শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৭

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে তীব্র সমালোচনা

ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে জেরুসালেমকে ঘোষণা দেওয়ার পর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি আর ইউরোপীয় ইউনিয়নও এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই স্বীকৃতি অসহযোগিতামূলক। তবে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি পাল্টা অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালে বলেছেন, জাতিসংঘ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি রক্ষা করার বদলে শান্তি নষ্টের চেষ্টা চালাচ্ছে। নিকি হ্যালে বলেন, বহুবছর ধরেই জাতিসংঘ ইসরায়েলের প্রতি অসংযতভাবে বৈষম্যমূলক আচরণ করে আসছে। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে যা কিনা ক্ষতি এনেছে। সুতরাং যুক্তরাষ্ট্র এর পক্ষে থাকতে পারে না। পুরো বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার তীব্র বিরোধিতা ও নিন্দা জানানোর দিনে যুক্তরাষ্ট্র এমন অবস্থান নিলো। ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে আবারো বিষয়টির মীমাংসায় দুই দেশের আলোচনার প্রতি জোর দেন। আর ফ্রান্সের প্রতিনিধি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন অবস্থান পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জন্যেই আরো ভয়ানক পরিণতি ডেকে আনবে। জরুরি বৈঠকে কার্যত যুক্তরাষ্ট্র সবার প্রতিপক্ষে পরিণত হয়। ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনে মদদ দেবার জন্যে যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করেন জাতিসংঘে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর। তিনি বলেন, এখানে খারাপ কাজের সহযোগিতাকে স্বীকার করতে হবে। অঞ্চলটিতে ইসরায়েলের দমন পীড়ন আর বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত আরো উস্কে দিয়েছে। এই স্বীকৃতির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তার শান্তির মধ্যস্থতাকারীর অবস্থান হারিয়েছে।...

বিশ্বব্যাপি বিক্ষোভ

প্যালেস্টাইন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দানের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। খবর মান নিউজ,এএফপি,বিবিসি,সিনহুয়ার। বুধবার ওয়াশিংটন সময় দুপুরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন আনুষ্ঠানিকভাবে। ট্রাম্পের এ পদক্ষেপকে ইসরায়েল স্বাগত জানালেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে ফিলিস্তিন, জর্ডান, তুরস্ক, ইরান, পাকিস্তানসহ মুসলিম বিশ্বে। হুঁশিয়ারি দিয়েছে ওআইসি, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি। ট্রাম্পের এ পদক্ষপকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মন্তব্য করেছে তুরস্ক। ট্রাম্পের এই ভুল সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটির সরকার। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন না করে বলেছেন, সে অঞ্চলে শান্তি আনয়নের পথে এটি কোনো উপকারী পদক্ষেপ হবে না। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস কড়া ভাষায় বলেছেন, শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এতদিন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ছিল। এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে তাদের সেই ভূমিকা বিতর্কিত হয়ে পড়েছে ফিলিস্তিনের ধর্মনিরপেক্ষ ও মুসলমানরা সবাই আজ বৃহস্পতিবার প্রতিবাদে দেশব্যাপি ধর্মঘট আহ্বান করেছে। জেরুজালেমের পুরো শহরের ওপর ইসরাইলের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেয় না বিশ্ব সম্প্রদায়। তারা মনে করেন, জেরুজালেমের মর্যাদা কি হবে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। তাই জেরুজালেমে এখন পর্যন্ত অন্য কোনো দেশ তাদের দূতাবাস স্থাপন করে নি। আন্তর্জাতিক মহল ফিলিস্তিন-ইসরাইলের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এমন অবস্থান নিয়েছে।ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ বহু আগে থেকেই পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী হিসেবে দাবি করে আসছে। ঠিক সেই সময় ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রাখতে এমন একটি আন্তর্জাতিক বিরোধপূর্ণ এলাকাকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিলেন।...

জেরুসালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি

ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ভাষণে জেরুসালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসে এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিরোধপূর্ণ জেরুসালেম শহরকে এই স্বীকৃতি দিয়েছেন। জেরুজালেম শহর মুসলিম, খ্রিষ্টান ও ইহুদি তিন ধর্মের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এখানে মুসলিমদের তিনটি প্রধান মসজিদের একটি আল-আকসা অবস্থিত। কাবাঘরের আগে এই আল-আকসা মসজিদের দিকে মুখ করেই মুসলমানরা নামাজ আদায় করতেন। এই সিদ্ধান্ত কয়েক দশকের আমেরিকান নীতিকে বদলে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও ঘোষণা করেছেন, যে আমেরিকান দূতাবাস তেলআবিব থেকে জেরুসালেমে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। তিনি বলেছেন, এই সিদ্ধান্তের মানে এই নয় যে আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার দৃঢ় অঙ্গীকার থেকে সরে আসছে। দীর্ঘ দিনের ইসরায়েল ফিলিস্তিনি সংঘাতের অবসান ঘটাতে আমেরিকা দুই রাষ্ট্র সমাধানকে সমর্থন জানাতে প্রস্তুত, যদি উভয় পক্ষ সেটাই চায়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাষণের আগে আমেরিকান কর্মকর্তারা বলেছিলেন, তিনি শুধু এই বাস্তবতাকে মেনে নিয়েছেন যে, জেরুসালেম ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে বেশি কার্যকর। যদিও ফিলিস্তিনিরা জেরুসালেমকে তাদেরও রাজধানী হিসাবে দাবি করে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাবার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ ছিল দীর্ঘ প্রতীক্ষিত। এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের একজন মুখপাত্র সাবধান করে দেন যে, এই সিদ্ধান্ত এলাকার জন্য বিপজ্জনক পরিণতি ডেকে আনবে। অন্যদিকে ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। কিন্তু এই ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় নিন্দা জানিয়ে প্যালেস্টাইনের নেতা মাহমুদ আব্বাস এটিকে দুঃখজনক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আর হামাস ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, এই সিদ্ধান্ত এতদ অঞ্চলে নরকের দ্বার খুলে দেবে। সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বলেছেন, এই ঘোষণা সারা পৃথিবীর মুসলিমদের ঘোরতরভাবে প্ররোচিত করবে। এই ঘোষণার প্রতিবাদে ইতোমধ্যেই গাজায় এবং তুরস্কের ইস্তাম্বুলে মার্কিন কনসুলেটের সামনে মিছিল হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বাঁকবদলকারী সিদ্ধান্তটিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ভীষণ উদ্বেগের মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেছেন। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন না করে বলেছেন, সে অঞ্চলে শান্তি আনয়নের পথে এটি কোনো উপকারী পদক্ষেপ হবে না। এছাড়া ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান কূটনীতিক ফেদেরিকা মোগেরিনি-ও বিষয়টিকে উদ্বেগের বলে মনে করছেন। সূত্র : বিবিসি।...

উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতার সর্বোচ্চ প্রদর্শন

কোন ভাবেই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ থেকে বিরত রাখা যাচ্ছে না উত্তর কোরিয়াকে। সম্প্রতি অধিক শক্তিশালী ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে দেশটি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতার সর্বোচ্চ প্রদর্শন এটি। এই ক্ষেপণাস্ত্র অতি বিপজ্জনক! জাপানকে লক্ষ্য করে প্রথম থেকেই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে উত্তর কোরিয়া। এই উক্ষেপণেও জাপানের মূল ভূখণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত। জাপানের প্রতিরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে সে আশঙ্কার কথা সরাসরি জানানো হয়েছে। উত্তর কোরিয়াকে সন্ত্রাসে মদত ও যুদ্ধবাজ দেশ বলার পরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে অধিক শক্তিশালী এই মিসাইল উৎক্ষেপণ করে দেশটি। কিম জং উনের ক্ষমতা যে ঠিক কতটা, তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি মার্কিন প্রেসিডেন্টের। ইতিমধ্যেই বিবৃতি দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতি কী করে সামলাতে হয় তা তার জানা আছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব জিম ম্যাটিসও জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়া যা করছে, তাতে সারা বিশ্বে অমঙ্গলের ছায়া নেমে আসছে। এদিকে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ব্যালেস্টিক মিসাইল উৎক্ষেপণ করেছিল উত্তর কোরিয়া। কিম জং উনের সে আস্ফালন ভালো চোখে নেয়নি বিশ্ববাসী। বিশ্ব জুড়ে শান্তি প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়ার এই কাজ যে রীতিমতো বিপজ্জনক, সে বিষয়ে একমত বিশ্ববাসী। সম্প্রতি পরীক্ষা চালানো উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৯৪০ কিলোমিটার দূরে জাপান সাগরে গিয়ে আঘাত হানে। ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ উচ্চতা ছিল ৪ হাাজর ৫০০ কিলোমিটার। উত্তর কোরিয়ার দাবি, আগের ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নত রূপ এটি। ১৩ হাজার ০০০ কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানতে পারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতেও। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কথাযুদ্ধের মধ্যেই এ নিয়ে চলতি বছর ২০টি ব্যলেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে উত্তর কোরিয়া। বরাবরের মতো এবারও কড়া নিন্দা করেছে আন্তর্জাতিক মহল। নিন্দা করেছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। এদিন উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার খবর প্রকাশ্যে আসতেই পর পর তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করে পাল্টা শক্তিপ্রদর্শন করে দক্ষিণ কোরিয়া।...

রিজাল ব্যাংককে পৃথিবী থেকে বিদায় করতে চাই :অর্থমন্ত্রী

ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংককে দুনিয়া থেকে বিদায় করতে চাই বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। শনিবার রাজধানীর শিশু একাডেমিতে জিওলজিক্যাল সোসাইটি আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে তিনি এ কথা বলেন। মুহিত বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির ঘটনায় ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের (আরসিবিসি) বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে আলোচনা চলছে। অর্থ চুরির পর থেকে ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংককে টাকা ফেরতের ব্যাপারে বলা হয়েছে। প্রথমে তারা আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে গড়িমসি শুরু করে। তাই এখন শক্ত পদক্ষেপ নেয়ার সময় এসেছে। রিজাল ব্যাংককে পৃথিবী থেকে বিদায় করতে চাই। এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চুরি যাওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে সব ধরনের আইনি সহায়তা দিচ্ছে ফিলিপাইন সরকার। একটি নির্দিষ্ট সময় পর যদি চুরি হওয়া অর্থ সম্পূর্ণ উদ্ধার না হয়, তবে আরসিবিসির বিরুদ্ধে মামলা হবে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে (নিউইয়র্ক ফেড) রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের হিসাব থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনের আরসিবিসির চারটি অ্যাকাউন্টে আর বাকি দুই কোটি ডলার যায় শ্রীলঙ্কায়। ব্যাংকটির মাধ্যমে স্থানীয় মুদ্রায় বদলে ফিলিপাইনের ক্যাসিনোতে (জুয়া খেলার জায়গা) চলে যায় বেশির ভাগ অর্থ। তবে হ্যাকারদের একটি বানান ভুলে দুই কোটি ডলার শ্রীলঙ্কায় পাঠানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে ফিলিপাইনের সিনেট শুনানির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক এক কোটি ৫২ লাখ ডলার ফেরত আনতে সক্ষম হয়।...

নবীপ্রেম ও সূফীবাদ বিমুখ হওয়ায় আজ মুসলমানরা নির্যাতিত

জাতীয় হিজরি নববর্ষ উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে পবিত্র ঈদ-এ মিলাদুন্নবী (ﷺ) উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজুল ইসলাম লেকচার থিয়েটার হলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সুরক্ষা ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় রাসূল (ﷺ) এর শিক্ষাঃ সমকালিন বিশ্বে বাস্তবতা শীর্ষক সেমিনার উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল হোসেন এর সভাপতিত্বে আয়োজন করা হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান আল্লামা প্রফেসর ড. আব্দুর রশীদ, প্রধান আলোচক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আল্লামা ড. শাহ কাউসার মোস্তফা আবুলউলায়ী, বিশেষ আলোচক ঢাকা কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া কামিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ আল্লামা মুফতি আবুল কাশেম মুহাম্মদ ফজলুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের খতীব আল্লামা ড. সৈয়দ এমদাদ উদ্দীন। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজধানীর মিরপুর ফকিরবাড়ী দরবার শরীফের পীর সাহেব আল্লামা ফকির মুসলেম উদ্দীন হানাফী কাদেরী উলুভী। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের লেকচারার আল্লামা এস.এম মাসুম বাকি বিল্লাহ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব জননেতা অধ্যাপক এম এ মোমেন, গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ঢাকা মহানগর সাধারণ সম্পাদক জননেতা আব্দুল হাকিম, বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনা কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক যুবনেতা অধ্যক্ষ আবু নাছের মুহাম্মদ মুসা, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ছাত্রনেতা এইচ এম শহীদুল্লাহ, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক ছাত্রনেতা আবুল কালাম আযাদ, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি ছাত্রনেতা সাখাওয়াত হোসাইন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শরীয়তপুর মাসুমিয়া দরবার শরীফের পীর সাহেব আল্লামা মুখতার রেজা মাসুমী ও এক্সপো গ্রুপের হেড অব কমপ্লায়েন্স জনাব আনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক ও জাতীয় হিজরি নববর্ষ উদযাপন পরিষদের সমন্বয়ক ছাত্রনেতা ইমরান হুসাইন তুষার। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মাওলানা আহমদ রেজা ও মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহ সিদ্দিকী। বক্তারা বলেন, আজ আমরা কোনো জায়গাই শান্তিতে নেই, যেখানে মুসলমান সেখানেই ইসলাম বিদ্বেষী সকল শক্তি এক হয়ে মুসলমানদের উপর নির্যাতন করছে দিবারাত। মুসলমানরা ছিল বীরের জাতি শাসন করার জাতি, আজ এ অবস্থার একটাই কারণ আমরা ও আমাদের পরিবার ইসলামের প্রকৃত ও মূল শিক্ষা নবীপ্রেম ও সূফীবাদ থেকে দূরে সরে গিয়েছি।নবীপ্রেম ও সূফীবাদ বিমুখ হওয়ায় আজ মুসলমানরা নির্যাতিত ,Press Release ...

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে আমাদেরকে দৃঢ় ইস্পাত ঐক্য গড়ে তুলতে হবে :আ.জ.ম. নাছির

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ যুবমহিলা লীগ চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা, মহিলা মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান গতকাল ১৩ ডিসেম্বর সংগঠনের আহবায়িকা অধ্যাপিকা সায়রা বানু রৌশনীর সভাপতিত্বে নগরীর মুসলিম ইন্সিটিউটে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র ও মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আ.জ.ম নাছির উদ্দীন। যুবমহিলালীগ চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ন আহবায়ক মমতাজ বেগম রুজির পরিচালনায় এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনি, ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছাবের হোসেন সওদাগর, মোহরা ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দীন, মহিলা কাউন্সিলর আবিদা আজাদ, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের সদস্য বেলাল আহমদ, জামালখান ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম চৌধুরী,সাবেক মহিলা কাউন্সিলর ও কেন্দ্রীয় যুবমহিলালীগের সদস্য রেহেনা বেগম রানু ছড়াকার আ.ফ.ম. মোদাচ্ছের আলী, চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগনেতা সুমন দেবনাথ, সংগীত শিল্প অশোক সেন, ডাঃ আর. কে. রুবেল, সৈয়দা শাহানা আরা বেগম, কবি সজল দাশ, সেলিম আকতার পিয়াল, আসিফ ইকবাল, জাহানারা বেগম, লিপি আকতার সহ আরো অনেকে। সংবর্ধনা প্রদান করা হয় মুক্তিযোদ্ধা সাবেক সরকারি কর্মকর্তা জাহানারা বেগম ও পুল্লুরাণী দাশকে। সভায় প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র আলহাজ্ব আ.জ.ম নাছির উদ্দীন বলেন মুক্তিযুদ্ধের শানিত চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে আমাদের কাজ করতে হবে ঐক্যবদ্ধভাবে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও দেশপ্রেমের শিক্ষা আমাদের প্রজন্মকে ছড়িয়ে দিতে হবে। তিনি আরো বলেন বর্তমানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের যে অভাবনীয় সাফল্য তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আগামী নির্বাচনে অবশ্যই নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করার জন্য এখন থেকে যুবমহিলালীগকে ঘরে ঘরে গিয়ে সরকারের সাফল্যের কথা তুলে ধরার আহবান জানান। তিনি আরো বলেন আজকের যুবমহিলালীগ চট্টগ্রামের বিজয় দিবসের যে ঝাকযমকপুর্ণ বিশাল আয়োজন তাতে সত্যিকার অর্থে আমি আনন্দিত। সভার শুরুতে বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্ভোধন করেন প্রধান অতিথি আ.জ.ম নাছির উদ্দীন। উদ্ভোধনশেষে প্রধান অতিথিসহহ সকলে সমবেতকন্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন।Press Release ...

বিজয় র;্যালীকে সর্ববৃহৎ, বর্নাঢ্য ও দৃষ্টিনন্দন করতে হবে

১৬ ডিসেম্বর বিজয় র;্যালীকে সফল করার জন্য আজ ১৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বিভিন্ন বাহিনী ও সরকারী সংস্থা সমূহের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তাগণ বলেন, বিজয় দিবস বাঙালি জাতীয় জীবনের একটি অনন্য সাধারণ শ্রেষ্ঠ দিন। এই দিনটিকে উদযাপনে সকল প্রকার কার্পন্যতা পরিহার করে সর্ব্বোচ্চ ক্ষমতা দিয়ে আমাদের সকল আয়োজনকে সফল করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার পরিষদের বিজয় র;্যালী দীর্ঘদিন থেকে সমহিমায় সমাদ্রিত। নবপ্রজন্মকে বিজয় র;্যালীর মধ্য দিয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করা আমাদের দায়িত্ব, নচেৎ ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না। বক্তাগণ বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের মধ্য দিয়ে এই জাতি যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল। এই ভাষণ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কয়েকটি ভাষণের মধ্য অনন্য সাধারণ। একজন সেনানায়ক হিসেবে যুদ্ধে বিজয় অর্জনের জন্য যত প্রকার নির্দেশনা থাকা প্রয়োজন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুুর রহমান ৭ মার্চের সেই ঐতিহাসিক ভাষণে তা দিয়েছিলেন। পৃথিবীর কোন সেনানায়ক যুদ্ধক্ষেত্রে বা যুদ্ধের পূর্বে এই জাতীয় দিকনির্দেশনা মূলক বা চূড়াত নির্দেশনা দিয়েছেন এমন দৃষ্টাত খুজে পাওয়া যাবে না। এই ভাষণকে নিয়েও অনেক ষড়যন্ত্র, চক্রাত হয়েছিল। আনন্দের বিষয় যে, দীর্ঘদিন পরে হলেও আজ সঠিক ইতিহাস বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত পেয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ আতর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। এই স্বীকৃতির দাবিদার সমগ্র বাঙালি জাতির। সভায় আগামী ১৬ ডিসেম্বর সকাল ৯টায় শিখা প্রজ্জ্বলনের পাদদেশ থেকে সর্ববৃহৎ বিজয় র;্যালী করার নীতিগত সিদ্ধাত গৃহিত হয়। প্রতিটি ইউনিফর্মধারী সংস্থার পক্ষ থেকে বাদক দলসহ নিরস্ত্রভাবে র;্যালীতে অংশগ্রহণ করবেন। সরকারী সংস্থা সমূহ তাদের উন্নয়ন কর্মকান্ড সংবলিত প্লে-কার্ড ও ট্রাক সাজিয়ে জনবল সহ অংশগ্রহন করবেন। বিজয় র;্যালীতে অগ্রভাগে বাহিনী সমূহ থাকবে, বাদক দল নিয়ে এগিয়ে যাবেন তাদের পেছনে চট্টগ্রামের মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের সকল রাজনৈতিক দল, ছাত্র-যুব, স্বেচ্ছাসেবক, শ্রমিক, মহিলা, সংগঠন এবং পেশাজীবি, সামাজিক সংগঠন সহ অন্যান্যরা যোগ দিবেন। বিজয় র;্যালীতে সাইকেল, মোটর সাইকেল, স্কুটি, টমটম, ঘোড়ার গাড়ী, ব্যক্তিগত ঘোড়াসহ বিভিন্ন রং-ঢং এ সেজে অংশগ্রহণ করার জন্য চট্টগ্রামবাসীর প্রতি আহবান জানানো হয়। সভায় মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার র;্যালী পরিষদের আহবায়ক এডভোকেট শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন উপ পুলিশ কমিশনার এস.এম. মোস্তাইন হোসেন। উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের কো-চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব বদিউল আলম, মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইউনুছ, মহাসচিব (অর্থ) বীর মুক্তিযোদ্ধা পান্টু লাল সাহা, বিজয় মেলা ক্রীড়া উপ-পরিষদের উপদেষ্টা চন্দন ধর, বিজয় র;্যালী পরিষদের সদস্য সচিব অধ্যাপক মাহাবুবুল ইসলাম, মোহাম্মদ ওসমান গণি। এছাড়া সরকারী ও বেসরকারী সংস্থার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিস্কৃতি চাকমা, আর্মড ব্যাটালিয়নের আব্দুল ওহাব, রেলওয়ে পুলিশের মোহাম্মদ হোসেন সরকার, সিএসবির মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর মোহাম্মদ হাসান ইমাম, ১২ ব্যাটালিয়ন আনসারের আশরাফ হোসেন সিদ্দিক, র;্যাব-৭ চট্টগ্রামের লে.কমান্ডার আশেকুর রহমান, শিল্প পুলিশের মোহাম্মদ আবুল হাশেম, পি.বি.আই এর জাহিদ হোসেন, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের ইকবাল সাব্বির চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা আনসারর মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, রেলওয়ের মোহাম্মদ আশাবুল ইসলাম, আর.আর.এফ এর মোহাম্মদ কাজী হুমায়ুন রশীদ, বিটিএসএল এর একেএম বজলুর রশিদ, ওয়াসার নুর মোহাম্মদ আবুল বাশার, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মোহাম্মদ ওমর ফারুক, আয়কর প্রশাসনের মোহাম্মদ নেফাউল ইসলাম সরকার, কর্ণফুলী গ্যাস ডিষ্ট্রিবিউশনের মোহাম্মদ নুরুল আবছার সিকদার প্রমুখ।Press Release ...

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশে-ডা. শাহাদাত , নিজেদের ভাগ্যের উন্নয়ন ছাড়া সর্ব

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নিজেদের ভাগ্যের উন্নয়ন ছাড়া সর্বক্ষেত্রে জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে আওয়ামী লীগ। ব্যর্থতার এই চুলকানি রোধ করার জন্য একের পর এক জনগণের স্বার্থ পরিপন্থি পদক্ষেপ গ্রহণ করে ক্ষমতায় আসার পূর্বে দেওয়া ওয়াদাকে ভঙ্গ করে সমস্ত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ভেঙ্গে স্বৈরতন্ত্রের নবতর ঘৃণিত ইতিহাস সংযোজন করেছে। ডা. শাহাদাত বলেন, শেখ হাসিনা দেশে কোন ঘাটতি নেই-সর্বদিকে সমৃদ্ধি আছে বলে প্রচার করে যে মিথ্যাচার করছে, প্রকৃতপক্ষে দ্রব্যমূল্যের চরম মূল্য বৃদ্ধির যে আগুন বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সমস্ত দ্রব্যাদি দাম মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে এমন উচুতে অবস্থান করছে সেই আগুন রাজপথে বাস্তবায়িত হলে আওয়ামীলীগের পতন ঠেকাতে পারবে না। জনগণের ব্যালেট-এর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আওয়ামীলীগ এর সবচেয়ে ভীতির জায়গা। এই অবৈধভাবে জনগণের ভোটাধিকারের প্রয়োগকে হত্যা করে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার চেষ্ঠা করছে। দীর্ঘায়িত ক্ষমতার এই অগণতান্ত্রিক নজির আওয়ামীলীগের ইতিহাসগত নোংরা রাজনীতির ধারাবাহিকতা। তিনি অদ্য ১৩ ডিসেম্বর, বুধবার বিকালে দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবনে কেন্দ্র ঘোষিত বিদ্যুৎ গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন। বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করে অবৈধ সরকার দেশব্যাপী নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থ অবৈধ ফ্যাসিষ্ট সরকার জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি অব্যাহত রাখার পদক্ষেপের অংশ হিসেবে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করছে। এর মাধ্যমে দ্রব্যমূল্যসহ মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাত্রা ব্যাহত করে জনজীবনকে আরেক ধাপ বিপর্যস্ত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেেছ। দেশের মানুষ এমনিতে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্যের উর্দ্ধগতিতে দিশেহারা। যেখানে জনগণের দুঃখ লাগব করার লক্ষে বিদ্যুতের মূল্য হ্রাস করার কথা সেখানে আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। এতে বুঝা যায় এদেশে জনগনের কোন সরকার নাই। দেশে লুটেরা সরকারের শাসন চলছে। তিনি বলেন, দেশের জনগণ গণধিকৃত ও অবৈধ সরকারের এ গণবিরোধী সিদ্ধান্ত কিছুতেই মেনে নিবে না। বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক ও জণস্বার্থ বিরোধী। বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকার জনজীবনে দুর্ভোগ ডেকে আনবে। তিনি সরকারকে গণবিরোধী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার দাবি জানান। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান বলেছেন, চট্টগ্রাম শহরে বেহাল রাস্তাঘাট দিয়ে সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুকি নিয়ে চলাফেরা করছে। চট্টগ্রাম এখন অপরিচ্ছন্ন জলাবদ্ধ ও যানজটের নগরীতে পরিনত হয়েছে। দেশে গণতান্ত্রিক সরকার না থাকার করণে চট্টগ্রামে এই বেহাল দশা। দেশের বেশীর ভাগ রাজস্ব চট্টগ্রাম থেকে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয়। এরপরও চট্টগ্রামের উন্নয়ন হয় না। জনবিচ্ছিন্ন এই সরকার জনগনের পাশে নেই। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি আলহাজ্ব এম এ আজিজ, হাজী মোহাম্মদ আলী, সবুক্তগীন ছিদ্দিকী মক্কি, হারুন জামান, অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, যুগ্ম সম্পাদক কাজী বেলাল উদ্দিন, ইস্কান্দর মির্জা, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, আনোয়ার হোসেন লিপু, টিংকু দাশ, গাজী মোঃ সিরাজ উল্লাহ, শেখ নুরুল্লাহ বাহার, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম, নগর মহিলাদলের সভানেত্রী কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম মনি, সাধারণ সম্পাদক জেলি চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক ডা. মোঃ ছাদেক, সহ-সম্পাদক আবু জহুর, সম্পাদকবৃন্দ শিহাব উদ্দিন মুবিন, মোহাম্মদ আলী মিঠু, এম.আই. চৌধুরী মামুন, হামিদ হোসেন, ডা. এস.এম. সরওয়ার আলম, আব্দুন নবী প্রিন্স, জিয়াউদ্দিন খালেদ চৌধুরী, আব্দুল বাতেন, থানার সভাপতি মঞ্জুর রহমান চৌধুরী, মামুনুল ইসলাম হুমায়ুন, কাউন্সিলর মোঃ আজম, সহ-সম্পাদক এ.কে.এম. পেয়ারু, রফিকুল ইসলাম, মোঃ ইদ্রিস আলী, মোঃ শাহজাহান, আজাদ বাঙ্গালী, আরিফ মেহেদী, আবু মুছা, শফিক আহমেদ, মোঃ হাশেম সওদাগর, আবদুল মতিন, ফয়েজ আহমদ, আবুল খায়ের মেম্বার, আলী আজম, থানার সাধারণ সম্পাদক আফতাবুর রহমান শাহীন, আলহাজ্ব জাকির হোসেন, নগর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন চৌধুরী, জিয়াউর রহমান জিয়া, যুগ্ম সম্পাদক জমির উদ্দিন নাহিদ, নগর জাসাসের সাধারণ সম্পাদক মামনুর রশিদ শিপন, ওয়ার্ড সভাপতি মোঃ হানিফ সওদাগর, এস.এম. মফিজ উল্লাহ, মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু, কাজী সামশুল আলম, আলাউদ্দিন আলী নুর, আব্দুল্লাহ আল ছগির, জমির আহমেদ, খন্দকার নুরুল ইসলাম, ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক এম.এ. হালিম বাবলু, হাবিবুর রহমান চৌধুরী, সৈয়দ আবুল বশর, জাহেদুল্লাহ রাশেদ, ফয়েজ আহমদ, হাজী মোঃ এমরান, হাসান ওসমান প্রমুখ। Press Release ...

প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোট দেয়ার সুযোগ থাকবে:অর্থন্ত্রী

বুধবার সকালে, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আরো কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার উপায় নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে অর্থন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত জানান, উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ ও মালয়েশিয়ায় ভোট কেন্দ্র করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী নির্বাচনে সৌদি আরব, মালয়েশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশের প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোট দেয়ার সুযোগ থাকবে। আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোট প্রদানের সুযোগ দিতে সরকার বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে। যেসব এলাকা বা দেশে বেশি সংখ্যক প্রবাসী আছে, সেখানে বিশেষ সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে তাদের ভোট প্রদানের বিষয়ে সরকার ভাবছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী বাজেট হয়তো বা আমার শেষ বাজেট। এ বাজেটে সরকার প্রবাসীদের বিনিয়োগে আগ্রহী করতে তাদের প্রণোদনার মেয়াদ আরো এক বছর বাড়ানোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থে আমার দেশের অর্থনীতির চাকা চাঙা। তাই তাদেরকে যেন আমরা কখনো লেবার না বলি। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব কাজী শফিকুল আজমের সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যদের মধ্যে ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট সেক্রেটারি ড. নমিতা হালদার, ইউএনডিপি বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুদীপ্ত মুখার্জী, ইউএনের সাবেক কর্মকর্তা ড. একে আব্দুল মোমিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।...

দেশে আরও ব্যাংকের প্রয়োজন :অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ব্যাংকের সংখ্যা আরও বাড়লে কোনো সমস্যা নেই। কারণ দেশের সব জনগণকে ব্যাংকিং সেবার আত্ততায় আনতে হলে আরও ব্যাংকের প্রয়োজন রয়েছে। মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, হ্যাঁ আরও তিনটি ব্যাংকের অনুমোদন দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। কারণ দেশে আরও ব্যাংকের প্রয়োজন। মুহিত বলেন, ব্যাংকগুলোকে একীভূত করার বিধিবিধান রয়েছে। সেটাকে যুগোপযোগী করা হচ্ছে। যেসব ব্যাংক একীভূত হতে চায়, নিয়মানুযায়ী তারা একীভূত হতে পারবে। একটি বিশেষ শিল্পগোষ্ঠী কয়েকটি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরেও রয়েছে। একটি পার্টি মার্কেট থেকে বড় অংকের লোন নিয়ে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।...

পরীক্ষায় অতিরিক্ত ফি নেয়াকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট

এসএসসি, এইচএসসি এবং সমমানের পরীক্ষায় অতিরিক্ত ফি নেয়াকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে বর্ধিত ফি ফেরত না দিলে প্রতিষ্ঠানগুলোর গভর্নিং বডির কার্যক্রম স্থগিত করা হবে বলে আদেশ দিয়েছেন। বুধবার বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। গত ২৮ নভেম্বর এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণ বাবদ সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত ফি আদায় কেন বেআইনি হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। রুলে শিক্ষা সচিব, সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক, শিক্ষা অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট নয়জনকে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার গাজীপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ, পরিচালক পর্ষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ফি আদায়ের জন্য কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তা ৪ জানুয়ারির মধ্যে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে জানাতে বলা হয়েছিল। গত ২৩ নভেম্বর হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার গাজীপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মো. জালাল উদ্দিন খান এ রিটটি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জহির উদ্দিন লিমন।...

জেএসসি-জেডিসির পরীক্ষার ফল প্রকাশ হবে ৩০ ডিসেম্বর

চলতি বছর জেএসসি-জেডিসিতে অংশগ্রহণকারী ২৪ লাখ ৬৮ হাজার ৮২০ জন শিক্ষার্থীর অপেক্ষার অবসান ঘটছে আগামী ৩০ ডিসেম্বর। মঙ্গলবার শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ওই দিন এই দুটি পাবলিক পরীক্ষার ফল একযোগে প্রকাশ হবে। রেওয়াজ অনুযায়ী, বোর্ড চেয়ারম্যানদের সঙ্গে নিয়ে ৩০ ডিসেম্বর সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার ফলাফলের অনুলিপি তুলে দেবেন শিক্ষামন্ত্রী। পরে সচিবালয়ের সংবাদ সম্মেলন করে ফলাফলের বিস্তারিত জানানো হবে। শিক্ষামন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের পর থেকে শিক্ষার্থীরা ফল জানতে পারবে। ৩০ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী ২০১৮ সালের বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কর্মসূচিও উদ্বোধন করবেন বলে জানান নাহিদ। এদিকে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। গণশিক্ষা মন্ত্রণায়ের সচিব মোহাম্মদ আসিফ-উজ-জামান মঙ্গলবার বলেন, ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ফল প্রকাশ করতে চান তারা।...

১৯৫ রানেই অলআউট ইংল্যান্ড

১৭ বল আর ১০ রানে শেষ ৪ উইকেট হারিয়ে ব্রিসবেন টেস্টে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৯৫ রানেই অলআউট হয়েছে ইংল্যান্ড। অ্যাশেজের প্রথম টেস্ট জিততে অস্ট্রেলিয়াকে করতে হবে ১৭০ রান। তৃতীয় দিনের ২ উইকেটে ৩৩ রান নিয়ে আজ চতুর্থ দিন শুরু করেছিল ইংল্যান্ড। মার্ক স্টোনম্যানকে (২৭) ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে দিনের প্রথম সাফল্য এনে দেন স্পিনার নাথান লায়ন। ওই লায়নের বলেই দ্রুত ফেরেন ডেভিড মালানও (৪)। দুজনই ক্যাচ দেন স্টিভ স্মিথকে। ২ উইকেটে ৬২ থেকে ইংল্যান্ডের স্কোর তখন ৪ উইকেটে ৭৪! ৫ রান নিয়ে দিন শুরু করা জো রুট তুলে নিয়েছিলেন ফিফটি। কিন্তু এরপর আর ইনিংস বড় করতে পারেননি ইংলিশ অধিনায়ক। ৫১ রান করা রুটকে এলবিডব্লিউ করেন পেসার জশ হ্যাজেলউড। ষষ্ঠ উইকেটে ৪২ রানের জুটি গড়েছিলেন মঈন আলী ও জনি বেয়ারস্টো। লায়নের বলে টিম পাইনের হাতে মঈন (৪০) স্টাম্পড হয়ে গেলে ভাঙে এ জুটি। সপ্তম উইকেটে ক্রিস ওকসকে সঙ্গে নিয়ে ৩০ রানের জুটি গড়েন বেয়ারস্টো। কিন্তু এ জুটি ভাঙার পর ইংল্যান্ডের লেজ গুটিয়ে যেতে খুব একটা সময় লাগেনি। মিচেল স্টার্ক একই ওভারে ফিরিয়ে দেন বেয়ারস্টো (৪২) ও স্টুয়ার্ট ব্রডকে। পরের ওভারে জেক বলকে ফিরিয়ে সফরকারীদের ইনিংসের ইতি টানেন প্যাট কামিন্স। এর আগে ওকসকে (১৭) ফেরান স্টার্ক। চা বিরতির পর লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেছে অস্ট্রেলিয়া। এর আগে প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডের ৩০২ রানের জবাবে স্মিথের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়া করেছিল ৩২৮।...

প্রিয়াংকা আবারো সেরা

এক বছর ভাটা পড়েছিল প্রিয়াংকার। কারণ দীপিকা পাড়কোন সেরা আবেদনময়ী নারীর আসনে বসেছিলেন। তবে এর আগে চারবার অর্জন করা আসনটি এবার আর হাতছাড়া করেননি প্রিয়াংকা। পঞ্চমবারের মতো সেটি দখল করে নিয়েছেন। এশিয়ার ৫০ জন সেরা আবেদনময়ী নারীর তালিকা প্রকাশ করেছে লন্ডন-ভিত্তিক সাপ্তাহিক পত্রিকা ইস্টার্ন আই। সেই তালিকায় সবার উপরে রয়েছে প্রিয়াংকা চোপড়ার নাম। দ্বিতীয় হয়েছেন ভারতীয় টেলিভিশন তারকা নিয়া শর্মা। আর তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন গতবারের প্রথম দীপিকা পাড়ুকোন। এমন বিজয়ের খবরে প্রিয়াংকা তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, আসলে বিজয়ের এই কৃতিত্ব আমি নিতে চাই না। এর সমস্ত কৃতিত্ব আমার শারীরিক গঠন এবং আপনাদের দৃষ্টিভঙ্গির। আমি কৃতজ্ঞ, সম্মানিত। কেননা, ধারাবাহিক সাফল্য থেকে প্রেরণা পাওয়া যায়।...

শিল্পী শাহীন সামাদ ও তপন মাহমুদকে সম্মাননা দিল মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সংগঠন

বাংলা বেতারকেন্দ্রের শিল্পী শাহীন সামাদ ও তপন মাহমুদকে সম্মাননা দিল মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সংগঠন মুক্ত আসর ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে বলছি শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক প্রধান অতিথি হিসেবে শাহীন সামাদ ও তপন মাহমুদকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন এবং উত্তরীয় পরিয়ে দেন। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে গতকাল সোমবার ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মিলনায়তনের ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ও কলাকুশলীদের অবদান সমরাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের মতোই। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্র হাতে মাঠে ময়দানে যুদ্ধ করেছি। আর স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীরা কণ্ঠ দিয়ে আমাদের অনুপ্রেরণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছেন। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীরা সেদিন কণ্ঠ দিয়ে যুদ্ধ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পথকে ত্বরান্বিত করেছেন। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি ছিল না উল্লেখ করে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁদের স্বীকৃতির ব্যবস্থা করেছি। শুধু তা-ই নয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় যাঁরা অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেননি, কিন্তু বিভিন্নভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন, সেবা করেছেন এবং সর্বোপরি মুক্তিযুদ্ধে অবদান রেখেছেন, সবাইকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমার জীবনে অহংকার করার মতো দুটি ঘটনা রয়েছে। একটি ১৯৭১ সালে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করা এবং অপর হচ্ছে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া। মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং এর মধ্য দিয়ে অর্জিত লাল-সবুজের পতাকা ও বাংলাদেশকে চিনতে ও জানতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান আ ক ম মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অবদানের কথা তৃণমূল পর্যায়ে সর্বসাধারণের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। এ জন্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের সম্মাননা প্রদানে এমন অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য মুক্ত আসর ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিকে ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী। অনুষ্ঠানে অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে শিল্পী শাহীন সামাদ বলেন, একটা দেশের জন্মের লড়াইয়ের সঙ্গে নিজের কণ্ঠ দিয়ে যুক্ত থাকতে পেরেছিলাম বলে নিজেকে সৌভাগ্যবতী মনে করি। এখনকার তরুণ প্রজন্মও নিজেদের সেই সৌভাগ্যের অংশীদার করতে পারবে, যদি তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে দেশ গড়ার কাজে অংশ নিতে পারে। অনুষ্ঠানে শাহীন সামাদ খালি কণ্ঠে জনতার সংগ্রাম চলবেই গানটি গেয়ে শোনান। শিল্পী তপন মাহমুদ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, তোমরা একটা স্বাধীন দেশ পেয়েছে। এই দেশকে শোষণ-বঞ্চনা ও সাম্প্রদায়িকতামুক্তভাবে গড়ে তুলতে হলে ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। আশা করি, লাখো প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা তোমরা নস্যাৎ হতে দেবে না। অনুষ্ঠানে তপন মাহমুদ যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে গানটি গেয়ে শোনান। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ইউসুফ মাহবুবুল ইসলামের সভাপতিত্বে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ছিলেন একই ইউনিভার্সিটির কোষাধ্যক্ষ হামিদুল হক খান, মুক্ত আসরের উপদেষ্টা রাশেদুর রহমান তারা, মুক্ত আসরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবু সাঈদ প্রমুখ। পরে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি কালচারাল ক্লাবের সদস্যদের অংশগ্রহণে মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন নাফিজা মৌ ও আশফাকুজ্জামান।...

সেন্টমার্টিনে আটকা পড়েছেন সাত শতাধিক পর্যটক

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজারের সেন্টমার্টিনে বেড়াতে গিয়ে আটকা পড়েছেন সাত শতাধিক পর্যটক। এ ছাড়া ভ্রমণে আসা প্রায় তিন হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিনে যেতে পারেননি। বঙ্গোপসাগর নিম্নচাপের প্রভাবে বৈরী আবহাওয়ায় উপকূলে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি থাকায় শনিবার সকালে টেকনাফ থেকে কোনো জাহাজ সেন্টমার্টিন যায়নি। ফলে পর্যটকরা ফিরতে পারছেন না। তবে আটকাপড়া পর্যটকরা নিরাপদে আছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। আটকে পড়া এই পর্যটকরা শুক্রবার সকালে সেন্টমার্টিন ভ্রমণে গিয়েছিলেন। কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী আবহাওয়াবিদ উজ্জ্বল কান্তি পাল বলেন, নিম্নচাপটি আরও উত্তর-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপ আকারে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালার সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাগর ও নাফ নদীতে মাছ শিকার ও পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। সেনমার্টিনে আটকে পড়া ঢাকার পেট্রোবাংলার ব্যবস্থাপক (সাধারণ) জিয়াউর করিম মুঠোফোনে বলেন, শুক্রবার সকালে ১৭ জন বন্ধু মিলে সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভ্রমণে আসি। শনিবার সকালে জানতে পারি বৈরী আবহাওয়ার কারণে টেকনাফ থেকে কোনো জাহাজ সেন্টমার্টিন যাচ্ছে না। ফলে দ্বীপে আটকা পড়েছি সবাই। আমাদের মতো দ্বীপে আরও শত শত পর্যটক আটকা পড়েছে। পর্যটকবাহী জাহাজ কেয়ারি সিন্দাবাদের ব্যবস্থাপক মো. শাহ আলম বলেন, সাগর উত্তাল ও বৈরী আবহাওয়ার জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে ভ্রমণে আসা প্রায় সাত শতাধিক পর্যটক দ্বীপে আটকা পড়েছেন। তারা বিভিন্ন হোটেল-মোটেলে নিরাপদে আছেন। সাগর স্বাভাবিক হয়ে গেলে সেন্টমার্টিনে আটকে পড়া পর্যটকদের ফিরিয়ে আনা হবে। শনিবার দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে প্রায় পাচঁ শতাধিক পর্যটক সেন্টমার্টিন যেতে পারেননি উল্লেখ করে শাহ আলম জানান, এতে যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরত দিতে হয়েছে। সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদ জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হওয়ায় শনিবার সকাল থেকে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সেন্টমার্টিনে হাজার খানেক পর্যটক আটকা পড়ে। এর মধ্যে শনিবার সকালেই ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে করে প্রায় তিনশ পর্যটক টেকনাফ ফিরে গেছেন। এরপরও দ্বীপে সাত শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। তাদের যাতে খাবারসহ কোনো ধরনের অসুবিধা না হয়, সে ব্যাপারে খেয়াল রাখা হচ্ছে। টেকনাফ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ আশরাফুজ্জামান বলেন, সেন্টমার্টিনে আটকেপড়া পর্যটকরা যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় তারা টেকনাফ ফিরতে পারেনি। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেন্টমার্টিনে আটকেপড়া পর্যটকদের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। তারা সবাই নিরাপদে আছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাদের ফিরিয়ে আনা হবে।...

জীর্নদশায় দাঁড়িয়ে আছে নওগাঁর জেলার প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী দুবলহাটি রাজবাড়ী

রাজা নেই, রাজত্বও নেই, ২শত বছরের স্মৃতি নিয়ে রক্ষণাবেক্ষনের অভাবে জীর্নদশায় দাঁড়িয়ে আছে নওগাঁর জেলার প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী দুবলহাটি রাজবাড়ী। নওগাঁ জেলা সদর হতে ৬ কিমি দুরে অবস্থিত প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী দুবলহাটি রাজবাড়ীটি দীর্ঘ দিন পর্যটকদের আকর্ষনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। কতিথ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস থেকে জানা যায়, দুবলহাটি রাজবাড়ী ও রাজত্ব স্থাপিত হবার পুর্বে সেখানে রঘুনাথনামের এক ব্যাক্তি দীঘলি বিলের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত বর্তমানে অস্থিত্বহীন খয়রা নদী দিয়ে যাতায়যাত করে লবণ ও গুড়ের ব্যবসা করতেন। একদিন তিনি নদীতে নৌকা নোঙ্গর করলে স্বপ্নে দেখেন কে যেন তাকে বলছে তুই যেখানে নৌকা বেধেছিস সেখানে রাজেশ্বরী দেবীর প্রতিমা আছে, তুই সেখান থেকে তুলে স্থাপন কর। রঘুনাথ ভোরে নদীতে নেমে রাজেশ্বরী দেবীর প্রতিমা পেয়ে মাটির বেদী তৈরী করে প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর তার ব্যবসার ব্যাপক উন্নতি হলে তার বিত্ত বৈভবের সংবাদ পৌছে যায় মোঘল দরবারে। মুশিদাবাদ মোঘল দরবার রঘুনাথের কাছ থেকে প্রতি বছর ২২ শত কৈ মাছ রাজস্ব নিয়ে তাকে জমিদারি প্রদান করেন। হরনাথ রায় চৌধুরী প্রথম রাজা খেতাব পেয়ে ছিলেন। রাজা হরনাথ রায় চৌধূরী ও তার পুত্র রাজা কিঙ্করী রায় চৌধুরী রাজত্ব আমলে ব্যাপক উন্নতি সাধিত রাজ বংশের। তখন তাদের বার্ষিক আয় ছিল সাড়ে চার লাখ টাকা। সে সময় ৫ একর এলাকা জুড়ে নির্মিত বিশাল রাজ প্রাসাদে ৩ তলা, ৪ তলা ভবনের সাড়ে ৩ শত ঘর ও ৭ টি আঙ্গিনা ছিল। প্রাসাদে ১ টি গোল্ডেন সিলভার ও ১টি আইভরির তৈরি সিংহাসন ছিল। ব্রিটিশরা উক্ত সিংহাসন দুটি নিয়ে যায় বলে যায়। প্রাসাদের ভিতরে মঞ্চ ছিল, নাটক ও যাত্রাপালা মঞ্চাঅনের জন্য । প্রসাদের বাইরে ছিল বিশাল দীঘি, মন্দির, দাতব্য চিকিৎসালয়, ১৬ চাকার রথসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ১৮৬৪ সালে রাজ পরিবারের উদ্যোগে স্থাপিত স্কুলটি বর্তমানে রাজা হরনাথ উচ্চ বিদ্যালয় নামে পরিচালিত হচ্ছে। রাজ প্রাসাদের সামনের রোমান নকশার বড় বড় পিলারগুলো দেখলেই নওগাঁ, সিলেট, দিনাজপুর , পাবনা, বগুড়া, রংপূর, ভারতের কিছু অংশে রাজত্ব করা রাজা হরনাথ রায় চৌধুরীর রুচির পরিচয় পাওয়া যায়। রাজা হরনাথ রায় চৌধুরীর প্রজা নির্যাতনের অনেক করুন কাহিনী এখনো এলাকার সাধারন মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত রয়েছে। পাশাপাশি রাজা হরনাথ রায় চৌধুরীর জনহিতকর ও শামাজিক কিছু কাজের কথাও এলাকায় প্রচলিত আছে। দুবলহাটি রাজবাড়ীটি ঐতিহ্যবাহী হলেও প্রততত্ত্ব বিভাগ রাজবাড়ীটির সামনে একটি সাইন বোর্ড টানানো ছাড়া আর কোন দায়িত্ব পালন করছেনা। যার কারনে প্রততত্ত্ব বিভাগের সম্পদ রাজবাড়ীটির লোহার বিম, দরজা-জানালা এলাকার দুর্বৃত্তরা আগেই খুলে নিয়ে গেছে। এখন দেয়ালের ইট খুলে নিয়ে যাচ্ছে কিছু এলাকাবাসী। এলাকার সচেতন মহল মনে করেন সরকার সু-দৃষ্টি দিয়ে রাজবাড়ীটি রক্ষনাবেক্ষন করলে এটিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। সাপাহার (নওগাঁ) থেকে হাফিজুল হক :Press Release ...

যে কোনো জাতির শক্তির প্রধান উৎস ঐক্য

মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী : মহান বিজয় দিবস। এ দিনটি জাতির জন্য পরম গৌরবের। ১৯৭১ সালের এই দিনে নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ শেষে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) আত্মসমর্পণ করেছিল পাক হানাদার বাহিনী। চূড়ান্ত বিজয়ের মধ্য দিয়ে অভ্যুদয় ঘটে বাঙালির স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশের। বিজয়ের অনুভূতি সবসময়ই আনন্দের। তবে একই সঙ্গে দিনটি বেদনারও। অগণিত মানুষের আত্মত্যাগের ফসল আমাদের স্বাধীনতা। আমরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের; যেসব নারী ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, তাদের। এদিনে আমরা স্মরণ করব ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধিকার আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদেরও। এদেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার তথা স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সফল নেতৃত্ব দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কোটি কোটি মানুষকে তিনি স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে তুলেছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন একই লক্ষ্যে অবিচল একদল রাজনৈতিক নেতা। স্বাতন্ত্র্যমণ্ডিত সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমেও আমাদের জাতীয়তাবোধকে শাণিত করে তোলা হয়েছিল। একটি চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের মাধ্যমে এ জাতিকে স্তব্ধ করে দেয়া ছিল অসম্ভব। জনবহুল ও সীমিত সম্পদের এ দেশকে স্বয়ম্ভর করে তোলার কাজও সহজ ছিল না। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের কঠিন দিনগুলোয় রাষ্ট্রের প্রশাসনযন্ত্র চালু করতে হয়েছিল। স্বাধীন দেশের উপযোগী একটি সংবিধানও প্রণয়ন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজন ছিল গণতান্ত্রিক ও মুক্ত পরিবেশে নিরবচ্ছিন্ন যাত্রার। সদ্যস্বাধীন দেশের নেতৃত্বের এ বিষয়ে অঙ্গীকারের অভাব ছিল না। দুর্ভাগ্যজনক যে, পরে এক্ষেত্রে মারাত্মক বিচ্যুতি ঘটে এবং তার খেসারত দিতে হয় জাতিকে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়লেও দারিদ্র্য এখনও প্রকট। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পেলেও সুশাসন যেন সোনার হরিণ। সাংবিধানিক সংস্থা শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা এখানে আজও দুর্বল। অব্যাহত সংস্কারের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে সর্বস্তরে পৌঁছে দেয়ার ব্যাপারে অঙ্গীকারের অভাব পীড়াদায়ক। রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর বিভক্তি; এর পাশাপাশি জাতীয় প্রশ্নে অনৈক্য আমাদের এগিয়ে যাওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে। দেশে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এখনও তৎপর। অর্থনৈতিকভাবেও আমাদের আরও এগিয়ে যেতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত মূল্যবোধ রক্ষায় হতে হবে যত্নবান। তবেই বিজয় হয়ে উঠবে অর্থবহ। যে কোনো জাতির শক্তির প্রধান উৎস ঐক্য। প্রায় সব ক্ষেত্রেই অগ্রগতির জন্য প্রয়োজন এটি। মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বিজয়ের পেছনে কাজ করেছিল মত-পথ-জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবার এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ। এজন্যই সম্ভব হয়েছিল আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত শক্তিশালী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে মাত্র নয় মাসে পরাজিত করা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে স্বাধীনতার পর আমরা সে ঐক্য ধরে রাখতে পারিনি। গুরুত্বহীন বিষয়েও রাজনৈতিক বিভক্তি দেশে গণতন্ত্রের ভিত সুদৃঢ় করার পথে বড় অন্তরায় হয়ে রয়েছে। এ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে আমাদের নেতৃত্বকে। সেই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোয় অভিন্ন নীতি অনুসরণ অপরিহার্য। আমাদের সামনে সম্ভাবনা অসীম। জাতীয় ঐক্য ছাড়া তা যথার্থভাবে কাজে লাগানো যাবে না। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সব সমস্যা মোকাবেলায় সচেষ্ট হলে আমাদের অগ্রগতি ঘটবে দ্রুত। বিভেদ ভুলে আমরা সে পথেই অগ্রসর হব- এই হোক আমাদের বিজয় দিবসের অঙ্গীকার। মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী সম্পাদক নিউজ একাত্তর ডট কম ও সাপ্তাহিক সংবাদের কাগজ...

হাইড্রোলিক হর্নের উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত

রাজধানীর আবাসিক ও ভিআইপি এলাকাগুলোতে রাত ১০টার পর ২০ কিলোমিটারের অধিক গতিতে গাড়ি না চালানোর আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে হাইড্রোলিক হর্নের উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস। এর আগে গত ৫ নভেম্বর সারা দেশে হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। তার আগে গত ৮ অক্টোবর ঢাকায় মালিক-চালকদের কাছে থাকা যানবাহনে ব্যবহৃত হাইড্রোলিক হর্ন ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। গত ২৩ আগস্ট আগের রিটের শুনানি শেষে রুল জারিসহ রাজধানীতে চলাচলকারী সব যানবাহনে হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধ, ২৭ আগস্টের পর কোনো গাড়িতে হাইড্রোলিক হর্ন থাকলে সেই গাড়ি জব্দ এবং হাইড্রোলিক হর্নের আমদানি বন্ধ করে বাজারে এখনও যেসব হর্ন রয়েছে, তা জব্দের নির্দেশ দেন একই হাইকোর্ট বেঞ্চ। রুলে হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না এবং সারা দেশে হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চান হাইকোর্ট।...

শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে খালেদার শ্রদ্ধা,

রাজধানীর মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তিনি। এর আগে সকাল পৌনে ১০টায় গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের উদ্দেশ্যে রওনা করেছিলেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান এসব তথ্য জানিয়েছেন।এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গত ৪৬ বছরে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। কিন্তু যে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের স্বপ্ন নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, সেই গণতন্ত্র আজ হারিয়ে গিয়েছে। গণতন্ত্র আজ অনুপস্থিত।মির্জা ফখরুল আরও বলেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে বিএনপি লড়াই করে যাচ্ছে, এ লড়াইয়ে আমাদের বিজয় হবেই ইনশাল্লাহ।তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানিরা পরিকল্পিতভাবে বাঙালি জাতির মেধাবী সন্তানদের হত্যা করেছে। তাদের এই আত্মত্যাগ পূরণ হওয়ার নয়।শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে উপস্থিত ছিলেন- দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, শামসুজ্জামান দুদু, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, ডা. সিরাজুল ইসলাম, আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, শামা ওবায়েদ, সাহিত্য ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক সরাফত আলী সফু, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহ দফতর সম্পাদক মুনির হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, তাবিথ আউয়াল, সালাউদ্দিন ভুইয়া শিশির, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান প্রমুখ।...

এই লড়াইয়ে আমাদের বিজয় হবেই :মির্জা ফখরুল

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে আমরা লড়াই করছি, এই লড়াইয়ে আমাদের বিজয় হবেই বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। ফখরুল বলেন, গত ৪৬ বছরে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। যে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য আমরা স্বপ্ন দেখেছি, সেই গণতন্ত্র আজ হারিয়ে গিয়েছে। গণতন্ত্র আজ অনুপস্থিত। এজন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমরা গণতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি।এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তম, শামসুজ্জামান দুদু, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।...

শীতল হাওয়ায় সারা বেলা...

শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। দীর্ঘ সময় শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ঘরে খানিকটা হয়তো স্বস্তিতে থাকছেন আপনি। তবে এতে কিন্তু আপনার ত্বকে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারিয়ে গিয়ে ত্বকে শুষ্ক ভাব চলে আসে। এর স্বাভাবিক কোমলতাও নষ্ট হতে পারে। শীতের আগে থেকে হয়তো বাতাসে শীতল ভাব কমিয়ে দেওয়া হয়। তারপরও এ সময় শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের সঙ্গে সারা দিন কাটালে ত্বকের জন্য বাড়তি কিছু কাজ যত্ন নিয়ে করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের অন্তত সেটাই মত। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চর্মরোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এস এম বখতিয়ার কামাল বলেন, ‘শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহারে ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সহজেই ত্বকে বয়সের ছাপ পড়তে দেখা যায়। অল্প বয়সেই বলিরেখা হতে দেখা যায়। এ ছাড়া যাঁদের ত্বকে একজিমা, সোরিয়াসিসের মতো রোগ রয়েছে, তাঁদের বেলায় এসব রোগের উপসর্গ বেড়ে যেতে পারে।...

ম্যানিটোবায় কানাডার বাংলাদেশ হাইকমিশনের বিশেষ কন্স্যুলার সেবা প্রদান

ম্যানিটোবাস্থ বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন কানাডা-বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন (সিবিএ) এবং অটোয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের যৌথ ব্যবস্থাপনায় ম্যানিটোবায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী ও অভিবাসীদের জন্য তিনদিনব্যপী বিশেষ কন্স্যুলার সেবা প্রদান করা হয়। কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার জনাব মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে ছয় সদস্যবিশিষট কন্স্যুলার সেবা প্রদানকারী দল ৪ ডিসেম্বত হতে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ম্যানিটোবাস্থ বাংলাদেশীদের প্রত্যক্ষ সহায়তা দেন। এই সর্বাংগীন সেবা কার্যক্রমের মধ্যে ছিল হাতে লেখা পাসপোর্ট প্রতিস্থাপন, নতুন মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট প্রাপ্তি ও নবায়ন, এবং নাগরিকত্ব, জন্ম-নিবন্ধন ও ভোটার কার্ড এর আবেদনপত্র গ্রহণ, ফরম পুরণের খুঁটিনাটি সরাসরি তত্ত্বাবধান, প্রয়োজনীয় পরামর্শ দান, এবং আবেদনকারীদের ছবি ও আঙ্গুলের ছাপ গ্রহণ বা বায়োমেট্রিক তথ্য নিবন্ধন। সিবিএ সভাপতি মিসেস নাসরিন মাসুদ-এর নেতৃত্বে সংগঠনেরসকল নির্বাহীবৃন্দ সহযোগে একদল স্বেচ্ছাসেবি কন্স্যুলার সেবাসংশ্লিষ্ট যাবতীয় কর্মকান্ড তত্ত্ববধান করেন। আড়াইশত জনেরও অধিক বাংলাদেশি এই প্রত্যক্ষ সেবাসমূহ গ্রহণ করেন। ম্যানিটোবায় অবস্থানকালে হাইকমিশনার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের দায়িত্বে নিযুক্ত প্রথম সচিব মহোদয় স্থানীয় বণিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ কৃষিপণ্য উৎপাদন ও রপ্তানীসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি আলোচিত হয়। বাংলাদেশকে অযুত সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিমূখী দেশ হিসেবে উপস্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশে কানাডিয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সুবিধাদিও আলোচিত হয়। ম্যানিটোবার বাংলাদেশিদের উৎসাহ-উদ্দীপনা ও প্রাণপ্রাচুর্যে আয়োজনটিশতভাগসফল হয়। ভবিষ্যতে সাহিত্য-সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন প্রবাসী কর্মকান্ডে হাইকমিশন আরো বর্ধিত কলেবরে সেবা প্রদানের অংগীকার করেন। (ড. হেলাল মহিউদ্দীন, গবেষণা ফেলো, সেইন্ট পলস কলেজ, ম্যানিটোবা বিশ্ববিদ্যালয়) Press Release ...

জাতিসংঘের মানবাধিকার সমন্বয় সংস্থা পরিসংখ্যান,বাংলাদেশে রোহিঙ্গার সংখ্যা ৬,২৪,০০০ ছাড়িয়ে গেছে

২৫ শে আগস্টের পর মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আশা রোহিঙ্গার সংখ্যা ৬,২৪,০০০ ছাড়িয়ে গেছে। সোমবার এ পরিসংখ্যান দিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার সমন্বয় সংস্থা। এ খবর দিয়েছে চীনের বার্তা সংস্থা সিনহুয়া। বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে ৪৩০ জন বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে আশ্রয় নিয়েছে। আগের চেয়ে গত সপ্তাহের এই গড় তুলনামূলক কম। মিয়ানমারের উত্তর রাখাইনে ভয়াবহ নিপীড়ন চালিয়েছে সে দেশের সেনাবাহিনী। এর ফলে লাখ লাখ রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। সেনাবাহিনীর নির্যাতন এতোটাই ভয়াবহ ছিলো যে, অনেক সাঁতার না জানা রোহিঙ্গা পানির গ্যালনে ভর দিয়ে নাফ নদী পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসার চেষ্টা করেন। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মুখ থেকে শোনা যাচ্ছে ভয়াবহ অত্যাচার, নিধন যজ্ঞের বিবরণ। সম্প্রতি বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের মধ্যে স্বাক্ষরিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পর্কে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফানি ডুজাররিক বলেছেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবার সময় এটা অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যে, মিয়ানমারে ফিরে তারা যেন নিরাপদে, স্বসম্মানে এবং সুরক্ষিত অবস্থায় বসবাস করতে পারে। উল্লেখ্য, বৌদ্ধপ্রধান মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয় না। ...

যে কোনো জাতির শক্তির প্রধান উৎস ঐক্য

মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী : মহান বিজয় দিবস। এ দিনটি জাতির জন্য পরম গৌরবের। ১৯৭১ সালের এই দিনে নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ শেষে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) আত্মসমর্পণ করেছিল পাক হানাদার বাহিনী। চূড়ান্ত বিজয়ের মধ্য দিয়ে অভ্যুদয় ঘটে বাঙালির স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশের। বিজয়ের অনুভূতি সবসময়ই আনন্দের। তবে একই সঙ্গে দিনটি বেদনারও। অগণিত মানুষের আত্মত্যাগের ফসল আমাদের স্বাধীনতা। আমরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের; যেসব নারী ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, তাদের। এদিনে আমরা স্মরণ করব ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধিকার আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদেরও। এদেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার তথা স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সফল নেতৃত্ব দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কোটি কোটি মানুষকে তিনি স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে তুলেছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন একই লক্ষ্যে অবিচল একদল রাজনৈতিক নেতা। স্বাতন্ত্র্যমণ্ডিত সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমেও আমাদের জাতীয়তাবোধকে শাণিত করে তোলা হয়েছিল। একটি চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের মাধ্যমে এ জাতিকে স্তব্ধ করে দেয়া ছিল অসম্ভব। জনবহুল ও সীমিত সম্পদের এ দেশকে স্বয়ম্ভর করে তোলার কাজও সহজ ছিল না। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের কঠিন দিনগুলোয় রাষ্ট্রের প্রশাসনযন্ত্র চালু করতে হয়েছিল। স্বাধীন দেশের উপযোগী একটি সংবিধানও প্রণয়ন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজন ছিল গণতান্ত্রিক ও মুক্ত পরিবেশে নিরবচ্ছিন্ন যাত্রার। সদ্যস্বাধীন দেশের নেতৃত্বের এ বিষয়ে অঙ্গীকারের অভাব ছিল না। দুর্ভাগ্যজনক যে, পরে এক্ষেত্রে মারাত্মক বিচ্যুতি ঘটে এবং তার খেসারত দিতে হয় জাতিকে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়লেও দারিদ্র্য এখনও প্রকট। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পেলেও সুশাসন যেন সোনার হরিণ। সাংবিধানিক সংস্থা শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা এখানে আজও দুর্বল। অব্যাহত সংস্কারের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে সর্বস্তরে পৌঁছে দেয়ার ব্যাপারে অঙ্গীকারের অভাব পীড়াদায়ক। রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর বিভক্তি; এর পাশাপাশি জাতীয় প্রশ্নে অনৈক্য আমাদের এগিয়ে যাওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে। দেশে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এখনও তৎপর। অর্থনৈতিকভাবেও আমাদের আরও এগিয়ে যেতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত মূল্যবোধ রক্ষায় হতে হবে যত্নবান। তবেই বিজয় হয়ে উঠবে অর্থবহ। যে কোনো জাতির শক্তির প্রধান উৎস ঐক্য। প্রায় সব ক্ষেত্রেই অগ্রগতির জন্য প্রয়োজন এটি। মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বিজয়ের পেছনে কাজ করেছিল মত-পথ-জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবার এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ। এজন্যই সম্ভব হয়েছিল আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত শক্তিশালী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে মাত্র নয় মাসে পরাজিত করা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে স্বাধীনতার পর আমরা সে ঐক্য ধরে রাখতে পারিনি। গুরুত্বহীন বিষয়েও রাজনৈতিক বিভক্তি দেশে গণতন্ত্রের ভিত সুদৃঢ় করার পথে বড় অন্তরায় হয়ে রয়েছে। এ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে আমাদের নেতৃত্বকে। সেই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোয় অভিন্ন নীতি অনুসরণ অপরিহার্য। আমাদের সামনে সম্ভাবনা অসীম। জাতীয় ঐক্য ছাড়া তা যথার্থভাবে কাজে লাগানো যাবে না। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সব সমস্যা মোকাবেলায় সচেষ্ট হলে আমাদের অগ্রগতি ঘটবে দ্রুত। বিভেদ ভুলে আমরা সে পথেই অগ্রসর হব- এই হোক আমাদের বিজয় দিবসের অঙ্গীকার। মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী সম্পাদক নিউজ একাত্তর ডট কম ও সাপ্তাহিক সংবাদের কাগজ


ম্যানিটোবায় কানাডার বাংলাদেশ হাইকমিশনের বিশেষ কন্স্যুলার সেবা প্রদান

ম্যানিটোবাস্থ বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন কানাডা-বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন (সিবিএ) এবং অটোয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের যৌথ ব্যবস্থাপনায় ম্যানিটোবায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী ও অভিবাসীদের জন্য তিনদিনব্যপী বিশেষ কন্স্যুলার সেবা প্রদান করা হয়। কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার জনাব মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে ছয় সদস্যবিশিষট কন্স্যুলার সেবা প্রদানকারী দল ৪ ডিসেম্বত হতে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ম্যানিটোবাস্থ বাংলাদেশীদের প্রত্যক্ষ সহায়তা দেন। এই সর্বাংগীন সেবা কার্যক্রমের মধ্যে ছিল হাতে লেখা পাসপোর্ট প্রতিস্থাপন, নতুন মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট প্রাপ্তি ও নবায়ন, এবং নাগরিকত্ব, জন্ম-নিবন্ধন ও ভোটার কার্ড এর আবেদনপত্র গ্রহণ, ফরম পুরণের খুঁটিনাটি সরাসরি তত্ত্বাবধান, প্রয়োজনীয় পরামর্শ দান, এবং আবেদনকারীদের ছবি ও আঙ্গুলের ছাপ গ্রহণ বা বায়োমেট্রিক তথ্য নিবন্ধন। সিবিএ সভাপতি মিসেস নাসরিন মাসুদ-এর নেতৃত্বে সংগঠনেরসকল নির্বাহীবৃন্দ সহযোগে একদল স্বেচ্ছাসেবি কন্স্যুলার সেবাসংশ্লিষ্ট যাবতীয় কর্মকান্ড তত্ত্ববধান করেন। আড়াইশত জনেরও অধিক বাংলাদেশি এই প্রত্যক্ষ সেবাসমূহ গ্রহণ করেন। ম্যানিটোবায় অবস্থানকালে হাইকমিশনার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের দায়িত্বে নিযুক্ত প্রথম সচিব মহোদয় স্থানীয় বণিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ কৃষিপণ্য উৎপাদন ও রপ্তানীসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি আলোচিত হয়। বাংলাদেশকে অযুত সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিমূখী দেশ হিসেবে উপস্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশে কানাডিয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সুবিধাদিও আলোচিত হয়। ম্যানিটোবার বাংলাদেশিদের উৎসাহ-উদ্দীপনা ও প্রাণপ্রাচুর্যে আয়োজনটিশতভাগসফল হয়। ভবিষ্যতে সাহিত্য-সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন প্রবাসী কর্মকান্ডে হাইকমিশন আরো বর্ধিত কলেবরে সেবা প্রদানের অংগীকার করেন। (ড. হেলাল মহিউদ্দীন, গবেষণা ফেলো, সেইন্ট পলস কলেজ, ম্যানিটোবা বিশ্ববিদ্যালয়) Press Release

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও বিজয়ের বাংলাদেশ

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বাংলাদেশ এক অবিচ্ছেদ্য নাম। ইতিহাস থেকে এ নাম কখনো মুছে যাবে না। কর্মের মাঝে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অমর হয়ে থাকবেন বাঙালির ইতিহাসে হাজার-লক্ষ-কোটি বছর। বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ এই নামে সমগ্র বিশ্বব্যাপী পরিচিত। সম্প্রতি ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণটিকে ইউনেসকো কর্তৃক স্বীকৃতি প্রদান করায় বিশ্বব্যাপী আবারও আলোচিত হলো বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশের মহান স্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বিজয়ের বাংলাদেশ প্রবন্ধ পাঠের মাধ্যমে ২০১৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি সম্মান ও তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করছি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজ আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশের পথিকৃত হিসেবে মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন সংগ্রাম করে বাংলার মাটি ও মানুষের সাথে আজো তিনি মিশে আছেন। স্বাধীন বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর অমর কীর্তি। তাই বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ এক অবিচ্ছেদ্য নাম। যতদিন পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ থাকবে, যতদিন বাঙালির ইতিহাস থাকবে ততদিন বঙ্গবন্ধু থাকবেন অমর অবিনশ্বর। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, ভাষা, সমাজ, সংস্কৃতি ও সভ্যতার মধ্যে একজন শ্রেষ্ঠ বাঙালিরূপে বঙ্গবন্ধু থাকবেন চিরজাগ্রত। রাজনৈতিক গবেষণা সংস্থা ইউএসবির (টঝই) ভাষায় বঙ্গবন্ধু । সভ্যতার শুরু থেকেই বারবার মানবতা হয়েছে ভূ-লুণ্ঠিত। শোষক ও শোষিতের ব্যবধান বেড়েছে। উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে শোষণের মাত্রা। হোক তা প্রাচ্য কি তার বিপরীত গোলার্ধ। তাই কৃষ্ণাঙ্গ মানুষদের উপর অমানুষিক নির্যাতন বন্ধে, মানুষ হিসেবে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে প্রয়োজন পড়েছিল একজন মার্টিন লুথার কিং বা ম্যালকম ম্যাক্সের। ঠিক তেমনি বাঙালিদের অর্থাৎ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি সীমাহীন বৈষম্য রোধ করতে দরকার হয়েছিল একজন শেখ মুজিবুর রহমানের মতো মহানায়কের। পাকিস্তান কেবল অর্থনৈতিকভাবে আমাদের শোষণ করতে চায়নি, বরং তাদের আগ্রামী হাত দিয়েছিল আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি, সম্প্রীতিপূর্ণ পরিবেশ, শিক্ষা ইত্যাদির উপর। সামরিক স্বৈরশাসনের শাসনের মাধ্যমে প্রচণ্ড চাপ, অনিশ্চয়তা ও ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে যখন বাঙালিদের এরা হাতে ধরা সুতোয় পুতুলের মতো নাচাতে চেয়েছিল, ঠিক তখনই স্বমহিমায় উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিলেন নিষ্ঠা, ভালোবাসা, আন্তরিকতা, একাগ্রতা, সাহসিকতায় এবং সর্বোপরি দৃঢ়তায় এই বজ্রকণ্ঠস্বরধারী মানুষটি। বাঙালির স্বাধীনতার মূর্ত প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন সেই ঐকান্তিক প্রয়োজনের সময়। বঙ্গবন্ধু বরাবরই অটল থেকেছেন তাঁর নীতিতে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করেছেন অহিংস পন্থায় বাঙালির অধিকার অর্জনের এ আন্দোলনে সফল হতে। তাই দেখা যায়, ১৯৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর ক্ষমতা তাদের না দেওয়ার পরও তিনি সহিংসতায় না গিয়ে তিনি ভুট্টোর ক্ষমতাভাগের দাবির তীব্র সমালোচনা করেন। যুক্তিসঙ্গত দাবি না মানার পর পিঠ দেয়ালে ঠেকে যাওয়াতেই ৭ মার্চ তাঁকে রচনা করতে হয় বাঙালির জীবনের এক অনন্য সাধারণ মানব মুক্তির কবিতা। ১৯৬৩ এর ২৮ আগস্ট বর্ণবাদী আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিং এর সেই আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম মহাকাব্যের পর আরো একটি মহাকাব্য রচিত হয় ১৯৭১ এর ৭ মার্চ রেসকোর্সের ময়দানে। সাড়ে ৭ কোটি মানুষের জন্য তাঁর ভাষণ সর্বশ্রেষ্ঠ মহাকাব্য রচনার মাহেন্দ্রক্ষণ যা দিয়েছে আমাদের লাল সবুজের পতাকার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জীবনব্যাপী একটিই সাধনা করে গেছেন, তা হলো বাংলা ও বাঙালির মুক্তির জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করা। তাঁর এই সাধনার শুরু ১৯৪৮ থেকে। তাই ১৯৪৮-এর জানুয়ারির ৪ তারিখে গঠন করেছিলেন ছাত্রলীগ এবং ১৯৪৯-এর জুনের ২৩ তারিখে আওয়ামী লীগ। সেই থেকে বাঙালির জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের প্রতিটি আন্দোলনকে সুপরিকল্পিতভাবে নেতৃত্ব প্রদান করে ধাপে ধাপে এগিয়ৈ নিয়ে গেছেন। ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিরেন স্বয়ং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান্ বাল্যকাল ও কৈশোর থেকেই যে সংগ্রামের শুরু, তা থেমে থাকেনি। বরং কালক্রমে তা বিস্তৃত ও প্রসারিত হয়ে সমগ্র বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের এক মহৎ প্রচ্ছদপট এঁকে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রূপকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হয়ে ওঠেন ইতিহাসের মহামানব। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর জীবনের প্রতিটি ধাপেই বাঙালির সার্বিক মুক্তির জয়গান গেয়েছেন। তিনি তো সবসময় বলতেন, এমনকি দু-দুবার মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও তিনি বলেছেন, ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার সময় আমি বলল, আমি বাঙালি, বাংলা আমার দেশ, বাংলা আমার ভাষা। যে বাংলার স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন, যে বাংলার জন্য তিনি যৌবনের অধিকাংশ সময় কারাগারে কাটিয়েছেন, ফাঁসির মঞ্চে গেয়েছেন বাঙালির জয়গান, সেই বাংলা ও বাঙালির জন্য তাঁর ভালোবাসা ছিল অপরিসীম। বিশাল হৃদয়ের মহৎ মনের মানুষ ছিলেন তিনি। নিজের সবকিছুই জনগণের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন। সরল সাদামাটা জীবন ছিল তাঁর। রাষ্ট্র ক্ষমতার আসীন হয়েও ছিমছাম আর আটপৌরে ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িটিতেই আমৃত্যু থেকেছেন। একবার এক জনসভায় তিনি বলেছিলেন, একজন মানুষ আর কী চাইতে পারে, আমি যখন ভাবি দূরে এক জনশূন্য পথের ধারে আধো আলো-ছায়ায় এক লোক লণ্ঠন হাতে দাঁড়িয়ে আছে শুধু আমাকে এক নজর দেখবে বলে, তখন মনে হয়, একজন মানুষের পক্ষে আর কী চাওয়া-পাওয়ার থাকতে পারে। নিরন্ন, হতদরিদ্র, মেহনতী মানুষের প্রতি বঙ্গবন্ধুর ছিল প্রগাঢ় ভালোবাসা। তা প্রতিফলিত হয়েছে তাঁর প্রতিটি কর্মে ও চিন্তায়। ১৯৭৩-এর ৯ সেপ্টেম্বর, আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে অনুষ্ঠিত জোটনিরপেক্ষ সম্মেলনে বক্তৃতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, বিশ্ব আজ দুই ভাগে বিভক্ত, শোষক ও শোষিত। আমি শোষিত। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মূল সারাংশ ছিল শোষণ-নিপীড়ন থেকে মানুষের মুক্তি অর্থাৎ শোষণমুক্ত একটি গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা। সেই উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ১৯ মিনিটের ভাষণে বঙ্গবন্ধু সেই স্বপ্নই দেখিয়েছিরেন ৭ কোটি বাঙালিকে। তিনি দেখিয়েছিলেন এদেশের নিপীড়িত শোষিত মানুষের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নেই বাঙালির মনে জাগ্রত করেছিল অদম্য স্পৃহা। আর সেই ভিত্তিতেই দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধে ৩০ লাখ বাঙালির রক্ত আর অগণিত মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত হয় সেই কাক্সিক্ষত মুক্তি মহান স্বাধীনতা। শুরু হয় বাংলাদেশ নামের দেশের নতুন যাত্রা। বাংলাদেশের মহান রাষ্ট্রপতিরূপে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যাত্রা। সোনার বাংলার সোনার মানুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের রাষ্ট্রপতি। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি সমগ্র বাংলাদেশে কাজ করে চলেছিলেন। বেকার যুবকদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, শ্রমিকের হাতকে শক্তিশালী করে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য এগিয়ে চলছিলেন। তখনই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বিপথগামী ঘাতক সেনাসদস্যদের গুলিতে বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির এগিয়ে চলাকে যবনিকা ঘটার চেষ্টা চালায়। কিন্তু না, যে স্বপ্ন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে দেখিয়েছিলেন সেই স্বপ্ন কি স্বপ্নই থেকে যাবে? না, বাঙালি জাতি আবারও এগিয়ে চলল। জাতির জনকের কন্যা শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিরূপে দেশে প্রত্যাবর্তন করে জনগণের হাতকে শক্তিশালীরূপে ভোটযুদ্ধে অংশ নিয়ে নেত্রীকে বিজয়ের মালা পরিয়ে বাংলার প্রধানমন্ত্রী করেছেন জনগণ। সে শেখ হাসিনা আজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নকে বাস্তবায়নের জন্য জীবন-মরণ বাজি রেখে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। শতবাধা ডিঙিয়ে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাকে আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপে প্রতিষ্ঠা করে বর্তমানে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতিকে সম্মান ও মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর স্বপ্ন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়া। এই যাত্রা শুভ ও সফল হোক। লেখক:লায়ন ডা. বরুণ কুমার আচার্য বলাই, বিশিষ্ট মরমী গবেষক ও প্রাবন্ধিক।

আজকের মোট পাঠক

32981

নিউজ একাত্তর ডট কম

সম্পাদক : মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী

নির্বাহী সম্পাদক : নুরুল ইসলাম ভুইয়া

একটি পপুলার মিডিয়া পাবলিকেশন এর প্রকাশনা

সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয় : ৪১৬/সি,খিলগাও ঢাকা। ফোন : ০১৮২৪২৪৫৫০৪, ০১৭৭৮৮৮৮৪৭২

চট্টগ্রাম কার্যালয় : ১০/১১ বি ৩য় তলা, হানিমুন টাওয়ার,পাহাড়তলী,চট্টগ্রাম।

ই-মেইল : newsekattor@gmail.com, editorekattor@gmail.com, কপিরাইট ©newsekattor.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত