রবিবার, আগস্ট ১৮, ২০১৯
'রেস ৩' এর অফিসিয়াল লোগো উন্মোচন করেছেন সালমান
গত বছরের শেষে সবচেয়ে বড় হিট ছিল সালমান খানের টাইগার জিন্দা হ্যায়। এ বছরের ঈদে আবার আসছেন ভাইজান সালমান, সঙ্গে আসছে রেস ৩ । ভক্তরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে এই স্টাইলিশ থ্রিলারটির। কারণ, তাঁর সঙ্গে আরো আছেন ববি দেওল, জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ, সাকিব সেলিম, ডেইজি শাহ আর অনিল কাপুর। আর মাত্র তিন মাস বাকি। আর এর আগে ছবিটির অফিসিয়াল লোগো উন্মোচন করেছেন সালমান। রেমো ডি সুজার এই ছবিটির লোগো উন্মোচন প্রসঙ্গে এক ট্যুইট পোস্টে সালমান লেখেন, আর মাত্র তিন মাস বাকি। এই ঈদে, রেস ৩। রেস ৩ ছবিটি আর একটি কারণে বিশেষ। কারণ, এই ছবিটিই সদ্যঃপ্রয়াত অভিনেতা প্রকাশ ঝাঁ অভিনীত শেষ ছবি। যিনি গতকাল (বুধবার) সকালে পরলোক গমন করেন।
আজ পপগুরু'র জন্মদিন
'পপসম্রাট বা পপগুরু খ্যাত বাংলা সঙ্গীতের সম্রাট আজম খানের জন্মদিন আজ। ১৯৫০ সালের এই দিনটিতে ঢাকার আজিমপুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পুরো নাম মোহাম্মদ মাহবুবুল হক খান। বাবা আফতাব উদ্দিন খান ছিলেন সরকারি চাকরিজীবী। মা জোবেদা বেগম সংগীতশিল্পী। মায়ের অনুপ্রেরণায় শৈশব থেকেই সংগীতে নিয়মিত চর্চা। ১৯৬৬ সালে তিনি সিদ্ধেশ্বরী হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ১৯৬৮ সালে টিঅ্যান্ডটি মহাবিদ্যালয় থেকে এইচএসসি পাস করেন। ষাটের দশকে পশ্চিমা ধাঁচের পপ গানে দেশজ বিষয়ের সংযোজন ও পরিবেশনার স্বতন্ত্র রীতিতে বাংলা গানে নতুন মাত্রা যোগ করেছিলেন আজম খান। শ্রোতাদের কাছে তখন এ ধরনের গান ছিল একেবারেই নতুন। এই নতুন ধারার গানের পথিকৃৎ হিসেবে তিনি শ্রোতাদের কাছে পপ সম্রাট' বা পপ গুরু' হিসেবে সম্মানিত হন। আজম খানের মাধ্যমে উন্মোচিত হয়েছিল সংগীতের ভিন্নধারা। দেশীয় পপগানের আকাশে এনেছিলেন নতুন সূর্যোদয়। অপরাজেয় এক মুক্তিযোদ্ধা আজম খান। অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছিলেন দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য। জীবন বাজি রেখে ছিনিয়ে এনেছিলেন বিজয়। যুদ্ধোত্তর দেশে সূচনা করেছিলেন আরেক সংগ্রামের। সে সংগ্রাম নতুন ধারার সংগীত সৃষ্টির। সংস্কৃতির অচলায়নে তুমুল আলোড়ন তুলে স্বাধীন দেশে পাশ্চাত্য সংগীতের ধারার সংগীত রচনা ও পরিবেশনার মধ্য দিয়ে তারুণ্যের দুর্দমনীয় বাঁধভাঙা স্পন্দন বইয়ে দিয়েছিলেন তিনি। বাংলাদেশের পপসংগীতের পথিকৃৎ হিসেবে তার গান ঠাঁই করে নেয় দেশের সংগীতপ্রিয় কোটি শ্রোতার হৃদয়ে। উল্লেখ্য, এক বছর ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে ২০১১ সালের ৫ জুন ৬১ বছর বয়সে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন জনপ্রিয় এ সংগীতশিল্পী।
বলিউডের খ্যাতিমান অভিনেত্রী শ্রীদেবী মারা গেছেন
বলিউডের খ্যাতিমান অভিনেত্রী শ্রীদেবী আর নেই। শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে দুবাইয়ে মারা যান তিনি। তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর। শ্রীদেবীর মৃত্যুতে বলিউডে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শ্রীদেবীর মৃত্যুর সংবাদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন তাঁর স্বামীর ছোট ভাই সঞ্জয় কাপুর। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দুবাই আসেন শ্রীদেবী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্বামী ও ছোট মেয়ে। সেখানে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন শ্রীদেবী। শিশুশিল্পী হিসেবে বলিউডে অভিষেক হয় শ্রীদেবীর। চিত্তাকর্ষক চোখ, রুপালি পর্দায় উপস্থিতি আর অভিনয় দক্ষতা তাঁকে তুমুল জনপ্রিয়তা এনে দেয়। তিনি হিন্দি ছবির পাশাপাশি তামিল, তেলেগু ও মালায়ালম ছবিতে সমানতালে কাজ করেছেন। ২০১৩ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে।
প্রিয়াংকা আবারো সেরা
এক বছর ভাটা পড়েছিল প্রিয়াংকার। কারণ দীপিকা পাড়কোন সেরা আবেদনময়ী নারীর আসনে বসেছিলেন। তবে এর আগে চারবার অর্জন করা আসনটি এবার আর হাতছাড়া করেননি প্রিয়াংকা। পঞ্চমবারের মতো সেটি দখল করে নিয়েছেন। এশিয়ার ৫০ জন সেরা আবেদনময়ী নারীর তালিকা প্রকাশ করেছে লন্ডন-ভিত্তিক সাপ্তাহিক পত্রিকা ইস্টার্ন আই। সেই তালিকায় সবার উপরে রয়েছে প্রিয়াংকা চোপড়ার নাম। দ্বিতীয় হয়েছেন ভারতীয় টেলিভিশন তারকা নিয়া শর্মা। আর তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন গতবারের প্রথম দীপিকা পাড়ুকোন। এমন বিজয়ের খবরে প্রিয়াংকা তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, আসলে বিজয়ের এই কৃতিত্ব আমি নিতে চাই না। এর সমস্ত কৃতিত্ব আমার শারীরিক গঠন এবং আপনাদের দৃষ্টিভঙ্গির। আমি কৃতজ্ঞ, সম্মানিত। কেননা, ধারাবাহিক সাফল্য থেকে প্রেরণা পাওয়া যায়।
শিল্পী শাহীন সামাদ ও তপন মাহমুদকে সম্মাননা দিল মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সংগঠন
বাংলা বেতারকেন্দ্রের শিল্পী শাহীন সামাদ ও তপন মাহমুদকে সম্মাননা দিল মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সংগঠন মুক্ত আসর ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে বলছি শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক প্রধান অতিথি হিসেবে শাহীন সামাদ ও তপন মাহমুদকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন এবং উত্তরীয় পরিয়ে দেন। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে গতকাল সোমবার ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মিলনায়তনের ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ও কলাকুশলীদের অবদান সমরাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের মতোই। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্র হাতে মাঠে ময়দানে যুদ্ধ করেছি। আর স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীরা কণ্ঠ দিয়ে আমাদের অনুপ্রেরণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছেন। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীরা সেদিন কণ্ঠ দিয়ে যুদ্ধ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পথকে ত্বরান্বিত করেছেন। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি ছিল না উল্লেখ করে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁদের স্বীকৃতির ব্যবস্থা করেছি। শুধু তা-ই নয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় যাঁরা অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেননি, কিন্তু বিভিন্নভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন, সেবা করেছেন এবং সর্বোপরি মুক্তিযুদ্ধে অবদান রেখেছেন, সবাইকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমার জীবনে অহংকার করার মতো দুটি ঘটনা রয়েছে। একটি ১৯৭১ সালে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করা এবং অপর হচ্ছে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া। মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং এর মধ্য দিয়ে অর্জিত লাল-সবুজের পতাকা ও বাংলাদেশকে চিনতে ও জানতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান আ ক ম মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অবদানের কথা তৃণমূল পর্যায়ে সর্বসাধারণের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। এ জন্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের সম্মাননা প্রদানে এমন অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য মুক্ত আসর ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিকে ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী। অনুষ্ঠানে অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে শিল্পী শাহীন সামাদ বলেন, একটা দেশের জন্মের লড়াইয়ের সঙ্গে নিজের কণ্ঠ দিয়ে যুক্ত থাকতে পেরেছিলাম বলে নিজেকে সৌভাগ্যবতী মনে করি। এখনকার তরুণ প্রজন্মও নিজেদের সেই সৌভাগ্যের অংশীদার করতে পারবে, যদি তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে দেশ গড়ার কাজে অংশ নিতে পারে। অনুষ্ঠানে শাহীন সামাদ খালি কণ্ঠে জনতার সংগ্রাম চলবেই গানটি গেয়ে শোনান। শিল্পী তপন মাহমুদ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, তোমরা একটা স্বাধীন দেশ পেয়েছে। এই দেশকে শোষণ-বঞ্চনা ও সাম্প্রদায়িকতামুক্তভাবে গড়ে তুলতে হলে ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। আশা করি, লাখো প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা তোমরা নস্যাৎ হতে দেবে না। অনুষ্ঠানে তপন মাহমুদ যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে গানটি গেয়ে শোনান। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ইউসুফ মাহবুবুল ইসলামের সভাপতিত্বে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ছিলেন একই ইউনিভার্সিটির কোষাধ্যক্ষ হামিদুল হক খান, মুক্ত আসরের উপদেষ্টা রাশেদুর রহমান তারা, মুক্ত আসরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবু সাঈদ প্রমুখ। পরে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি কালচারাল ক্লাবের সদস্যদের অংশগ্রহণে মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন নাফিজা মৌ ও আশফাকুজ্জামান।