বুধবার, জানুয়ারী ২৯, ২০২০

চীনে করোনাভাইরাসে মৃত বেড়ে ১৩২, আক্রান্ত প্রায় ৬ হাজার

২৯জানুয়ারী,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চীনে করোনাভাইরাসে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩২ জনে। আর সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা হয়েছে প্রায় ছয় হাজার। চীনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশন এসব তথ্য জানিয়েছে। এছাড়া চীনের বাইরে আরও অন্তত ১৬টি দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষ পাওয়া গেছে। তবে সেসব দেশে কোনও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। এদিকে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ভাইরাসটিকে খারাপ উল্লেখ করে বলেছেন, এটি মোকাবিলায় তৎপর রয়েছে তার। অন্যদিকে শীর্ষস্থানীয় এক বিশেষজ্ঞের বরাত দিয়ে শিনহুয়া জানিয়েছে, আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা সর্বোচ্চ আকার ধারণ করতে পারে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসের কেন্দ্রস্থল চীনের উহান শহরে আটকে পড়া বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা চীন ছাড়তে শুরু করেছে। নিজ দেশের নাগরিকদের ফিরিয়ে আনতে সবার আগে তৎপরতা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান। এছাড়া ভারত ও ফ্রান্স তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে আনতে তৎপরতা শুরু করেছে। ওদিকে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে গবেষণাগারে করোনাভাইরাস তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। একে করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কারের পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন তারা। উল্লেখ্য, গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর থেকে পাল্লা দিয়ে দেশটিতে আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। ...

আমরা অবরুদ্ধ, দেশে ফিরতে চাই: চীনে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আকুতি

২৮জানুয়ারী,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চীনের যে শহর থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে বলে ধারণা করা হয়, সেই উহান শহরে তিন শতাধিক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আটকে পড়েছেন। তারা সবাই যার যার ছাত্রাবাসের রুমের ভেতরে প্রায় বন্দি অবস্থায় আছেন। বাইরে বের হতে পারছেন না, খাবার ফুরিয়ে আসছে, আতঙ্কিত উহান নগরীতে এখন তাদের দিন কাটছে দেশে ফেরার প্রতীক্ষায়। আটকে পড়া শিক্ষার্থীরা বলেছেন, আমরা দেশে ফিরতে চাই। বিবিসি বাংলার সঙ্গে স্কাইপে কথা বলেছেন উহানে এমন দুজন বাংলাদেশি। উহানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্রী তাহকিম আনজুম মৃদুলা। তিনি বলেন, আমাদের ইউনিভার্সিটিতে আমরা ১২৭ জনের মতো বাংলাদেশি ছাত্র-ছাত্রী আছি। আমাদের যেন এখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। কারণ উহানই এখন সবচেয়ে বেশি এই ভাইরাসের শিকার হয়েছে। মৃদুলা বলেন, আমাদের ডরমিটরির বাইরে একেবারেই যাওয়া নিষেধ। আমরা টোটাল লকডাউনের (পুরোপুরি অবরুদ্ধ) মধ্যে আছি। আমাদের খাবারের সংগ্রহ খুবই সীমিত। মাস্ক না পরে, এমনকি রুমের বাইরে পর্যন্ত যেতে নিষেধ করা হয়েছে। একটা আতঙ্ক কাজ করছে আমাদের মধ্যে। বাতাসে বেরিয়ে আমরা না আবার এই ভাইরাসের আক্রমণের শিকার হই। বাংলাদেশে এই ছাত্রী আরও বলেন, দেশে বাবা-মা খুবই চিন্তিত। তারা চাইছেন আমরা দেশে ফিরে যাই। আমরা দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য আবেদন করেছি। অপেক্ষায় আছি কখন একটা পদক্ষেপ নেয়া হয়। আমরা সবাই দেশে ফিরে যেতে চাই। যত দ্রুত সম্ভব। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। উহানে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটির দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাকিবিল হাফিজ। তিনি বলেন, আজ কয়েকদিন ধরে এই ডরমিটরিতে আমরা অবরুদ্ধ। শুয়ে-বসে দিন কাটাচ্ছি। এটা একটা ইন্টারন্যাশনাল হোস্টেলের মতো। ৫০০-র মতো বিদেশি ছাত্র-ছাত্রী আছে এখানে। আমরা বাংলাদেশিরা ছাড়াও আছে রাশিয়া, কাজাখাস্তান, উজবেকিস্তান, ভারত, পাকিস্তান থেকে শুরু করে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের ছেলে-মেয়েরা আছে এখানে। রাকিবিল বলেন, মাঝখানে আমাদের খাবার পর্যন্ত ফুরিয়ে গিয়েছিল। এখন আবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা করেছেন। ইউনিভার্সিটি এই মুহূর্তে বন্ধ, চাইনিজ লুনার ইয়ারের ছুটি। ফেব্রুয়ারির ১৬ তারিখে খোলার কথা, কিন্তু শোনা যাচ্ছে এটি পিছিয়ে যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ দূতাবাস আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তারা সব তথ্য নিয়ে আমাদের তালিকাভুক্ত করছেন। এখানে যারা মাস্টার্সের ছাত্র, তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাস যোগাযোগ করছে। তাদের কাছে আমাদের টোটাল সংখ্যা জানতে চেয়েছে। কত ছাত্র-ছাত্রী এখন আমরা এখানে আছি। ...

ইরাকে মার্কিন দূতাবাসের কাছে ৫টি রকেট হামলা

২৭জানুয়ারী,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইরাকের রাজধানী বাগদাদের গ্রিন জোনে মার্কিন দূতাবাসের কাছে কয়েকটি রকেট হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার রাতে এই হামলা হয় বলে দেশটির গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়। কয়েকটি সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে অন্তত পাঁচটি রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। এসব রকেটের মধ্যে একটি রকেট মার্কিন দূতাবাসে আঘাত হেনেছে বলে কয়েকটি সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে। তবে কে বা কারা এসব হামলা চালিয়েছে বা এতে সম্ভাব্য হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। বাগদাদের গ্রিন জোনের পাশাপাশি ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আত-তাজি ও আল-বালাদে গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকবার রকেট হামলা হয়েছে। গত ৩ জানুয়ারি শুক্রবার ভোররাতে ইরাকের রাজধানী বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে জেনারেল সোলাইমানিকে বহনকারী গাড়ির ওপর ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে মার্কিন সন্ত্রাসী সেনারা। হামলায় ইরাকের জনপ্রিয় স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী হাশদ আশ-শাবির উপ প্রধান আবু মাহদি আল-মুহান্দিসসহ দুই দেশের আরও ৮ কমান্ডার নিহত হন। জেনারেল সোলাইমানির হত্যাকাণ্ডের পরপরই ইরাকি পার্লামেন্ট দেশটি থেকে মার্কিন সেনা বাহিষ্কারের বিল পাস করে। এ ছাড়া, গত শুক্রবার ইরাকের প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ রাজধানী বাগদাদে বিক্ষোভ মিছিল করে তাদের দেশ থেকে মার্কিন সেনা বহিষ্কারের দাবি জানায়। ...

করোনাভাইরাসে মৃত ৫৬, কানাডায় আক্রান্ত শনাক্ত

২৬জানুয়ারী,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চীনের কর্তৃপক্ষ রোববার সকালে জানিয়েছে, নতুন রহস্যময় করোনাভাইরাসে আরও ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবশেষ সাংহাই শহরে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া করোনাভাইরাসের উৎপত্তিস্থল হুবেই প্রদেশে ১৩ জন এবং হেনান প্রদেশে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৫৬ জনে। রোববার চীনের সরকার জানিয়েছে, শনিবার নতুন করে আরও প্রায় সাত শতাধিক ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। এর ফলে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২০১৯ জনে। সাংহাই পৌরসভার স্বাস্থ্য কমিশন জানিয়েছে, যে রোগীর মৃত্যু হয়েছে তার বয়স ছিল ৮৮ বছর। এর আগে হুবেইয়ের বাইরে চীনের অন্যান্য শহরেও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু চীনের অন্যতম জনবহুল শহর এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নগরী সাংহাইয়ে এই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটলো। যা এই রোগটি আরও ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছে। এদিকে নতুন করে কানাডায় একজন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটি। এর ফলে বিশ্বের অন্তত ১২টি দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত করা হলো। অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পিপলস ডেইলি জানিয়েছে, দেশটি ২০১৯-এনসিওভি ভাইরাসটির প্রতিষেধক তৈরির কাজ শুরু করেছে। এছাড়া ভাইরাসটির উৎপত্তিস্থল উহানে ৪৫০ জন মিলিটারি মেডিকেল স্টাফ পাঠিয়েছে সরকার। দৈনিকটি জানিয়েছে, এসব স্টাফদের অনেকেরই সার্স ও ইবোলা ভাইরাসের বিস্তার সময় কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ...

এ এক আবিষ্কারের গল্প: ক্যাম্প মাটি-টা

২৯জানুয়ারী,বুধবার,মো.ইরফান চৌধুরী চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: অসীম সম্ভাবনা আর প্রতিভা নিয়ে মানুষ পৃথিবীতে আসে। উপযুক্ত পরিবেশ পেলে বিকশিত হয় প্রতিভা। তবে মানবসৃষ্ট কারণে এই পরিবেশ দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। ফলে বঞ্চিত হচ্ছে পৃথিবী। এ নিয়ে আমাদের কার্যক্রম অনেকটাই ভাবনা-চিন্তা আর মতামত আদান-প্রদানের মাঝে সীমাবদ্ধ। এদিকে, অপার সম্ভাবনা থাকার পরও বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প চলছে অনেকটা খুঁড়িয়ে। আছে প্রতিকূলতা, নানা জটিলতা। পরিকল্পনা আর দূরদর্শিতার অভাব আছে। আছে সমন্বয়হীনতা। এর মাঝেও অন্তরায়ের দেয়াল ভাঙার স্বপ্ন দেখে কেউ কেউ। তাদের স্বপ্ন থাকে আকাশচুম্বী। তেমনই স্বপ্নের কারিগর চট্টগ্রামের তরুণ দম্পতি তাসনিম মাহমুদ ও ডা. মুনাল মাহবুব। তারা চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক চেয়ারম্যান ও নৌবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা (অব.) জহিরউদ্দিন মাহমুদ এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলমের সন্তান। শিক্ষা শেষ হয়েছে অনেক বছর আগে। দুজন বর্তমানে উদ্যোক্তা। ডা. মুনাল মাহবুব চট্টগ্রাম উইমেন চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান। সময় পেলে পৃথিবী ঘুরে দেখা তাদের সখ। সেই সখ মেটাতে গিয়ে সঞ্চয় করেছেন অভিজ্ঞতা। একদিন তাদের উপলব্ধি হলো, প্রকৃতি প্রদত্ত সম্ভাবনা ও সক্ষমতা এবং বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশকে কীভাবে একসূত্রে গাঁথা যায়? কথাটা বলছিলেন ক্যাম্প মাটি-টার চেয়ারম্যান ডা. মুনাল মাহবুব। ক্যাম্পের ম্যানেজিং ডিরেক্টর তাসনিম মাহমুদ জানান, পরিবেশবান্ধব টেকসই উন্নয়নের সাথে আউটডোর অ্যাক্টিভিটি ক্যাম্পিংয়ের যোগসূত্র স্থাপন তাদের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। তিনি আরো জানান, বিশ্বব্যাপী জলবায়ুর অস্বাভাবিক পরিবর্তন তাদের উদ্বেগের কারণ। পরিবর্তনজনিত এই বিপর্যয় মোকাবিলার মানসিকতা এবং তাদের আহরিত অভিজ্ঞতার যোগফল হিসেবে চট্টগ্রামে স্থাপিত হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম আউটডোর অ্যাক্টিভিটি ক্যাম্প মাটি-টা। এখানকার পারিপার্শ্বিকতা ও সমস্ত আয়োজন একজন শিক্ষার্থী অথবা যেকোনো শ্রেণী-পেশার মানুষকে উপলব্ধি করাতে সক্ষম, আমিও পারি। রিডিসকভার ইয়োরসেলফ উইদিন ইউ মাটি-টার ট্যাগলাইন। অর্থাৎ ক্যাম্প মাটি-টা কারো মধ্যে নতুন করে কোনা শক্তি বা ক্ষমতা প্রয়োগের কথা বলে না। বরং বিশ্বাস করতে শেখায়, আমার মধ্যে যা আছে তা দিয়েই নিজেকে আবিষ্কার করব। প্রমাণ করে দেখায়, একজন মানুষের মাঝে অসাধারণ সক্ষমতা থাকে। ক্যাম্প মাটি-টার অবস্থান সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকায়। ক্যাম্পের আয়তন প্রায় পৌনে দুই বর্গকিলোমিটার। পাহাড় বেষ্টিত ক্যাম্পের উত্তর সীমানা জুড়ে নৌবাহিনীর দপ্তর, পূর্বে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি এবং পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর। পাহাড়ের চূড়া ধরে রয়েছে দীর্ঘ ট্রেকিং ট্রেইল। ট্রেইলের একাধিক পয়েন্ট থেকে উপভোগ করা যায় বঙ্গোপসাগরের অসাধারণ সৌন্দর্য। সাগরে ভাসমান বড় জাহাজের মাস্তুল পাশে রেখে অস্তায়মান সূর্য, দুরন্ত কাঠবিড়ালির লাফিয়ে বেড়ানো, সকাল সকাল বন মোরগের কুক কুরুক ধ্বনিতে ঘুম ভেঙে যাওয়া, শত প্রজাতির রঙিন পাখির কিচিরমিচির, মাঝেমধ্যে পাহাড় থেকে মায়া হরিণের আগমন অন্য এক মায়া জাগায়। পাহাড় বেষ্টিত ক্যাম্পের প্রাঙ্গণ জুড়ে রয়েছে স্বচ্ছ জলের সরোবর। মাছ ও মাছরাঙ্গা, ধবধবে সাদা বকের লুকোচুরি এখানকার চিত্র। তাসনিম মাহমুদ জানান, বর্তমানে শহরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে খেলার মাঠ অপর্যাপ্ত। শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুুলা জরুরি। পরিবর্তিত আর্থসামাজিক বিশ্ব বাস্তবতায় বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাসমূহে কর্মীদের মধ্যে টিম বিল্ডিং ও মানোন্নয়নমূলক কার্যক্রমে এসেছে বৈচিত্র্য। দেশের ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য ডিউক অব এডিনবার্গ অ্যাওয়ার্ড ও ক্যাস নামক আউটডোর কোর্স বা অভিজ্ঞতা প্রায় বাধ্যতামূলক। এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে মাটি-টাতে বেশ কিছু অ্যাক্টিভিটির ব্যবস্থা আছে। খেলার গ্রাউন্ড আছে তিনটি। এর মধ্যে একটি হিলটপ গ্রাউন্ড হিসেবে পরিচিত। তিনি জানান, বিভিন্ন ধরনের অ্যাক্টিভিটির মধ্যে পাহাড় ট্রেকিং, মেডিটেশন সেশন, ইয়োগা সেশন, স্ক্রু ড্রাইভিং, ওয়াটারপং, ওয়াল ক্লাইম্বিং, rapling-জুমারিং, জিপলাইনিং, লিকুইড পাস, হিউম্যান পাস কায়াকিং, অন ট্রি অবস্ট্যাকল কোর্স, অন গ্রাউন্ড অবস্ট্যাকল কোর্স, বেল্ট রেস, ব্যাডমিন্টন, জায়ান্ট ভলিবল, টেবিল টেনিস, হিউম্যান ফুসবলসহ প্রায় পঞ্চাশটি অ্যাক্টিভিটি অন্যতম। বিশেষ অ্যাক্টিভিটি হিসেবে রয়েছে ডে লং ট্রেজার হান্ট। তিনি আরো জানান, মেডিটেশন ও ইয়োগা সেশন অনুষ্ঠিত হয় পশ্চিম পাহাড়ের চূড়ায়। চূড়ার সম্মুখভাগে বঙ্গোপসাগরের জলরাশি। বয়ে যায় সাগরের শীতল বাতাস। বিশেষ এই জোনে যখন মেডিটেশন ও ইয়োগা অনুষ্ঠিত হয়, তখন ক্যাম্পারগণ সতেজ বাতাসের পরশ অনুভব করেন। তাসনিম জানান, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের বিষয়টি মাথায় রেখে ক্যাম্প মাটি-টা পরিচালনা করছে পাঁচদিনের রেসিডেন্সিয়াল প্রোগ্রাম। রেসিডেন্সিয়াল প্রোগ্রামের সৃজনশীল কারিকুলাম তাদের স্বতন্ত্র উদ্ভাবন। এছাড়া রয়েছে রিইউনিয়ন ও বার্ষিক পিকনিক প্রোগ্রামের ব্যবস্থা। অ্যাক্টিভিটিসমূহ পরিচালনার জন্য রয়েছে অভিজ্ঞ ইনস্ট্রাক্টর। ক্যাম্পের মহাব্যবস্থাপক তারেক আহম্মেদ সুমন জানান, রাত্রিযাপনের ক্ষেত্রে ক্যাম্পে আগতদের থাকতে হয় তাঁবুতে। এসব তাঁবু দুই থেকে বিশজন ধারণ ক্ষমতার। সম্প্রতি তাঁবুর বহরে যুক্ত হয়েছে আমেরিকা মহাদেশে বসবাসরত রেড ইন্ডিয়ানদের ঐতিহ্যবাহী টিপি টেন্ট (তাঁবু)। প্রতিটি টিপি টেন্টে ষোলজন ক্যাম্পার অবস্থান করতে পারেন। এছাড়া রয়েছে কাঠের তৈরি ইকো টেন্ট। সুবৃহৎ ইনফিনিটি সুইমিং পুলের প্রান্ত ঘেঁষে নির্মাণাধীন ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের নির্মাণ শৈলীর আদলে আঠারো হাজার বর্গফুটের বেম্বো হাউজ। মজবুত কাঠামোর উপর তিনতলা বিশিষ্ট বেম্বো হাউজের ভেতর ও বাইরে সম্পূর্ণটা মোড়ানো থাকবে বাঁশ দিয়ে। নিচতলায় একটি কনভেনশন হল, দ্বিতীয়তলা জুড়ে অত্যাধুনিক রেস্টুরেন্ট ও কনফারেন্স রুম এবং তিনতলায় থাকবে চৌদ্দটি কটেজ কক্ষ। আগতদের রুচি ও বিনোদনের দিক মাথায় রেখে অর্গানিক খাবারের মেনুতে আছে ঐতিহ্যবাহী আইটেমসহ বিভিন্ন স্বাদের খাবার। গত বছরের ৬ জানুয়ারি ছিল ক্যাম্প মাটি-টার উদ্বোধনী প্রোগ্রাম। এক বছরের মধ্যে এখানে ঢাকা ও চট্টগ্রামের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কর্পোরোট হাউজ তথা সামাজিক প্রতিষ্ঠান প্রোগ্রাম করেছে। এদের মধ্যে চট্টগ্রাম গ্রামার স্কুল চট্টগ্রাম ও ঢাকা শাখা, আল হিদায়া ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, সাইডার স্কুল, উইলিয়াম কেরি স্কুল, দা আগা খান স্কুল ঢাকা, সিটি ব্যাংক, ডেক্যাথলন, মাইডাস সেফটি, হক অ্যান্ড সন্স শিপিং কোং, বিএসআরএম, চট্টগ্রাম মহিলা সমিতি, সেন্ট প্লাসিডস স্কুল ৯৪ ব্যাচ, মা ও শিশু হাসপাতাল, চট্টগ্রাম রোটারী ক্লাব (অ্যারিস্টোক্রেট) উল্লেখযোগ্য।- আজাদী ...

মামলাবাজ সিন্ডিকেটের ভুয়া মামলায় বিপাকে সাধারণ মানুষ

২৮জানুয়ারী,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভুয়া মামলায় ফাঁসিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। রোববার (২৬ জানুয়ারি) ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবার প্রতিকার চেয়ে উচ্চ আদালতে মানববন্ধন করেছেন। হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতির। হয়রানিমূলক মামলা থেকে বাঁচতে ভুক্তভোগী পরিবারের এই মানববন্ধন। উচ্চ আদালতে এমন প্রতিবাদ এর আগে কখনো দেখা যায়নি। ভুক্তভোগী কয়েকজনের দাবি, মামলাবাজ সিন্ডিকেটকে কয়েক লাখ টাকা দিয়েও এই চক্র থেকে মুক্তি মেলেনি। তাই সর্বোচ্চ আদালতে এই প্রতিবাদ। তারা বলেন, বিভিন্ন জেলা থেকে কোর্টে বিভিন্ন মামলা দেয়া হচ্ছে। বাদী সাক্ষীকে চেনে না, সাক্ষী বাদীকে চেনেনা। অনেকে বলেন, এই লোকটাকে টাকা দিয়ে ৫ বছরের জন্য কিনে নিলাম। যত মামলা হবে, ৫ বছর সে জেল খাটবে। প্যাকেজ সিস্টেমে টাকা দিয়ে মানুষ কিনে নেয়। এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতি ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান তারা। তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা বিচার চাই। আমাদের বাবাকে আমরা বাঁচাতে চাই। আইনজীবীরা বলছেন, মামলার তদন্ত ঠিকমত হলে এবং বিচারক আরো সচেতন হলে দৌরাত্ম কমবে মামলাবাজ সিন্ডিকেটের। অ্যাডভোকেট কুমার দেবুল দে বলেন, মামলা নিয়ে সন্দেহ থাকলে পুলিশের উচিত মামলা গ্রহণের আগেই প্রাথমিক একটি তদন্ত করা। তদন্তের পর মামলা গ্রহণ করা উচিত। কোর্টেও পিটিশন মামলা হলে প্রাথমিক তদন্তের পর মামলা নেয়া উচিত। এ বিষয়ে বিচারবিভাগ ও পুলিশ প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।somoynews.tv ।...

কুতুববাগ পীরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

২৮জানুয়ারী,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কুতুববাগ দরবারের পীর জাকির শাহর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) জারি করা হয়েছে। চেক জালিয়াতি মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগে বন্দরের এক ব্যবসায়ীর দায়েরকৃত মামলায় নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ক-অঞ্চল) আদালত রোববার এ পরোয়ানা জারি করেন। পীর জাকির শাহর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদী শহরের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী মো. ফজর আলী। এদিকে পরোয়ানা জারির খবর ছড়িয়ে পড়ায় গত দুইদিন ধরে শহর ও বন্দর এলাকায় তোলপাড় চলছে। মামলার বিবরণে জানা গেছে, পারস্পরিক সুসম্পর্কের সুবাদে এক সঙ্গে ব্যবসা করার লক্ষ্যে পীর জাকির শাহ ব্যবসায়ী মো. ফজর আলীকে ৮ কোটি টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ২০১৩ সালের ১১ই র্ফেরুয়ারি ব্যবসার উদ্দেশ্যে ৮ কোটি টাকা দেয়ার বিপরীতে ব্যবসায়ী মো. ফজর আলীর কাছ থেকে ৩০০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা এবং ৬টি চেক গ্রহণ করেন জাকির শাহ। কিন্তু ব্যবসায়ী মো. ফজর আলী ৮ কোটি টাকার স্ট্যাম্প ও চেক দিলেও তার বিপরীতে বিভিন্ন সময়ে পীর জাকির শাহ তাকে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা প্রদান করে। পরবর্তীকালে পীর জাকির শাহ জানিয়ে দেন আর কোনো টাকা দিতে পারবেন না তিনি। এরপর ব্যবসায়ী ফজর আলী ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা ফেরত দিয়ে দেন জাকির শাহকে। ওই সময় স্ট্যাম্প ও ৩টি চেক পীর জাকির শাহ ফেরত দিলেও বাকি ৩টি চেক খুঁজে পাচ্ছেন না বলে জানিয়ে দেন ব্যবসায়ী ফজর আলীকে। ওই সময়ে স্ট্যাম্পের পেছনে চেক নম্বর উল্লেখ করে হারানো ৩টি চেক বাবদ কোনো দাবি-দাওয়া নেই মর্মে লিখিত অঙ্গীকার করেন জাকির শাহ। পরবর্তীকালে খুঁজে পেলে ফেরত দেবেন বলে অঙ্গীকারও করেন তিনি। কিন্তু কিছুদিন পর ব্যবসায়ী ফজর আলী জানতে পারেন- ওই চেক হারানো যায়নি এবং এগুলো নিয়ে পীর জাকির শাহ টাকা দাবি করার ষড়যন্ত্র করে আসছেন। ২০১৯ সালের ২৮শে সেপ্টেম্বর ব্যবসায়ী ফজর আলী নিজ বাড়িতে দাওয়াত দেন পীর জাকির শাহ এবং সহযোগি ইসমাইল হোসেন বাবুকে। এ সময় চেক ফেরতের বিষয়ে কথা বললে পীর জাকির শাহ ও সহযোগি বাবু ৫ কোটি টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে ক্ষতি হবে বলেও হুমকি দেন। এ ঘটনায় চলতি বছরের ৭ই জানুয়ারি ব্যবসায়ী ফজর আলী বাদী হয়ে কুতুববাগ দরবারের পীর জাকির শাহ ও তার সহযোগি ইসমাইল হোসেন বাবুর বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ক অঞ্চল) আদালতে একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। ২৬শে জানুয়ারি (রোববার) আদালত পীর জাকির শাহর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ভুক্তভোগী মামলার বাদী ব্যবসায়ী ফজর আলী জানান, একজন পীর হিসেবে আমি তাকে যথেষ্ট বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা করতাম। সরল বিশ্বাসে আমি কোনো টাকা না পেয়েই ৮ কোটি টাকার স্ট্যাম্প ও চেক ওনাকে দিয়েছি। পরে উনি ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা দিয়ে তিনি আর দিতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন। তখন এই টাকায় ব্যবসায়ীক উদ্দেশ্য সফল হবে না বলে টাকা ফেরত দিয়ে দেয়া হয়। তিনি আমাকে স্ট্যাম্প ও ৩ কোটি টাকার ৩টি চেক ফেরত দিয়ে বাকি ৫ কোটি টাকার ৩টি চেক খুঁজে পাচ্ছেন না বলে জানিয়ে দেন। বন্দর এলাকায় অবস্থিত কুতুববাগ দরবারের পীর জাকির শাহর বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ায় গত দুদিন ধরে শহর ও বন্দর এলাকাসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে।মানবজমিন ।...

মৌলভীবাজারে অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের ৫ জন নিহত

২৮জানুয়ারী,মঙ্গলবার,আমিনুল ইসলাম,মৌলভীবাজার,নিউজ একাত্তর ডট কম: মৌলভীবাজার শহরের সাইফুর রাহমান রোডে পিংকি সু স্টোরে অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের ৫ জন নিহত হয়েছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি ইউনিট। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। মৌলভীবাজার মডেল থানার ওসি (তদন্ত) পরিমল দেব জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে একটি পরিবারের পাঁচজন নিহত হয়েছেন। তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে এখনো কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি ইউনিট। তবে এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির কোনো পরিমাণ জানা যায়নি বলে জানান ওসি পরিমল দেব। স্থানীয়রা জানান, সুভাষ রায় নামে এক ব্যক্তি দোকানটি পরিচালনা করতেন; তার বাসাও ছিল দোকান লাগোয়া। সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানা যায়। আগুনে দোকান ও বাসা দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে। পরে নিহতদের মৃতদেহ উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে মর্গে নিয়ে যায় পুলিশ। মৌলভীবাজার ফায়ার স্টেশনের ম্যানেজার জানান, আগুনে দগ্ধ হয়ে একই পরিবারের পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। সদর থানার ওসি আলমগীর হোসেন জানান, এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে দুটি শিশুও রয়েছে। তবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি। ...

মৌলভীবাজারে সিএনজি-পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত দুই, আহত ৪

২৮জানুয়ারী,মঙ্গলবার,আমিনুল ইসলাম,মৌলভীবাজার,নিউজ একাত্তর ডট কম: মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন তিনজন। মঙ্গলবার সকাল আটটার দিকে উপজেলার বাউরভাগ এলাকায় কুয়াশার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, সদর উপজেলার বাউরভাগ গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে মোজাহিদুর রহমান (৩৫) ও পাবনা জেলার ইশ্বরদী গ্রামের হারুন মিয়ার ছেলে আল আমিন (২৫)। আহতদের মধ্যে তিনজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন, সুনামগঞ্জ জেলার উত্তর কুশিপাড়া গ্রামের মৃত মছদ্দির মিয়ার ছেলে শাহানুর রহমান (৩০), সদর উপজেলার দুগর গ্রামের মৃত রাজেন্দ্র সূত্র ধরের ছেলে নগেন্দ্র সূত্র ধর (৫০) ও একই গ্রামের মৃত হামিদ মিয়ার ছেলে মো. আরমান মিয়া (৩৬)। তাদের সিলেট এম এ জি ওসমানি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মৌলভীবাজার ফায়ার সার্ভিসের লিডার মো. শাহীন আহম্মদ নিউজ একাত্তরকে জানান, শেরপুর থেকে একটি সিএনজি যাত্রী নিয়ে মৌলভীবাজারের দিকে আসছিল। পথে বাউরভাগ এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে অটোরিকশা যাত্রী মুজাহিদুর রহমান মারা যান। আহতদের উদ্ধার করে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে আল আমিন নামের আরও একজন মারা যান। ...

মৌলভীবাজারে এক বছরে ৯ কোটি ৬০ লাখ কেজি চা উৎপাদন

২১জানুয়ারী,মঙ্গলবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশের চা শিল্পের ইতিহাসে উৎপাদনে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছিল ২০১৯ সালে । সে বছর মোট চা উৎপাদন হয়েছিল ৯ কোটি ৬০ লাখ কেজি, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ কোটি ৬০ লাখ কেজি বেশি। বাংলাদেশ চা বোর্ডের পক্ষ থেকে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশ চা বোর্ডের প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. একে এম রফিকুল হক এই তথ্য নিশ্চিত করেন। বিটিবি সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে উৎপাদিত চায়ের পরিমাণ ৮ কোটি ২১ লাখ ৩০ হাজার কেজি, যা দেশের চা উৎপাদন মৌসুমের (২০১৮) দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর আগে, ২০১৬ সালে আগের সব রেকর্ড ভেঙে ৮ কোটি ৫৫ লাখ কেজি চা পাতা উৎপাদন হয়েছিল। বাংলাদেশ চা বোর্ডের উপ-পরিচালক (পরিকল্পনা) মো. মুনির আহমদ বলেন, চা উৎপাদনে সর্বকালের রেকর্ড করলো বাংলাদেশ। ২০১৯ সালে ৯৬ দশমিক ৭ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদন হয়েছে। বিদেশি কোম্পানি, সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন ছোটবড় মিলিয়ে বাংলাদেশে ১৬২টি চা বাগান গড়ে উঠেছে। এরমধ্যে ৯২টি চা বাগানই মৌলভীবাজারে। শ্রীমঙ্গল জেমস ফিনলে টি কোম্পানির ভাড়াউড়া ডিভিশনের জিএম ও বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশন সিলেট ব্রাঞ্চের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ শিবলী বলেন, চায়ের উৎপাদন ভালো হলেও ন্যায্য মূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। ভারত থেকে নিম্নমানের চা চোরাইপথে বাংলাদেশে আসছে। যা অত্যন্ত নিম্নমানের, খাওয়ার অযোগ্য। ভারত থেকে নিম্নমানের চা আমদানি ও চোরাপথে আসা চা-পাতা বন্ধ করতে হবে। তা না হলে দেশীয় চায়ের মূল্য থাকবে না। আর এদেশের চা শিল্পকে বাচানো যাবে না।- আমাদের সময় ...

বাংলাদেশকে পেঁয়াজ কেনার অনুরোধ করলো ভারত

১৫জানুয়ারী,বুধবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের সরকারের চাহিদার ভিত্তিতে পেঁয়াজ আমদানি করার পর বিপদে পড়েছে দেশটির ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন সরকার। কেন্দ্রীয় সরকার পেঁয়াজ আমদানির পর ভারতের বেশিরভাগ রাজ্য সরকার তাদের চাহিদা প্রত্যাহার করে নেয়ায় এ বিপদ দেখা দিয়েছে। সোমবার ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার রকিবুল হকের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দেশীয় চাহিদার ভিত্তিতে আমদানিকৃত পেঁয়াজ রাজ্য সরকাররা কিনতে রাজি না হওয়ায় বাংলাদেশকে কিনে নেয়ার প্রস্তাব দেন ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী। বৈঠকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভারতের জ্যেষ্ঠ এক সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দেশটির ইংরেজি দৈনিক দ্য প্রিন্ট এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, ভারত বিদেশ থেকে মোট ৩৬ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির চুক্তি করেছে। ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশটিতে ১৮ হাজার টন পেঁয়াজ পৌঁছেছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রদেশের সরকার আমদানিকৃত পেঁয়াজের মাত্র ৩ হাজার টন নিয়েছে। অবশিষ্ট পেঁয়াজ মুম্বাইয়ের জওহরলাল নেহরু বন্দরে খালাসের অপেক্ষায়। চলতি মাসের শুরুর দিকে ভারতের ভোক্তা কল্যাণবিষয়ক মন্ত্রী রাম বিলাস পাসওয়ান জানান, আমদানিকৃত পেঁয়াজের মহারাষ্ট্র সরকার ১০ হাজার টন, আসাম ৩ হাজার টন, হরিয়ানা ৩ হাজার ৪৮০ টন, কর্ণাটক ২৫০ টন ও ওড়িশ্যা প্রদেশ সরকার ১০০ টন চাহিদা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। গত নভেম্বর এবং ডিসেম্বরে পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ১০০ রুপি পেরিয়ে যাওয়ার পর এসব রাজ্য এই নিত্যপণ্যটি আমদানি করতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল। এখন তারা আমদানিকৃত পেঁয়াজের উচ্চমূল্য এবং স্বাদের ভিন্নতার অজুহাত দেখিয়ে সেগুলো নিতে রাজি হচ্ছে না। রাজ্যগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের আমদানিকৃত পেঁয়াজ নিতে রাজি না হওয়ায় সেগুলো পচে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, ভারত এসব পেঁয়াজ প্রতি টন ৫০ হাজার থেকে ৫৯ হাজার (৬০০ থেকে ৭০০ ডলারে) টাকায় আমদানি করেছে। এখন বাংলাদেশকে এসব পেঁয়াজ প্রতি টন ৫৫০ থেকে ৫৮০ ডলারে কিনে নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে মোদি সরকার। ওই বৈঠকে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার রকিবুল হক বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে চীন থেকে পেঁয়াজ আমদানি করেছে এবং নেপাল হয়ে আরও পেঁয়াজ দেশের বাজারে ঢোকার অপেক্ষায় আছে। সুতরাং বিনামূল্যে পরিবহনসহ ভারতের কিছু প্রণোদনা দেয়া উচিত। প্রায় তিন মাস আগে ভারত সফরে গিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নয়াদিল্লিতে প্রকাশ্যে নরেন্দ্র মোদি সরকারের সমালোচনা করেছিলেন। ওই সময় বাংলাদেশকে না জানিয়ে হঠাৎ পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয় ভারত। যে কারণে বাংলাদেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ২০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। চারদিনের ওই সফরে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, আমি আশা করেছিলাম ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়ার আগে আমাদের অন্তত জানাবে। আমি রাঁধুনিকে বলেছি, আমার কোনো বিকল্প নেই। সুতরাং পেঁয়াজ ছাড়াই রান্না করতে হবে। আমি অনুরোধ করবো, আপনারা এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার আগে দয়া করে আমাদের অবগত করবেন। ...

নকলমুক্ত পরীক্ষার জন্য সরকার সব ব্যবস্থা নিয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী

২৯জানুয়ারী,বুধবার,শিক্ষা ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আগামী তিন ফেব্রুয়ারি থেকে অনুষ্ঠেয় মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট এসএসসি পরীক্ষা প্রশ্নফাঁসমুক্ত ও নকলমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। বুধবার সকালে বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির ৫৪ তম ব্যাচের ক্যাডেটদের শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান। তিনি আরও বলেন, প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়িয়ে মানুষের সঙ্গে যারা প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করে তাদের পাতা ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না। অভিভাবকদের উদ্দেশে ডা. দীপু মনি বলেন, ছেলে-মেয়েরা যাতে সুস্থভাবে, সুন্দরভাবে, মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে, পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয় সেদিকে যত্নবান হোন। বড় পরিসরের এই পাবলিক পরীক্ষায় সন্তানদের পড়ালেখার সঙ্গে অনৈতিক কোনও কিছু যুক্ত করবেন না। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গতানুগতিক শিক্ষা ব্যবস্থায় কিংবা প্রচলিত ধ্যান-ধারণায় উন্নত বাংলাদেশ গঠন করা সম্ভব নয়। এজন্য আধুনিক ও বিশ্বমানের জ্ঞান-বিজ্ঞানসমৃদ্ধ প্রযুক্তি ও দক্ষতানির্ভর সমাজ গঠনে কারিগরি শিক্ষার প্রসারে সরকার ইতোমধ্যে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। ৫৪তম ব্যাচে ১০৪ জন ক্যাডেট মেরিন একাডেমিতে দুই বছর একাডেমিক ও রেজিমেন্টাল প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করেছেন। ...

সকলকে সাম্প্রদায়িকতার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে:শিক্ষা উপমন্ত্রী

২৩জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সরকার ধর্মীয় শিক্ষার প্রশ্নে আপসহীন উল্লেখ করে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেছেন, বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ইসলামও ততদিন থাকবে। সকলকে সাম্প্রদায়িকতার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান নিজের স্বকীয়তা নিয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। শিক্ষার্থীদের ওপর জোর করে ধর্মীয় অনুশাসন মানতে বাধ্য করা যাবে না। বর্তমান সরকারের আমলে দেশে সকল ধর্মের মানুষ নিরাপদ রয়েছে বলেও তিনি জানান। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দিবা শাখার ৫৪তম বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, রাজধানীসহ সারাদেশের মানুষের কাছে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সুনাম রয়েছে। এ প্রতিষ্ঠান কখনো মানের প্রশ্নে আপস করেনি। সব সময় ভাল ফলাফলে এগিয়ে রয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষিকারা একাগ্রতার সাথে আমাদের সন্তানদের মান সম্মত শিক্ষা দিয়েছেন বলেই এ প্রতিষ্ঠানের এত সুনাম। এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। এ প্রতিষ্ঠানের যে নিজস্বতা ছিল, এখনো আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। পোশাক পরিবর্তনে আইডিয়াল স্কুলের স্বকীয়তা ও ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়া নিয়ে চিন্তা ও শঙ্কার কিছু নেই জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, সমাজ এগিয়ে যাচ্ছে তাই আমাদের মানসিকতারও পরিবর্তন হওয়া দরকার। চিন্তা ও চেতনার গভীরতা বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, সন্তানদের শালীনতার ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পরিবারের পক্ষ থেকে শিক্ষা দিলে তারা নিজ থেকে তা পালন করবে। কিন্তু যারা অপপ্রচার চালাচ্ছে যে একটি বিদ্যালয়ে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতে বাধা দেয়া হচ্ছে, সেই অপপ্রচারকারীদের আমরা চিনি। পোশাক পরিবর্তনে অভিভাবকদের একাংশের আন্দোলনকারীদের প্রতি অপপ্রচার না চালানোর আহ্বান জানিয়ে নওফেল বলেন, মানববন্ধনের নামে যারা শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে, তারা জ্বালাও-পোড়াও ও তথ্য প্রযুক্তি মামলার আসামি। তাদের কার্যক্রম সরকারের নজরে আছে। রাস্তায় আন্দোলন করতে ব্যর্থ হয়ে ঘরে ঢুকে সন্তানদের বিভ্রান্ত করতে চেষ্টা করছেন তারা। মন্ত্রী বলেন, মানববন্ধনের নামে বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা যদি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করা হয়, শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করতে চাওয়া হয়, তাহলে নিজেরাও ঘরেও শান্তিতে থাকতে পারবেন না। এদেশে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি থাকবে না। মানববন্ধনের নাম করে অরাজকতা করলে সবাইকে তুলে আনা হবে। তিনি বলেন, আমরা চাই দেশে হিংসা, হানাহানি বাদ দিয়ে সহনশীলতার সাথে বাস করতে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে ধর্মীয় স্বাধীনতা বজায় রেখে চলতে হবে। নতুন সমাজ, অর্থনীতি ও বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার মধ্যদিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। নওফেল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় বাংলাদেশে ইসলামি শিক্ষা, ধর্মীয় শিক্ষা, এবং মাদ্রাসা খাত উন্নয়নে যে ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বাংলাদেশের সুদীর্ঘ ইতিহাসে রাষ্ট্রীয়ভাবে আগে কেউ কখনো নেইনি। অতীতে যারাই এসেছেন তারা মুখে মুখে বলে গেছেন, ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছেন কিন্তু আজ সারাদেশে ৬ হাজার কোটি ব্যয়ে ১ হাজার ৮০০টি মাদ্রাসা নির্মাণ করছে সরকার। ভালবাসা ও মানবিকতার মাধ্যমে রাসূল (সা.) দ্বীন প্রচার করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, জোর জবরদস্তি করে, অপপ্রচার চালিয়ে কাউকে দ্বীনিকাজে কাজে বাধ্য করা যাবে না। আজকে যারা জোর-জবরদস্তি করে অনুশাসন চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন, সেটা অনুশাসন নয়, দুঃশাসন। যা কখনো চাপিয়ে দেয়া যাবে না। যারা ধর্মীয় অপপ্রচার চালাচ্ছে তারা কোন ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট করে সুদ খায় তা আমাদের জানা আছে। কথিত এই রাজনৈতিক গোষ্ঠী পশ্চিমা বিশ্বে কোন কূটনৈতিক পাড়ায় যায় তা আমরা জানি। মুখে মুখে দ্বীনের কথা বলবেন, আবার মাস্তানি করবেন সে দিন শেষ হয়ে গেছে। শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সন্তানদের ওপর সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কোচিং ও পাঠদানের নীতিমালা নিয়ে সরকার যে নির্দেশনা দিয়েছে, তা মেনে চলবেন। শিক্ষকদের আরও সুযোগ সুবিধা যাতে বৃদ্ধি করা যায়, সে চেষ্টা করছে সরকার। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, দ্বীনের পথ সেটাই যেটা আমাদের সহনশীলতা ও মানবিকতা শেখায়। তোমাদের শাসন মানতে হবে, সুশৃঙ্খল হতে হবে। ব্যক্তি জীবনে শৃঙ্খলার চর্চা না করতে পারলে ভবিষ্যৎ জীবনেও সফলতা পাওয়া যাবে না। তাই, শিক্ষকদের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। অনুষ্ঠানে গভর্নিং বডির সভাপতি আবু হেনা মোরশেদ জামানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যরিস্টার শাহ আলী ফরহাদ, প্রধান শিক্ষক ড. শাহনারা বেগম, গভর্নিং বডির অন্যান্য সদস্য ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। পরে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন শিক্ষা উপমন্ত্রী।...

প্রধানমন্ত্রীর হাতের রান্না খেয়ে আপ্লুত সাকিব-শিশির

২৬জানুয়ারী,রবিবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: এ মুহূর্তে আইসিসির জারিকৃত নিষেধাজ্ঞায় থাকলেও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান আসন গেঁড়ে নিয়েছেন দেশের কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর মনে। হারিয়ে যাননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হৃদয় থেকেও। তারই এক অনন্য উদাহরণ দেখা গেল আজ। নিজ হাতে রান্না করে সুস্বাদু সব খাবার সাকিবের বাসায় পাঠিয়ে দিলেন তিনি! এর আগেও অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে খেলতে দেখা গিয়েছিল সাকিবকন্যা আলাইনাকে। আর এবার রান্না করা সব খাবার পাঠিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করলেন শেখ হাসিনা। আজ রোববার দুপুরে এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন স্বয়ং সাকিব আল হাসান। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি লিখেছেন, 'আমি পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যবান ব্যক্তি। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি। সকালবেলায় সুস্বাদু সব খাবার রান্না করে তিনি আমার বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছেন! সাকিব আরও লিখেছেন, খাবারগুলো আমার স্ত্রীর জন্য ছিল, কারণ গতকাল উনার সঙ্গে দেখা হওয়ার সময় আমার স্ত্রী বলেছিল, এই খাবারগুলো তার পছন্দ। জীবনের সেরা এই উপহার পেয়ে আমার হৃদয় ভরে গেছে। সত্যি নিজেকে ধন্য মনে করছি! সাকিব ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো মজাদার খাবারের ছবিগুলোও দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন- I am the luckiest person on earth, Im truly speechless by this gesture of our honourable prime minister Sheikh Hasina as I got to taste her delicious cooking which she cooked herself this morning and sent to my house for my wife because she mentioned it was her favourite food when we visited her yesterday. Cant thank enough for this amazing gesture this will always remain in my heart for the rest of my life! We are truly blessed! এর আগে শনিবার (২৫ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে নিজের পছন্দের খাবারের কথা জানিয়েছিলেন সাকিবপত্নী উম্মে শিশির আল হাসান। এ সময় শিশিরের সঙ্গে ছিল তাদের কন্যা আলাইনাও। সাকিব ও শিশিরের মনের ইচ্ছেপূরণ করতেই নিজ হাতে সেই খাবারগুলো রান্না করে সাকিবের বাসায় পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টান অন্যরকম। ভালোবাসেন ক্রিকেটারদেরও। ব্যক্তিগতভাবে খোঁজখবর রাখেন ক্রিকেটারদের পরিবারেরও। ক্রিকেট ও ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দুয়ারও সবসময় খোলা। ক্রিকেটাররা স্ত্রী-পরিজন নিয়েও গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সান্নিধ্যে সময় কাটানোর সুযোগ পান। মাশরাফি বিন মুর্তজা-সাকিব আল হাসানের পরিবারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সখ্য বহুদিনের।- একুশে টেলিভিশন ...

হেরে উইকেটকে দুষলেন রিয়াদ

২৫জানুয়ারী,শনিবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পাকিস্তানের কাছে ৫ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। টাইগারদের দেয়া ১৪১ রানের লক্ষ্য টপকাতে ১৯ ওভার তিন বল খেলে স্বাগতিকরা। অথচ এই রান তাড়া করতে একটা ছয়ও হাঁকায়নি টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বরে থাকা পাকিস্তান! টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে টাইগার দুই ওপেনার তামিম ইকবাল আর নাঈম শেখ মিলে ১১ ওভারে করেন ৭১ রান। তামিম-নাঈম দুজনেই রান তুলেন ধীরগতিতে। শেষ পর্যন্ত এই ধীরগতিটাই কাল হয়ে দাঁড়ায় বাংলাদেশের জন্য। উইকেটের আচরণ বিবেচনায় তিন পেসার নিয়ে দল সাজিয়েছিল বাংলাদেশ। পিচে ঘাস না থাকলেও খুব একটা খারাপ করেনি শফিউল ইসলাম-আল-আমীন হোসেনরা। অনুজ্জ্বল ছিলেন কেবল মুস্তাফিজুর রহমান। দলের পারফর্মেন্স আশানুরূপ না হলেও হতাশ হচ্ছেন না বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তিনি বিশ্বাস করেন, এখনো সিরিজে ফিরে আসার সামর্থ্য আছে তার দলের। তবে প্রত্যাশা অনুযায়ী উইকেট না পাওয়ায় হতাশ রিয়াদ। আমি উইকেট থেকে আরও ভালো কিছু আশা করেছিলাম। এই উইকেটে বল যখন পুরোনো হতে শুরু করে তখন রান করা কঠিন হয়ে যায়। কারণ, আমরা যতটা আশা করেছিলাম সেই অনুযায়ী বল ব্যাটে আসেনি। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ। তামিম ইকবাল ও নাঈম শেখের ব্যাটে শুরুটা হয় ধীরগতির। চিরচেনা তামিমের সাম্প্রতিক অচেনা ধীরগতির ব্যাটিংয়ের ফলে কথা উঠেছে তার টি-টোয়েন্টি ব্যাটিং সক্ষমতা নিয়েও। যদিও তামিমের আজকের পারফর্মেন্সে সন্তুষ্ট রিয়াদ। আমার মনে হয় তারা (তামিম, নাঈম) আমাদের জন্য একটা অসাধারণ শুরু করে দিয়ে গেছে। আমরা মাঝের ওভারগুলোতে আমাদের উইকেট হারিয়েছি। কৃতিত্ব অবশ্যই পাকিস্তানি বোলারদের। আমরা এই ব্যাপারগুলো মনে রাখবো এবং পরের ম্যাচে আরও ভালোভাবে ফিরে আসার চেষ্টা করবো। ...

সম্মাননা পাচ্ছেন রফিকুল আলম ও ফকীর আলমগীর

২৯জানুয়ারী,বুধবার,বিনোদন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলা আধুনিক গানে অসামান্য অবদানের জন্য ১৪তম চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড ২০১৯-এ সম্মাননা পাচ্ছেন রফিকুল আলম ও গণসঙ্গীতে ফকীর আলমগীর। এ উপলক্ষে সংগীতের সকল শাখার সকল শিল্পী আবারও একই মঞ্চে এক হতে যাচ্ছেন ৩০শে জানুয়ারি। এবারের অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠিত হবে সিলেট হবিগঞ্জের দ্যা প্যালেসে সন্ধ্যা ৭টায়। এরই মধ্যে অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানের মঞ্চসহ সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এই আয়োজনে মোট ১৪টি ক্যাটাগরিতে সমালোচক পুরস্কার প্রদান করা হবে। অন্যদিকে আয়োজনের দিক দিয়ে চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড-এ প্রতিবারের মতো এবারও থাকবে বিশেষ চমক। বাংলাদেশের গানের জগৎ যখন এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছিল ঠিক সেই সময় দেশের সুস্থ ধারার সংগীতকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ২০০৪ সালে শুরু হয়েছিল দক্ষিণ এশিয়ার সবচাইতে বড় আয়োজন চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড। এর বিভাগগুলো হলো- শ্রেষ্ঠ রবীন্দ্র সংগীত, নজরুল সংগীত, লোক সংগীত, গীতিকার, সংগীত পরিচালক, মিউজিক ভিডিও, কাভার ডিজাইন, সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার, আধুনিক গান, ব্যান্ড, নবাগত শিল্পী, ছায়াছবির গান, উচ্চাঙ্গসংগীত কন্ঠ এবং উচ্চাঙ্গসংগীত যন্ত্র। ...

ভালোবাসা দিবসে অহনা

২৮জানুয়ারী,মঙ্গলবার,বিনোদন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জনপ্রিয় মডেল-অভিনেত্রী অহনা রহমান। গেল বছর ঘোষণা দিয়েছেন ধারাবাহিক নাটকে আর অভিনয় করবেন না। এখন একক নাটক নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। তারই ধারাবাহিকতায় এ অভিনেত্রীকে ভালোবাসা দিবসে তিনটি একক নাটকে দেখা যাবে। এরইমধ্যে দুটি নাটকের শুটিং শেষ। নাটক দুটি হলো তপু খানের কবির খানের বুমেরাং ও মাসুম আল জাবেরের- জেরিন আনটোল্ড স্টোরি। দুটি নাটকে তিনি থাকছেন তৌসিফ মাহবুব ও মনির খান শিমুলের বিপরীতে। আর ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ভালোবাসা দিবসের আরো একটি নাটকের শুটিং করবেন এ অভিনেত্রী। অহনা বলেন, আমি এখন একক নাটকই শুধু করছি। পাশাপাশি ওয়েব সিরিজেও কাজ করা হচ্ছে। তবে এ সময়ে কাজ বেশি করছি না। কারণ আগামী মাসে আমি ওমরা হজ করতে যাচ্ছি। সেখান থেকে ফিরে পুরোদমে কাজে নামতে চাই।- বিনোদন২৪ ...

ঘুরে আসুন গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত

মো:ইরফান চৌধুরী,পর্যটন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশের চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় নদীর মোহনায় অবস্থিত গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত। এই সৈকতটি স্থানীয় মানুষজনের কাছে মুরাদপুর সৈকত নামেই বেশি পরিচিত। গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতটি সীতাকুণ্ড জেলার সীতাকুণ্ড বাজার থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। প্রকৃতি ও গঠনগত দিক থেকে এই সৈকতটি আমাদের দেশের অন্যান্য সমুদ্র সৈকত থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এর একদিকে যেমন দিগন্ত জোড়া জলরাশি, আর অন্যদিকে কেওড়া বন দেখা যায়। কেওড়া বনের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া খালের চারদিকে কেওড়া গাছের শ্বাসমূলগুলো স্পষ্ট দেখা যায়। এই বন সমুদ্রের অনেকটা গভীর পর্যন্ত চলে গেছে। এই সৈকতের পরিবেশ অনেকটা সোয়াম্প ফরেস্ট ও ম্যানগ্রোভ বনের মত। পুরো সৈকত জুড়ে সবুজ গালিচার বিস্তীর্ণ ঘাস একে আর সব সমুদ্র সৈকত থেকে করে তুলেছে ভিন্ন। এই সৈকতের সবুজের মাঝ দিয়ে এঁকে বেঁকে চলে গেছে সরু নালা। নালাগুলো জোয়ারের সময় পানিতে ভরে ওঠে। আকাশের উড়ন্ত পাখি, সমুদ্রের ঢেউ আর বাতাসের মিতালীর অনন্য অবস্থান দেখা যায় এই গুলিয়াখালি সমুদ্র সৈকতে। অল্প পরিচিত এই সৈকতে মানুষজনের আনাগোনা কম বলে আপনি পাবেন নিরবিলি পরিবেশ। সাগরের মতো অতটা ঢেউ বা গর্জন না থাকলেও এই নিরবিলি পরিবেশের গুলিয়াখালি সমুদ্র সৈকত আপনার কাছে ধরা দিবে ভিন্নভাবেই। চাইলে জেলেদের বোটে সমুদ্রে ঘুরে আসতে পারেন। এক্ষেত্রে দরদাম করে বোট ঠিক করে নিতে হবে। যেভাবে যাবেন: চট্রগ্রামের অলংকার মোড়, এঁকে খান মোড়, কদমতলী থেকে সীতাকুণ্ড যাওয়ার বাস ও মেক্সি পাওয়া যায়। পছন্দ মতো জায়গা থেকে যেতে পারবেন সীতাকুণ্ড বাজারে। এরপর সীতাকুন্ডের বাস স্ট্যান্ড ব্রীজের নিচ থেকে সরাসরি সিএনজি/অটো নিয়ে গুলিয়াখালি বীচের বাঁধ পর্যন্ত চলে যেতে পারবেন। যাওয়া-আসা সহ রিজার্ভ করে নিতে পারেন। সন্ধ্যা হয়ে গেলে অনেক সময় ফিরে আসার সময় সিএনজি/অটো পাওয়া যায় না। ...

শত বছরের পুরোনো দুর্গাবাড়ী

বাঙালি হিন্দু সমাজের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দুর্গোৎসব। আর এই পুজোয় আপনিও ঘুরে আসতে পারেন সিলেটের শত বছরের পুরোনো দুর্গাবাড়ী থেকে। আর খরচের কথা ভাবছেন, মাত্র ৮০০ টাকা।শোনা যায় কলকাতার পাথরঘাটা নামক স্থানের এক সম্ভ্রান্ত জমিদার এই দুর্গাবাড়ী প্রতিষ্ঠান করেন। এই ব্যাপারে ব্রজেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী সম্পাদিত স্মৃতি প্রতিতি নামক বই এ উল্লেখ আছে। ব্রজেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরী ছিলেন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা। স্বদেশি আন্দোলনে অনেক বীর এখানে এসে মায়ের পায়ে নিজের রক্ত দিয়ে প্রতিজ্ঞা করতেন নিজের আদর্শ থেকে এক চুলও বিচ্যুত হবেন না। স্বদেশকে পরাধীনতা থেকে মুক্ত করেই তবে ঘরে ফিরবেন।টিলার ওপর মূল মন্দির অবস্থিত। অর্ধশত সিঁড়ি ডিঙিয়ে আপনাকে পৌঁছাতে হবে মূল মন্দিরে। মূল মন্দিরে স্থাপিত দুর্গা প্রতিমা শত বছর ধরে পুজিত হয়ে আসছেন। পাশেই আছে আপনার বসার জন্য জায়গা। এর সাথেই আছে শিব মন্দির। টিলার থেকে দূরের দৃশ্য আপনাকে অভিভূত করবে। পূজার সময় ধূপ-ধূনার মোহনীয় গন্ধ আপনাকে নিয়ে যাবে এক অন্য জগতে।কীভাবে যাবেন,দুর্গাবাড়ী মন্দির যেতে হলে আপনাকে বাস/টেনে করে আসতে হবে সিলেট শহরে। প্রতিদিন ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশে বাস/ট্রেন ছাড়ে, ভাড়া পড়বে ৩২০ টাকা থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। সিলেট শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকে দুর্গাবাড়ী যাব বললেই আপনাকে নিয়ে যাবে শত বছরের পুরোনো দুর্গাবাড়িতে। রিকশা/সিএনজি ভাড়া নেবে ৮০ থেকে ১৫০ টাকা।...

মুজিব বর্ষে জাতির উপহার ও ই-পাসপোর্ট যুগে বাংলাদেশ

২৫জানুয়ারী,শনিবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশও অবশেষে ই-পাসপোর্ট যুগে প্রবেশ করলো। বিশ্বের ১১৯ তম এবং দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম কোন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ই-পাসপোর্ট যুগে প্রবেশ। বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসেছিলেন- ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ঘোষণা করে। ডিজিটাল প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত-ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান অঙ্গিকার। সে লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। এবারও আর এক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। ই-পাসপোর্ট সিস্টেম সরকারের চলমান ডিজিটাইজেশন প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন ভূমিকারই অংশ। এক্ষেত্রে জনগন সহজ পদ্ধতিতে সেবা পাবে এবং বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি সমুন্নত হবে। ই-পাসপোর্ট উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এটি হলো মুজিববর্ষে জাতিকে উপহার। বঙ্গবন্ধু কন্যা জনগনকে উন্নত বাংলাদেশের সপ্ন দেখিয়েছিলেন। তার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে অনেক কাজ করেছেন। যার মধ্যে ই-পাসপোর্ট প্রবর্তন একটি। তবে বাংলাদেশের নিয়মিত বিদেশযাত্রীদের প্রধান অংশই হলো নিরক্ষর বা সল্পশিক্ষিত সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ। এদের অধিকাংশই বিদেশযাত্রী। আমাদের দেশে বিদেশযাত্রা নিয়ে নানা ধরনের প্রতারণা চলে। গলা কাটা পাসপোর্ট অর্থ্যাৎ একজনের পাসপোর্টে অন্যের মাথা বসিয়ে ও জালিয়াতি করা হতো। আবার জাল পাসপোর্টের ব্যবহার ও কম নেই। তা ছাড়া যথাযথ ডকুমেন্ট ছাড়াও বিদেশ পাড়ি দিতে দেখা যায় শ্রমিকদের। এর ফলে যে কোন সময় তারা বিপদে পড়ে ও পরিণামে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে। ই-পাসপোর্টের চিপের মধ্যে একজন ব্যক্তির সব ধরনের তথ্য-উপাত্ত থাকবে। ফলে তার পক্ষে জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া সম্ভব নয়। এর ফলে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশিদের জন্য বিদেশযাত্রা সহজ হয়ে যাবে। এ নিয়ে জালিয়াতি ও প্রতারণা বন্ধ হবে এবং বাংলাদেশের ও আমাদের শ্রমিকদের প্রতি বিদেশিদের আস্থা বাড়বে। কারণ এই অভিবাসী শ্রমজীবীদের পাঠানো রেমিট্যান্সই আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রাধান উৎস। ই-পাসপোর্টকে আমরা স্বাগত জানাই। বাংলাদেশের এই নবযাত্রায় সরকারকে অভিনন্দন। লেখকঃ মোঃ ইরফান চৌধুরী, প্রকাশক- ই-প্রিয়২৪, প্রাবন্ধিক ও মানবাধিকার কর্মী, (ছাত্র)।...

জাতির পিতার মহাপ্রত্যাবর্তন

১০জানুয়ারী ,শুক্রবার,মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ। ১৯৭২ সালের এই দিনে স্বাধীন স্বভূমে পা রেখেছিলেন স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা। কোটি বাঙালির আবেগমথিত এই দিনটি এবার হাজির হয়েছে অন্য মহিমায়। আগামী ১৭ই মার্চ জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী। বেঁচে থাকলে শতবর্ষে পা রাখতেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক শততম জন্মবার্ষিকীকে স্মরণীয় করে রাখতে বছরজুড়ে পালিত হবে নানা কর্মসূচি। বছরটিকে ঘোষণা করা হয়েছে মুজিববর্ষ হিসেবে। শুধু কর্মসূচিতেই নয়, মুজিববর্ষে আওয়ামী লীগ ও সরকার জনগণের প্রতি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানাতে চায় বঙ্গবন্ধুর প্রতি। দল এবং সরকারের পক্ষ থেকে এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলা হচ্ছে এই বছরে কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি দল এবং সরকারকে আরো জনবান্ধব করার উদ্যোগ নেয়া হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি জাতির দ্রষ্টা এবং স্থপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধুকে এখনো পরিপূর্ণ সম্মান দেয়া যায়নি। সকল বিতর্কের ঊর্ধ্বে রেখে জাতির পিতা হিসেবে তাকে সর্বোচ্চ স্থানে প্রতিষ্ঠা করাই হওয়া উচিত জন্মশতবার্ষিকীর অঙ্গীকার। বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন, মাত্র ১৩১৫ দিনের মেয়াদকালে বঙ্গবন্ধু অনেক কিছুরই সূচনা করেছিলেন। একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গঠনে নিয়েছিলেন সময়উপযোগী নানা উদ্যোগ। তিনি তার কাজের মাধ্যমে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে ছিলেন। মানুষের জন্য একটি রাষ্ট্র গড়তে চেয়েছিলেন। সমাজে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে চেয়েছিলেন। অনিয়ম দুর্নীতির অচলায়ন ভাঙার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। রাজনৈতিক বিভেদ-বৈষম্য দূর করতে চেয়েছিলেন। স্বল্প সময়ে তিনি যে স্বপ্নের সিঁড়ির ভিত্তি গড়েছিলেন এতোদিনে তা কতোদূর পৌঁছেছে এটিই এখন মূল্যায়নের বড় বিষয়। দীর্ঘ সংগ্রাম আর পিচ্ছিল পথ পাড়ি দিয়ে বঙ্গবন্ধু জাতিকে মুক্তির মোহনায় একত্রিত করতে পেরেছিলেন। স্বাধীনতার আকাঙ্খা জাগিয়ে তুলেছিলেন প্রাণে প্রাণে। অবিসংবাদিত এ নেতার ডাকে তাই মরণপণ যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল স্বাধীনতাকামী মানুষ। পাকিস্তানের কারাগারে থাকা বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে মুক্তিযুদ্ধ ধীরে ধীরে ধাবিত হয়েছে চূড়ান্ত পর্বে। নয় মাসের সংগ্রাম শেষে উদিত হয় স্বাধীনতার লাল সূর্য। ১৯৭২ সালে দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধু দেশগড়ার যে কাজ শুরু করেছিলেন তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের কালো রাতে বিভৎস হত্যাকাণ্ডে থমকে যায় জনকের স্বপ্নযাত্রা। বঙ্গবন্ধুকে সেদিন স্বপরিবারে হত্যা করে ঘাতকরা পৃথিবীর নৃশংসতম ঘটনার অবতারণা করে। কিন্তু তারা যে উদ্দেশ্য নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় তা সফল হয়নি। মাঝে কিছু ব্যত্যয় হলেও বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথ ধরেই এগোচ্ছে বাংলাদেশ। বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু সময় এবং সীমানা পেরিয়ে পরিণত হয়েছেন মহাকালের মহান নেতায়। ঐতিহাসিক ৭ই মার্চে দেয়া তার ভাষণ পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বকালের সেরা ভাষণের একটি। জন্মশতবর্ষে এই মহান নেতা নতুন মহিমায় উদ্ভাসিত হবেন জাতীয় জীবনে। মুজিব বর্ষের নানা কর্মসূচিতে তাকে স্মরণ করবেন বিশ্বনেতারা। আজ থেকেই শুরু হবে মুজিব বর্ষের ক্ষণ গণনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয়ভাবে বিকালে তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে মুজিব বর্ষের কাউন্টডাউন অনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এরপর প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও সকল পাবলিক প্লেসে একইসঙ্গে কাউন্টডাউন শুরু হবে। সারা দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের ২৮টি পয়েন্টে, বিভাগীয় শহরগুলো, ৫৩ জেলা ও দুই উপজেলা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীতে মোট ৮৩টি পয়েন্টে কাউন্টডাউন ঘড়ি বসানো হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী উদযাপনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে একটি বাস্তবায়ন কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, সংসদের বিরোধীদলীয় নেতাসহ রাজনীতিক ও বিভিন্ন পেশার বিশিষ্টজনরা। প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীকে জাতীয় কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়া জাতীয় অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে বাস্তবায়ন কমিটি। জাতির পিতার শততম জন্মবার্ষিকী স্মরণীয় করে রাখতে সরকারের পাশাপাশি দলীয়ভাবেও কর্মসূচি নিয়েছে আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে আতশবাজির মাধ্যমে শুরু হবে মুজিব বর্ষের ক্ষণ গণনা। এছাড়া দেশ-বিদেশে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, স্বল্পদৈর্ঘ চলচ্চিত্র, প্রমাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, বঙ্গবন্ধুর নামে আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তন, গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড এবং হাতে হাত রেখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রতিকৃতি গড়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড হিসেবে অন্তর্ভুক্তকরণ। এছাড়া কনসার্টসহ নানা আনন্দ আয়োজন ও রক্তদানসহ সেবাধর্মী কর্মসূচি থাকবে বছরজুড়ে। ১৭ই মার্চ মূল অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং বঙ্গবন্ধুর সময়ের রাজনৈতিক, সামাজিক ব্যক্তিত্বকে। তাদের মধ্যে আছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ, ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন, জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোসহ বিশ্বনেতারা। জন্মশতবার্ষিকীর মূল আয়োজন শুরু হবে ১৭ই মার্চ সূর্যোদয়ের সময়ই। সকালে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে সেনাবাহিনীর তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল অনুষ্ঠান। এদিন ঢাকা ও গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় একই সঙ্গে অনুষ্ঠান শুরু হবে। সকালে টুঙ্গিপাড়ায় থাকবে জাতীয় শিশু দিবসের নানান আয়োজন। এরপর বিকালে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হবে মূল অনুষ্ঠান। প্রকাশ করা হবে জন্মশতবার্ষিকীর বিভিন্ন স্যুভেনির, স্মারক বক্তৃতা, দেশি-বিদেশি শিল্পীদের সমন্বয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সারা দেশেই এদিন আয়োজন করা হবে আনন্দ RAILLY। সাজানো হবে গুরুত্বপূর্ণ সব স্থাপনা, সড়কদ্বীপ। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১৭ই মার্চের মূল আয়োজনে থাকবেন বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান, বঙ্গবন্ধুর সমসাময়িক সময়ের রাজনৈতিক, সামাজিক ব্যক্তিত্বরা। স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের এদিন বেলা ১টা ৪১ মিনিটে জাতির এই অবিসংবাদিত নেতা সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি পাকিস্তান থেকে প্রথমে লন্ডন যান। তারপর দিল্লী হয়ে ঢাকায় ফেরেন। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে বঙ্গবন্ধু সর্বস্তরের জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। স্বাধীনতা ঘোষণার অব্যবহিত পর পাকিস্তানের সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে আটক রাখা হয়। স্বাধীনতাকামী এই নেতাকে কারাগারে তাকে হত্যার ভয় দেখানো হয়। কিন্তু তিনি কিছুতেই দমে যাননি। আপসহীন এ নেতা অটল ছিলেন বাংলাদেশকে স্বাধীন করার প্রতিজ্ঞায়। ১৯৭২ সালের ৭ই জানুয়ারি ভোর রাতে বঙ্গবন্ধুকে কারাগার থেকে মুক্ত করে বিমানে পাঠিয়ে দেয়া হল লন্ডনে। তখন তার সঙ্গে ড. কামাল হোসেনও ছিলেন। সকাল সাড়ে ৬টায় তারা পৌঁছান লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে। বেলা ১০টার পর থেকে তিনি কথা বলেন, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ, তাজউদ্দিন আহমদ ও ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীসহ অনেকের সঙ্গে। ব্রিটেনের বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে করে পরের দিন ৯ই জানুয়ারি দেশের পথে যাত্রা করেন বঙ্গবন্ধু। ১০ই জানুয়ারি দিল্লিতে অবতরণ করে ওই বিমান। সেখানে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভিভি গিরি, প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, পুরো মন্ত্রিসভা, রাজনৈতিক দলের নেতারা রাজকীয় অভ্যর্থনা জানান বঙ্গবন্ধুকে। বঙ্গবন্ধু ঢাকা এসে পৌঁছেন ১০ই জানুয়ারি দুপুরের পর। ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয়ের পর বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুকে প্রাণঢালা সংবর্ধনা জানাতে অধির অপেক্ষায় ছিল। আনন্দে আত্মহারা লাখ লাখ মানুষ ঢাকা বিমান বন্দর থেকে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পর্যন্ত তাকে স্বতঃস্ফূর্ত সংবর্ধনা জানায়। লাখো মানুষের ভিড় ঠেলে বঙ্গবন্ধুকে বহন করা গাড়ি বহর উদ্যানে পৌঁছতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। বিকাল পাঁচটায় রেসকোর্স ময়দানে প্রায় ১০ লাখ লোকের উপস্থিতিতে তিনি ভাষণ দেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু তার ঐতিহাসিক ধ্রুপদি ভাষণে বলেন, যে মাটিকে আমি এত ভালবাসি, যে মানুষকে আমি এত ভালবাসি, যে জাতিকে আমি এত ভালবাসি, আমি জানতাম না সে বাংলায় আমি যেতে পারবো কিনা। আজ আমি বাংলায় ফিরে এসেছি বাংলার ভাইয়েদের কাছে, মায়েদের কাছে, বোনদের কাছে। বাংলা আমার স্বাধীন, বাংলাদেশ আজ স্বাধীন। বঙ্গবন্ধু তার এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে আখ্যা দিয়েছিলেন অন্ধকার থেকে আলোপথে যাত্রা হিসেবে। এদিকে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন ও সারাদেশে সংগঠনের সকল কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭ টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে প্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন। এছাড়া জন্মশতবর্ষ পালনের ক্ষণ গণনা কর্মসূচিতেও অংশ নেবেন দলের নেতারা।...

নির্বাচনী ইশতেহারে তাপসের পাঁচ পরিকল্পনা

২৯জানুয়ারী,বুধবার,রাজনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন। ইশতেহারে পাঁচ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে- ঐতিহ্যের ঢাকা, সচল ঢাকা, সুন্দর ঢাকা, সুশাসিত ঢাকা ও উন্নত ঢাকা। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, মোজাফফর হোসেন পল্টু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, মহানগর দক্ষিণ শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহাম্মদ মান্নাফী, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ প্রমুখ। ...

করোনাভাইরাস পদ্মা সেতু নির্মাণে প্রভাব ফেলবে না: কাদের

২৯জানুয়ারী,বুধবার,রাজনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, চীনে করোনাভাইরাস আক্রান্তের কারণে পদ্মা সেতু নির্মাণে কোনো প্রভাব ফেলবে না। সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। এতে সরকার কমিশনকে সহযোগিতা করবে। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে বিএনপির এজেন্টদের কোনো বাধা দেবে না আওয়ামী লীগ। কিন্তু ভোট কেন্দ্রে যদি এজেন্ট দিতে না পারে সে ব্যর্থতা বিএনপির। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে ৬৭ জন বিদেশিসহ এক হাজারের বেশি পর্যটক থাকবে। সেখানে নিজ দলের কাউকে রাখা হয়নি। নির্বাচনের পরিবেশ ভালো উল্লেখ করে বিএনপি অস্ত্রধারীসহ বহিরাগতদের ঢাকায় এনে ভোটকেন্দ্র রক্ষার নামে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলে উদ্বেগ জানান তিনি। ...

যৌতুকমুক্ত বাংলা চান? তবে লাখো কোটি দেনমোহর দাবি বন্ধ করুন--

২৯জানুয়ারী,বুধবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেনমোহর ও যৌতুক বর্তমান আধুনিক যুগে যেন একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী বা একে অপরের পরিপূরক। এখন বিবাহ বন্ধনটা যেন প্রতিযোগিতা আসর। কে, কার চেয়ে বেশি দেনমোহর দাবি করবে বা কে বেশি দিবে? আবার, কার বাবা কার মেয়ের জন্য শ্বশুর বাড়িতে যৌতুক কত দিচ্ছে বা ফার্ণিচার কয় পদের? বর্তমান এমন সমাজ ব্যবস্হায় নিজেদের মাঝে এমন আদিপত্য বজায় রাখতে গিয়ে সংসার আগুন, খুন পর্যন্ত সম্মুখীন হচ্ছে স্বামী স্ত্রী। ভাঙ্গণ হচ্ছে শত শত পরিবার সুখ সংসার। যদি এই দু-সমস্যা হতে আমরা মুক্তি চাই তবে উভয়দিকে নমনীয় ও ধর্মীয় নিয়মকানুন অনুসরণ হবে একমাত্র মুক্তিদিশারী। আপনি যদি মেয়েকে যৌতুকমুক্ত বিবাহ দিতে চান তবে পাত্র আয়ের উপর নির্ভর করে দেনমোহর দাবি করুন। কেননা, মুসলিম বিয়েতে স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রী যে অর্থ সম্পদ পেয়ে থাকে তাকেই দেনমোহর বলে। বিয়ের সময় স্ত্রীকে দেনমোহর প্রদান করা স্বামীর উপর ফরজ। পবিত্র কুরআনুল কারীমে এই বিষয়ে সরাসরি আল্লাহর হুকুম রয়েছে- ইরশাদ হচ্ছে- وَاَتُوْا النِّسَاءَ صَدُقَتِهِنَّ نِحْلَةً فَاِنْ طِبْنَ لَكُمْ عَنْ شَىْءٍ مِنْهُ نَفْسًا فَكُلُوْهُ هَنِيْئًا مَّرِيْئًا . অর্থাৎ- আর তোমাদের স্ত্রীদের তাদের দেনমোহর দিয়ে দাও খুশি মনে। অবশ্য স্ত্রী চাইলে দেনমোহর কিছু অংশ কিংবা সম্পূর্ণ অংশ ছেড়ে দিতে পারে । এছাড়াও পবিত্র কুরআনের আরো বিভিন্ন জায়গায় স্ত্রীকে মোহর প্রদান করার কথা বলা হয়েছে। কেউ মোহর দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার জন্য হাদিস শরীফে কঠিন হুশিয়ারী উচ্চারণ করা হয়েছে। রাসুলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- যে ব্যক্তি কোন মেয়েকে মোহরানা দেওয়ার ওয়াদায় বিয়ে করেছে, কিন্তু মোহরানা দেওয়ার ইচ্ছা নেই, সে কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট ব্যভিচারী হিসেবে দাঁড়াতে বাধ্য হবে। বর্তমানে আমাদের সমাজে মোহর নির্ধারণ নিয়ে অনেক বাড়াবাড়ি হয়। অনেক ক্ষেত্রে কন্যা পক্ষের পছন্দ মোতাবেক মোহর নির্ধারিত না হওয়ায় বিবাহ ভেঙ্গে যায়। পাত্রের সামর্থ্যরে বাইরে তার উপর মোহরের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। অথচ ইসলামে মোহর নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করা থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে। হাদিস শরীফে এসেছে- قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ: لَا تُغَالُوا صَدَاقَ النِّسَاءِ، فَإِنَّهَا لَوْ كَانَتْ مَكْرُمَةً فِي الدُّنْيَا، أَوْ تَقْوًى عِنْدَ اللَّهِ، كَانَ أَوْلَاكُمْ وَأَحَقَّكُمْ بِهَا مُحَمَّدٌ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ;مَا أَصْدَقَ امْرَأَةً مِنْ نِسَائِهِ، وَلَا أُصْدِقَتِ امْرَأَةٌ مِنْ بَنَاتِهِ أَكْثَرَ مِنِ اثْنَتَيْ عَشْرَةَ أُوقِيَّةً، وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيُثَقِّلُ صَدَقَةَ امْرَأَتِهِ حَتَّى يَكُونَ لَهَا عَدَاوَةٌ فِي نَفْسِهِ .অর্থাৎ- হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, মহিলাদের মোহরের ব্যাপারে তোমরা বাড়াবাড়ি করো না। কেননা তা যদি পার্থিব জীবনে সম্মান অথবা আল্লাহর কাছে তাক্বওয়ার প্রতীক হতো, তাহলে তোমাদের মধ্যে মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে অধিক যোগ্য ও অগ্রগণ্য ছিলেন। তিনি তার স্ত্রী ও কন্যাদের মোহর বারো উকিয়ার বেশি ধার্য করেননি। কখনও অধিক মোহর স্বামীর উপর বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। মোহরের পরিমান বেশি নির্ধারণ করার কারণে আমাদের সমাজে অধিকাংশ স্বামীর ক্ষেত্রেই মোহর পরিশোধ না করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এটা সম্পূর্ণরুপে ইসলাম পরিপন্থী কাজ। তাই আমাদের এই ব্যাপারে অধিক সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। আর পাত্র সামর্থ্য বিবেচনায় যদি আয়ের উপর দেনমোহর ধার্য হয় তবে কখনও কোনো পুরুষ বিবাহের সময় যৌতুক হিসেবে একটা সুতাও নিবে না। তাই পরিশেষে বলতেই হয়- যৌতুকমুক্ত বাংলা চান, তবে লাখো কোটি দেনমোহর দাবি বন্ধ করুন।- মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম আলফি, ব্লগার ও সোশ্যাল এওয়ারন্যাস ওয়ার্কার, শিক্ষার্থী, স্নাতক ৪র্থ বর্ষ, হিসাববিজ্ঞান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। ...

প্রযুক্তিগত পরকীয়া, ইসলাম যা বলে

২৪জানুয়ারী,শুক্রবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বর্তমান সমাজে পরকীয়া ক্যান্সারের আকার ধারণ করছে। যুবক থেকে বৃদ্ধ সব মহলেই এর আগ্রাসন দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। বেলজিয়ামের মনস্তাত্ত্বিক এস্থার পেরেল তাঁর দ্য স্টেট অব অ্যাফেয়ার বইয়ে পরকীয়াকে ক্যান্সারের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেছেন, জীবনযন্ত্রণার অন্যতম কারণ দ্বিতীয় কোনো নারী বা পুরুষের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া। পরকীয়া বিশ্বব্যাপী অশান্তি নামিয়ে আনছে। এর জেরে কখনো কখনো খুনখারাবির মতো জঘন্য ঘটনাও ঘটে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নেভাদার অধ্যাপক ড্যানিয়েল উয়েগেল ও গবেষক রোজি শ্রাউটের মতে, পরকীয়া সম্পর্ক ভুক্তভোগীর মনে ক্রোধ, অশান্তি, দুঃখ, অবিশ্বাস ও অশেষ মনোযন্ত্রণার সৃষ্টি করে। এর প্রধান কারণ আল্লাহর আইনের অমান্য করা। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর জিকির থেকে বিমুখ হয়, তার জীবনযাত্রা সংকীর্ণ ও দুঃখে ভরপুর হয়ে ওঠে। (সুরা : ত্বহা, আয়াত : ১২৪) বর্তমান প্রযুক্তির যুগে পরকীয়া অনেক সহজ। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ফ্রি কলিং অ্যাপ ও মোবাইল ফোন এই কাজটি ভীষণ সহজ করে দিয়েছে। এখন আর কারো সঙ্গে দেখা করার জন্য গোপনে তার ঘরের পেছনে গিয়ে মশার কামড় খেতে হয় না। মুঠোফোনে ভিডিও কলের মাধ্যমে এক মুহূর্তেই প্রেমিকার দেখা পাওয়া যায়। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে মোবাইল ফোনের অনেক ইতিবাচক দিক আছে। মানুষের মধ্যে সহজ যোগাযোগ ও দূরত্ব ঘুচিয়ে আনতে মোবাইল ফোনের জুড়ি নেই। লেনদেন, ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে বিশ্বকে জানা ও বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে মোবাইলের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও মানুষের জীবনে বহুমাত্রিক অকল্যাণ বয়ে আনছে এই যন্ত্রটি। কিন্তু ক্ষেত্রবিশেষে এর অপকারিতাও কম নয়। শুধু পরকীয়াই নয়, বরং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায়ও ব্যাপক প্রভাব ফেলে এই প্রযুক্তি। সিএনএনের গবেষণা মতে, ৫০ শতাংশ কিশোর ও ২৭ শতাংশ মা-বাবা মনে করেন, তাদের মধ্যে মোবাইল ফোন আসক্তির রূপ নিয়েছে। প্রায় ৮০ শতাংশ ছাত্র-ছাত্রী প্রতি ঘণ্টায় তাদের মোবাইল চেক করে। ৭২ শতাংশ অনুভব করে যে অন্যের মেসেজের রিপ্লাই দেওয়া তাদের জন্য জরুরি। পরকীয়া মানুষকে ব্যভিচারের দিকে টেনে নেয়। অথচ এটি ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে,তোমরা ব্য ভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় তা অশ্লীল কাজ ও মন্দ পথ।(সুরা : ইসরা, আয়াত : ৩২) অনেকের ধারণা হতে পারে, প্রযুক্তির ব্যবহার করে দূর থেকে কথোপকথন আর ব্যভিচার নয়। কথাটি ঠিক নয়। দূর থেকে যেমন ভার্চুয়াল প্রেম সম্ভব, তেমনি বর্তমান যুগে দূর থেকে ভার্চুয়াল সেক্সও সম্ভব। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু অসামাজিক মানুষকে এ রকম বিজ্ঞাপন দিতেও দেখা যায় যে মোবাইল সেক্স প্রতি ঘণ্টা এত টাকা। (নাউজুবিল্লাহ!)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, চোখের ব্যভিচার হলো (বেগানা নারীকে) দেখা, জিহ্বার ব্যভিচার হলো (তার সঙ্গে) কথা বলা (যৌন উদ্দীপ্ত কথা বলা)। (বুখারি, হাদিস : ৬২৪৩) অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, দুই চোখের জিনা (বেগানা নারীর দিকে) তাকানো, কানের জিনা যৌন উদ্দীপ্ত কথা শোনা, মুখের জিনা আবেগ উদ্দীপ্ত কথা বলা, হাতের জিনা (বেগানা নারীকে খারাপ উদ্দেশ্যে) স্পর্শ করা আর পায়ের জিনা ব্যভিচারের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হওয়া এবং মনের জিনা হলো চাওয়া ও প্রত্যাশা করা। (মেশকাত, হাদিস : ৮৬) বোঝা গেল, যারা প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিডিও কল, অডিও কল কিংবা মেসেজিংয়ের মাধ্যমে পরকীয়ায় লিপ্ত রয়েছে, তারা ব্যভিচারেই লিপ্ত রয়েছে, যার শাস্তি ভয়াবহ।- কালের কন্ঠ...

আমার ওয়ার্ডকে চট্টগ্রামের সবচেয়ে উন্নত ও পরিচ্ছিন্ন ওয়ার্ডে রুপান্তর করবঃ কাউন্সিলর মোরশেদ

২৮জানুয়ারী,মঙ্গলবার,কমল চক্রবর্তী,বিশেষ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে নিউজ একাত্তর ধারাবাহিক ভাবে বর্তমান কাউন্সিলরদের নির্বাচন ভাবনা, এলাকার উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন , মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে ভুমিকা এবং এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনার চিত্র তুলে ধরছে। এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৮ নং শুলকবহর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মোঃ মোরশেদ আলম এলাকার উন্নয়ন ও আগামী নির্বাচন নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা নিউজ একাত্তর এর কাছে তুলে ধরেন। সোমবার ২৭শে জানুয়ারি বিকালে তার নিজ কার্যালয়ে নিউজ একাত্তরকে দেয়া একান্ত এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার নানা কর্মকাণ্ড ও এলাকার উন্নয়ন চিত্র তথা আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি এলাকা উন্নয়নে কি কি কাজ করবেন তা সবিস্তর ব্যক্ত করেছেন। কাউন্সিলর মোঃ মোরশেদ আলম জানিয়েছেন, জনগনের আশা প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে তিনি আবার নির্বাচন করবেন। বিগত নির্বাচনে এলাকা বাসীকে দেয়া প্রতিশ্রুতি পালন করেছেন। শতভাগ চেষ্টা করেছেন এলাকা বাসীর প্রত্যাশা পুরন করতে। যা জনগন বিচার করবে। তিনি আশাবাদী এলাকায় যে সকল কাজ করেছেন তাতে এলাকার জনগন তাকে পুনরায় আবার কাউন্সিলর হিসাবে নির্বাচিত করে সেবা করার সুযোগ দিবে। এই ওয়ার্ডকে চট্টগ্রামের সবচেয়ে উন্নত ও পরিচ্ছিন্ন ওয়ার্ডে রুপান্তর করবেন । তিনি আরো জানান, এই ওয়ার্ড অনেক বড় যার আয়তন ৪.৬৫ বর্গ কিলোমিটার। এখানে ভোটারের সংখ্যা একলক্ষ তেইশ হাজার। এই ওয়ার্ড একটি জনবহুল ও সমৃদ্ধ ওয়ার্ড। এই শুলকবহর ওয়ার্ডের সাক্ষরতার হার ৭৩.৭২%।এ ওয়ার্ডে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাড়াও রয়েছে ২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ১টি কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ৫টি কলেজ, ১১টি স্কুল এন্ড কলেজ, ৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ২০১৫ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে প্রায় ১০৪ কোটি টাকার কাজ করছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কাজ হচ্ছে এলাকার প্রতিটি রাস্তা পাকাকরন ও সম্প্রসারণ করেছেন। রাস্তার মাঝখানে আইল্যান্ড স্থাপন ও সজ্জিতকরণের কাজ করেছেন। এলাকার প্রায় ৯০ শতাংশ রাস্তা পাকাকরনের কাজ হয়েছে। বেশ কিছু রাস্তা সংস্কার করা হেয়েছে। বাকি কাজ গুলো চলমান আছে। ড্রেন গুলো সম্প্রসারণ ও নালা নর্দমা পরিষ্কার করেছেন। রাস্তায় ব্যপক এলইডি বাল্ব স্থাপন করেছেন। এলাকার ময়লা আবর্জনা অপসারনের জন্য ডাস্টবিন বসানো হয়েছে। সেইসাথে ডোর টু ডোর ময়লা অপসারনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ছোট বড় ১২০ টি ডাস্টবিন এরমধ্যে প্রায় ৯০টি সরিয়ে ওখানে ফুলের বাগান করা হয়েছে। মাদক ও সন্ত্রাস ব্যপারে তিনি জিরো টলারেন্স। প্রশাসনের সহযোগিতায় মাদকের অনেক আস্তানা উচ্ছেদ করেছেন। মাদক ও সন্ত্রাস দমনে উঠান বৈঠক ও নানা সবা সমাবেশের আয়োজন করেছেন। জনগণকে সাথে নিয়ে মাদক দমনে কাজ করে যাচ্ছেন। শতভাগ মাদক নির্মূলে বদ্ধপরিকর। তিনি জানান, এই এলাকায় জলাবদ্ধতার সমস্যা আছে। ড্রেন সম্প্রসারন ও পরিষ্কার করার ফলে জলাবদ্ধতার হার অনেকটা কমেছে। তবে পুরো পুরি জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করে যাচ্ছেন। তাছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসনে সেনাবাহিনী ও সিডিএর সমন্বয়ে একটি প্রকল্পের কাজ চলছে। আশাকরি প্রকল্পটির কাজ শেষ হলে জলাবদ্ধতা আর থাকবেনা। কাউন্সিলর মোঃ মোরশেদ আলম জানান, তিনি বেশ কিছু মানবিক ও সামাজিক কাজের সাথেও জড়িত। তারমধ্যে গত দুই বছর যাবত ন্যায্য মুল্যের পন্য সরবরাহ। প্রতি শীতকালে ৬টি শীতকালীন সবজি ১০ টাকা কেজি দরে জনগনের মধ্যে বিক্রি। দুটি পথশিশু স্কুল পরিচালনা। বিজয় কেতন বিদ্যানিকেতন ও চারুলতা বিদ্যাপীঠ এর প্রায় ৩শ জন পথ শিশুদের বিনামুল্যে শিক্ষার সুযোগ প্রদান। ১শ জন পথ শিশুকে প্রতিদিন বিভিন্ন হোটেল থেকে ফ্রি খাবারের ব্যবস্থা। প্রতি রমজান মাসে পথচারীদের জন্য ফ্রি ইফতার সামগ্রী বিতরন করেন। তিনি জন্ম দিন পালন করেন পথ শিশুদের নিয়ে। পথ শিশুরাই তার জন্ম দিনের কেক কাটে। প্রতিটি শিশুর জীবন হোক ভালোবাসায় ধন্য- এই শ্লোগান কে সামনে রেখে প্রতি বছর ১৪ই ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালো বাসা দিবসে পাল্ন করেন ব্যতিক্রমী এক ভালোবাসা দিবস। যেখানে পথশিশু ও সুবিধা বঞ্চিত শিশুরাই প্রধান অথিতি। যে অনুষ্ঠানে পথশিশুদের ক্ষনিকের জন্য হলেও ভুলিয়ে দেয় ভালবাসা বঞ্চিত জীবন যন্ত্রণাকে। অযত্ন অবহেলায় বেড়ে উঠা জীবনটাকে লাল পোশাক আর লাল গোলাপ হাতে নতুন ভাবে আবিস্কার করে সকলের মাঝে। বর্ণাঢ্য পুরো অনষ্ঠান জুড়ে থেকে তাদের আধিপত্য। সেইসাথে নানা শ্রেনী পেশার মানুষ ও যোগ দেয় এই অনুষ্ঠানে। তিনি জানান, আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে তার কাজের ধারা অব্যহত রাখবেন। ওয়ার্ডকে একটি মাদক ,সন্ত্রাস ও আবর্জনামুক্ত একটি আদর্শ ওয়ার্ডে রুপান্তরিত করবেন। এলাকার উন্নয়নে বেশ কিছু স্বপ্ন আছে সেই গুলো বাস্তবায়ন করতে চান। এলাকার মেধাবী ছাত্র ছাত্রীদের ফ্রি কোচিং এর ব্যবস্থা করবেন। এলাকার দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে থাকবেন এবং সব রকমের সহযোগিতা করে যাবেন। শতভাগ জলাবদ্ধতা মুক্ত ওয়ার্ড হিসাবে গড়ে তুলবেন। সমাজের বিত্তবানদের সহায়তায় পথ শিশুদের জন্য একটি ট্রাষ্ট গড়ে তুলবেন। শতভাগ সড়ক আলোকায়ন তথা রাস্তা পাকাকরনের কাজ করবেন। প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় ৮ নং শুলকবহর ওয়ার্ডের কয়েকজন এলাকাবাসীর সাথে এখানে তাদের মতামত তুলে ধরা হলঃ ৮ নং শুলকবহর ওয়ার্ডের মির্জার পুল এলাকার স্থানীয় এক বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম সাজু (৪৩) জানান, বর্তমান কাউন্সিলর এলাকার উন্নয়নে অনেক করেছেন। রাস্তা ঘাট গুলো সংস্কার করেছেন ও পাকাকরনের কাজ করেছেন। মাদক নির্মূলে ওনি অনেক ভুমিকা রেখেছেন। আগামী নির্বাচনে আবার নির্বাচিত হবে বলে আশা রাখি। ৮ নং শুলকবহর ওয়ার্ডের কাতালগঞ্জ এলাকার এক ব্যবসায়ী জমির হোসেন (৪৮) জানান,বর্তমান কাউন্সিলর মোরশেদ আলম ব্যক্তি হিসাবে ভালো। এলাকার উন্নয়নে কাজ করেছেন। তাকে আবার সুযোগ দেওয়া দরকার। ওনার আবার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ৮ নং শুলকবহর ওয়ার্ডের শুলকবহর এলাকার স্থানীয় এক বাসিন্দা চাকুরিজীবী এনামুল করিম চৌধুরী (৪২) জানান, বর্তমান কাউন্সিলর মোরশেদ আলম এর এলাকায় ভালো গ্রহনযোগ্যতা আছে। তার আবার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ৮ নং শুলকবহর ওয়ার্ডের মির্জার পুল এলাকার এক কাঁচামাল ব্যবসায়ী ছগির আহম্মেদ (৫৪) জানান, এলাকায় জলাবদ্ধতার সমস্যা আছে। এলাকায় রাস্তা ঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন কাজ হয়েছে। মাদকের সমস্যা থেকে পুরো পুরি মুক্ত নয় আমাদের এলাকা। তাছাড়া আমি মনে করি বর্তমান কাউন্সিলর এলাকায় উন্নয়ন কাজ করেছেন। ...

আমার ওয়ার্ডকে একটি মডেল ওয়ার্ড হিসাবে গড়তে চাই: কাউন্সিলর জসিম

২৭জানুয়ারী,সোমবার,কমল চক্রবর্তী,বিশেষ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে নিউজ একাত্তর ধারাবাহিক ভাবে বর্তমান কাউন্সিলরদের নির্বাচন ভাবনা, এলাকার উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন, মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে ভুমিকা এবং এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনার চিত্র তুলে ধরছে। এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৯ নং উত্তর পাহাড়তলি ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মোঃ জহুরুল আলম জসিম এলাকার উন্নয়ন ও আগামী নির্বাচন নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা নিউজ একাত্তর এর কাছে তুলে ধরেন। শনিবার ২৩শে জানুয়ারি বিকালে তার নিজ কার্যালয়ে নিউজ একাত্তরকে দেয়া একান্ত এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার নানা কর্মকাণ্ড ও এলাকার উন্নয়ন চিত্র তথা আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি এলাকা উন্নয়নে কি কি কাজ করবেন তা সবিস্তর ব্যক্ত করেছেন। কাউন্সিলর মোঃ জহুরুল আলম জসিম জানিয়েছেন, জনগন চাইলে তিনি আবার নির্বাচন করবেন এবং তিনি আশাবাদী এলাকায় যে সকল কাজ করেছেন তাতে এলাকার জনগন তাকে পুনরায় আবার কাউন্সিলর হিসাবে নির্বাচিত করবে। তিনি ওয়ার্ডেকে একটি মডেল ওয়ার্ড গড়তে চান। তিনি সব সময় জনগনের পাশে থাকবেন। তিনি আরো জানান, এলাকার প্রতিটি রাস্তা পাকাকরন ও সম্প্রসারণ করেছেন। প্রায় ৯০ শতাংশ রাস্তা পাকাকরনের কাজ হয়েছে। বাকি কাজ গুলো চলমান আছে। সেই সাথে সকল কাঁচা রাস্তা গুলো পাকাকরনের কাজ করছেন। ড্রেন গুলো সম্প্রসারণ করেছেন। রাস্তায় ব্যপক এলইডি বাল্ব স্থাপন করেছেন। এলাকার ময়লা আবর্জনা অপসারনের জন্য ডাস্টবিন বসানো হয়েছে। সেই সাথে ডোর টু ডোর ময়লা অপসারনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখানে প্রায় ৪০ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী রয়েছে যারা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। এই ওয়ার্ড একটি ময়লা আবর্জনা মুক্ত ওয়ার্ড। অচিরেই এই ওয়ার্ডকে একটি মডেল ওয়ার্ডে রুপান্তরিত করা হবে। মেয়রের ঘোষিত ক্লিন সিটি ও গ্রিন সিটি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন। পাহাড়তলি বালিকা স্কুল এন্ড কলেজ কে কলেজে রূপান্তর করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয় সম্প্রসারণ করা হয়েছে। মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের ব্যপারে তিনি জিরো টলারেন্স। প্রশাসনের সহযোগিতায় মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করেছি। এই ওয়ার্ড অনেকটাই মাদক, সন্ত্রাস মুক্ত ওয়ার্ড হিসাবে পরিনত হয়েছে। তিনি জানান, এই এলাকায় জলাবদ্ধতার সমস্যা নেই। অলংকার এলাকায় কিছুটা জলাবদ্ধতার সমস্যা ছিল। ড্রেন সম্প্রসারন ও পরিষ্কার করার ফলে এখন আর জলাবদ্ধতা হয় না। আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি তার কাজের ধারা অব্যহত রাখবেন। ওয়ার্ডকে মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত একটি মডেল ওয়ার্ডে রুপান্তরিত করবেন। জনগনের পাশে আছেন এবং থাকবেন। প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় ৯ নং উত্তর পাহাড়তলি ওয়ার্ডের কয়েকজন এলাকাবাসীর সাথে এখানে তাদের মতামত তুলে ধরা হলঃ ৯ নং উত্তর পাহাড়তলি ওয়ার্ডের বঙ্গবন্ধু চত্তর এলাকার স্থানীয় এক বাসিন্দা সাজেদুল ইসলাম (৪১) জানান, বর্তমান কাউন্সিলর এলাকা্র উন্নয়নে অনেক কাজ করেছেন। রাস্তা ঘাট গুলো সংস্কার করেছেন ও পাকাকরনের কাজ করেছেন। মাদক নির্মূলে ওনি মোটামুটি কাজ করেছেন। আগামী নির্বাচনে আবার নির্বাচিত হবে বলে আশা করি। ৯ নং উত্তর পাহাড়তলি ওয়ার্ডের নিউ মন্সুরাবাদ এলাকার এক ফল ব্যবসায়ী কবির হোসেন (৪৪) জানান, বর্তমান কাউন্সিলর ব্যক্তি হিসাবে ভালো। এলাকার রাস্তা ঘাটের পাকাকরনের কাজ করেছেন। ওনার আবার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ৯ নং উত্তর পাহাড়তলি ওয়ার্ডের পূর্ব আকবর শাহ এলাকার এক মেডিসিন ব্যবসায়ী সাইফুল আলম (৩৯) জানান, জলাবদ্ধতার সমস্যা নেই বললেই চলে। রাস্তা ঘাটের ব্যাপক কাজ হয়েছে। সন্ত্রাস ও মাদকের সমস্যা থেকে পুরো পুরি মুক্ত নয় আমাদের এলাকা। তাছাড়া আমি মনে করি বর্তমান কাউন্সিলর এলাকায় উন্নয়ন কাজ করেছেন। ...

মুজিব বর্ষে জাতির উপহার ও ই-পাসপোর্ট যুগে বাংলাদেশ

২৫জানুয়ারী,শনিবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশও অবশেষে ই-পাসপোর্ট যুগে প্রবেশ করলো। বিশ্বের ১১৯ তম এবং দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম কোন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ই-পাসপোর্ট যুগে প্রবেশ। বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসেছিলেন- ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ঘোষণা করে। ডিজিটাল প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত-ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান অঙ্গিকার। সে লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। এবারও আর এক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। ই-পাসপোর্ট সিস্টেম সরকারের চলমান ডিজিটাইজেশন প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন ভূমিকারই অংশ। এক্ষেত্রে জনগন সহজ পদ্ধতিতে সেবা পাবে এবং বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি সমুন্নত হবে। ই-পাসপোর্ট উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এটি হলো মুজিববর্ষে জাতিকে উপহার। বঙ্গবন্ধু কন্যা জনগনকে উন্নত বাংলাদেশের সপ্ন দেখিয়েছিলেন। তার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে অনেক কাজ করেছেন। যার মধ্যে ই-পাসপোর্ট প্রবর্তন একটি। তবে বাংলাদেশের নিয়মিত বিদেশযাত্রীদের প্রধান অংশই হলো নিরক্ষর বা সল্পশিক্ষিত সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ। এদের অধিকাংশই বিদেশযাত্রী। আমাদের দেশে বিদেশযাত্রা নিয়ে নানা ধরনের প্রতারণা চলে। গলা কাটা পাসপোর্ট অর্থ্যাৎ একজনের পাসপোর্টে অন্যের মাথা বসিয়ে ও জালিয়াতি করা হতো। আবার জাল পাসপোর্টের ব্যবহার ও কম নেই। তা ছাড়া যথাযথ ডকুমেন্ট ছাড়াও বিদেশ পাড়ি দিতে দেখা যায় শ্রমিকদের। এর ফলে যে কোন সময় তারা বিপদে পড়ে ও পরিণামে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে। ই-পাসপোর্টের চিপের মধ্যে একজন ব্যক্তির সব ধরনের তথ্য-উপাত্ত থাকবে। ফলে তার পক্ষে জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া সম্ভব নয়। এর ফলে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশিদের জন্য বিদেশযাত্রা সহজ হয়ে যাবে। এ নিয়ে জালিয়াতি ও প্রতারণা বন্ধ হবে এবং বাংলাদেশের ও আমাদের শ্রমিকদের প্রতি বিদেশিদের আস্থা বাড়বে। কারণ এই অভিবাসী শ্রমজীবীদের পাঠানো রেমিট্যান্সই আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রাধান উৎস। ই-পাসপোর্টকে আমরা স্বাগত জানাই। বাংলাদেশের এই নবযাত্রায় সরকারকে অভিনন্দন। লেখকঃ মোঃ ইরফান চৌধুরী, প্রকাশক- ই-প্রিয়২৪, প্রাবন্ধিক ও মানবাধিকার কর্মী, (ছাত্র)।


আমার ওয়ার্ডকে চট্টগ্রামের সবচেয়ে উন্নত ও পরিচ্ছিন্ন ওয়ার্ডে রুপান্তর করবঃ কাউন্সিলর মোরশেদ

২৮জানুয়ারী,মঙ্গলবার,কমল চক্রবর্তী,বিশেষ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে নিউজ একাত্তর ধারাবাহিক ভাবে বর্তমান কাউন্সিলরদের নির্বাচন ভাবনা, এলাকার উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন , মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে ভুমিকা এবং এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনার চিত্র তুলে ধরছে। এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৮ নং শুলকবহর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মোঃ মোরশেদ আলম এলাকার উন্নয়ন ও আগামী নির্বাচন নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা নিউজ একাত্তর এর কাছে তুলে ধরেন। সোমবার ২৭শে জানুয়ারি বিকালে তার নিজ কার্যালয়ে নিউজ একাত্তরকে দেয়া একান্ত এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার নানা কর্মকাণ্ড ও এলাকার উন্নয়ন চিত্র তথা আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি এলাকা উন্নয়নে কি কি কাজ করবেন তা সবিস্তর ব্যক্ত করেছেন। কাউন্সিলর মোঃ মোরশেদ আলম জানিয়েছেন, জনগনের আশা প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে তিনি আবার নির্বাচন করবেন। বিগত নির্বাচনে এলাকা বাসীকে দেয়া প্রতিশ্রুতি পালন করেছেন। শতভাগ চেষ্টা করেছেন এলাকা বাসীর প্রত্যাশা পুরন করতে। যা জনগন বিচার করবে। তিনি আশাবাদী এলাকায় যে সকল কাজ করেছেন তাতে এলাকার জনগন তাকে পুনরায় আবার কাউন্সিলর হিসাবে নির্বাচিত করে সেবা করার সুযোগ দিবে। এই ওয়ার্ডকে চট্টগ্রামের সবচেয়ে উন্নত ও পরিচ্ছিন্ন ওয়ার্ডে রুপান্তর করবেন । তিনি আরো জানান, এই ওয়ার্ড অনেক বড় যার আয়তন ৪.৬৫ বর্গ কিলোমিটার। এখানে ভোটারের সংখ্যা একলক্ষ তেইশ হাজার। এই ওয়ার্ড একটি জনবহুল ও সমৃদ্ধ ওয়ার্ড। এই শুলকবহর ওয়ার্ডের সাক্ষরতার হার ৭৩.৭২%।এ ওয়ার্ডে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাড়াও রয়েছে ২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ১টি কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ৫টি কলেজ, ১১টি স্কুল এন্ড কলেজ, ৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ২০১৫ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে প্রায় ১০৪ কোটি টাকার কাজ করছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কাজ হচ্ছে এলাকার প্রতিটি রাস্তা পাকাকরন ও সম্প্রসারণ করেছেন। রাস্তার মাঝখানে আইল্যান্ড স্থাপন ও সজ্জিতকরণের কাজ করেছেন। এলাকার প্রায় ৯০ শতাংশ রাস্তা পাকাকরনের কাজ হয়েছে। বেশ কিছু রাস্তা সংস্কার করা হেয়েছে। বাকি কাজ গুলো চলমান আছে। ড্রেন গুলো সম্প্রসারণ ও নালা নর্দমা পরিষ্কার করেছেন। রাস্তায় ব্যপক এলইডি বাল্ব স্থাপন করেছেন। এলাকার ময়লা আবর্জনা অপসারনের জন্য ডাস্টবিন বসানো হয়েছে। সেইসাথে ডোর টু ডোর ময়লা অপসারনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ছোট বড় ১২০ টি ডাস্টবিন এরমধ্যে প্রায় ৯০টি সরিয়ে ওখানে ফুলের বাগান করা হয়েছে। মাদক ও সন্ত্রাস ব্যপারে তিনি জিরো টলারেন্স। প্রশাসনের সহযোগিতায় মাদকের অনেক আস্তানা উচ্ছেদ করেছেন। মাদক ও সন্ত্রাস দমনে উঠান বৈঠক ও নানা সবা সমাবেশের আয়োজন করেছেন। জনগণকে সাথে নিয়ে মাদক দমনে কাজ করে যাচ্ছেন। শতভাগ মাদক নির্মূলে বদ্ধপরিকর। তিনি জানান, এই এলাকায় জলাবদ্ধতার সমস্যা আছে। ড্রেন সম্প্রসারন ও পরিষ্কার করার ফলে জলাবদ্ধতার হার অনেকটা কমেছে। তবে পুরো পুরি জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করে যাচ্ছেন। তাছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসনে সেনাবাহিনী ও সিডিএর সমন্বয়ে একটি প্রকল্পের কাজ চলছে। আশাকরি প্রকল্পটির কাজ শেষ হলে জলাবদ্ধতা আর থাকবেনা। কাউন্সিলর মোঃ মোরশেদ আলম জানান, তিনি বেশ কিছু মানবিক ও সামাজিক কাজের সাথেও জড়িত। তারমধ্যে গত দুই বছর যাবত ন্যায্য মুল্যের পন্য সরবরাহ। প্রতি শীতকালে ৬টি শীতকালীন সবজি ১০ টাকা কেজি দরে জনগনের মধ্যে বিক্রি। দুটি পথশিশু স্কুল পরিচালনা। বিজয় কেতন বিদ্যানিকেতন ও চারুলতা বিদ্যাপীঠ এর প্রায় ৩শ জন পথ শিশুদের বিনামুল্যে শিক্ষার সুযোগ প্রদান। ১শ জন পথ শিশুকে প্রতিদিন বিভিন্ন হোটেল থেকে ফ্রি খাবারের ব্যবস্থা। প্রতি রমজান মাসে পথচারীদের জন্য ফ্রি ইফতার সামগ্রী বিতরন করেন। তিনি জন্ম দিন পালন করেন পথ শিশুদের নিয়ে। পথ শিশুরাই তার জন্ম দিনের কেক কাটে। প্রতিটি শিশুর জীবন হোক ভালোবাসায় ধন্য- এই শ্লোগান কে সামনে রেখে প্রতি বছর ১৪ই ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালো বাসা দিবসে পাল্ন করেন ব্যতিক্রমী এক ভালোবাসা দিবস। যেখানে পথশিশু ও সুবিধা বঞ্চিত শিশুরাই প্রধান অথিতি। যে অনুষ্ঠানে পথশিশুদের ক্ষনিকের জন্য হলেও ভুলিয়ে দেয় ভালবাসা বঞ্চিত জীবন যন্ত্রণাকে। অযত্ন অবহেলায় বেড়ে উঠা জীবনটাকে লাল পোশাক আর লাল গোলাপ হাতে নতুন ভাবে আবিস্কার করে সকলের মাঝে। বর্ণাঢ্য পুরো অনষ্ঠান জুড়ে থেকে তাদের আধিপত্য। সেইসাথে নানা শ্রেনী পেশার মানুষ ও যোগ দেয় এই অনুষ্ঠানে। তিনি জানান, আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে তার কাজের ধারা অব্যহত রাখবেন। ওয়ার্ডকে একটি মাদক ,সন্ত্রাস ও আবর্জনামুক্ত একটি আদর্শ ওয়ার্ডে রুপান্তরিত করবেন। এলাকার উন্নয়নে বেশ কিছু স্বপ্ন আছে সেই গুলো বাস্তবায়ন করতে চান। এলাকার মেধাবী ছাত্র ছাত্রীদের ফ্রি কোচিং এর ব্যবস্থা করবেন। এলাকার দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে থাকবেন এবং সব রকমের সহযোগিতা করে যাবেন। শতভাগ জলাবদ্ধতা মুক্ত ওয়ার্ড হিসাবে গড়ে তুলবেন। সমাজের বিত্তবানদের সহায়তায় পথ শিশুদের জন্য একটি ট্রাষ্ট গড়ে তুলবেন। শতভাগ সড়ক আলোকায়ন তথা রাস্তা পাকাকরনের কাজ করবেন। প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় ৮ নং শুলকবহর ওয়ার্ডের কয়েকজন এলাকাবাসীর সাথে এখানে তাদের মতামত তুলে ধরা হলঃ ৮ নং শুলকবহর ওয়ার্ডের মির্জার পুল এলাকার স্থানীয় এক বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম সাজু (৪৩) জানান, বর্তমান কাউন্সিলর এলাকার উন্নয়নে অনেক করেছেন। রাস্তা ঘাট গুলো সংস্কার করেছেন ও পাকাকরনের কাজ করেছেন। মাদক নির্মূলে ওনি অনেক ভুমিকা রেখেছেন। আগামী নির্বাচনে আবার নির্বাচিত হবে বলে আশা রাখি। ৮ নং শুলকবহর ওয়ার্ডের কাতালগঞ্জ এলাকার এক ব্যবসায়ী জমির হোসেন (৪৮) জানান,বর্তমান কাউন্সিলর মোরশেদ আলম ব্যক্তি হিসাবে ভালো। এলাকার উন্নয়নে কাজ করেছেন। তাকে আবার সুযোগ দেওয়া দরকার। ওনার আবার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ৮ নং শুলকবহর ওয়ার্ডের শুলকবহর এলাকার স্থানীয় এক বাসিন্দা চাকুরিজীবী এনামুল করিম চৌধুরী (৪২) জানান, বর্তমান কাউন্সিলর মোরশেদ আলম এর এলাকায় ভালো গ্রহনযোগ্যতা আছে। তার আবার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ৮ নং শুলকবহর ওয়ার্ডের মির্জার পুল এলাকার এক কাঁচামাল ব্যবসায়ী ছগির আহম্মেদ (৫৪) জানান, এলাকায় জলাবদ্ধতার সমস্যা আছে। এলাকায় রাস্তা ঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন কাজ হয়েছে। মাদকের সমস্যা থেকে পুরো পুরি মুক্ত নয় আমাদের এলাকা। তাছাড়া আমি মনে করি বর্তমান কাউন্সিলর এলাকায় উন্নয়ন কাজ করেছেন।

ভয়াবহ অবস্থায় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ বাংলাদেশের শাসনভার গ্রহণ করেছিল

২৩জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী,নিউজ একাত্তর ডট কম: ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে কালবিলম্ব না করে রাতে তিনি পাকিস্তানের পিআইএর একটি বিমানে লন্ডন যাত্রা করে ৮ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৬টায় হিথরো বিমানবন্দরে পৌঁঁছেন। অনেক আনুষ্ঠানিকতা শেষে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর রাজকীয় কমেট বিমানে ৯ জানুয়ারি সকালে বঙ্গবন্ধু দেশের উদ্দেশে রওনা হলেন। পথে তেল নেওয়ার জন্য সাইপ্রাসে যাত্রাবিরতি ঘটেছিল বিমানের। ১০ জানুয়ারি সকালে বঙ্গবন্ধু দিল্লির পালাম বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সেখানে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতিতে রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা এবং রাষ্ট্রপতি ভবনে সৌজন্য কথাবার্তার পর ব্রিটিশ রাজকীয় বিমানেই যাত্রা করেছিলেন ঢাকার উদ্দেশে। ব্রিটিশ কমেট বিমানটি তেজগাঁও বিমানবন্দর স্পর্শ করে বিকেল ৩টায়। সেখান থেকে ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে লাখ লাখ বাঙালির ভালোবাসা আর স্নেহের পরশ ভেদ করে পৌঁছাতে তাঁর সময় লেগেছিল আড়াই ঘণ্টা। রেসকোর্সে লাখো জনতার মাঝ থেকে বঙ্গবন্ধু তাঁর পরিবারের কাছে পৌঁছেন সন্ধ্যা পৌনে ৬টায়। এত দীর্ঘ পথযাত্রা, দীর্ঘ আনুষ্ঠানিকতা, জনসভা, আবেগ-উচ্ছ্বাস-কান্না বিনিময়ের পর ১১ জানুয়ারি থেকে বঙ্গবন্ধু সব ক্লান্তি-ভাবাবেগ উপেক্ষা করে এক মুহূর্ত বিলম্ব না করে দেশ পরিচালনা শুরু করেন। সেদিনই মন্ত্রিসভার সঙ্গে দুদফা বৈঠক করেন এবং বৈঠকে সংবিধান প্রণয়নসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু অস্থায়ী সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠন করেন। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের পর থেকে বস্তুত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে সরকারি-বেসরকারি সব সংস্থাসহ সারা দেশ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে চলতে থাকে। এবং সেনাবাহিনীর বাঙালি অংশ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশের অপেক্ষায় থাকে। ১৯৭১ সালের ১৫ মার্চ বাংলার জনগণ ও প্রগতিশীল বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের দাবিতে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের শাসনভার স্বহস্তে গ্রহণ করেন। এক ঘোষণায় তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের কল্যাণের জন্যই তাঁকে এ দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়েছে। তিনি সুস্পষ্টভাবে দেশবাসীকে জানান, এই শাসনভার স্বহস্তে গ্রহণ করার অর্থ বাংলাদেশের স্বাধীনতা। জনগণ যেন তা রক্ষা করার জন্য প্রস্তুত থাকে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের মুক্তির স্পৃহাকে স্তব্ধ করা যাবে না। আমাদের কেউ পরাভূত করতে পারবে না। কারণ প্রয়োজনে আমরা প্রত্যেকে মরণ বরণ করতে প্রস্তুত। জীবনের বিনিময়ে আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ বংশধরদের স্বাধীন দেশের মুক্ত মানুষ হিসেবে স্বাধীনভাবে আর আত্মমর্যাদার সঙ্গে বাস করার নিশ্চয়তা দিয়ে যেতে চাই। মুক্তির লক্ষ্যে না পৌঁছা পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম নবতর উদ্দীপনা নিয়ে অব্যাহত থাকবে। আমি জনগণকে যেকোনো ত্যাগের জন্য এবং সম্ভাব্য সব কিছু নিয়ে যেকোনো শক্তির মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকতে আবেদন জানাই।(দৈনিক পূর্বদেশ, ১৬ মার্চ ১৯৭১)। বলা বাহুল্য, বঙ্গবন্ধুর এই ঘোষণাও স্বাধীনতার ঘোষণার নামান্তর। বঙ্গবন্ধু দেশের শাসনকার্য পরিচালনার জন্য ৩৫টি বিধি জারি করেন, যার মাধ্যমে ১৫ মার্চ থেকে সারা দেশ পরিচালিত হয়। বস্তুত ১৫ মার্চ থেকে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে যায়। দেশের শাসনভার স্বহস্তে গ্রহণ করার পর জনসাধারণ ও সরকারি কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বঙ্গবন্ধুকে সাহায্য করতে লাগলেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের সর্বত্র ছিল পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর ধ্বংসলীলার ক্ষতচিহ্ন। নাগরিকদের খাদ্য-বস্ত্র, বাসস্থানের অভাব ছিল প্রকট। কলকারখানায় উৎপাদন শূন্যের কোঠায়, যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু রাখা ও এক কোটি শরণার্থীর পুনর্বাসনসহ দেশের সমস্যা ছিল অগণিত। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠন ছিল বঙ্গবন্ধুর সামনে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ, যা তিনি সাফল্যের সঙ্গে মোকাবেলা করেন। স্বাধীনতা-উত্তর কালের বাংলাদেশের সার্বিক অবস্থার পর্যালোচনা করে বিশ্বজুড়ে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের ৫০ লাখ মানুষ অনাহারে প্রাণ হারাবে, দেখা দেবে দুর্ভিক্ষ। এমনি এক ভয়াবহ অবস্থায় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ শাসনভার গ্রহণ করেছিল। নিঃসন্দেহে তাঁর পরিচালনায় আওয়ামী লীগ সরকার প্রাথমিক অসুবিধা ও সংকটগুলো কাটিয়ে উঠেছিলেন। দেশের প্রথম পাঁচসালা পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সে অনুযায়ী কার্যক্রম গ্রহণ প্রমাণ করে যে বঙ্গবন্ধুর সরকার প্রাথমিক অনিশ্চয়তা কাটিয়ে একটি সুনিশ্চিত পদক্ষেপে এগিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য অর্জন করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু সরকারের উল্লেখযোগ্য কিছু দিক হলো : মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসন : মুক্তি বাহিনীর জওয়ানদের কাজে লাগানোর জন্য বঙ্গবন্ধু ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনী, মিলিশিয়া, রিজার্ভ বাহিনী সংগঠনের বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেন। মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিত্সা এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এ ছাড়া দেশ গড়ার বিভিন্ন কাজে যোগ্যতা অনুযায়ী নিয়োগ প্রদান করেন। ত্রাণ কার্যক্রম : রিলিফ ও পুনর্বাসনের জন্য বঙ্গবন্ধু দেশের বিভিন্ন স্থানে জনসংখ্যার ভিত্তিতে মঞ্জুরি দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র সমর্পণ : মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহূত অস্ত্র নিজেদের কাছে না রেখে তা ১৯৭২ সালের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সমর্পণের আহ্বান জানান। এতে সব মুক্তিযোদ্ধা সাড়া দিয়ে বঙ্গবন্ধুর কাছে অস্ত্র জমা দেন। স্বাধীন বাংলার প্রশাসনিক পদক্ষেপ : ঢাকা মুক্ত হওয়ার পর একটা প্রশাসনিক শূন্যতা বিরাজ করছিল রাজধানীসহ দেশের সর্বত্র। নিরাপত্তার বিষয়টি আরো গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গবন্ধু প্রত্যাবর্তনের পর প্রশাসনকে কর্মোপযোগী করে তোলেন। ভারতীয় বাহিনীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন : ১২ মার্চ ১৯৭২ ভারতীয় বাহিনী বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রত্যাবর্তন করে। ১৯৭২ সালের সংবিধান : ৩০ লাখ শহীদ ও দুই লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে বাংলাদেশ যে স্বাধীনতা অর্জন করেছে, তারই আদর্শ হিসেবে রচিত হলো রক্তে লেখা এক সংবিধান ৪ নভেম্বর ১৯৭২। সাধারণ নির্বাচন : ১৯৭৩ সালে প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা : বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের পর দারিদ্র্যপীড়িত বাংলাদেশের জনগণের দ্রারিদ্র্য দূরীকরণ তথা অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনে জাতির জনক প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। এই পরিকল্পনার লক্ষ্যগুলো ছিল, ক. মূল লক্ষ্য হলো দারিদ্র্য দূরীকরণ। এ জন্য যারা কর্মহীন বা আংশিক কর্মহীন তাদের সবার কর্মসংস্থানের আয়োজন প্রয়োজন। তা ছাড়া জাতীয় আয় বৃদ্ধির সঙ্গে এই আয় বণ্টনের জন্য যথাযথ আর্থিক ও মুদ্রানীতি প্রণয়ন ত্বরান্বিত হওয়া প্রয়োজন। খ. জনগণের অত্যাবশ্যক পণ্যের চাহিদা যাতে মেটে সে জন্য প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর (খাদ্যদ্রব্য, পোশাক, ভোজ্য তেল, কেরোসিন ও চিনি) উত্পাদন বাড়াতে হবে। গ. কৃষির প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রযুক্তিগতকাঠামোতে এমনভাবে রূপান্তর সাধন প্রয়োজন, যাতে খাদ্যশস্যের উত্পাদনের স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জিত হয়, কৃষিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ে এবং শ্রমশক্তির শহরমুখী অভিবাসন বন্ধ হয়। পররাষ্ট্রনীতি : বঙ্গবন্ধু পররাষ্ট্রনীতি সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো প্রতি বৈরী মনোভাব নয়। প্রথম তিন মাসের মধ্যে সোভিয়েত ইউনিয়ন, ব্রিটেন, ফ্রান্সসহ ৬৩টি দেশের স্বীকৃতি লাভ। ৩ মাস ২১ দিনের মধ্যে স্বীকৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তান স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয় দুই বছর দুই মাসের মধ্যে। সর্বমোট ১২১টি দেশ স্বীকৃতি প্রদান করে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন গঠন : ইসলামের যথার্থ শিক্ষা ও মর্মবাণী সঠিকভাবে ব্যাপক জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রচার-প্রসারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালের ২২ মার্চ প্রতিষ্ঠা করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন। ইসলাম আদর্শের যথাযথ প্রকাশ তথা ইসলামের উদার মানবতাবাদী চেতনা বিকাশের লক্ষ্যে একটি বিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠা ছিল জাতির জনকের সুদূরপ্রসারী চিন্তার এক অমিত সম্ভাবনাময় ফসল। যুদ্ধাপরাধীর বিচার : বঙ্গবন্ধু সরকার ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ কোলাবরেটরস স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল অর্ডার জারি করে। এতে দালাল, যোগসাজশকারী কিংবা কোলাবরেটরদের সংজ্ঞায়িত করা হয় এভাবে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীকে বস্তুগত সহযোগিতা প্রদান বা কোনো কথা, চুক্তি ও কার্যাবলির মাধ্যমে হানাদার বাহিনীকে সাহায্য করা। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা বা যুদ্ধের চেষ্টা করা। মুক্তিবাহিনীর তত্পরতার বিরুদ্ধে ও মুক্তিকামী জনগণের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা। পাকিস্তানি বাহিনীর অনুকূলে কোনো বিবৃতি প্রদান বা প্রচারে অংশ নেওয়া এবং পাকিস্তানি বাহিনীর কোনো প্রতিনিধিদল বা কমিটির সদস্য হওয়া। হানাদারদের আয়োজনে উপনির্বাচনে অংশ নেওয়া। চার ধরনের অপরাধীর বিচার : পরবর্তীকালে একই বছরে এই আইন দুই দফা সংশোধন করা হয়। এই সংশোধনীতেও চার ধরনের অপরাধীকে ক্ষমা করা হয়নি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে নেই, তাদের ক্ষমা করা হয়। কিন্তু যারা লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ ও হত্যাএই চারটি অপরাধ করেছে, তাদের ক্ষমা করা হয়নি। ১৯৭৩ সালে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ৩৭ হাজার ৪৭১ জনকে দালাল আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ১৯৭৩ সালে অক্টোবর পর্যন্ত দুই হাজার ৮১৮টি মামলার সিদ্ধান্ত হয়। এতে একজনের মৃত্যুদণ্ডসহ ৭৫২ দালাল দণ্ডিত হয়। তৎকালীন সরকার আইনগত ব্যবস্থা ত্বরিত করার জন্য ৭৩টি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছিল। বঙ্গবন্ধুর সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার পর লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে ১১ হাজার আটক থাকে। উপরন্তু বঙ্গবন্ধু সরকার ১৯৭৩ সালের ১৯ জুলাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট জারি করেন, যা পরবর্তী সময়ে আইন হিসেবে সংবিধানে সংযোজিত হয় এবং অদ্যাবধি তা বহাল রয়েছে। ১৯৭২ সালের ১৮ এপ্রিল গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গোলাম আযমের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছিল। ১৯৭৩ সালের ৪ নভেম্বর সংবিধানের ১২ ও ৩৮ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সংবিধানের ৬৬ ও ১২২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী তথাকথিত ধর্ম ব্যবসায়ীদের ভোটাধিকার ও নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার বাতিল করা হয়েছিল। হজে প্রেরণ : ১৯৭২ সালে সৌদি আরবে মাওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগীশের নেতৃত্বে ছয় সহস্রাধিক বাংলাদেশি মুসলমানকে হজ পালনে প্রেরণ করা হয়। বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী চুক্তি : ১৯৭২ সালের ১৯ মার্চ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পাদিত হয় ২৫ বছরমেয়াদি বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রীচুক্তি। শিক্ষা কমিশন গঠন : কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশন গঠন ও শিক্ষানীতি প্রণয়ন। যমুনা সেতু : ১৯৭৩ সালের ১৮-২৪ অক্টোবর জাপান সফরকালে জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কাকুই তানাকার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে যমুনা বহুমুখী সেতু নির্মাণের সূচনা করেন। বিভিন্ন সংস্থার সদস্যপদ গ্রহণ : জাতিসংঘের বেশির ভাগ সংস্থা বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সদস্যপদ গ্রহণ। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পুনর্গঠন : স্বাধীনতা অর্জনের পরপরই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে একটি আধুনিক সুসজ্জিত বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধুর বাংলায় ভাষণ : ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বাংলাদেশের ১৩৬তম সদস্যপদ লাভ ও ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বঙ্গবন্ধুর বাংলায় ভাষণ প্রদান। প্রথম জাতীয় সাহিত্য সম্মেলন : বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৪-২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪ প্রথম জাতীয় সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ছাড়াও বাংলাদেশের প্রথিতযশা সাহিত্যিক ও শিল্পীরা উপস্থিত ছিলেন। ঐতিহাসিক কিছু পদক্ষেপ : ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফ, পাঁচ হাজার টাকার ওপরে কৃষিঋণ মওকুফকরণ এবং ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান কমিয়ে এনে সামাজিক অর্থে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জমি মালিকানার সিলিং পুনর্নির্ধারণ ছিল ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। স্বাস্থ্যব্যবস্থা : বঙ্গবন্ধু সরকার নগর ভিত্তিক ও গ্রামীণজীবনের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য দূরীকরণের পদক্ষেপ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ৫০০ ডাক্তারকে গ্রামে নিয়োগ করেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে আইজিএমআর শাহবাগ হোটেলে স্থানান্তর হয়। তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে থানা স্বাস্থ্য প্রকল্প গ্রহণ বিশ্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে আজও স্বীকৃত। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি : ১৯৭৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু জাতীয় আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সংগতি রেখে বাংলাদেশকে শিল্প-সংস্কৃতিবদ্ধ সৃজনশীল মানবিক বাংলাদেশ গঠন এবং বাঙালির হাজার বছরের কৃষ্টি-সংস্কৃতি-ঐতিহ্য ধরে রেখে আরো সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে বাংলাদেশি শিল্পকলা একাডেমি গঠন করেন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতি বিকাশের একমাত্র জাতীয় প্রতিষ্ঠান। বৈদেশিক বাণিজ্য শুরু : শূন্য বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে বঙ্গবন্ধু সরকারকে শুরু করতে হয়েছে বৈদেশিক বাণিজ্য। এ ছাড়া জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন, কমনওয়েলথ, জাতিসংঘ, ইসলামী সম্মেলন সংস্থা ইত্যাদি আন্তর্জাতিক সংস্থায় বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে বঙ্গবন্ধু তাঁর সুদক্ষ নেতৃত্বের ছাপ রাখতে সমর্থ হন। পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা রোধ এবং বিশ্বশান্তির প্রতি ছিল তাঁর দৃঢ় সমর্থন। এ ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭২ সালে বিশ্বশান্তি পরিষদ বঙ্গবন্ধুকে প্রদান করে জুলিওকুরি শান্তিপদক। দুর্নীতির বিরদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা : ১৯৭৪ সালের ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকরী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলে জাতির ভবিষ্যৎ তমিস্রায় ছেয়ে যাবে। দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর, চোরাচালানি, মজুদদারি, কালোবাজারি ও মুনাফাখোরদের সমাজ ও রাষ্ট্রের শত্রু বলে আখ্যায়িত করে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, এদের শায়েস্তা করে জাতীয় জীবনকে কলুষমুক্ত করতে না পারলে আওয়ামী লীগের দুই যুগের ত্যাগ-তিতিক্ষা এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতৃত্বদানের গৌরবও ম্লান হয়ে যেতে পারে। লেখকঃ মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী, সাংবাদিক,কলামিষ্ট ,সম্পাদক নিউজ একাত্তর ডট কম ও চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান,দৈনিক আজকের বিজনেস বাংলাদেশ । সূত্র : বঙ্গবন্ধু আর্কাইভ

আজকের মোট পাঠক

32782
O relaxamento vascular leva a um aumento na perfusão sanguínea, após o que os sintomas da hiperplasia prostática benigna são reduzidos.cialis tadalafil buy online White or white with a slightly yellowish tinge with a characteristic odor.cost of cephalexinIt is difficult and slow to dissolve in water, almost insoluble in alcohol. Cialis super active aumenta la producción de esperma, aumenta el deseo sexual.Cialis super active Sin Receta En EspañaCialis Super Asset lo ayudará en una situación difícil. Complications with prolonged use: rarely - psychoses that resemble alcoholic ones; hepatitis, gastritisCheap no Prescription disulfiramdetoxification therapy, administration of analeptics, and symptomatic therapy are necessary Nolvadex helps reduce the level of sex hormones in the blood of men and women Nolvadex online which ensures its therapeutic effect in this pathology.

নিউজ একাত্তর ডট কম

সম্পাদক : মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী

নির্বাহী সম্পাদক : আহাম্মদ হোসেন ভুইয়া

একটি পপুলার মিডিয়া পাবলিকেশন এর প্রকাশনা | রেজি নং: চ-১২৪২৭/১৭

সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয় : ৪১৬/সি,খিলগাও ঢাকা ০২৪৩১৫০৪৮৮, ০১৮২৪২৪৫৫০৪, ০১৭৭৮৮৮৮৪৭২

চট্টগ্রাম কার্যালয় : ১৯/২০/২১ বি ৩য় তলা, হানিমুন টাওয়ার,পাহাড়তলী,চট্টগ্রাম।

ই-মেইল : newsekattor@gmail.com, editorekattor@gmail.com, কপিরাইট ©newsekattor.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত