আমার মতো ভুল যেন কোনো তরুণ খেলোয়াড় ভবিষ্যতে না করে, বললেন সাকিব
২৯অক্টোবর,মঙ্গলবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মঙ্গলবার (২৯অক্টোবর) মিরপুরের বিসিবি কার্যালয়ে লিখিত বক্তব্যে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান এ কথা বলেন। সাকিব আল হাসান আরো বলেন,আমি সত্যিই খুব মর্মাহত।যেই খেলাটাকে এতো ভালোবাসি সেখানে নিষিদ্ধ হলাম। তবে ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব আইসিসিতে না জানানোয়, আমি আমার নিষেধাজ্ঞা মেনে নিচ্ছি।আইসিসির অ্যান্টি করাপশন ইউনিট খেলোয়াড়দের দুর্নীতিমুক্ত রাখতে প্রাণপণে লড়ে যাচ্ছে।কিন্তু আমি আমার অংশটা ঠিকঠাক পালন করতে পারিনি।তিনি আরো বলেন,বিশ্বের সব খেলোয়াড়ের মতো আমিও চাই ক্রিকেট খেলাটা যেন দুর্নীতিমুক্ত থাকে।সামনের দিনগুলো আইসিসির অ্যান্টি করাপশন ইউনিটের সঙ্গে তাদের দুর্নীতিবিরোধী প্রোগ্রামে কাজ করতে আগ্রহী।আমি এটি নিশ্চিত করতে চাই যে, আমার মতো ভুল যেন কোনো তরুণ খেলোয়াড় ভবিষ্যতে না করে। একইসঙ্গে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন আগের চেয়ে আরও শক্ত হয়ে ফিরে আসার। এক্ষেত্রে তিনি দেশের সকলের কাছে সবসময়ের মতো সমর্থন চেয়েছেন। উল্লেখ্য, সব ধরনের ক্রিকেট থেকে বাংলাদেশের অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল আইসিসি। তবে, দোষ স্বীকার করার কারণে, ১ বছরের শাস্তি বাতিল করেছে আইসিসি।আইসিসির পক্ষ থেকেই মঙ্গলবার (২৯অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সব ধরনের ক্রিকেট কর্মকাণ্ড থেকে আগামী এক বছর নিষিদ্ধ থাকবেন তিনি। দুই বছর আগে একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের আগে একজন জুয়াড়ির কাছ থেকে ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু ওই প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। কিন্তু বিষয়টি খুব বেশি গুরুত্ব দেননি বলে আইসিসি কিংবা বিসিবিকে বিষয়টা জানাননি। এটাই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে সাকিব আল হাসানের জন্য। আইসিসির নিয়ম হচ্ছে, এ ধরনের অপরাধের শাস্তি হিসেবে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের নিষেধাজ্ঞার শাস্তি। তবে সাকিব নিজের দোষ স্বীকার করায় শাস্তি কমিয়ে ২ বছর করা হয়েছে।একই সঙ্গে তদন্ত কাজে সহযোগিতা করার কারণে শাস্তি বাতিল করা হয়েছে আরও এক বছরের। অর্থ্যাৎ, ১ বছর শাস্তি ভোগ করবেন তিনি। যা কার্যকর হবে আজ থেকেই। আগামী বছর (২০২০ সাল) ২৯ অক্টোবর তিনি নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পাবেন। আন্তর্জাতিক একজন জুয়াড়ির কাছ থেকেই প্রস্তাব পেয়েছিলেন সাকিব। জুয়াড়ির প্রস্তাবের বিষয়টি আইসিসি পরে জানতে পারে। আন্তর্জাতিক জুয়াড়িদের কল রেকর্ড ট্র্যাকিং করে এ ব্যাপারে সব তথ্য উদ্ধার করে তারা। জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট ওই জুয়াড়ি আইসিসির কালো তালিকায় থাকাদের একজন। আইসিসি তাদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে সাকিবের বিরুদ্ধে। তিন ম্যাচে সাকিবের কাছে ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল বলে জানতে পেরেছে আইসিসি এবং সে সব বিষয়ে তারা প্রমাণও সংগ্রহ করেছে। আকসুর ধারা ২.৪.৪ আর্টিকেলের মধ্যেই তিনটি অপরাধ করেছিলেন সাকিব। যেগুলো হচ্ছে- ১. ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবুয়েকে নিয়ে বাংলাদেশের যে ত্রিদেশীয় সিরিজ হয়েছিল কিংবা ২০১৮ আইপিএলে প্রথম ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পান সাকিব। কিন্তু এ বিষয়ে তিনি আইসিসির অ্যান্টি করাপশন ইউনিটকে কোনো কিছুই জানাননি। ২. একই ধারার অধীনে অপরাধ : ২০১৮ সালের জানুয়ারীতে ত্রিদেশীয় সিরিজের সময়ই আরো একটি ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন। কিন্তু সে বিষয়েও তিনি আইসিসিকে অবহিত করেননি। ৩. ২০১৮ সালের ২৬ এপ্রিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ এবং কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের মধ্যকার ম্যাচেও ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন সাকিব। কিন্তু সে বিষয়েও তিনি আইসিসি কিংবা সংশ্লিষ্ট দুর্নীতি দমন সংস্থাকে কিছুই জানাননি। সাকিবের বিরুদ্ধে আনীত এসব অভিযোগ মেনে নিয়েছেন সাকিব আল হাসান। এমনকি তার বিরুদ্ধে ঘোষণা করা শাস্তিও মেনে নিয়েছেন তিনি। তবে, যে এক বছরের শাস্তি বাতিল করা হলো, সেটা কার্যকর হবে তখন, যদি তিনি আগামী এক বছর সময়ের মধ্যে আইসিসির কোড অব কন্ডাক্ট মোতাবেক আর কোনো অপরাদের সঙ্গে জড়িত না হন। সাকিব আল হাসান বলেন,আমি সত্যিই খুব মর্মাহত। যেই খেলাটাকে এতো ভালোবাসি সেখানে নিষিদ্ধ হলাম। তবে ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব আইসিসিতে না জানানোয়, আমি আমার নিষেধাজ্ঞা মেনে নিচ্ছি। আইসিসির অ্যান্টি করাপশন ইউনিট খেলোয়াড়দের দুর্নীতিমুক্ত রাখতে প্রাণপণে লড়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমি আমার অংশটা ঠিকঠাক পালন করতে পারিনি। তিনি আরও বলেছেন,বিশ্বের সব খেলোয়াড়ের মতো আমিও চাই ক্রিকেট খেলাটা যেন দুর্নীতিমুক্ত থাকে। সামনের দিনগুলো আইসিসির অ্যান্টি করাপশন ইউনিটের সঙ্গে তাদের দুর্নীতিবিরোধী প্রোগ্রামে কাজ করতে আগ্রহী। আমি এটি নিশ্চিত করতে চাই যে, আমার মতো ভুল যেন কোনো তরুণ খেলোয়াড় ভবিষ্যতে না করে। এ বিষয়ে আইসিসির মহাব্যবস্থাপক অ্যালেক্স মার্শাল বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন,সাকিব আল হাসান একজন অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। আইসিসির করা অনেক দুর্নীতি বিরোধী প্রোগ্রামে উপস্থিত ছিলো সে। সকল নিয়মকানুন ভালোই জানা রয়েছে তার। তবুও সে তিনটি প্রস্তাবের কথা গোপন রেখেছে। এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবেই জানানো উচিৎ ছিল। আইসিসির মহাব্যবস্থাপক আরও বলেন,সাকিব তার নিজের ভুলগুলো মেনে নিয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে সম্পূর্ণ সহায়তা করেছে। এমনকি ভবিষ্যতে অ্যান্টি করাপশন ইউনিটের সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছে। যাতে করে তরুণ খেলোয়াড়রা এ ভুল করতে না পারে। আমি তার এই প্রস্তাবে খুশি।
টেস্টে অধিনায়ক মুমিনুল, টি-টোয়েন্টিতে মাহমুদউল্লাহ
২৯অক্টোবর,মঙ্গলবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে দুই বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে আইসিসি। তিনবার ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়েও না জানানোয় তার বিরুদ্ধে এ শাস্তির ব্যবস্থা নিলো বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা। আইসিসির নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারত সফরে খেলতে পারছেন না বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তার পরিবর্তে টেস্ট দলের নেতৃত্ব পেয়েছেন মুমিনুল হক। আর টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব দেবেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ভারত সফরের জন্য টি-টোয়েন্টি দল দেওয়া হয়েছিল আগেই। মঙ্গলবার এসেছে টেস্ট দল। এতে প্রথমবারের মত ডাক পেয়েছেন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান সাইফ হাসান। ফিরেছেন ইমরুল কায়েস ও আল আমিন। এদিকে শাস্তি মেনে নেওয়া সাকিব ভীষণ অনুতপ্ত। দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বিসিবির মিডিয়া লাউঞ্জে সাকিব আল হাসান মঙ্গলবার জানান, যে খেলাকে আমি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি সে খেলা থেকে নিষেধাজ্ঞা পেয়ে আমি দুঃখিত। আমি আমার দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করতে পারিনি। আমি চাই ভবিষ্যতে কেউ যেন আমার মতো ভুল না করে। সাকিব আরো বলেন, আমি আমার কোটি ভক্তের কাছে দুঃখিত। আশা করি, আমি সামনে আরো শক্তিশালিভাবে ফিরতে পারব। আরো ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারব। নিষেধাজ্ঞার সময়ে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ থাকবেন সাকিব। শাস্তি শেষে তিনি মাঠে ফিরবেন ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর। আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী আইনের তিনটি ধারা ভেঙেছেন সাকিব। আর শুনানিতে সব মেনেও নিয়েছেন বাঁহাতি অলরাউন্ডার। যে কারণে তার শাস্তিতে এক বছরের স্থগিত নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আইসিসি। জুয়াড়িদের কাছ থেকে আসা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন সাকিব, কিন্তু ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) কিংবা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) বিষয়টি না জানানোয় বড় শাস্তি পেয়েছেন তিনি। আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী ধারা অনুযায়ী, জুয়াড়ির কাছ থেকে অনৈতিক কোনও প্রস্তাব পেলে যত দ্রুত সম্ভব আইসিসি বা সংশ্লিষ্ট বোর্ডকে জানাতে হয়। এ ব্যাপারে প্রতিটি সিরিজ ও টুর্নামেন্টের আগে ক্রিকেটারদের ক্লাস নেওয়া হয়। এরপরও কেউ জুয়াড়িদের প্রস্তাবের কথা না জানালে গুরুতর অপরাধ হিসেবে সেটা গণ্য হবে। শাস্তিও তাই গুরুতর। আইসিসির এই ধারা ভঙ্গের শাস্তি হতে পারে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের নিষেধাজ্ঞা।
এক বছরের জন্য মাঠের বাইরে সাকিব
২৯অক্টোবর,মঙ্গলবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দুর্নীতিবিরোধী নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে মঙ্গলবার দুই বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করেছে আইসিসি। তবে নিষেধাজ্ঞার একটি বছর আবার স্থগিতও করা হয়েছে। বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিট আকসু তিনটি অভিযোগে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে এ শাস্তি দিল। মঙ্গলবার একটি জাতীয় দৈনিকে খবর বেরোনোর পরেই শুরু হয় কানাঘুষা। সারাদেশের মানুষ একসঙ্গে হতবাক হয়ে যায় এমন খবরে। সাকিবের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা মুলত ফিক্সিং সম্পর্কিত! না, তিনি ম্যাচ ফিক্সিংয়ের মতো কেলেঙ্কারি কাজ করেননি। তার কাছে এমন কুপ্রস্তাব নিয়ে এসেছিল জুয়াড়িরা। তবে এ প্রস্তাব পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। জুয়াড়ির প্রস্তাব অনুযায়ী ম্যাচ না পাতালেও আইসিসির আইন ভঙ্গ করেছেন সাকিব আল হাসান। তাই তাকে শাস্তির আওতায় আনে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে বরাবরই কঠোর অবস্থানে থেকেছে আইসিসি। আইসিসির দুর্নীতি দমন নীতিমালার ২.৪.৪ ধারা অনুসারে কেউ যদি আইসিসির দুর্নীতি দমন কোডের অধীন কোনো দুর্নীতিতে জড়ানোর প্রস্তাব পায় অনতিবিলম্বে তার পূর্ণাঙ্গ বিবরণী আইসিসিকে জানাতে হবে। কিন্তু কোনো কারণবশত জানাতে ব্যর্থ হলে এটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ৬ মাস এবং সর্বোচ্চ ৫ বছর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার বিধান রেখেছে আইসিসি। ম্যাচ পাতানোতে না জড়ালেও প্রস্তাব পাওয়ার ব্যাপারে আইসিসিকে কিছুই জানাননি সাকিব। আইসিসির ব্ল্যাকলিস্টে থাকা এক জুয়াড়ির কল লিস্ট ধরে তদন্তের সময় এটি ধরে ফেলে আইসিসি দুর্নীতি দমন বিভাগ আকসু। এ ব্যাপারে বিস্তারিত তদন্তের সময় আবার আইসিসিকে সাহায্য করেছিলেন সাকিব। সেখানে আত্মপক্ষ সমর্থনও করেছেন তিনি। তদন্তের মুখে জানিয়েছেন, এই প্রস্তাবকে হালকাভাবে নিয়েছিলেন বলেই আইসিসিকে জানানো হয়ে উঠেনি। তবে নিজের ভুল স্বীকার করেছেন সাকিব। তদন্তে সাহায্য করায় টাইগার অলরাউন্ডারের শাস্তি কিছুটা কম দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। শাস্তি কমানোর আবেদন করলে এ মেয়াদ আরও কিছুটা কমতে পারে বলে জানা যায়। তবে সেটা ৬ মাসের কম হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আপিল করার ব্যাপারে সবধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছেন সাকিব। নিষিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় শুধু সাকিব নন, বড় ধাক্কা পেল জাতীয় দলও।
গণমাধ্যমকে সাকিবের পাশে থাকতে আহ্বান জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
২৯অক্টোবর,মঙ্গলবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রায় দুই বছর আগে এক ক্রিকেট জুয়াড়ির সঙ্গে কথোপকথনের তথ্য গোপন করার অভিযোগ উঠেছে সাকিবের বিরুদ্ধে। এই কারণে ১৮ মাস নিষিদ্ধ হতে পারেন বাংলাদেশ টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। এমনটাই জানিয়েছে একটি জাতীয় দৈনিক। খবর শুনে হতভম্ব বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রেমীরা। এরই মধ্যে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সোচ্চার অনেকেই। যোগ হয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমও। নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে তিনি বলেন,আমি প্রত্যাশা করি বাংলাদেশের সকল মিডিয়া এবং বিদেশি গণমাধ্যমে কাজ করেন এরকম সকল বাংলাদেশি সাকিবের পক্ষে শক্ত হয়ে দাঁড়াবেন। শাহরিয়ার আলম বলেন,রাজনীতিবিদদের নিয়ে বিভ্রান্তিকর হেডলাইন করা রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। কিন্তু দয়া করে সাকিবের (বা অন্য যে কোনও আন্তর্জাতিক সম্মান বয়ে এনেছে এরকম কোন ক্রীড়াবিদের) সঙ্গে এটা করবেন না। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের এই নেতা বলেন,স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের সেরা সম্পদের অন্যতম একটির নাম সাকিব আল হাসান, যে আমাদের অনেক কষ্টের মাঝেও আমাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে, আমরা বিশ্বের সেরা সেরা যেসব অলরাউন্ডারদের দেখে বেড়ে উঠেছিলাম তাদের সবার চেয়ে যে সে সেরা তা আমার আপনার বিবেচনায় নয়, বছরের পর বছরের পরিসংখ্যান এবং আইসিসিই তা বলেছে। আর এটাকে অন্য কিছুর সাথে অযথা জড়াবেন না উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইসিসির নিয়ম আছে, যা বিসিবি দেখবে কিন্তু নাগরিক হিসেবে সাকিবের পাশে সবাইকে দাঁড়াতেই হবে।-আরটিভি অনলাইন
সাকিবের বিষয়ে জানা যাবে আজ
২৯অক্টোবর,মঙ্গলবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বর্তমানে বাংলাদেশের ক্রিকেটপাড়ায় সবচেয়ে আলোচিত ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। বোর্ডের নিয়মভঙ্গ করে টেলকোর সঙ্গে চুক্তি করায় তিনি শাস্তি পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।অপরদিকে, বিসিবির সভাপতির বক্তব্যে দেখা গেছে সাকিব নিজে থেকেই খেলতে নাও পারেন। এই বিষয়ে অফিসিয়াল কোনো তথ্য নেই বলে নিশ্চিত করেছেন আকরাম। তবে তার বিষয়ে আজ জানা যাবে বলে বোর্ড সূত্রে জানা গেছে। আকরামের ভাষায়, সাকিবের বিষয়টা আজ মঙ্গলবার আপনাদের বলতে পারব। কোনো অনিশ্চয়তা অফিসিয়ালি আসেনি। আমার কাছে এমন খবর আসেনি যে সাকিব যাবে না। আপনাদের সংবাদ থেকেই এটা শুনছি। অনেকেই বলছে যে ও (সাকিব) যাচ্ছে নাকি যাচ্ছে না! সে কোচের কাছে থেকে ছুটি নিয়েছে কয়দিন। এজন্য অনুশীলন ম্যাচে খেলছে না। আমাদের মাঝে আর অস্থিরতা নেই। যেই সমস্যাটা হয়েছিল আপনারাও জানেন তার সমাধান হয়ে গেছে।
তথ্য ছিল ভারত সিরিজ বানচাল হবে: পাপন
২৮অক্টোবর,সোমবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পারিশ্রমিক বাড়ানোসহ ১১ দফা দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। এতে জাতীয় দলের ভারত সফর নিয়ে দেখা দেয় শঙ্কা। তবে আলোচনার পর তাদের দাবি মেনে নিয়েছে বিসিবি। ধর্মঘট প্রত্যাহার করে মাঠে ফিরেছেন সাকিব-মুশফিকরা। প্রাণ ফিরেছে দেশের ক্রিকেটে। আর ঠিক এমন মুহূর্তে বিস্ফোরক তথ্য দিলেন বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন। বললেন, তার কাছে তথ্য ছিল- ভারত সিরিজ বানচাল হবে। দেশের শীর্ষস্থানীয় এক সংবাদমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভারত সফরের এখনও আপনারা অনেক কিছু দেখেননি। দেখেন না কি হয়? আমি বলেছি- এ ধর্মঘটের পেছনে ষড়যন্ত্র আছে। কিছু তো অবশ্যই আছে।বিসিবি প্রধান আরও বলেন, নিশ্চয়ই হুট করে ক্রিকেটার ক্রিকেট বয়কটের পেছনে কিছু আছে। তাদের খেলা বর্জনের নেপথ্যে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র কাজ করেছে। আমার কাছে তথ্য ছিল- ভারত সিরিজ বানচাল হবে।আগামী নভেম্বরে তিনটি টি-টোয়েন্টি ও দু'টি টেস্ট খেলতে ভারত সফরে যাবে বাংলাদেশ।
দুই পক্ষকেই ছাড় দেয়ার পরামর্শ সাবেরের
২৪অক্টোবর,বৃহস্পতিবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ১১ দফা দাবিতে ক্রিকেটাররা যেভাবে ধর্মঘট ডেকেছেন এবং তার প্রেক্ষিতে বিবিবি সভাপতি যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন, তাতে দুই পক্ষেরই ভুল দেখছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী। গতকাল রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন,ক্রিকেটারদের যৌক্তিক দাবিগুলো বিসিবি বোর্ড মেনে নেবে, আর খেলোয়াড়রাও মাঠে ফিরে আসবে- এটাই তার প্রত্যাশা। এ জন্য দুই পক্ষই নমনীয় হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিসিবির সাবেক এই সভাপতি। সোমবার মিরপুরে জাতীয় ক্রিকেট একাডেমি মাঠে ১১ দফা দাবি তুলে ধরে ধর্মঘটের ঘোষণা দেন সাকিব আল হাসান। এর প্রতিক্রিয়ায় মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান বলেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত চলছে। সব ক্রিকেটার এটির সঙ্গে জেনে শুনে জড়িয়েছেন বলে মনে হয় না। ১-২ জন জানতে পারে। এই মুহূর্তে বের করা দরকার, কারা এই কাজ করছে। কিছুদিনের সময় চাচ্ছি আপনাদের কাছে। সব বের করে ফেলব। ক্রিকেটাররা ধর্মঘট ডাকার পর টুইট করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন সাবের হোসেন চৌধুরী,যিনি বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার সময় বোর্ড সভাপতি ছিলেন। টুইটে তিনি লেখেন,খেলোয়াড়দের দাবি আর চেতনার সঙ্গে আমি একমত। এমন যে হবে তা টের পাওয়া যাচ্ছিল বহুদিন ধরে। তারা আরও অনেক কিছুই চাইতে পারত। বিসিবি টাইগার্স হলো বিশ্বের মধ্যে একটিমাত্র জাতীয় স্পোর্টিং বডি, যারা ম্যাচ ফিক্সিং, দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া অনুমোদন করছে। এটা অবিশ্বাস্য। এই ইস্যুটি বহুবার আমি নিজে তুলে ধরেছি। আশা করি বিসিবি এর মধ্যে কোনো ষড়যন্ত্র খুঁজে পাবে না। এরপর বিসিবি সভাপতি ঠিকই ষড়যন্ত্র ত্তত্ব নিয়ে হাজির হওয়ায় সাবের হোসেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন সাংবাদিকরা। উত্তরে তিনি বলেন,বক্তব্যের কনটেন্ট নিয়ে আমি বলব না। তবে তারা যে অ্যাপ্রোচ নিয়েছে, সেটা নিয়ে আমি বলব। আমার মনে হয় ক্রিকেটারদের উচিত হয় নাই প্রেস কনফারেন্স করে তাদের দাবিটা দেওয়া। তবে একই ভুল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড করল। ক্রিকেট বোর্ড হচ্ছে অভিভাবক, তারা হচ্ছে গার্ডিয়ান। তাদের অবস্থান আর খেলোয়াড়দের অবস্থান তো এক নয়। সাবের বলেন, ক্রিকেট বোর্ডের অভিভাবকের ভূমিকাতেই থাকা উচিত, ক্রিকেটারদের ডেকে সমস্যার সমাধান করা উচিত। বাংলাদেশের মানুষ যেটা চায়, ক্রিকেট হচ্ছে একটা মাঠের খেলা, সেই মাঠে যেন ক্রিকেট ফিরে যায় খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে। আমরা একটা সমাধান চাই। দূরত্ব সৃষ্টি হয় গেছে কোনো একটা কারণে, সেটা যেন আমরা ঘোচাতে পারি। আমরা চাই আমাদের ভারত সফরটা যেন হয়, ক্রিকেট খেলা যেন মাঠে ফিরে আসে। তাদের যৌক্তিক দাবি যেগুলো আছে, সেগুলো যেন ক্রিকেট বোর্ড গ্রহণ করে নেয়।
আনুষ্ঠানিকভাবে বিসিসিআইর দায়িত্ব নিলেন সৌরভ
২৩অক্টোবর,বুধবার,ক্রীড়া ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কয়েকদিন আগে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের (বিসিসিআই) নাটকীয় মোড়েই সভাপতি হওয়া প্রায় একপ্রকার নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল সৌরভ গাঙ্গুলির। এবার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিলেন প্রিন্স অব কলকাতা খ্যাত সাবেক এই ক্রিকেটার। বুধবার মুম্বাইয়ে বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ে এই সভাপতির দায়িত্বটি বুঝে নেন সৌরভ। প্রথমে ব্রিজেশ প্যাটেলের নাম ঠিক হলেও পরে জানা যায় ভারত জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়কই বোর্ডের সভাপতি পদে মনোনয়ন জমা দিতে চলেছেন। আর বাস্তবে সেটাই হলো। এদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সভাপতি অমিত শাহর ছেলে জয় শাহ হলেন বোর্ডের নতুন সচিব। সহসভাপতি পদে দায়িত্ব পেয়েছেন মাহিম বর্মা। সাবেক বোর্ড প্রেসিডেন্ট অনুরাগ ঠাকুরের ছোট ভাই অরুণ সিং ধামাল হয়েছেন নতুন কোষাধ্যক্ষ। এদিকে যুগ্মসচিব হয়েছেন জয়েশ জর্জ। ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ এই সংস্থার নতুন প্রতিনিধিদের বেছে নিতে কোনও নির্বাচনের প্রয়োজন হয়নি। কোনওরকম বিরোধিতা ছাড়াই এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তারা। যদিও ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্তই বিসিসিআইর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন সৌরভ। কারণ দায়িত্ব নেয়ার আগে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের (সিএবি) সভাপতি ছিলেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই তাকে কুলিং পিরিয়ডে যেতে হবে। বিসিসিআইর নিয়ম নিয়ম অনুযায়ী, ছয় বছরের বেশি ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট কোনও পদে থাকা যায় না। সে হিসেবে ১০ মাস পর প্রশাসক হিসেবে সিএবি ও বিসিসিআইর মেয়াদ শেষ হবে সৌরভের। ২০১৫ সালে জগমোহন ডালমিয়ার মৃত্যুর পর সিএবি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব তুলে নিয়েছিলেন সৌরভ।