিও তার বেশ আগেই ১৯৬২ সালে গঠিত গোপন সংগঠন নিউক্লিয়াসর নেতৃবৃন্দ এবং ছাত্রলীগকর্মীরা যেকোনো আন্দোলনে স্বকীয়তা আর স্বাধীনতা প্রকাশ করার জন্য এবং আত্মপ্রত্যয় সৃষ্টির লক্ষ্যে জয় বাংলাকে প্রতীকী স্লোগান হিসেবে উচ্চারণ করতেন। এছাড়াও স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদতখন হাতে লেখা তিন পাতার একটি পত্রিকায় কয়েকটি সংখ্যা প্রকাশ করে যার নাম ছিলো জয় বাংলা। রবিবার, ১১/১৮ জানুয়ারি (তবে নিশ্চিতভাবে ১৮ জানুয়ারি-ই হবে), ১৯৭০। সেদিন, ঢাকা শহরের পল্টনে আওয়ামী লীগের জনসভায় সিরাজুল আলম খান সর্বপ্রথম জয় বাংলা স্লোগানটি উচ্চারণ করেছিলেন। স্লোগানটি ছিলো বাংলা শব্দ। জয়+বাংলা= জয় বাংলা অর্থাৎ বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষার জয়। বাংলার জয়ের কথা বলা হচ্ছে, তাই এ স্লোগান সকলের ভালো লেগেছিলো। সকলেই জয় বাংলা স্লোগানকে গভীর আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানেরও এ স্লোগান বেশ মনে ধরে। এরপর ৭০-এর ৭ জুন ঢাকার রেসকোর্স ময়দানের বিশাল এক জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার ভাষণে প্রথম যুক্ত করেন এ স্লোগানটি এবং উচ্চারণ করেন জয় বাংলা। আমাদের অস্তিত্বে জয় বাংলা শব্দের / স্লোগানের/ ধ্বনির ব্যবহার ও কার্যকারিতা আরো ব্যাপকভাবে বিস্তৃত। জয় বাংলা স্লোগানের উৎপত্তি এবং জাতীয় স্লোগানে পরিণত হবার রয়েছে এক ইতিহাস। সংক্ষেপে তা হলো- নিউক্লিয়াসর পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্লোগান নির্ধারণের জন্য তিনটি সেলকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো। এর মধ্যে একটি সেল জিয়ে সিন্ধ বা জিও সিন্ধ (জয় সিন্ধু)-এর মতো করে জয় বাংলা শব্দটি কাজে লাগানো যায় কি না সিরাজুল আলম খান এর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এ সেলটির মূল দায়িত্বে ছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আফতাব উদ্দীন আহমেদ (পরবর্তীতে ড. আফতাব আহমেদ)। সুবিধা মতো সময়ে জয় বাংলা স্লোগানের বিষয়টি নিউক্লিয়াস র বিবেচনায় আসে। নিউক্লিয়াসর সদস্যদের প্রত্যেকেরই ভেটো (Veto) দেয়ার সুযোগ ছিলো। এ ভেটো(Veto) প্রয়োগের কারণে প্রায় ৮-১০ দিন সময় লাগে জয় বাংলাকে অনুমোদন দানের ক্ষেত্রে। পাশাপাশি বলে দেয়া হয়েছিলো স্লোগানটিকে সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করার জন্য। যেন আর দশটা স্লোগানের মতো জয় বাংলাকে যত্রতত্র ব্যবহার না করা হয়। তুমি কে? আমি কে? বাঙালি-বাঙালি তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা-মেঘনা-যমুনা পি- না ঢাকা? ঢাকা-ঢাকা ছয় দফা-ছয় দফা, না হলে এক-দফা এগার দফা-এগার দফা, নাহলে এক-দফাবীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করোস্বাধীন করো স্বাধীন করো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো। এ স্লোগানগুলো নিউক্লিয়াস সেলর মাধ্যমে স্লোগান হিসেবে গ্রহণ করা হয়, যা পরবর্তীতে জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এসব কোনো সাধারণ স্লোগান নয়, যেন একেকটি ঐশী বাণী। স্বাধীনতাকামী বাঙালির প্রাণের স্পন্দন স্বাধীনতার বীজমন্ত্র মুক্তি ও বিজয়ের মূলমন্ত্র সশস্ত্র যুদ্ধের অনুপ্রেরণা এবং এগারোশো বছরের পরাধীনতার শেকল ভেঙে বাঙালির কাক্সিক্ষত স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের এক শক্তিশালী অস্ত্র। জয় বাংলা স্লোগানের বিষয়ে ছাত্রলীগের দুয়েকজন এবং আওয়ামী লীগের সবাই (বঙ্গবন্ধু ছাড়া) ঘোর আপত্তি করতো। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটিতেও জয় বাংলার বিষয়ে আলাপ আলোচনা হয় এবং তাঁরা জয় বাংলাকে নিয়ে ভারত ঘেঁষা রাজনীতি করা হচ্ছে এ যুক্তি তুলে ধরেন। শুধু কমিটিতেই নয়, আওয়ামী লীগ সভার সকলেই জয় বাংলার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন (তাজউদ্দিন আহমদ ছাড়া)। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের বৃহত্তর অংশই জয় বাংলা স্লোগানের সরাসরি বিরোধিতা করেন এবং তাঁরা এ স্লোগানের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর কাছে অভিযোগও করেন। //এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধুর সরাসরি উত্তর ছিলো, এ বিষয় নিয়ে তোমাদের মাথা ঘামাবার দরকার নেই। আওয়ামী লীগের বৃহত্তর অংশ এ আবদারমূলক রাজনীতির //প্রতি বঙ্গবন্ধুর কোনো রকম সমর্থন না পেয়ে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছিলো। তাঁরা জয় বাংলা স্লোগানকে ভারতের জয় হিন্দ ও সিন্ধুর জিয়ে সিন্ধ বা জিও সিন্ধ এর সঙ্গে মিশিয়ে এক ধরনের বিদ্রুপ করতো। আর সুযোগ পেলে জয় বাংলা স্লোগান দেয়া ছাত্রলীগ কর্মীদের ওপর চড়াও হতো। রবিবার, ৪ জানুয়ারি ১৯৭০। সেদিন, ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন প্রধান অতিথি। অনুষ্ঠানের শুরুতে জয় বাংলা স্লোগান দেয়া শুরু হলে দুয়েকজন আপত্তি করেন এবং এ স্লোগানটি বন্ধ করার জন্য সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অনুরোধ জানান। তা সত্ত্বেও জয় বাংলা স্লোগান বারবার উচ্চারিত হতে থাকে। সৈয়দ নজরুল ইসলাম তাঁর বক্তব্য প্রদানকালে জয় বাংলার পক্ষে বিপক্ষে অবস্থান পরিষ্কার করলেন না। বিষয়টি বুঝতে পেরে নিউক্লিয়াস নেতৃবৃন্দ চার-পাঁচজন মিলে একটি গ্রুপ হয়ে সন্ধ্যার পর থেকে শুরু করে রাত ১২/১টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের হল-হোস্টেলে জয় বাংলা স্লোগান দিতো। তখন রাতের অন্ধকারে হাতে লেখা পোস্টার লাগানো হতো ঢাকা শহরের প্রায় সর্বত্র (সে সময়কালে বৃহত্তর ঢাকার লোকসংখ্যা ছিলো দশ লাখের মতো, আজকের ঢাকা দিয়ে সেদিনের ঢাকাকে বোঝা একেবারেই অসম্ভব; বর্তমানে বৃহত্তর ঢাকার লোকসংখ্যা হলো দুই কোটি বিশ লাখ)। তখন ক্ষুদ্রাকার মিছিল করে জয় বাংলা স্লোগান দেয়া হতো। জয় বাংলা স্লোগানে মুখরিত মানুষ আন্দোলিত পুরো ঢাকা শহর। বিষয়টি বঙ্গবন্ধু পর্যন্ত পৌঁছানো হলো। তখন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি হিসেবে কে এম ওবায়দুর রহমানকে বঙ্গবন্ধুর কাছে পাঠানো হয়। কে এম ওবায়দুর রহমান বঙ্গবন্ধুর কাছে জয় বাংলাকে তুলে ধরেন গুরুতর আপত্তিমূলক স্লোগান হিসেবে। সিরাজুল আলম খান ওই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু তখন কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে পরবর্তীতে বিষয়টি সুরাহা করবেন বলে জানান। আসলে বিষয়টি ছিলো অত্যন্ত জটিল। তবে স্বাধীনতার প্রশ্নে জয় বাংলা স্লোগানের গুরুত্ব বিবেচনায় আসে। এ বিষয়ে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব নিউক্লিয়াসর পক্ষ থেকে সিরাজুল আলম খানকে দেয়া হয়। রবিবার, ১১/১৮ জানুয়ারি (তবে নিশ্চিতভাবে ১৮ জানুয়ারি-ই হবে), ১৯৭০। সেদিন, পল্টন ময়দানে আওয়ামী লীগের জনসভা হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ওই দিনটিতে কৌশলগতভাবে জয় বাংলা কে জনগণের কাছে প্রথমবারের মতো তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেয় নিউক্লিয়াস। গাজী গোলাম মোস্তফাকে (সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা শহর আওয়ামী লীগ) নিউক্লিয়াসর প্রতি পরোক্ষ একজন সহযোগী হিসেবে অতি নিপুণভাবে গড়ে তোলা হয়েছিলো। সভা উপলক্ষে পল্টনে আওয়ামী লীগের অন্যসব জনসভার চাইতে পাঁচ ফুট উঁচু করে বিশেষভাবে মঞ্চ নির্মাণ করার জন্য গাজী গোলাম মোস্তফাকে অনুরোধ জানানো হয়। ১৯৬৪-৬৫ সালে ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন সৈয়দ মজহারুল হক বাকি। ছাত্র রাজনীতির পর তিনি বিজ্ঞাপনী নামে একটি বিজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে ছিলেন, যার অফিস ছিলো জিন্নাহ এভিনিউতে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ)। কামাল আহমেদ ছিলেন যশস্বী খ্যাতিসম্পন্ন একজন অংকন শিল্পী (বর্তমানে তিনি কানাডা প্রবাসী) তবে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না এবং একই বয়স না হলেও (কামাল আহমেদ ছিলেন সিরাজুল আলম খান-এর চেয়ে ৪-৫ বছরের বড়) সিরাজুল আলম খান-এর সঙ্গে তাঁর সখ্যা ছিলো। শিল্পী কামাল আহমেদকে আনা হলো বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানে। সে সময় রবিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছিলো। সৈয়দ মজহারুল হক বাকি ও কামাল আহমেদকে সিরাজুল আলম খান (দৈর্ঘে প্রায় ৪ ফুট লম্বা পাশে ১০ ফুট চওড়া) কাঠের উপরে জয় বাংলা শব্দটি লেখার জন্য বলেন। লেখার পর এ কাঠটিকে দুভাগে ভাগ করা হয়। তখন বেলা তিনটে, পাঁচটায় জনসভা শুরু হবে। সে সময়কালে শহর আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য পনর-বিশ জনের বেশি ছিলো না। বাকিরা সবাই খ্যাতিমান এডভোকেট আব্দুস সালাম খান (সম্পর্কে বঙ্গবন্ধুর মামা)-র নেতৃত্বাধীন ছয় দফার বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা পিডিএম (Peoples Democratic Movement-PDM)-এ চলে যায়। সে সময় থেকে শুরু করে পরবর্তী সকল জনসভায় এবং অন্যান্য সাংগঠনিক কাজে ব্যস্ত থাকতে হতো নিউক্লিয়াস সদস্যদের। তখনই নিউক্লিয়াসর রাজনৈতিক উইং হিসেবে বিএলএফ (BLF-Bangladesh Liberation Force) গঠন করা হয়। এসব সময়ে ঢাকা শহরের সব স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং তখনকার ঢাকা শহরের অন্তর্ভুক্ত ৪২টি ওয়ার্ডে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠনের পাশাপাশি বিএলএফ (BLF)-এর সদস্য সংখ্যা খুব দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পেতে থাকে। গোটা বাংলাদেশেও তখন একই অবস্থা। শুধুমাত্র ঢাকা শহরেই তখন বিএলএফর সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন (৩.৫০) হাজার। আর জেলা-থানা (বর্তমানে উপজেলা) পর্যায়ে আড়াই (২.৫) হাজার। এ সংখ্যা গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান এবং সশস্ত্র সংগ্রামকালে বৃদ্ধি পেয়ে সাত (৭) হাজারে উন্নীত হয়। জনসভাসমূহে লোক সমাগম, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব বিএলএফ (BLF)-র সদস্যদের উপর দেয়া হয়। মূল দায়িত্বে ছিলেন কাজী আরেফ এবং মনিরুল ইসলাম (মার্শাল মনি)। অন্যান্য জনসভার মতো কবিয়াল শফি আহমেদ এখানেও তাঁর জনপ্রিয় কবিগান প্রায় একঘণ্টা ব্যাপী গেয়ে শুনালেন। রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ১৯৭০। দিনটি ছিলো স্বাধীনতার লক্ষ্যে পৌঁছানোর এমন এক সন্ধিক্ষণ, যার দায়িত্ব বর্তিয়ে ছিলো নিউক্লিয়াসর পক্ষ থেকে সিরাজুল আলম খান-এর উপর। সাধারণত সিরাজুল আলম খান সরাসরি কোনো দায়িত্বে থাকতেন না। তিনি যেসব দায়িত্বে থাকতেন তা হলো, রণনীতি ও রণকৌশল প্রণয়ন এবং জটিল বিষয়ে ও ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত দানের ব্যাপারে। সে দিনের গুরুত্বের কারণেই সিরাজুল আলম খান-এর উপরে এ দায়িত্ব দেয়া হয়। বেলা তিনটের দিকে কাঠের দুই অংশের এক অংশ আগেই বেশ উঁচু করে নির্মাণ করা মঞ্চের মাঝামাঝি জায়গায় শামিয়ানায় আটকানো হার্ডবোর্ডের ওপর লাগিয়ে দেয়া হয়। বাকি অংশ লাগানো হয় পাশাপাশি করে জনসভা শুরু হওয়ার দশ-পনেরো (১০-১৫) মিনিট আগে। জয় বাংলা লেখাটি রঙতুলিতে মাস্টারপিস (masterpiece) হিসেবে কাঠের খণ্ডে লিখেছিলেন শিল্পী কামাল আহমেদ। বেলা চারটে নাগাদ জনসভায় আগত মানুষের দ্বারা পল্টন ময়দানের আউটার স্টেডিয়াম ছিলো কানায় কানায় ভরপুর। যেসব খুঁটিতে মাইক হর্ণ (সরশব যড়ৎহ) লাগানো হয়েছিলো, প্রত্যেকটি খুঁটির গোড়ায় দুজন করে বিএলএফ (BLF) সদস্য ছিলেন। আর তাঁদের হাতে দেয়া হয়েছিলো একটি চিরকুট। নির্দেশ ছিলো সিরাজুল আলম খান যখন মঞ্চ থেকে স্লোগান দেবেন সে মুহূর্তে এ চিরকুট খোলা হবে। প্রায় ১০০টি মাইক হর্ণ লাগানো বাঁশের খুঁটির গোড়ায় ছাড়াও গোটা পল্টনের বিশেষ বিশেষ জায়গায়ও বিএলএফ(BLF) সদস্যদের দায়িত্ব ভাগ করে দেয়া হয়েছিলো। নিচে, মঞ্চের সামনে, পিছনে এবং চারপাশে বিএলএফ(BLF) সদস্যরা বিশেষ নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। সেদিন, আওয়ামী লীগের জনসভায় পুরো পল্টন জুড়ে ছিলো প্রচুর জনসমাগম। একমাত্র মসজিদটি ছাড়া তখনকার আউটার স্টেডিয়ামে আর কোনো স্থাপনা ছিলো না। পেছনে ডিআইটির দিকে বাস্কেটবল খেলার জন্য ছোটো ছোটো কাঠের গ্যালারির (স্টেডিয়াম) মতো কয়েকটি স্থাপনা ছিলো মাত্র। সেসময় পল্টন ময়দানে এক লক্ষের মতো লোকসমাগম হতে পারতো। তেমনই লোকে লোকারণ্য অবস্থায় ১৯৭০ সালের ১৮ জানুয়ারির জনসমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। সে মুহূর্তে ঢাকা শহরের লাখো মানুষের জনস্রোত যেন মিশে গিয়েছিলো পল্টন ময়দান (আউটার স্টেডিয়াম)। সভার বক্তৃতা মঞ্চটি ছিলো বিশেষভাবে নির্মিত বেশ কিছুটা উঁচু। মঞ্চের শামিয়ানায় আটকানো হার্ডবোর্ডের ওপর লাগানো কাঠের খণ্ডে উজ্জ্বল লাল রঙের দুটি শব্দ জয় বাংলা জ্বল জ্বল করছিলো। বেশ কিছুটা উঁচু করে মঞ্চ তৈরি করার কারণে দর্শকরা দূর থেকেও তা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলেন। সভার শুরুতে তাজউদ্দীন আহমদ বক্তব্য রাখলেন। সভাপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু। মঞ্চে উপবিষ্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, খন্দকার মোশতাক আহমেদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও গাজী গোলাম মোস্তফা ছাড়া আর কোনো আওয়ামী লীগ নেতা ছিলেন না। তবে আওয়ামী লীগ করতেন না কিন্তু তৎকালীন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের প্রধান কাজে সদা ব্যস্ত থাকতেন এমন একজন ব্যক্তির সেই মঞ্চে উপস্থিতি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। আর সেই ব্যক্তিটি ছিলেন সিরাজুল আলম খান। গাজী গোলাম মোস্তফার উপর একটি দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো, যেভাবে হোক বঙ্গবন্ধুকে স্লোগান দেয়ার জন্য সিরাজুল আলম খানকে অনুরোধ করা। তাজউদ্দীন আহমদের বক্তব্যের পর বঙ্গবন্ধু মঞ্চে বসা অবস্থায় বললেন, সিরাজ স্লোগান দে। কথাটি বঙ্গবন্ধু দুবার বললেন। সিরাজুল আলম খানও এ মুহূর্তটির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। যেনো অনেকটা যাদু দেখানোর মতো ভঙ্গিতে সিরাজুল আলম খান মাইকের সামনে এলেন। এসে অত্যন্ত আবেগ মিশ্রিত বলিষ্ঠ কণ্ঠে বললেন, আজকের এ দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে বাংলাদেশের জন্য। প্রিয় ভাই-বোনেরা আপনারা দেখছেন ওই উপরে জ্বল জ্বল করছে দুটি শব্দ জয় বাংলা। আসুন, সাত কোটি মানুষের পক্ষ হয়ে আমরা সকলকে জানিয়ে দিতে চাই, বাঙালি আমাদের পরিচয়। আসুন, যার কণ্ঠে যতো জোর আছে সবটুকু দিয়ে আমরা একই সঙ্গে বলে উঠি, জয় বাংলা। আজ থেকে জয় বাংলাকে আমাদের ভবিষ্যৎ আন্দোলনের স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করা হবে। আসুন, আমরা সবাই কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে আওয়াজ তুলি জয় বাংলা। তিনি আবারো বললেন, জয় বাংলা। তখন লক্ষ কণ্ঠের সমস্বরে আকাশ থেকে বাজ পড়ার মতো কানফাটা আওয়াজে জয় বাংলা স্লোগানের ধ্বনি পল্টনকে মুখরিত করে তোলে। প্রত্যেক খুঁটির গোড়ায় চিরকুট ইতিমধ্যে খোলা হয়ে গেছে। নির্দেশ ছিলো জয় বাংলাকে প্রতিধ্বনিত করে জয় বাংলা বলা। পল্টনেই শুধু নয়, ফিরে যাবার মুহূর্তেও সকলের মুখে মুখে ধ্বনিত হচ্ছিলো জয় বাংলা! আত্মপ্রত্যয়ের এক শব্দ জয় বাংলা বাঙালি জাতির পরিচয়ের এক শব্দ জয় বাংলা যেনো একটি ব্যক্ত আবেগের শব্দ জয় বাংলা! সেই থেকে বাংলাদেশের জনগণ প্রথম জানালো তাদের আগামী দিনের স্লোগান জয় বাংলা। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, নিউক্লিয়াস (স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ)-এর সিদ্ধান্ত অনুসারে আনুষ্ঠানিকভাবে এটাই প্রথম জনসম্মুখে জয় বাংলা স্লোগানের উদ্বোধন। তাজউদ্দীন আহমদের পর একে একে বক্তৃতা দিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, খন্দকার মোশতাক আহমেদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী। সভাপতি হিসেবে এবার বক্তব্য দিবেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাও ঘোষণা করলেন সিরাজুল আলম খান। আবারো সিরাজুল আলম খান মাইকের সামনে গেলেন। ঘোষণা দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে বক্তব্য দেয়ার জন্য আহ্বান জানালেন। এ সিরাজুল আলম খান যেন অতি পরিচিত সিরাজুল আলম খান নয়। নতুন পরিচিতি। নতুন অভিব্যক্তি। নতুন প্রকাশভঙ্গি। নতুন প্রাণশক্তি। নতুন রাজনীতির সূর্যোদয়ের আহ্বান। সিরাজুল আলম খান বঙ্গবন্ধুকে বক্তব্য দেবার আহ্বানের সময় জয় বাংলা ধ্বনি দিলেন। আবারো দিলেন, তখন সভা থেকে লক্ষ কন্ঠের প্রতিধ্বনি অনুরণিত হয়ে আকাশে গর্জনের মতো শোনা গেল। গর্জনের শব্দের তীব্রতা মুহুর্মুহু প্রতিধ্বনি হলো। সে গর্জন শেষ বিকেলের শীতল বাতাস বয়ে নিয়ে গেল গোটা ঢাকা শহরে। লক্ষাধিক বাঙালির বাঁধভাঙ্গা আবেগ আর প্রত্যাশায় এ যেনো এক নবজাগরণের ইঙ্গিত। বঙ্গবন্ধু বক্তৃতা করছেন সে সুযোগে মঞ্চে বসা খন্দকার মোশতাক আহমেদ সিরাজুল আলম খানকে কাছে ডেকে নিয়ে বললেন, ভাইডি কামডা সাইরে দিসো। তুমি বলেই পারলা। আর কেউ পারতো না! জানো সিরাজ, পৃথিবীর ইতিহাসে আর একজন মানুষ রাশিয়া বিপ্লবের স্লোগান হিসেবে দিয়েছিলো, জমি, রুটি, স্বাধীনতা! জানো সে লোকটা ক্যাডা? লেনিন, লেনিন। ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতা শেষ। জনসভার লক্ষাধিক মানুষের কণ্ঠে একই শব্দ এবং আওয়াজ জয় বাংলা। মনে হচ্ছিলো সারা ঢাকা যেন নতুনভাবে জেগেছে। পাখির ডাকে নয়, গগণবিদারী গর্জনের শব্দে। আর সে শব্দ হলো জয় বাংলা। জয় বাংলা কোনো দল বা ব্যক্তির স্লোগান নয়, এ স্লোগান ছিলো বাঙালির আত্মপরিচয়ের স্লোগান, স্বাধীনতাকামী জনগণের ঐক্যের স্লোগান, অর্জিত সাহসের স্লোগান, শত্রুমুক্ত করে স্বাধীন সার্বভৌমত্ব অর্জনের স্লোগান। জয় বাংলা শুধু একটি স্লোগান নয়, একটি ইতিহাস সংগ্রাম আর ভবিষ্যতের নাম। এ স্লোগান ৭১-এ বাঙালি জাতিকে করেছিলো ঐক্যবদ্ধ আর সশস্ত্র যুদ্ধকে করেছিলো ত্বরান্বিত। এ স্লোগান কণ্ঠে নিয়ে বাঙালিরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো সশস্ত্র সংগ্রামে। রণাঙ্গনে বুলেটের চেয়েও শক্তিশালী ছিলো এ জয় বাংলা। এগারশবছর ধরে যে বাঙালিদের নিরস্ত্র করে রাখা হয়েছিলো স্বাধীনতা সংগ্রামের শেষ পর্যায়ে সে বাঙালিদের হাতে রাইফেল তুলে নেয়ার জন্যও জয় বাংলাস্লোগান ছিলো বীজমন্ত্র। এ বীজমন্ত্রই প্রতিটি সশস্ত্র যোদ্ধা এবং জনগণকে বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো-স্লোগানের মাধ্যমে উজ্জীবিত করেছিলো। জয় বাংলা মানে- সে সকল মানুষের জয়, যারা এ বাংলার মাটি ও মানুষকে শোষণ-নির্যাতন থেকে মুক্ত করার প্রত্যয়ে যুগে যুগে লড়াই করে হটিয়ে দিয়েছে- সেন, আর্য, সুলতান, মুঘল, পাঠান, মারাঠি, পর্তুগিজ, দিনেমার, ওলন্দাজ, ফিরিঙ্গি, বর্গি, ইংরেজ, নীলকর, কাবুলিওয়ালা, জমিদার-জোতদার, পাকিস্তানিসহ বিদেশি পরাশক্তিকে। আর বুঝিয়ে দিয়েছে জয় বাংলা শুধু সাধারণ একটি স্লোগান নয়, জয় বাংলা বাঙালির মটো (motto)। আন্দোলন-সংগ্রাম এমন কি সশস্ত্র যুদ্ধের কোথাও কোনোদিন বাঙালিরা বলেননি বাংলাদেশ জিন্দাবাদ কিংবা বাংলাদেশ চিরজীবী হোক। সময়ের ব্যবধানে সে জয় বাংলা আজ ষোল-সতের (১৬/১৭) কোটি মানুষের প্রিয় স্লোগান/ধ্বনি। বঙ্গবন্ধু তাঁর ৭ মার্চের ভাষণে জয় বাংলা স্লোগান দিয়েই বক্তব্য শেষ করেছিলেন। আজকাল দুয়েকজন আহাম্মক অতি পা-িত্য জাহির করার মধ্য দিয়ে বাঙালি বিরোধী কিছু কথা বলার চেষ্টা করছেন। তা হলো-বঙ্গবন্ধু নাকি জয় বাংলা বলার পর জয় পাকিস্তান উচ্চারণ করেছিলেন। এরা পঞ্চম বাহিনীর লোক (5th columnist) লোক। এরা পাকিস্তান থাকতে পাকিস্তানিদের দালালি করতো। মার্চ মাসের আগের দিন পর্যন্ত এরা পাকিস্তানি হয়েই কাজ করতো। সর্বশেষ না পেরে এরা বাঙালি বন্ধু হয়ে উঠেন। ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধু কেন জয় পাকিস্তান শব্দ উচ্চারণ করবেন? ওই সময় গোটা আন্দোলন ছিলো নিউক্লিয়াস-বিএলএফ-এর হাতে। এ নিউক্লিয়াস-বিএলএফ-এর মাধ্যমেই গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা হয়েছিলো। বঙ্গবন্ধু ছিলেন স্বাধীনতাকামী জনগণের নেতা। আহাম্মকরা তাদেরকে যতোই চতুর মনে করুন না কেনো, তারা আসলে সার্কাসের ভাঁড়। লেখক: তাত্ত্বিক, রাজনৈতিক গবেষক ও মুক্তিযুদ্ধকালীন নিউক্লিয়াস-এর সদস্য সূত্র: মানবজমিন

পাকিস্তানে যা হচ্ছে তা যেন বাংলাদেশে না হয়

তসলিমা নাসরিন :পাকিস্তানের দরিদ্র এবং দুর্ভাগা মানুষটির নাম আসিয়া নুরিন। আসিয়াকে আমি দুর্ভাগা বলছি কারণ কী অপরাধ তিনি করেছেন, তা বোঝার আগেই তাঁকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে আদালত। লাহোর হাই কোর্ট সেই মৃত্যুদন্ডাদেশ যদিও স্থগিত করেছিল, চার বছর জেলের ভিতর বন্দীজীবন কাটিয়েছেন আসিয়া। চার বছর পর সুপ্রিম কোর্ট তাঁর মৃত্যুদন্ড বাতিল করেছে। তাঁকে মুক্তি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট, কিন্তু জেলের বাইরে বেরোনোর সব পথ তাঁর বন্ধ। পাকিস্তানের বাইরে বেরোনোর দরজাও বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। বন্ধ করেছে, কট্টরপন্থিরা চেয়েছে বলে। আসিয়ার মুক্তির দাবিতে সরব সারা পৃথিবীর অসংখ্য মানবাধিকার সংগঠন। পোপ ষোড়শ বেনেডিক্ট এবং পোপ ফ্রান্সিস, পরপর দুই খ্রিস্টান ধর্মগুরু আসিয়ার মুক্তির জন্য পাকিস্তান সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। তাতে কোনও লাভ হয়নি। কারণ পাকিস্তানের ধর্মান্ধ জনগণ এবং জঙ্গি সংগঠনগুলো মৃত্যুদন্ড চায় আসিয়ার। পাকিস্তানের কোনও সরকারেরই এদের উপেক্ষা করার শক্তি নেই। ঘটনার শুরু ২০০৯ সালে। পাঞ্জাবের শিকরপুরা গ্রামে ফল তুলতে গিয়ে দুই প্রতিবেশী মহিলার সঙ্গে ঝগড়া বাধে আসিয়ার। ঝগড়াটা এক বালতি পানি নিয়ে। আসিয়া ওই বালতি থেকে এক কাপ পানি নিয়ে পান করেছিলেন। আসিয়া পান করেছেন বলে প্রতিবেশী মহিলারা পানি পান করবেন না। কারণ আসিয়া মুসলমান নয়, আসিয়া খ্রিস্টান। খ্রিস্টান যে পাত্র থেকে পানি পান করে, সেই পাত্র নোংরা হয়ে গেছে, সেই পানিও দূষিত হয়ে গেছে। সুতরাং সেই পাত্র থেকে সেই পানি আর যার পক্ষেই পান করা সম্ভব, মুসলমানের পক্ষে সম্ভব নয়। মুসলমান প্রতিবেশীরা এ কথা সাফ সাফ জানিয়ে দিলেন। আসিয়াকে তাঁরা ধর্মান্তরিত হতে বলেন। খ্রিস্টান থেকে মুসলমান হওয়ার জন্য রীতিমতো চাপ দেন। কিন্তু মুসলমান তো আসিয়া হনইনি, বরং ইসলামের নবী সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। আসিয়া বলেননি এ কথা, বলেছেন প্রতিবেশী মুসলমান মহিলারা। আসিয়া স্বীকার করেননি যে তিনি নবী সম্পর্কে আদৌ কিছু বলেছেন। বাদী দাবি করেছেন প্রতিবেশী মহিলারা আসিয়ার বাড়ি গিয়ে আসিয়াকে প্রচুর মারধর করার পর নাকি আসিয়া স্বীকার করেছেন তিনি নবীকে নিয়ে বলেছেন। গ্রামের একটি অশিক্ষিত মহিলা আসিয়া। খ্রিস্টান এই মহিলা নবী সম্পর্কে জানেনই বা কী, বলবেনই বা কী। অনুমান করা সহজ যে আহমদিয়া আর খ্রিস্টানদের যেমন আহমদিয়া আর খ্রিস্টান হওয়ার শাস্তি দেওয়া হয়, তেমনই আসিয়াকে দেওয়া হয়েছে। মূলত সুন্নি মুসলমান না হওয়ার শাস্তি। পাকিস্তানের শিয়াদের ওপরও সুন্নিদের নির্যাতনের কোনও শেষ নেই। ইসলাম অবমাননা করেছে এই দাবি করে বিধর্মীদের ফাঁসানো পাকিস্তানে নতুন ঘটনা নয়। কেউ কেউ এ কারণে পাকিস্তানে জীবন দিয়েছেন, কেউ কেউ জীবন বাঁচাতে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। আসিয়াকে বাঁচাতে চেয়েছিলেন বলে বা ব্লাসফেমি আইনের বিরুদ্ধে কিছু বলেছিলেন বলে খুন করা হয়েছিল সংখ্যালঘু মন্ত্রী শাহবাজ ভাট্টিকে। পাঞ্জাবের গভর্নর সালমান তাসিরকেও একই কারণে খুন করেছিলেন তাঁরই দেহরক্ষী মুমতাজ কাদরি। মুমতাজ কাদরির পক্ষে ছিল লক্ষ লক্ষ পাকিস্তানি। এমনকী হাই কোর্টের উকিলরাও গোলাপের পাপড়ি ছিটিয়ে মুমতাজ কাদরির প্রতি তাঁদের সমর্থন জানিয়েছিলেন। কাদরির পরে ফাঁসি হয়ে যায়। কিন্তু পাকিস্তানের ধর্মান্ধরা ফাঁসিকে ভয় পায় না। আসিয়াকে নাগালে পেলে তারা খুন করতে দ্বিধা করবে না। খুন করে ফাঁসিতে ঝুলতেও তাদের আপত্তি নেই। অল্প বয়স থেকেই ধর্মগুরুরা তাদের মগজে ঢুকিয়ে দিয়েছে যে ধর্মের সমালোচনা যে করবে, তাকে মেরে ফেলাই সাচ্চা মুসলমানের কাজ। শুধু তাই নয় মুসলমানের দেশে অমুসলিমদের কোনও ঠাঁই নেই, হয় তারা কলেমা পড়ে মুসলমান হবে, নয় তারা মরবে। আসিয়ার সে কারণে মুক্তি হলেও সত্যিকারের মুক্তি হয় না। সর্বোচ্চ আদালতের যে বিচারপতিরা আসিয়ার মৃত্যুদন্ড বাতিল করেছিলেন, তাঁদের জীবনের ওপর হুমকি এসেছে। আসিয়ার আইনজীবীও প্রাণ বাঁচানোর জন্য পাকিস্তান থেকে পালিয়েছেন। আসিয়াকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য ইউরোপের দেশগুলো চাইছে, কিন্তু আসিয়া কী করে পাকিস্তান ছাড়বেন! ছুরিতে শান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ফ্রাঙ্কেন্সটাইনের মন্সটার। ফ্রাঙ্কেন্সটাইনের মতো মন্সটার তৈরি করেছিল পাকিস্তান। মন্সটার এখন পাকিস্তানকে ছাড়ছে না। আসিয়ার মৃত্যুদ- বাতিল হয়ে যাওয়ার পর সারা পাকিস্তানকে অচল করে দিয়েছিল সেইসব মন্সটার। সে কারণে পাকিস্তান-সরকার ৫ দফা চুক্তি করেছে মন্সটার কট্টরপন্থিদের সঙ্গে। এই চুক্তিই পাকিস্তানকে আরও শত বছর পিছিয়ে দিল। আসিয়ার মৃত্যুদন্ড বাতিল হওয়ার পর পাকিস্তানের পাশে ছিল সভ্য দেশগুলো, ছিল মানবাধিকারে বিশ্বাস করা সভ্য মানুষ। অপশক্তির সঙ্গে আপসের কোনও প্রয়োজন পাকিস্তান সরকারের ছিল না। সর্বনাশকে সম্ভবত এভাবেই ডেকে নিয়ে আসা হয়। একাত্তরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বাঙালি স্বাধীনতাসংগ্রামীরা বাংলাদেশ নামে নতুন একটি দেশ জম্ম দিয়েছেন বটে, কিন্তু বাংলাদেশ নামে কোনও দেশ যারা চাননি, তাঁরা যেভাবে শুরু থেকে কট্টরপন্থিদের প্রশ্রয় দিয়েছেন, এক সময় স্বাধীনতাসংগ্রামীরাও সেভাবে প্রশ্রয় দিয়েছেন কট্টরপন্থিদের। পাকিস্তানের অনুকরণ করতে গিয়ে দেশের সংবিধান বদলে দিয়েছেন এক দল, রাষ্ট্রধর্ম নামে কোনও কিছুর অস্তিত্ব ছিল না, সেটিকে, বলা নেই কওয়া নেই, কোত্থেকে এনে, একেবারে ঢুকিয়ে দিয়েছেন সংবিধানে। আরেক দল সেই সংবিধান বদলাবেন প্রতিশ্রুতি দিয়েও বদলাননি। সেক্যুলার বাংলাদেশ তাই দেখতে শুনতে অনেকটা এখন পাকিস্তানের মতোই। পাকিস্তানে আছে ব্লাসফেমির জন্য মৃত্যুদন্ডের আইন, বাংলাদেশে সেটি আমদানির জন্য মৌলবাদীরা প্রায়ই রাস্তায় নেমে উম্মাাদের মতো আচরণ করে। কে জানে কখন আবার মৌলবাদীদের ভোট পাওয়ার আশায় কোন সরকার ব্লাসফেমির জন্য মৃত্যুদন্ড বৈধ করে দেয়। কে ভেবেছিল শেখ হাসিনার মতো প্রগতিশীল প্রধানমন্ত্রী একদিন হেফাজতে ইসলামের মতো ধর্মীয় কট্টরপন্থিদের ‘কওমি মাতা’ হয়ে যাবেন! হেফাজতে ইসলামের লোকেরা নারী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। আজ নিজেদের স্বার্থে তারা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে পথে নামছে না বটে, কিন্তু এক তুড়িতে সক্কলে নারী নেতৃত্বের পক্ষে চলে গেছে, এ ভাবাটা হাস্যকর। ভোটের জন্য এমন বিশাল এক জনসংখ্যাকে বাগে আনা চমৎকার এক রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে, কিন্তু আল্টিমেটলি এটি পাকিস্তানের পদাঙ্কই অনুসরণ করা। পাকিস্তানে যুগের পর যুগ সরকার আপস করেছে কট্টরপন্থি দলের সঙ্গে, রাজনৈতিক দলগুলোও জোট বেঁধেছে ওদের সঙ্গে। এই করে করে কট্টরপন্থিরা ফুলে ফেঁপে বড় হয়েছে, কট্টরপন্থিদের জঠর থেকে জম্ম নিয়েছে সন্ত্রাসী। ধর্মের নামে সন্ত্রাস করার লোক, মানুষ কোপানোর লোক পাকিস্তানে যেমন আছে, বাংলাদেশেও আছে। এভাবে চললে পাকিস্তানের চেয়ে মোটেও পিছিয়ে থাকবে না বাংলাদেশ। এভাবে আপস করে চললে একাত্তরে পাকিস্তানের সঙ্গে এক দেশ হয়ে না থাকার যে প্রখর যুক্তি ছিল, সেগুলো ক্রমেই হাস্যকর মনে হবে। পাকিস্তান পারতো কট্টরপন্থিদের সঙ্গে ৫ দফা আপসে না গিয়ে আসিয়াকে জেল থেকে বের করা, কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে রাখা, রাখা সম্ভব না হলে দেশের বাইরে যেতে দেওয়া। মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে সেটা হতে পারত বড় একটা চ্যালেঞ্জ। কিন্তু ইমরান খান সেটা করলেন না। না করে যে ভুলটা করেছেন, সেই ভুল কওমি ডিগ্রিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স ডিগ্রির সমতুল্য করে দিয়ে বাংলাদেশের শেখ হাসিনা করেছেন। কট্টরপন্থি দলের সংবর্ধনা গ্রহণ করে একই ভুল করেছেন। দেশের ভালো চাইলে কট্টরপন্থা নির্মূল করতে হয়, কট্টরপন্থার সঙ্গে হাত মেলাতে হয় না। আশা করি ইমরান খান এবং শেখ হাসিনা দুজনই নিজেদের ভুলত্রুটি শোধরাবেন, যেন সেই অপশক্তি যারা গণতন্ত্রে, নারী স্বাধীনতায়, মানবাধিকারে, মতপ্রকাশের অধিকারে বিশ্বাস করে না, তাদের হাতে দেশ চলে না যায়।লেখক : নির্বাসিত লেখিকা , সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

আজকের মোট পাঠক

32947

নিউজ একাত্তর ডট কম

সম্পাদক : মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী

নির্বাহী সম্পাদক : আহাম্মদ হোসেন ভুইয়া

একটি পপুলার মিডিয়া পাবলিকেশন এর প্রকাশনা | রেজি নং: চ-১২৪২৭/১৭

সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয় : ৪১৬/সি,খিলগাও ঢাকা। ফোন : ০৩১-২৭৭১১৮৮, ০১৮২৪২৪৫৫০৪, ০১৭৭৮৮৮৮৪৭২

চট্টগ্রাম কার্যালয় : ১৯/২০/২১ বি ৩য় তলা, হানিমুন টাওয়ার,পাহাড়তলী,চট্টগ্রাম।

ই-মেইল : [email protected], [email protected], কপিরাইট ©newsekattor.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত