ফেসবুকের বিরুদ্ধে সাড়ে তিন হাজার কোটি ডলারের মামলা

২০অক্টোবর,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় মাধ্যম ফেসবুকের বিরুদ্ধে সাড়ে তিন হাজার কোটি ডলারের ক্লাস-অ্যাকশন মামলা হয়েছে। ব্যবহারকারীদের ফেসিয়াল রিকগনিশন ডাটার অপব্যবহারের কারণে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। কয়েক বছর ধরেই মামলাটি এড়ানোর চেষ্টা করছিল ফেসবুক। ব্যবহারকারীদের অনুমতি ছাড়া বায়োমেট্রিক ডাটা সংগ্রহ করে ফেসবুক রাজ্যের বায়োমেট্রিক ইনফরমেশন প্রাইভেসি অ্যাক্ট লঙ্ঘন করেছে উল্লেখ করে ২০১৫ সালে ওই আইনি লড়াই শুরু হয়। তবে ফেসবুকের পক্ষ থেকে মামলাটি বাতিলের অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু সানফ্রান্সিসকোর তিন সদস্যের বিচারক প্যানেল ফেসবুকের ওই আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। এর ফলে ফেসবুক যদি এখন সুপ্রিম কোর্টে না যায়, তবে সাড়ে তিন হাজার কোটি ডলারের ক্লাস-অ্যাকশন মামলাটির শুনানি শুরু হবে। অভিযোগে বলা হয়, নিজেদের ট্যাগ সাজেশন্স ফিচারের মাধ্যমে ফেসিয়াল রিকগনিশন ডাটার অপব্যবহার করেছে ফেসবুক। এই ফিচারের মাধ্যমে একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী তার বন্ধুকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন। মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, ইলিনয়ের বাসিন্দারা তাদের আপলোড করা ছবি ফেসিয়াল রিকগনিশনের মাধ্যমে স্ক্যান করার অনুমতি দেয়নি এবং ওই ডাটা কতটুকু সময়ের জন্য সংরক্ষণ করা হবে, সেটিও তাদের জানানো হয়নি। ২০১১ সালে ফেসবুক তাদের ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করে। তখন প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল, ফেসবুক বন্ধুদের শনাক্ত করতে এটি কাজে লাগবে। ফেসবুক এ মামলায় হেরে গেলে ব্যক্তিপ্রতি এক হাজার থেকে পাঁচ হাজার ডলার জরিমানা দিতে হবে। সেক্ষেত্রে ৭০ লাখ ব্যবহারকারীকে এ জরিমানা দিতে হলে তাদের পকেট থেকে সাড়ে তিন হাজার ডলার খসবে। ...

সৌদিতে বাস দুর্ঘটনায় নিহত ৩৬ জনের মধ্যে ১১ জন বাংলাদেশি

১৯অক্টোবর,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সৌদি আরবের মদিনায় বাস দুর্ঘটনায় নিহত ৩৬ জনের মধ্যে ১১ জন বাংলাদেশি নাগরিক। নিহতদের ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হবে। আজ জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট অফিস এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সূত্র জানায়, শনিবার সৌদি আরবের সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ১৬ই অক্টোবর মদিনায় যে বাস দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেখানে ৪০ জন যাত্রী ছিলেন। বাসটি মদিনা থেকে মক্কা যাচ্ছিল। বাস দুর্ঘটনায় নিহত হন ৩৬ জন। আর আহত হয়েছেন ৪ জন। বাসে ১৩ জন বাংলাদেশি ছিলেন। তবে ১৩ জনের মধ্যে ২ জন বাংলাদেশি মদিনা নেমে যান। বাকিরা বাসের অগ্নিকান্ডে দগ্ধ হয়ে মারা যান। সূত্র বলছে, বাসযাত্রীদের শরীর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তাই তাদের চেনা যাচ্ছে না। ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হবে।গত ১৬ই অক্টোবর মদিনা থেকে ১৯০ কিলোমিটার দূরে এই বাস দুর্ঘটনা ঘটে। এদিকে মদিনায় বাস দুর্ঘটনায় নিহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। ...

ইমরানের পর এবার সৌদি সফরে যাচ্ছেন মোদি

১৯অক্টোবর,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের বিরুদ্ধে পুরো মুসলিম বিশ্বকে একজোট করার চেষ্টায় নেমেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ঠিক সেই সময়েই রিয়াদে প্রথম ভারত-সৌদি সহযোগিতা পরিষদের বৈঠকে যোগ দিতে অক্টোবরের শেষে বিমানে উঠবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বর্তমান ভূকৌশলগত রাজনীতির খেলায় নরেন্দ্র মোদির রিয়াদ সফরটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন কূটনীতিকরা। মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চ ওআইসি-র রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অনেক চেষ্টা করেও সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা বাহরাইনের মত দেশগুলোকে ভারতের কাশ্মীর নীতির বিরোধিতায় পাশে পায়নি পাকিস্তান। বরং গত মাসে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ইমরান খানের দেয়া পরমাণু হুমকির সমালোচনাই করেছিল সৌদি। পরে পাকিস্তান নেতৃত্ব অভিযোগ করে যে, ভারতের বিশাল বাজারের হাতছানিতে অনেক দেশ জম্মু-কাশ্মীরের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে চোখ বন্ধ করে রেখেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনে কাশ্মীর নিয়ে ভারত বিরোধী প্রস্তাব আনা না আনা নিয়েও বিভক্ত ওআইসি। একদিকে প্রস্তাব আনার পক্ষে রয়েছে- পাকিস্তান, তুরস্ক, মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলো। অন্যদিকে সৌদি, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইনের মতো দেশগুলো এর বিরোধিতা করছে। মোদি তার আসন্ন রিয়াদ সফরে বাণিজ্যিক এবং কৌশলগতভাবে সৌদিকে আরও কাছে টানার চেষ্টা করবেন বলে জানাচ্ছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শক্তি, তেল, কৃষি, খনিজ, অবকাঠামো ক্ষেত্রে বিপুল বিনিয়োগ করতে চলেছে সৌদি আরব। পাশাপাশি মৌলবাদ এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্য সমন্বয় বাড়ানো নিয়েও আলোচনা ও চুক্তিপত্র সই হওয়ার কথা রয়েছে দুই দেশের। কয়েক সপ্তাহ আগে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল রিয়াদে গিয়ে পুরো নকশাটি তৈরি করে এসেছেন।...

স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমের জেরে খুন হয় বাবা-মেয়ে

২০অক্টোবর,রবিবার,নিউজ চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: পরকীয়া প্রেমের জেরে চট্টগ্রামে আবু তাহের ও মেয়েকে হত্যা করে তার স্ত্রী ও তার প্রেমিক। এ ঘটনায় হাছিনা বেগম ও মাইনউদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। (২০ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানায়। পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় নিহত আবু তাহেরের ভাই অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে নগরীর বন্দর থানায় মামলা করেছেন। শনিবার (১৯ অক্টোবর) সকালে নগরীর নিমতলা এলাকার বাসিন্দা আবু তাহের ও তার মেয়েকে নিজ বাসায় গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এর পর ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করে পুলিশ, Rab ও সিআইডি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রী, খালাসহ কয়েক জনকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টা পাত্তয়ায় স্ত্রীকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।...

ভোলায় পুলিশের সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষে নিহত ৪

২০অক্টোবর,রবিবার,ভোলা প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভোলার বোরহানউদ্দিনে পুলিশের সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। শনিবার (১৯ অক্টোবর) বিপ্লব বিশ্বাস নামে এক যুবককে আটক করে বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশ। এ ঘটনার জেরে রোববার সকাল ১০টার দিকে এলাকাবাসী বোরহানউদ্দিন থানা ঘেরাও করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ৪ জন নিহত হন। আহতদের সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় ৩ জনকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।...

পার্লার খুলে পতিতালয়, যুবলীগের সেই বহিষ্কৃত নেতা গ্রেপ্তার

১৯অক্টোবর,শনিবার,সাতক্ষীরা প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: মানব পাচারের একটি মামলায় সাতক্ষীরার বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা তুহিনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। গতকাল শুক্রবার গভীর রাতে শহরের বাইপাস সড়ক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার তুহিনুর রহমান তুহিন সাতক্ষীরা পৌর যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ও জেলা যুবলীগের সদস্য ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, তুহিন শহরের সংগ্রাম টাওয়ারে রুম ভাড়া নিয়ে জেন্টস পার্লার ও আবাসিক হোটেল চালু করে। এরপর সেখানে একটি মিনি পতিতালয় গড়ে তোলেন। গত ৭ অক্টোবর পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে নারীসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় হোটেলের বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ কনডম ও ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশ। তবে যুবলীগ নেতা তুহিন পালিয়ে যান। এ ঘটনায় তুহিনসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই ) ফরিদ হোসেন বাদী হয়ে মানব পাচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর ওই রাতেই তাকে পৌর যুবলীগের সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাতক্ষীরা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, কয়েকদিন ধরেই পলাতক ছিলেন তুহিন। শুক্রবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শহরের বাইপাস সড়ক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।...

দুই বস্তা ইলিশসহ জনতার হাতে আটক ৩ পুলিশ

১৭অক্টোবর,বৃহস্পতিবার,শরীয়তপুর প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: শরীয়তপুরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ পরিবহনের সময় ৩ পুলিশ সদস্যকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। আটককৃত পুলিশের এটিএসআই মন্টু হোসেন, কনস্টেবল সঞ্জিত সমাদ্দার ও কনস্টেবল হৃদয়কে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জেলা পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে জেলা শহরের সদর হাসপাতালের সামনে দিয়ে ৪টি মোটরসাইকেলে ইলিশ মাছ নিয়ে যেতে দেখে মোটরসাইকেল আরোহীদের পিছু নেয় স্থানীয় জনতা। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পুলিশ লাইন্সের সামনে তাদের গতিরোধ করে তল্লাশি করে ২টি মোটরসাইকেলে থাকা ২টি বস্তা ভর্তি অন্তত দুইশ ইলিশ মাছসহ পুলিশের তিন সদস্যকে আটক করে স্থানীরা। এসময় অপর ২ মোটরসাইকেলসহ বাকি সদস্যরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন জেলা প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার। আটক পুলিশ সদস্যদের পুলিশ লাইন্সে নিয়ে যায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন আটক হওয়া তিন পুলিশ সদস্যদের সাময়িক বরখাস্ত করার বিষয়টি উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের নিশ্চিত করেন।...

পাহাড়ি সংগীত তারকা পঙ্কজের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

১৬অক্টোবর,বুধবার,বান্দরবান প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: বান্দরবানে পাহাড়ের সংগীত অঙ্গনের উজ্জল নক্ষত্র কন্ঠশিল্পী পংকজ দেবনাথ (২৯) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বান্দরবান জেলা শহরের বালাঘাটাস্থ নিজ বাসায় ঘরের সিলিংয় ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় সংগীত তারকা পঙ্কজ দেবনাথ (২৯) এর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে হতাশাগ্রস্থ হয়ে জীবনের মায়া ত্যাগ করে আত্মহত্যা করে পৃথিবী ছেড়েছেন সংগীত প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা বাংলাদেশ আইডলের এ তারকা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, ফাঁস লাগানো অবস্থায় পরিবারের লোকজন পঙ্কজকে দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মারমা সম্প্রদায়ের এক মেয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিলো পাহাড়ের এ সংগীত তারকার। প্রেমিকার সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় আত্মহত্যা করেছে বলে পারিবারের ধারণা। এদিকে বাংলাদেশ আইডলের সেরা ৮ এর তারকা কণ্ঠশিল্পীর মৃত্যুর খবরে পাহাড়ে সংগীঙ্গনের শোকের ছায়া নেমে এসেছে।...

অর্থনীতিতে নোবেল জিতলেন বাঙালিসহ ৩ জন

১৫অক্টোবর,মঙ্গলবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: এ বছর অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন এক বাঙালিসহ তিন অর্থনীতিবিদ। বৈশ্বিক দারিদ্র্য লাঘবে অবদান রাখায় তাদের ২০১৯ সালের নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়। সোমবার স্টকহোমে দ্য রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস এ পুরস্কার ঘোষণা করে। নোবেল বিজয়ী তিন অর্থনীতিবিদ হলেন- অভিজিত ব্যানার্জি, এস্তার দুফলো এবং মাইকেল ক্রেমার। এদের মধ্যে অভিজিত ব্যানার্জি ও এস্তার দুফলো স্বামী-স্ত্রী। নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দারিদ্র্য লাঘবে পরীক্ষামূলক গবেষণার কারণে অভিজিত ব্যানার্জি, এস্তার দুফলো এবং মাইকেল ক্রেমারকে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়েছে। ৫৮ বছর বয়সী ভারতীয় বংশোদ্ভূত অভিজিত বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অমর্ত্য সেন ও ড. মুহম্মদ ইউনুসের পর চতুর্থ বাঙালি হিসেবে নোবেল পুরস্কার পেলেন কলকাতায় জন্ম নেয়া অভিজিত ব্যানার্জি। অভিজিত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেছেন। তিনি বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। অভিজিতের সঙ্গেই নোবেল পেয়েছেন তার স্ত্রী মার্কিন অর্থনীতিবিদ এস্তার দুফলো। তিনি ফরাসি বংশোদ্ভূত। দ্বিতীয় নারী অর্থনীতিবিদ হিসেবে অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন তিনি। সর্বকনিষ্ঠ অর্থনীতিবিদ হিসেবে অর্থনীতিতে নোবেল পাওয়ার কৃতিত্বও দেখালেন দুফলো। বর্তমানে তিনি ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির অধ্যাপক হিসেবে কাজ করছেন। দুফলো এমআইটি থেকে পিএইচডি করেন। এদিকে ৫৫ বছরের মাইকেল ক্রেমার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন। সোমবার চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পাওয়া তিনজনের নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে এ বছর নোবেল পুরস্কারজয়ীদের নাম ঘোষণা শুরু হয়। প্রাণিকোষ কীভাবে অক্সিজেনের উপস্থিতি বোঝে এবং এর সঙ্গে মানিয়ে নেয় সে বিষয়টি আবিষ্কারের জন্য এ বছর চিকিৎসা বিজ্ঞানেও তিনজন যৌথভাবে নোবেল পেয়েছেন। তারা হলেন– যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী উইলিয়াম কায়েলিন ও গ্রেগ সেমেনজা এবং যুক্তরাজ্যের পিটার র‌্যাটক্লিফ। মঙ্গলবার ঘোষণা করা হয় পদার্থে এ বছর নোবেলজয়ীদের নাম। পদার্থ বিজ্ঞানেও এ বছর তিনজন নোবেল পেয়েছেন। তারা হলেন– কানাডিয়ান-আমেরিকান বিজ্ঞানী জেমস পিবলস এবং সুইস বিজ্ঞানী মিচেল মেয়র ও দিদিয়ের কুইলজ। কসমোলজি নিয়ে গবেষণার জন্য তাদের নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। বুধবার রসায়নে এ বছর নোবেলজয়ী তিন বিজ্ঞানীর নাম ঘোষণা করা হয়। তারা হলেন– যুক্তরাষ্ট্রের জন গুডেনাফ, যুক্তরাজ্যের স্ট্যানলি হুইটিংহাম ও জাপানের আকিরা ইয়োশিনো। লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির উন্নয়ন ঘটিয়ে নোবেল পেয়েছেন তারা। বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা সাহিত্যে নোবেল বিজয়ীদের নাম। গত বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার প্রদান স্থগিত থাকায় গত বছরেরটিসহ এ বছর সাহিত্যে দুটি নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। পোলিশ লেখক ওলগা তোকারচজুক ২০১৮ সালের জন্য এবং পোলিশ লেখক পিটার হান্দকে এ বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। শুক্রবার শান্তিতে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়। এ বছর শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলি। ২০১৮ সালের এপ্রিলে ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করা ৪৩ বছর বয়সী আবি আহমেদ শান্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অর্জনে প্রচেষ্টার জন্য এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। ...

সেবাখাতে রফতানি আয় ৫৩ কোটি ২৭ লাখ ডলার

০৩অক্টোবর,বৃহস্পতিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চলতি (২০১৯-২০) অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশের সেবাখাতে রফতানি আয় এসেছে ৫৩ কোটি ২৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৪ দশমিক ৮০ শতাংশ কম। বৃহস্পতিবার রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত হালনাগাদ পরিসংখ্যানে এ তথ্য ওঠে এসেছে। ইপিবি জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সংগ্রহকৃত পরিসংখ্যান থেকে মোট তিনটি ভাগে সেবাখাতে রফতানি আয়ের সংকলন করা হয়েছে। এ তিনটি ভাগ হলো গুডস প্রকিউরড ইন পোর্টস বাই ক্যারিয়ারস, গুডস সোল্ড আন্ডার মার্চেন্টিং ও সার্ভিসেস। প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে দেশসেবা রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছিল ৭০ কোটি ৮৩ লাখ মার্কিন ডলার। এর বিপরীতে প্রথম মাসে এ খাত থেকে আয় করেছে ৫৩ কোটি ২৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৪ দশমিক ৮০ শতাংশ কম। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সেবা রফতানি কম হলেও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আয় কিছুটা বেড়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের একই সময়ে সেবা রফতানির আয়ের পরিমাণ ছিল ৫১ কোটি ৪০ লাখ। এ হিসাবে আগের বছরের তুলনায় এবার এ খাতে আয় বেড়েছে ৩ দশমিক ৬২ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১২ মাসে সেবা রফতানি করে দেশ আয় করে ৬৩৩ কোটি ৮৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরে সেবা রফতানির প্রবৃদ্ধি ভালো ছিল। এর ধারাবাহিকতায় চলতি পুরো অর্থবছরে সেবা রফতানির আয়ের লক্ষ্য ৮৫০ কোটি ডলার ঠিক করেছে সরকার। কিন্তু প্রথম মাসেই সেবা রফতানিতে হোঁচট খেল দেশ। রফতানির এ আয়ের মধ্যে সরাসরি সেবাখাত থেকে এসেছে ৫২ কোটি ৬২ লাখ ডলার। বাকিটা দেশের বন্দরগুলোতে পণ্যবাহী জাহাজগুলোর কেনা পণ্য ও সেবা এবং মার্চেন্টিংয়ের অধীনে পণ্য বিক্রির আয়। সেবার অন্য উপখাতগুলোর মধ্যে ‘অন্যান্য ব্যবসায় সেবা’ থেকে এক লাখ ৩০ হাজার ডলার, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি থেকে চার কোটি ৫১ লাখ ডলার, বিভিন্ন ধরনের পরিবহন সেবা থেকে চার কোটি ৮৭ লাখ ডলার, ভ্রমণ সেবা উপখাত থেকে চার কোটি ৪০ লাখ ডলার এবং বীমা ছাড়া আর্থিক সেবা খাত থেকে ৯৫ লাখ ৯০ হাজার ডলার রফতানি আয় হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে রফতানি হওয়া সেবাপণ্যের মধ্যে রয়েছে ম্যানুফ্যাকচারিং সার্ভিসেস অন ফিজিক্যাল ইনপুটস, মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড রিপেয়ার, ট্রান্সপোর্টেশন, কন্সট্রাকশন সার্ভিসেস, ইনস্যুরেন্স সার্ভিসেস, ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, চার্জেস ফর দ্য ইউজ অব ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি, টেলিকমিউনিকেশন সার্ভিসেস, আদার বিজনেস সার্ভিসেস, পার্সোনাল-কালচার-রিক্রিয়েশনাল ও গভর্নমেন্ট গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস।...

ঢাবির ক- ইউনিটে পাসের হার ১৩.০৫ শতাংশ

২০অক্টোবর,রবিবার,শিক্ষা ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ক ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবছর ক ইউনিটে সমন্বিতভাবে পাসের হার মোট পরীক্ষার্থীর ১৩.০৫ শতাংশ। পরীক্ষায় নৈর্ব্যক্তিক অংশে পাস করেছে ২৫ হাজার ৯২৭ জন। আর নৈর্ব্যক্তিক ও লিখিত অংশে সমন্বিতভাবে পাস করেছে ১১ হাজার ২৭ জন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান রোববার (২০ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের কেন্দ্রীয় ভর্তি কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এই ফলাফল প্রকাশ করেন। এবছর 'ক' ইউনিটের ১ হাজার ৭৯৫টি আসনের বিপরীতে আবেদন করে ৮৮ হাজার ৯৯৬ শিক্ষার্থী। এরমধ্যে ৮৫ হাজার আটশত ৭৯ জন পরীক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।...

ইচ্ছেমতো বদলি হতে পারবেন প্রাথমিক শিক্ষকেরা

১৯অক্টোবর,শনিবার,শিক্ষা ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আবারো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি নীতিমালা পরিবর্তন হচ্ছে। এখন থেকে প্রাথমিক শিক্ষক বদলিতে নম্বর মূল্যায়ন করা হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক বদলি নীতিমালা সংশোধনের কাজ শুরু হয়েছে। এজন্য চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান হিসেবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বদরুল হাসান বাদলকে আহ্বায়ক করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালকসহ চারজনকে সদস্য করা হয়েছে। জানা গেছে, বদলি কার্যক্রম অনলাইনভিত্তিক করতে একটি সফটওয়্যার তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বছরে শুধুমাত্র জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত- এ তিন মাস নয়, সারা বছরই শিক্ষক বদলি করা যাবে। শিক্ষক বদলির জন্য একজন শিক্ষকের জ্যেষ্ঠতা, ইনোভেশন (উদ্ভাবনী দক্ষতা), শ্রেষ্ঠ পুরস্কারসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ১০০ নম্বর নির্ধারণ করা হতে পারে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রাথমিক শিক্ষক বদলির ক্ষেত্রে সফটওয়্যারে একটি আবদেনপত্র দেয়া হবে। সেখানে আবেদকারীর বিভিন্ন তথ্য দিয়ে তা পূরণ করতে হবে। বদলিপ্রত্যাশীরা এসব তথ্য যুক্ত করলে অটোমেটিক তার প্রাপ্ত নম্বর যোগ হয়ে যাবে। এক আসনে একাধিক আবেদনকারী থাকলে যার প্রাপ্ত নম্বর বেশি হবে তিনি বদলির জন্য মনোনীত হবেন। এছাড়া আবেদন ফরমে শিক্ষকরা বদলির জন্য জেলা-উপজেলার একাধিক বিদ্যালয় নির্বাচন করতে পারবেন। এ বিষয়ে কমিটির প্রধান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিদ্যালয়) বদরুল হাসান বাদল বলেন, অনলাইনভিত্তিক শিক্ষক বদলি কার্যক্রমের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য শিক্ষক বদলি নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে মন্ত্রণালয়ে সভা হয়েছে। সেখানে বদলি নীতিমালা পরিবর্তনের বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষক বদলির ক্ষেত্রে নম্বর যুক্ত করা হতে পারে। আবেদকারীর জ্যেষ্ঠতা, উদ্ভাবনী দক্ষতা, অর্জন এবং তার পাঠদানের কৌশল ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফলাফলের ওপর নির্ণয় করে সফটওয়্যারের মাধ্যমে নম্বর যুক্ত করা হবে। এটি ১০০ নম্বর হতে পারে। বিভিন্ন বিষয়ের ওপর সফটওয়্যারের মাধ্যমে আবেদনকারীর নম্বর মূল্যায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক পছন্দের স্থানে বদলি হতে পারবেন। বদরুল হাসান বাদল বলেন, কেউ যদি ঢাকা মহানগরীতে বদলি হতে চান তাহলে তিনি আবেদন করবেন। নীতিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যিনি বেশি নম্বর পাবেন তাকে বদলি করা হবে। তবে সকল মূল্যায়নে যদি সমান সমান নম্বর পান সেক্ষেত্রে যিনি আগে আবেদন করবেন তাকে বদলির জন্য মনোনীত করা হবে। তিনি বলেন, নীতিমালা সংশোধনের কাজ শেষপর্যায়ে, সফটওয়্যার তৈরির কাজও শুরু হয়েছে। এতে কী কী বিষয় যুক্ত করা হবে সেসব বিষয় নিয়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে, আরও বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বদলির জন্য যেসব বিষয় প্রয়োজনীয়, সেসব বিষয় সফটওয়্যারের মধ্যে যুক্ত করা হবে। আগামী বছর থেকে অনলাইনে শিক্ষক বদলির কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্যে তারা এ কার্যক্রম শুরু করেছেন বলেও জানান বদরুল হাসান বাদল। ...

হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে লিভারপুল-ম্যান ইউ

২০অক্টোবর,রবিবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হবে লিভারপুল ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। দলে ইনজুরি সমস্যা থাকলেও পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রাখতে জয়ের বিকল্প ভাবছে না অলরেডরা। অন্যদিকে, ঘরের মাঠে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প লিখতে চায় ম্যান ইউ। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে বাংলাদেশ সময় আজ রাত সাড়ে ৯টায় মাঠে গড়াবে দু'দলের ম্যাচটি। অপ্রতিরোধ্য লিভারপুল। এখন পর্যন্ত লিগে অনুষ্ঠিত আট ম্যাচেই অপরাজিত। অল রেডরা যেন উড়ছে। তবে একটা আক্ষেপও আছে। আক্ষেপটা অবশ্য ইয়ুর্গেন ক্লপের। অল রেডদের দায়িত্ব নেবার পর ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে জয় পায়নি তার দল। তাই স্বাগতিকদের হারাতে মুখিয়ে আছে লিভারপুর। দুই ইংলিশ ক্লাব ম্যান ইউ এবং লিভারপুলের পার্থক্যটা আকাশ-পাতাল। ৮ ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে যখন টেবিলের শীর্ষে লিভারপুল তখন সমান ম্যাচে মাত্র ৯ পয়েন্ট নিয়ে ধুঁকছে ইউনাইটেড। তবুও দু'দলের দ্বৈরথ যে উত্তাপ ছড়াবে তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই সমর্থকদের মাঝে। দু'দলের শেষ ৫ ম্যাচের পরিসংখ্যানটা দেখে আসা যাক। যেখানে উড়ন্ত লিভারপুল আর কচ্ছপ গতিতে চলছে ম্যানইউ। তাইতো ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্নে বিভোর সোলশার শীষ্যরা। এদিকে, এই ম্যাচের আগে দু'দলের জন্য বাড়তি ভাবনা ইনজুরি। গেল ম্যাচে লেস্টার সিটির বিপক্ষে গোড়ালিতে আঘাত পাওয়া লিভারপুলের প্রাণভোমরা মোহাম্মদ সালাহ'র মাঠে নামা অনিশ্চিত। তার অনুপস্থিতি কতোটা ভোগাবে অল রেডদের সেটি হয়তো মাঠের খেলায় বোঝা যাবে। তবে সুখবর হলো, ম্যান ইউনাইটেডের বিপক্ষে ফিরছেন লিভারপুল গোলরক্ষক অ্যালিসন। প্রত্যাশার চেয়েও কম সময়ে ইনজুরি থেকে ফিরতে পারায় নিঃসন্দেহে খুশি কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ। ইনজুরির প্রভাব চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে ইউনাইটেড কোচ সোলশাকেও। পায়ের ইনজুরির কারণে লিভারপুলের বিপক্ষে সাইডবেঞ্চেই থাকতে হবে ফরাসি ফুটবলার পল পগবাকে। পাশাপাশি গোলরক্ষক ডি গিয়া খেলতে পারছেন না এই ম্যাচে। হেসে লিনগার্ড, লুক শ'ও আছেন হ্যামিস্ট্রিং সমস্যায়। তবে অ্যারন বিসাকা ও অ্যান্থনি মার্শিয়াল দলে ফিরতে পারেন, এমন আশার বাতি দেখছেন ইউনাইটেড কোচ। দুই ইংলিশ ক্লাবের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ম্যান ইউ কি পারবে অল রেডদের জয়রথ থামাতে? নাকি নিজেরাই হারিয়ে যাবে টেবিলের তলানিতে? প্রশ্নের উত্তর মিলবে মাঠের খেলায়।...

এসেই সেঞ্চুরির দেখা পেলেন লিটন দাস

১৯অক্টোবর,শনিবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সম্প্রতি ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে অংশ নিয়েছিলেন লিটন দাস। ফলে চলমান জাতীয় লিগের প্রথম রাউন্ড খেলতে পারেননি তিনি। তবে দ্বিতীয় রাউন্ডে নেমেই সেঞ্চুরির দেখা পেলেন লিটন দাশ। রংপুর বিভাগের হয়ে অষ্টম সেঞ্চুরি করা এই ডানহাতি প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে ১৪তম তিন অঙ্কের দেখা পেলেন।চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করা ঢাকা বিভাগ সাইফ হাসানের ডাবল সেঞ্চুরিতে ৮ উইকেট হারিয়ে ৫৫৬ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে। জবাবে দ্বিতীয় দিন ব্যাটিংয়ে নেমে লিটেনর ব্যাটে ভালোই জবাব দিতে থাকে রংপুর।দ্বিতীয় দিন ৫১ রানে অপরাজিত থাকা লিটন তৃতীয় দিন সেঞ্চুরি পূর্ণ করলেন। ১৩৩ বলে ১৩টি চারের সাহায্যে তিনি এই লক্ষ্যে পৌঁছান।এর আগে পূর্বাঞ্চলের হয়ে বিসিএলে করেছেন ১৬ ম্যাচে ৬ সেঞ্চুরি। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটের মতো বাংলাদেশ এ দলের হয়েও তার ব্যাট থেকে আসেনি সেঞ্চুরি।এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৪৯ ওভার শেষে ২ উইকেট হারিয়ে ১৭৪ রান করেছে রংপুর। লিটন ১১১ ও নাঈম ইসলাম ৫১ রানে অপরাজিত আছেন। ...

ভারত-বাংলাদেশ ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড প্রদান ২১ অক্টোবর

২০অক্টোবর,রবিবার,বিনোদন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারত-বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নিয়ে ২১ অক্টোবর ঢাকার বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে দেয়া হবে ভারত-বাংলাদেশ ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড। বাংলাদেশ ও কলকাতার সেরা বাংলা ছবি, অভিনেতা-অভিনেত্রীসহ ১৭টি শাখায় দেওয়া হবে এই অ্যাওয়ার্ড। অনুষ্ঠানে দুই বাংলার শীর্ষ বহু তারকা উপস্থিত থাকবেন। শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) কলকাতার একটি পাঁচতারকা হোটেলে ওই পুরস্কারের লোগো উন্মোচন এবং ঐ আয়োজনের চূড়ান্ত সূচি প্রকাশ করা হয় করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, জিৎ, অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, তনুশ্রী চক্রবর্তী প্রমুখ। বাংলাদেশের পক্ষে ছিলেন অভিনেতা আলমগীর হোসেন। দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, দুই বাংলার চলচ্চিত্র একসঙ্গে কাজ করলে পাঁচ বছরের মধ্যে বাহুবলির মতো চলচ্চিত্র তৈরি করা সম্ভব। বাংলা সিনেমাকে বাঁচিয়ে রাখতে টালিগঞ্জ এবং ঢালিউডকে হাতে হাত ধরে কাজ করতে হবে। ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রখ্যাত অভিনেতা আলমগীর হোসেনও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, এখন আমাদের হাতে জিৎ আছে, ঢাকার শাকিব আছে, ঋতুপর্ণা আছে। আমরা এখন কিসে কম ওদের থেকে। আমাদের একটা সমস্যা আমি অনুভব করি, তা হলো আমাদের মানসিকতা নেই। তাই আমরা এগিয়ে আসতে পারছি না। দুই বাংলার চলচ্চিত্র হাতে-হাত ধরে এগিয়ে যাবে- এই স্বপ্ন লালন করেন দুই বাংলার চলচ্চিত্রপ্রেমী বহু শিল্পী-কলাকুশলী। সেই লক্ষ্যেই বেশ কয়েক বছর ধরে প্রখ্যাত অভিনেতা আলমগীর এবং প্রসেনজিৎসহ বেশ কয়েকজন নীরবে কাজ করে গিয়েছেন। সেই প্রচেষ্টার সফল রূপ ভারত-বাংলাদেশ ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড। ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য প্রথমবারের ভারত-বাংলাদেশ ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড-এ দুই দেশের মোট ১০টি ছবিকে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় মনোনীত করা হয়েছে। বাংলাদেশের দিক থেকে পাঠশালা, দহন, সুপার হিরো, দেবী, নোলক এবং পশ্চিমবঙ্গের দিকের এক যে ছিল রাজা, নগর কীর্তন, সোনার পাহাড়, ব্যোমকেশ গোত্র প্রতিযোগিতায় স্থান পেয়েছে। এই অ্যাওয়ার্ড-এ দুই দেশের মোট দশজন জুড়ি সদস্য রয়েছেন। তারা হলেন, বাংলাদেশের আলমগীর হোসেন, কবরী সারোয়ার, ইমদাদুল হক মিলন, হাসিবুর রেজা কল্লোল, খুরশেদ আলম এবং পশ্চিমবঙ্গের জুড়ি বোর্ডের সদস্যরা হলেন গৌতম ঘোষ, গৌতম চক্রবর্তী, অঞ্জন বসু, ব্রাত্য বসু এবং তণুশ্রী চক্রবর্তী। ...

আবারও সালমান খানের সাথে নাচবেন দিশা পাটানি

২০অক্টোবর,রবিবার,বিনোদন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বলিউড দুনিয়ার নতুন সদস্য দিশা পাটানি। হাতে গোনা কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেই চলে এসেছেন পাদপ্রদীপের আলোয়। তাকে এখন বলিউডের অন্যতম আবেদনময়ী অভিনেত্রী হিসেবে ধরা হয়। তার ভক্তরাও তাই মনে করেন। সম্প্রতি সুপারহিট ভারত সিনেমায় সালমান খানের সঙ্গে -স্লো মোশন গানে দারুণ রসায়ন করেছিলেন দিশা পাটানি। দর্শক মাতাতে আবারও তিনি নতুন রসায়নে নাচতে চলেছেন এই সুপারস্টারের সঙ্গে। আগামী বছরে মুক্তি পাবে এমন একটি সিনেমায় ভাইজানর সঙ্গে নাচবেন লাস্যময়ী দিশা পাটানি। সিনেমাটির শুটিং চলতি বছরের নভেম্বরেই শুরু হচ্ছে। মুম্বাইয়ের মেহবুব স্টুডিওসে সালমানের সঙ্গে একটি নাচের গানে পারফর্ম করবেন দিশা। জানা যায়, গানটিতে দিশা তার সেরা পারফর্ম্যান্সটিই করতে চান। এমনকি এজন্য তিনি তার ভালো বন্ধু টাইগার শ্রফের কাছ থেকেও সহায়তা নিচ্ছেন। তার নাচ যেন আরও নিঁখুত ও মুগ্ধকর হয়, সেজন্য চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখছেন না দিশা। এদিকে, সম্প্রতি ভারতের একটি জাতীয় দৈনিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই বলিউড সুন্দরী বলেন, আমি আমাকে কখনোই আবেদনময়ী মনে করি না। আমি বাস্তব জীবনে টমবয়। কিন্তু আমি একটু ভিন্নভাবে ছবি তুলি বলে অনুরাগীরা আমাকে আবেদনময়ী মনে করে। আমি তেমন কিছু নই। খুব সাধারণ একটি মেয়ে। তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব নিয়ে আলোচনা জীবনের একটি অংশ। আমি নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু আমি সবসময় মনে করি, ইন্টারনেট ও বাস্তব জীবনের মধ্যে সমন্বয় করা উচিত। আমি নিজেও তাই করি। দিশা পাটানি অভিনীত মালাঙ ছবি রয়েছে মুক্তির তালিকায়। এতে আরও অভিনয় করেছেন আদিত্য রয় কাপুর, অনিল কাপুর ও কুনাল খেমু। মোহিত সুরি পরিচালিত ছবিটি মুক্তি পাবে আগামী ২০২০ সালে। ...

শত বছরের পুরোনো দুর্গাবাড়ী

বাঙালি হিন্দু সমাজের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দুর্গোৎসব। আর এই পুজোয় আপনিও ঘুরে আসতে পারেন সিলেটের শত বছরের পুরোনো দুর্গাবাড়ী থেকে। আর খরচের কথা ভাবছেন, মাত্র ৮০০ টাকা।শোনা যায় কলকাতার পাথরঘাটা নামক স্থানের এক সম্ভ্রান্ত জমিদার এই দুর্গাবাড়ী প্রতিষ্ঠান করেন। এই ব্যাপারে ব্রজেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী সম্পাদিত স্মৃতি প্রতিতি নামক বই এ উল্লেখ আছে। ব্রজেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী ছিলেন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা। স্বদেশি আন্দোলনে অনেক বীর এখানে এসে মায়ের পায়ে নিজের রক্ত দিয়ে প্রতিজ্ঞা করতেন নিজের আদর্শ থেকে এক চুলও বিচ্যুত হবেন না। স্বদেশকে পরাধীনতা থেকে মুক্ত করেই তবে ঘরে ফিরবেন।টিলার ওপর মূল মন্দির অবস্থিত। অর্ধশত সিঁড়ি ডিঙিয়ে আপনাকে পৌঁছাতে হবে মূল মন্দিরে। মূল মন্দিরে স্থাপিত দুর্গা প্রতিমা শত বছর ধরে পুজিত হয়ে আসছেন। পাশেই আছে আপনার বসার জন্য জায়গা। এর সাথেই আছে শিব মন্দির। টিলার থেকে দূরের দৃশ্য আপনাকে অভিভূত করবে। পূজার সময় ধূপ-ধূনার মোহনীয় গন্ধ আপনাকে নিয়ে যাবে এক অন্য জগতে।কীভাবে যাবেন,দুর্গাবাড়ী মন্দির যেতে হলে আপনাকে বাস/টেনে করে আসতে হবে সিলেট শহরে। প্রতিদিন ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশে বাস/ট্রেন ছাড়ে, ভাড়া পড়বে ৩২০ টাকা থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। সিলেট শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকে দুর্গাবাড়ী যাব বললেই আপনাকে নিয়ে যাবে শত বছরের পুরোনো দুর্গাবাড়িতে। রিকশা/সিএনজি ভাড়া নেবে ৮০ থেকে ১৫০ টাকা।...

ঈদের ছুটিতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে

বর্ষা মৌসুম তারপরও ঈদের ছুটিতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ছুটে আসছেন পর্যটকরা। তাদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত কক্সবাজার। সৈকত শহরের ৪ শতাধিক হোটেল-মোটেল-গেষ্টহাউজ ও কটেজ কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতিও শেষ। আর পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশও। রমজানে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার পর্যটক শূন্য থাকলেও ঈদের ছুটিতে ভ্রমণ পিপাসুদের ঢল নামে এই সৈকতে। বর্ষা মৌসুম হওয়ায় প্রথমে পর্যটকের সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল কক্সবাজারে। তবে সব আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে এরই মধ্যে হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউস ও কটেজের প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকড হয়ে গেছে। আর ব্যবসায়ীরাও নতুন সাজে সাজিয়েছেন তাদের প্রতিষ্ঠান। হোটেল কর্তৃপক্ষও পর্যটকদের নানান সুযোগ-সুবিধা দেয়াসহ শেষ করছে যাবতীয় প্রস্তুতি। তারা আশা , প্রতি বছরেই মতো এবারও ঈদের ছুটিতে ভালো ব্যবসা হবে। বর্ষা মৌসুম তাই সাগর উত্তাল থাকবে। এক্ষেত্রে অনাকাঙ্কিত দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যটকদের সমুদ্রে স্নান ও নিরাপত্তায় কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানালেন হোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের এ নেতা। কক্সবাজার হোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের মুখপাত্র মো. সাখাওয়াত হোসাইন জানান, 'সমুদ্র উত্তাল থাকবে। এখানে লাইফগার্ড ও পুলিশ ট্যুরিস্টদের তৎপরতাটা বৃদ্ধি করলে আমার মনে হয়, যারা কক্সবাজারে আসবেন তারা নিবিঘ্নে এখান থেকে ফিরতে পারবেন।' আর ট্যুরিস্ট পুলিশের এ কর্মকর্তা জানালেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটকরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে কক্সবাজার ভ্রমণ করতে পারে সেজন্য সব ধরণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।...

আমি কি আমার স্বামীর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাবো না?

০৫অক্টোবর,শনিবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্বাধীন দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নেওয়া মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধারা দেশের গর্ভ এবং রতoe এই কথাটি সরকার এবং দেশের সকলে স্বীকার করেন। কিন্তু এখনো আমরা দেখি যারা স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ গ্রহন করে যুদ্ধ করেছেন এবং শহীদ হয়েছেন তাদের মধ্যে অনেকে এখনো তাদের সম্মান ও স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। যদিও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অসংখ্য ভূয়া মুক্তিযোদ্ধারা স্থান নিয়ে স্বীকৃতি পেয়েছেন বিভিন্ন মহলে,বর্তমান সরকার এই ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়ে ইতি মধ্যে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের বিষয়ে গনমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। কে শুনে কার কথা স্বাধীনতা সংগ্রামে স্বামীকে হারিয়ে নুর জাহান বেগম তার ছেলে মেয়েকে নিয়ে অনাহাওে অতিব দুঃখে কষ্টে ছেলে মেয়েকে বড় কওে আজ সে সরকারের বিভিন্ন সংস্থায় ধর্না দিচ্ছেন। শুধু মাত্র তার স্বামীর শহীদের স্বীকৃতি অর্জনের জন্য। ফেনী জেলার ডমুরুয়া গ্রামের মৃত মনির উদ্দিন আহম্মদের পুত্র এ এস এম মহি উদ্দিন আহাম্মদ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময়ে রেলওয়েতে চট্টগ্রাম সি.আর,বি তে নিরাপত্তা প্রহরী (আর.এন.বি) পদে চাকুরীরত অবস্থায় স্বাধীনতার ডাকে ৮ই এপ্রিল ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনীর সাথে সি.আর.বি তে সম্মুখ যুদ্ধে নিহত হন। তার আর.এন.বি নং:- ই-ডব্লিউ/ম্যান সিরিয়াল নং: ৪২২৩ (সি.এম.ডব্লিউ/সি.আর.বি/আর.এন.বি)। বাংলাদেশ রেলওয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবার সম্মিলন পরিষদ কর্তৃক গত- ১৯৯৫ সালের অক্টোবরে সংবর্তি নামক ম্যাগাজিনে ১৬৪ নং ক্রমিকে শহীদ এ.এস.এম মহিউদ্দিন আহমদ এর নাম লিপি রয়েছে। এবং রেলওয়ে লিস্ট নং: ০৬ এর-৭২৯ নং এ ও এই শহীদের নাম রয়েছে। স্বাধীনতা সংগ্রামের পর জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ন্যাশনাল ব্যাংক অফ পাকিস্তান নামক ব্যাংকের মাধ্যমে শহীদ এ.এস.এম মহিউদ্দিন আহম্মদের স্ত্রী নুর জাহান বেগমকে ২,০০০/০০ টাকা (দুই হাজার টাকা) প্রদান করে ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত- ২৪ এপ্রিল ২০১৩ ইং তারিখে ঢাকা রেলওয়ে ষ্টেশন চত্বরে কমলাপুরে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ রেলকর্মীদের স্বরনে স্মৃতিসৈৗধ সূর্যকেতন নামক যে স্মৃতিসৈৗধ নির্মান করেছেন সে খানে ও লিখিত ও উল্লেখিত ৩০ নং শহীদ ব্যক্তি হিসেবে স্থান পেয়েছেন এ.এস.এম মহিউদ্দিন আহম্মদের নাম। এই শহীদের স্ত্রী নুর জাহান বেগম তৎ কালিন (১৯৬৯) জাতীর জনকের নির্বাচনে তিনি বঙ্গবন্ধুর পক্ষে তার বাবার বাড়ী সিতাকুন্ড এলাকায় নির্বাচনী এজেন্ট ও ছিলেন। বর্তমানে নুর জাহান বেগম তার স্বামী শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য তিনি ইতিমধ্যে- ২০১৬ সালের ১৮ ডিসেম্বও মহাব্যবস্থাপক (পর্ব) বাংলাদেশ রেলওয়ে সি.আর.বি চট্টগ্রাম- ২০১৮ সালের ৭ আক্টোবর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, একই সালের ৮ আক্টোবর ও চলিত বছরের ১৩ মার্চ ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে স্বাক্ষাত চেয়ে এবং তার স্বামীকে শহীদের তালিকায় লিপি করার উদ্যেশ্যে আবেদন করে ও ব্যার্থ হয়েছেন নুর জাহান বেগমের স্বামী একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের তালিকায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্তির দাবীদার মর্মে ফেনী জেলার ২নং পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মানিক ও ফেনী-০২ এর বর্তমান সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী প্রত্যায়ন পত্র দিয়েছেন। উক্ত বিষয়ে বর্তমানে অসুস্থ ও ৭৫ বছর বয়স্ক নুর জাহান বেগম বলেন,আমি চরম অনিশ্চয়তা এবং আশংকার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি যে,আমি জীবিত অবস্থায় আমার স্বামীর শহীদ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয়ে দেখে যেতে পারবো কি না। আমার একটি মেয়ে খোদেজা ভূইয়া ও একটি ছেলে মোঃ মাইন উদ্দিন তাদের বাবার এই সম্মান টুকু তারা আদৌ পাবে কি না। আমি বর্তমান খুবই অসুস্থ। আমি মনে করি আমার এই চরম দুর্দিনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে স্বাক্ষাত করতে পারলে বা তার সাহায্য ও সহযোগীতা পেলে আমার স্বামীর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির পাশাপাশি আমার এই দূরবস্থার পরিবর্তন হবে। আমার একমাত্র ছেলে বর্তমানে বেকার,বেচেঁ থাকার যে টুকু অবলম্ভন ছিলো তাও নেই। আমি আপনাদের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাঁর কাছে আকুল আবেদন করছি,যেন মরে যাবার আগে অন্তত আমার স্বামীকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি টুকু প্রদান করা হয়। ...

উপড়ে ফেলতে হবে-কিশোর গ্যাং

২৯সেপ্টেম্বর,রবিবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশজুড়ে মফস্বল শহর ও নগর কেন্দ্রিক কিশোর অপরাধ বেড়েই চলেছে। এসব অপরাধীদের অঘোষিত সাংগঠনিক রূপ কিশোর গ্যাং। কথিত বড় ভাইয়েরা এ গ্যাং এর মূল নিয়ন্ত্রক ও শক্তি। এ কিশোর গ্যাং ইতিমধ্যেই এত বেশী ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে যে তুচ্ছ ঘটনায় নিজের সহপাঠী বা বন্ধুকে অথবা প্রতিপক্ষকে তারা হত্যা করতে দ্বিধা করছে না। দিন দিন কিশোর গ্যাং এর বিস্তার ঘটছে। খুন খারাবি থেকে শুরু করে মাদক ব্যবসা, ইভটিজিং অপহরণসহ নানারকম অসামাজিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িয়ে পড়ছে কিশোর গ্যাং। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কথিত বড় ভাইদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে এলাকা ভিত্তিক গড়ে উঠেছে ছোট বড় শতাধিক কিশোর গ্রুপ। এসব গ্রুপের বেশিরভাগ সদস্যদের বয়স ১৮ থেকে ২১ বছরের মধ্যে । কথিত বড় ভাইদের প্রশ্রয়েই বিপথগামী হচ্ছে এসব কিশোর উঠতি যুবকেরা। বড় ভাইয়েরা এসব কিশোরদের হাতে তুলে দিচ্ছেন অবৈধ অস্ত্র এবং অপরাধ জগতে পা বাড়াতে উৎসাহ দেন। তাদের হাতে লাঞ্ছিত ও অপমানিত হন সমাজের নিরীহ নারী পুুরুষ। সম্প্রতি কমনওয়েলথ কর্তৃক তৈরি গ্লোবাল ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট ইন ডেক্সে বলা হয়েছে বাংলাদেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল নয়। উঠতি বয়সি অনেক কিশোর-কিশোরী হঠাৎ করে এবং কিভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত অপরাধ প্রবণতায় জড়িয়ে যায়। এ বিষয় নিয়ে মনোবিজ্ঞানী ও সমাজ বিজ্ঞানীদের অনেক ভালো বিশ্লেষণ রয়েছে। আমাদের মতে বল্গাহীনভাবে ফেসবুক ব্যবহার। মোবাইল ফোনের আধিপত্য, বিকট শব্দে বাইক চালা, পাশ্চাত্য ঢং এ চলাফেরা, ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের প্রভাব ও মা বাবার কম নজরদারী কিশোরদের অপরাধ প্রবণতায় জড়িয়ে যাওয়ার মূল কারণ। কিশোর অপরাধের মূলে রয়েছে অনেক কারণ। জ্ঞানের সংস্পর্শে বিদ্যালয়ের পরিবেশে ভালো বন্ধুর সাহচার্য একটি শিশু বা কিশোরদের ভালোভাবে বেড়ে উঠায় সাহায্য করে। তবে কিশোর অপরাধ রোধে মা বাবার ভূমিকাটাই বড়। ছেলেমেয়ে কোথায় যাচ্ছে কার সংগে মিশছে টিভিতে, মোবাইল ফোনে, কম্পিউটারে কি দেখছে, পড়াশোনা করছে কিনা ক্লাস ফাঁকি দিচ্ছে কিনা এসব দেখার দায়িত্ব বড়দের। সবাই কি তা পালন করছেন? অনেক অভিভাবক সুরম্য অট্টালিকা বানাতে, নিজেদের ব্যবসায় চিন্তা করে করে দিন রাত ব্যস্ত থাকে। বিদেশে শিক্ষার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়া, নিজেরা কেউ কেউ অনিয়ন্ত্রিত চলাফেরা করে। কিশোরদের হাতে দামি দামি সাইকেল, মোটর সাইকেল দিয়ে চেঁচিয়ে বেড়ায় উচ্ছেন্নে গেল বলে? অঢেল অর্থও অনেক শিশু কিশোরকে বেপরোয়া করে তুলছে। যার প্রমাণ ভুরি ভুরি। আশার কথা, বেপরোয়া গ্যাং কালচার রুখে দেয়ার উদ্যোগের কথা বলছেন-স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই বিষয়ে নিরাপত্তা বাহিনী যথেষ্ট সজাগ ও কঠোর বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই। অন্যদিকে ডিএমপি ও সিএমপি কমিশনার বলেছেন-ঢাকায় ও চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। কিশোর অপরাধ দমনের উদ্যোগ সত্যিই ইতিবাচক।...

মন্ত্রী হলে কি মেনন নির্বাচন নিয়ে একথা বলতেন, প্রশ্ন কাদেরের

২০অক্টোবর,রবিবার,রাজনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভোটারবিহীন নির্বাচন হয়েছে বলে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, উনি এতদিন পরে কথা বলছেন কেন? তিনি মন্ত্রী হলে কি এমন কথা বলতেন। আমার আর কিছু বলার নাই। আজ রোববার (২০ অক্টোবর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন। এর আগে গতকাল শনিবার (১৯ অক্টোবর) বরিশালে এক অনুষ্ঠানে রাশেদ খান মেনন বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাররা ভোট দেয়নি। এমনকি পরবর্তীতে উপজেলা এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও ভোট দিতে পারেনি দেশের মানুষ।-আরটিভি অনলাইন...

টার্গেটের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে: ওবায়দুল কাদের

১৯অক্টোবর,শনিবার,রাজনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আবরার হত্যাকারীদের ছাত্রলীগ পরিচয় হলেও প্রধানমন্ত্রী কাউকে ছাড় দেননি, শুদ্ধি অভিযানে যারা টার্গেটে আছে তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ঢাকা-চটগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মেঘনা টোল প্লাজার কাছে এপ্রোচ সড়কের সংস্কার কাজ পরিদর্শনে গিয়ে শনিবার (১৯ অক্টোবর) এ কথা বলেন তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, আবরার হত্যাকাণ্ডের মতো কোনো এত দ্রুত অ্যাকশন বাংলাদেশে বোধ হয় আর হয়নি। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত তারা ছাত্রলীগের পরিচয়ের ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এতে কোনো আপস করেননি। তিনি আরও বলেন, অপরাধী যে দলের লোকই হোক না কেন কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।...

শারদীয় পূজার সাজে

০৪অক্টোবর,শুক্রবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বছর ঘুরে আবারও বেজে উঠল পূজার ঘণ্টা। বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব এ দুর্গাপূজা। ঢাকের শব্দ আর বাতাসের তালে কাশফুলের দোলা, নাড়ু-মুড়কি ম ম ঘ্রাণ আর চিরায়িত লালপেড়ে সাদা শাড়ি মনে করিয়ে দেয় পূজার আগমনী বার্তা। পূজার সময়ে ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত সাজতে পারবেন একদম মনের মতো করে। কারণ এসময় সবচেয়ে বেশি ঘোরাঘুরির; বেশি বেশি নিমন্ত্রণের। এমন আনন্দের দিনে সাজটাও থাকা চাই নিখুঁত। চলুন জেনে নেই কেমন সাজে এ পূজায় হয়ে উঠবেন অনন্যা- ষষ্ঠী এবং সপ্তমীর সাজ: মেকআপ ভারি না রেখে সাজে স্নিগ্ধতা রাখলেই দেখতে ভালো লাগবে। মেকআপের শুরুতে একটা প্রাইমার লাগিয়ে নেবেন। এতে করে মেকআপ ত্বকে বসবে এবং নষ্ট হবে না সহজে। স্নিগ্ধ সাজের বেইজের জন্য বেছে নিন বিবি ক্রিম। এতে মেকআপ ভারি লাগবে না দেখতে। হালকা কন্ট্যুরিং, ব্লাশ এবং চাইলে হাইলাইটার লাগিয়ে নিতে পারেন। ভারি এবং গর্জিয়াস চোখের সাজ রেখে দিন অষ্টমী থেকে দশমীর জন্য। ষষ্ঠী এবং সপ্তমীতে হালকা গোল্ডেন, শ্যাম্পেইন, রোজগোল্ড কালারগুলো আইশ্যাডো হিসেবে লাগাতে পারেন। তবে আইলাইনার এবং মাশকারা কিন্তু অবশ্যই রাখবেন। পূজার লুকে আইলাইনারটা দেখতে বেশ লাগে! চাইলে কাজলও লাগাতে পারেন। স্নিগ্ধ লুকের জন্য ষষ্ঠীর দিন একটু হালকা ধাঁচের লিপস্টিক ব্যবহার করতে পারেন। তবে সপ্তমীতে একটু কালার যোগ করলে মন্দ হয় না। ব্যবহার করতে পারেন- ন্যুড, ব্রাউন, টেরাকোটা, অরেঞ্জ, পিংক, ব্রাউনিশ পিংক ইত্যাদি কালার। অষ্টমীর সাজ অষ্টমীতে গাঢ় রঙের শাড়ি ও পোশাক বেছে নিন। লাল, মেরুন, তসর, সিল্ক, কাতান অথবা সাদা-লালপাড় শাড়ি পরে যেতে পারেন এদিন। আঁচলে ভারি কাজ আছে এ রকম লালপাড়ের শাড়ি এক প্যাঁচ করে পরলে ভালো দেখাবে। অষ্টমীর দিন সকালে লাল শাড়ি পরার প্রচলন আছে। মেকআপের শুরুতে ক্লিনজিং মিল্ক দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে টোনার বুলিয়ে সানস্ক্রিন লোশন লাগিয়ে নিন। দিনের সাজে মেকআপ যতটা সম্ভব হালকা হওয়া উচিত। পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে বা কন্ট্রাস্ট করে চোখে আইশ্যাডো লাগান। পেনসিল আইলাইনার দিয়ে কিছুটা মোটা করে লাইন টেনে আইশ্যাডো ব্রাশ দিয়ে স্মাঞ্জ করে নিন। মাশকারা দিন ঘন করে। ঠোঁটে লাল রঙের লিপস্টিক লাগাতে পারেন। সঙ্গে হালকা পিংক ব্লাশন। কপালে বড় লাল টিপ লাগিয়ে নিতে পারেন। আর বিবাহিতদের সিঁথিতে সিঁদুর তো আছেই। পায়ের আলতা দিতে পারেন পছন্দ অনুযায়ী। গোল্ড প্লেটের গয়না বেছে নিতে পারেন এ দিন। বাইরে বের হওয়ার আগে ভালো পারফিউম ব্যবহার করে নিন। চুল সামনের দিকে সেট করে পেছনে কার্ল করে ছেড়ে বা বেঁধে নিতে পারেন। কানের পেছনে চুলে গুঁজে দিন বেলি ফুলের মালা বা সাদা ও লাল জারবেরা। নবমী ও দশমীর সাজ: এ দুই দিন সাজ হবে বেশ জমকালো। এসময় প্রচুর ঘোরাফেরা, দাওয়াত ইত্যাদি থাকে। তাই মেকআপ এক্সপেরিমেন্টাল হলে মন্দ হয় না! প্রথমেই ত্বকটাকে মেকআপের জন্য তৈরি করে নিয়ে প্রাইমার লাগিয়ে নেবেন। যেহেতু দুর্গাপূজা বলে কথা! অবশ্যই মেকআপ ফুল কভারেজ হবে। আর মেকআপটাও ভারি হবে। তাই বেছে নিন পছন্দের ফুল কভারেজ ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশন ত্বকে লাগিয়ে ব্রাশ বা বিউটি স্পঞ্জের সাহায্যে ব্লেন্ড করে নিন। মুখটাকে উজ্জ্বল দেখানোর জন্য ক্রিম হাইলাইটিং করতে পারেন। এর জন্য আপনার ত্বকের থেকে ২-৩ শেইড লাইট একটা কন্সিলার নিয়ে আপনার চোখের নিচে, কপালে, নাকের উপরে, থুতনিতে, কন্ট্যুরিং লাইনের নিচের দিকে লাগিয়ে নিন। কন্সিলারটি ব্রাশ-বিউটি স্পঞ্জের সাহায্যে ব্লেন্ড করে নিন। এবার পুরো ফেস লুজ পাউডার দিয়ে সেট করে নিন। মুখ স্লিম এবং শার্প দেখাতে পাউডার কন্ট্যুরিং করে নিন। চাইলে আগে ক্রিম কন্ট্যুরিংও করে নিতে পারেন। চিকসের নিচে, কপালে হেয়ার লাইনে, নাকের দুই পাশে, থুতনির নিচে কন্ট্যুরিং এবং ব্লেন্ড করে নিন। মুখে একটু কালার যোগ করতে ব্লাশ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন পিংক, কোরাল, অরেঞ্জ, ব্রাউন, পিচ ইত্যাদি রং। পূজার গর্জিয়াস মেকআপের সঙ্গে হাইলাইটার কিন্তু বেশ জমকালো লুক আনতে সাহায্য করবে। হাইলাইটার ব্রাশের সাহায্যে পাউডার হাইলাইটার নিয়ে চিক বোনে, কপালে, আইব্রো বোনে, আইব্রোর ওপরের দিকে, নাকের ওপরে, থুতনিতে এবং ঠোঁটের ওপরে লাগিয়ে নিন। আই মেকআপের শুরুতে আইব্রোগুলো একটু ড্রামাটিকভাবই এঁকে নিলেই ভালো লাগবে। আই মেকআপ হিসেবে আপনি কাট ক্রিজ, হাফ কাট ক্রিজ, গ্লিটারি আই মেকআপ, স্মোকি, গ্লিটার কাট ক্রিজ, হেলো স্মোকি আই, স্পটলাইট আই মেকআপ ইত্যাদি ট্রাই করতে পারেন। চাইলে একেকদিন, একেকটা ট্রাই করবেন। দেখতে কিন্তু বেশ দারুণ লাগবে। আইশ্যাডো হিসেবে বেছে নিন ব্রাউন, রেড, ব্লু, গ্রিন, পিচ, কোরাল, ইয়েলো, পিংক, পার্পল, গোল্ডেন, সিলভার, রোজ গোল্ড, অরেঞ্জ, কপার, শ্যাম্পেইন, পার্ল, ব্রোঞ্জি, ব্ল্যাক ইত্যাদি কালার। আইলাইনার, মাশকারা, মোটা করে কাজল লাগিয়ে নিন মন মতো। চাইলে লেন্স এবং ফলস আইল্যাশও পরতে পারেন। লিপস্টিক হিসেবে আপনার পছন্দসই যে কোনো কালার বেছে নিতে পারেন। পূজায় কিন্তু লাল রং প্রাধান্য পায়। পরতে পারেন ব্রাউন, ম্যাজেন্টা, পার্পল, বারগেন্ডি, ন্যুড, কোরাল, পিংকিস ব্রাউন, পিচ ইত্যাদি কালারও লাগাতে পারেন। এছাড়াও পূজার সাজে কপালে টিপ কিন্তু বেশ মানাবে। দীর্ঘসময় মেকআপ ধরে রাখতে চাইলে সবশেষে মেকআপ সেটিং স্প্রে ব্যবহার করবেন। এবং চুলের সাজ: সাজগোজে চুলের স্টাইল বেশ গুরুত্বপূর্ণ। চুল একটু লম্বা হলে পূজার সকালে হালকা হাত খোঁপাও ভালো লাগবে। শাড়ির সঙ্গে দিব্যি মানাবে। মাঝখানে সিঁথি করে সামনের দিকটা অল্প ফুলিয়ে নিতে পারেন। একটু কায়দা করতে চাইলে পুরো চুল ব্যাক কোম করে নিয়ে লো বান করতে পারেন। পূজার সন্ধ্যায় একটু গর্জিয়াস সাজতে চাইলে খোঁপায় ফুল বা একটু সাবেকি ধাঁচের খোঁপার কাঁটা বা হেয়ার অ্যাকসেসরিজ লাগাতে পারেন। খোঁপার ওপরে হেয়ার পিনও শাড়ির সঙ্গে ভালো মানাবে। চুল সবসময় বাঁধতে হবে এমন নয়, খোলা চুলেও স্টাইলিং করা যায়। স্ট্রেট করিয়ে নিতে পারেন আবার হালকা কার্লও করতে পারেন। পূজার সাজে ফুল কিন্তু থাকতেই হবে। সকালে মন্দিরে যাওয়ার সময় অর্কিডের গুচ্ছ গুঁজে দিন চুলে। অথবা চুল খোঁপা করে তাতে জড়িয়ে নিতে পারেন শিউলি ফুল, বেলি ফুল বা কাঠবেলির মালা। ছেলেদের সাজ: পূজায় এখনও পাঞ্জাবি আর ধুতির আবেদনটাই অন্যরকম। পূজার শুরুর দিনগুলোতে তারা হালকা রঙের পাঞ্জাবি ও পায়ে আরামদায়ক ফিতাযুক্ত স্যান্ডেল পরতে পারেন। আর শেষ দিনগুলোতে জমকালো পাঞ্জাবি, ফতুয়া পছন্দ করতে পারেন। যারা একটু অন্যভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে চান তারা ধুতি পরতে পারেন। তবে অঞ্জলি বা মণ্ডপে ঘোরার সময় পাঞ্জাবি, ধুতির রাবীন্দ্রিক সাজ থাকলেও অন্যান্য সময় তো হাল ফ্যাশনের ছোঁয়া চাই। শার্ট, টি-শার্ট পরে সন্ধ্যার পর মণ্ডপে ঘোরার মজাই আলাদা। তাই তরুণরা হাল ফ্যাশনের টি-শার্ট আর শার্টের দিকেও ঝুঁকছেন। পূজায় দিনের বেলা হালকা রঙের পোশাককেই প্রাধান্য দিন। সাদা, ঘিয়ের পাশাপাশি শরতের স্নিগ্ধতা বজায় রাখতে নীল রংও বেছে নিতে পারেন। রাতের জন্য গাঢ় রং নির্বাচন করাই ভালো। লাল, কালো, সবুজ, চকলেট, মেরুন ইত্যাদি রং বেছে নিতে পারেন। ছেলেরা চুলে জেল ব্যবহার করে এ দিন ভিন্ন লুক আনতে পারেন। বাজারে বিভিন্ন স্টাইলের আংটি ও ব্রেসলেট পাওয়া যায়, পরতে চাইলে হাতের জন্য পছন্দমতো ও মানানসই বেছে নিতে পারেন। দিনের বেলা রোদের কারণে এবং ধুলোবালি থেকে বাঁচতে হাতের কাছে অবশ্যই রাখবেন সানগ্লাস।...

রুক্ষ শুষ্ক ত্বকের পরিচর্যায় অ্যালোভেরা

১৩জুলাই২০১৯,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: রুক্ষ শুষ্ক ত্বকের পরিচর্যায় অ্যালোভেরা কার্যকারি উপাদান। ত্বকের যত্নে অনেকেই নিয়মিত অ্যালোভেরার রস বা অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু অ্যালোভেরাও যে ওজন কমাতে পারে সে খবর কয়জন জানে? অ্যালোভেরায় রয়েছে অ্যালোইন নামের প্রোটিন। যা সরাসরি ফ্যাট না কমালেও শরীরে জমে থাকা টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে। তবে একটা বিষয়ে সতর্ক থাকবে হবে সবাইকে। অ্যালোভেরার রস বেশি পরিমাণে শরীরে গেলে পেটের সমস্যা, ডায়রিয়া হতে পারে। তাই অ্যালোভেরার রস খান সঠিক পরিমাণে। কি পরিমাণ অ্যালোভেরার রস আমাদের শরীরে প্রয়োজন তা জানা থাকা দরকার। এক গ্লাস পানিতে ৫০ মিলিলিটার অ্যালোভেরা রস মিশিয়ে দিনের যে কোনও সময় খেতে পারেন। ব্লাড সুগার, হজমের সমস্যা, পাকস্থলির সমস্যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করে এই রস। দ্রুত শরীরের বাড়তি ওজন কমানোর ক্ষেত্রে অ্যালোভেরার রস অত্যন্ত কার্যকরী। তবে সাবধান! গর্ভবতী মহিলাদের জন্য অ্যালোভেরার রস অনেক বড় ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াতে পারে। ইন্ডিয়ান জার্নাল অফ ডার্মাটোলজি তে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গর্ভবতী মহিলা বা নতুন মায়েদের ক্ষেত্রে মারাত্মক ক্ষতিকর এই রস। কারণ অ্যালোভেরার রস জরায়ু বা ইউটেরাসের সংকোচন ঘটায়। এ ছাড়াও অন্ত্রনালীতে নানা সমস্যার সৃষ্টি করে।...

দেশের বিস্ময় বালিকা নানজীবার গল্প

সাক্ষাৎকার ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নানজীবা খান। তার বয়স কিন্তু এখনও পেরোয়নি ১৮র কোঠা। আর এই বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী টিনএজার এরই মধ্যে জন্ম দিয়ে চলেছেন এক একটি বিশ্বয়। ট্রেইনি পাইলট, সাংবাদিক, নির্মাতা, উপস্থাপিকা, টিভি টক শো'র অতিথি, লেখক, ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর, বিএনসিসি ক্যাডেট অ্যাম্বাসেডর এবং বিতার্কিক হিসেবে স্বাক্ষর রেখে চলেছেন নিজের প্রতিভার। আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন নিয়ে অ্যারিরাং ফ্লাইং স্কুল-এ ট্রেইনি পাইলট হিসেবে চলছে তার অধ্যয়ন। এছাড়া তিনি কাজ করছেন শিশু সাংবাদিক হিসেবে, কাজ করছেন বিটিভির নিয়মিত উপস্থাপক হিসেবে, ব্রিটিশ আমেরিকান রিসোর্স সেন্টারের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছেন। প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা হিসেবে পেয়েছেন ইউনিসেফের মিনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড। আর সম্প্রতি ইউনিসেফের অধীনে বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে এসেছেন দেশের বাইরেও। এই নিয়ে ১১টি দেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা জমা হয়েছে তার ঝুলিতে। লেখক হিসেবে এবারের বই মেলায় প্রকাশিত হয়েছে তার গবেষণামূলক গ্রন্থ- অটিস্টিক শিশুরা কেমন হয়। প্রথম সংস্করণের সব বই বিক্রি হয়ে যাওয়ার পর ২য় সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। বইটি প্রকাশ করেছে অন্বেষা প্রকাশন। বইটির প্রচ্ছদও করেছেন নানজীবা নিজে। তথ্যসমৃদ্ধ বইটি ইতোমধ্যে পাঠক সমাদৃত হয়েছে। প্রশ্ন আসে কিভাবে শুরু এই নানজীবার পথচলা? উত্তরে জানা যায়, নানজীবার শুরুটা হয়েছিল পাঁচ বছর বয়সে রঙ তুলি দিয়ে। মায়ের হাত ধরে গিয়েছিল কিশলয় কচিকাঁচার মেলায় ছবি আঁকা ও আবৃত্তি শিখতে। ২০০৭ সালে জীবনের প্রথম প্রতিযোগিতা জয়নুল কামরুল ইন্টারন্যাশনাল চিলড্রেন পেন্টিং কম্পিটিশনে অংশগ্রহণ এবং পুরস্কার অর্জন করেন। জীবনের প্রথম অর্জনই ছিল আন্তর্জাতিক। সেই থেকে পথ চলা শুরু। ছবি আঁকার জন্য বেশ কিছু জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কার তার ঝুলিতে জমা হয়। ছবি আঁকার পাশাপাশি কবিতা আবৃত্তিতেও প্রশিক্ষণ নেন। বিভিন্ন দিবসগুলোর সকাল থেকে সন্ধ্যা কাটতো বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মঞ্চে কবিতা আবৃত্তি করার মাধ্যমে। ২য় শ্রেণীতে পড়াকালীন বিটিভির- কাগজ কেটে ছবি আঁকি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মিডিয়ায় তার পথ চলা শুরু। বর্তমানে বিটিভিতে- আমরা রঙ্গিন প্রজাপতি, আমাদের কথা, আনন্দ ভুবন, ও শুভ সকাল অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছেন। ১৩ বছর বয়সে জীবনের প্রথম স্বল্প দৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র- কেয়ারলেস পরিচালনা করেন। তার পরিচালিত প্রথম প্রামাণ্যচিত্র সাদা কালোর জন্য ইউনিসেফের মিনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। আর এটি তৈরি করতে যা টাকা খরচ হয়েছে তার সবই ছিল তার টিফিনের জমানো টাকা। তারপর- গ্রো আপ, দ্য আনস্টিচ পেইন সহ আরও কিছু প্রামাণ্য চিত্র নির্মাণ করেন নানজীবা। ৮ম শ্রেণীতে পড়াকালীন শুরু হয় শিশু সাংবাদিক হিসেবে তার পথচলা। জীবনের ১ম সাক্ষাতকার নিয়েছিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের। পর্যায়ক্রমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সংস্কৃতিমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, ভূমিমন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী,সমাজকল্যাণ মন্ত্রী, টেলিযোগাযোগমন্ত্রী, তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী, স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী, মেয়র সাঈদ খোকনসহ বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট মানুষ যেমন- সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, সেলিনা হোসেন, ইমদাদুল হক মিলন, হাবিবুল বাশার, আবেদা সুলতানা, সাদেকা হালিম, নিশাত মজুমদার, ফরিদুর রেজা সাগর, জুয়েল আইচ, মীর আহসান, Rabর প্রধান বেনজির আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম ফেরদৌস। বিদেশও উজ্জ্বল সাংবাদিক নানজীবা। ওয়ার্ল্ড ডিবেট সোসাইটির পরিচালক অ্যালফ্রেড স্পাইডার ও ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগও হয়েছে তার। একাদশ শ্রেণিতে পড়াকালীন দায়িত্ব পালন করেছেন ক্যামব্রিয়ান ডিবেটিং সোসাইটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে। স্কুল ও কলেজ জীবনে বিতার্কিক হিসেবে অর্জন করেছেন বেশ কিছু জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কার। পেয়েছেন উপস্থিত ইংরেজি বক্তৃতায় বিএনসিসি ও ভারত্বেশ্বরী হোমসের প্রথম পুরস্কার। দ্বাদশ শ্রেণীতে পড়াকালীন- বিএনসিসি ক্যাডেট অ্যাম্বাসেডর হিসেবে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর থেকে ৩ ধাপে লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষার পরে সারা দেশের হাজার হাজার ক্যাডেটদের মধ্য থেকে বিএনসিসি-র সবচেয়ে দীর্ঘ এবং ব্যয়বহুল সফর ভারতে অংশগ্রহণ করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর সাথে সাক্ষাৎ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সাক্ষাৎকার নেয়ার সুযোগ হয়। রাশিয়া, ভারত, সিঙ্গাপুর, কাজাকিস্তান, কিরগিজস্তান, ভিয়েতনাম, শ্রীলংকা, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপসহ মোট ১১ টি দেশের সামনে বাংলাদেশকে তুলে ধরেছেন। প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রাইফেলে ফায়ারিং, অ্যাসোল্ট কোর্স, বেয়নোট ফাইটিং ও সশস্ত্র সালাম। শতগুণে গুণান্বিত নানজীবার বিনয়ের এক চরম উদাহরণ। সর্বশেষ তাই সময় নিউজকে তিনি বলেন, কাজ শেখার চেষ্টা করছি। আমি কখনই শুধু দেশ নিয়ে ভাবি না। আমার লক্ষ্য সবসময় আন্তর্জাতিক। আমি চাই মানুষ নানজীবাকে দিয়ে গোটা বাংলাদেশ চিনুক। সেই সাথে আকাশে ওড়ার স্বপ্নও পূরণ করতে চাই। আর আমার সব কাজের প্রেরণা আমার ছোট ভাই ও আমার মা। আমি সকলের ভালোবাসা চায়। ...

শোকাবহ আগস্ট,শুরু হচ্ছে আওয়ামী লীগের মাসব্যাপি কর্মসূচি

০১আগস্ট,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:শোকাবহ আগস্ট। ১৯৭৫ সালের এ মাসেই বাঙালি হারিয়েছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে হত্যা চেষ্টা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। ভাগ্যক্রমে সেদিন তিনি বেঁচে গেলেও এই ঘটনায় প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী, আওয়ামী লীগের সেই সময়ের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত এবং পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন। পঁচাত্তরের পনেরই আগস্ট কালরাতে ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল, শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধু সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল। পৃথিবীর এই ঘৃণ্যতম হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর সহোদর শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনি, তার সহধর্মিনী আরজু মনি ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও আত্মীয়-স্বজন। সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর গোটা বিশ্বে নেমে আসে শোকের ছায়া এবং ছড়িয়ে পড়ে ঘৃণার বিষবাষ্প। প্রতিবারের মত এবারও ১৫ই আগস্টকে সামনে রেখে আগস্টের প্রথম দিন থেকেই শুরু হচ্ছে আওয়ামী লীগসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনগুলোর মাসব্যাপি কর্মসূচি। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও এ মাসে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। শোকের মাসের প্রথম দিন মধ্য রাত ১২টা ১ মিনিটে প্রথম প্রহরে আলোর মিছিলের মধ্য দিয়ে মাসব্যাপী কর্মসূচি শুরু করে স্বেচ্ছাসেবক লীগ। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথ জানান, মিছিলটি ধানমন্ডি ৩২নং সড়ক ধরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর অভিমুখে যাত্রা করবে। আজ সকালে কৃষকলীগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি। বিকাল ৩টায় বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ মাসের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বঙ্গমাতা বেগম শেখ ফজিলতুন্নেসা মুজিব, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ছেলে শেখ কামালের জন্মদিন পালন, ১৭ই আগস্ট দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলা এবং ২১শে আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা দিবস স্মরণ এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী পালন। শোকাবহ আগষ্টে অনলাইন নিউজ পোর্টাল www.newsekattor.com ও সংবাদের কাগজ পত্রিকার পক্ষ থেকে বিনম্র শ্রদ্ধা ।...

আমি কি আমার স্বামীর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাবো না?

০৫অক্টোবর,শনিবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্বাধীন দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নেওয়া মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধারা দেশের গর্ভ এবং রতoe এই কথাটি সরকার এবং দেশের সকলে স্বীকার করেন। কিন্তু এখনো আমরা দেখি যারা স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ গ্রহন করে যুদ্ধ করেছেন এবং শহীদ হয়েছেন তাদের মধ্যে অনেকে এখনো তাদের সম্মান ও স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। যদিও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অসংখ্য ভূয়া মুক্তিযোদ্ধারা স্থান নিয়ে স্বীকৃতি পেয়েছেন বিভিন্ন মহলে,বর্তমান সরকার এই ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়ে ইতি মধ্যে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের বিষয়ে গনমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। কে শুনে কার কথা স্বাধীনতা সংগ্রামে স্বামীকে হারিয়ে নুর জাহান বেগম তার ছেলে মেয়েকে নিয়ে অনাহাওে অতিব দুঃখে কষ্টে ছেলে মেয়েকে বড় কওে আজ সে সরকারের বিভিন্ন সংস্থায় ধর্না দিচ্ছেন। শুধু মাত্র তার স্বামীর শহীদের স্বীকৃতি অর্জনের জন্য। ফেনী জেলার ডমুরুয়া গ্রামের মৃত মনির উদ্দিন আহম্মদের পুত্র এ এস এম মহি উদ্দিন আহাম্মদ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময়ে রেলওয়েতে চট্টগ্রাম সি.আর,বি তে নিরাপত্তা প্রহরী (আর.এন.বি) পদে চাকুরীরত অবস্থায় স্বাধীনতার ডাকে ৮ই এপ্রিল ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনীর সাথে সি.আর.বি তে সম্মুখ যুদ্ধে নিহত হন। তার আর.এন.বি নং:- ই-ডব্লিউ/ম্যান সিরিয়াল নং: ৪২২৩ (সি.এম.ডব্লিউ/সি.আর.বি/আর.এন.বি)। বাংলাদেশ রেলওয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবার সম্মিলন পরিষদ কর্তৃক গত- ১৯৯৫ সালের অক্টোবরে সংবর্তি নামক ম্যাগাজিনে ১৬৪ নং ক্রমিকে শহীদ এ.এস.এম মহিউদ্দিন আহমদ এর নাম লিপি রয়েছে। এবং রেলওয়ে লিস্ট নং: ০৬ এর-৭২৯ নং এ ও এই শহীদের নাম রয়েছে। স্বাধীনতা সংগ্রামের পর জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ন্যাশনাল ব্যাংক অফ পাকিস্তান নামক ব্যাংকের মাধ্যমে শহীদ এ.এস.এম মহিউদ্দিন আহম্মদের স্ত্রী নুর জাহান বেগমকে ২,০০০/০০ টাকা (দুই হাজার টাকা) প্রদান করে ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত- ২৪ এপ্রিল ২০১৩ ইং তারিখে ঢাকা রেলওয়ে ষ্টেশন চত্বরে কমলাপুরে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ রেলকর্মীদের স্বরনে স্মৃতিসৈৗধ সূর্যকেতন নামক যে স্মৃতিসৈৗধ নির্মান করেছেন সে খানে ও লিখিত ও উল্লেখিত ৩০ নং শহীদ ব্যক্তি হিসেবে স্থান পেয়েছেন এ.এস.এম মহিউদ্দিন আহম্মদের নাম। এই শহীদের স্ত্রী নুর জাহান বেগম তৎ কালিন (১৯৬৯) জাতীর জনকের নির্বাচনে তিনি বঙ্গবন্ধুর পক্ষে তার বাবার বাড়ী সিতাকুন্ড এলাকায় নির্বাচনী এজেন্ট ও ছিলেন। বর্তমানে নুর জাহান বেগম তার স্বামী শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য তিনি ইতিমধ্যে- ২০১৬ সালের ১৮ ডিসেম্বও মহাব্যবস্থাপক (পর্ব) বাংলাদেশ রেলওয়ে সি.আর.বি চট্টগ্রাম- ২০১৮ সালের ৭ আক্টোবর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, একই সালের ৮ আক্টোবর ও চলিত বছরের ১৩ মার্চ ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে স্বাক্ষাত চেয়ে এবং তার স্বামীকে শহীদের তালিকায় লিপি করার উদ্যেশ্যে আবেদন করে ও ব্যার্থ হয়েছেন নুর জাহান বেগমের স্বামী একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের তালিকায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্তির দাবীদার মর্মে ফেনী জেলার ২নং পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মানিক ও ফেনী-০২ এর বর্তমান সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী প্রত্যায়ন পত্র দিয়েছেন। উক্ত বিষয়ে বর্তমানে অসুস্থ ও ৭৫ বছর বয়স্ক নুর জাহান বেগম বলেন,আমি চরম অনিশ্চয়তা এবং আশংকার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি যে,আমি জীবিত অবস্থায় আমার স্বামীর শহীদ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয়ে দেখে যেতে পারবো কি না। আমার একটি মেয়ে খোদেজা ভূইয়া ও একটি ছেলে মোঃ মাইন উদ্দিন তাদের বাবার এই সম্মান টুকু তারা আদৌ পাবে কি না। আমি বর্তমান খুবই অসুস্থ। আমি মনে করি আমার এই চরম দুর্দিনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে স্বাক্ষাত করতে পারলে বা তার সাহায্য ও সহযোগীতা পেলে আমার স্বামীর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির পাশাপাশি আমার এই দূরবস্থার পরিবর্তন হবে। আমার একমাত্র ছেলে বর্তমানে বেকার,বেচেঁ থাকার যে টুকু অবলম্ভন ছিলো তাও নেই। আমি আপনাদের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাঁর কাছে আকুল আবেদন করছি,যেন মরে যাবার আগে অন্তত আমার স্বামীকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি টুকু প্রদান করা হয়।


দেশের বিস্ময় বালিকা নানজীবার গল্প

সাক্ষাৎকার ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নানজীবা খান। তার বয়স কিন্তু এখনও পেরোয়নি ১৮র কোঠা। আর এই বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী টিনএজার এরই মধ্যে জন্ম দিয়ে চলেছেন এক একটি বিশ্বয়। ট্রেইনি পাইলট, সাংবাদিক, নির্মাতা, উপস্থাপিকা, টিভি টক শো'র অতিথি, লেখক, ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর, বিএনসিসি ক্যাডেট অ্যাম্বাসেডর এবং বিতার্কিক হিসেবে স্বাক্ষর রেখে চলেছেন নিজের প্রতিভার। আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন নিয়ে অ্যারিরাং ফ্লাইং স্কুল-এ ট্রেইনি পাইলট হিসেবে চলছে তার অধ্যয়ন। এছাড়া তিনি কাজ করছেন শিশু সাংবাদিক হিসেবে, কাজ করছেন বিটিভির নিয়মিত উপস্থাপক হিসেবে, ব্রিটিশ আমেরিকান রিসোর্স সেন্টারের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছেন। প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা হিসেবে পেয়েছেন ইউনিসেফের মিনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড। আর সম্প্রতি ইউনিসেফের অধীনে বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে এসেছেন দেশের বাইরেও। এই নিয়ে ১১টি দেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা জমা হয়েছে তার ঝুলিতে। লেখক হিসেবে এবারের বই মেলায় প্রকাশিত হয়েছে তার গবেষণামূলক গ্রন্থ- অটিস্টিক শিশুরা কেমন হয়। প্রথম সংস্করণের সব বই বিক্রি হয়ে যাওয়ার পর ২য় সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। বইটি প্রকাশ করেছে অন্বেষা প্রকাশন। বইটির প্রচ্ছদও করেছেন নানজীবা নিজে। তথ্যসমৃদ্ধ বইটি ইতোমধ্যে পাঠক সমাদৃত হয়েছে। প্রশ্ন আসে কিভাবে শুরু এই নানজীবার পথচলা? উত্তরে জানা যায়, নানজীবার শুরুটা হয়েছিল পাঁচ বছর বয়সে রঙ তুলি দিয়ে। মায়ের হাত ধরে গিয়েছিল কিশলয় কচিকাঁচার মেলায় ছবি আঁকা ও আবৃত্তি শিখতে। ২০০৭ সালে জীবনের প্রথম প্রতিযোগিতা জয়নুল কামরুল ইন্টারন্যাশনাল চিলড্রেন পেন্টিং কম্পিটিশনে অংশগ্রহণ এবং পুরস্কার অর্জন করেন। জীবনের প্রথম অর্জনই ছিল আন্তর্জাতিক। সেই থেকে পথ চলা শুরু। ছবি আঁকার জন্য বেশ কিছু জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কার তার ঝুলিতে জমা হয়। ছবি আঁকার পাশাপাশি কবিতা আবৃত্তিতেও প্রশিক্ষণ নেন। বিভিন্ন দিবসগুলোর সকাল থেকে সন্ধ্যা কাটতো বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মঞ্চে কবিতা আবৃত্তি করার মাধ্যমে। ২য় শ্রেণীতে পড়াকালীন বিটিভির- কাগজ কেটে ছবি আঁকি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মিডিয়ায় তার পথ চলা শুরু। বর্তমানে বিটিভিতে- আমরা রঙ্গিন প্রজাপতি, আমাদের কথা, আনন্দ ভুবন, ও শুভ সকাল অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছেন। ১৩ বছর বয়সে জীবনের প্রথম স্বল্প দৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র- কেয়ারলেস পরিচালনা করেন। তার পরিচালিত প্রথম প্রামাণ্যচিত্র সাদা কালোর জন্য ইউনিসেফের মিনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। আর এটি তৈরি করতে যা টাকা খরচ হয়েছে তার সবই ছিল তার টিফিনের জমানো টাকা। তারপর- গ্রো আপ, দ্য আনস্টিচ পেইন সহ আরও কিছু প্রামাণ্য চিত্র নির্মাণ করেন নানজীবা। ৮ম শ্রেণীতে পড়াকালীন শুরু হয় শিশু সাংবাদিক হিসেবে তার পথচলা। জীবনের ১ম সাক্ষাতকার নিয়েছিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের। পর্যায়ক্রমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সংস্কৃতিমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, ভূমিমন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী,সমাজকল্যাণ মন্ত্রী, টেলিযোগাযোগমন্ত্রী, তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী, স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী, মেয়র সাঈদ খোকনসহ বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট মানুষ যেমন- সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, সেলিনা হোসেন, ইমদাদুল হক মিলন, হাবিবুল বাশার, আবেদা সুলতানা, সাদেকা হালিম, নিশাত মজুমদার, ফরিদুর রেজা সাগর, জুয়েল আইচ, মীর আহসান, Rabর প্রধান বেনজির আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম ফেরদৌস। বিদেশও উজ্জ্বল সাংবাদিক নানজীবা। ওয়ার্ল্ড ডিবেট সোসাইটির পরিচালক অ্যালফ্রেড স্পাইডার ও ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগও হয়েছে তার। একাদশ শ্রেণিতে পড়াকালীন দায়িত্ব পালন করেছেন ক্যামব্রিয়ান ডিবেটিং সোসাইটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে। স্কুল ও কলেজ জীবনে বিতার্কিক হিসেবে অর্জন করেছেন বেশ কিছু জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কার। পেয়েছেন উপস্থিত ইংরেজি বক্তৃতায় বিএনসিসি ও ভারত্বেশ্বরী হোমসের প্রথম পুরস্কার। দ্বাদশ শ্রেণীতে পড়াকালীন- বিএনসিসি ক্যাডেট অ্যাম্বাসেডর হিসেবে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর থেকে ৩ ধাপে লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষার পরে সারা দেশের হাজার হাজার ক্যাডেটদের মধ্য থেকে বিএনসিসি-র সবচেয়ে দীর্ঘ এবং ব্যয়বহুল সফর ভারতে অংশগ্রহণ করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর সাথে সাক্ষাৎ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সাক্ষাৎকার নেয়ার সুযোগ হয়। রাশিয়া, ভারত, সিঙ্গাপুর, কাজাকিস্তান, কিরগিজস্তান, ভিয়েতনাম, শ্রীলংকা, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপসহ মোট ১১ টি দেশের সামনে বাংলাদেশকে তুলে ধরেছেন। প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রাইফেলে ফায়ারিং, অ্যাসোল্ট কোর্স, বেয়নোট ফাইটিং ও সশস্ত্র সালাম। শতগুণে গুণান্বিত নানজীবার বিনয়ের এক চরম উদাহরণ। সর্বশেষ তাই সময় নিউজকে তিনি বলেন, কাজ শেখার চেষ্টা করছি। আমি কখনই শুধু দেশ নিয়ে ভাবি না। আমার লক্ষ্য সবসময় আন্তর্জাতিক। আমি চাই মানুষ নানজীবাকে দিয়ে গোটা বাংলাদেশ চিনুক। সেই সাথে আকাশে ওড়ার স্বপ্নও পূরণ করতে চাই। আর আমার সব কাজের প্রেরণা আমার ছোট ভাই ও আমার মা। আমি সকলের ভালোবাসা চায়।

অভিশপ্তদের দিন শেষ, বাতিঘরের আলোয় আলোকিত দেশ

১৬অক্টোবর,বুধবার,মুক্ত কলম,নিউজ একাত্তর ডট কম: আজকাল টেলিভিশন টকশোয় খুব কম যাওয়া হয়। অনেকদিন থেকে না যাওয়ার অভ্যাসটি রপ্ত করেছি। কারণ গেলেই কথা বলতে হয়। কথা বললেই বাড়ে কথা। তবু মাঝেমধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্কের সুবাদে কারও কারও ডাক উপেক্ষা করা যায় না বলে যেতে হয়। বিশেষ করে প্রখ্যাত সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরীর মধ্যরাতের টকশোয় ডাক পড়লে নিয়মিত যাই। এমনিভাবে অনিয়মিতভাবে যাওয়া একটি বেসরকারি টেলিভিশনের আমন্ত্রণে তাদের টকশো রাজকাহনে গিয়েছিলাম। গিয়ে তাদের অতিথি বাছাই দেখে আমি বিস্মিত হই। বিএনপির ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতিসহ তিনজন সাবেক সভাপতিকে আনা হয়েছে। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি গোলাম সারওয়ার মিলন ছাড়াও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শামসুজ্জামান দুদু এবং আরেক সাবেক সভাপতি আজিজুল বারী হেলাল ছিলেন আমন্ত্রিত অতিথি। মাঝখানে তাদের সঙ্গে কাবাবে হাড্ডির মতো আমাকে কেন ডাকা হলো? এ প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তাদের বললাম, এখানে আওয়ামী লীগের অসীম কুমার উকিল, আহমদ হোসেন বা বি এম মোজাম্মেল হোসেনকে আনা হলে মানানসই হতো। শেষ পর্যন্ত টকশোর সূচনা ঘটল ছাত্রদলের সম্মেলন স্থগিত নিয়ে এবং সেটি থেকে আলোচনা জাতীয় রাজনীতির অতীত ও বর্তমান ঘিরে কিছুটা উত্তপ্তও হয়ে উঠল। এর মধ্যে শামসুজ্জামান দুদু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হিটলারের মতো স্বৈরশাসক হিসেবে সমালোচনা করে বলে বসলেন,তার পরিণতি হবে শেখ মুজিবের মতো। পরে এ বক্তব্য বাইরে তুমুল বিতর্কের ঝড় তুললে শামসুজ্জামান দুদু আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চাইলেন। কিন্তু ওই টকশোয় আমি শেখ হাসিনার ৩৯ বছরের সংগ্রামমুখর রাজনৈতিক জীবনের উত্থান-পতন ঘেরা বর্ণাঢ্য জীবনের কথা উল্লেখ করে বললাম, তিনি গণতন্ত্রের নেত্রী। আর এই জনপদে হিটলারের মতো নিষ্ঠুর খুনি কোনো সেনাশাসক যদি এসে থাকেন তার নাম জিয়াউর রহমান। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পরিবার-পরিজনসহ মানবসভ্যতার ইতিহাসে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে অবৈধ শাসনযাত্রার পালাবদলে বন্দুকের জোরে সেনাশাসক জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসেন। তার হাতে তথাকথিত সেনাবিদ্রোহের অভিযোগে অসংখ্য সেনাসদস্যই সামরিক আদালতের গোপন বিচারে রাতের আঁধারে ফাঁসিতেই ঝোলেননি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরউত্তম খালেদ মোশাররফের খুনি মোশতাক চক্রকে উৎখাত করা অভ্যুত্থানে গৃহবন্দী জিয়াউর রহমানকে সিপাহি জনতার বিপ্লবের নামে পাল্টা ক্যু ঘটানোর নায়ক ও তার ত্রাণকর্তা হিসেবে মুক্ত করা, বীরউত্তম কর্নেল তাহেরকেও সামরিক আদালতের বিচারে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছিলেন।সেনাশাসক জিয়াউর রহমান একদিকে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে বছরের পর বছর কারা নির্যাতন, দমন-পীড়ন, বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের নিপীড়ন ও দল ভাঙার রাজনীতির কূটকৌশল গ্রহণ করেছিলেন; অন্যদিকে বন্দুকের জোরে বিচারপতি সায়েমকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে বিদায় করে তিনি নিজে একদিকে সেনাপ্রধান, প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ও রাষ্ট্রপতি হওয়ার মতো নির্মম রসিকতার অসাংবিধানিক শাসনের ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন। আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন মহল বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনলেও আত্মস্বীকৃত খুনিদের ভাষ্যমতে, তাকে অবহিত করা হয়েছিল। বীরউত্তম খেতাবপ্রাপ্ত একজন মুক্তিযোদ্ধা বা সেক্টর কমান্ডার হয়েও এমনকি অনেকের সঙ্গে ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করে আলোচিত হয়েও ক্ষমতায় এসে তার সামরিক শাসন জমানায় গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রযন্ত্র ও প্রশাসনিক শক্তির সঙ্গে অর্থ ও পেশিশক্তির জোরে বিএনপি নামের যে দলটির জন্ম দিয়েছিলেন, সেখানে একাত্তরের পরাজিত হানাদার বাহিনীর দোসর দক্ষিণপন্থি মুসলিম লীগের রাজাকার, মুজিববিদ্বেষী আওয়ামী ও ভারতবিরোধী কট্টর চীনাপন্থি বামদের মহামিলন ঘটিয়েছিলেন। ঠাঁই দিয়েছিলেন সুবিধাবাদী সুযোগসন্ধানী ক্ষমতার উচ্চাভিলাষী কিছু পেশাজীবীকে। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছিলেন। নিষিদ্ধ সাম্প্রদায়িক রাজনীতির দুয়ার খুলে জামায়াতকেও রাজনীতিতে সংসদে পুনর্বাসিত করেছিলেন ধূর্ত খুনি শাসক জিয়া। খুনি মোশতাকের অধ্যাদেশকে তার প্রহসনের ৭৯ সালের সংসদে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে কুখ্যাত ইনডেমনিটি আইনসহ তার সব অবৈধ কর্মকা- পাস করিয়েছিলেন। যেখানে একজন সাধারণ মানুষ হত্যাকান্ডের ন্যায়বিচার লাভ করে সেখানে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার আমাদের মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পরিবার-পরিজনসহ নৃশংসভাবে হত্যা করে তার বিচার করা যাবে না বলে সংবিধান ও সভ্যতাবিরোধী একটি কালো আইন পাস করালেন। এবং সংবিধানকে কাটাছেঁড়া করে মুক্তিযুদ্ধের লাখো শহীদের রক্তে লেখা ধর্মনিরপেক্ষতাসহ কিছু মূলনীতিই মুছে দেননি, সাম্প্রদায়িকতার মোড়কে একাত্তরের পরাজিত পাকিস্তানের পথে রাষ্ট্রকে ঠেলে দিলেন। দিল্লিতে নির্বাসিত মুজিবকন্যা শেখ হাসিনা যখন ৮১ সালের ইডেন কাউন্সিলে দলের নেতৃত্বের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী নির্বাচিত হন, সেই রজনীতে বঙ্গভবনে বসে সেনাশাসক জিয়াউর রহমান রাত জেগে ছিলেন। আওয়ামী লীগের ভাঙন আশা করেছিলেন। ভোরবেলায় যখন শুনলেন, নেতা-কর্মীদের আবেগ-উচ্ছ্বাস আর মহানন্দের তুমুল করতালিতে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন তখন তিনি তার সামরিক সচিব সিলেটের জেনারেল সাদেক আহমেদ চৌধুরীর কাছে দেশটা বুঝি ইন্ডিয়া হয়ে গেল আফসোস করে ক্যান্টনমেন্টের বাসভবনে ঘুমাতে ছুটলেন। শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসুন সেনাশাসক জিয়াউর রহমান সেটি চাননি। শেখ হাসিনা ফিরে এলেই প্রকৃতি ও মানুষ তার সঙ্গে একাত্ম হয়েছিল। তার বুকভরা ছিল স্বজন হারানোর বেদনা ও ক্রন্দন। বাঙালি জাতির ইতিহাসের ঠিকানা শেখ হাসিনার স্মৃতিময় ৩২ নম্বর বাড়িতে সেনাশাসক জিয়া তাকে প্রবেশ করতে দেননি। বাইরেই তাকে মিলাদ পড়াতে হয়েছে। সেনাশাসক জিয়াউর রহমানের হত্যাকান্ডের পর বিচারপতি অথর্ব সাত্তার সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থতা, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, নৈরাজ্য বিশৃঙ্খলা ও চরম কোন্দলের মুখে বিনা রক্তপাতে সেনাশাসক এরশাদ ক্ষমতা গ্রহণ করে দল গঠন করতে গেলে জিয়াউর রহমানের সুবিধাবাদী দলছুট প্রায় সব নেতা তার সঙ্গে যোগ দেন। দলের হাল ধরে সে সময় রাজপথে নামেন অকাল-বৈধব্য নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া। জিয়াউর রহমানের শাসনামলে যে ছাত্রদল হিজবুল বাহার চড়েও অস্ত্রবাজিতে ছাত্র রাজনীতিতে জায়গা পায়নি, সেনাশাসক এরশাদবিরোধী আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়াকে সামনে রেখে সেই ছাত্রদল হয়ে ওঠে সাহসী তারুণ্যের শক্তিশালী ছাত্র সংগঠনে। সব দলের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ নয় বছর পর এরশাদের পতন ঘটলে সব মহলের হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জামায়াতের সমর্থনে ৯১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি সরকার গঠন করে চমক সৃষ্টি করে। দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের নবযাত্রার সূচনা ঘটে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ঐতিহাসিক ভূমিকার কারণে। নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক কর্মকা- ও আন্দোলন-সংগ্রামের ভিতর দিয়ে উর্মীমুখর রাজনীতিতে নির্বাচনে সরকার বদলের সুযোগ ঘটে। ৯৬ সালে নির্বাচনের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের গণঅভ্যুত্থানে বিএনপির পরাজয় ঘটে। দীর্ঘ ২১ বছর পর সেই নির্বাচনে মুজিবকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আটক করে ১৫ আগস্টের হত্যাকাে র বিচারকাজ শুরু হয়। সেই বিচারে খুনিদের ফাঁসির রায় হয়। সেসব ইতিহাস সবার জানা। দার্শনিক বার্নাড শ বলেছেন, ইতিহাসের শিক্ষাই হচ্ছে ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না। আমাদের রাজনীতিতে তার এ বাণী অক্ষরে অক্ষরে সত্যে পরিণত হয়েছে। খালেদা জিয়ার প্রথম শাসনামল ও শেখ হাসিনার প্রথম শাসনামল সংসদীয় গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক সহনশীলতা ও সুশাসন প্রশ্নে উত্তম বললে বাড়িয়ে বলা হবে না। সেই দিনগুলোয় আমাদের সংসদ ও রাজনীতির মাঠে-ময়দানের পরিশ্রমী সাংবাদিকতাও ছিল সৃষ্টিশীলতার, শেখার এবং আনন্দের। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় এসে প্রতিহিংসার বিষের আগুনে চারদিক পুড়িয়ে দিতে থাকে। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার আটকে দেয়, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা একের পর এক হত্যাকান্ডের শিকার হন। সংখ্যালঘু ভোটার নারীরা হতে থাকেন ধর্ষিতা। এলাকার পর এলাকা প্রশাসনের প্রহরায় বিএনপির সন্ত্রাসীদের হামলায় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা হয় ঘরছাড়া, না হয় আহত পঙ্গু হয়ে হাসপাতালে আশ্রয় নেন। অন্যদিকে যুদ্ধাপরাধীদের গাড়িতে শহীদের রক্তেভেজা পতাকাই ওড়েনি, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইর হাত এতটাই প্রসারিত হয় যে, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ভয়ঙ্কররূপে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। ১০ ট্রাক অস্ত্র এসে ধরা পড়ে। সন্ত্রাসবাদের অভয়ারণ্য হয় স্বাধীন বাংলাদেশ। একের পর এক ভয়াবহ রাজনৈতিক হত্যাকা- ঘটতে থাকে দিনদুপুরে। বাংলা ভাইদের হাতে বাঘমারা স্বাধীন করে দেওয়া হয়। দলীয় প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্লজ্জ বেহায়াপনার বীভৎস চিত্র দেখে বাংলাদেশ। দেশের ৬৩ জেলার ৫০০ জায়গায় একই সময়ে বোমার বিস্ফোরণ ঘটতে থাকে। আদালতপাড়ায় রক্ত ঝরে। একুশের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার মধ্য দিয়ে আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সন্ত্রাসবিরোধী শান্তিমিছিলের বক্তৃতার মঞ্চ থেকে উড়িয়ে দিতে চালানো হয় বর্বর গ্রেনেড হামলা। আলামত গায়েব, তদন্তের নামে প্রহসন, বিচারের নামে নাটক চলতে থাকে। ক্ষমতার দম্ভে উন্নাসিক বিএনপি-জামায়াত পরবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতায় আসার দলীয় নির্বাচন কমিশনসহ, ইয়াজউদ্দিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার তিন স্তরের প্রশাসন ঢেলে সাজায়। সেই সঙ্গে বিএনপির অভ্যন্তরেও রক্তক্ষরণ ঘটানো হয়, হাওয়া ভবন ঘিরে প্যারালাল সরকার গড়ে ওঠে বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানকে ঘিরে। একতরফা নির্বাচন বানচাল হয়ে যায় সেনাসমর্থিত ওয়ান-ইলেভেনের কারণে। সেই দুই বছরের শাসনামল কারও জন্য সুখকর হয়নি। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত ও হাওয়া ভবনের অভিশপ্ত শাসনামলের চড়া মাশুল এখনো বিএনপিকে গুনতে হচ্ছে। ওয়ান-ইলেভেনের সরকারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ২০০৮ সালের নির্বাচনে মহাজোটকে নিয়ে বিশাল গণরায়ে ক্ষমতায় আসেন শেখ হাসিনা। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ফাঁসিতে ঝুলতে হয় একের পর এক জামায়াত নেতাকে। তারেক রহমান লন্ডনে তার চাটুকারদের নিয়ে ভোগের জীবনে নির্বাসিত থাকলেও এখানে হাজার হাজার নেতা-কর্মী সরকারের অগ্নিরোষে পতিত হয়। কিন্তু দেশের অভ্যন্তরে থাকা নেতা-কর্মীরা নিজেদের মতো স্বাধীনভাবে রাজনীতি করার বা দলীয় রণকৌশল নির্ধারণের ক্ষমতা ভোগ করতে পারেন না। দল ব্যাপক জনসমর্থন নিয়ে একের পর এক সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিশাল বিজয় অর্জন করলেও তারেক রহমানের নির্দেশের কারণে জামায়াতের সঙ্গে সহিংস আন্দোলনে ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচন বর্জন ও প্রতিরোধ আন্দোলনে শক্তিক্ষয় ও মামলার জালেই আটকা পড়েনি, নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও তার মিত্রদের ওয়াক ওভার দিয়ে দেয়। ইতিমধ্যে একটি দুর্নীতি মামলায় বিএনপির রাজনীতির জনপ্রিয়তার উৎস ও গণতন্ত্রের নেত্রী হিসেবে জনপ্রিয় বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে গেলে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের সঙ্গ ছাড়তে পারেনি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন ও বিতর্ক থাকলেও বিএনপি সেটি নিয়ে আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়া দূরে থাক কোনো রাজনৈতিক ফায়দাই তুলতে পারেনি। মাঝখানে মির্জা ফখরুলের মতো পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদকে বাদ দিয়ে হাতে গোনা দলের যে কজন জয়ী হয়েছেন, তাদের সংসদে পাঠায়। বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ শরীরে পৌনে দুই বছরের মতো জেলে রয়েছেন। দলের নেতা-কর্মীরা বিভ্রান্ত নেতৃত্বের হঠকারী সিদ্ধান্তে বার বার আন্দোলন-সংগ্রামে মামলার জালেই আটকা পড়েনি, রিক্ত-নিঃস্ব হয়ে গেছে। যে এহছানুল হক মিলন বিএনপির জন্য আদালতে হাজিরা দিতে দিতে জীবন শেষ হয়ে যায়, নির্বাচনে তারেক রহমানের নির্দেশে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকলেও তার ভাগ্যে মনোনয়ন জোটে না। মোরশেদ খানের মতো ভদ্রলোক বিএনপি করার অপরাধে নানামুখী চাপে নিঃশেষ হয়ে গেলেও তিনি মনোনয়ন পান না। একুশের গ্রেনেড হামলায় তারেক রহমান যাবজ্জীবন দ-প্রাপ্ত আসামি। বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে হাওয়া ভবন ঘিরে যারা ওঠাবসা করতেন এখন লন্ডন, নিউইয়র্ক ও মালয়েশিয়ায় তারা নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করেছেন। ইতিহাসের প্রাপ্য প্রতিহিংসার ফল বিএনপি ভোগ করছে এ কথা আমি বলে আসছি বার বার, তেমনি বলে আসছি নব্বইয়ের পর এ দেশের রাজনীতিতে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদলের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল তার কফিনে পেরেক ঠুকে দিয়েছে একুশের গ্রেনেড হামলা। তাই বলে আওয়ামী লীগের ১০ বছরের শাসনামলে সংঘটিত সব দুর্নীতি, অর্থনৈতিক খাতের লুটপাট, ব্যাংক ও শেয়ার কেলেঙ্কারি, গুম-খুন এমনকি মির্জা ফখরুলদের মতো নেতাদের নামে হয়রানি মামলা, নেতা-কর্মীদের দমন-পীড়নের প্রতিবাদ তো কম করিনি। তবু কেন এত আক্রোশ? এমনকি প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে যেসব সিনিয়র সাংবাদিক প্রশ্ন না করে চাটুকারিতায় তেলের নহর বইয়ে দিতেন তাদের সমালোচনাও করেছি। শক্তিশালী সরকারের পাশাপাশি আমরা শক্তিশালী বিরোধী দল চাই। বিএনপিকে শেষ করে দিয়ে মৌলবাদ উত্থান ঘটার আশঙ্কা থেকে যায় কিনা এ প্রশ্নও সামনে নিয়ে আসি। সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনায় সেদিনের টকশোয় আরও বলেছিলাম, তারেক রহমান এখনো বিএনপির সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। কিন্তু বিএনপির রাজনৈতিক সম্পদ হচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া। তারেক রহমান অভিশপ্ত বোঝামাত্র। লন্ডনে তারেক রহমানের বক্তৃতা আষাঢ়ে গল্পের মতোই বোঝায় না, একাত্তরের পরাজিত শক্তিরা যে ভাষায় কথা বলতে সাহস পায় না, তাদের দোসররা যে ভাষায় কথা বলতে সাহস পায় না, তিনি সে ভাষায় কথা বলেন। দাম্ভিক উন্মাদের প্রলাপ মনে হয়। যার আত্মোপলব্ধি নেই। অনুশোচনা, গ্লানি নেই। বাংলাদেশের আত্মা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আওয়ামী লীগের সমালোচনা করুন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের সমালোচনা করুন। কিন্তু জাতির পিতাকে নিয়ে কটাক্ষ করা সব শক্তিকে এক মোহনায় অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে মিলিত করে দেয়। বঙ্গবন্ধুর প্রতি কটাক্ষ কোনো দেশপ্রেমিক মানুষ বরদাশত করতে পারে না। আমি আরও বলেছিলাম, যেখানে লাখ লাখ, হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে, হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যাংকিং খাতে লুট হয়েছে, হাজার হাজার কোটি টাকা শেয়ারবাজারের জুয়াড়িরা লুট করে নিয়ে গেছে, সেখানে ২ কোটি টাকার জন্য কারাবন্দী খালেদা জিয়াকে জামিনে হলেও মুক্ত করে রাজনীতির পরিপক্ব কৌশল বিএনপির নির্ধারণ করা উচিত। যেখানে তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ থাকবে না। তারেক রহমান ও তার লন্ডন, নিউইয়র্কসহ বিদেশে থাকা অভিশপ্ত সিন্ডিকেট যত দিন বিএনপিতে খবরদারি করবে তত দিন এ দলের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। এই রাহুমুক্ত হয়ে বিএনপিকে মুক্তিযুদ্ধের জায়গায় দাঁড়িয়ে বিশুদ্ধ হয়ে রাজনীতি শুরু করতে হবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায়। কয়েকদিন আগে জাতিসংঘে দেওয়া পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ভাষণ নিয়ে এ দেশে অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এত বাহ্বা দিচ্ছেন যে মনে হচ্ছে, কোনো বিশ্বসেরা রাজনীতিবিদ বিশ্বজয়ী বক্তৃতা করেছেন। এ দেশে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসরদের যখন বিচার হয়, পাকিস্তানের সংসদে তখন ইমরান খানরা নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় তুলেছেন। একাত্তরে ইমরান খানের চাচা নিয়াজি এবং বেলুচিস্তানের কসাই টিক্কা খান পোড়ামাটি নীতি গ্রহণ করে ব্যাপক গণহত্যা চালিয়েছে। আমাদের ৩০ লাখ শহীদের রক্তে ভেজা এ স্বাধীন বাংলাদেশ। আমাদের আড়াই লাখ মা-বোনের গণধর্ষণের নির্যাতনের আর্তনাদে এ দেশের বাতাস এখনো ভারি। ইমরান খান যদি জাতিসংঘে দাঁড়িয়ে তার বাবা-চাচা ও ভাইদের যুদ্ধাপরাধের জন্য ক্ষমা চাইতেন আমাদের প্রাপ্য পাওনা ফিরিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করতেন তাহলে না হয় বুঝতাম একপাল পাকিস্তানপ্রেমিক তাকে শাবাশ দিচ্ছেন। আমরা যখন স্বাধীনতা সংগ্রাম করেছি তখন মোনায়েম খানরা পাকিস্তানের দালালি করেছেন। আমরা যখন একাত্তরে যুদ্ধ করেছি তখন আমাদের ভারতের চর বলে, পাকিস্তানের দুশমন বলে গোলাম আযম ও শাহ আজিজরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসর হয়েছেন। এখনো একদল শিক্ষিত মানুষ বাংলাদেশি হতে পারেনি। চিন্তায় পাকিস্তানি রয়ে গেছে। একাত্তরে ভারত তাদের নেত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে আমাদের আশ্রয় দিয়েছে, খাবার দিয়েছে, অর্থ দিয়েছে, অস্ত্র দিয়েছে, ট্রেনিং দিয়েছে, বিশ্বজনমত পক্ষে টেনেছে। এমনকি মিত্রবাহিনীর হয়ে যুদ্ধে জীবন দিয়েছে। রক্তে লেখা একাত্তরের বন্ধু ভারত ও তার ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শিক রাষ্ট্রের বর্ণ অনেকটা এখন ধূসর করে ফেলেছে। তিস্তার পানি নিয়ে হোক, সীমান্ত হত্যা নিয়ে হোক, ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক দূতিয়ালি হবে, দেনদরবার হবে, তাদের কর্মকান্ডের নিন্দাও হবে; কিন্তু ভারতবিরোধিতা করতে গিয়ে লাখো শহীদের রক্তে পা দিয়ে, মা-বোনের সম্ভ্রমে পা দিয়ে পাকিস্তানকে বন্ধু বানাতে পারি না। এ কথাগুলো আর একাত্তরের পরাজিত পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর দোসর স্বাধীন বাংলাদেশের নিষিদ্ধ বিএনপির মিত্র জামায়াত এ দেশের মানুষের রাজনীতির কল্যাণের শক্তি হতে পারে না। এসব কথা বিভিন্ন টকশোয় বলায় ও বিভিন্ন কলামে লেখায় বিএনপি ও জামায়াতের দেশের বাইরে থাকা সাইবারযোদ্ধারা আর্তনাদ করে উঠেছেন। ভারতের তৃণমূল কংগ্রেসের পেজে দেওয়া বিজেপি নেতা বলে পরিচয় করানো এক মাতালের অশ্লীল নাচের ভিডিও লাল গোলাপের শফিক রেহমানের ডান হাত খ্যাত বিএনপির থিংক ট্যাংকের জি-৯-এর সদস্য বাংলাদেশ বিমান ও রিজেন্ট এয়ারওয়েজ থেকে বরখাস্ত রেজাউর রহমান মানিক তার ফেসবুক পেজে ভাইরাল করলে, তারা লুফে নিয়ে আমার নামে অপপ্রচার চালায়। শেখ হাসিনার চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে গত ১০ বছরে অনুপ্রবেশকারী থেকে দলের ভিতরে থাকা যারা দুর্নীতি করে কাঁচা টাকার দামি গাড়ি, বাড়ি, বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও দেশ-বিদেশে সম্পদ গড়েছেন তাদের চিহ্নিত করতে গেলে তারাও এটিকে ছড়িয়ে দেন। তাদের লুটের ভাগ না পাওয়া দুর্নীতিবাজ এ কালো শক্তির অন্ধ ভক্তরাও লাফালাফি করে। কিন্তু ওরা জানে না আমার ক্ষমতা নেই। আমার কোনো ক্ষমতাবান নেই। আমার অর্থ নেই, গানম্যান নেই। কিন্তু পেশাদারিত্বের ওপর দাঁড়ানো মানসিক শক্তির প্রাণপ্রাচুর্য এবং শক্তিশালী কলম ও কণ্ঠ রয়েছে। অভিশপ্ত ও দুর্নীতিবাজ দানবের সামনে কলম থামাতে আমি আসিনি। কণ্ঠ স্তব্ধ করতে আসিনি। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যথার্থই বলেছেন, সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি ঘুমিয়ে থাকেন না। সব খবর রাখতে হয়। প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে হয়। প্রধানমন্ত্রী অনেক খবর রাখলেও সব খবর রাখা তার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই তার সঙ্গে প্রেসবক্সে বসে বিসিবির পরিচালক হিসেবে ক্রিকেট খেলা উপভোগ করে খুনি বজলুল হুদার শ্যালক হানিফ ভূঁঁইয়া। খালেদা জিয়ার মাথায় ছাতা ধরা দেহরক্ষী লোকমান মোহামেডানের ক্যাসিনো সাম্রাজ্যের অধিপতিই নয়, বিসিবির পরিচালক হয়ে তার বক্সে বসেও খেলা দেখে। বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচার করে। যুবদল থেকে যুবলীগে আসা বিশাল গানম্যান দল নিয়ে মোটরসাইকেল ও দামি গাড়িতে সাইরেন বাজিয়ে পূর্ত অধিদফতরে সব ঠিকাদারি নেয় জি কে শামীম। ফ্রীডম পার্টির ক্যাডাররা হয়ে যায় যুবলীগ, চাঁদাবাজ ও ক্যাসিনো সাম্রাজ্যের মালিক। লোকমানকে আটকের সময় হাতকড়া পরানো হয়নি। যেন জামাই আদর দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানেন না, সুনামগঞ্জের মতো জেলা নেতৃত্বে বাপ আওয়ামী লীগের মরহুম নেতা বলে যে ছেলেটিকে নেতা-কর্মীদের আপত্তির মুখে নেতৃত্বে বসান সেই কালো কুৎসিত দুর্নীতিবাজ দলকেই শেষ করেনি নিজে অঢেল অর্থ বাড়ি, গাড়ি, দামি বিলাসি ফ্ল্যাট ও বিদেশে সম্পদ গড়েছে ১০ বছরে। এমনকি লন্ডনে তারেক রহমানের ডান হাত ও শেখ হাসিনার গাড়িবহর ও হাইকমিশনে হামলাকারী বিএনপি নেতার সঙ্গে কোম্পানি করেছিল জগন্নাথপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পদ লুটপাটের জন্য। এসব বিশ্বাসঘাতক দুর্নীতিবাজদের অন্ধ ভক্তরাও বিএনপি-জামায়াতের সাইবার অপপ্রচারের নোংরা প্রচারণায় আমাদের বিরুদ্ধে শরিক হয়। বিএনপি-জামায়াতের অভিশপ্ত আস্তানায় আওয়ামী লীগের কারা যোগাযোগ রাখে নিয়মিত? এ প্রশ্ন আজ সবচেয়ে ভয়ঙ্কর! একজন লোকমান, একজন জি কে শামীম আজ ধরা পড়েছে। এমন জি কে শামীম ও লোকমানরা আজ কতজন ক্ষমতার বাণিজ্যের বাজিকর। বিএনপি-জামায়াতের আস্তানায় দেয় টাকা? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদেশ সফরকালে দেশের বড় বড় শিল্পপতিকে দেখা যায় না। যাদের নিয়ে গেলে বিদেশি বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অনেক জানেন কিন্তু সব জানেন না। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অবিচল, শেখ হাসিনার লড়াইয়ের সতীর্থরা মিথ্যা নোংরা বিএনপি-জামায়াতের সাইবার আক্রমণের শিকার হলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও কেন নীরব থাকে আমি বুঝি না! তবে আমরা আশাবাদী জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও মাদকের মতো দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে তিনি বিজয়ী হবেন এবং সুশাসনের সুবাতাস বইয়ে দেবেন দেশের রাজনীতিকে পূর্বসূরিদের রেখে যাওয়া আদর্শিক জায়গায়। সৎ, নির্লোভ নেতা-কর্মীদের হাত ধরে তুলে আনবেন। বাঙালির মহত্তম নেতা বঙ্গবন্ধু ও গৌরবের অর্জন মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকারিত্বের একমাত্র বাতিঘর তিনি। শপথ নেওয়ার সময় আজ, অভিশপ্ত কালো শক্তির দিন শেষ, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের বাতিঘর মুজিবকন্যার আলোতেই আলোকিত হবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ। লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন।

আজকের মোট পাঠক

32799

নিউজ একাত্তর ডট কম

সম্পাদক : মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী

নির্বাহী সম্পাদক : আহাম্মদ হোসেন ভুইয়া

একটি পপুলার মিডিয়া পাবলিকেশন এর প্রকাশনা | রেজি নং: চ-১২৪২৭/১৭

সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয় : ৪১৬/সি,খিলগাও ঢাকা ০২৪৩১৫০৪৮৮, ০১৮২৪২৪৫৫০৪, ০১৭৭৮৮৮৮৪৭২

চট্টগ্রাম কার্যালয় : ১৯/২০/২১ বি ৩য় তলা, হানিমুন টাওয়ার,পাহাড়তলী,চট্টগ্রাম।

ই-মেইল : newsekattor@gmail.com, editorekattor@gmail.com, কপিরাইট ©newsekattor.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত