কানাডায় গুলিতে নিহত ২-আহত ১৩

অনলাইন ডেস্ক: কানাডার টরন্টোতে গুলিতে দুইজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজন বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হয়েছেন। এছাড়া পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন হামলাকারীও। আহত হয়েছেন শিশুসহ অন্তত ১৩জন। খবর বিবিসির। রবিবার রাতে টরেন্টোর ড্যানফরথ এবং লোগান এভিয়েজ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। গোলাগুলির সময় ২৫টি গুলির শব্দ শোনা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। আহতদের অনেককে ঘটনাস্থলেই চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এছাড়া গুরুতর আহতদের নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এখন পর্যন্ত হামলার কোনো কারণ জানতে পারেনি পুলিশ। ইতোমধ্যে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। প্রত্যক্ষদর্শী জন অ্যারাল্ডাসন জানান, রাতের ওই সময় এলাকাটি জমজমাট ছিল। সবগুলো রেস্টুরেন্টই ছিল মানুষে পরিপূর্ণ। রাস্তাটির পাশে একটি ফোয়ারা থাকায় ওই এলাকায় মানুষ হাঁটাচলা করছিল। এ সময় হঠাৎ গুলিবর্ষণ শুরু হলে তারা সবাই ছোটাছুটি শুরু করেন। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে আহতদের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে অন্টারিওর মুখ্যমন্ত্রী ডাগ ফোর্ড ভুক্তভোগীদের সহায়তায় যারা এগিয়ে এসেছেন তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।...

জাপানে তাপদাহে ৩০ জনের মৃত্যু, সতর্কতা জারি

অনলাইন ডেস্ক: জাপানজুড়ে তীব্র তাপদাহের ফলে দু’সপ্তাহে দেশটিতে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাপদাহজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন হাজারো নাগরিক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কায় দেশজুড়ে সতর্কবার্তা জারি করেছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। স্থানীয় আবহাওয়া অধিদফতরের বরাত দিয়ে রবিবার (২২ জুলাই) আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানায়, এই সপ্তাহে জাপানের মধ্যাঞ্চলে তাপমাত্রা উঠে গেছে ৪০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত, যা গত পাঁচ বছরে দেশটিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। আর সাবেক রাজধানী কিয়োটো শহরে গত সাত দিনে টানা তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একনাগাড়ে এমন তীব্র তাপমাত্রা এর আগে ১৯ শতকের শুরুর দিকে দেখা গিয়েছিল জাপানে। দেশটির কর্মকর্তারা সাধারণ লোকজনকে হিটস্ট্রোক এড়ানোর জন্য পর্যাপ্ত পানি এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এলাকায় থাকার উপদেশ দিচ্ছেন। এদিকে ২০২০ সালে টোকিওতে অলিম্পিক গেমস অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তখনও এই রকম গরম অনুভূত হবে। এই রকম তাপমাত্রার পরিপ্রেক্ষিতে অলিম্পিক খেলা নিয়ে ভাবছেন দেশটির কর্মকর্তারা। অলিম্পিক পরিদর্শক দলের প্রধান জন কোটস গত সপ্তাহ টোকিওতে ছিলেন। তিনি বলেন, এই তাপমাত্রা হবে অলিম্পকিস সংগঠকদের জন্য একটা বড় রকমের চ্যালেঞ্জ। ওয়ান নিউজ বিডি...

মিসৌরির নৌকাডুবিতে নিহতদের ৯ জনই এক পরিবারের

অনলাইন ডেস্ক: ঝড়ের কবলে পড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে পর্যটকবাহী ছোট নৌকাডুবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭ জন হয়েছে। এর মধ্যে একই পরিবারের শিশুসহ নয়জন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) মিসৌরির একটি হ্রদে ধারণক্ষমতার বেশি ৩১ জন যাত্রী নিয়ে নৌকাটি ডুবে যায়। পরে ডুবুরি দল গিয়ে অভিযান চালিয়ে নিখোঁজদের উদ্ধার করে। মিসৌরি রাজ্য সরকার প্রধান মাইকেল পারসন বলেছেন, হ্রদে নৌকা ডুবে এ পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ওই নৌকার এক নারীর সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন, নিহতদের মধ্যে নয়জনই তার (নারীর) পরিবারের সদস্য। তবে সৌভাগ্যক্রমে দুইজন বেচেঁ যান। এদিকে, নৌকায় কারও জন্য কোনো লাইফ জ্যাকেট ছিল না বলে সরকার প্রধানের কাছে অভিযোগ করেছেন ওই নারী। নারী বলেন, নৌকা যখন ডুবে যাচ্ছে তখন চালক লাইফ জ্যাকেট দিতে পারবে না বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন। এছাড়া নৌকাটিতে তার ধারণ ক্ষমতা থেকে বেশি যাত্রী ওঠানো হয়েছিল। মিসৌরি হাইওয়ে চৌকি বলছে, দুর্ঘটনায় যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের বয়স এক থেকে ৭০ এর মধ্যে। এছাড়া যারা বেঁচে আছেন তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নৌকা চালকও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পর্যটন হ্রদে 'ডাক বোট' বা ছোট নৌকায় ওঠার শখ বেশি থাকে ভ্রমণপ্রিয়দের। আর তাতে মাঝে মাঝে ওভারলোড হয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে।...

ফ্লোরিডায় দুটি প্রশিক্ষণ বিমান মুখোমুখি সংঘর্ষে বিধ্বস্ত

অনলাইন ডেস্ক :যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের জলাভূমি এভারগ্লেইডসের মাঝ আকাশে দুটি প্রশিক্ষণ বিমান মুখোমুখি সংঘর্ষে বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে একজন ভারতীয়সহ চারজন মারা গেছেন বলে জানা গেছে। সেখানকার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর একটার দিকে বিধ্বস্তের ঘটনাটি ঘটে বলে জানা যায়। খবর সিএনএন। মায়ামি দেইদ পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিস্ফোরণের ঘটনা দেখে প্রত্যক্ষদর্শীরা জরুরি সেবা ৯১১ এ ফোন দেয়। সিএনএন অধিভূক্ত টিভি স্টেশন ডাব্লিউএসভিএন এক প্রতিবেদনে জানায়, বিধ্বস্ত হওয়া একটি বিমান থেকে দুইজন নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়। তৃতীয় লাশটি পাওয়া যায় দ্বিতীয় আরেকটি বিমান থেকে। দুর্ঘটনাটি মায়ামি এক্সিকিউটিভ এয়ারপোর্ট থেকে নয় মাইল পশ্চিমে ঘটে থাকে বলে এফএএ সূত্রে জানা যায়। বিমান দুইটি পাইপার পিএ-৩৪ এবং সেসনা ১৭২ এয়ারক্রাফট মডেলের ছিল। মায়ামি দেইদের পুলিশ ডিটেকটিভ আলভারো জাবালেটা বলেন, মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত খোঁজাখুজি চলছিল। গতকাল বুধবার নিখোঁজ আরও একজনের খোঁজে নতুন করে তল্লাশি শুরু হয়। তল্লাশি কাজ চলার ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই চতুর্থ লাশটিকে উদ্ধার করা হয়। নিহত চারজন মায়ামি এক্সিকিউটিভ এয়ারপোর্ট ভিত্তিক একটি ফ্লাইট স্কুলের শিক্ষার্থী ও প্রশিক্ষক। নিহতরা হলেন কার্লোস আলফ্রেডো জানেত্তি স্কারপাতি (২২), হোর্হে সানচেজ(২২), র‌্যালফ নাইট এবং নিশা সেজওয়াল(১৯)। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ফেডারেল এভিয়েশন এডমিনিস্ট্রেশন এবং ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডের এজেন্টরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছিলেন। তবে বিধ্বস্তের ঘটনাটির সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। চারজন নিহতের মধ্যে একজন লাইসেন্স প্রাপ্ত পাইলট ছিলেন না বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে কর্তৃপক্ষ মনে করছে, বিমান দুইটি সম্ভবত একটি প্রশিক্ষণ অনুশীলন পরিচালনা করছিল। প্রতিটি বিমানে একজন করে ছাত্র ও প্রশিক্ষক ছিলেন।...

পরশুরামে মাদকবিক্রেতাকে ২ বছরের কারাদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক: ফেনীর পরশুরাম উপজেলার বিলোনিয়া সীমান্ত এলাকায় রোববার ভোরে তালিকাভুক্ত মাদক বিক্রেতাদের আস্তানায় জেলা প্রশাসনের মাদক বিরোধী টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের নেতৃত্ব দেন ফেনী জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানা। মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স সূত্র জানায়, পরশুরামের উত্তর বাউরখুমার (বিলোনিয়া) চোরাকারবারির গোপন তালিকায় থাকা মো. মনিরের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় ৪শ গ্রাম গাঁজা।অভিযানের খবর পেয়ে পালিয়ে যান মো. মনির। তার বিরুদ্ধে পলাতক মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এছাড়া অভিযান পরিচালনা করা হয় উত্তর বাউরখুমা গ্রামের ইয়াবা বিক্রেতা আব্দুল মান্নানের (৪৫) বাড়িতে। এ সময় দশ পিস ইয়াবাসহ আব্দুল মান্নানকে হাতেনাতে আটক করা হয়। আদালত আব্দুল মান্নানকে ২ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে। আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে ৫টি মাদকের মামলা রয়েছে। পরিবর্তন ডটকম টাস্কফোর্স টিম হানা দেয় বিলোনিয়া সীমান্তবর্তী তালুক পাড়ার মাদক স্পটগুলোতে। এছাড়াও উত্তর বাউরখুমার তালিকাভুক্ত ইয়াবাবিক্রেতা দেলোয়ার হোসেনের আস্তানা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েয়ের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী শাহ আলম ছুট্টু ও আব্দুল জলিলের বাড়িতে। অভিযানের খবর পেয়ে তারা পালিয়ে যায়। অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক মো. টিপু সুলতান ও জেলা পুলিশ ও ব্যাটালিয়ান আনসারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ফেনী জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানা অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, মাদক নির্মূলে মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স এর অভিযান অব্যাহত থাকবে।...

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক: চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে পুকুরের পানিতে ডুবে আকিব পাটওয়ারী (৪) ও তানিশা আক্তার (৫) নামে মামাত-ফুফাত ভাইবোন মারা গেছে। রোববার দুপুর ১২টায় হাজীগঞ্জ উপজেলার বাড্ডা পাটওয়ারী বাড়ীতে এই ঘটনা ঘটে। নিহত আকিব ওই বাড়ীর মো. বরকত পাটওয়ারীর ছেলে এবং তানিশা আকিবের ফুফাত বোন, তার পিতার নাম দিদার আলম পাটওয়ারী। পারিবারিকভাবে জানা যায়, গত সোমবারে নিজ বাড়ী কচুয়া উপজেলার হাসিমপুর গ্রাম থেকে তানিশা মায়ের সাথে নানার বাড়ীতে বেড়াতে আসে। সকাল সাড়ে ১১টায় দিকে দুই শিশু বাড়ীর আঙিনায় খেলা করছিলো। এসময় সবার অগোচরে তারা বাড়ির পুকুরে পড়ে যায়। অনেক খোঁজখুঁজির পর বাড়ির পুকুর থেকে তাদের উদ্ধার করে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুলতানা রাজিয়া উভয় শিশুই মৃত বলে জানান। এ ঘটনায় পুরো এলাকা শোকের ছায়া নেমে আসে। পানিতে ডুবে দুই শিশু নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সফিকুর রহমান মীর।...

রাতভর পুকুর সেচে মিলল ২টি এলজি

অনলাইন ডেস্ক: চট্টগ্রামে রাতভর পুকুর সেচে ২টি এলজি ও এক রাউন্ড কার্তুজ পেয়েছে চট্টগ্রাম মহানগরের ডবলমুরিং থানা পুলিশ। শনিবার বিকেল চারটা থেকে তিনটি সেচ পাম্পের মাধ্যমে পুকুরের পানি অপসারণ করা হয়। এরপর রোববার ভোর সাড়ে তিনটার দিকে এসব অস্ত্র উদ্ধারের কথা জানায় পুলিশ। এর আগে শুক্রবার দিনগত রাতে নগরীর ডবলমুরিং থানার পুলিশ ধনিয়ালাপাড়ার ছোট মসজিদের পেছনের পুকুরপাড় থেকে ধারালো অস্ত্রসহ ১৮ জনকে আটক করে। ওই সময় তারা কিছু অস্ত্র পুকুরে ফেলে দিয়েছে— এমন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার বিকেল থেকে পুকুরের পানি অপসারণ শুরু হয়। সিএমপি ডবলমুরিং জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আশেকুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, রাত তিনটার দিকে পুকুরের পানি অপসারণের পর ২টি এলজি ও এক রাউন্ড কার্তুজ পাওয়া গেছে। সূ:পরিবর্তন ডট কম...

ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা নারী আটক টেকনাফে

অনলাইন ডেস্ক: টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে ক্রেতা সেজে ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ একজন রোহিঙ্গা নারীকে আটক করেছে টেকনাফ মডেল থানার পুলিশ। আটক সেতারা বেগম (২৭) টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের বি ব্লকের ১০০৬২ নম্বর শেডের ২ নম্বর কক্ষের বাসিন্দা আরিফ উল্লাহর স্ত্রী। শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শিবির থেকে তাকে আটক করা হয়। টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি রনজিত কুমার বড়ুয়া বলেন, গতকাল শনিবার বিকেলে থানা পুলিশের একটি দল ক্রেতা সেজে অভিযান চালায়। এ সময় ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ সেতারা বেগমকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।...

সবজির দাম বেশি চড়া

অনলাইন ডেস্ক :বাজারে সবজির দাম বেশি চড়া। তার সঙ্গে বাড়তি ডিমের দামও। ফলে নিম্নবিত্ত আয়ের মানুষদের জীবিকা নির্বাহে হিমশিম খেতে হচ্ছে। মূলত দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যার প্রভাব পড়েছে রাজধানীর সবজি বাজারে। বড় বাজারের তুলনায় ছোট বাজারে দাম বেশি বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, যেসব এলাকায় সবজি চাষ হয়, সেসব এলাকায় বন্যার কারণে সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। তাই বাজারে সবজির দাম বাড়তি। ক্রেতারা বলছেন, বন্যার দোহাই দিয়ে সবজির দাম বাড়িয়ে তুলছে বিক্রেতারা। ফলে জীবন বাঁচাতে যতটুকু বাজার করা দরকার ততটুকুই করছেন বেশির ভাগ মানুষ। শুক্রবার রাজধানীর কাঁঠালবাগান, কারওয়ান বাজার ও হাতিরপুল বাজারে গিয়ে বর্ষার হরেক রকম সবজি দেখা যায়। এসব সবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, বর্ষায় কাঁকরোল, ঝিঙে, চিচিঙ্গা, পটোল, ঢ্যাঁড়স, কচু মুখি, কচুর লতি, চালকুমড়া পাওয়া যাচ্ছে। কারওয়ান বাজারের খুচরা বাজার, হাতিরপুল ও কাঁঠালবাগান বাজারে ঝিঙা ও ধুন্দলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি, আর পটল ২৫ থেকে ৩০ টাকা, ঢেঁড়স ও করলার কেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, পেঁপে ২০ থেকে ২৫ টাকা, কাঁকরোল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকা, শসা ২৫ থেকে ৩০ টাকা, কচুর লতি ২০ থেকে ৪০ টাকা, কচুর ছড়া বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বেগুন ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। এছাড়া মরিচের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। প্রতি কেজি প্রকার ভেদে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবজির দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে কারওয়ান বাজারের এক সবজি বিক্রেতা বলেন, বাজারে মাল কম আসে, বন্যায় খেত ডুইবা গেছে। সরবরাহ বাড়লে দাম কমব। বাজার ঘুরে দেখা যায়, ডিমও বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। ডিম ভেদে প্রতি ডজনের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত। ব্রয়লার মুরগির ডিম প্রতি ডজন ৯৫ টাকায়, দেশি মুরগির ডিম ১৪০ টাকা এবং হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। মাছ ও মাংসের দাম বেশ চড়া। প্রতিকেজি মাংসে ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আর মাছ ভেদে বেড়েছে ২০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত। এ বাজারে গরুর মাংস প্রতিকেজি ৫২০ টাকা, খাসির মাংস ৮০০ টাকা, মুরগি ব্রয়লার ১৬০ টাকা, লেয়ার ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি রুই ২৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাঙাস ১৪০ থেকে ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৮০ টাকা, চিংড়ি ৬০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।...

মাদ্রাসা বোর্ডে পাসের হার বেড়েছে

অনলাইন ডেস্ক :মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় পাসের হার বেড়েছে। তবে জিপিএ-৫ কমেছে। মাদ্রাসা বোর্ডে পাসের হার ৭৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ। গতবার পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ২ শতাংশ। গতবারের চেয়ে বেড়েছে ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ২৪৪ জন শিক্ষার্থী। গতবার জিপিএ-৫ পয়েছিল ১ হাজার ৮১৫ জন। জিপিএ-৫ কমেছে ৫৭১টি। মাদ্রাসা বোর্ডে পরীক্ষার্থী দিয়েছিল ১ লাখ ১২৭ জন শিক্ষার্থী। পাস করেছে ৭৬ হাজার ৯৩২ জন ।এর আগে সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফল হস্তান্তর করা হয়। গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর হাতে ফলাফলের সারসংক্ষেপ তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এরপর দুপুর ১টায় সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সংবাদ সম্মেলনে ফল প্রকাশের ঘোষণা দেবেন। দুপুর দেড়টা থেকে পরীক্ষার্থীরা নিজেদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়াও শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট (http://www.educationboard.gov.bd) থেকে ফল জানতে পারবে। এছাড়া এসএমএস ও অনলাইনে ফল জানা যাবে। এবার পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৫৮ দিনে ফল প্রকাশ করা হচ্ছে। এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় গত ২ এপ্রিল। তত্ত্বীয় পরীক্ষা চলে ১৩ মে পর্যন্ত। আর ১৪ থেকে ২৩ মের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় ব্যবহারিক পরীক্ষা। সারা দেশে ১০টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার ১৩ লাখ ১১ হাজার ৪৫৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে সাধারণ আট বোর্ডে শিক্ষার্থী ছিল ১০ লাখ ৯২ হাজার ৬০৭ জন। মাদ্রাসা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ১২৭ জন। কারিগরি বোর্ডের অধীনে ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৫৪ পরীক্ষার্থী ছিল। যেভাবে জানা যাবে ফল আটটি সাধারণ বোর্ডের অধীনে এইচএসসির ফল জানাতে HSC লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৮ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফল জানিয়ে দেওয়া হবে। আলিমের ফল জানতে Alim লিখে স্পেস দিয়ে Mad স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৮ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফল পাওয়া যাবে। এছাড়া এইচএসসি ভোকেশনালের ফল জানতে HSC লিখে স্পেস দিয়ে Tec লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৮ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফল জানিয়ে দেওয়া হবে।...

আগামীকাল থেকে ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করা যাবে

অনলাইন ডেস্ক :মাদরাসা, কারিগরিসহ সব শিক্ষা বোর্ডের অধীন উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল আজ প্রকাশিত হয়েছে। পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৪। আগামীকাল শুক্রবার থেকে এইচএসসি ও সমমানের ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করা যাবে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমার সরকার জানিয়েছেন, আগামীকাল ২০ জুলাই থেকে এইচএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন শুরু হবে। আবেদনের সময় শেষ হবে ২৬ জুলাই বৃহস্পতিবার। ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে RSC লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে বিষয় কোড লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফি বাবদ কত টাকা কেটে নেওয়া হবে তা জানিয়ে একটি পিন নম্বর (পার্সোনাল আইডেন্টিফিকেশন নম্বর-PIN) দেওয়া হবে। আবেদনে সম্মত থাকলে RSC লিখে স্পেস দিয়ে YES লিখে স্পেস দিয়ে পিন নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে যোগাযোগের জন্য একটি মোবাইল নম্বর লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। প্রতিটি বিষয় ও প্রতি পত্রের জন্য দেড়শ টাকা হারে চার্জ কাটা হবে। যেসব বিষয়ের দুটি পত্র (প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র) রয়েছে যেসব বিষয়ের ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করলে দুটি পত্রের জন্য মোট ৩০০ টাকা ফি কাটা হবে। একই এসএমএসে একাধিক বিষয়ের আবেদন করা যাবে, এক্ষেত্রে বিষয় কোড পর্যায়ক্রমে ‘কমা’ দিয়ে লিখতে হবে। তবে ম্যানুয়েল কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না বলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।...

৯ বছর পর ক্যারিবীয় দ্বীপে জয় পেল বাংলাদেশ!

অনলাইন ডেস্ক: অবশেষে ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এলো বাংলাদেশ। টেস্ট সিরিজে ভরাডুবির পর ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই জয় পেল সফরকারীরা। তাদের দেয়া ২৮০ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ২৩১/৯ রান তুলতে সক্ষম হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৪৮ রানের জয়ে ৩ ম্যাচ সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। শুধু টেস্ট নয়, ক্যারিবীয় দ্বীপেও জয়ের খরা কাটালো বাংলাদেশ। টাইগাররা সবশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর করে ২০১৪ সালে। ওই সফরে একটি ম্যাচও জিততে পারেনি তারা। তবে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর। সেই সফরে ২-০তে টেস্ট সিরিজ জেতে বাংলাদেশ। আর ওয়ানডে সিরিজ ৩-০তে বগলদাবা করে টাইগাররা। শুধু ১টি টি-টোয়েন্টি হারে। তা অনুযায়ী, ৯ বছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজে জিতল তারা। আরো দুটি কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর স্মরণীয় হয়ে আছে। প্রথম টেস্টে পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায় তখনকার নিয়মিত অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার। ফলে সফর থেকে ছিটকে যান তিনি। তার অনুপস্থিতিতে দলের নেতৃত্ব পান সাকিব আল হাসান। সেটিই ছিল তার প্রথম অধিনায়কত্ব। এরপর যা হয়েছে তা তো ইতিহাস। শীর্ষনিউজ...

সাকিব-মোস্তাফিজের ব্যাপারে নমনীয় আকরাম

অনলাইন ডেস্ক: কথায় ও হাব-ভাবে বুঝিয়েই দিয়েছেন, সাকিব যে টেস্ট খেলতে অনাগ্রহী- তা তার জানা ছিল না। তবে ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটি প্রধান আকরাম খান পরিষ্কার বলেই ফেলেছেন, তিনি কোনভাবেই চান না যে সাকিব টেস্ট থেকে সরে দাঁড়াক। এ সম্পর্কে তার কথা, ‘এমনটা আসলে হওয়া উচিৎ না। আমার নিজের কাছে শুনেও ব্যাপারটি খারাপ লাগলো।’ এদিকে শুধু সাকিব ইস্যুই নয়, কাটার মাস্টার মোস্তাফিজের বিষয়েও বেশ নমনীয় আকরাম খান। মোস্তাফিজ এবার নিয়ে দ্বিতীয়বার আইপিএল খেলতে গিয়ে আহত হয়ে দেশে ফিরে এসেছেন এবং তারপর জাতীয় দলের পরবর্তী সিরিজ মিস করেছেন। এবার মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে খেলতে গিয়ে শেষ ম্যাচে পায়ের সামনের অংশে ব্যাথা পেয়ে দেরাদুনে আফগানিস্তানের সাথে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে পারেননি। তারপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অ্যান্টিগা ও জ্যামাইকায় দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজও মিস করেছেন। এই যে একাধিকবার ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট খেলতে গিয়ে ইনজুরি নিয়ে দেশে ফেরা এবং জাতীয় দলে খেলতে না পারা নিয়ে খোদ বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন মোস্তাফিজের ওপর চটেছেন এবং তাকে পরবর্তী দুই বছর ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট না খেলার কথা জানিয়েছেন। আগামী দুই বছর মোস্তাফিজকে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলার অনুমতি না দেয়ার কথা জানিয়েও দিয়েছেন; কিন্তু ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটি চেয়ারম্যান আকরাম খানের সুর এ বিষয়ে বেশ নরম। এ সম্পর্কে আকরামের কথা, ‘সব সময় নয়। সে মাত্র দুই বার বাইরে খেলতে গিয়ে ইনজুরিতে পড়েছে। ইনজুরি তো আর ইচ্ছাকৃতভাবে হয় না। ও কিন্তু আপ্রাণ চেষ্টা করছে নিজেকে ফিরে পেতে। শ্রীলঙ্কা এ দলের সাথে চার দিনের ম্যাচও খেলেছে। এবার যাচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজে। আমার কাছে মনে হয়, সে পুরোপুরি ফিট আছে বিধায় ম্যাচ খেলেছে এবং আগামীতে ভালো করবে বলে আশা করছি।’ এদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জাতীয় দলের টেস্টের পারফরমেন্স নিয়ে নির্বাচক ও ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটি চেয়ারম্যান এবং বোর্ডের কজন শীর্ষ কর্তা একান্তে বসেছিলেন। সেখানে কোন বড় সড় সিদ্ধান্ত না হলেও ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটি চেয়ারম্যান আকরাম খান অকপটে স্বীকার করেছেন, জাতীয় দলের খারাপ সময় কাটছে। টেস্টের পারফর্মেন্স ভালো হয়নি। তাই আমরা আলাপ আলোচনা করেছি। যেহেতু আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী ভালো করতে পারিনি, সেই কারণে আলোচনা হয়েছে।’ আকরাম মানছেন, ‘মাঝে-মধ্যে খারাপ পারফরমেন্স হতেই পারে। তবে যতটা খারাপ হয়েছে, এত খারাপ হবে সেটি চিন্তা করিনি। এখান থেকে কিভাবে আমরা বের হয়ে আসবো সেটি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সামনে আমাদের ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি আছে। সেগুলোতে আমরা কিভাবে ভালো করতে পারি তা নিয়েই আলাপ হচ্ছে।’ টেস্ট পারফরমেন্স নিয়ে অনেক কথার ভিড়ে প্রধান নির্বাচক আরও যোগ করেছেন, ‘যখনই খারাপ খেলবেন, তখনই আপনাকে নিয়ে কথা উঠবে। আর সত্যি কথা বলতে কি, লঙ্গার ভার্সনে অর্থাৎ টেস্টে ভালো করার ব্যাপারটি নির্ভর করে অনেকটা বোলারদের ওপর। যেহেতু প্রথম ইনিংসে আমরা ব্যাটিংয়ে অনেক খারাপ করেছি সুতরাং বোলিংয়ে ভালো করার দরকার ছিলো। এর আগে কিন্তু একটি দল হিসেবে আমরা টেস্টে ভালো খেলেছি। নিউজিল্যান্ড, ভারত, শ্রীলঙ্কা, শততম টেস্ট যেটি জিতেছি। তো এখন খারাপ সময় যাচ্ছে, তবে এত যে খারাপ সামনেও যাবে এমনটা না। ওয়ানডেতে আমরা মোটামুটি একটি ভালো অবস্থানে আছি। তবে আমাদের টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টিতে আরো উন্নতি করতে হবে।’ টেস্টে আলাদা দল গঠন নিয়েও কথা হচ্ছে। তবে আকরাম খান সে সম্ভাবন উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, ‘টেস্টে আলাদা দল গঠনের মতো অবস্থা আমাদের এখনো হয়নি। যেহেতু আমাদের অপশনটি অনেক কম। হিসেব করলে দেখবেন যে ৮০ ভাগ ক্রিকেটার কিন্তু তিন ফরম্যাটেই খেলছে। আপনার তো অপশনটি থাকতে হবে তাহলে আলাদা দল তৈরি করা যাবে।’ পেস বোলিং এ মুহূর্তে জাতীয় দলের অন্যতম দূর্বল জায়গা। তা মানতে দ্বিধা নেই আকরাম খানের। পেস বোলিংকে সমৃদ্ধ করার চেষ্টা চলছে। এই মুহূর্তে যারা জাতীয় দলে আছে এবং যাদেরকে আমরা দ্বিতীয় লিস্টে রেখেছি ওদের মধ্যে কিন্তু ছয়জন ইনজুরিতে। ব্যাপারটি হলো শুধু পারফর্মেন্স নয়, ফিটনেস নিয়েও কাজ করতে হবে ওদের। সেদিক দিয়ে অনেক গ্যাপ আছে। সে ক্ষেত্রে ব্যাডলাক। এরপরেও আমরা চেষ্টা করছি। এই বছরে আমাদের অনেকগুলো সফর হয়েছে। ‘এ’ দলের সফর আছে, হাইপারফর্মেন্সের সফর হবে শ্রীলঙ্কায়। আমার মনে হয় ফিটনেসটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আগের তুলনায় আমাদের ফাস্ট বোলারের লিস্টটা লম্বা হয়েছে, তবে ইনজুরি সমস্যা বেশি রয়েছে। ওয়ান নিউজ বিডি ...

সিক্রেট লাভ-প্যারিস প্রবাসী শিল্পীর

অনলাইন ডেস্ক: আন্তর্জাতিকভাবে প্রায় সব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ পেয়েছে প্যারিস প্রবাসী শিল্পী আরিফ রানার যন্ত্রসংগীত সিক্রেট লাভ। এটি তাঁর দ্বিতীয় যন্ত্রসংগীত। এ বিষয়ে শিল্পী আরিফ রানা বলেন,এটি আসলে প্যারকিউসিভ ফিঙ্গারস্টাইল গিটার টেকনিক। সঙ্গে ব্যবহৃত হয়েছে টোনউড অ্যাম্প, উইন্ড চাইমস, ঘুঙুর। এর ভিডিও ধারণ করা হয়েছে প্যারিসে মাল্টিডাইমেনশন স্টুডিওর একটি অংশে, সম্পূর্ণ আইফোনে ফোর কে সিক্সটিতে। আরিফ রানার প্রথম যন্ত্রসংগীত রেমিনিসেন্স বেরিয়েছিল ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ভাষা আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই তা তৈরি করেছিলেন রানা। সিক্রেট লাভ সংগীতটি যে কেউ ডাউনলোড করতে পারেন আই টিউনস, অ্যাপল মিউজিক, স্পটিফাই, আমাজন মিউজিক, গুগল প্লে, ডিজার, ই মিউজিক থেকে। এ ছাড়া শিল্পী আরিফ রানার নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলেও এটি পাওয়া যাবে। দীর্ঘদিন থেকে ফ্রান্সের প্যারিসে বসবাস করছেন কণ্ঠশিল্পী ও সংগীত পরিচালক আরিফ রানা। বাউল গানেও তিনি পারদর্শী। আরিফ রানা জানান, শুধু প্যারিস নয়, গোটা ইউরোপেই বিভিন্ন উৎসবে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের বাউল গানকে তিনি ক্রমশ ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে প্যারিসসহ ইউরোপের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের বাউল গানের পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা বাড়ছে। সম্প্রতি একটি ফরাসি ছবিতেও তাঁর গাওয়া একটি বাংলা গান ব্যবহার করা হয়েছে।...

আজ ঢাকায় আসছেন ঋতুপর্ণা

অনলাইন ডেস্ক: রোববার ঢাকা আসছেন টালিউডের জনপ্রিয় তারকা ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। প্রয়াত চিত্রনায়ক মান্নার প্রযোজনা সংস্থা কৃতাজ্ঞলী চলচ্চিত্র থেকে নির্মিতব্য নতুন ছবি জ্যাম এর মহরতে অংশ নেবেন তিনি। কাজ শেষে আগামী ২৪ জুলাই আবার কলকাতা ফিরে যাবেন ঋতুপর্ণা। ছবির মূল ভাবনা প্রয়াত আহমেদ জামান চৌধুরীর। কাহিনি বিন্যাস করেছেন নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুল ও শেলী মান্না। চিত্রনাট্য ও সংলাপ রচনা করছেন পান্থ শাহরিয়ার। এ ছবিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করবেন ঋতুপর্ণা বলে জানা গেছে। মূলত নায়ক মান্নার স্ত্রী শেলীর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কারণেই এ ছবিতে ঋতুপর্ণাকে কাস্ট করা হয়েছে। ছবিটি সম্পর্কে নির্মাতা নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুল জানান, আশা করছি আগামী অক্টোবরে জ্যাম ছবির কাজ শুরু করতে পারব। সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। এই চলচ্চিত্রে ঋতুপর্ণাকে একজন আইনজীবীর চরিত্রে দেখা যাবে। তবে তিনি এই চলচ্চিত্রের মূল নায়িকা নন। কিন্তু ঋতুপর্ণার চরিত্রটি জ্যামর গুরুত্বপূর্ণ অংশ অবশ্যই। আশা করছি আমাদের সঙ্গে ঋতুপর্ণার কাজ অনেক ভালোভাবেই হবে। ...

ঈদের ছুটিতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে

বর্ষা মৌসুম তারপরও ঈদের ছুটিতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ছুটে আসছেন পর্যটকরা। তাদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত কক্সবাজার। সৈকত শহরের ৪ শতাধিক হোটেল-মোটেল-গেষ্টহাউজ ও কটেজ কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতিও শেষ। আর পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশও। রমজানে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার পর্যটক শূন্য থাকলেও ঈদের ছুটিতে ভ্রমণ পিপাসুদের ঢল নামে এই সৈকতে। বর্ষা মৌসুম হওয়ায় প্রথমে পর্যটকের সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল কক্সবাজারে। তবে সব আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে এরই মধ্যে হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউস ও কটেজের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকড হয়ে গেছে। আর ব্যবসায়ীরাও নতুন সাজে সাজিয়েছেন তাদের প্রতিষ্ঠান। হোটেল কর্তৃপক্ষও পর্যটকদের নানান সুযোগ-সুবিধা দেয়াসহ শেষ করছে যাবতীয় প্রস্তুতি। তারা আশা , প্রতি বছরেই মতো এবারও ঈদের ছুটিতে ভালো ব্যবসা হবে। বর্ষা মৌসুম তাই সাগর উত্তাল থাকবে। এক্ষেত্রে অনাকাঙ্কিত দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যটকদের সমুদ্রে স্নান ও নিরাপত্তায় কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানালেন হোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের এ নেতা। কক্সবাজার হোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের মুখপাত্র মো. সাখাওয়াত হোসাইন জানান, 'সমুদ্র উত্তাল থাকবে। এখানে লাইফগার্ড ও পুলিশ ট্যুরিস্টদের তৎপরতাটা বৃদ্ধি করলে আমার মনে হয়, যারা কক্সবাজারে আসবেন তারা নিবিঘ্নে এখান থেকে ফিরতে পারবেন।' আর ট্যুরিস্ট পুলিশের এ কর্মকর্তা জানালেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটকরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে কক্সবাজার ভ্রমণ করতে পারে সেজন্য সব ধরণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।...

শংখ নদীতে ডুবে ২ পর্যটকের মৃত্যু:বান্দরবানে

বান্দরবানে বেড়াতে এসে গোসল করতে নেমে শংখ নদীতে ডুবে দুই পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুর ২টায় রুমা বাজার সংলগ্ন বড়ুয়া পাড়া ঘাটে এ ঘটনা ঘটে। রুমা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সামসুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, পানিতে ডুবে মারা যাওয়া শান্তনু সরকার (২৬) এবং জুনায়েদ আহসান জুয়েলের (২৪) মরদেহ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, শান্তনু সরকার ঢাকার ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সিএসই বিভাগের প্রভাষক এবং জুনায়েদ আহসান জুয়েল ঢাকা টেক্সটাইল ইউনিভার্সিটির ছাত্র। অন্য আরো দুই বন্ধুসহ তারা চার বন্ধু গত বৃহষ্পতিবার বান্দরবানের রুমা উপজেলায় বগালেক পর্যটন কেন্দ্রে থাকেন। শনিবার সেখান থেকে রুমা উপজেলা সদরে পৌঁছে ওই ৪ বন্ধু শংখ নদীর বড়ুয়া পাড়া ঘাটে নামে। এক পর্যায়ে তারা ডুবতে শুরু করলে দুইজন সাঁতরে তীরে আসতে পারলেও শান্তনুকে রক্ষা করতে গিয়ে জুনায়েদও পানিতে তলিয়ে যায়।...

টাইম ম্যাগাজিনের রিপোর্ট, রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা চালাতে আগেই প্রস্তুতি নিয়েছিল মিয়ানমার

অনলাইন ডেস্ক :রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা চালানোর জন্য আগে থেকেই ব্যাপকভিত্তিক এবং পদ্ধতিগত প্রস্তুতি ছিল মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের। এমন প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিল সর্বশেষ রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা চালানোর বেশ কয়েক মাস আগে থেকে। ব্যাংকক ভিত্তিক মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপ ফোরটিফাই রাইটসকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন টাইম ম্যাগাজিনের অনলাইন। এতে ক্যাসি কুয়াকেনবুশ লিখেছেন, বিশেষ এই রিপোর্টটি প্রকাশ করা হয়েছে বৃহস্পতিবার। এতে বলা হয়েছে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও গণহত্যা চালানো হয়েছে এমনটা বিশ্বাস করার যৌক্তিক কারণ রয়েছে। এই রিপোর্টে এসব অপকর্মে জড়িত থাকার জন্য মিয়ানমারের ২২ জন সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তা কমান্ডারের দায়িত্বে ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়। এমন অভিযোগের ফৌজদারী তদন্তের জন্য বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পাঠানোর জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ফোরটিফাই রাইটস। এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাথিউ স্মিত বলেছেন, গণহত্যা স্বত্বঃস্ফূর্তভাবে ঘটে নি। এসব অপরাধে দায়মুক্তি দেয়ায় ভবিষ্যতে আরো ভয়াবহ আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটবে এবং হামলা হবে। এ অবস্থায় বিশ্ব অলস হয়ে বসে থাকতে পারে না এবং প্রত্যক্ষ করতে পারে না যে, আরেকটা গণহত্যা ঘটুক। কিন্তু এই মুহূর্তে আসলেই তা ঘটছে। রোহিঙ্গারা হলেন মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলে রাখাইন রাজ্যে বসবাসকারী মুসলিম সংখ্যালঘু। তারা নির্যাতিত ও তাদের কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই। আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (আরসা) গত ২৫ মে আগস্ট নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের ওপর হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন নিরাপত্তা রক্ষী নিহত হন। এরপরই রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংস প্রতিশোধ নেয়া শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। গণহত্যা, গণধর্ষণ, অগ্নিসংযোগের মতো বর্বরতা বেছে নেয় তারা। এতে বাধ্য হয়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাধ্য হয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেন। ফোরটিফাই রাইটস বলছে, এসব রোহিঙ্গাদের ওপর এমন নৃশংসতা শুধু আরসার হামলার জবাব নয়। এটা হলো তাদেরকে দেশ থেকে বের করে দেয়ার একটি কৌশল। এমন কৌশল তারা আগেই নির্ধারণ করে রেখেছিল। আগস্টে আরসা যে হামলা চালিয়েছিল সেটা ছিল এমন দ্বিতীয় হামলা। এ গ্রুপটি প্রথম হামলা চালিয়েছিল ২০১৬ সালের অক্টোবরে। তার জবাবে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী নৃশংসতা চালায়। তারা ধর্ষণ করে। বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড চালায়। এতে হাজার হাজার রোহিঙ্গা পালাতে বাধ্য হয়। ফোরটিফাই রাইটস বলছে, ২০১৬ সালের অক্টোবরে যে নৃশংসতা চালানো হয়েছে সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এতে মিয়ানমারের নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা আরো শক্তিশালী হয়েছে। তাই তারা আরসার দ্বিতীয় আরেকটি হামলার জন্য অপেক্ষা করছিল। এ জন্য তারা আগে থেকে অনেক প্রস্তুতি নিয়েছিল। যার মধ্যে রয়েছে রোহিঙ্গা নন এমন স্থানীয় সম্প্রদায়কে প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র দেয়া, রোহিঙ্গাদের বাড়িঘরে যাওয়ার ক্ষেত্রে যেসব প্রতিবন্ধকতা ছিল তা ভেঙে ফেলা, ইচ্ছাকৃতভাবে রোহিঙ্গাদের খাদ ও জীবন রক্ষাকারী জিনিসপত্র থেকে বঞ্চিত রাখা। যাতে তাদেরকে দুর্বল করে দেয়া যায়। তাদের ওপর হামলা জোরালো করা যায়। তাছাড়া অপ্রয়োজনীয়ভাবে উচ্চ হারে নিরাপত্তা রক্ষাকারী মোতায়েন করা হয় রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে। ফোরটিফাই রাইটস বলছে, এসব প্রস্তুতি দেখে বোঝা যায় এগুলো করা হয়েছিল গণহত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটিত করার জন্য। এতে আরো বলা হয়, ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে যখন হামলা শুরু হয় তাতে জড়িত ছিল মিয়ানমারের কমপক্ষে ২৭ আর্মি ব্যাটালিয়ান। এতে সেনা সদস্য ছিল ১১০০০। তার সঙ্গে ছিল কমপক্ষে তিনটি কমব্যাট পুলিশ ব্যাটালিয়ন। ওই রিপোর্টে ২২ জন সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তাকে এসব নৃশংসতার জন্য দায়ী করা হয়। বলা হয়, তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী তদন্ত করে বিচার করা উচিত। এই তালিকায় রয়েছেন কমান্ডার ইন চিফ সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইয়, ডেপুটি কমান্ডার ইন চিফ ভাইস সিনিয়র জেনারেল সোয়ে উউন, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ জেনারেল মাইয়া তুন ও। উল্লেখ্য, গত মাসে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একই রকম অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে মিয়ানমারের ১৩ জন সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তাকে সনাক্ত করে। মানবজমিন...

মুজিবরকে বাঁচাতেই ৯৩০০০ পাক বন্দিকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন ইন্দিরা

অনলাইন ডেস্ক :১৯৭২-এর ২রা আগস্ট। ঠিক আট মাস আগেই শেষ হয়েছে ১৩ দিনের ভারত-পাক যুদ্ধ। এদিন দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় সিমলা চুক্তি। এর ফলে ভারত ৯৩০০০ পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দিকে ফিরিয়ে দিতে রাজি হয়। ৭১-এর যুদ্ধ চলাকালীন এদের বন্দি করা হয়েছিল ভারতে। এটা ছিল ভারতের অত্যন্ত বিতর্কিত একটি সিদ্ধান্ত। কেন এই সময় ওই বন্দিদের হাতের তাস করে কাশ্মীর নিয়ে দরাদরি করেননি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী? হয়তো মিটে যেত সমস্যা! কিসের জন্য পাক বন্দিদের ছেড়ে দিতে রাজি হয়ে যান ইন্দিরা? এর পিছনে আসল গল্প কি ছিল? সেটা জানলে হয়তো বিতর্কের সমাধান হতো। কিন্তু সেই গল্প রয়ে গিয়েছিল গোপনেই। কোনোদিন তা প্রকাশ্যে আনা হয়নি। ৪০ বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গিয়েছে সেই যুদ্ধের। সেদিন কেন পাক বন্দিদের ছেড়ে দেয়া হয়েছিল, সেই রহস্য উদঘাটন করেছেন এক অবসরপ্রাপ্ত কূটনীতিবিদ শশাঙ্ক বন্দ্যোপাধ্যায়। THE WAR পত্রিকায় তিনি লিখেছেন সেই ইতিহাস। ১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর পাক যোদ্ধারা আত্মসমর্পণ করে ঢাকায়। ভারতীয় সেনা ও বাংলাদেশ মুক্তি বাহিনীর যৌথ কমান্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে তারা। ভারত আর বাংলাদেশের জন্য সে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। কিন্তু সেইসময় ইন্দিরা গান্ধী তথা ভারত অন্য এক বিপদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। একদিকে যুদ্ধের বিপুল খরচ, তার উপরে পূর্ব পাকিস্তান থেকে আসা প্রায় ১ কোটি শরণার্থী, যারা পাক সেনার অত্যাচারে সীমান্ত পার করে চলে এসেছিল তাদের খরচ। তার মধ্যে বাড়তি খরচ এই ৯৩০০০ পাক সেনা। ইন্দিরা গান্ধীর মূল লক্ষ্য হয়ে উঠেছিল, কিভাবে শেখ মুজিবুর রহমানকে নিরাপদে দেশে ফেরানো যায়। তার জন্য যে কোনও মূল্য দিতে রাজি ছিলেন তিনি। সেকথা তিনি একজনকেই বলেছিলেন। তিনি হলেন তৎকালীন জঅড প্রধান রাম নাথ কাও। পাকিস্তানের মিলিটারি কোর্টে ফাঁসির সাজা দেয়া হয়েছিল তাঁকে, নৃশংসভাবে হত্যা করার পরিকল্পনাও করা হয়েছিল। সেটাই ছিল ইন্দিরা গান্ধীর সব থেকে বড় দুঃস্বপ্ন। হৃদয় দিয়ে বাংলাদেশকে সমর্থন করেছিল ভারত। তাই মুজিবর রহমানকে হত্যা করা হলে, ভারতের স্বপ্ন শেষ হয়ে যাবে। এটাই ছিল ভয়। বাংলাদেশকে অনাথ দেখতে চাননি তিনি। এদিকে, পরাজয়ের অপমান সহ্য করতে না পেরে পদত্যাগ করেন তৎকালীন পাক প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান। আমেরিকায় থাকা জুলফিকার আলী ভুট্টোকে ফোন করে সে কথা জানান। দায়িত্ব দিয়ে যান ভুট্টোকেই। তড়িঘড়ি রাওয়ালপিন্ডির বিমান ধরেন ভুট্টো। ইন্দিরার ঐতিহাসিক কূটনীতি ভুট্টোর ফেরার খবর পেয়েই জরুরি মিটিং ডাকেন ইন্দিরা গান্ধী। ভুট্টোর বিমান রিফুয়েলিং-এর জন্য থামার কথা ছিল হিথরো বিমানবন্দরে। ইন্দিরা গান্ধী চেয়েছিলেন, সেইসময় সেখানে উপস্থিত থাকুক কোনও ভারতীয় প্রতিনিধি। যাতে তিনি জানতে পারেন, মুজিবর রহমানকে নিয়ে কি ভাবছেন তিনি? সেই বৈঠকে ছিলেন বিদেশমন্ত্রকের উপদেষ্টা দুর্গা প্রসাদ ধর, জঅড প্রধান রাম নাথ কাও, প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারি পিএন হাসকার, বিদেশ সচিব টিএন কাউল। মুজফ্ফর হোসেন, পূর্ব পাকিস্তানের চিফ সেক্রেটারি ছিলেন। তিনি ভারতে যুদ্ধবন্দি হন এবং ডিপি ধরের বাড়িতে অতিথির মর্যাদায় ছিলেন। তাঁর স্ত্রী ছিলেন লন্ডনে। ফলে সেইসময় কূটনীতিকদের মাধ্যমেই যোগাযোগ করতেন স্বামী-স্ত্রী। অবসরপ্রাপ্ত কূটনীতিবিদ শশাঙ্ক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তিনিই দুজনের মাধ্যম হয়ে উঠেছিলেন ফলে দুজনের সঙ্গেই ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায়। লায়লা ছিলেন ভুট্টোর একসময়ের বান্ধবী। সেই লায়লাকেই কাজে লাগান ইন্দিরা। ভুট্টোর সঙ্গে কথা বলতে পাঠান লায়লাকে। উদ্দেশ্য ছিল একটাই। মুজিবরকে নিয়ে কি ভাবছেন সেটা জানা। এই শশাঙ্ক বন্দ্যোপাধ্যায়ই লায়লাকে জানান, তিনি যাতে হিথরো বিমানবন্দরে গিয়ে একসময়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ভুট্টোকে বলেন, তাঁর স্বামীকে ভারত থেকে ছাড়ার ব্যবস্থা করতে। সেইমত এয়ারপোর্টের লাউঞ্জে দেখা হয় দুজনের। কথাবার্তা শেষে লায়লাকে কাছে টেনে তাঁর কানে কানে একটা বার্তা দেন ভুট্টো। বলেন, লায়লা আমি জানি, তুমি কি জানতে এসেছ। একটা মেসেজ দিও ইন্দিরা গান্ধীকে। বোলো, আমি মুজিবর রহমানকে মুক্তি দেবো। কিন্তু বদলে কি চাইব? সেটা পরে জানাব। বার্তা জানান লায়লা। তবুও সন্দেহ দূর হয় না। ভারতকে ভুল পথে চালিত করছেন না তো ভুট্টো? কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই সন্দেহের অবসান হলো। খবরটা সত্যি সেটাই জানা গেল। বদলে চাওয়া হলো ৯৩০০০ যুদ্ধবন্দিকে। ১৯৭২-এর ৮ জানুয়ারি ছেড়ে দেয়া হলো মুজিবর রহমানকে। ফিরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেন তিনি। এর ঠিক আট মাস পরে ছেড়ে দেয়া হয় ওইসব পাক যুদ্ধবন্দিকে।মানবজমিন...

মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলা: বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি বিএনপির

অনলাইন ডেস্ক: আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও কলামিস্ট মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে বিএনপি। এ দাবি জানিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের রাষ্ট্রযন্ত্র আওয়ামী লীগের ক্রীড়ানকে পরিণত হয়েছে। কুষ্টিয়ায় আদালত প্রাঙ্গণে মাহমুদুর রহমানের ওপর ছাত্রলীগ-যুবলীগের হামলার পর এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করে বলেন, এই রাষ্ট্রযন্ত্র সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে। বাংলাদেশ রাষ্ট্র এখন রাষ্ট্র নেই, এটা অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। এখানে রাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠান কাজ করছে না। আজকে পুলিশ চলছে আওয়ামী লীগের নির্দেশে এবং দুঃখজনকভাবে বিচারাঙ্গনকেও তারা প্রায় দখল করে ফেলেছে। আমরা দেশের জনগণের কাছে এই কথাটা পৌঁছাতে চাই, এ দেশে গণতন্ত্রের সব প্রতিষ্ঠান আওয়ামী লীগের ক্রীড়ানকে পরিণত হয়েছে। নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। কুষ্টিয়ায় মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, মাহমুদুর রহমান যখন আদালতের কাছে প্রোটেকশন চান, কোর্ট থানায় ফোন করে এবং ওসিকে ব্যবস্থা নিতে বলেন। কিন্তু ওসি সেখানে উপস্থিত হননি। এরপর আরো উচ্চ মহল পর্যন্ত যোগাযোগ করা হয়েছে কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই সরকারের পুলিশ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। উপরন্তু আদালতে যে ওসি থাকেন তিনি মাহমুদুর রহমান ও অন্যদের বলেছেন, আপনারা বাইরে আসেন, বের হন। যাকে বলা যায় যে, জোর করে বের করে ওই সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। যার ফলে সাথে সাথে তাদের আক্রমণ করা হয়েছে বিশেষ করে মাহমুদুর রহমানকে মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত করে দিয়েছে। সেখানে অন্য যারা ছিলেন তারাও আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা অবিলম্বে যারা কুষ্টিয়ায় এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করে তাদের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমরা দাবি জানাচ্ছি। এই সরকারের পতন না ঘটানো গেলে এসব অন্যায়ের বিচার হবে না বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। শীর্ষ নিউজ...

প্রয়োজনে ইসলাম-দেশের জন্য জীবন দেবো: মাহমুদুর রহমান

অনলাইন ডেস্ক: কুষ্টিয়ার আদালত চত্বরে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ওপর বেপরোয়া হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। এতে তিনি মারাত্মক আঘাত পান। আঘাত পেয়েও সাহসের মতো কথা বলতে দেখা গেছে তাকে। গতকাল রোববার বিকেলে এই হামলার সময় রক্তাক্ত মাহমুদুর রহমান বলছিলেন,প্রয়োজনে আমার দেশের জন্য আমি জীবন দেবো। যারা এমন করেছে তারা কুকুর। একা জীবন দিব দেশের জন্য। আমার দেশের জন্য জীবন দিব। ইসলামের জন্য জীবন দিব। জানা যায়, কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইয়াসির আরাফাত তুষারের করা একটি মানহানি মামলায় মাহমুদুর রহমান জামিন নিতে কুষ্টিয়া আদালতে যান। বেলা ১২টায় কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এমএম মোর্শেদ ১০ হাজার টাকা জামানতে মাহমুদুর রহমানের স্থায়ীভাবে জামিন মঞ্জুর করেন। তার জামিন মঞ্জুর করায় অসন্তোষ প্রকাশ করে ছাত্রলীগ নেতারা আদালত চত্বরে মাহমুদুর রহমানের বিচার চেয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং এজলাসের ভেতর তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। চার ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকার পর পুলিশ প্রহরায় বাইরে বের হলে এই হামলা চালায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এ সময় কয়েকশ ছাত্রলীগ নেতাকর্মী হকিষ্টিক ও লাঠি দিয়ে মাহমুদুর রহমানকে পেটাতে থাকে। হামলায় মাহমুদুর রহমানের মাথা ফেটে যায় এবং তিনি গুরুতর আহত হন। শীর্ষনিউজ...

মাদক সভ্য ও সুন্দরের পথে বাধা

অনলাইন ডেস্ক :ইসলাম সুন্দরের ধর্ম। শাশত সৌন্দর্যের পবিত্র এক সামিয়ানার নাম ইসলাম। ইসলামের আরশের ছায়ায় অপবিত্রতা নেই। মাদকতা নেই। ধোঁকা নেই। মাদক সভ্য ও সুন্দরের পথে বাধা। আলোকিত জীবন চলাচলে বিঘ সৃষ্টি করে। মাদকের কারণে জীবন সংকটে পড়ে। ইসলামে মাদককে একদিনে নিষেধ করা হয়নি। ধীরে ধীরে নিষেধ করা হয়েছে। ইসলামী আইন খুব সূক্ষ্মভাবে প্রতিরোধ করেছে মাদককে। মদিনায় ইসলামের প্রথম যুগে মদ সম্পর্কে কোরআনুল কারিমে প্রথমে যে আয়াত নাজিল হয়েছিল, তাতে বৈধতার যৎসামান্য আভাস ছিল। প্রথমে হুট করে এক দফায় নিষেধ করে দিলে মানুষের জন্য পালন করা কষ্টকর ও অনেকে অবজ্ঞা করত। কারণ মাদক তাদের রক্ত, শিরায়, ধমনিতে মিশে গেছে। এ জন্য প্রথমে বৈধতার কিঞ্চিৎ আভাস দিয়ে বলে দেওয়া হয়েছে বোধ সম্পন্ন ব্যক্তির জন্য নিদর্শনের কথা। এখানে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, জ্ঞানীরা মাদক পরিত্যাগ করবে। শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ কোরআনে পঠিত হয়েছে, খেজুর বৃক্ষের ফল ও আঙুর থেকে তোমরা মাদক ও উত্তম খাদ্য সংগ্রহ করে থাক, তবে অবশ্যই বোধশক্তিসম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে নিদর্শন। (সূরা নাহল : ৬৭)। তখনও মদ অবৈধ করা হয়নি। যার ফলে অনেক মুসলমান সাহাবি আগের মতো মদ পানে অভ্যস্ত ছিল। সর্ব যুগেই মদ পান মানুষের জ্ঞান চিন্তা শক্তিকে গ্রাস করেছে। বুদ্ধি বিনষ্ট করেছে। আকল বিকল করেছে। তখনকার সময়ে হযরত ওমর, মুয়ায ইবনে জাবালসহ কিছু সাহাবি রাসুল (সা.) এর কাছে এই মর্মে আরজ করলেন যে, হে আল্লাহর রাসুল! মাদকের ব্যাপারে আমাদের ফতোয়া দিন। এতে আকল নষ্ট হয় এবং মাল ধ্বংস হয়। মুসলমানের চেতনার বারান্দায় যখন মদের মন্দ বিষয় উঁকি দিল, তারা যখন স্বেচ্ছায় স্বীকার করল মদের কারণে তাদের চিন্তাশক্তি লোপ পায়, তখনই মহান প্রভু নাজিল করেন মদ পানে উপকারের তুলনায় মদের মন্দ বিষয়। কোরআনে ঘোষণা হয়েছে, ‘লোকে আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন, উভয়ের মধ্যে মহাপাপ এবং মানুষের উপকার আছে। কিন্তু তাদের পাপ উপকার অপেক্ষা অধিক। (সূরা বাকারা : ২১৯)। এই আয়াত নাজিল হলে মানব মাঝে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। কেউ চিরতরে মদ পান ছেড়ে দেন। কেউ আগের অভ্যাসে চালিয়ে নেয় জীবনকে। এভাবে কিছুদিন চলতে থাকে। এ সময় আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) বাড়ির এক অনুষ্ঠানে সাহাবিদের দাওয়াত করেন। খাবার শেষে ব্যবস্থা করেন মদের। জমে যায় আরবীয় ঐতিহ্যের মদ আসর। ইচ্ছামতো পান করেন অনেকে। তৃপ্তির ঢেঁকুর গিলেন। সবার মধ্যে এক উন্মাদনা। মদের ঘোরে তারা নামাজে দাঁড়ায়। তখন তাদের কোনো একজন নামাজে পাঠ করে ফেলেন, কুল ইয়া আইয়ুহাল কাফিরুন, আবুদু মা তাবুদুন। অর্থাৎ লাঅক্ষরটি বাদ দিয়ে পড়েন। নেশার ঘোরে নামাজে মারাত্মক ভুল করে ফেলে। অর্থে ভুল বিরাট বড়। তখনই আল্লাহ নাজিল করেন, হে মোমিনরা! মদপানোত্তর মাতাল অবস্থায় তোমরা নামাজের নিকটবর্তী হবে না। যতক্ষণ তোমরা যা বল তা বুঝতে পার।(সূরা নিসা : ৪৩)। ওই আয়াত নাজিল হলে তুলনামূলক মদপায়ীর সংখ্যা হ্রাস পায়। বেশিরভাগ সাহাবি মদপান ছেড়ে দেন। একদিন ওসমান (রা.) তার বাসায় খাবারের দাওয়াতে আয়োজন করেন। খানা শেষে তাদের রীতি অনুযায়ী মদ পানে উন্মাদ হয়ে ওঠেন অনেকে। উন্মাদনায় সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) আনসারদের দোষারোপ করে কবিতা আবৃত্তি করেন। এতে আনসারী এক যুবক রাগ করে তার মাথায় ছুড়ে মারেন উটের গাদেশের একটি হাড়। এতে তিনি গুরুতরভাবে জখম হন। পরে নবীজির কাছে অভিযোগ দায়ের করলে নবীজি আল্লাহর কাছে মোনাজাতে আঁখি ভেজান। তখন আল্লাহ নাজিল করেন, হে মোমিনরা! মদ, জুয়া, মূর্তি পূজার বেদি ও ভাগ্য নির্ণয়ক সব ঘৃণ্য বস্তু, শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা তা বর্জন করো। তাহলে তোমরা সফলকাম হতে পারবে। (সূরা মায়েদা : ৯০)। এই আয়াত নাজিল হলে রাসুল (সা.) এর সব সাহাবি মদ পান ছেড়ে দেয়। এমনকি মদের পাত্র পর্যন্ত ভেঙে আঁস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করে। তাদের হৃদয়ের উঠান থেকে চিরতের মুছে যায় মদের নাম। নেশার জগৎ। আল্লাহর প্রতি বিশ^াস, রাসুল (সা.) এর প্রতি ভালোবাসর সঙ্গে কখনও মদ থাকতে পারে না। আল্লাহ ও নবীর প্রেম আর মদ; সম্পূর্ণ দুই মেরুর। মানব হৃদয় থেকে মদের প্রভাব ছিন্ন করার জন্য ইসলাম যে দিকদর্শন দিয়েছে, হৃদয়ের উর্বর জমিনে ঈমান নামক যে মধুর সজীব ফসল ফলন করেছে এমন ফসল ফলাতে পারলে মানব মাঝে মদের কোনো গন্ধ থাকবে না। মানব জনম হবে আলোকিত। আলোড়িত। সুন্দরের মিছিলে দেশ হবে তারাভরা আকাশ। মাদকসেবীর জন্য নির্ধারণ করা যেতে পারে শাস্তির বিধান। ইসলামী আইনে মাদকসেবন ফৌজদারি অপরাধরূপে গণ্য। মাদকসেবীকে ইসলামী আইন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া যেতে পারে। কোরআন মজিদে এর কোনো শাস্তির উল্লেখ নেই। কিন্তু ফকিহবিদরা এ ব্যাপারে একমত যে, মদ্যপায়ীর শাস্তি হচ্ছে দোররা। দোররা কতটা মারতে হবে বা কী পরিমাণ, এতে ইমামদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মালেক (রহ.) এর মতে, মদ্যপায়ীর শাস্তি হচ্ছে আশি দোররা। তারা তাদের মতের স্বপক্ষে ওমর ফারুক (রা.) সম্পর্কে বর্ণিত হাদিস দারা দলিল পেশ করেন। মদ্যপানের হালকাতম শাস্তি হচ্ছে আশি দোররা।(মুসলিম : ১৭০৬)। ইমাম শাফি (রহ.) এর মতে মদ্যপানের শাস্তি হচ্ছে চল্লিশ দোররা। তারা দলিল দেন আনাস বিন মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস দ্বারা। আনাস (রা.) বলেন, নবী করিম (সা.) মদ্যপানের শাস্তি হিসেবে জুতো বা বেত দিয়ে চল্লিশটি বেত্রাঘাত করতেন। (বোখারি : ৬৩৯১)। আমাদের উচিত, অনাগত প্রজন্মকে সুন্দর পৃথিবী উপহার দিয়ে যাওয়া। নিরাপদ শহর তাদের হাতে তুলে দিয়ে বিদায় নেওয়া। কিন্তু আমরা যদি মরে যাওয়ার সময় পরবর্তী প্রজন্মের কাছে নিরাপদ পৃথিবী উপহার দিতে না পারি, তাহলে পৃথিবী সভ্যতা হারিয়ে ইতিহাস স্বীকৃত এমন একটা অন্ধকার জগতে আবার চলে যাবে। আমাদের জীবন, আমাদের পৃথিবী সুস্থ নিরাপদ ও আলোকিত রাখতে হলে মাদককে না বলতে হবে। জীবন এবং পৃথিবীর ডায়েরি থেকে মুছে দিতে হবে ধ্বংসাত্মক মাদকের নাম। জীবনকে নিষিদ্ধ আঁধারে কলঙ্কিত করার আগেই জালাতে হবে আলোর মশাল। পবিত্রতার ঘ্রাণ ছড়াতে হবে পৃথিবীর পাড়া মহল্লায়। এ ঘ্রাণ গায়ে মেখে সবাইকে নিয়ে যেতে হবে আলোর মিছিলে। সুন্দরের এ মানুষেরা পৃথিবীর মাজারে ফেরি করে বেড়াবে মহাসত্যের গান। সভ্যতার প্রদীপ্ত আলো।...

জেনে নিন কেন হিন্দু বিয়েতে সাত পাকে ঘোরা হয় ?

বিয়ে মানে দুটো মনের মিলন, দুটো পরিবারের মিলন। বিয়েতে অনেক নিয়ম কানুন মানা হয়। এক এক ধর্মের এক এক নিয়ম। হিন্দু মতে বিয়ে মানেই, শুভদৃষ্টি, সাত পাকে ঘোরা, খই পোড়ানো, সিঁদুর দান। তবে এই সমস্ত রীতি কিন্তু শুধুই ধর্মীয় কারণে নয়। এর পিছনে আরও অনেক কারণ রয়েছে। হিন্দু মতে বিয়েতে আমরা দেখতে পাই, আগুনের কুন্ডলীর চারপাশে বর-বউকে ঘুরতে। একে সাত পাকে বাঁধা পড়া বলা হয়। বলা হয়, এর মাধ্যমে অগ্নিদেবতাকে বিয়েতে সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়। শুধু আগুনের চারপাশে ঘোরাই নয়, এই সময়ে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতিও দিতে হয় একে অপরকে। প্রথম প্রতিশ্রুতি- প্রথমে বর তাঁর বউ এবং তাঁর ভাবী সন্তানদের যত্ন নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।বিনিময়ে কনেও প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি তাঁর স্বামী এবং তাঁর পরিবারের যত্ন নেবেন। দ্বিতীয় প্রতিশ্রুতি- এবার বর প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি তাঁর স্ত্রীকে সবরকম পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করবেন।বিনিময়ে কনেও প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি স্বামীর সবরকম যন্ত্রণায় পাশে থাকবেন। তৃতীয় প্রতিশ্রতি- এবার বর প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি তাঁর পরিবারের জন্য রোজগার করবেন এবং তাঁদের দেখভাল করবেন।একই প্রতিশ্রুতি এবার কনেও করেন। চতুর্থ প্রতিশ্রুতি- স্ত্রীর কাছে তাঁর পরিবারের সমস্ত দায়িত্ব তুলে দেওয়া এবং একইসঙ্গে স্ত্রীর সমস্ত মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন বর।স্ত্রী তাঁর সমস্ত দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করার প্রতিশ্রুতু দেন। পঞ্চম প্রতিশ্রুতি- যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করার প্রতিশ্রুতি দেন বর।স্বামীকে সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি দেন স্ত্রী। ষষ্ট প্রতিশ্রুতি- স্ত্রীর প্রতি সত্য থাকার প্রতিশ্রুতি দেন স্বামী।স্ত্রীও স্বামীর প্রতি সত্য থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। সপ্তম প্রতিশ্রুতি- শুধু স্বামী হিসেবেই নয়, বন্ধু হিসেবেও সারাজীবন স্ত্রীর সঙ্গে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন বর।বিনিময়ে স্ত্রীও স্বামীর সঙ্গে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।বাংলা রিপোর্ট...

জয় বাংলা এবং আওয়ামী লীগ

সিরাজুল আলম খান :জয় বাংলা এমন একটি স্লোগান যা বাংলাদেশের সশস্ত্র যুদ্ধের সময় জনগণকে তাঁদের স্বাধীনতার লক্ষ্যে প্রবল উদ্দীপক ও তেজোদীপ্ত করেছিলো। এর আগে বাঙালি আর কখনো এতো তীব্র, সংহত ও তাৎপর্যপূর্ণ স্লোগান দেয়নি, যার একটি পদেই প্রকাশ পেয়েছে রাজনীতি, দেশ, দেশপ্রেম, সংস্কৃতি, ভাষার সৌন্দর্য ও জাতীয় আবেগ। জয় বাংলা স্লোগান ছিলো সশস্ত্র যুদ্ধকালীন সময়ে বাঙালির প্রেরণার উৎস। যুদ্ধে সফল অপারেশন শেষে কিংবা যুদ্ধ জয়ের পর অবধারিতভাবে স্বাধীনতা সংগ্রামীরা চিৎকার করে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে চারপাশের জনগণকে বিজয়ের বার্তা পৌঁছে দিতো। কখন, কীভাবে কিংবা কী বিশেষ প্রয়োজনে এ জয় বাংলাস্লোগানটির উৎপত্তি হয়েছিলো, তার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরা হলো- সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৯। সেদিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের একটি সভা ছিলো। মধুর ক্যান্টিনের সে সভায় ১৭ মার্চ শিক্ষা দিবস যৌথভাবে পালনের জন্য কর্মসূচি প্রণয়ন নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা করছিলেন। সেদিন, সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদর আহূত সভায় আলোচনার এক পর্যায়ে তৎকালীন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে (তৎকালীন জিন্নাহ হল, যা বর্তমানে সূর্যসেন হল) প্রথম বর্ষের ছাত্র ও ছাত্রলীগ নেতা আফতাব উদ্দিন আহমেদ এবং দর্শন বিভাগে (ইকবাল হল, যা বর্তমানে সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ছাত্র ও ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক চিশতি শাহ হেলালুর রহমান (৭১ সালে শহীদ) জয় বাংলা স্লোগানটি উচ্চারণ করেন। সভা চলাকালীন সময়ে অনেকটা আকস্মিকভাবেই সকলকে চমকে দিয়ে চিৎকার করে জয় বাংলা স্লোগান দেন ছাত্রলীগ নেতা আফতাব উদ্দিন আহমেদ, পরক্ষণেই সেই স্লোগানের প্রত্যুত্তর দেন তৎকালীন ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক চিশতি শাহ হেলালুর রহমান। সঙ্গে সঙ্গেই আরো সাত-আটজন কর্মী প্রতিধ্বনি দিলো, জয় বাংলা। সেদিনের সেই সভায় আফতাব বেশ কয়েকবার জয় বাংলা স্লোগানটি দেন এবং শেষের দিকে উপস্থিত সংখ্যাগরিষ্ঠ কর্মীরাও এর প্রত্যুত্তর দেন। এরপর এভাবেই কিছুক্ষণ ওই স্লোগান চললো। বলা হয়ে থাকে সেটাই এ বাংলার বুকে জয় বাংলা স্লোগানের সর্বপ্রথম উচ্চারণ। আর এ দুই ছাত্রনেতাই ছিলেন নিউক্লিয়াস বা স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ-এর সদস্য। যদিও তার বেশ আগেই ১৯৬২ সালে গঠিত গোপন সংগঠন নিউক্লিয়াসর নেতৃবৃন্দ এবং ছাত্রলীগকর্মীরা যেকোনো আন্দোলনে স্বকীয়তা আর স্বাধীনতা প্রকাশ করার জন্য এবং আত্মপ্রত্যয় সৃষ্টির লক্ষ্যে জয় বাংলাকে প্রতীকী স্লোগান হিসেবে উচ্চারণ করতেন। এছাড়াও স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদতখন হাতে লেখা তিন পাতার একটি পত্রিকায় কয়েকটি সংখ্যা প্রকাশ করে যার নাম ছিলো জয় বাংলা। রবিবার, ১১/১৮ জানুয়ারি (তবে নিশ্চিতভাবে ১৮ জানুয়ারি-ই হবে), ১৯৭০। সেদিন, ঢাকা শহরের পল্টনে আওয়ামী লীগের জনসভায় সিরাজুল আলম খান সর্বপ্রথম জয় বাংলা স্লোগানটি উচ্চারণ করেছিলেন। স্লোগানটি ছিলো বাংলা শব্দ। জয়+বাংলা= জয় বাংলা অর্থাৎ বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষার জয়। বাংলার জয়ের কথা বলা হচ্ছে, তাই এ স্লোগান সকলের ভালো লেগেছিলো। সকলেই জয় বাংলা স্লোগানকে গভীর আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানেরও এ স্লোগান বেশ মনে ধরে। এরপর ৭০-এর ৭ জুন ঢাকার রেসকোর্স ময়দানের বিশাল এক জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার ভাষণে প্রথম যুক্ত করেন এ স্লোগানটি এবং উচ্চারণ করেন জয় বাংলা। আমাদের অস্তিত্বে জয় বাংলা শব্দের / স্লোগানের/ ধ্বনির ব্যবহার ও কার্যকারিতা আরো ব্যাপকভাবে বিস্তৃত। জয় বাংলা স্লোগানের উৎপত্তি এবং জাতীয় স্লোগানে পরিণত হবার রয়েছে এক ইতিহাস। সংক্ষেপে তা হলো- নিউক্লিয়াসর পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্লোগান নির্ধারণের জন্য তিনটি সেলকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো। এর মধ্যে একটি সেল জিয়ে সিন্ধ বা জিও সিন্ধ (জয় সিন্ধু)-এর মতো করে জয় বাংলা শব্দটি কাজে লাগানো যায় কি না সিরাজুল আলম খান এর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এ সেলটির মূল দায়িত্বে ছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আফতাব উদ্দীন আহমেদ (পরবর্তীতে ড. আফতাব আহমেদ)। সুবিধা মতো সময়ে জয় বাংলা স্লোগানের বিষয়টি নিউক্লিয়াস র বিবেচনায় আসে। নিউক্লিয়াসর সদস্যদের প্রত্যেকেরই ভেটো (Veto) দেয়ার সুযোগ ছিলো। এ ভেটো(Veto) প্রয়োগের কারণে প্রায় ৮-১০ দিন সময় লাগে জয় বাংলাকে অনুমোদন দানের ক্ষেত্রে। পাশাপাশি বলে দেয়া হয়েছিলো স্লোগানটিকে সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করার জন্য। যেন আর দশটা স্লোগানের মতো জয় বাংলাকে যত্রতত্র ব্যবহার না করা হয়। তুমি কে? আমি কে? বাঙালি-বাঙালি তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা-মেঘনা-যমুনা পি- না ঢাকা? ঢাকা-ঢাকা ছয় দফা-ছয় দফা, না হলে এক-দফা এগার দফা-এগার দফা, নাহলে এক-দফাবীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করোস্বাধীন করো স্বাধীন করো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো। এ স্লোগানগুলো নিউক্লিয়াস সেলর মাধ্যমে স্লোগান হিসেবে গ্রহণ করা হয়, যা পরবর্তীতে জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এসব কোনো সাধারণ স্লোগান নয়, যেন একেকটি ঐশী বাণী। স্বাধীনতাকামী বাঙালির প্রাণের স্পন্দন স্বাধীনতার বীজমন্ত্র মুক্তি ও বিজয়ের মূলমন্ত্র সশস্ত্র যুদ্ধের অনুপ্রেরণা এবং এগারোশো বছরের পরাধীনতার শেকল ভেঙে বাঙালির কাক্সিক্ষত স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের এক শক্তিশালী অস্ত্র। জয় বাংলা স্লোগানের বিষয়ে ছাত্রলীগের দুয়েকজন এবং আওয়ামী লীগের সবাই (বঙ্গবন্ধু ছাড়া) ঘোর আপত্তি করতো। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটিতেও জয় বাংলার বিষয়ে আলাপ আলোচনা হয় এবং তাঁরা জয় বাংলাকে নিয়ে ভারত ঘেঁষা রাজনীতি করা হচ্ছে এ যুক্তি তুলে ধরেন। শুধু কমিটিতেই নয়, আওয়ামী লীগ সভার সকলেই জয় বাংলার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন (তাজউদ্দিন আহমদ ছাড়া)। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের বৃহত্তর অংশই জয় বাংলা স্লোগানের সরাসরি বিরোধিতা করেন এবং তাঁরা এ স্লোগানের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর কাছে অভিযোগও করেন। //এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধুর সরাসরি উত্তর ছিলো, এ বিষয় নিয়ে তোমাদের মাথা ঘামাবার দরকার নেই। আওয়ামী লীগের বৃহত্তর অংশ এ আবদারমূলক রাজনীতির //প্রতি বঙ্গবন্ধুর কোনো রকম সমর্থন না পেয়ে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছিলো। তাঁরা জয় বাংলা স্লোগানকে ভারতের জয় হিন্দ ও সিন্ধুর জিয়ে সিন্ধ বা জিও সিন্ধ এর সঙ্গে মিশিয়ে এক ধরনের বিদ্রুপ করতো। আর সুযোগ পেলে জয় বাংলা স্লোগান দেয়া ছাত্রলীগ কর্মীদের ওপর চড়াও হতো। রবিবার, ৪ জানুয়ারি ১৯৭০। সেদিন, ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন প্রধান অতিথি। অনুষ্ঠানের শুরুতে জয় বাংলা স্লোগান দেয়া শুরু হলে দুয়েকজন আপত্তি করেন এবং এ স্লোগানটি বন্ধ করার জন্য সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অনুরোধ জানান। তা সত্ত্বেও জয় বাংলা স্লোগান বারবার উচ্চারিত হতে থাকে। সৈয়দ নজরুল ইসলাম তাঁর বক্তব্য প্রদানকালে জয় বাংলার পক্ষে বিপক্ষে অবস্থান পরিষ্কার করলেন না। বিষয়টি বুঝতে পেরে নিউক্লিয়াস নেতৃবৃন্দ চার-পাঁচজন মিলে একটি গ্রুপ হয়ে সন্ধ্যার পর থেকে শুরু করে রাত ১২/১টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের হল-হোস্টেলে জয় বাংলা স্লোগান দিতো। তখন রাতের অন্ধকারে হাতে লেখা পোস্টার লাগানো হতো ঢাকা শহরের প্রায় সর্বত্র (সে সময়কালে বৃহত্তর ঢাকার লোকসংখ্যা ছিলো দশ লাখের মতো, আজকের ঢাকা দিয়ে সেদিনের ঢাকাকে বোঝা একেবারেই অসম্ভব; বর্তমানে বৃহত্তর ঢাকার লোকসংখ্যা হলো দুই কোটি বিশ লাখ)। তখন ক্ষুদ্রাকার মিছিল করে জয় বাংলা স্লোগান দেয়া হতো। জয় বাংলা স্লোগানে মুখরিত মানুষ আন্দোলিত পুরো ঢাকা শহর। বিষয়টি বঙ্গবন্ধু পর্যন্ত পৌঁছানো হলো। তখন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি হিসেবে কে এম ওবায়দুর রহমানকে বঙ্গবন্ধুর কাছে পাঠানো হয়। কে এম ওবায়দুর রহমান বঙ্গবন্ধুর কাছে জয় বাংলাকে তুলে ধরেন গুরুতর আপত্তিমূলক স্লোগান হিসেবে। সিরাজুল আলম খান ওই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু তখন কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে পরবর্তীতে বিষয়টি সুরাহা করবেন বলে জানান। আসলে বিষয়টি ছিলো অত্যন্ত জটিল। তবে স্বাধীনতার প্রশ্নে জয় বাংলা স্লোগানের গুরুত্ব বিবেচনায় আসে। এ বিষয়ে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব নিউক্লিয়াসর পক্ষ থেকে সিরাজুল আলম খানকে দেয়া হয়। রবিবার, ১১/১৮ জানুয়ারি (তবে নিশ্চিতভাবে ১৮ জানুয়ারি-ই হবে), ১৯৭০। সেদিন, পল্টন ময়দানে আওয়ামী লীগের জনসভা হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ওই দিনটিতে কৌশলগতভাবে জয় বাংলা কে জনগণের কাছে প্রথমবারের মতো তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেয় নিউক্লিয়াস। গাজী গোলাম মোস্তফাকে (সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা শহর আওয়ামী লীগ) নিউক্লিয়াসর প্রতি পরোক্ষ একজন সহযোগী হিসেবে অতি নিপুণভাবে গড়ে তোলা হয়েছিলো। সভা উপলক্ষে পল্টনে আওয়ামী লীগের অন্যসব জনসভার চাইতে পাঁচ ফুট উঁচু করে বিশেষভাবে মঞ্চ নির্মাণ করার জন্য গাজী গোলাম মোস্তফাকে অনুরোধ জানানো হয়। ১৯৬৪-৬৫ সালে ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন সৈয়দ মজহারুল হক বাকি। ছাত্র রাজনীতির পর তিনি বিজ্ঞাপনী নামে একটি বিজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে ছিলেন, যার অফিস ছিলো জিন্নাহ এভিনিউতে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ)। কামাল আহমেদ ছিলেন যশস্বী খ্যাতিসম্পন্ন একজন অংকন শিল্পী (বর্তমানে তিনি কানাডা প্রবাসী) তবে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না এবং একই বয়স না হলেও (কামাল আহমেদ ছিলেন সিরাজুল আলম খান-এর চেয়ে ৪-৫ বছরের বড়) সিরাজুল আলম খান-এর সঙ্গে তাঁর সখ্যা ছিলো। শিল্পী কামাল আহমেদকে আনা হলো বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানে। সে সময় রবিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছিলো। সৈয়দ মজহারুল হক বাকি ও কামাল আহমেদকে সিরাজুল আলম খান (দৈর্ঘে প্রায় ৪ ফুট লম্বা পাশে ১০ ফুট চওড়া) কাঠের উপরে জয় বাংলা শব্দটি লেখার জন্য বলেন। লেখার পর এ কাঠটিকে দুভাগে ভাগ করা হয়। তখন বেলা তিনটে, পাঁচটায় জনসভা শুরু হবে। সে সময়কালে শহর আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য পনর-বিশ জনের বেশি ছিলো না। বাকিরা সবাই খ্যাতিমান এডভোকেট আব্দুস সালাম খান (সম্পর্কে বঙ্গবন্ধুর মামা)-র নেতৃত্বাধীন ছয় দফার বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা পিডিএম (Peoples Democratic Movement-PDM)-এ চলে যায়। সে সময় থেকে শুরু করে পরবর্তী সকল জনসভায় এবং অন্যান্য সাংগঠনিক কাজে ব্যস্ত থাকতে হতো নিউক্লিয়াস সদস্যদের। তখনই নিউক্লিয়াসর রাজনৈতিক উইং হিসেবে বিএলএফ (BLF-Bangladesh Liberation Force) গঠন করা হয়। এসব সময়ে ঢাকা শহরের সব স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং তখনকার ঢাকা শহরের অন্তর্ভুক্ত ৪২টি ওয়ার্ডে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠনের পাশাপাশি বিএলএফ (BLF)-এর সদস্য সংখ্যা খুব দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পেতে থাকে। গোটা বাংলাদেশেও তখন একই অবস্থা। শুধুমাত্র ঢাকা শহরেই তখন বিএলএফর সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন (৩.৫০) হাজার। আর জেলা-থানা (বর্তমানে উপজেলা) পর্যায়ে আড়াই (২.৫) হাজার। এ সংখ্যা গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান এবং সশস্ত্র সংগ্রামকালে বৃদ্ধি পেয়ে সাত (৭) হাজারে উন্নীত হয়। জনসভাসমূহে লোক সমাগম, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব বিএলএফ (BLF)-র সদস্যদের উপর দেয়া হয়। মূল দায়িত্বে ছিলেন কাজী আরেফ এবং মনিরুল ইসলাম (মার্শাল মনি)। অন্যান্য জনসভার মতো কবিয়াল শফি আহমেদ এখানেও তাঁর জনপ্রিয় কবিগান প্রায় একঘণ্টা ব্যাপী গেয়ে শুনালেন। রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ১৯৭০। দিনটি ছিলো স্বাধীনতার লক্ষ্যে পৌঁছানোর এমন এক সন্ধিক্ষণ, যার দায়িত্ব বর্তিয়ে ছিলো নিউক্লিয়াসর পক্ষ থেকে সিরাজুল আলম খান-এর উপর। সাধারণত সিরাজুল আলম খান সরাসরি কোনো দায়িত্বে থাকতেন না। তিনি যেসব দায়িত্বে থাকতেন তা হলো, রণনীতি ও রণকৌশল প্রণয়ন এবং জটিল বিষয়ে ও ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত দানের ব্যাপারে। সে দিনের গুরুত্বের কারণেই সিরাজুল আলম খান-এর উপরে এ দায়িত্ব দেয়া হয়। বেলা তিনটের দিকে কাঠের দুই অংশের এক অংশ আগেই বেশ উঁচু করে নির্মাণ করা মঞ্চের মাঝামাঝি জায়গায় শামিয়ানায় আটকানো হার্ডবোর্ডের ওপর লাগিয়ে দেয়া হয়। বাকি অংশ লাগানো হয় পাশাপাশি করে জনসভা শুরু হওয়ার দশ-পনেরো (১০-১৫) মিনিট আগে। জয় বাংলা লেখাটি রঙতুলিতে মাস্টারপিস (masterpiece) হিসেবে কাঠের খণ্ডে লিখেছিলেন শিল্পী কামাল আহমেদ। বেলা চারটে নাগাদ জনসভায় আগত মানুষের দ্বারা পল্টন ময়দানের আউটার স্টেডিয়াম ছিলো কানায় কানায় ভরপুর। যেসব খুঁটিতে মাইক হর্ণ (সরশব যড়ৎহ) লাগানো হয়েছিলো, প্রত্যেকটি খুঁটির গোড়ায় দুজন করে বিএলএফ (BLF) সদস্য ছিলেন। আর তাঁদের হাতে দেয়া হয়েছিলো একটি চিরকুট। নির্দেশ ছিলো সিরাজুল আলম খান যখন মঞ্চ থেকে স্লোগান দেবেন সে মুহূর্তে এ চিরকুট খোলা হবে। প্রায় ১০০টি মাইক হর্ণ লাগানো বাঁশের খুঁটির গোড়ায় ছাড়াও গোটা পল্টনের বিশেষ বিশেষ জায়গায়ও বিএলএফ(BLF) সদস্যদের দায়িত্ব ভাগ করে দেয়া হয়েছিলো। নিচে, মঞ্চের সামনে, পিছনে এবং চারপাশে বিএলএফ(BLF) সদস্যরা বিশেষ নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। সেদিন, আওয়ামী লীগের জনসভায় পুরো পল্টন জুড়ে ছিলো প্রচুর জনসমাগম। একমাত্র মসজিদটি ছাড়া তখনকার আউটার স্টেডিয়ামে আর কোনো স্থাপনা ছিলো না। পেছনে ডিআইটির দিকে বাস্কেটবল খেলার জন্য ছোটো ছোটো কাঠের গ্যালারির (স্টেডিয়াম) মতো কয়েকটি স্থাপনা ছিলো মাত্র। সেসময় পল্টন ময়দানে এক লক্ষের মতো লোকসমাগম হতে পারতো। তেমনই লোকে লোকারণ্য অবস্থায় ১৯৭০ সালের ১৮ জানুয়ারির জনসমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। সে মুহূর্তে ঢাকা শহরের লাখো মানুষের জনস্রোত যেন মিশে গিয়েছিলো পল্টন ময়দান (আউটার স্টেডিয়াম)। সভার বক্তৃতা মঞ্চটি ছিলো বিশেষভাবে নির্মিত বেশ কিছুটা উঁচু। মঞ্চের শামিয়ানায় আটকানো হার্ডবোর্ডের ওপর লাগানো কাঠের খণ্ডে উজ্জ্বল লাল রঙের দুটি শব্দ জয় বাংলা জ্বল জ্বল করছিলো। বেশ কিছুটা উঁচু করে মঞ্চ তৈরি করার কারণে দর্শকরা দূর থেকেও তা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলেন। সভার শুরুতে তাজউদ্দীন আহমদ বক্তব্য রাখলেন। সভাপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু। মঞ্চে উপবিষ্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, খন্দকার মোশতাক আহমেদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও গাজী গোলাম মোস্তফা ছাড়া আর কোনো আওয়ামী লীগ নেতা ছিলেন না। তবে আওয়ামী লীগ করতেন না কিন্তু তৎকালীন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের প্রধান কাজে সদা ব্যস্ত থাকতেন এমন একজন ব্যক্তির সেই মঞ্চে উপস্থিতি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। আর সেই ব্যক্তিটি ছিলেন সিরাজুল আলম খান। গাজী গোলাম মোস্তফার উপর একটি দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো, যেভাবে হোক বঙ্গবন্ধুকে স্লোগান দেয়ার জন্য সিরাজুল আলম খানকে অনুরোধ করা। তাজউদ্দীন আহমদের বক্তব্যের পর বঙ্গবন্ধু মঞ্চে বসা অবস্থায় বললেন, সিরাজ স্লোগান দে। কথাটি বঙ্গবন্ধু দুবার বললেন। সিরাজুল আলম খানও এ মুহূর্তটির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। যেনো অনেকটা যাদু দেখানোর মতো ভঙ্গিতে সিরাজুল আলম খান মাইকের সামনে এলেন। এসে অত্যন্ত আবেগ মিশ্রিত বলিষ্ঠ কণ্ঠে বললেন, আজকের এ দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে বাংলাদেশের জন্য। প্রিয় ভাই-বোনেরা আপনারা দেখছেন ওই উপরে জ্বল জ্বল করছে দুটি শব্দ জয় বাংলা। আসুন, সাত কোটি মানুষের পক্ষ হয়ে আমরা সকলকে জানিয়ে দিতে চাই, বাঙালি আমাদের পরিচয়। আসুন, যার কণ্ঠে যতো জোর আছে সবটুকু দিয়ে আমরা একই সঙ্গে বলে উঠি, জয় বাংলা। আজ থেকে জয় বাংলাকে আমাদের ভবিষ্যৎ আন্দোলনের স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করা হবে। আসুন, আমরা সবাই কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে আওয়াজ তুলি জয় বাংলা। তিনি আবারো বললেন, জয় বাংলা। তখন লক্ষ কণ্ঠের সমস্বরে আকাশ থেকে বাজ পড়ার মতো কানফাটা আওয়াজে জয় বাংলা স্লোগানের ধ্বনি পল্টনকে মুখরিত করে তোলে। প্রত্যেক খুঁটির গোড়ায় চিরকুট ইতিমধ্যে খোলা হয়ে গেছে। নির্দেশ ছিলো জয় বাংলাকে প্রতিধ্বনিত করে জয় বাংলা বলা। পল্টনেই শুধু নয়, ফিরে যাবার মুহূর্তেও সকলের মুখে মুখে ধ্বনিত হচ্ছিলো জয় বাংলা! আত্মপ্রত্যয়ের এক শব্দ জয় বাংলা বাঙালি জাতির পরিচয়ের এক শব্দ জয় বাংলা যেনো একটি ব্যক্ত আবেগের শব্দ জয় বাংলা! সেই থেকে বাংলাদেশের জনগণ প্রথম জানালো তাদের আগামী দিনের স্লোগান জয় বাংলা। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, নিউক্লিয়াস (স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ)-এর সিদ্ধান্ত অনুসারে আনুষ্ঠানিকভাবে এটাই প্রথম জনসম্মুখে জয় বাংলা স্লোগানের উদ্বোধন। তাজউদ্দীন আহমদের পর একে একে বক্তৃতা দিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, খন্দকার মোশতাক আহমেদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী। সভাপতি হিসেবে এবার বক্তব্য দিবেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাও ঘোষণা করলেন সিরাজুল আলম খান। আবারো সিরাজুল আলম খান মাইকের সামনে গেলেন। ঘোষণা দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে বক্তব্য দেয়ার জন্য আহ্বান জানালেন। এ সিরাজুল আলম খান যেন অতি পরিচিত সিরাজুল আলম খান নয়। নতুন পরিচিতি। নতুন অভিব্যক্তি। নতুন প্রকাশভঙ্গি। নতুন প্রাণশক্তি। নতুন রাজনীতির সূর্যোদয়ের আহ্বান। সিরাজুল আলম খান বঙ্গবন্ধুকে বক্তব্য দেবার আহ্বানের সময় জয় বাংলা ধ্বনি দিলেন। আবারো দিলেন, তখন সভা থেকে লক্ষ কন্ঠের প্রতিধ্বনি অনুরণিত হয়ে আকাশে গর্জনের মতো শোনা গেল। গর্জনের শব্দের তীব্রতা মুহুর্মুহু প্রতিধ্বনি হলো। সে গর্জন শেষ বিকেলের শীতল বাতাস বয়ে নিয়ে গেল গোটা ঢাকা শহরে। লক্ষাধিক বাঙালির বাঁধভাঙ্গা আবেগ আর প্রত্যাশায় এ যেনো এক নবজাগরণের ইঙ্গিত। বঙ্গবন্ধু বক্তৃতা করছেন সে সুযোগে মঞ্চে বসা খন্দকার মোশতাক আহমেদ সিরাজুল আলম খানকে কাছে ডেকে নিয়ে বললেন, ভাইডি কামডা সাইরে দিসো। তুমি বলেই পারলা। আর কেউ পারতো না! জানো সিরাজ, পৃথিবীর ইতিহাসে আর একজন মানুষ রাশিয়া বিপ্লবের স্লোগান হিসেবে দিয়েছিলো, জমি, রুটি, স্বাধীনতা! জানো সে লোকটা ক্যাডা? লেনিন, লেনিন। ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতা শেষ। জনসভার লক্ষাধিক মানুষের কণ্ঠে একই শব্দ এবং আওয়াজ জয় বাংলা। মনে হচ্ছিলো সারা ঢাকা যেন নতুনভাবে জেগেছে। পাখির ডাকে নয়, গগণবিদারী গর্জনের শব্দে। আর সে শব্দ হলো জয় বাংলা। জয় বাংলা কোনো দল বা ব্যক্তির স্লোগান নয়, এ স্লোগান ছিলো বাঙালির আত্মপরিচয়ের স্লোগান, স্বাধীনতাকামী জনগণের ঐক্যের স্লোগান, অর্জিত সাহসের স্লোগান, শত্রুমুক্ত করে স্বাধীন সার্বভৌমত্ব অর্জনের স্লোগান। জয় বাংলা শুধু একটি স্লোগান নয়, একটি ইতিহাস সংগ্রাম আর ভবিষ্যতের নাম। এ স্লোগান ৭১-এ বাঙালি জাতিকে করেছিলো ঐক্যবদ্ধ আর সশস্ত্র যুদ্ধকে করেছিলো ত্বরান্বিত। এ স্লোগান কণ্ঠে নিয়ে বাঙালিরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো সশস্ত্র সংগ্রামে। রণাঙ্গনে বুলেটের চেয়েও শক্তিশালী ছিলো এ জয় বাংলা। এগারশবছর ধরে যে বাঙালিদের নিরস্ত্র করে রাখা হয়েছিলো স্বাধীনতা সংগ্রামের শেষ পর্যায়ে সে বাঙালিদের হাতে রাইফেল তুলে নেয়ার জন্যও জয় বাংলাস্লোগান ছিলো বীজমন্ত্র। এ বীজমন্ত্রই প্রতিটি সশস্ত্র যোদ্ধা এবং জনগণকে বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো-স্লোগানের মাধ্যমে উজ্জীবিত করেছিলো। জয় বাংলা মানে- সে সকল মানুষের জয়, যারা এ বাংলার মাটি ও মানুষকে শোষণ-নির্যাতন থেকে মুক্ত করার প্রত্যয়ে যুগে যুগে লড়াই করে হটিয়ে দিয়েছে- সেন, আর্য, সুলতান, মুঘল, পাঠান, মারাঠি, পর্তুগিজ, দিনেমার, ওলন্দাজ, ফিরিঙ্গি, বর্গি, ইংরেজ, নীলকর, কাবুলিওয়ালা, জমিদার-জোতদার, পাকিস্তানিসহ বিদেশি পরাশক্তিকে। আর বুঝিয়ে দিয়েছে জয় বাংলা শুধু সাধারণ একটি স্লোগান নয়, জয় বাংলা বাঙালির মটো (motto)। আন্দোলন-সংগ্রাম এমন কি সশস্ত্র যুদ্ধের কোথাও কোনোদিন বাঙালিরা বলেননি বাংলাদেশ জিন্দাবাদ কিংবা বাংলাদেশ চিরজীবী হোক। সময়ের ব্যবধানে সে জয় বাংলা আজ ষোল-সতের (১৬/১৭) কোটি মানুষের প্রিয় স্লোগান/ধ্বনি। বঙ্গবন্ধু তাঁর ৭ মার্চের ভাষণে জয় বাংলা স্লোগান দিয়েই বক্তব্য শেষ করেছিলেন। আজকাল দুয়েকজন আহাম্মক অতি পা-িত্য জাহির করার মধ্য দিয়ে বাঙালি বিরোধী কিছু কথা বলার চেষ্টা করছেন। তা হলো-বঙ্গবন্ধু নাকি জয় বাংলা বলার পর জয় পাকিস্তান উচ্চারণ করেছিলেন। এরা পঞ্চম বাহিনীর লোক (5th columnist) লোক। এরা পাকিস্তান থাকতে পাকিস্তানিদের দালালি করতো। মার্চ মাসের আগের দিন পর্যন্ত এরা পাকিস্তানি হয়েই কাজ করতো। সর্বশেষ না পেরে এরা বাঙালি বন্ধু হয়ে উঠেন। ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধু কেন জয় পাকিস্তান শব্দ উচ্চারণ করবেন? ওই সময় গোটা আন্দোলন ছিলো নিউক্লিয়াস-বিএলএফ-এর হাতে। এ নিউক্লিয়াস-বিএলএফ-এর মাধ্যমেই গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা হয়েছিলো। বঙ্গবন্ধু ছিলেন স্বাধীনতাকামী জনগণের নেতা। আহাম্মকরা তাদেরকে যতোই চতুর মনে করুন না কেনো, তারা আসলে সার্কাসের ভাঁড়। লেখক: তাত্ত্বিক, রাজনৈতিক গবেষক ও মুক্তিযুদ্ধকালীন নিউক্লিয়াস-এর সদস্য সূত্র: মানবজমিন...

দেশের বেসরকারি চিকিৎসাসেবা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে :টিআইবি

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে, দেশের বেসরকারি চিকিৎসাসেবা খাতে বাণিজ্যিকীকরণের প্রবণতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। ঘাটতি রয়েছে বেসরকারি চিকিৎসাসেবায় সরকারের যথাযথ মনোযোগের । এতে একদিকে এটি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে, অন্যদিকে কিছু ব্যক্তির এ খাত থেকে বিধিবহির্ভূত সুযোগ-সুবিধা আদায়ের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। আজ বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। গবেষণায় দেশের বিভিন্ন জেলায় নিবন্ধিত ১১৬টি (হাসপাতাল ৬৬টি এবং রোগনির্ণয় কেন্দ্র ৫০টি) বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গবেষণায় বেসরকারি চিকিৎসা খাত সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতি পর্যালোচনা, প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, এসব প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসাসেবা, বেসরকারি চিকিৎসাসেবার বিপণন ব্যবস্থা, তথ্যের স্বচ্ছতা, তদারকির বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা সুমাইয়া খায়ের, টিআইবির গবেষণা ও পলিসি পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান। গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির প্রোগ্রাম ম্যানেজার তাসলিমা আক্তার এবং ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. জুলকারনাইন। ফলাফলে দেখা যায়, গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ১১৬টির মধ্যে ৯৭টি প্রতিষ্ঠান পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেয়নি। এ ছাড়া বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রধান আইন দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অরডিন্যান্স ১৯৮২ প্রণয়নের পর এখন পর্যন্ত হালনাগাদ করা হয়নি। এ আইনের কোনো বিধিমালাও করা হয়নি। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় বেসরকারি চিকিৎসাসেবা আইনের খসড়া নিয়ে কাজ করা হলেও তা এখনো আইন হিসেবে প্রণয়ন করা হয়নি। অনুষ্ঠানে টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি সুলতানা কামাল বলেন, বেসরকারি চিকিৎসা খাতে তদারকির চিহ্ন দেখতে পাই না। সরকার এ ক্ষেত্রে পুরো উদাসীন। সেখানে কি স্বার্থের দ্বন্দ্ব আছে সরকারের? কোনো ধরনের জবাবদিহির সম্মুখীন না হয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। যাঁরা তদারকের দায়িত্বে আছেন, তাঁরা তাঁদের কাজ গুরুত্বসহকারে নিচ্ছেন না। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারী খানার প্রায় সাড়ে ৬৩ শতাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হতে সেবা নেয়। কিন্তু বাংলাদেশে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা উচ্চ মুনাফাভিত্তিক খাত। মালিকেরা বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়েছে। তদারকির অভাব থাকায় সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করে উচ্চ মুনাফা আদায়ের সুযোগ রয়েছে।...

টাইম ম্যাগাজিনের রিপোর্ট, রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা চালাতে আগেই প্রস্তুতি নিয়েছিল মিয়ানমার

অনলাইন ডেস্ক :রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা চালানোর জন্য আগে থেকেই ব্যাপকভিত্তিক এবং পদ্ধতিগত প্রস্তুতি ছিল মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের। এমন প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিল সর্বশেষ রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা চালানোর বেশ কয়েক মাস আগে থেকে। ব্যাংকক ভিত্তিক মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপ ফোরটিফাই রাইটসকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন টাইম ম্যাগাজিনের অনলাইন। এতে ক্যাসি কুয়াকেনবুশ লিখেছেন, বিশেষ এই রিপোর্টটি প্রকাশ করা হয়েছে বৃহস্পতিবার। এতে বলা হয়েছে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও গণহত্যা চালানো হয়েছে এমনটা বিশ্বাস করার যৌক্তিক কারণ রয়েছে। এই রিপোর্টে এসব অপকর্মে জড়িত থাকার জন্য মিয়ানমারের ২২ জন সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তা কমান্ডারের দায়িত্বে ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়। এমন অভিযোগের ফৌজদারী তদন্তের জন্য বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পাঠানোর জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ফোরটিফাই রাইটস। এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাথিউ স্মিত বলেছেন, গণহত্যা স্বত্বঃস্ফূর্তভাবে ঘটে নি। এসব অপরাধে দায়মুক্তি দেয়ায় ভবিষ্যতে আরো ভয়াবহ আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটবে এবং হামলা হবে। এ অবস্থায় বিশ্ব অলস হয়ে বসে থাকতে পারে না এবং প্রত্যক্ষ করতে পারে না যে, আরেকটা গণহত্যা ঘটুক। কিন্তু এই মুহূর্তে আসলেই তা ঘটছে। রোহিঙ্গারা হলেন মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলে রাখাইন রাজ্যে বসবাসকারী মুসলিম সংখ্যালঘু। তারা নির্যাতিত ও তাদের কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নেই। আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (আরসা) গত ২৫ মে আগস্ট নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের ওপর হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন নিরাপত্তা রক্ষী নিহত হন। এরপরই রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংস প্রতিশোধ নেয়া শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। গণহত্যা, গণধর্ষণ, অগ্নিসংযোগের মতো বর্বরতা বেছে নেয় তারা। এতে বাধ্য হয়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাধ্য হয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেন। ফোরটিফাই রাইটস বলছে, এসব রোহিঙ্গাদের ওপর এমন নৃশংসতা শুধু আরসার হামলার জবাব নয়। এটা হলো তাদেরকে দেশ থেকে বের করে দেয়ার একটি কৌশল। এমন কৌশল তারা আগেই নির্ধারণ করে রেখেছিল। আগস্টে আরসা যে হামলা চালিয়েছিল সেটা ছিল এমন দ্বিতীয় হামলা। এ গ্রুপটি প্রথম হামলা চালিয়েছিল ২০১৬ সালের অক্টোবরে। তার জবাবে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী নৃশংসতা চালায়। তারা ধর্ষণ করে। বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড চালায়। এতে হাজার হাজার রোহিঙ্গা পালাতে বাধ্য হয়। ফোরটিফাই রাইটস বলছে, ২০১৬ সালের অক্টোবরে যে নৃশংসতা চালানো হয়েছে সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এতে মিয়ানমারের নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা আরো শক্তিশালী হয়েছে। তাই তারা আরসার দ্বিতীয় আরেকটি হামলার জন্য অপেক্ষা করছিল। এ জন্য তারা আগে থেকে অনেক প্রস্তুতি নিয়েছিল। যার মধ্যে রয়েছে রোহিঙ্গা নন এমন স্থানীয় সম্প্রদায়কে প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র দেয়া, রোহিঙ্গাদের বাড়িঘরে যাওয়ার ক্ষেত্রে যেসব প্রতিবন্ধকতা ছিল তা ভেঙে ফেলা, ইচ্ছাকৃতভাবে রোহিঙ্গাদের খাদ ও জীবন রক্ষাকারী জিনিসপত্র থেকে বঞ্চিত রাখা। যাতে তাদেরকে দুর্বল করে দেয়া যায়। তাদের ওপর হামলা জোরালো করা যায়। তাছাড়া অপ্রয়োজনীয়ভাবে উচ্চ হারে নিরাপত্তা রক্ষাকারী মোতায়েন করা হয় রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে। ফোরটিফাই রাইটস বলছে, এসব প্রস্তুতি দেখে বোঝা যায় এগুলো করা হয়েছিল গণহত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটিত করার জন্য। এতে আরো বলা হয়, ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে যখন হামলা শুরু হয় তাতে জড়িত ছিল মিয়ানমারের কমপক্ষে ২৭ আর্মি ব্যাটালিয়ান। এতে সেনা সদস্য ছিল ১১০০০। তার সঙ্গে ছিল কমপক্ষে তিনটি কমব্যাট পুলিশ ব্যাটালিয়ন। ওই রিপোর্টে ২২ জন সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তাকে এসব নৃশংসতার জন্য দায়ী করা হয়। বলা হয়, তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী তদন্ত করে বিচার করা উচিত। এই তালিকায় রয়েছেন কমান্ডার ইন চিফ সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইয়, ডেপুটি কমান্ডার ইন চিফ ভাইস সিনিয়র জেনারেল সোয়ে উউন, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ জেনারেল মাইয়া তুন ও। উল্লেখ্য, গত মাসে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একই রকম অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে মিয়ানমারের ১৩ জন সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তাকে সনাক্ত করে। মানবজমিন


জয় বাংলা এবং আওয়ামী লীগ

সিরাজুল আলম খান :জয় বাংলা এমন একটি স্লোগান যা বাংলাদেশের সশস্ত্র যুদ্ধের সময় জনগণকে তাঁদের স্বাধীনতার লক্ষ্যে প্রবল উদ্দীপক ও তেজোদীপ্ত করেছিলো। এর আগে বাঙালি আর কখনো এতো তীব্র, সংহত ও তাৎপর্যপূর্ণ স্লোগান দেয়নি, যার একটি পদেই প্রকাশ পেয়েছে রাজনীতি, দেশ, দেশপ্রেম, সংস্কৃতি, ভাষার সৌন্দর্য ও জাতীয় আবেগ। জয় বাংলা স্লোগান ছিলো সশস্ত্র যুদ্ধকালীন সময়ে বাঙালির প্রেরণার উৎস। যুদ্ধে সফল অপারেশন শেষে কিংবা যুদ্ধ জয়ের পর অবধারিতভাবে স্বাধীনতা সংগ্রামীরা চিৎকার করে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে চারপাশের জনগণকে বিজয়ের বার্তা পৌঁছে দিতো। কখন, কীভাবে কিংবা কী বিশেষ প্রয়োজনে এ জয় বাংলাস্লোগানটির উৎপত্তি হয়েছিলো, তার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরা হলো- সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৯। সেদিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের একটি সভা ছিলো। মধুর ক্যান্টিনের সে সভায় ১৭ মার্চ শিক্ষা দিবস যৌথভাবে পালনের জন্য কর্মসূচি প্রণয়ন নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা করছিলেন। সেদিন, সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদর আহূত সভায় আলোচনার এক পর্যায়ে তৎকালীন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে (তৎকালীন জিন্নাহ হল, যা বর্তমানে সূর্যসেন হল) প্রথম বর্ষের ছাত্র ও ছাত্রলীগ নেতা আফতাব উদ্দিন আহমেদ এবং দর্শন বিভাগে (ইকবাল হল, যা বর্তমানে সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ছাত্র ও ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক চিশতি শাহ হেলালুর রহমান (৭১ সালে শহীদ) জয় বাংলা স্লোগানটি উচ্চারণ করেন। সভা চলাকালীন সময়ে অনেকটা আকস্মিকভাবেই সকলকে চমকে দিয়ে চিৎকার করে জয় বাংলা স্লোগান দেন ছাত্রলীগ নেতা আফতাব উদ্দিন আহমেদ, পরক্ষণেই সেই স্লোগানের প্রত্যুত্তর দেন তৎকালীন ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক চিশতি শাহ হেলালুর রহমান। সঙ্গে সঙ্গেই আরো সাত-আটজন কর্মী প্রতিধ্বনি দিলো, জয় বাংলা। সেদিনের সেই সভায় আফতাব বেশ কয়েকবার জয় বাংলা স্লোগানটি দেন এবং শেষের দিকে উপস্থিত সংখ্যাগরিষ্ঠ কর্মীরাও এর প্রত্যুত্তর দেন। এরপর এভাবেই কিছুক্ষণ ওই স্লোগান চললো। বলা হয়ে থাকে সেটাই এ বাংলার বুকে জয় বাংলা স্লোগানের সর্বপ্রথম উচ্চারণ। আর এ দুই ছাত্রনেতাই ছিলেন নিউক্লিয়াস বা স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ-এর সদস্য। যদিও তার বেশ আগেই ১৯৬২ সালে গঠিত গোপন সংগঠন নিউক্লিয়াসর নেতৃবৃন্দ এবং ছাত্রলীগকর্মীরা যেকোনো আন্দোলনে স্বকীয়তা আর স্বাধীনতা প্রকাশ করার জন্য এবং আত্মপ্রত্যয় সৃষ্টির লক্ষ্যে জয় বাংলাকে প্রতীকী স্লোগান হিসেবে উচ্চারণ করতেন। এছাড়াও স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদতখন হাতে লেখা তিন পাতার একটি পত্রিকায় কয়েকটি সংখ্যা প্রকাশ করে যার নাম ছিলো জয় বাংলা। রবিবার, ১১/১৮ জানুয়ারি (তবে নিশ্চিতভাবে ১৮ জানুয়ারি-ই হবে), ১৯৭০। সেদিন, ঢাকা শহরের পল্টনে আওয়ামী লীগের জনসভায় সিরাজুল আলম খান সর্বপ্রথম জয় বাংলা স্লোগানটি উচ্চারণ করেছিলেন। স্লোগানটি ছিলো বাংলা শব্দ। জয়+বাংলা= জয় বাংলা অর্থাৎ বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষার জয়। বাংলার জয়ের কথা বলা হচ্ছে, তাই এ স্লোগান সকলের ভালো লেগেছিলো। সকলেই জয় বাংলা স্লোগানকে গভীর আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানেরও এ স্লোগান বেশ মনে ধরে। এরপর ৭০-এর ৭ জুন ঢাকার রেসকোর্স ময়দানের বিশাল এক জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার ভাষণে প্রথম যুক্ত করেন এ স্লোগানটি এবং উচ্চারণ করেন জয় বাংলা। আমাদের অস্তিত্বে জয় বাংলা শব্দের / স্লোগানের/ ধ্বনির ব্যবহার ও কার্যকারিতা আরো ব্যাপকভাবে বিস্তৃত। জয় বাংলা স্লোগানের উৎপত্তি এবং জাতীয় স্লোগানে পরিণত হবার রয়েছে এক ইতিহাস। সংক্ষেপে তা হলো- নিউক্লিয়াসর পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্লোগান নির্ধারণের জন্য তিনটি সেলকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো। এর মধ্যে একটি সেল জিয়ে সিন্ধ বা জিও সিন্ধ (জয় সিন্ধু)-এর মতো করে জয় বাংলা শব্দটি কাজে লাগানো যায় কি না সিরাজুল আলম খান এর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এ সেলটির মূল দায়িত্বে ছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আফতাব উদ্দীন আহমেদ (পরবর্তীতে ড. আফতাব আহমেদ)। সুবিধা মতো সময়ে জয় বাংলা স্লোগানের বিষয়টি নিউক্লিয়াস র বিবেচনায় আসে। নিউক্লিয়াসর সদস্যদের প্রত্যেকেরই ভেটো (Veto) দেয়ার সুযোগ ছিলো। এ ভেটো(Veto) প্রয়োগের কারণে প্রায় ৮-১০ দিন সময় লাগে জয় বাংলাকে অনুমোদন দানের ক্ষেত্রে। পাশাপাশি বলে দেয়া হয়েছিলো স্লোগানটিকে সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করার জন্য। যেন আর দশটা স্লোগানের মতো জয় বাংলাকে যত্রতত্র ব্যবহার না করা হয়। তুমি কে? আমি কে? বাঙালি-বাঙালি তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা-মেঘনা-যমুনা পি- না ঢাকা? ঢাকা-ঢাকা ছয় দফা-ছয় দফা, না হলে এক-দফা এগার দফা-এগার দফা, নাহলে এক-দফাবীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করোস্বাধীন করো স্বাধীন করো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো। এ স্লোগানগুলো নিউক্লিয়াস সেলর মাধ্যমে স্লোগান হিসেবে গ্রহণ করা হয়, যা পরবর্তীতে জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এসব কোনো সাধারণ স্লোগান নয়, যেন একেকটি ঐশী বাণী। স্বাধীনতাকামী বাঙালির প্রাণের স্পন্দন স্বাধীনতার বীজমন্ত্র মুক্তি ও বিজয়ের মূলমন্ত্র সশস্ত্র যুদ্ধের অনুপ্রেরণা এবং এগারোশো বছরের পরাধীনতার শেকল ভেঙে বাঙালির কাক্সিক্ষত স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের এক শক্তিশালী অস্ত্র। জয় বাংলা স্লোগানের বিষয়ে ছাত্রলীগের দুয়েকজন এবং আওয়ামী লীগের সবাই (বঙ্গবন্ধু ছাড়া) ঘোর আপত্তি করতো। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটিতেও জয় বাংলার বিষয়ে আলাপ আলোচনা হয় এবং তাঁরা জয় বাংলাকে নিয়ে ভারত ঘেঁষা রাজনীতি করা হচ্ছে এ যুক্তি তুলে ধরেন। শুধু কমিটিতেই নয়, আওয়ামী লীগ সভার সকলেই জয় বাংলার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন (তাজউদ্দিন আহমদ ছাড়া)। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের বৃহত্তর অংশই জয় বাংলা স্লোগানের সরাসরি বিরোধিতা করেন এবং তাঁরা এ স্লোগানের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর কাছে অভিযোগও করেন। //এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধুর সরাসরি উত্তর ছিলো, এ বিষয় নিয়ে তোমাদের মাথা ঘামাবার দরকার নেই। আওয়ামী লীগের বৃহত্তর অংশ এ আবদারমূলক রাজনীতির //প্রতি বঙ্গবন্ধুর কোনো রকম সমর্থন না পেয়ে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছিলো। তাঁরা জয় বাংলা স্লোগানকে ভারতের জয় হিন্দ ও সিন্ধুর জিয়ে সিন্ধ বা জিও সিন্ধ এর সঙ্গে মিশিয়ে এক ধরনের বিদ্রুপ করতো। আর সুযোগ পেলে জয় বাংলা স্লোগান দেয়া ছাত্রলীগ কর্মীদের ওপর চড়াও হতো। রবিবার, ৪ জানুয়ারি ১৯৭০। সেদিন, ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন প্রধান অতিথি। অনুষ্ঠানের শুরুতে জয় বাংলা স্লোগান দেয়া শুরু হলে দুয়েকজন আপত্তি করেন এবং এ স্লোগানটি বন্ধ করার জন্য সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অনুরোধ জানান। তা সত্ত্বেও জয় বাংলা স্লোগান বারবার উচ্চারিত হতে থাকে। সৈয়দ নজরুল ইসলাম তাঁর বক্তব্য প্রদানকালে জয় বাংলার পক্ষে বিপক্ষে অবস্থান পরিষ্কার করলেন না। বিষয়টি বুঝতে পেরে নিউক্লিয়াস নেতৃবৃন্দ চার-পাঁচজন মিলে একটি গ্রুপ হয়ে সন্ধ্যার পর থেকে শুরু করে রাত ১২/১টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের হল-হোস্টেলে জয় বাংলা স্লোগান দিতো। তখন রাতের অন্ধকারে হাতে লেখা পোস্টার লাগানো হতো ঢাকা শহরের প্রায় সর্বত্র (সে সময়কালে বৃহত্তর ঢাকার লোকসংখ্যা ছিলো দশ লাখের মতো, আজকের ঢাকা দিয়ে সেদিনের ঢাকাকে বোঝা একেবারেই অসম্ভব; বর্তমানে বৃহত্তর ঢাকার লোকসংখ্যা হলো দুই কোটি বিশ লাখ)। তখন ক্ষুদ্রাকার মিছিল করে জয় বাংলা স্লোগান দেয়া হতো। জয় বাংলা স্লোগানে মুখরিত মানুষ আন্দোলিত পুরো ঢাকা শহর। বিষয়টি বঙ্গবন্ধু পর্যন্ত পৌঁছানো হলো। তখন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি হিসেবে কে এম ওবায়দুর রহমানকে বঙ্গবন্ধুর কাছে পাঠানো হয়। কে এম ওবায়দুর রহমান বঙ্গবন্ধুর কাছে জয় বাংলাকে তুলে ধরেন গুরুতর আপত্তিমূলক স্লোগান হিসেবে। সিরাজুল আলম খান ওই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু তখন কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে পরবর্তীতে বিষয়টি সুরাহা করবেন বলে জানান। আসলে বিষয়টি ছিলো অত্যন্ত জটিল। তবে স্বাধীনতার প্রশ্নে জয় বাংলা স্লোগানের গুরুত্ব বিবেচনায় আসে। এ বিষয়ে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব নিউক্লিয়াসর পক্ষ থেকে সিরাজুল আলম খানকে দেয়া হয়। রবিবার, ১১/১৮ জানুয়ারি (তবে নিশ্চিতভাবে ১৮ জানুয়ারি-ই হবে), ১৯৭০। সেদিন, পল্টন ময়দানে আওয়ামী লীগের জনসভা হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ওই দিনটিতে কৌশলগতভাবে জয় বাংলা কে জনগণের কাছে প্রথমবারের মতো তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেয় নিউক্লিয়াস। গাজী গোলাম মোস্তফাকে (সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা শহর আওয়ামী লীগ) নিউক্লিয়াসর প্রতি পরোক্ষ একজন সহযোগী হিসেবে অতি নিপুণভাবে গড়ে তোলা হয়েছিলো। সভা উপলক্ষে পল্টনে আওয়ামী লীগের অন্যসব জনসভার চাইতে পাঁচ ফুট উঁচু করে বিশেষভাবে মঞ্চ নির্মাণ করার জন্য গাজী গোলাম মোস্তফাকে অনুরোধ জানানো হয়। ১৯৬৪-৬৫ সালে ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন সৈয়দ মজহারুল হক বাকি। ছাত্র রাজনীতির পর তিনি বিজ্ঞাপনী নামে একটি বিজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে ছিলেন, যার অফিস ছিলো জিন্নাহ এভিনিউতে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ)। কামাল আহমেদ ছিলেন যশস্বী খ্যাতিসম্পন্ন একজন অংকন শিল্পী (বর্তমানে তিনি কানাডা প্রবাসী) তবে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না এবং একই বয়স না হলেও (কামাল আহমেদ ছিলেন সিরাজুল আলম খান-এর চেয়ে ৪-৫ বছরের বড়) সিরাজুল আলম খান-এর সঙ্গে তাঁর সখ্যা ছিলো। শিল্পী কামাল আহমেদকে আনা হলো বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানে। সে সময় রবিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছিলো। সৈয়দ মজহারুল হক বাকি ও কামাল আহমেদকে সিরাজুল আলম খান (দৈর্ঘে প্রায় ৪ ফুট লম্বা পাশে ১০ ফুট চওড়া) কাঠের উপরে জয় বাংলা শব্দটি লেখার জন্য বলেন। লেখার পর এ কাঠটিকে দুভাগে ভাগ করা হয়। তখন বেলা তিনটে, পাঁচটায় জনসভা শুরু হবে। সে সময়কালে শহর আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য পনর-বিশ জনের বেশি ছিলো না। বাকিরা সবাই খ্যাতিমান এডভোকেট আব্দুস সালাম খান (সম্পর্কে বঙ্গবন্ধুর মামা)-র নেতৃত্বাধীন ছয় দফার বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা পিডিএম (Peoples Democratic Movement-PDM)-এ চলে যায়। সে সময় থেকে শুরু করে পরবর্তী সকল জনসভায় এবং অন্যান্য সাংগঠনিক কাজে ব্যস্ত থাকতে হতো নিউক্লিয়াস সদস্যদের। তখনই নিউক্লিয়াসর রাজনৈতিক উইং হিসেবে বিএলএফ (BLF-Bangladesh Liberation Force) গঠন করা হয়। এসব সময়ে ঢাকা শহরের সব স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং তখনকার ঢাকা শহরের অন্তর্ভুক্ত ৪২টি ওয়ার্ডে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠনের পাশাপাশি বিএলএফ (BLF)-এর সদস্য সংখ্যা খুব দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পেতে থাকে। গোটা বাংলাদেশেও তখন একই অবস্থা। শুধুমাত্র ঢাকা শহরেই তখন বিএলএফর সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন (৩.৫০) হাজার। আর জেলা-থানা (বর্তমানে উপজেলা) পর্যায়ে আড়াই (২.৫) হাজার। এ সংখ্যা গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান এবং সশস্ত্র সংগ্রামকালে বৃদ্ধি পেয়ে সাত (৭) হাজারে উন্নীত হয়। জনসভাসমূহে লোক সমাগম, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব বিএলএফ (BLF)-র সদস্যদের উপর দেয়া হয়। মূল দায়িত্বে ছিলেন কাজী আরেফ এবং মনিরুল ইসলাম (মার্শাল মনি)। অন্যান্য জনসভার মতো কবিয়াল শফি আহমেদ এখানেও তাঁর জনপ্রিয় কবিগান প্রায় একঘণ্টা ব্যাপী গেয়ে শুনালেন। রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ১৯৭০। দিনটি ছিলো স্বাধীনতার লক্ষ্যে পৌঁছানোর এমন এক সন্ধিক্ষণ, যার দায়িত্ব বর্তিয়ে ছিলো নিউক্লিয়াসর পক্ষ থেকে সিরাজুল আলম খান-এর উপর। সাধারণত সিরাজুল আলম খান সরাসরি কোনো দায়িত্বে থাকতেন না। তিনি যেসব দায়িত্বে থাকতেন তা হলো, রণনীতি ও রণকৌশল প্রণয়ন এবং জটিল বিষয়ে ও ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত দানের ব্যাপারে। সে দিনের গুরুত্বের কারণেই সিরাজুল আলম খান-এর উপরে এ দায়িত্ব দেয়া হয়। বেলা তিনটের দিকে কাঠের দুই অংশের এক অংশ আগেই বেশ উঁচু করে নির্মাণ করা মঞ্চের মাঝামাঝি জায়গায় শামিয়ানায় আটকানো হার্ডবোর্ডের ওপর লাগিয়ে দেয়া হয়। বাকি অংশ লাগানো হয় পাশাপাশি করে জনসভা শুরু হওয়ার দশ-পনেরো (১০-১৫) মিনিট আগে। জয় বাংলা লেখাটি রঙতুলিতে মাস্টারপিস (masterpiece) হিসেবে কাঠের খণ্ডে লিখেছিলেন শিল্পী কামাল আহমেদ। বেলা চারটে নাগাদ জনসভায় আগত মানুষের দ্বারা পল্টন ময়দানের আউটার স্টেডিয়াম ছিলো কানায় কানায় ভরপুর। যেসব খুঁটিতে মাইক হর্ণ (সরশব যড়ৎহ) লাগানো হয়েছিলো, প্রত্যেকটি খুঁটির গোড়ায় দুজন করে বিএলএফ (BLF) সদস্য ছিলেন। আর তাঁদের হাতে দেয়া হয়েছিলো একটি চিরকুট। নির্দেশ ছিলো সিরাজুল আলম খান যখন মঞ্চ থেকে স্লোগান দেবেন সে মুহূর্তে এ চিরকুট খোলা হবে। প্রায় ১০০টি মাইক হর্ণ লাগানো বাঁশের খুঁটির গোড়ায় ছাড়াও গোটা পল্টনের বিশেষ বিশেষ জায়গায়ও বিএলএফ(BLF) সদস্যদের দায়িত্ব ভাগ করে দেয়া হয়েছিলো। নিচে, মঞ্চের সামনে, পিছনে এবং চারপাশে বিএলএফ(BLF) সদস্যরা বিশেষ নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। সেদিন, আওয়ামী লীগের জনসভায় পুরো পল্টন জুড়ে ছিলো প্রচুর জনসমাগম। একমাত্র মসজিদটি ছাড়া তখনকার আউটার স্টেডিয়ামে আর কোনো স্থাপনা ছিলো না। পেছনে ডিআইটির দিকে বাস্কেটবল খেলার জন্য ছোটো ছোটো কাঠের গ্যালারির (স্টেডিয়াম) মতো কয়েকটি স্থাপনা ছিলো মাত্র। সেসময় পল্টন ময়দানে এক লক্ষের মতো লোকসমাগম হতে পারতো। তেমনই লোকে লোকারণ্য অবস্থায় ১৯৭০ সালের ১৮ জানুয়ারির জনসমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। সে মুহূর্তে ঢাকা শহরের লাখো মানুষের জনস্রোত যেন মিশে গিয়েছিলো পল্টন ময়দান (আউটার স্টেডিয়াম)। সভার বক্তৃতা মঞ্চটি ছিলো বিশেষভাবে নির্মিত বেশ কিছুটা উঁচু। মঞ্চের শামিয়ানায় আটকানো হার্ডবোর্ডের ওপর লাগানো কাঠের খণ্ডে উজ্জ্বল লাল রঙের দুটি শব্দ জয় বাংলা জ্বল জ্বল করছিলো। বেশ কিছুটা উঁচু করে মঞ্চ তৈরি করার কারণে দর্শকরা দূর থেকেও তা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলেন। সভার শুরুতে তাজউদ্দীন আহমদ বক্তব্য রাখলেন। সভাপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু। মঞ্চে উপবিষ্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, খন্দকার মোশতাক আহমেদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও গাজী গোলাম মোস্তফা ছাড়া আর কোনো আওয়ামী লীগ নেতা ছিলেন না। তবে আওয়ামী লীগ করতেন না কিন্তু তৎকালীন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের প্রধান কাজে সদা ব্যস্ত থাকতেন এমন একজন ব্যক্তির সেই মঞ্চে উপস্থিতি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। আর সেই ব্যক্তিটি ছিলেন সিরাজুল আলম খান। গাজী গোলাম মোস্তফার উপর একটি দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো, যেভাবে হোক বঙ্গবন্ধুকে স্লোগান দেয়ার জন্য সিরাজুল আলম খানকে অনুরোধ করা। তাজউদ্দীন আহমদের বক্তব্যের পর বঙ্গবন্ধু মঞ্চে বসা অবস্থায় বললেন, সিরাজ স্লোগান দে। কথাটি বঙ্গবন্ধু দুবার বললেন। সিরাজুল আলম খানও এ মুহূর্তটির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। যেনো অনেকটা যাদু দেখানোর মতো ভঙ্গিতে সিরাজুল আলম খান মাইকের সামনে এলেন। এসে অত্যন্ত আবেগ মিশ্রিত বলিষ্ঠ কণ্ঠে বললেন, আজকের এ দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে বাংলাদেশের জন্য। প্রিয় ভাই-বোনেরা আপনারা দেখছেন ওই উপরে জ্বল জ্বল করছে দুটি শব্দ জয় বাংলা। আসুন, সাত কোটি মানুষের পক্ষ হয়ে আমরা সকলকে জানিয়ে দিতে চাই, বাঙালি আমাদের পরিচয়। আসুন, যার কণ্ঠে যতো জোর আছে সবটুকু দিয়ে আমরা একই সঙ্গে বলে উঠি, জয় বাংলা। আজ থেকে জয় বাংলাকে আমাদের ভবিষ্যৎ আন্দোলনের স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করা হবে। আসুন, আমরা সবাই কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে আওয়াজ তুলি জয় বাংলা। তিনি আবারো বললেন, জয় বাংলা। তখন লক্ষ কণ্ঠের সমস্বরে আকাশ থেকে বাজ পড়ার মতো কানফাটা আওয়াজে জয় বাংলা স্লোগানের ধ্বনি পল্টনকে মুখরিত করে তোলে। প্রত্যেক খুঁটির গোড়ায় চিরকুট ইতিমধ্যে খোলা হয়ে গেছে। নির্দেশ ছিলো জয় বাংলাকে প্রতিধ্বনিত করে জয় বাংলা বলা। পল্টনেই শুধু নয়, ফিরে যাবার মুহূর্তেও সকলের মুখে মুখে ধ্বনিত হচ্ছিলো জয় বাংলা! আত্মপ্রত্যয়ের এক শব্দ জয় বাংলা বাঙালি জাতির পরিচয়ের এক শব্দ জয় বাংলা যেনো একটি ব্যক্ত আবেগের শব্দ জয় বাংলা! সেই থেকে বাংলাদেশের জনগণ প্রথম জানালো তাদের আগামী দিনের স্লোগান জয় বাংলা। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, নিউক্লিয়াস (স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ)-এর সিদ্ধান্ত অনুসারে আনুষ্ঠানিকভাবে এটাই প্রথম জনসম্মুখে জয় বাংলা স্লোগানের উদ্বোধন। তাজউদ্দীন আহমদের পর একে একে বক্তৃতা দিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, খন্দকার মোশতাক আহমেদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী। সভাপতি হিসেবে এবার বক্তব্য দিবেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাও ঘোষণা করলেন সিরাজুল আলম খান। আবারো সিরাজুল আলম খান মাইকের সামনে গেলেন। ঘোষণা দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে বক্তব্য দেয়ার জন্য আহ্বান জানালেন। এ সিরাজুল আলম খান যেন অতি পরিচিত সিরাজুল আলম খান নয়। নতুন পরিচিতি। নতুন অভিব্যক্তি। নতুন প্রকাশভঙ্গি। নতুন প্রাণশক্তি। নতুন রাজনীতির সূর্যোদয়ের আহ্বান। সিরাজুল আলম খান বঙ্গবন্ধুকে বক্তব্য দেবার আহ্বানের সময় জয় বাংলা ধ্বনি দিলেন। আবারো দিলেন, তখন সভা থেকে লক্ষ কন্ঠের প্রতিধ্বনি অনুরণিত হয়ে আকাশে গর্জনের মতো শোনা গেল। গর্জনের শব্দের তীব্রতা মুহুর্মুহু প্রতিধ্বনি হলো। সে গর্জন শেষ বিকেলের শীতল বাতাস বয়ে নিয়ে গেল গোটা ঢাকা শহরে। লক্ষাধিক বাঙালির বাঁধভাঙ্গা আবেগ আর প্রত্যাশায় এ যেনো এক নবজাগরণের ইঙ্গিত। বঙ্গবন্ধু বক্তৃতা করছেন সে সুযোগে মঞ্চে বসা খন্দকার মোশতাক আহমেদ সিরাজুল আলম খানকে কাছে ডেকে নিয়ে বললেন, ভাইডি কামডা সাইরে দিসো। তুমি বলেই পারলা। আর কেউ পারতো না! জানো সিরাজ, পৃথিবীর ইতিহাসে আর একজন মানুষ রাশিয়া বিপ্লবের স্লোগান হিসেবে দিয়েছিলো, জমি, রুটি, স্বাধীনতা! জানো সে লোকটা ক্যাডা? লেনিন, লেনিন। ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতা শেষ। জনসভার লক্ষাধিক মানুষের কণ্ঠে একই শব্দ এবং আওয়াজ জয় বাংলা। মনে হচ্ছিলো সারা ঢাকা যেন নতুনভাবে জেগেছে। পাখির ডাকে নয়, গগণবিদারী গর্জনের শব্দে। আর সে শব্দ হলো জয় বাংলা। জয় বাংলা কোনো দল বা ব্যক্তির স্লোগান নয়, এ স্লোগান ছিলো বাঙালির আত্মপরিচয়ের স্লোগান, স্বাধীনতাকামী জনগণের ঐক্যের স্লোগান, অর্জিত সাহসের স্লোগান, শত্রুমুক্ত করে স্বাধীন সার্বভৌমত্ব অর্জনের স্লোগান। জয় বাংলা শুধু একটি স্লোগান নয়, একটি ইতিহাস সংগ্রাম আর ভবিষ্যতের নাম। এ স্লোগান ৭১-এ বাঙালি জাতিকে করেছিলো ঐক্যবদ্ধ আর সশস্ত্র যুদ্ধকে করেছিলো ত্বরান্বিত। এ স্লোগান কণ্ঠে নিয়ে বাঙালিরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো সশস্ত্র সংগ্রামে। রণাঙ্গনে বুলেটের চেয়েও শক্তিশালী ছিলো এ জয় বাংলা। এগারশবছর ধরে যে বাঙালিদের নিরস্ত্র করে রাখা হয়েছিলো স্বাধীনতা সংগ্রামের শেষ পর্যায়ে সে বাঙালিদের হাতে রাইফেল তুলে নেয়ার জন্যও জয় বাংলাস্লোগান ছিলো বীজমন্ত্র। এ বীজমন্ত্রই প্রতিটি সশস্ত্র যোদ্ধা এবং জনগণকে বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো-স্লোগানের মাধ্যমে উজ্জীবিত করেছিলো। জয় বাংলা মানে- সে সকল মানুষের জয়, যারা এ বাংলার মাটি ও মানুষকে শোষণ-নির্যাতন থেকে মুক্ত করার প্রত্যয়ে যুগে যুগে লড়াই করে হটিয়ে দিয়েছে- সেন, আর্য, সুলতান, মুঘল, পাঠান, মারাঠি, পর্তুগিজ, দিনেমার, ওলন্দাজ, ফিরিঙ্গি, বর্গি, ইংরেজ, নীলকর, কাবুলিওয়ালা, জমিদার-জোতদার, পাকিস্তানিসহ বিদেশি পরাশক্তিকে। আর বুঝিয়ে দিয়েছে জয় বাংলা শুধু সাধারণ একটি স্লোগান নয়, জয় বাংলা বাঙালির মটো (motto)। আন্দোলন-সংগ্রাম এমন কি সশস্ত্র যুদ্ধের কোথাও কোনোদিন বাঙালিরা বলেননি বাংলাদেশ জিন্দাবাদ কিংবা বাংলাদেশ চিরজীবী হোক। সময়ের ব্যবধানে সে জয় বাংলা আজ ষোল-সতের (১৬/১৭) কোটি মানুষের প্রিয় স্লোগান/ধ্বনি। বঙ্গবন্ধু তাঁর ৭ মার্চের ভাষণে জয় বাংলা স্লোগান দিয়েই বক্তব্য শেষ করেছিলেন। আজকাল দুয়েকজন আহাম্মক অতি পা-িত্য জাহির করার মধ্য দিয়ে বাঙালি বিরোধী কিছু কথা বলার চেষ্টা করছেন। তা হলো-বঙ্গবন্ধু নাকি জয় বাংলা বলার পর জয় পাকিস্তান উচ্চারণ করেছিলেন। এরা পঞ্চম বাহিনীর লোক (5th columnist) লোক। এরা পাকিস্তান থাকতে পাকিস্তানিদের দালালি করতো। মার্চ মাসের আগের দিন পর্যন্ত এরা পাকিস্তানি হয়েই কাজ করতো। সর্বশেষ না পেরে এরা বাঙালি বন্ধু হয়ে উঠেন। ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধু কেন জয় পাকিস্তান শব্দ উচ্চারণ করবেন? ওই সময় গোটা আন্দোলন ছিলো নিউক্লিয়াস-বিএলএফ-এর হাতে। এ নিউক্লিয়াস-বিএলএফ-এর মাধ্যমেই গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা হয়েছিলো। বঙ্গবন্ধু ছিলেন স্বাধীনতাকামী জনগণের নেতা। আহাম্মকরা তাদেরকে যতোই চতুর মনে করুন না কেনো, তারা আসলে সার্কাসের ভাঁড়। লেখক: তাত্ত্বিক, রাজনৈতিক গবেষক ও মুক্তিযুদ্ধকালীন নিউক্লিয়াস-এর সদস্য সূত্র: মানবজমিন

মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়াক

তসলিমা নাসরিন :নিউইয়র্কের অল্প যে কজন বাঙালিকে চিনি, তাঁরা কেউ পশ্চিমবঙ্গের, কেউ বাংলাদেশের। পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের সম্পর্কে একটু খোঁজ নিলেই তথ্য বেরিয়ে আসে, বাপ ঠাকুর্দার বাড়ি ছিল পূর্ববঙ্গে, দেশ ভাগের সময় বা ষাট-সত্তরের দশকে দেশ ছেড়ে ভারতে চলে গেছেন। কিন্তু পূর্ববঙ্গে ফেলে আসা ভিটেমাটি, ঘরবাড়ি, আম কাঁঠালের বাগান, পুকুর ভরা মাছ আর গোলা ভরা ধানের কথা মনে করে তাঁরা দীর্ঘশ্বাস ফেললেও ওখানকার মানুষের সঙ্গে ওঠা বসা করতে মোটেও রাজি নন। যথাসম্ভব নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখেই চলাফেরা করেন। পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুরা বাংলাদেশের মুসলমানদের শুধু এড়িয়ে চলেন না, বাংলাদেশের হিন্দুদেরও এড়িয়ে চলেন। দুই বাংলার হিন্দুদের মধ্যে বন্ধুত্ব হয় না কেন, এ নিয়ে আমি প্রায়ই ভাবি। আমার মনে হয় শ্রেণীর তফাতের কারণেই পুব আর পশ্চিমের বাঙালির মধ্যে, ওপারের হিন্দু আর এপারের মুসলমানের মধ্যে, এমনকী ওপারের হিন্দু আর এপারের হিন্দুর মধ্যে সখ্য গড়ে ওঠে না। পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুরা তুলনায় অবস্থাপন্ন, পেশায় ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার প্রফেসর বিজ্ঞানী। বাংলাদেশের হিন্দুরা অধিকাংশই শ্রমিক। বাংলাদেশের হিন্দুরা মিশতে চাইলেও পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুরা তাঁদের সঙ্গে মিশতে চান না। অগত্যা বাংলাদেশের হিন্দু বাংলাদেশের মুসলমানের সঙ্গেই মেশেন। দুই বাংলার হিন্দুর মধ্যে ভাষা আর সংস্কৃতির যত মিল, তার চেয়ে আমার মনে হয়, বেশি মিল বাংলাদেশের হিন্দু আর বাংলাদেশের মুসলমানের মধ্যে। ধর্মচর্চাটুকু বাদ দিলে বাকি সব—লুঙ্গি গেঞ্জি, শুঁটকি ভর্তা, শেষ পাতের ডাল, দুপুরের ঘুম, অতিথিপরায়ণতা সবই মেলে বাংলাদেশের হিন্দুর সঙ্গে মুসলমানের। ধর্মচর্চারও বিবর্তন হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের পুজোর উৎসব বাংলাদেশের পুজোর উৎসবের চেয়ে ভিন্ন হচ্ছে দিন দিন। আজ যা বলার জন্য আমি এসেছি, তা হলো, গত সপ্তাহে ‘হাবেলি’ নামে কুইন্সের একটি ভারতীয় খাবারের রেস্তোরাঁয় আমাকে নিমন্ত্রণ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের এক বাঙালি। আরও একজনকেও নেমন্তন্ন করা হয়েছে। তিনি তথাগত রায়। সাবেক বিজেপি নেতা, এখন ত্রিপুরার গভর্নর। রেস্তোরাঁয় গিয়ে দেখি তিরিশ চল্লিশ জন লোক। ওঁরা বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ—মূলত দুই বাংলার হিন্দু। পরস্পরকে ভালোবেসে তাঁরা একজোট হয়েছিলেন, তা কিন্তু নয়। যদিও ভারতীয় জনতা পার্টির আদর্শকে দুই বাংলার হিন্দুই সমর্থন করেন। হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিও দুই অঞ্চলের হিন্দুদের মধ্যে সখ্য গড়ে তোলায় ভূমিকা রাখতে পারেনি। হাবেলিতে দুই অঞ্চলের হিন্দুদের মধ্যেও ছিল স্পষ্ট এক বিভাজন। রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশের হিন্দুদের পাশে দাঁড়ালেও, সামাজিকভাবে দূরে সরিয়েই রেখেছে। বাংলাদেশের হিন্দুরা তাঁদের দুঃখ দুর্দশার কথা সবাইকে জানাবেন, সম্ভবত এই উদ্দেশেই রেস্তোরাঁটিতে গিয়েছেন। তথাগত রায়ের পূর্বপুরুষ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার লোক। তথাগত রায়, আমার মনে হয়, ভারতীয়দের মধ্যে, বাংলাদেশী হিন্দুদের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি সরব। তাঁকেই যদি বাংলাদেশী হিন্দুরা নিজেদের দুর্ভোগের কথা জানাতে পারেন, হয়তো তিনিই বর্তমান সরকারকে বলে কয়ে দুর্ভোগ দূর করার চেষ্টা করবেন! তথাগত বাবু রেস্তোরাঁয় ঢোকার আগেই বাংলাদেশের কয়েকজন হিন্দু উপস্থিত সকলের উদ্দেশে বর্ণনা করলেন মুসলমানরা তাঁদের কী করে অত্যাচার করছে বাংলাদেশে, কী করে তাঁদের বাড়ি ঘর পোড়াচ্ছে, জমি জমা কেড়ে নিচ্ছে, দোকানপাট লুট করছে, মঠ মন্দির ভেঙে ফেলছে। বর্ণনা করলেন, কী করে হিন্দুরা বাধ্য হচ্ছে দেশ ত্যাগ করতে। ক্ষোভ প্রকাশ করলেন, এ নিয়ে হিন্দু-প্রধান দেশ ভারতের কোনও প্রতিক্রিয়া নেই কেন, পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদেরও কেন কোনও হেলদোল নেই, কেন কেউ রা শব্দ করে না। কেন পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুরা পূর্ব বাংলায় ফেলে আসা তাঁদের চমৎকার জমিদারির স্মৃতি চারণ করেন, কেন উল্লেখ করেন না, মুসলমানের মার খেয়ে পালিয়েছেন দেশ ছেড়ে! দু’একজন হিন্দুর কণ্ঠ থেকে স্পষ্টতই মুসলিম-বিদ্বেষ ঝরে পড়ে। তথাগত রায় ভালো বক্তা। যা বলতে চান, তা বেশ গুছিয়ে বলতে পারেন। সেদিন তিনি যা বললেন, তা হলো, পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি হিন্দুদের লড়াই করতে হবে বাংলাদেশের নির্যাতিত হিন্দুদের জন্য। এ ছাড়া বাংলাদেশের হিন্দুদের দুর্দশা ঘোচানোর আর কোনও পথ নেই। মারাঠী হিন্দু, তেলুগু হিন্দু, রাজস্থানী হিন্দু, বিহারি হিন্দু, পাঞ্জাবী হিন্দু, কন্নড় হিন্দু, —কেউ বাংলাদেশের বাঙালি হিন্দুদের দুঃখ ততটা অনুভব করবেন না, যতটা অনুভব করবেন পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি হিন্দু। কারণ তাঁরাই তাঁদের আত্মীয়, তাঁরাই স্বজন। পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি হিন্দুরা বাংলাদেশের বাঙালি হিন্দুদের নিরাপত্তার জন্য আন্দোলন করলে ভারত সরকার চাপ সৃষ্টি করবেন বাংলাদেশের সরকারের ওপর। এতেই যদি বাংলাদেশ সরকার সমস্যার সমাধান করেন। তথাগত রায় বারবারই বললেন, হিন্দুদের দাঁড়াতে হবে হিন্দুদের পাশে, এ ছাড়া হিন্দুদের বাঁচার কোনও পথ নেই। হিন্দু জনসংখ্যা যে হারে কমছে, এ ভাবে কমতে থাকলে শূন্য হতে আর বেশি দেরি নেই। আমি একমত হইনি তথাগত রায়ের সঙ্গে। বলেছি, বাংলাদেশের হিন্দুদের ওপর অত্যাচার হয়, এ মোটেও অজানা নয়, এসবের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষদের। বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানই সংখ্যালঘু হিন্দুদের আত্মীয়, স্বজন। সংখ্যালঘুরা বাংলাদেশের নাগরিক। জাতি-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিককে নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব বাংলাদেশের সরকারের। অথচ হিন্দুদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিলেও ধর্মান্ধ জিহাদিদের বিরুদ্ধে কোনও সরকারই কোনও ব্যবস্থা নেননি। মুক্তচিন্তায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল লেখক প্রকাশক ব্লগারদের এক এক করে খুন করে ফেললেও ধর্মান্ধ জিহাদিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। সরকার সমর্থকরা বরং ধর্মান্ধদের নিয়ে ওলামা লীগ নামে একটি দল তৈরি করেছেন। হিন্দুদের ঘৃণা করার জন্য, মন্দিরের মূর্তি ভেঙে ফেলার জন্য, দিন রাত মুসলমানদের উদ্বুদ্ধ করছেন কোনো কোনো পীর হুজুর। নিরীহ কিশোর-তরুণদের বেহেস্তের লোভ দেখিয়ে মগজধোলাই করছেন। সবকিছু জানার পরও এঁদের ওয়াজ বন্ধ করার কোনও ব্যবস্থা সরকার আজও নেননি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে খুব পছন্দ ভারতের। দু’চারজন যুদ্ধাপরাধী রাজাকারকে ফাঁসিতে চড়িয়েছেন বলে হাসিনাকে মৌলবাদবিরোধী শক্তি বলে ভাবার কোনও কারণ নেই। হিন্দুদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা বাংলাদেশের কোনও সরকার করেননি। কিন্তু করতে হবে। দেশের মানুষ— যাঁরা গণতন্ত্রে, মানবাধিকারে, ধর্মনিরপেক্ষতায়, অসাম্প্রদায়িকতায়, বাক স্বাধীনতায়, মানবতায় বিশ্বাস করেন, তাঁদেরই উদ্যোগ নিতে হবে সমাজ বদলাবার, রাষ্ট্রধর্মকে বিদেয় করার, সংবিধানকে সেক্যুলার করার। প্রগতিশীল মানুষের সংখ্যা বাড়লেই হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। তথাগত রায়ের মূল বক্তব্য, হিন্দুদের দাঁড়াতে হবে হিন্দুদের পাশে। শুনে মনে হলো, বাংলাদেশের মুসলমান ছ’ মিটার দূরে পাশের বাড়ির হিন্দুর ওপর অত্যাচার হলে মোটেও ফিরে তাকায় না, কিন্তু ছ’ হাজার কিলোমিটার দূরে গাজার মুসলমানের ওপর অত্যাচার হলে প্রতিবাদ করতে রাস্তায় বেরোয়। জিহাদিরা যেমন মুসলমানদের বলে মুসলমানের পাশে দাঁড়াতে, তেমনি তিনি হিন্দুদের বলছেন হিন্দুদের পাশে দাঁড়াতে। হিন্দু মৌলবাদিদের দেখেছি মুসলিম মৌলবাদিদের অনুসরণ করতে। মুসলিম মৌলবাদিদের তাঁরা ঘৃণা করেন ঠিকই, কিন্তু তাঁদের আদর্শ মেনে চলতে মোটেও দ্বিধা করেন না। মুসলিম ভ্রাতৃত্ব যেমন সংকীর্ণ মনের পরিচয় দেয়, হিন্দু ভ্রাতৃত্বও তেমন সংকীর্ণ মনের পরিচয় দেয়। তথাগত রায়ের বক্তব্য খণ্ডন করে আমি বলেছি, হিন্দুকে হিন্দুর পাশে, মুসলমানকে মুসলমানের পাশে, ইহুদিকে ইহুদির পাশে, খ্রিস্টানকে খ্রিস্টানের পাশে দাঁড়াতে হবে—এ বড় ক্ষুদ্র, উগ্র, ধর্মসর্বস্ব ভাবনা। আমি হিন্দু নই, হিন্দু ধর্মে আমি বিশ্বাস করি না, কিন্তু নির্যাতিত হিন্দুদের পাশে আমি দাঁড়াই। নির্যাতিত মুসলমান, নির্যাতিত ইহুদি খ্রিস্টান, নির্যাতিত বৌদ্ধর পাশে দাঁড়াই। মানবতা এরই নাম। এরই নাম মনুষ্যত্ব। আসলে, মানুষকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে; সে মানুষ যে ধর্মের, যে বর্ণেরই হোক না কেন, যে জাতি, যে ভাষা, যে সংস্কৃতিই তার হোক না কেন। মানুষ যেন মানুষের পাশে দাঁড়ায়—এমন সমাজই আমাদের তৈরি করতে হবে। হিংস্রতা, ক্ষুদ্রতা, স্বার্থপরতা ভুলে আমরা যেন গণতন্ত্রে, মানবাধিকারে, পরোপকারে বিশ্বাস করি। শুধু নিজের গোষ্ঠীর লোক নির্যাতিত হলেই প্রতিবাদ করবো, অন্য কারও দুঃখ দুর্দশা ঘোচাতে চাইবো না—এই ক্ষুদ্রতা কোনও সম্প্রদায়কে মহান করে না। বাংলাদেশের নির্যাতিত হিন্দুর পাশে শুধু ভারতের হিন্দু কেন, সারা পৃথিবীর মানুষকে দাঁড়াতে হবে, হিন্দু বৌদ্ধ মুসলিম খ্রিস্টান ইহুদি নাস্তিক সবাইকে দাঁড়াতে হবে, মানবতার জন্য দাঁড়াতে হবে। শুধু ধর্ম বিশ্বাস ভিন্ন বলে কারও ওপর অন্যায় করার অধিকার কারও নেই বলে দাঁড়াতে হবে। ভারত সরকারকে দিয়ে বাংলাদেশের হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে কেন? বাংলাদেশের হিন্দুদের নিরাপত্তা এবং নিরাপত্তাবোধ নিশ্চিত করার দায়িত্ব বাংলাদেশের সরকারের। বাংলাদেশের মানুষই নিরাপত্তা হবে বাংলাদেশের মানুষের। মানুষ যদি অমানুষ হয়ে ওঠে, তাহলে দেশের সরকারের পক্ষে দুরূহ হয়ে ওঠে অমানুষকে মানুষ করা। যারা নিজেরা শুদ্ধ হতে, নিজেরা সৎ হতে, সহিষ্ণু হতে, সমমর্মী হতে, সমব্যথী হতে, মোদ্দা কথা মানুষ হতে অসমর্থ, বাইরের কোনও শক্তির চাপে তারা মানুষ হবে, এ অসম্ভব। বাংলাদেশের হিন্দুরা বাইরের হস্তক্ষেপ চাইছেন। বাইরের হস্তক্ষেপের চাইতে ঘরের ভেতর সামাজিক আন্দোলন অনেক বেশি জরুরি।বাংলাদেশ প্রতিদিন লেখক : নির্বাসিত লেখিকা।

আজকের মোট পাঠক

32729

নিউজ একাত্তর ডট কম

সম্পাদক : মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী

নির্বাহী সম্পাদক : আহাম্মদ হোসেন ভুইয়া

একটি পপুলার মিডিয়া পাবলিকেশন এর প্রকাশনা | রেজি নং: চ-১২৪২৭/১৭

সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয় : ৪১৬/সি,খিলগাও ঢাকা। ফোন : ০৩১-২৭৭১১৮৮, ০১৮২৪২৪৫৫০৪, ০১৭৭৮৮৮৮৪৭২

চট্টগ্রাম কার্যালয় : ১০/১১ বি ৩য় তলা, হানিমুন টাওয়ার,পাহাড়তলী,চট্টগ্রাম।

ই-মেইল : newsekattor@gmail.com, editorekattor@gmail.com, কপিরাইট ©newsekattor.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত