শ্রীলঙ্কার কারাগারে দাঙ্গায় নিহত ৬, আহত ৫২

৩০নভেম্বর,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শ্রীলঙ্কার একটি কারাগারে দাঙ্গায় কারারক্ষীদের সঙ্গে বন্দিদের সংঘর্ষে অন্তত ৬ জন নিহত এবং ৫২ জন আহত হয়েছেন। বিবিসি জানিয়েছে, শ্রীলঙ্কার কারাগারগুলোতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে। এ কারণে আতঙ্কিত বন্দিরা নিরাপত্তা ও জামিনে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় কারারক্ষীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কারারক্ষীরা গুলি করে। পুলিশের মুখপাত্র অজিত রোহানা বলেন, মাহারা কারাগারে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কারারক্ষীরা বল প্রয়োগ করেছেন। আহতদের স্থানীয় রাগামা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন কারাগারে অন্তত এক হাজার বন্দির শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি বন্দি রয়েছে। ফলে বন্দিরা আরও বেশি সুযোগ-সুবিধার জন্য বিক্ষোভ করছেন।...

নাইজেরিয়ায় ৪৩ শ্রমিককে গলা কেটে হত্যা

২৯নভেম্বর,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৪৩ শ্রমিককে গলা কেটে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। গত শনিবার দেশটির কশোবি নামক প্রত্যন্ত এক গ্রামে ধানক্ষেতে কাজ করার সময় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শ্রমিকদের সবাইকেই বাঁধার পর গলা কেটে হত্যা করা হয়। হামলাকারীদের খুঁজতে তল্লাশি শুরু করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। খবর আল জাজিরা, এএফপি ও রয়টার্সের। ওই ধানক্ষেতে কাজ করা মোট ৬০ জন কৃষকের মধ্যে ৪৩ জনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে, আহত হয়েছেন ছয়জন। আরও আট কৃষক নিখোঁজ রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তাদেরকে অপহরণ করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি কে স্থানীয় একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতা বাবাকুরা কোলো বলেন, ৪৩টি মরদেহ পেয়েছি। সবাইকে হত্যা করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া গেছে ছয়জনকে। এই হামলার বিষয়ে কোলো বলেন, এটা বোকো হারামের কাজ তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তারা এই এলাকায় কৃষকদের ক্রমাগত আক্রমণ করছে। স্থানীয় এক নেতার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছে। ইব্রাহিম লিমান নামে আরেক স্থানীয় যোদ্ধা জানান, নিহত কৃষকরা কাজের খোঁজে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূরবর্তী সোকোতো অঞ্চল থেকে কশোবি এসেছিলেন। এর আগে, গত মাসে মাইদুগুরি এলাকার কাছে পৃথক দুটি ঘটনায় ২২ জন কৃষককে হত্যা করেছিল বোকো হারামের সদস্যরা। দেশটির উত্তর-পূর্বাংশে বোকো হারাম ও ইসলামিক স্টেট (আইএসডব্লিউএপি) বেশ সক্রিয়। তাদের সঙ্গে সহিংসতায় হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাস্তুচ্যুত হয়েছেন অন্তত ২০ লাখ অধিবাসী।...

সন্ত্রাসী হামলায় নিহত কে এই ইরানের পরমাণু বিজ্ঞানী

২৮নভেম্বর,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির কুদস ফোর্সের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল কাসেম সোলাইমানি। এবার আরও এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে হারিয়েছে দেশটি। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন ইরানের বোমার জনক নামে পরিচিত মোহসেন ফখরিযাদে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যানুযায়ী, নিহত মোহসেন ফখরিযাদে ইরানের সবচেয়ে প্রবীণ পরমাণু বিজ্ঞানী। যিনি ছিলেন দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবনী সংস্থার প্রধান। এর আগে ইসলামী প্রজাতান্ত্রিক দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ডের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন ফখরিযাদে। যিনি ইরানে বোমার জনক নামে পরিচিত। তার মর্যাদা ছিল মন্ত্রণালয়ের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও রেভরল্যুশনারি গার্ডের ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের সমান। প্রবীণ এই পদার্থ বিজ্ঞানী ১৯৫৮ সালে ইরানের শিয়া সম্প্রদায়ের পবিত্র নগরী হিসিবে পরিচিত কওম নামক শহরে জন্মগ্রহণ করেন। পরমাণু প্রকৌশল নিয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি। ইরানের ইউনিভার্সিটি অব ইমাম হোসেইনর পরমাণু বিভাগের অধ্যাপকেরও দায়িত্ব পালন করেছেন মোহসেন ফাখরিযাদে। দীর্ঘ দিন পর্যন্ত ইরানি পরমাণু বিজ্ঞানী হিসেবে তাকে কখনই দেশটির গণমাধ্যম প্রকাশ্যে আনতো না। বরং তাকে একজন সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হিসেবেই তুলে ধরা হয়ে আসছিল। কিন্তু যখন ছয় জাতি জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের পরমাণু বিষয়ক চুক্তি হয় তারপর থেকেই মোহসেন ফাখরিযাদের নাম প্রকাশ্যে আসে। সেই থেকে ইসরায়েল ও পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলে আসছে তিনি ইরানের খুবই ক্ষমতাশালী ব্যক্তি এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচির প্রধান স্তম্ভ। ২০১৮ সালে ইসরায়েল বলেছিল, তাদের হাতে যেসব গোপন নথিপত্র এসেছে সেগুলো অনুয়ায়ী ইরানের পরমাণু কর্মসূচির তিনি প্রধান রূপকার মোহসেন ফাখরিযাদে। তার নেতৃত্বেই ইরানের পরমাণু কর্মসূচি গড়ে উঠেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সেসময় বলেছিলেন ওই নামটা (মোহসেন ফাখরিযাদে) মনে রাখবেন- তিনিই ইরানের পরমাণু কর্মসূচির প্রধান বিজ্ঞানী। ২০১৫ সালে নিউইয়র্ক টাইমস তার তুলনা করেছিল জে রবার্ট ওপেনহাইমারের সাথে। ওপেনহাইমার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ম্যানহাটান প্রকল্পের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন যে প্রকল্পের অধীনে প্রথম আণবিক বোমা তৈরি করা হয়। এদিকে, এ হামলার জন্য ইসরায়েলকে অভিযুক্ত করছে ইরান। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে প্রতিশোধ নেয়া ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সেনা প্রধান। এর আগে ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ইরানের চারজন পরমাণু বিজ্ঞানী আততায়ীর হাতে প্রাণ হারিয়েছেন এবং এইসব হত্যার ঘটনায় ইসরায়েল জড়িত বলে ইরান অভিযোগ করে আসছে দেশটি। ইরানের রেভরল্যুশনারি গার্ডের কমান্ডার বলেছেন এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেয়া হবে। ...

গুজরাটে কোভিড হাসপাতালে আগুন, ৫ রোগীর মৃত্যু

২৭নভেম্বর,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারতের গুজরাট রাজ্যের রাজকোটে একটি কোভিড হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ওই হাসপাতালের ৫ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকালে ওই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ৩০ রোগীকে অগ্নিকাণ্ড থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপানি এই ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। শুক্রবার ভোরে মাভদি এলাকার উদয় শিভানন্দ হাসপাতালের আইসিইউতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটেছে। কী কারণে ওই দুর্ঘটনা ঘটেছে তা এখনও নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। পিটিআই নিউজ এজেন্সিকে এক দমকল কর্মকর্তা বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়েই আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গেছি। আইসিইউর ভেতরে অগ্নিকাণ্ডের র্ঘটনায় তিন রোগী প্রাণ হারিয়েছেন। সেখান থেকে ৩০ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার করা রোগীদের অন্য একটি কোভিড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এর আগে গত আগস্টে আহমেদাবাদে একটি চারতলা বিশিষ্ট হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে আট করোনা রোগী নিহত হয়।...

মাস্ক না পরায় ৩৫ জনকে জরিমানা

৩০নভেম্বর,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মাস্ক না পরায় ৩৫ জনকে জরিমানা করেছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ সোমবার নগরীর ফিরিঙ্গীবাজার, নতুন ব্রিজ, চাক্তাই, লালখান বাজার, ওয়াসা মোড় ও আন্দরকিল্লা মোড় এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগন । অভিযানে ফিরিঙ্গীবাজার, নতুন ব্রিজ, চাক্তাই এলাকায় মোবাইল কোর্টে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলী হাসান। এসময় তিনি মাস্ক মুখে থাকলেও মুখ খোলা অবস্থায় চলাফেরা ও না পরার দায়ে ১৬ জনকে ২ হাজার ৬শ টাকা জরিমানা করেন। অন্যদিকে নগরীর লালখান বাজার ও ওয়াসা মোড় এলাকায় অভিযান চালায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারজান হোসেন। এসময় তিনি একই অপরাধে ১১ জনকে ১ হাজার ৩শ টাকা জরিমানা করেন । এছাড়া অপর আরেকটি অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গালিব চৌধুরী আন্দরকিল্লা মোড় এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় ৮ জনকে ১ হাজার ৬শ টাকা জরিমানা করেন। অভিযানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ করা হয়। জনস্বার্থে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গালিব চৌধুরী।...

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে নলছিটিতে মানববন্ধন

৩০নভেম্বর,সোমবার,ঝালকাঠি প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতার প্রতিবাদে ঝালকাঠির নলছিটিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সোমবার সকাল ১১টায় নলছিটি প্রেসক্লাবের সন্মুখে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মজিবর রহমান খন্দকার, জেলা পরিষদ সদস্য মো. ওয়াহেদ কবির খান, যুবলীগ নেতা প্রান্তিক দাস পুটু, আবুল কাশেম বাবলু, উপজেলা ছাত্র লীগের সভাপতি অনিক সরদার, সাধারণ সম্পাদক মো. দিদারুল আলম রায়হান, উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি শরীফ মিজানুর রহমান লালন, উপজেলা শ্রমিক লীগ সভাপতি মো. পারভেজ হোসেন হান্নান প্রমুখ। মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে একটি চক্র অস্থিতিশীল করতে চায়। তা কখনোই মেনে নওয়া হবে না। বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশ সৃষ্টি হতো না, তাই তাঁর ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধীতাকারীদের কোনো ষড়যন্ত্র মেনে নেবে না আওয়ামী লীগ ও এ দেশের সাধারণ মানুষ। মৌলবাদী, জঙ্গি, ধর্মব্যবসায়ী ও অপব্যাখাকারী এবং ফতোয়াবাজদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান বক্তারা। এসময় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ...

তিন মাসের শিশু হত্যায় ৩ জনের যাবজ্জীবন

২৯নভেম্বর,রবিবার,বাগেরহাট প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে মা-বাবার কোল থেকে তিন মাসের শিশু আব্দুলল্লাহকে অপহরণ ও হত্যা মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আাদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ৪৫ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। রোববার দুপুরে বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. নূরে আলম আসামিদের উপস্থিতিতে এই আদেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মোরেলগঞ্জ উপজেলার নিশানবাড়িয়া এলাকার মোয়াজ্জেম হোসেন হাওলাদারের ছেলে মো. হৃদয় ওরফে রাহাত হাওলাদার (২১), জসিম হাওলাদারের ছেলে মো. মহিউদ্দিন হাওলাদার (২২) এবং মো. আব্দুর রশিদ হাওলাদারের মো. ফয়জুল ইসলাম (২৯)। মামলা সূত্রে জানা যায়- ২০১৯ সালের ১১ মার্চ ভোর রাতে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বিশারীঘাটা গ্রামে বা-মার শোবার ঘর থেকে তিন মাস বয়সী শিশু আব্দুল্লাহকে চুরি করে দুর্বৃত্তরা। ওই দিনই শিশুটির বাবা মো. সিরাজুল ইসলাম সোহাগ বাদী হয়ে মোরেলগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে শিশুটির সঙ্গে চুরি করা সোহাগ হাওলাদেরর মুঠোফোন থেকে ফোন করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে দুর্বৃত্তরা। আসামিদের চাওয়া অনুযায়ী সোহাগ ১০ লাখ টাকা দিলেও তারা শিশুটিকে ফেরত দেয়নি। এ ঘটনায় ১৩ মার্চ মো. হৃদয় ওরফে রাহাত হাওলাদার নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তার দেয়া তথ্যে ১৭ মার্চ দুপুরে উপজেলার বিশারীঘাটা এলাকার একটি রাস্তার পাশে থাকা টয়েলেটের ভেতর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে হৃদয়ের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আরও দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রায় একবছর পর ২০২০ সালের ৯ মার্চ আদালতে চার্জ গঠন করা হয়। ২৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তি তর্ক শেষে আজ যাবজ্জীবন দণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেন আদালত। মামলার রাষ্ট্রিয় কৌসুলী রণজিৎ কুমার মন্ডল বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৭ ধারায় আসামিদের অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হওয়ায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থ জরিমানা করেছেন আদালত। রায়ে সন্তুষ্ট ভুক্তভোগী পরিবার।...

মিলন কমিশনারের ৯তম মৃত্যুবার্ষিকী কাল

২৮নভেম্বর,শনিবার,ইমরান মাসুদ,নির্বাহী সম্পাদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি পৌরসভার সাবেক সফল কমিশনার মরহুম মিলন খন্দকারের ৯তম মৃত্যুবার্ষিকী কাল ২৯ নভেম্বর। তিনি ২০১১ সালের এই দিনে দাউদকান্দি দোনারচর সংলগ্ন রাস্তার পাশ্বে সন্ধা ৭:৫০ মিনিটে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত হন । সাবেক কমিশনার মরহুম মিলন খন্দকারের ১ ছেলে ও ২ মেয়ে । মরহুম মিলন খন্দকারের সহধর্মিনী বর্তমান দাউকান্দি মডেল পৌরসভার সংরক্ষিত (৪.৫.৬) নং আসনের মহিলা কাউন্সিলর নুরুন নাহার খন্দকার । মরহুম মিলন খন্দকারের আত্মার মাগফিরাত কামনা করতে আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে। মরহুম মিলন কমিশনার দাউদকান্দি উপজেলার সার্বিক কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন । পরিবার সূত্রে জানা যায়, মরহুম সাবেক কমিশনার মিলন খন্দকারের ৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় দাউদকান্দি তাঁর নিজ বাসভবনে আজ (রবিবার) মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে । মরহুমের সকল আত্মীয়-স্বজন,বন্ধু-বান্ধব ও শুভানুধ্যায়ীদের তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে ।...

গোপালগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে নিহত ৪

২৮নভেম্বর,শনিবার,গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: গোপালগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ৪ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ জন। শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গোপালগঞ্জ-পিরোজপুর সড়কের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার মালেক বাজার এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এ খবর নিশ্চিত করেছেন টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি এএফএম নাসিম। তিনি ৪ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়ে জানান, তাৎক্ষণিকভাবে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বাটিকামারী গ্রামের সনজিৎ ধর (৪০), টুঙ্গিপাড়া উপজেলার জগ ডুমুরিয়া গ্রামের সুমন্ত কীর্ত্তনীয়ার ছেলে কৃষ্ণ কীর্ত্তনীয়া (৩২) ও নিলফা গ্রামের মোমরেজ মোল্লার ছেলে ভ্যান চালক আকামুদ্দিন মোল্লা (৫০)। নিহত অপর ব্যক্তির পরিচয় পুলিশ এখনও জানাতে পারেনি। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পাড়ে বলে জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা। ওসি জানান, পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী দোলা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস মালেক বাজার এলাকায় একটি ভ্যানকে সাইড দিতে গিয়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এসময় বাসটি খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ৪ জন মারা যান। আহত হন অন্তত ২০ যাত্রী। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয়রা গুরুতর আহত ১৪ জনকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ আড়াই শ বেড জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছে।...

আইসিএবির সম্মাননা পেল লংকাবাংলা ফাইন্যান্স লিমিটেড

২৯নভেম্বর,রবিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: লংকাবাংলা ফাইন্যান্স লিমিটেড ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) কর্তৃক আয়োজিত ২০তম আইসিএবি জাতীয় পুরস্কারে ২০১৯ সালের সেরা উপস্থাপিত বার্ষিক প্রতিবেদনের জন্য ইন্টিগ্রেটেড রিপোর্টিং ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি ২০১৯ সালের সেরা উপস্থাপিত বার্ষিক প্রতিবেদনের জন্য করপোরেট গভর্ন্যান্স ডিসক্লোজার ক্যাটাগরিতে যৌথ প্রথম এবং ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস ক্যাটাগরিতে তৃতীয় স্থান লাভ করেছে। লংকাবাংলা ফাইন্যান্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী খাজা শাহরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সী এবং প্রতিষ্ঠানটির চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার শামীম আল মামুন, এফসিএর সঙ্গে পুরস্কারগুলো গ্রহণ করেন।- বিজ্ঞপ্তি ...

বঙ্গবন্ধু টি২০ কাপের টাইটেল স্পন্সর ওয়ালটন

২৪নভেম্বর,মঙ্গলবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বঙ্গবন্ধু টি২০ কাপ দিয়ে ফিরছে ঘরোয়া ক্রিকেট। প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ টুর্নামেন্টের টাইটেল স্পন্সর হলো ক্রীড়াবান্ধব প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন। টুর্নামেন্টের অফিশিয়াল নাম বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ স্পন্সরড বাই ওয়ালটন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে স্থানীয় ক্রিকেটারদের নিয়ে প্রথমবার আয়োজিত হচ্ছে হাই ভোল্টেজ বঙ্গবন্ধু টি২০ কাপ। স্পন্সরশিপ বিষয়ে গত রোববার কে-স্পোর্টস এবং ওয়ালটনের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ওয়ালটন গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক উদয় হাকিম এবং কে-স্পোর্টসের পরিচালক আশফাক আহমেদ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটনের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ফিরোজ আলম এবং ফার্স্ট সিনিয়র অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর মিলটন আহমেদ। উদয় হাকিম বলেন, মুজিব বর্ষ উপলক্ষে দারুণ এক টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। বর্ণাঢ্য এ আয়োজনের সঙ্গে থাকতে পেরে ওয়ালটন গ্রুপ গর্বিত। আশা করছি, দেশের কোটি কোটি দর্শক, ক্রিকেটানুরাগী, খেলোয়াড় এবং ক্রিকেটসংশ্লিষ্ট সবাই এ আয়োজনের মাধ্যমে উজ্জীবিত হবেন। উল্লেখ্য, ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে জৌলুসপূর্ণ ও মর্যাদার আসর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ এবং বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটে দেশের প্রধানতম টুর্নামেন্ট জাতীয় ক্রিকেট লিগের নয় আসরের স্পন্সর ওয়ালটন। পাশাপাশি প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকও কোম্পানিটি। এরই মধ্যে তারা প্রতিযোগিতার প্রথম ও চতুর্থ আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।- বিজ্ঞপ্তি ...

প্রথম থেকে নবম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত

২৫নভেম্বর,বুধবার,শিক্ষা ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রথম থেকে নবম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তি নিয়ে বুধবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি। তিনি বলেন, প্রতিবারের মতো এবারে ভর্তি পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হবে না। এজন্য বিকল্প বিভিন্ন বিষয় ভেবেছি। শেষ পর্যন্ত ৩টি বিকল্প প্রক্রিয়া নিয়ে ভাবি। এক- স্বাভাবিক নিয়মে ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হবে। কিন্তু করোনার এই সময়ে এটি করতে চাচ্ছি না। এমসিকিউ পদ্ধতির কথাও চিন্তা করেছি, কিন্তুও তাতেও ঝুঁকি থাকে। দ্বিতীয়- অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষা। তবে সব ভর্তিচ্ছুদের পক্ষে এটা সম্ভব হবে না।...

এখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কথা ভাবছে না সরকার

১৮নভেম্বর,বুধবার,শিক্ষা ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সরকার এখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার কথা ভাবছে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেছেন, এ পরিস্থিতিতে সরকার বিকল্প পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করছে। করোনাকালীন ও করোনা পরবর্তী শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে জাতিসংঘ প্রতিনিধিদের সঙ্গে মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) রাতে মতবিনিময়ের সময় তিনি এ কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রীর হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পোর নেতৃত্বে ইউনিসেফ বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর তোমো হোজুমি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) এ কে এম আফতাব হোসেন প্রামানিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ গোলাম ফারুক উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সভায় মিয়া সেপ্পো করোনাকালীন স্বল্প সময়ের মধ্যে সংসদ টেলিভিশনের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম ও অনলাইন ক্লাস চালু করায় বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে সরকারের মনোভাব জানতে চান। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার কথা ভাবছে না সরকার। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ একটি দেশ। এখানে ফিজিক্যাল ডিসটেন্স মেনটেইন করা অত্যন্ত দুরূহ কাজ। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিলে শিশুদের সঙ্গে তাদের অভিভাবকদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেতে হয়। সে ক্ষেত্রে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যেতে পারে। যদিও শিশুদের কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম, কিন্তু তারা নীরব বাহক হতে পারে। অন্যদিকে, এ পরিস্থিতিতে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে চান না। তাই সরকার বিকল্প পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী চলমান মহামারি করোনার কারণে আমাদের শিক্ষখাত নানা রকমের ঝুঁকিতে রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রয়েছে। যার ফলে কিছু শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাল্যবিয়ে ও শিশুশ্রম বাড়তে পারে। অনেক শিক্ষার্থী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মানসম্মত শিক্ষা অর্জন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সব প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও করোনার কারণে ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। ২০২১ সালে অনুষ্ঠেয় এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক ক্লাস না হওয়ায় সিলেবাস সমাপ্ত করা এখন একটা বড় চ্যালেঞ্জ। তাছাড়া কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে ব্যবহারিক ক্লাসগুলো অনলাইনে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় আমাদের শিশুরা সাইকোলজিক্যাল বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছে। তিনি বলেন, করোনায় শিক্ষাখাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ডিজিটাল প্রযুক্তি আমাদের সহায়তা করেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করার মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে সংসদ টেলিভিশনের মাধ্যমে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তারপরও আমাদের প্রায় ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী শিক্ষা কার্যক্রমের বাইরে রয়েছে। মোট শিক্ষার্থীর তুলনায় ১০ শতাংশ অনেক বড় একটি সংখ্যা। আমরা কোন একজন শিক্ষার্থীকে পেছনে রেখে আগাতে চাই না। ...

তামিমদের হারিয়ে চট্টগ্রামের হ্যাটট্রিক জয়

৩০নভেম্বর,সোমবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চলমান বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে হ্যাটট্রিক জয়ের স্বাদ নিলো গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম। আজ সোমবার দুপুরে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের সপ্তম ও নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে তামিম ইকবালের ফরচুন বরিশালকে ১০ রানে হারিয়েছে চট্টগ্রাম। এ নিয়ে তিন ম্যাচের সব কটিতে জিতলো চট্টগ্রাম। অন্যদিকে তিন ম্যাচে ১ জয় ও ২ হার বরিশালের। এদিন প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫১ রান করে চট্টগ্রাম। জবাবে মুস্তাফিজ ও শরিফুলের বোলিং তোপে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৪১ রানে থামে বরিশাল। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এ ম্যাচে টস জিতে প্রথমে বোলিং করতে নামে তামিমের বরিশাল। শুরুটা ভালো না হলেও ওপেনার লিটন দাস ও মিডল-অর্ডারের দুই ব্যাটসম্যান শামসুর রহমান ও মোসাদ্দেক হোসেনের ছোট ছোট ইনিংসের কল্যাণে সম্মানজনক স্কোর পায় চট্টগ্রাম। ওপেনার সৌম্য সরকার ৫ রানে ও অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন ১৭ রান করে ফিরলেও আরেক ওপেনার লিটন দাসের ব্যাট থেকে আসে ৪টি চারে ২৫ বলে ৩৫ রান। আর মিডল-অর্ডারে শামসুর ২৬ ও মোসাদ্দেক ২৮ রান করেন। তবে শেষদিকে সৈকত আলির ১১ বলে ঝড়ো ২৭ রানে লড়াকু স্কোর পায় চট্টগ্রাম। সৈকতের ইনিংসে ১টি চার ও ৩টি ছক্কা ছিলো। ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫১ রান করে চট্টগ্রাম। বরিশালের পেসার আবু জায়েদ ৪২ রানে ২টি উইকেট নেন। ১৫২ রানের জয়ের টার্গেটে ভালো শুরুর চেষ্টা করেছিলেন বরিশালের দুই ওপেনার মেহেদি হাসান মিরাজ ও অধিনায়ক তামিম ইকবাল। ১টি করে চার ও ছক্কায় মিরাজ ১৩ রানে থামলেও, আগের ম্যাচের মতো নিজের ইনিংসকে টেনে নিয়েই যাচ্ছিলেন তামিম। তবে ১টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩২ বলে ৩২ রান করা তামিমকে থামান মোসাদ্দেক হোসাইন। আগের ম্যাচে অবশ্য ৭৭ রানে অপরাজিত ছিলেন তামিম। দলও জয় পায় তার। দলীয় ৬৭ রানে তামিমের বিদায়ের পর মিডল-অর্ডারে দলের হাল ধরতে পারেননি বরিশালের অন্য ব্যাটসম্যানরা। পারভেজ হোসেন ইমন ১১, আফিফ হোসেন ২৪, তৌহিদ হৃদয় ১৭ ও ইরফান শুক্কুর ২ রান করে আউট হন। শেষদিকে সুমন খানের ৮ বলে অপরাজিত ১২ রানেও হার এড়াতে পারেনি বরিশাল। শেষ ওভারে ১৯ রানের প্রয়োজনে ১টি ছক্কায় ৮ রান নিতে পারেন সুমন। ফলে ২০ ওভারে বরিশাল করে ৮ উইকেটে ১৪১ রানেই থেমে যায় তামিমদের ইনিংস। চট্টগ্রামের শরিফুল ২৭ রানে ও মুস্তাফিজুর ২৩ রানে ৩টি করে উইকেট নেন। তবে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তরুণ শরিফুলই। ...

চলে গেলেন সেনেগালের বিশ্বকাপ হিরো দিওপ

৩০নভেম্বর,সোমবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ২০০২ ফুটবল বিশ্বকাপে নিজেদের অভিষেক আসরেই চমকে দিয়েছিল সেনেগাল। গ্রুপ পর্বে আগের আসরের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে বিদায় করার পেছনে আফ্রিকান দেশটির বড় অবদান ছিল। আর প্রথম আসেরেই কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা দেশটি পুরো বিশ্বকেই নিজেদের জানান দিয়েছিল। সেই দলেরই অন্যতম সদস্য পাপা বোউবা দিওপ আর নেই। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মাত্র ৪২ বছর বয়সে চলে গেলেন এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। দ. কোরিয়া-জাপানে অনুষ্ঠিত সেই বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে লিলিয়ান থুরাম, থিয়েরি অঁরিদের শক্তিশালী ফ্রান্সকে ১-০ গোলে হারায় সেনেগাল। যেখানে তেরাঙ্গা লায়ন্সদের হয়ে জয়সূচক গোল করেছিলেন এই দিওপ। পরবর্তীতে গ্রুপ পর্বেই আরেক জায়ান্ট উরুগুয়ের বিপক্ষে ৩-৩ গোলে ড্র করা ম্যাচেও জোড়া গোল করেছিলেন দিওপ। সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে তুরস্কের কাছে হেরে বিদায় নেয় সেনেগাল। ২০০২ বিশ্বকাপে সেনেগালের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা দিওপ ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে ৬৩ ম্যাচে খেলে ১১টি গোল করেছেন। যেখানে তিনি আফ্রিকার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট আফ্রিকান নেশনস কাপের ফাইনালে ২০০২ সালেও খেলেছিলেন। জাতীয় দলের পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলে সফল ছিলেন দিওপ। তিনি ২০১৩ সালে অবসরের আগে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল ফুলহাম, ওয়েস্টহাম ইউনাইটেড ও বার্মিহাম সিটির মতো দলে খেলেছেন। প্রিমিয়ার লিগে মোট ১২৯ ম্যাচে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।...

বিশ্বসুন্দরী- মুক্তি পাবে ১১ ডিসেম্বর

৩০নভেম্বর,সোমবার,বিনোদন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: অবশেষে চূড়ান্ত হলো বহুল প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র- বিশ্বসুন্দরী মুক্তির দিন-ক্ষণ। সবকিছু ঠিক থাকলে আসছে ১১ ডিসেম্বরই মুক্তি পাবে সান মিউজিক এন্ড মোশন পিকচার্স লিমিটেড প্রযোজিত চলচ্চিত্র- বিশ্বসুন্দরী। এই প্রযোজনা সংস্থার নির্বাহী প্রযোজক অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, করোনার প্রকোপ এখনো বিদ্যমান। তবে আমরা মনে করি, সিনেমা হল বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে এ মুহূর্তে সবাইকেই নিজেদের অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা এ সময়ে বড় বাজেটের ছবিটি মুক্তি দেয়ার সাহস করছি। আশা করছি অন্য প্রযোজকরাও এগিয়ে আসবেন। তিনি আরো বলেন, দর্শকদের উদ্দেশ্যে শুধু একটি অনুরোধই করবো-আপনারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে সিনেমা হলে আসুন। যেসব প্রেক্ষাগৃহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সিনেমা প্রদর্শন করছে, শুধুমাত্র তাদেরকেই আমাদের ছবিটি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ ব্যাপারে আমরা নিজেরাও সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করবো। ছোট পর্দার গুণী নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরীর প্রথম চলচ্চিত্র বিশ্বসুন্দরী ছবিতে প্রথমবার দেখা যাবে পরীমনি-সিয়াম জুটিকে। এছাড়াও অভিনয় করেছেন আলমগীর, চম্পা, ফজলুর রহমান বাবু, মনিরা মিঠু, আনন্দ খালেদ, হীরা, সুজন, সীমান্ত সহ আরো অনেকে। চয়নিকা চৌধুরী বলেন, মানবপ্রেম ও দেশপ্রেমকে ঘিরে বিশ্বসুন্দরী ছবির গল্প। আশা করছি সব শ্রেণীর দর্শক পরিবার নিয়ে উপভোগ করার মতো একটি চলচ্চিত্র দেখতে পাবেন। ছবির কাহিনী, চিত্রনাট্য, সংলাপ লিখেছেন রুম্মান রশীদ খান। তিনি বলেন, এর আগে স্বাধীনতা দিবসের সপ্তাহে মুক্তির কথা থাকলেও দেশব্যাপী লকডাউন শুরু হবার কারণে ছবিটি মুক্তি দেয়া সম্ভব হয়নি। এবার তাই আমরা চাইছি, বিজয় দিবসের সপ্তাহে দর্শক স্বাস্থ্যবিধি মেনে ছবিটি দেখতে আসুক। জুঁই নিবেদিত বিশ্বসুন্দরী ছবির গান ইতিমধ্যেই শ্রোতাপ্রিয় হয়েছে। তুই কি আমার হবি রে, গানটি ইতিমধ্যেই ইউটিউবে দেখা হয়েছে ৩ কোটির বেশি সংখ্যকবার। বিশ্বসুন্দরী- দেশব্যাপী পরিবেশনা করবে জাজ মাল্টিমিডিয়া। ছবির সম্প্রচার সহযোগী মাছরাঙা টেলিভিশন। ...

বলিউডে অভিষেক হচ্ছে এই অভিনেত্রীর

২৮নভেম্বর,শনিবার,বিনোদন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: গত বছর অক্ষয় কুমারের হাত ধরে সবার নজরে এসেছেন নূপুর স্যানন। তবে কোন সিনেমার মাধ্যমে না, ফিলহাল- শিরোনামে একটি হিন্দি গানের মডেল হয়েছিলেন তারা। এবার বলিউড সিনেমায় নাকি অভিষেক ঘটতে যাচ্ছে এই তরুণীর। সম্প্রতি একটি সিনেমায় তিনি চূড়ান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। নূপুর স্যানন লুকাছুপি খ্যাত অভিনেত্রী কৃতি স্যাননের ছোট বোন। এর আগে দুই বোনকে একসঙ্গে বিজ্ঞাপনে অভিনয় করতে দেখা গেছে। তবে নূপুর এবারই প্রথম বড় পর্দায় নাম লেখাতে যাচ্ছেন। ফিল্মফেয়ার জানায়, এর আগে বেশ কয়েকজন সিনেমার প্রযোজকের সঙ্গে নূপুরের কাজ করার খবর শোনা গিয়েছিল। এখন শোনা যাচ্ছে প্রযোজনা সংস্থা পূজা এন্টারটেইনমেন্টের জ্যাকি ভাগনানি এবং দীপশিখা দেশমুখ এই নবাগতাকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। খুব শিগগিরই তাকে নিয়ে কাজ শুরু করবেন তারা। প্রথম সিনেমার জন্য এরই মধ্যে নিজেকে প্রস্তুত করতে শুরু করেছেন নূপুর। ব্যস্ত সময় পার করছেন জিমে। অংশ নিচ্ছেন অভিনয় কর্মশালায়ও। অভিনয় ছাড়াও নূপুরে গানে বেশ আগ্রহ। যেজন্য অনলাইন দুনিয়ায় বেশ পরিচিত তিনি। বেকারার করকে হামে- গানটি নিজের কণ্ঠে তুলে ইউটিউবে প্রকাশের পর প্রচুর ভিউ পেয়েছিলেন তিনি। এছাড়া তেরি গালিয়া ও দিল ওয়ালে গান গেয়ে ভাইরাল হন ২৪ বছর বয়সী এই তরুণী। এছাড়া ভাষা সম্পর্কে বেশ উৎসাহ রয়েছে নূপুরের। হিন্দি ও ইংরাজি ছাড়াও জার্মান ভাষাতেও কথা বলতে পারেন তিনি। খেলাতেও তার প্রচণ্ড আগ্রহ। পছন্দ করেন সাঁতার কাটতে। প্রতিবছর বলিউডে অসংখ্য নতুন মুখ যুক্ত হচ্ছে। কেউ কেউ দর্শকদের নজর কাড়তে পারছেন, আবার কেউ কেউ হারিয়ে যাচ্ছেন। তবে নূপুর বোনের মতো নিজেও বলিউডে অবস্থান তৈরি করতে পারেন কিনা, সেটা সময়ই বলে দেবে। ...

অনিয়মের অভিযোগে চেয়ারম্যান কাউন্সিলর ও ইউপি সদস্যসহ ১১ জন বরখাস্ত

২জুন,মঙ্গলবার,ক্রাইম সোর্স প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ত্রাণ বিতরণসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে একদিনেই ১১ জনপ্রতিনিধিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। আজ মঙ্গলবার এ বিষয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বিভাগটি। যাদের বরখাস্ত করা হয়েছে তাদের মধ্যে ৪জন ইউপি চেয়ারম্যান, একজন পৌরসভার কাউন্সিলর ও ৬জন ইউপি সদস্য রয়েছেন। কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, দরিদ্র মানুষকে নগদ অর্থ সহায়তা ও ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে আরও ১১ জনপ্রতিনিধিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। তাঁদের মধ্যে চারজন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও ছয়জন ইউপি সদস্য এবং একজন পৌর কাউন্সিলর রয়েছেন। বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যানেরা হলেন কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার সিংপুর ইউপির মো. আনোয়ারুল হক, একই জেলার বাজিতপুর উপজেলার হালিমপুর ইউপির হাজী মো. কাজল ভূইয়া, বরগুনা সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউপির মো. শাহনেওয়াজ এবং নলটোনা ইউপির হুমায়ুন কবীর। বরখাস্তের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সিংপুর ইউপির চেয়ারম্যান করোনোভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সময় ত্রাণকাজে সহায়তা না করে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে কর্মস্থলে অনুপস্থিত আছেন। বাজিতপুরের হালিমপুর ইউপি চেয়ারম্যানও দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। এ ছাড়া করোনোভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়নে বিঘ্ন সৃষ্টি, এপ্রিল মাসের ভিজিডি খাদ্যশস্য বিতরণ না করা, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দেওয়া নগদ অর্থ সহায়তা কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রণয়নে ব্যর্থ হওয়া এবং কারণ দর্শানোর পরিপ্রেক্ষিতে নিজে জবাব প্রদান না দিয়ে অন্যের মাধ্যমে জবাব দেওয়া। বরগুনার এম বালিয়াতলী ইউপির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূতভাবে মৎস্য ভিজিএফের চাল ৮০ কেজির জায়গায় ৬০ কেজি দেওয়া এবং তালিকার বাইরেও অন্যদের চাল দেওয়ার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। নলটোনা ইউপির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জেলেদের তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম, ভুয়া টিপসইয়ের মাধ্যমে চাল উত্তোলন করে আত্মসাৎ এবং ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। অন্যদিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া ইউপি সদস্যরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপজেলার মজলিশপুর ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হারিছ মিয়া এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হাছান মিয়া, বরগুনা জেলার সদর উপজেলাধীন নলটোনা ইউপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. হারুন মিয়া, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. হানিফ, ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য মোসা. রানী এবং ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য মোসা. ছাবিনা ইয়াসমিন। বরখাস্ত হওয়া পৌরসভার কাউন্সিলর হলেন চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. সোলাইমান বাবুল।...

প্রায় ৪শ লোককে অবৈধভাবে বিদেশে পাঠায় চক্রের অন্যতম হোতা কামাল

১জুন,সোমবার,ক্রাইম সোর্স প্রতিবেদক,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: লিবিয়ায় ২৬ জন বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় মানব পাচারকারী চক্রের অন্যতম হোতা কামাল হোসেন ওরফে হাজী কামালকে গ্রেফতার করেছে RAB। প্রায় ৪শ লোককে অবৈধভাবে তিনি বিদেশে পাঠায়। RAB বলছে, তিনিই বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে মানবপাচারকারীর মূল হোতা। এরসঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিষয়ে অনুসন্ধান করছে RAB। বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া হয়ে অবৈধ ভাবে ইতালিতে যাওয়া। তারা বিভিন্ন শ্রমিকদের যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ভাবে প্রলোভন দেখানো হয়। এবং তাদের বিদেশে যাওয়ার পরই বাকি টাকা দেবে। এ ধরনের আশ্বাস দেয়া হয়। আমারা একাধিক দালাল পেয়েছি। তারা মাদারীপুর, শরিয়রতপুরসহ বিভিন্ন জেলার লোক রয়েছে। তারা প্রথমে বাইরুটে ঢাকা থেকে কলকাতা নেয়া হয়। এই হাজী কামালই সবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা বাংলাদেশ থেকে ১০-১৫ দিন লাগে বেনগাজীতে যাওয়ার। এ চক্রটি লিবিয়াতে যাওয়ার পরই তারা টাকার জন্য পেশার দেয়া শুরু হয়। RAB জানায়, লিবিয়ার ত্রিপোলিতে কিছু কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এই বেনগাজীতে পৌঁছানোর পরই তাদের পরিবারের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়। এরপর তাদের ত্রিপোলিতে নিয়ে যাওয়া হয়। ত্রিপোলিতে নিয়ে যাওয়ার জন্য আবারও পরিবারের কাছে ২ থেকে তিন লাখ টাকা দাবি করা হয়। সেখানে তাদের শুরুতে ভূমধ্যসাগরে বোট চালানোর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। তিনি গত ১০-১২ বছরে ৪শ লোককে পাঠিয়েছেন। তার সঙ্গে যুক্ত আছেন ১৫-১৬ জন। আমরা পুরো সার্কিটের তথ্য পেয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে এ অভিযান চলতে থাকবে। গত ২৮ মে লিবিয়ার মিজদা শহরে ২৬ জন বাংলাদেশি অভিবাসীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। মারা যাওয়া ২৬ জনসহ ৩৮ বাংলাদেশি ও কিছু সুদানি নাগরিক প্রায় ১৫ দিন ধরে ওই অপহরণকারী চক্রের হাতে আটক ছিলেন। ইতালিতে অভিবাসনের উদ্দেশে ওই ৩৮ জন বাংলাদেশ থেকে অবৈধ পথে লিবিয়ায় যান।...

কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের জন্য আজীবন সংগ্রমী মোস্তফা ভুঁইয়া

২২সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: মোঃ মোস্তফা ভুঁইয়া ১৯৫০ সালের মার্চ মাসের ৪ তারিখে নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার বাস গ্রামে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মরহুম ডাঃ মনিরুজ্জামান ভুঁইয়া, মাতার নাম মরহুমা রৌশনারা বেগম। তিনি তিন সন্তানের জনক। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক পুত্র, এক কন্যা, আত্মীয়স্বজন সহ অসংখ্য সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি একসময় খাদ্য অধিদপ্তরে সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি ১৯৭০ সালে ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে চাকুরিতে যোগদান করেন। তার চাকুরি জীবন শুরু হয় পাকিস্তানের করাচিতে। তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তান যা বর্তমানে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি পুনরায় খাদ্য অধিদপ্তরে যোগদান করেন। ২০০৮ সালে তিনি খাদ্য অধিদপ্তরে সহকারী পরিচালক হিসেবে অবসর গ্রহন করেন। তিনি প্রগতিশীল রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। ২০১১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারী স্বদেশ পার্টিতে যাত্রা শুরু করেন। তিনি আমৃত্যু স্বদেশ পার্টির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সমাজসেবা, জনকল্যাণ, কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের অধিকার সংগ্রামে জড়িত ছিলেন। তিনি অন্যায়, অত্যাচার, শোষণ, নিপীড়ন, বঞ্চনা- লাঞ্ছনার বিরুদ্ধে একজন বলিষ্ট প্রতিবাদী ছিলেন। তিনি গত ২০২০ সালের ৮ আগস্ট জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে সবাইকে ছেড়ে না ফেরার দেশে পারি জমান। তার অসংখ্য রাজনৈতিক, সামাজিক, সহকর্মী শোকাহিত হৃদয়ে তাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেছে। তার অভাব পূরণ হবার নয়। তার কর্মীরা এক মূহূর্তের জন্য তাকে ভুলতে পারে না। আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত, শান্তি, এবং জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করছি। ...

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমীপে আকুল আবেদন

২০সেপ্টেম্বর,রবিবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: সকল শিক্ষারর্থীদের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিশ্চিত করার আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হতে বিরত থাকুন। মার্চ ২০২০ হতে কোভিড-১৯ (করোনা) সংক্রমণ শুরু হয়। পর্যবেক্ষণ দেখা যায় শীত প্রধান অঞ্চলে কোভিড-১৯ সংক্রমণ অধিক। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে সংক্রমণ বেড়েই চলছে। আমাদের দেশ ঘনবসতি পূর্ণ জনবহুল দেশ। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারি বেসরকারি ব্যাক্তি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রচার প্রচারণায় দেশবাসী সচেতন হয়েছে। দেশের মানুষ সতর্ক হয়েছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষাবিধি মেনে চলছে। যার ফল আমরা প্রত্যক্ষ করছি। সামনে শীত মৌসুম। এ অবস্থায় কোভিড-১৯ সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা একেবাড়ে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিভিন্ন মহল বিশিষের দাবীর মুখে একাধিক ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জানা যায় সদাসয় সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন শ্রেণির পরিক্ষা ও ক্লাস শুরু করার তথ্য। অবশ্যই এই উদ্যেগ ভাল। কিন্তু এ মুহূর্তে তা কতটুকু যুক্তিযুক্ত। কোভিড-১৯ একটি সংক্রামক ও ছোঁয়াছে রোগ। এর চিকিৎসা ও প্রতিরোধ ব্যাবস্থা অত্যন্ত জটিল। তাই এর সংক্রমণ ঠেকাতে আমাদের দেশের সরকার শত চেষ্ঠার পর সম্পূর্ণ সফল হতে পারেনি। অবশ্য আংশিক সফলতা, যথাপোযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য অবশ্যই সরকারের সাধুবাদ। ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। কৃতজ্ঞতাচিত্তে ধন্যবাদ জানাচ্ছিও। আমাদের দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিটি শ্রেণিতে ছাত্র-ছাত্রী অনেক। এ অবস্থায় স্বাস্থ্য বিধি মেনে ক্লাস করা কোন অবস্থাতেই সম্ভব নয়। তাই সকল দিকে বিবেচনা করে, প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিশ্চিত না করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্লাস শুরু না করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।- ...

বিনামূল্যে করোনা ভ্যাকসিন নিশ্চিত করতে হবে: জি এম কাদের

২৮নভেম্বর,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা জি এম কাদের সরকারের প্রতি আবারো দাবি জানিয়ে বলেছেন, দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য বিনামূল্যে করোনা ভ্যাকসিন নিশ্চিত করতে হবে। শনিবার (২৮ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর লালবাগের আমলীগোলা পার্কে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলনের ব্যবস্থাপনায় দুই মাসব্যাপী কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। জি এম কাদের বলেন, যারা সারাদিন খাবার জোগার করতে সংগ্রাম করে, যারা লকডাউন হলে ক্ষুধার তাড়নায় আইন ভঙ্গ করে খাবারের জন্য তাদের পক্ষে পয়সা দিয়ে ভ্যাকসিন নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে। দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষের পক্ষে পয়সা খরচ করে ভ্যাকসিন নেওয়া সম্ভব হবে না। তাই সবার জন্য সরকাবিভাবে করোনা ভ্যাকসিন নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, শীতের সঙ্গে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বেড়ে গেছে কিন্তু করোনা চিকিৎসায় দৃশ্যমান প্রস্তুতি নেই মন্ত্রণালয়ের। তিনি আরও বলেন, রাজধানীতে কিছু বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্ট ও অক্সিজেন সহায়তা আছে কিন্তু বেশিরভাগ হাসপাতাল গুলোতে লাইভ সার্পোট ও অক্সিজেন সহায়তা নেই বললেই চলে। আবার সাধারণ মানুষের পক্ষে বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার সামর্থ্য নেই। সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হলে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসা নিয়ে ভালো হচ্ছেন অথবা মারা যাচ্ছেন। তাই দেশের প্রতিটি হাসপাতালে করোনা চিকিৎসায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ সময় জাতীয় পার্টি মহাসচিব জিয়াউদ্দন আহমেদ বাবলু বলেন, দেশের মানুষের মধ্যে হাহাকার উঠেছে। সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই। শুধু জাতীয় পার্টিই পারে সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে দিতে। বিএনএস গ্রুপের চেয়ারম্যান এনএমএইচ বুলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টি প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আবদুস সবুর আসুদ, হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন প্রমুখ।...

আওয়ামী লীগ কখনও প্রতিশোধের রাজনীতি করে না: ওবায়দুল কাদের

২১নভেম্বর,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সমালোচনা রুখতে নাকি সরকার বিরোধীদের গুম করছে, বিএনপি নেতাদের এমন অভিযোগের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, এটা তাদের চিরাচরিত মিথ্যাচার। সমালোচনা করলে গুম করা হয় এমন কোন তথ্য কি বিএনপির কাছে আছে? এ ধরনের মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন পরিহার করুন। শনিবার মিরপুর-নারায়ণগঞ্জ রুটে বিআরটিসির দোতলা বাস সার্ভিস উদ্বোধনকালে তিনি একথা বলেন। ওবায়দুল কাদের তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রতিশোধের রাজনীতি গণতন্ত্রের জন্য সুখকর নয়, আওয়ামী লীগ কখনও প্রতিশোধের রাজনীতি করে না। গণতন্ত্র একটি বিকাশমান প্রক্রিয়া, সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ এবং পরিচর্যায় গণতন্ত্র বিকশিত হয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বিএনপি গণতন্ত্রের কথা বললেও গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে যেই ভূমিকা দরকার তা থেকে তারা অনেক দূরে অবস্থান করে। বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয় নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে। তিনি বলেন, বিএনপি একদিকে গণতন্ত্রের কথা বলে অন্যদিকে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপপ্রয়াস চালায়। এ দেশের সবচেয়ে সহিষ্ণু রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ ৭৫ এর ১৫ আগস্টের নির্মমতা দেখেছে, দেখেছে ৩ নভেম্বরের অমানবিকতা, গ্রেনেড হামলাসহ ২০ বারের মতো শেখ হাসিনাকে হত্যার অপপ্রয়াস চালাতেও দেখেছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এ দেশের রাজনীতিতে সন্ত্রাসনির্ভরতা, ষড়যন্ত্র আর হত্যার জনক বিএনপি, তারা সেটাই চর্চা করে চলেছে। আওয়ামী লীগ জনগণের সংগঠন বলেই জনগণের সঙ্গে ছিল এবং আছে। এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সুস্বাস্থ্য ও রোগমুক্তি কামনা করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। সমালোচনা রুখতে নাকি সরকারবিরোধীদের গুম করছে, বিএনপি নেতাদের এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, এটা তাদের চিরাচরিত মিথ্যাচার। সমালোচনা করলে গুম করা হয় এমন কোন তথ্য কি বিএনপির কাছে আছে? আওয়ামী লীগ সমালোচনাকে ভয় পায় না। আওয়ামী লীগ গঠনমূলক সমালোচনা থেকে শিক্ষা নেয়ার সৎসাহস রাখে। এ ধরনের তথ্য পরিহার করার জন্য বিএনপির প্রতি অনুরোধ জানান ওবায়দুল কাদের। অদক্ষ গাড়িচালক যেন কোনোভাবেই গাড়ির ড্রাইভিং সিটে না বসতে পারে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, বাসের চালকসহ সব স্টাফদের বাধ্যতামূলক নির্ধারিত ড্রেস পরিধান করতে হবে।...

নবিজীকে কেন ভালোবাসবেন?

১৯নভেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সন্তান-সন্তুতি, মা-বাবা তথা নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসতে হবে যাকে; তিনি হলেন হজরত মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। কেন নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এতবেশি ভালোবাসতে হবে? এ সম্পর্কে কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনাই বা কী? হাদিসে পাকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই এ কেন ভালোবাসতে হবে- এর উত্তর দিয়েছেন সুস্পষ্টভাবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এতটা ভালোবাসার নামই- ঈমান। তাতে মুমিন মুসলমানের ঈমান পরিপূর্ণতা লাভ করে। হাদিসে এসেছে- হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, সেই আল্লাহর শপথ! যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না; যতক্ষণ না আমি তার নিজের জীবনের চেয়ে, তার বাবা-মা ও সন্তানাদির চেয়ে অধিক ভালোবাসার পাত্র হই। (বুখারি)। হ্যাঁ পরিপূর্ণ মুমিন হতে দুনিয়ার জীবনে সবকিছুর চেয়ে বেশি প্রিয় নবিকে ভালোবাসতে হবে। তবে এমন ভালোবাসা নয় যে, মুখে মুখে এ কথা বলা- হে রাসুল! আমি তোমাকে ভালোবাসি; হে রাসুল! আমি আপনাকে ভালোবাসি। না, এমন ভালোবাসা নয়। এ ভালোবাসা হবে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শকে ভালোবাসা। যার প্রথমেই রয়েছে- তাওহিদ ও রেসালাত তথা আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের উপযুক্ত কোনো উপাস্য নেই আর হজরত মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহান আল্লাহর রাসুল-এ কথার প্রতি মনে প্রাণে বিশ্বাস করা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রেখে যাওয়া সুন্নাতের হুবহু অনুসরণ ও অনুকরণ করা। আর এর মাধ্যমেই মুমিন বান্দার জন্য দুনিয়া ও পরকালের সফলতা লাভ করা। কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা এ ভালোবাসার কথাই তুলে ধরেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন- (হে রাসুল! আপনি) বলে দিন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসতে চাও তবে আমাকে অনুসরণ কর। তাহলে আমার (রেখে যাওয়া আদর্শ) অনুসরণ করলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন আর (যারফলে আল্লাহ) তোমাদের গোনাহ ক্ষমা করে দেবেন। আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। (সুরা আল- ইমরান : আয়াত ৩১)। এ আয়াতে দুইটি বিষয় সুস্পষ্টভাবে বলে দেয়া হয়েছে। প্রথমটি হলো- আল্লাহর ভালোবাসা লাভে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণ করতে হবে। অর্থাৎ রাসুলকে মুখে মুখে ভালোবাসি বলে তার সুন্নাতের অনুসরণ-অনুসরণ না করলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হবে না। পাওয়া যাবে না আল্লাহর ভালোবাসা। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো- আল্লাহর ঘোষণা অনুযায়ী ভালোবাসার সঙ্গে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাতের অনুসরণ করলেই আল্লাহর ভালোবাসা অর্জিত হবে। আর তাতে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে ক্ষমা করে দেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। যার ফলে বান্দা নিষ্পাপ হয়ে পরকালের সফলতা লাভ করবে। সুতরাং মুমিন মুসলমান, ছোট-কিংবা বড়, শুভ্র কিংবা প্রেীঢ়, কিশোর কিংবা যুবক প্রতিটি বয়সের মানুষের জন্য বিশ্বনবিকে ভালোবাসা এবং সুন্নাতের অনুসরণ ও অনুকরণ করাই হলো মুমিন হওয়ার পূর্বশর্ত। যে বিষয়টি সুস্পষ্ট করতে অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাঁর জিকিরকারী বান্দাদের উদ্দেশ্যে ঘোষণা করেন- তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালকে ভয় করে এবং আল্লাহকে বেশি স্মরণ করে তাদের জন্য রাসুলুল্লাহর (চরিত্রের) মধ্যে উত্তম (অনুসরণীয়) আদর্শ রয়েছে। (সুরা আহজাব : আয়াত ২১)। কেন নবিজীকে ভালোবাসবো? কারণ প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবনভর এ আদর্শ বাস্তবায়নে ত্যাগের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। এমন কষ্ট খুব কম আছে, যা তিনি ভোগ করেননি। এত কষ্টের পরও তিনি নিজ উম্মতকে ভুলে যাননি। কোনো উম্মতের উপর নিজ জাতিকেও স্থান দেননি। কেননা তার কণ্ঠের সূরধ্বনিই ছিল- উম্মতি, উম্মতি অর্থাৎ হে আমার উম্মাত! হে আমার উম্মাত। তাওহিদ-রেসালাতে জীবন গড়ো। আমারই আদর্শ অনুসরণ ও অনুকরণ করো। এতেই রয়েছে নাজাত। আর এতেই রয়েছে মুক্তি। কেন নবিজীকে ভালোবাসবেন? এর উত্তর রয়েছে, তায়েফে ইসলাম প্রচারের ঘটনায়। তাওহিদ ও রেসালাতের দাওয়াত দিতে গিয়ে রক্তাত হয়েছিলেন তায়েফের জমিনে। ফেরেশতারা পাহাড় উল্টিয়ে দেয়ার অনুমতি চেয়েছিল। তিনি তোতে সম্মতি হননি বরং তাদের জন্য দোয়া করেছিলেন। তাদের ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য একটাই- মানুষকে পরকালের কঠিন পরিস্থিতি থেকে হেফাজত করা। মুসলমানকে প্রিয় নবির চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে যে, তাঁর আদর্শ বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হতে হবে। দুনিয়ার দিকে দিকে ইসলামের শান্তি ও সৌন্দর্য তুলে ধরতে হবে। পরিপূর্ণ মুমিন হওয়ার দাবিতে এগিয়ে আসতে হবে। মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে বিশ্বনবি ভালোবাসা অটুট রাখতে হবে। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ বাস্তবায়নের মাধ্যমে তাঁর খাঁটি প্রেমিক হওয়ার তাওফিক দান করুন। পরিপূর্ণ ঈমানদার হওয়ার জন্য তাঁকে জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসার তাওফিক দান করুন। গোনাহমুক্ত জীবন লাভ ও পরকালের নাজাত লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন। ...

জুমআর দিনজুড়ে যেসব আমল করবেন মুমিন

১৬,অক্টোবর,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সপ্তাহ ঘুরে ফিরে আসে জুমআ। এটি মুসলিম উম্মাহর ইবাদতের শ্রেষ্ঠ দিন। এ দিনজুড়ে রয়েছে অনেক আমল ও ইবাদত। প্রতিটি আমল ও ইবাদত সম্পর্কেই রয়েছে হাদিসের নির্দেশনা। কিন্তু বিশেষ একটি ইবাদত হলো সুরা কাহফ তেলাওয়াত করা। কিন্তু কোন সময়ে এ সুরাটি তেলাওয়াত করতে হয়? জুমআর দিন অযথা সময় নষ্ট না করে দ্রুত ইবাদত-বন্দেগিতে ধাবিত হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে কুরআনুল কারিমে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেন- হে ঈমানদরগণ! জুমআর দিনে যখন নামাজের আজান দেয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের পানে দ্রুত ধাবিত হও এবং বেচাকেনা বন্ধ কর। এটা তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা বুঝ। (সুরা জুমআ : আয়াত ৯) জুমআর দিন মুমিন বান্দার ইবাদত-বন্দেগির দিন। পুরো দিনজুড়ে বিভিন্ন মুহূর্তে আল্লাহ তাআলা বান্দার জন্য বিশেষ পুরস্করের ঘোষণা দিয়েছেন। আমলের বর্ণনা দিয়েছেন। এ দিনজুড়ে বিভিন্ন কাজের উপদেশও দিয়েছেন। যার প্রতিটিই ইবাদত ও আমলের শামিল। এসব আমলের সবই হাদিসে বর্ণিত। তা হলো- ১.গোসল করা। ২.ফজরের ফরজ নামাজে সুরা সাজদা ও সুরা দাহর/ইনসান তেলাওয়াত করা। ৩.উত্তম পোশাক পরা। ৪. সুগন্ধি ব্যবহার করা। ৫.আগেভাগে মসজিদে যাওয়া। ৬.সুরা কাহফ তেলাওয়াত করা। ৭.মসজিদে গিয়ে কমপক্ষে দুই রাকাআত সুন্নত নামাজ আদায় করা। ৮.ইমামের কাছাকাছি গিয়ে বসা। ৯.মনযোগ দিয়ে খোতবা শোনা। ১০.খোতবা চলাকালে কোনো কথা না বলা। ১১.দুই খোতবার মাঝের সময়ে বেশি বেশি দোয়া করা। অন্য সময়ে দোয়া করা। কারণ এদিন দোয়া কবুল হয়। ১২.রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর সারাদিন যথাসম্ভব বেশি দরূদ পাঠ করা। জুমআর দিনের বিশেষ আমল: জুমআর দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রয়েছে আমলের হাতছানি। হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় ফজর থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুরো দিনটিই আমলের নির্দেশনা রয়েছে। দিনের যে কোনো সময় সুরা কাহফ তেলাওয়াতের বর্ণনা যেমন রয়েছে, তেমনি এ সুরার তেলাওয়াতেরও রয়েছে বিশেষ ফজিলত ও মর্যাদা। হাদিসে এসেছে- হজরত ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমআর দিন সুরা কাহফ তেলাওয়াত করবে; তার পায়ের তলদেশ থেকে আসমান পর্যন্ত একটি আলো উৎসারিত হবে, যা কেয়ামতের দিন তার আলোর কাজে দেবে। আর তার দুই জুমআর মাঝের (সগিরা গোনাহ) মাফ করে দেয়া হবে। (আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব)। হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমআর দিন সুরা কাহফ পড়বে; তার জন্য তা দুই জুমআর মধ্যবর্তী সময়ে নুর হয়ে আলো দান করবে। (মুসতাদরাকে হাকেম, বায়হাকি)। হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি জুমআর দিন সুরা কাহ্ফ পড়বে, তা তার জন্য তার ও কাবা ঘরের মধ্যবর্তী স্থানকে নুর দ্বারা আলোকিত করে তুলবে। (বায়হাকি)। সুরা কাহফ তেলাওয়াতের সময়: বৃহস্পতিবার সূর্য ডোবার পর থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা হওয়ার আগ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় জুমআর দিন হিসেবে পরিগণিত। এ সময়ের মধ্যে সুরা কাহফ তেলাওয়াত করলেই হাদিসে উল্লেখিত ফজিলত লাভ করবে মুমিন। সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুরু করে জুমআর দিন সকাল, নামাজে যাওয়ার প্রস্তুতি, খোতবা শোনা, জুমআ আদায় করা, দরূদ পড়া, আসর থেকে মাগরিব ইবাদত-বন্দেগিতে নিয়োজিত থাকা। সুরা কাহফ তেলাওয়াত করা। আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণে দোয়া করা এবং ক্ষমা প্রার্থণা করা। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জুমআর দিনব্যাপী উল্লেখিত আমল ও কাজে নিজেদের নিয়োজিত রাখার তাওফিক দান করুন। হাদিসের উপর আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।...

ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে বলেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে: শহীদুল হক

স্পেশাল প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নারায়ণগঞ্জে ধর্ষণের পর খুন হওয়া মেয়েটি জীবিত ফেরার পর পুলিশের তদন্ত এবং রিমান্ডপ্রক্রিয়া আরো একবার প্রশ্নের মুখে। বিরাট প্রশ্ন ক্রসফায়ার বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়েও। এসব প্রশ্ন নিয়েই পুলিশের সাবেক আইজি শহীদুল হকের মুখোমুখি হয়েছিলেন নিউজ একাত্তর একজন স্পেশাল প্রতিনিধি। প্রশ্ন : সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের মামলায় তিনজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে বলেছে, তারাই ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে নদীতে লাশ ভাসিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ওই ছাত্রী জীবিত ফিরে এসেছে। পুলিশের পুরো তদন্তব্যবস্থাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেল না? শহীদুল হক : দেখুন, এখানে যে সঠিক তদন্ত হয়নি তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। যে তিনজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে তারা হয়তো পুলিশের ভয়েই এটা করেছে। এখন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সত্য তথ্য বেরিয়ে আসবে। এ ক্ষেত্রে আমার অভিজ্ঞতা যা তা হলো, কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যায় বাদীপক্ষের চাপে বা বাদীপক্ষের কাছ থেকে অনৈতিক কোনো সুযোগ নিয়ে কাউকে মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়। কাউকে কাউকে গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটে। প্রশ্ন : ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার তদন্তে তো জজ মিয়ার ঘটনাও ঘটেছে। শহীদুল হক : সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে, সরকারের চাপে জজ মিয়ার নাটক সাজানো হয়েছে। ওই ঘটনা পুলিশ বাহিনীর জন্য দুঃখজনক। তবে মনে রাখতে হবে, ওটা ছিল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। ২১ আগস্ট মামলায় প্রথমদিকে যা হয়েছে, তদন্ত কর্মকর্তা ভালো হলে তাঁর ওপর সরকারের চাপ থাকলে প্রয়োজন হলে তিনি চাকরি ছেড়ে দিতে পারতেন। তা কিন্তু করেননি। দুর্নীতিপরায়ণ দুই-চারজন তদন্ত কর্মকর্তার কারণেই মাঝে মাঝে পুলিশের ওপর দোষ চাপে। নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলি, আমি চাঁদপুরের এসপি পদে থাকার সময় সেখানে একজন ওসি ছিল, মিয়া মো. শরীফ। তাকে কোনোভাবেই বাগে আনা যাচ্ছিল না। এক প্রভাবশালীর ছত্রচ্ছায়ায় একের পর এক অপকর্ম করেই যাচ্ছিল। একপর্যায়ে তাকে বদলির আদেশ দেওয়া হলো। কিন্তু সে ওই প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে চলে গেল। এরপর একদিন তৎকালীন আইজি মহোদয় আমাকে ফোন করে বললেন, এটা নিয়ে যেন আমি আর কথা না বলি। কিন্তু আমি থেমে থাকিনি। আমি চাপের কাছে নতি স্বীকার করিনি। প্রশ্ন : কিন্তু এ রকম একজন-দুজনের কারণে তো গোটা পুলিশ বাহিনীর ওপরই দায় চলে আসছে। শহীদুল হক : এক-দুজনের কারণে গোটা বাহিনী কলঙ্কিত হতে পারে না। হয়ও না। দেশের মানুষ সচেতন। তারা সব বোঝে। দেখুন, করোনাভাইরাসের মতো মহামারির সময় এই পুলিশ বাহিনীর কর্মকাণ্ড সর্বমহলে প্রসংশিত হয়েছে। জঙ্গি দমনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা সবাই দেখছে। পুলিশের এত ভালো কাজের মধ্যে দু-একটি ঘটনা গোটা বাহিনীর সাফল্যকে ম্লান করে দিতে পারে না। প্রশ্ন : প্রতিটি ক্রসফায়ারের ঘটনার পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তা সব ঘটনার ক্ষেত্রে একই ধরনের। সত্যি বললে মানুষের কাছে এর কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। হাসাহাসিই হয় অনেক ক্ষেত্রে। শহীদুল হক : আমি নিজেও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে বিশ্বাস করি না। কেউ অপরাধ করলে তাকে বিচারের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। তবে একটা কথা, আমাদের দেশে মাঝে মাঝে কিছু এনকাউন্টার বা ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটছে। এই ক্রসফায়ারের ঘটনার প্রেক্ষাপট জানতে হবে। দেশে অনেক বড় বড় সন্ত্রাসী ছিল, যাদের গ্রেপ্তার করে রাখা যেত না। কয়েক দিন কারাগারে থাকার পর জামিনে বেরিয়ে এসে আরো বড় বড় অপরাধ করত। আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতির প্রেক্ষাপটে ২০০৪ সালে শুরু হয় ক্রসফায়ারের ঘটনা। তখন বড় সন্ত্রাসীরা ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে। দেশের মানুষ ওটাকে ব্যাপকভাবে সমর্থন দিয়েছে। এভাবে দেখলে, সেই সময় ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে বলেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। আরেকটা কথা, কোনো মামলায় অপরাধীকে গ্রেপ্তারের পর অভিযোগপত্র দেওয়া হয় আদালতে। কিন্তু আদালতে মামলা বছরের পর বছর পড়ে থাকে। বিচারের এই দীর্ঘসূত্রতার কারণেই আসামিরা জামিনে বেরিয়ে এসে আরো অপরাধ করে। দেশে যদি দ্রুত বিচারকাজ সম্পন্ন হতো এবং আসামিদের যদি জামিন না হতো তাহলে এই ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটত না বল মনে করি। প্রশ্ন : ক্রসফায়ারে নিরীহ মানুষ হত্যার অভিযোগ উঠছে। কখনো কখনো অর্থ নিয়ে বা অর্থের জন্য এ ধরনের ঘটনা ঘটছে এমনও আমরা দেখছি... শহীদুল হক : এ রকম দু-একটি ঘটনা যে ঘটছে না তা বলা যাবে না। এ কারণেই তো এটা নিয়ে এত কথা হচ্ছে। আমার কথা হলো, এ রকম নিরীহ মানুষ হত্যা করা হলে জড়িত আইন-শৃঙ্খল বাহিনীর সদস্যদের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা দরকার। প্রশ্ন : দেখা যায়, আইন-শৃঙ্খল বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বড়জোর দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করার ঘটনা ঘটে। এরপর আর কিছু হয় না। শহীদুল হক : এ কথা সত্য নয়। প্রথামিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে চাকরিচ্যুত, বেতন কমানো, পদের অবনমন ইত্যাদি ঘটনা ঘটে। এ রকম বহু ঘটনা আছে। যা কখনো মিডিয়ায় আসে না বলেই মানুষ প্রথমটুকুই দেখে মূল্যায়ন করে। পরেরটুকু দেখলে বা মিডিয়ায় এলে মানুষের ভুল ধারণা কেটে যাবে। ...

জামাল খানের উন্নয়নই আমার একমাত্র চাওয়া: কাউন্সিলর প্রার্থী শৈবাল দাশ সুমন

০১মার্চ,রবিবার,কমল চক্রবর্তী,বিশেষ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী শৈবাল দাশ সুমন এলাকার উন্নয়ন ভাবনা ও আগামী নির্বাচন নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা নিউজ একাত্তর এর কাছে তুলে ধরেন। শনিবার ২৯শে ফেব্রুয়ারি বিকালে তার নিজ কার্যালয়ে নিউজ একাত্তরকে দেয়া একান্ত এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার নানা কর্মকাণ্ড ও এলাকার উন্নয়ন নিয়ে তার চিন্তা ধারার কথা তথা আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি এলাকার জন্য কি কি কাজ করবেন তা সবিস্তর ব্যক্ত করেছেন। দলীয় মনোনয়ন পেয়ে তিনি তার অনুভুতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, তিনি দলীয় মনোনয়ন পেয়ে অনেক খুশী যে তাকে আবারও মুল্যায়ন করেছেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রীকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানান তাকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য। তার উপর আস্থা রাখার জন্য। তিনি প্রধানমন্ত্রীর আস্থার প্রতিদান দিবেন। তিনি মনে করেন এই মনোনয়ন এর মধ্য দিয়ে তার দায়বদ্ধতা আরও বেড়ে গেলো এবং কাজের গতি দ্বিগুন বেড়ে গেছে। কাউন্সিলর প্রার্থী শৈবাল দাশ সুমন জানান, আজকের এই নান্দনিক জামাল খানের রুপান্তর সম্ভব হয়েছে মানুষের সহযোগিতার জন্য। ওয়ার্ডবাসী তাদের মুল্যবান রায় দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেছে এবং আমার উপর আস্থা রেখেছেন। যার ফলে তিনি বিগত পাঁচ বছরে নগরীর জামাল খান ওয়ার্ডকে একটি নান্দনিক জামাল খানে রুপান্তর করতে সক্ষম হয়েছেন। এক সময় যে জামাল খানে একটু রাত হলেই ঘনিয়ে আসতো অন্ধকার, স্ট্রিট লাইট গুলো জ্বলত মিট মিট করে। গনি ব্যাকারী থেকে জামাল খান পর্যন্ত নেমে আসা নিরবতার কারনে বেড়ে যেত ছিনতাই আর নেশা খোরদের আনাগোনা। সেই জামাল খান আজ চট্টগ্রাম তথা বাংলাদেশের একটি আদর্শ ওয়ার্ডে রূপান্তরিত হয়েছে। ৪১ টি ওয়ার্ডের মধ্যে একটি অন্যতম ওয়ার্ড হিসাবে পরিচিত। চারিদিকে সবুজের সমারোহ তিরি করা হয়েছে, লাগানো হয়েছে বিচিত্র গাছ গাছালি ও ফুলের বাগান। সেই সাথে রয়েছে দর্শনার্থীদের জন্য বসার স্থান। সড়ক জুড়ে স্থাপন করা হয়েছে এলডি বাল্ব।পথচারীদের বিশ্রামের জন্য বসানো হয়েছে ছাউনি। জামাল খানের প্রতিটি দেয়ালে দেয়ালে বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সুনিপুণ কারুকাজ করা হয়েছে। যা ইতিহাস ঐতিহ্যের সাথে মানুষকে পরিচয় করিয়ে দেয়। গোল চক্করে স্থাপন করা হয়েছে রঙ্গিন ফোয়ারা যা জামাল খানের সৌন্দর্যকে অনেক খানি বাড়িয়ে দিয়েছে। বসানো হয়েছে লাইভ ফিশ একুরিয়াম( স্ট্রিট একুরিয়াম)। অতি সম্প্রতি দেয়ালে স্থাপন করা হয়েছে বাংলাদেশের প্রথম কাঁচের তৈরি বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল। তিনি এলাকার মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। মাদক, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলবেন। যুবক সমাজকে মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত রাখতে কাজ করবেন। তার এলাকায় জলজট নেই তবে কিছুটা জলাবদ্ধতা আছে। তিনি আশা বাদী সিডিএ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যৌথ ভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি প্রকল্পের কাজ করছে। এটির বাস্তবায়ন হলে জলাবদ্ধতা পুরোপুরি নিরসন করা যাবে। আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে এই জামাল খানকে বিশ্বের একটি আধুনিক ওয়ার্ডে রুপান্তর করবেন। পার্কের আদলে গড়ে তুলবেন পুরো জামাল খানকে। জামাল খানে গড়ে তুলবেন একটি সমন্বিত বার্ড জোন ও একটি পাঠাগার। জামালখান কে তামাক মুক্ত ও ফুটপাত হকার মুক্ত রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন। তাছাড়া এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আনসার নিয়োগের পরিকল্পনা ও রয়েছে। তিনি ২১ নং জালাল খানের ওয়ার্ড বাসীর কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন, তার শৈশব কৈশোর কেটেছে এই জামাল খানে। এই এলাকার সাথে তার আত্মার সম্পর্ক। আপনারা আমার পরম আত্মীয়। তাকে আবারও নির্বাচিত করে আরও একটিবার সুযোগ দেওয়ার জন্য যাতে এলাকাবাসীর সেবা করতে পারেন। সেই সাথে দলীয় নেতা কর্মীদের কাছে উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন তাকে সহযোগিতা করার জন্য। তিনি নির্বাচিত হলে সব সময় সুখে দুঃখে এলাকাবাসীর পাশে থাকবেন। অতীতের মত নিরলস ভাবে কাজ করে যাবেন এবং জনগনের ভালোবাসার প্রতিদান দিবেন। জামালখান বাসী আমরা সবাই একটা পরিবার। আপনারা যদি মনে করেন আমাকে বিগত পাঁচ বছরে আপনাদের কাছে পেয়েছেন তাহলে আমাকে আবার সেবা করার সুযোগ দিবেন। ...

কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের জন্য আজীবন সংগ্রমী মোস্তফা ভুঁইয়া

২২সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: মোঃ মোস্তফা ভুঁইয়া ১৯৫০ সালের মার্চ মাসের ৪ তারিখে নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার বাস গ্রামে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মরহুম ডাঃ মনিরুজ্জামান ভুঁইয়া, মাতার নাম মরহুমা রৌশনারা বেগম। তিনি তিন সন্তানের জনক। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক পুত্র, এক কন্যা, আত্মীয়স্বজন সহ অসংখ্য সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি একসময় খাদ্য অধিদপ্তরে সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি ১৯৭০ সালে ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে চাকুরিতে যোগদান করেন। তার চাকুরি জীবন শুরু হয় পাকিস্তানের করাচিতে। তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তান যা বর্তমানে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি পুনরায় খাদ্য অধিদপ্তরে যোগদান করেন। ২০০৮ সালে তিনি খাদ্য অধিদপ্তরে সহকারী পরিচালক হিসেবে অবসর গ্রহন করেন। তিনি প্রগতিশীল রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। ২০১১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারী স্বদেশ পার্টিতে যাত্রা শুরু করেন। তিনি আমৃত্যু স্বদেশ পার্টির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সমাজসেবা, জনকল্যাণ, কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের অধিকার সংগ্রামে জড়িত ছিলেন। তিনি অন্যায়, অত্যাচার, শোষণ, নিপীড়ন, বঞ্চনা- লাঞ্ছনার বিরুদ্ধে একজন বলিষ্ট প্রতিবাদী ছিলেন। তিনি গত ২০২০ সালের ৮ আগস্ট জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে সবাইকে ছেড়ে না ফেরার দেশে পারি জমান। তার অসংখ্য রাজনৈতিক, সামাজিক, সহকর্মী শোকাহিত হৃদয়ে তাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেছে। তার অভাব পূরণ হবার নয়। তার কর্মীরা এক মূহূর্তের জন্য তাকে ভুলতে পারে না। আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত, শান্তি, এবং জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করছি।


ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে বলেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে: শহীদুল হক

স্পেশাল প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নারায়ণগঞ্জে ধর্ষণের পর খুন হওয়া মেয়েটি জীবিত ফেরার পর পুলিশের তদন্ত এবং রিমান্ডপ্রক্রিয়া আরো একবার প্রশ্নের মুখে। বিরাট প্রশ্ন ক্রসফায়ার বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়েও। এসব প্রশ্ন নিয়েই পুলিশের সাবেক আইজি শহীদুল হকের মুখোমুখি হয়েছিলেন নিউজ একাত্তর একজন স্পেশাল প্রতিনিধি। প্রশ্ন : সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের মামলায় তিনজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে বলেছে, তারাই ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে নদীতে লাশ ভাসিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ওই ছাত্রী জীবিত ফিরে এসেছে। পুলিশের পুরো তদন্তব্যবস্থাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেল না? শহীদুল হক : দেখুন, এখানে যে সঠিক তদন্ত হয়নি তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। যে তিনজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে তারা হয়তো পুলিশের ভয়েই এটা করেছে। এখন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সত্য তথ্য বেরিয়ে আসবে। এ ক্ষেত্রে আমার অভিজ্ঞতা যা তা হলো, কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যায় বাদীপক্ষের চাপে বা বাদীপক্ষের কাছ থেকে অনৈতিক কোনো সুযোগ নিয়ে কাউকে মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়। কাউকে কাউকে গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটে। প্রশ্ন : ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার তদন্তে তো জজ মিয়ার ঘটনাও ঘটেছে। শহীদুল হক : সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে, সরকারের চাপে জজ মিয়ার নাটক সাজানো হয়েছে। ওই ঘটনা পুলিশ বাহিনীর জন্য দুঃখজনক। তবে মনে রাখতে হবে, ওটা ছিল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। ২১ আগস্ট মামলায় প্রথমদিকে যা হয়েছে, তদন্ত কর্মকর্তা ভালো হলে তাঁর ওপর সরকারের চাপ থাকলে প্রয়োজন হলে তিনি চাকরি ছেড়ে দিতে পারতেন। তা কিন্তু করেননি। দুর্নীতিপরায়ণ দুই-চারজন তদন্ত কর্মকর্তার কারণেই মাঝে মাঝে পুলিশের ওপর দোষ চাপে। নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলি, আমি চাঁদপুরের এসপি পদে থাকার সময় সেখানে একজন ওসি ছিল, মিয়া মো. শরীফ। তাকে কোনোভাবেই বাগে আনা যাচ্ছিল না। এক প্রভাবশালীর ছত্রচ্ছায়ায় একের পর এক অপকর্ম করেই যাচ্ছিল। একপর্যায়ে তাকে বদলির আদেশ দেওয়া হলো। কিন্তু সে ওই প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে চলে গেল। এরপর একদিন তৎকালীন আইজি মহোদয় আমাকে ফোন করে বললেন, এটা নিয়ে যেন আমি আর কথা না বলি। কিন্তু আমি থেমে থাকিনি। আমি চাপের কাছে নতি স্বীকার করিনি। প্রশ্ন : কিন্তু এ রকম একজন-দুজনের কারণে তো গোটা পুলিশ বাহিনীর ওপরই দায় চলে আসছে। শহীদুল হক : এক-দুজনের কারণে গোটা বাহিনী কলঙ্কিত হতে পারে না। হয়ও না। দেশের মানুষ সচেতন। তারা সব বোঝে। দেখুন, করোনাভাইরাসের মতো মহামারির সময় এই পুলিশ বাহিনীর কর্মকাণ্ড সর্বমহলে প্রসংশিত হয়েছে। জঙ্গি দমনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা সবাই দেখছে। পুলিশের এত ভালো কাজের মধ্যে দু-একটি ঘটনা গোটা বাহিনীর সাফল্যকে ম্লান করে দিতে পারে না। প্রশ্ন : প্রতিটি ক্রসফায়ারের ঘটনার পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তা সব ঘটনার ক্ষেত্রে একই ধরনের। সত্যি বললে মানুষের কাছে এর কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। হাসাহাসিই হয় অনেক ক্ষেত্রে। শহীদুল হক : আমি নিজেও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে বিশ্বাস করি না। কেউ অপরাধ করলে তাকে বিচারের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। তবে একটা কথা, আমাদের দেশে মাঝে মাঝে কিছু এনকাউন্টার বা ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটছে। এই ক্রসফায়ারের ঘটনার প্রেক্ষাপট জানতে হবে। দেশে অনেক বড় বড় সন্ত্রাসী ছিল, যাদের গ্রেপ্তার করে রাখা যেত না। কয়েক দিন কারাগারে থাকার পর জামিনে বেরিয়ে এসে আরো বড় বড় অপরাধ করত। আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতির প্রেক্ষাপটে ২০০৪ সালে শুরু হয় ক্রসফায়ারের ঘটনা। তখন বড় সন্ত্রাসীরা ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে। দেশের মানুষ ওটাকে ব্যাপকভাবে সমর্থন দিয়েছে। এভাবে দেখলে, সেই সময় ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে বলেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। আরেকটা কথা, কোনো মামলায় অপরাধীকে গ্রেপ্তারের পর অভিযোগপত্র দেওয়া হয় আদালতে। কিন্তু আদালতে মামলা বছরের পর বছর পড়ে থাকে। বিচারের এই দীর্ঘসূত্রতার কারণেই আসামিরা জামিনে বেরিয়ে এসে আরো অপরাধ করে। দেশে যদি দ্রুত বিচারকাজ সম্পন্ন হতো এবং আসামিদের যদি জামিন না হতো তাহলে এই ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটত না বল মনে করি। প্রশ্ন : ক্রসফায়ারে নিরীহ মানুষ হত্যার অভিযোগ উঠছে। কখনো কখনো অর্থ নিয়ে বা অর্থের জন্য এ ধরনের ঘটনা ঘটছে এমনও আমরা দেখছি... শহীদুল হক : এ রকম দু-একটি ঘটনা যে ঘটছে না তা বলা যাবে না। এ কারণেই তো এটা নিয়ে এত কথা হচ্ছে। আমার কথা হলো, এ রকম নিরীহ মানুষ হত্যা করা হলে জড়িত আইন-শৃঙ্খল বাহিনীর সদস্যদের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা দরকার। প্রশ্ন : দেখা যায়, আইন-শৃঙ্খল বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বড়জোর দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করার ঘটনা ঘটে। এরপর আর কিছু হয় না। শহীদুল হক : এ কথা সত্য নয়। প্রথামিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে চাকরিচ্যুত, বেতন কমানো, পদের অবনমন ইত্যাদি ঘটনা ঘটে। এ রকম বহু ঘটনা আছে। যা কখনো মিডিয়ায় আসে না বলেই মানুষ প্রথমটুকুই দেখে মূল্যায়ন করে। পরেরটুকু দেখলে বা মিডিয়ায় এলে মানুষের ভুল ধারণা কেটে যাবে।

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বিতর্ক : পরিস্থিতি ঘোলাটে করার পায়তারা রুখতে হবে- মো. এনামুল হক লিটন

২৮নভেম্বর,শনিবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: উগ্রবাদীদের আস্ফালন দেখে হতবাক না হয়ে পারা যায় না। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নিয়ে তারা কিভাবে এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আস্ফালন দেখানোর দূঃসাহস দেখায় তা বোধগম্য নয়। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বিতর্কে লিপ্ত হয়েছে দুই ইসলামপন্থী নেতা। এনিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গণে বিরাজ করছে চাঁপা ক্ষোভ। প্রগতিশীল মানুষের মাঝে উত্তেজনার পাশাপাশী দেশের মানুষের মাঝে এক ধরণের উৎকন্ঠা বিরাজমান। সবমিলিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে হওয়ায় আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। অপরদিকে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরোধিতা কারীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিসহ আওয়ামী লীগ। সারাদেশে এ নিয়ে তুমুল গুঞ্জন চললেও রা নেই জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি-জাতীয় পাটিসহ সরকার বিরোধি সংগঠনগুলোর। বিষয়টি নিয়ে রাজনীতির মাঠে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। তা হলো, দেশের পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে কেউ কি পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছেন? আর যদি তা-ই হয়, তাহলে সরকারকে এটি শক্ত হাতে মোকাবেলা করতে হবে। কেন না সম্প্রতি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য অপসারণের দাবী জানিয়ে প্রথমে মৌলবাদী দুই নেতা চরমোনাইর পীর ও ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম এবং হেফাজত ইসলামের নেতা মাওলানা মামুনুল হক সমাবেশ করেছে। তাদের দাবি, মূর্তি স্থাপনের সিদ্ধান্ত বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তৌহিদি জনতার আন্দোলন চলবে। সরকার যদি ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন থেকে সরে না আসে, তাহলে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে তারা। এর পরপরই ২৭ নভেম্বর এক মাহফিলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা এবং হেফাজতের যুগ্ন মহাসচিব মামুনুল হককে প্রধান বক্তা করা হয়। কিন্তু মামুনুল হকের চট্টগ্রামে আসা প্রতিহত করতে মাঠে নামে আওয়ামী লীগসহ দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এবং স্বাধীনতার পক্ষের সংগঠনগুলো। চট্টগ্রামের সবর্ত্র চলে বিক্ষোভ। সাধারণ মানুষের মাঝে এ নিয়ে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা চলে দিনব্যাপী। অবশেষে সেই মাহফিলে মাওলানা মামুনুল হক যোগদান না করলেও যে কোনো দল ভাস্কর্য বসালে তা টেনে হিঁচরে ফেলে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমীর জুনায়েদ বাবুনগরী। আল-আমিন সংস্থা আয়োজিত হাটহাজারীর পার্বত্য সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তিন দিনের তাফসীরুল কোরআন মাহফিলের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তার এমন হুমকি আসে। এর প্রেক্ষিতে উত্তেজনা দেখা দেয় আওয়ামী লীগসহ প্রগতিশীল মানুষের মাঝে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবাইদুল কাদের সংবাদ সম্মেলন করে বাবুনগরীর ওই বক্তব্যকে ঔদ্ধত্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন। এছাড়া দলটির অঙ্গ-সংগঠনগুলো চট্টগ্রাম নগরীসহ ঢাকার রাজপথে বিক্ষোভ দেখিয়েছে। অন্যদিকে কেন্দ্রিয় আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবল আলম হানিফও হেফাজত নেতার বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন এবং চট্টগ্রামে গত ২৮ নভেম্বর এক অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিষ্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ভাস্কর্যবিরোধি বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে হুশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন। সবমিলিয়ে আবারো উত্তপ্ত হচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গন। কেউ-কেউ বলছেন, সরকার পতন আন্দোলনের ইস্যু হিসেবে দাঁড় করাতেই এসব করা হচ্ছে। অথচ যে মহান ব্যক্তির জন্য বাংলাদেশের জন্ম তার ভাস্কর্য নাকি মূর্তি। তাই মসজিদের শহরে মূর্তি স্থাপন করা যাবে না বলে ধর্মপ্রাণ মুসলমানকে উস্কে দিয়ে মৌলবাদীরা অন্যকোনো ফায়দা হাসিলে ব্যস্ত কিনা তা বলা মুশকিল। তারা কখনও মাঠ গরম করে ধর্ম অবমাননার নামে, কখনও কাউকে নাস্তিক আখ্যা দেয়ার নামে, আবার কখনও ভাস্কর্যকে মূর্তি বানিয়ে তা অপসারণের নামে। আসলে তাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা নস্যাৎ করে জনমনে ভীতির সৃষ্টি করা। তারা যে আসলেই স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি তা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য অপসারণের দাবী জানিয়ে আবারো স্পষ্ট করেছে। বলাবাহুল্য যে, ২০১৭ সালের ২৬ মার্চ রাতে দেশের সব্বোর্চ বিচার প্রাঙ্গণ সুপ্রীম কোর্ট চত্বর থেকে মৌলবাদীদের দাবী মেনে নিয়ে লেডি জাষ্টিজ ভাস্কর্যটি লোক চক্ষুর অন্তরালে সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। ২০০৮ সালের ৩০ নভেম্বর রাতে রাজধানীর বলাকা ভবণের সামনের রাস্তায় বলাকা ভাস্কর্যে হামলা চালায় একটি উগ্রবাদী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। একইবছর হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দরের সামনের গোল চত্বরে বাউল ভাস্কর্যে হামলা চালায় মৌলবাদী গোষ্ঠি। ২০১৩ সালের ৫মে ঢাকা অবরোধ করে হেফাজতে ইসলাম দেশ থেকে সব ভাস্কর্য ভেঙ্গে ফেলার আল্টিমেটাম দিয়েছিল সরকারকে। তারা ওই সমাবেশে সরকারের প্রগতিমূখী নারীনীতি, শিক্ষানীতি বাতিলের দাবীও তুলেছিল। তাদের ঘোষিত কর্মসূচীতে নারীকে পঞ্চম শ্রেণীর বেশী লেখাপড়া না করিয়ে ঘরে বন্দি করে রাখার কথা বলা হয়েছিল এবং নারীর প্রতি অমর্যাদাও দেখানো হয়েছিল। আরো অনেক অগ্রহণযোগ্য দাবী ছিল তাদের। এসব দাবী মেনে না নিলে সরকার পতনেরও হুমকি দিয়েছিল তারা। সরকারের ররফ থেকে ওই সময়ে কিছু দাবী মানাও হয়েছিল। এরপরও তারা থেমে থাকে নি। তখন থেকে প্রশ্রয় পেয়ে আজ তারা মাথায় উঠেছে। আজ বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যকে মূর্তি আখ্যা দিয়ে বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেয়ার আস্ফালন দেখাচ্ছে। ভাস্কর্য আর মূর্তি কখনো এক হতে পারে না। তারা তা জেনেও দেশে অরাজকতা সৃষ্টির খেলায় মেতে উঠেছে। ভাস্কর্য শুধুই একটি শিল্প। যা একটি দেশের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি সেই দেশের প্রকৃতি, জলবায়ু, ইতিহাস ও ঐতিহ্যেরই ধারক-বাহক হয়ে থাকে। এটি যেমনি আইন করে চাপিয়ে দেওয়া যায় না, তেমনি আবার কৃত্রিমভাবে সৃষ্টিও করা যায় না। বাংলাদেশের সামাজিক ও জাতীয় জীবনে যেসব অধ্যায় পার করে জাতি আজ সভ্যতা ও আধুনিক যুগে এসে দাঁড়িয়েছে, সেখানে এক শ্রেণির ইসলামপন্থী কয়েক সংগঠনের নেতাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা সবারই জানা। ১৯৭১-এর আগে এবং ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে ও পরবর্তীতে রাজনৈতিক অঙ্গনে এক শ্রেণির তথাকথিত আলেম-উলামারা যে ভূমিকা রেখেছিলেন, সে কারণে সমাজে তাদের ব্যাপারে স্বাভাবিকভাবেই একটি নেতিবাচক ধারনা বিদ্যমান। আর এসব প্রতিক্রিয়ার প্রতিফলন ঘটে থাকে আমাদের শিল্প, সাহিত্য এবং গণমাধ্যমে। দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করে, অযুক্তিক ইস্যু দ্বাড় করিয়ে এবং জলাও-পোড়াওয়ের মাধ্যমে ধর্মের দোহাই দেয়া কতটুকু যুক্তিযুক্ত তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বাংলাদেশ ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী নির্বিশেষে সবার। আমরা চাই, সবাই তার নিজ-নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবে। এক্ষেত্রে যারা নানা অযুক্তিক ইস্যুতে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাইবে, তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীও রাখে। দেশের মানুষকে বাচাঁতে বঙ্গকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার অতীতেও অনেক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাই এ ব্যাপারেও সরকারকে এখন থেকেই সজাগ হয়ে আবারো কঠোর কোনো পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেয়ার কোন সুযোগ নেই। আমাদের প্রত্যাশা যারা ধর্মের দোহাই দিয়ে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের পরিস্থিতি ঘোলাটে করার পায়তারা করছে, তা যে কোন মূল্যে রুখতে হবে। তাই তাদের বিরুদ্ধে সরকার কালক্ষেপন না করে তড়িৎ কঠোর পদক্ষেপ নেবেন। এমনটা প্রত্যাশা আমাদের। -লেখক : সাংবাদিক ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, প্রগতিশীল সংবাদপত্র পাঠক লেখক ফোরাম, কেন্দ্রিয় কমিটি।

আজকের মোট পাঠক

42151

নিউজ একাত্তর ডট কম

সম্পাদক : মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী

নির্বাহী সম্পাদক : আহাম্মদ হোসেন ভুইয়া

একটি পপুলার মিডিয়া পাবলিকেশন এর প্রকাশনা | রেজি নং: চ-১২৪২৭/১৭

সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয় : ৪১৬/সি,খিলগাও ঢাকা ০২৪৩১৫০৪৮৮, ০১৮২৪২৪৫৫০৪, ০১৭৭৮৮৮৮৪৭২

চট্টগ্রাম কার্যালয় : ১৯/২০/২১ বি ৩য় তলা, হানিমুন টাওয়ার,পাহাড়তলী,চট্টগ্রাম।

ই-মেইল : newsekattor@gmail.com, editorekattor@gmail.com, কপিরাইট ©newsekattor.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত