শনিবার, মে ৩০, ২০২০
৬ বছর পর বিদেশে টাইগারদের সিরিজ জয়
অনলাইন ডেস্ক: ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টিতেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। ২০১২ সালের পর প্রথমবার বিদেশের মাটিতে ২০ ওভারের সিরিজ নিশ্চিত করলো তারা। ম্যাচ জিতলেই ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজও বাংলাদেশের। এই সমীকরণ মাথায় রেখে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে মাত্র ৬ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চাপে ফেলে বাংলাদেশি বোলাররা। যদিও রভম্যান পাওয়েল ও দিনেশ রামদিনের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিয়েছিল ক্যারিবিয়ানরা। দুই ব্যাটসম্যান ফিরে গেলেও আন্দ্রে রাসেল একপাশে ঝড় তুলে দলকে পথে রেখেছিলেন। তিনি ১৭.১ ওভারে আউট হওয়ার পর বৃষ্টি নামে ফ্লোরিডায়। আর বল মাঠে গড়ায়নি। উইন্ডিজকে ১৮৫ রানের টার্গেট দিয়ে ২৬ রানে উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন মোস্তাফিজ। নিজের প্রথম ওভারে আন্দ্রে ফ্লেচারকে ৬ রানে নাজমুল ইসলামের ক্যাচ বানান এই বাঁহাতি পেসার। তারপর নাজমুলের ইনজুরিতে পঞ্চম ওভারের মাঝে বল হাতে নেওয়া সৌম্য সরকার ১৯ রানে ফেরান চ্যাডউইক ওয়ালটনকে। তার ক্যাচ ধরেন বদলি ফিল্ডার সাব্বির রহমান। পরের ওভারে বল হাতে নেন সাকিব আল হাসান। নিজের প্রথম ওভারের শেষ বলে মারলন স্যামুয়েলসকে মাত্র ২ রানে বোল্ড করেন বাংলাদেশি অধিনায়ক। ৩২ রানে ক্যারিবিয়ানরা হারায় তৃতীয় উইকেট। রামদিন ও পাওয়েল প্রায় পঞ্চাশ রানের জুটি গড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পথে ফেরাচ্ছিলেন। তাদের জুটিটা ৪৫ রানের বেশি হতে দেননি রুবেল। নিজের তৃতীয় ওভারে রামদিনকে ২১ রানে বোল্ড করেন তিনি। এ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানের বিদায়ের ঠিক ৬ বল পর আবু হায়দারের হাতে ক্যাচ দিয়ে মোস্তাফিজের শিকার হন পাওয়েল। ২০ বলে ২৩ রান করেন তিনি। এই দুই ব্যাটসম্যান আউট হলেও কার্লোস ব্র্যাথওয়েটকে নিয়ে ঝড় তোলেন আন্দ্রে রাসেল। ২০ বলে ৩২ রানের জুটি গড়েন তারা। ব্র্যাথওয়েটকে মাত্র ৫ রানে লং অনে সাব্বিরের ক্যাচ বানিয়ে স্বস্তি ফেরান আবু হায়দার। পরের ওভারে বাংলাদেশ তাদের বড় বাধা দূর করেন। মোস্তাফিজ তার শেষ ওভারের প্রথম বলে রাসেলকে আউট করেন। ২১ বলে ৬টি ছয় ও একটি চারে সাজানো তার ৪৭ রানের ইনিংস থামে আরিফুলকে ক্যাচ দিয়ে। তার আগে ব্যাট হাতে নেমে বাংলাদেশকে শক্ত অবস্থানে রাখতে দুর্দান্ত এক হাফসেঞ্চুরি করেন লিটন দাস। উদ্বোধনী জুটিতে তামিম ইকবালকে নিয়ে বাংলাদেশকে এনে দিলেন দ্রুততম ফিফটি। এমন দারুণ শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে ৫ উইকেটে ১৮৪ রান করে তারা। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ঝড়ো সূচনা করে বাংলাদেশ। প্রথম বলেই লিটন মারেন বাউন্ডারি, প্রথম ওভারে আসে ৮ রান। দ্বিতীয় ওভারে এই বাংলাদেশি ওপেনার দুটি ছয় ও একটি চারে যোগ করেন ১৭ রান। চার-ছয়ের মার ছিল তামিমের ব্যাটেও। দুজন সমানতালে ক্যারিবিয়ান বোলারদের ওপর চড়াও হন। মাত্র ৩.৪ ওভারে দল ৫০ রানের ঘরে পৌঁছায়। বাংলাদেশের জন্য এটি ছিল দ্রুততম অর্ধশতক। ক্যারিবিয়ানদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠা এ জুটি ভাঙেন অধিনায়ক কার্লোস ব্র্যাথওয়েট। পঞ্চম ওভারের চতুর্থ বলে তামিমকে কেসরিক উইলিয়ামসের ক্যাচ বানান তিনি। ১৩ বলে ৩ চার ও ১ ছয়ে ২১ রানে আউট হন বাঁহাতি ওপেনার। মাত্র ৩০ বলে ৬১ রানের ঝড়ো জুটি ভাঙে তামিমের বিদায়ে। দারুণ শুরুর পরও সৌম্য সরকার চাপমুক্ত হয়ে খেলতে পারেননি। পরের ওভারে কিমো পলের বলে রভম্যান পাওয়েলের ক্যাচ হন উঁচু শট খেলে। ৪ বলে ৫ রান করেন তিনি। প্রথম পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ২ উইকেটে ৭১ রান করে বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লের পর রানের গতি কমে যায় বাংলাদেশের। আগের ১৪ ম্যাচে সর্বোচ্চ ৪৪ রান করা লিটন অষ্টম ওভারে পেয়ে যান প্রথম ফিফটি। ২৪ বলে ৫ চার ও ৩ ছয়ে হাফসেঞ্চুরি করেন এই ওপেনার। মুশফিকুর রহিম তার সঙ্গে ৩১ রানের জুটি গড়ে ফিরে যান ব্র্যাথওয়েটের বলে। ১৪ বলে ১২ রান করে পেছনে দিনেশ রামদিনের হাতে বল তুলে দেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। পরের ওভারে উইলিয়ামসের বলে অ্যাশলে নার্সের কাছে ক্যাচ হন লিটন। মাত্র ৩২ বলে ৬ চার ও ৩ ছয়ে ৬১ রান করেন তিনি। লিটন বিদায় নেওয়ার পর মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে সাকিব আল হাসান গড়েন ৪৪ রানের জুটি। গত ম্যাচের মতো স্বতঃস্ফূর্ত ব্যাটিং করেননি অধিনায়ক। ২২ বলে ২৪ রানে পলের শিকার হন তিনি নার্সকে ক্যাচ দিয়ে। আর কোনও উইকেট হারায়নি বাংলাদেশ। ষষ্ঠ উইকেটে আরিফুল হককে নিয়ে ২৫ বলে ৩৮ রান এনে দেন মাহমুদউল্লাহ। ২০ বলে ৪টি চার ও ১টি ছয়ে ৩২ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। ১৮ রানে খেলছিলেন আরিফুল। দুটি করে উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেরা বোলার ব্র্যাথওয়েট ও পল।
দুর্দান্ত জয় নিয়ে সমতায় বাংলাদেশ
অনলাইন ডেস্ক: তামিম-সাকিবের ব্যাটের পর বোলারদের অসাধারণ কীর্তিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ১২ রানের হারিয়ে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। ফলে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-১-এ সমতা পেল টাইগাররা। বাংলাদেশের করা ১৭১ রানের জবাবে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৫৯ রান তুলতে পারে ক্যারিবীয়রা। ১৭২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মোস্তাফিজ, সাকিব ও রুবেল হোসেনের তোপে নির্ধারিত ১০ ওভার শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ৭৬ রান সংগ্রহ করে ক্যারিবীয়রা। শুরুতেই ওপেনার এভিন লুইসকে এলবির ফাঁদে ফেলেন মোস্তাফিজুর রহমান। পরে ১০ বলে ১৭ রানে ভয়ংকর হতে থাকা আন্দ্রে রাসেলকে মুশফিকের ক্যাচে পরিণত করেন কাটার মাস্টার। নিয়ন্ত্রিত বোলিং করা সাকিব আল হাসান দলীয় ৪৮ রানে মারলন স্যামুয়েলসে ব্যক্তিগত ১০ রানে ফেরান। আর দিনেশ রামদিনকে ৫ রানে প্যাভিলিয়নমুখী করান রুবেল হোসেন। ক্যারিবিয়ানদের ১১৬ রানে ওপেনার আন্দ্রে ফ্লেচারকে সাকিবে ক্যাচে ফেরান নাজমুল ইসলাম অপু। ৩৮ বলে ৪৩ রান করেন তিনি। পরে অধিনায়ক কার্লোস ব্র্যাথওয়েটকে লিটন দাশের দুর্দান্ত ক্যাচে ব্যক্তিগত ১১ মাঠ ছাড়া করান সাকিব। ব্যাটে মারমুখি হতে থাকা রোভম্যান পাওয়েলকে মোস্তাফিজ ফেরালে বাংলাদেশ শিবিরে স্বস্তি ফেরে। ৩৪ বলে ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় ফ্লেচারের সমান সর্বোচ্চ ৪৩ করেন রোভম্যান। আর শেষ ওভারে অ্যাশলে নার্স ও কিমো পলকে বিদায় করা স্পিনার নাজমুল ইসলাম টাইগারদের জয়ে দারুণ অবদান রাখেন। মোস্তাফিজ ও নামজুল ৩টি করে উইকেট দখল করেন। সাকিব পান ২টি উইকেট। এছাড়া বাকি উইকেটটি তুলে নেন রুবেল হোসেন। এর আগে টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৭১ রান সংগ্রহ করে টাইগাররা। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় টসে জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় ক্যারিবীয়রা। তবে টসে হেরে ব্যাটিং এ নেমে শুরুতেই লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিমের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দলীয় ৭ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ১ রানে লিটন ও দলীয় ২৪ রানের সময় মাত্র ৪ রান করেই সাজঘরে ফেরেন মুশফিক। এরপর দলের ৪৮ রানের মাথায় আউট হন সৌম্য সরকার। অপরদিকে উইকেটে টিকে থাকেন আরেক ওপেনার তামিম ইকবাল। বড় স্কোর গড়ার প্রত্যাশায় তিনি অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে সঙ্গে নিয়ে ব্যাট করতে থাকেন। দলীয় ১৩৮ রানের সময় ঝড়ো ব্যাটিং করা তামিম আন্দ্রে রাসেলের বলে বিদায় নেন। তবে ৪৪ বলে ৬টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৭৪ রানের অসাধারণ ইনিংসটি খেলেন এই বাঁহাতি। অন্যদিকে ৩৮ বলে ৯টি চার ও এক ছয়ে ৬০ রান করে আউট হন সাকিব। এবারই প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে নামে বাংলাদেশ। বাংলাদেশে সময় সকাল ছয়টায় খেলা শুরু হয়। আলোকিত বাংলাদেশ
শ্রীলঙ্কাকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা
অনলাইন ডেস্ক: বুধবার সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কাকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এ জয়ের ফলে ৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-০তে এগিয়ে গেল সফরকারীরা। এদিন ডাম্বুলাতে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৪৪ রান করে শ্রীলঙ্কা। জবাবে ৪৩ বল বাকি থাকতেই ২৪৬ রান করে জয় তুলে নেয় প্রোটিয়ারা। ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন কুইন্টন ডি কক। এর আগে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে জয় পেয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এদিন টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামে শ্রীলঙ্কা। তবে দলীয় ১৩ রানের মাথায় দুইটি উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে তারা। দুইটি উইকেটই নেন লুঙ্গি এনগিদি। তবে নিরোশান ডিকওয়ালার ৬৯ ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের অপরাজিত ৭৯ রানে ভর দিয়ে লড়াইর পুঁজি দাঁড় করায় লঙ্কানরা। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন এনগিদি ও আনদিল ফিলুকাউ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে দুই ওপেনার ডিক কক ও হাশিম আমলা মিলে ৯১ রান এনে দেন দলকে। ব্যক্তিগত ৪৩ রানে আউট হয়ে যান আমলা। তবে ডি ককের ৮৭, ফ্যাফ ডু প্লেসির ৪৯ ও জেপি ডুমিনির ৩২ রানের সুবাদে সহজ জয় তুলে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। লঙ্কান স্পিনার আকিলা ধনঞ্জয়া ৬০ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন।
টি-টোয়েন্টিতেও সাফল্যের আশাবাদী: সাকিব আল হাসান
অনলাইন ডেস্ক: টেস্ট সিরিজে চরম হতাশার পর ওয়ানডেতে দারুণ সাফল্য। প্রায় এক দশক পর বিদেশের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। একদিনের ক্রিকেটে এই দারুণ সাফল্যের পর এবার টি-টোয়েন্টি সিরিজে ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হচ্ছে সাকিব-তামিমরা। আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। সেন্ট কিটসে আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টায় শুরু হবে সিরিজের প্রথম ম্যাচ। সিরিজের বাকি দুটি ম্যাচ বসছে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায়। ৪ ও ৫ আগস্ট হবে এ ম্যাচ দুটি। দুটি ম্যাচই শুরু হবে সকাল ৬টায়। ওয়ানডের মতো টি-টোয়েন্টিতেও সাফল্যে আশাবাদী বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘ওয়ানডেতে আমরা যে দারুণ ক্রিকেট খেলেছি, আশা করছি টি-টোয়েন্টিতেও সে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারব। খেলোয়াড়রা বেশ উজ্জীবিত। তারা নিজেদের সামর্থ্যের সেরাটা দিয়ে খেলতে পারলে সাফল্য আসবে। আমার বিশ্বাস, সবাই নিজেদের সেরাটা দিতে মুখিয়ে আছে।’ অবশ্য টি-টোয়েন্টিতে রেকর্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজেরই পক্ষে। এখন পর্যন্ত দুই দল ছয়টি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে। তার মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতেছে তিনটি এবং বাংলাদেশ দুটিতে। একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে। আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া তিন ম্যাচে কোন দল সাফল্য পায়, সেটাই এখন দেখার।
বিদেশে সিরিজ জয় টাইগারদের
অনলাইন ডেস্ক :সেই পুরনো পথে হাঁটতে শুরু করেছিল বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি সিরিজ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজে টেস্ট সিরিজ হারের পর হতাশার চাদর ঢেকে দিয়েছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটকে। ওয়ানডে সিরিজে সেই চাদর সরে গেল এক ঝটকায়। শনিবার রাতে সেন্ট কিটসে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটা ১৮ রানে জিতে নিলো বাংলাদেশ। প্রথম ওয়ানডেতে ৪৮ রানে জিতেছিল টাইগাররা। দ্বিতীয় ম্যাচে মাত্র ৩ রানে হেরে যাওয়ায় সেদিন সিরিজ জয় নিশ্চিত হয়নি। তবে অঘোষিত ফাইনালে দারুণ এক জয়ে সিরিজ নিজেদের করল টাইগাররা। তাতে দুই বছর পর সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল বাংলদেশ। আর বিদেশের মাটিতে সিরিজ জয় ৯ বছর পর। ২০০৯ সালে সর্বশেষ বিদেশে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। সেন্ট কিটসের টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩০১ রান করে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে যা টাইগারদের সর্বোচ্চ ইনিংস। তামিম ইকবাল এদিনও করলেন সেঞ্চুরি। প্রথম ওয়ানডেতেও যার ব্যাট থেকে এসেছিল সেঞ্চুরি। ফিফটি করলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে জিততে হলে করতে হতো রেকর্ড। কারণ ওয়ার্নার পার্কে তিনশ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড নেই কখনো। ক্যারিবীয়রাও পারেনি এদিন। ক্রিস গেইল প্রথমে ভয় ধরালেন। এরপর সাই হোপ ও রোভমান পাওয়েল দারুণ চেষ্টা করলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হাসি বাংলাদেশের। সিরিজ জয়ের পর্বটা গায়ানাতেই সেড়ে রাখতে পারত বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৩ রানের নাকটীয় হারে সেটি হয়নি। তার আগে গায়ানাতেই প্রথম ওয়ানডেতে ৪৮ রানের দারুণ জয় তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশের। সিরিজে ১-১ এ সমতা নিয়ে এদিন দুই দল খেলতে নামল। সেন্ট কিটস বলে একটু ভয় ছিল। কিন্তু এখানেও গায়ানার দুর্দান্ত বাংলাদেশকেই খুঁজে পাওয়া গেল। বরং বলা ভালো গায়ানার চেয়েও আরো দুর্দান্ত ছিল বাংলাদেশ। তাইতো গায়ানায় প্রথম ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে টাইগাররা নিজেদের সর্বোচ্চ রানের স্কোর গড়ার পর এদিন সেটি নতুন করে লিখল বাংলাদেশ। স্লগ ওভারে দারুণ বল করলেন রুবেল, মোস্তাফিজ। যেখানে রোভমান পাওয়েল ভয় ধরাচ্ছিলেন। তবে রুবেল-মোস্তাফিজরা শেষ তিন ওভারে স্নায়ুর লড়াই জিতলেন ভালোভাবে। জিততে হলে শেষ ১০ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে করতে হতো ১০৯ রান। হাতে ৬ উইকেট। বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তবে সাই হোপ তখন ব্যাট করছেন ৫৬ রানে। অন্য প্রান্তে খুনে মেজাজে রোভমান পাওয়েল। তবে ৪৪তম ওভারে হোপকে ফেরান মাশরাফী। কিন্তু রোভমান পাওয়েলকে থামানো যাচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত তিনি অপরাজিতই থেকে গেছেন। তবে শেষ ওভারগুলোতে তাকে অতিদানবীয় হতে দেননি রুবেল-মোস্তাফিজরা। শেষ ৩ ওভারে ক্যারিবীয়দের সামনে সমীকরণে দাঁড়ায় ৪০ রানের। মোস্তাফিজ ৪৮তম ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে হোল্ডারের উইকেট নেন। ৪৯তম ওভারে রুবেল হোসেনও খরচ করেন মাত্র ৬ রান। তাতে শেষ ওভারে জিততে ক্যারিবীয়দের দরকার পড়ে ২৮ রান। মোস্তাফিজের প্রথম বলে ছক্কা মেরে রোভমান পাওয়েল ভয় ধরালেন। কিন্তু এরপর আর পারেননি অমন কিছু করতে। মোস্তাফিজ পরের ৫ বলে ব্যয় করেছেন মাত্র ৩ রান। তাতেই দারুণ জয় টাইগারদের। শুরুতে গেইল ভয় ধরিয়েছিলেন। ৭৩ রান করেন ক্যারিবীয় ব্যাটিং দানব। যাকে ফেরান রুবেল। তার আগে লুইসকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন মাশরাফী। বাংলাদেশের পক্ষে সর্বাধিক ২ উইকেট মাশরাফীরই। ১টি করে উইকেট নিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ, মোস্তাফিজুর রহমান ও রুবেল হোসেন। এর আগে জয়ের আসল ভিত্তিটা স্থাপন হয় ব্যাটসম্যানদের হাতে। তামিম ইকবাল টানা তিন ম্যাচে ছিলেন দুর্দান্ত। প্রথম ম্যাচে অপরাজিত ১৩০। দ্বিতীয় ম্যাচে ৫৪ রান। এ ম্যাচেও করলেন সেঞ্চুরি। ১২৪ বলে ১০৩ রানের ইনিংস খেলেন এই ড্যাশিং ওপেনার। যা তার ক্যারিয়ারের একাদশ ফিফটি। আর সিরিজে ২৮৭ রান করে করলেন রেকর্ড। তিন ম্যাচের সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজে বিদেশি কোনো দলের হয়ে যা সর্বোচ্চ। কৃতিত্ব এরপর মাহমুদউল্লাহর। পাঁচ নম্বরে নেমে যিনি ৪৯ বলে ৬৭ রানের অপরাজিত এক ইনিংস খেলেছেন। ৫ চার ও ৩ ছক্কায় সাজিয়েছেন তার ইনিংস। কৃতিত্ব সাকিব আল হাসান ও মাশরাফী বিন মোর্ত্তজারও। সাকিব এদিন পারেননি টানা তৃতীয় ফিফটি তুলে নিতে। তবে ৩৭ রান করার পথে তামিম ইকবালের সাথে আবারো তৃতীয় উইকেটে উপহার দিয়েছেন দারুণ জুটি। এদিন ৮১ রান উপহার দেন এই দুজন। আর সাব্বির ও মোসাদ্দেককে নিচে নামিয়ে মাশরাফী খেলতে নেমেছিলেন ছয় নম্বরে। ২৫ বলে ১ ছক্কা ও ৪ চারে ৩৬ রান করেছেন তিনি। তাতে ৩০০ পেরোনো সংগ্রহ পায় বাংলাদেশের। নয় বছর আগে বাংলাদেশ বিদেশে সর্বশেষ সিরিজটি জিতেছিল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে। তার ঠিক আগের সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে করেছিল হোয়াইটওয়াশ ৩-০ ব্যবধানে। সেবার টেস্ট ও ওয়ানডে দুই সিরিজেই ক্যারিবীয়দের তাদের মাটিতেই হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ। তবে সেটি দ্বিতীয় সারির দলের বিপক্ষে। বোর্ডের সঙ্গে দ্বন্দ্বে সেবার খেলেননি শীর্ষ ক্রিকেটাররা। এবার অবশ্য প্রথম সারির উইন্ডিজদের হারিয়েই ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বাদ নিল বাংলাদেশ। দারুণ জয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন তামিম ইকবাল। প্রথম ওয়ানডেতেও ম্যাচ সেরা ছিলেন তিমি। পুরো সিরিজে দুর্দান্ত খেলে সিরিজ সেরাও হয়েছেন তামিম।
ছেলেরা পেশাদার পারফরম্যান্স দেখাতে পেরেছে: মাশরাফি
অনলাইন ডেস্ক: সেন্ট কিটসে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৮ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। দারুণ এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ এ নিজেদের করেছে টাইগাররা। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ৯ বছর পর সিরিজ জয়ের কীর্তি হলো তাতে। শনিবার ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে পাওয়া এই জয়ে সতীর্থদের কৃতিত্ব দিলেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা। তিনি বললেন,ছেলেরা পেশাদার পারফরম্যান্স দেখাতে পেরেছে। গায়ানায় প্রথম ওয়ানডেতে ৪৮ রানের জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও জয়ের দ্বার প্রান্তে ছিল সফরকারীরা। কিন্তু দিবারাত্রির ম্যাচে শেষ দিকের নাটকীয়তায় হেরে যায় বাংলাদেশ। তবে এদিনের জয়ে নিজেদের পারফরম্যান্সকে পেশাদার পারফরম্যান্স স্বীকৃতি দিলেন মাশরাফি। জয়ের পর পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে মাশরাফি বলেন,ক্রিকেট মেন্টাল গেম। আমরা দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচ হেরেছিলাম। যদিও ৯৯ ওভার পর্যন্ত ম্যাচ আমাদের হাতে ছিল। কিন্তু এম্যাচে আমি বলবো ছেলেরা পেশাদার পারফরম্যান্স দেখাতে পেরেছে। ছেলেরা দারুণ ছন্দে আছে। পুরো সিরিজে দারুণ পারফরম্যান্স করেছেন তামিম ইকবার। দুটি সেঞ্চুরি করে সিরিজ সেরা হয়েছেন তিনি। সাকিব আল হাসান ব্যাট-বল হাতে ছিলেন দারুণ। মুশফিকুর রহীম, মাহমুদউল্লাহও দারুণ পারফর্ম করেছেন। বল হাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মাশরাফী নিজেও। তবে সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন, এনামুলের মতো তরুণরা ছিলেন ব্যর্থ। মাশরাফি তাই সিনিয়রদের কৃতিত্ব দিলেন। আর তরুণদেরকে বললেন কাঁধে দায়িত্ব তুলে নিতে,তামিম, সাকিব, মুশি (মুশফিক) দারুণ খেলেছে। এখন তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে এবং দায়িত্ব নিতে হবে। বোলাররা তিন ম্যাচেই দারুণ বল করেছে। সামনে টি-টুয়েন্টি সিরিজ। মাশরাফী যে ফরম্যাট থেকে অবসর নেওয়ায় থাকবেন না সেখানে। তবে দলকে আত্মবিশ্বাস নিয়ে শুরু করার বার্তা দিয়ে গেলেন ওয়ানডে অধিনায়ক,এখন টি-টুয়েন্টিতে আমাদের আত্মবিশ্বাস নিয়ে শুরু করতে হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি সিরিজ কখনোই সহজ নয়। শীর্ষ নিউজ
সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে আজ সন্ধ্যায় মাঠে নামবে বাংলাদেশ
অনলাইন ডেস্ক: ওয়ানডে সিরিজ জয়ের লক্ষ্যেই স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আজ শনিবার সন্ধ্যায় মাঠে নামবে বাংলাদেশ। আজ যারা জয় পাবে সিরিজ তাদেরই। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ম্যাচটি শুরু হবে সেন্ট কিটসের ওয়ার্নার পার্কে। ম্যাচটি সরাসরি দেখাবে চ্যানেল নাইন, গাজী টিভি ও সনি ইএসপিএন। টেস্ট সিরিজে হারের পর প্রথম ওয়ানডেতে দুর্দান্তভাবে জয়ের ট্রাকে ফিরে বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় ওয়ানডেতে স্নায়ুরচাপে আবারো ভেঙে পড়ে তারা। তাই আর সিরিজ জেতা হয়নি। তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুটিতে উভয় দল জয়লাভ করে সমতায় রয়েছে বিধায় শেষ ওয়ানডে রূপ নিয়েছে অঘোষিত ফাইনালে। মাশরাফি বিন মুর্তজার হাত ধরেই টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ কঠিন স্মৃতি ভুলে প্রথম ওয়ানডেতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। মাশরাফির প্রেরণায় তামিম-সাকিবের দুর্দান্ত জুটি, শেষদিকে মুশফিকের ঝড়ো ইনিংসে ফাইটিং স্কোর গড়ে বাংলাদেশ। বোলিংয়ে এসে মাশরাফি উইকেটের উদ্বোধন করে দেন। এরপর লেজ গুড়িয়ে দিয়ে প্রথম ওয়ানডেতে দুর্দান্ত জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। এদিন ব্যাটে, বলে দারুণ সমঝোতা গড়ে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। কিন্তু দ্বিতীয় ওয়ানডেত চিত্রটা পুরো পাল্টে যায়। সহজ ম্যাচকে কঠিন করে স্নায়ুর লড়াইয়ে পরাজয়। সিনিয়রদের লড়াইয়ে জয়ের প্রান্তে এসেও জুনিয়রদের ব্যর্থতায় ৩ রানে দারুণ জয় উপহার পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যার দরুণ দলের সঙ্গে পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা টাইগার ভক্তরাও হতাশ হয়ে পড়ে। ওদিকে উল্লাসে মাতে ক্যারিবীয় শিবির। যার কারণে আজকের শেষ ওয়ানডেটি হয়ে উঠেছে দুই দলের জন্য অঘোষিত ফাইনাল। দুই দলের জন্যই ম্যাচটিতে জয়ই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ যেমন চাইবে ক্যারিবীয়দের হারিয়ে শিরোপা ছুঁয়ে দেখতে, ঠিক তেমনি স্বাগতিকরাও দেশের মাটিতে শিরোপা ধরে রাখতে। এদিকে গায়নার মতো ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি উইকেট পাবে না সেন্ট কিটসে। তাই এক প্রকার বলা চলে সেন্ট কিটসে কঠিন চ্যালেঞ্জই অপেক্ষা করছে টাইগারদের জন্য। তবুও নিজেদের সেরাটা দিয়ে জয় পেতেই মরিয়া থাকবে টাইগাররা। সবকিছু মিলিয়ে সেন্ট কিটসে দারুণ এক ম্যাচই হতে যাচ্ছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত সাতটি ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। এরমধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ পাঁচটি ও বাংলাদেশ দুটিতে জিতেছে। মুখোমুখি লড়াইয়েও এগিয়ে ক্যারিবীয়রা। ৩০ ম্যাচের মধ্যে ২০টি জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আটটিতে জয় পায় বাংলাদেশ। ২০১২ সালে সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ ৩-২ ব্যবধানে জিতেছিল বাংলাদেশ। অবশ্য ২০১৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জিতে নেয় স্বাগতিকরা। বাংলাদেশ একাদশ (সম্ভাব্য) মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান (সহ-অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, লিটন কুমার দাস, মুশফিকুর রহিম, সাব্বির রহমান, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মেহেদি হাসান মিরাজ, মুস্তাফিজুর রহমান, আবু হায়দার রনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাদশ (সম্ভাব্য) জেসন হোল্ডার (অধিনায়ক), দেবেন্দ্র বিশু, ক্রিস গেইল, শিমরন হেটমায়ার, শাই হোপ, আলজারি জোসেফ, এভিন লুইস, জেসন মোহাম্মদ, অ্যাশলে নার্স, কাইরান পাওয়েল, রোভম্যান পাওয়েল।
নেইমারদের দরজা বন্ধ নাইটক্লাবে
অনলাইন ডেস্ক: নতুন কোচ টমাস টুকেলের কড়া শাসনের মধ্যে পড়লেন নেইমার-এমবাপ্পেরা। প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) কোচের দায়িত্ব নিয়েই শৃঙ্খলার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। ফ্রান্সের সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের রাতভর পার্টি বন্ধ করতে চান জার্মান কোচ টুকেল। সেই লক্ষ্যে প্যারিস শহরের বেশ কয়েকটি প্রসিদ্ধ নাইটক্লাব ঘুরেছেন তিনি। নাইটক্লাব মালিকদের বুঝিয়ে বলেছেন পিএসজির কোনো খেলোয়াড় যদি বেশি রাতে বা ম্যাচের আগে-পরে নাইটক্লাবে আসে সঙ্গে সঙ্গে যেন পিএসজির ক্লাব কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেয়া হয়। মাঠের খেলায় সাফল্যের জন্য নেইমারদের খাদ্যাভ্যাস নিয়েও কঠোর হয়েছেন ৪৪ বছর বয়সী টুকেল। পাস্তা খাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে। ম্যাচের আগে ফাস্ট ফুড, সফট ড্রিংকস ও সব ধরনের মিষ্টি জাতীয় খাবার একদম নিষিদ্ধ। গত মে মাসে পিএসজির কোচ হিসেবে দুই বছরের চুক্তিতে উনাই এমেরির স্থলাভিষিক্ত হন টুকেল। এর আগে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের কোচ ছিলেন তিনি। পিএসজি ছেড়ে আর্সেনাল কিংবদন্তি আর্সেন ওয়েঙ্গারের স্থলাভিষিক্ত হন এমেরি। পিএসজির প্রাক-মৌসুমের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন টুকেল। বিশ্বকাপ শেষে ছুটিতে থাকায় নেইমার-এমবাপ্পের মতো বড় তারকাদের পাচ্ছেন না তিনি। হার দিয়ে প্রাক-মৌসুমের প্রীতি টুর্নামেন্ট ইন্টারন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন্স কাপ (আইসিসি) শুরু করে ফ্রেঞ্চ চ্যাম্পিয়ন পিএসজি। অস্ট্রিয়ায় বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ৩-১ গোলে হার দেখে টুকেলের শিষ্যরা। প্রতিযোগিতায় পিএসজির শেষ দুই ম্যাচ হবে সিঙ্গাপুরে। প্রতিপক্ষ আর্সেনাল ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ।
সিরিজ নিশ্চিত করতে চায় বাংলাদেশ
অনলাইন ডেস্ক: এক ম্যাচের ইতিবাচক ফলাফল পুরো একটি দলের চেহারা কতটা বদলে দিতে পারে, সেটা এই বাংলাদেশ দলকে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ যাওয়ার আগের মাসে ভারতের দেরাদুনে গিয়ে আফগানিস্তানের সঙ্গে টি-টোয়েন্টিতে হোয়াইটওয়াশ, ওয়েস্ট ইন্ডিজ গিয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে দাঁড়াতেও না পারা দলটি ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে এসেই পেলো জয়ের দেখা। এই একটি জয়েই পুরোপুরি বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বদলে গেলো টাইগারদের। গায়ানার প্রোভিডেন্ট স্টেডিয়ামেই যে আবার স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। আগের ম্যাচের মত এই ম্যাচটা দিনের আলোয় নয়, দিবারাত্রির। তবুও টাইগারদের ভয়ের কিছু নেই। কারণ, এই মাঠেই তো আগের ম্যাচে জয়ের ভিত রচিত হয়েছিল বাংলাদেশের। সুতরাং, দ্বিতীয় ম্যাচে টাইগারদের দারুণ উজ্জীবিত একটি দলই মাঠে নামবে। পুরো দলটাই বলতে গেলে বদলে গেছে অধিনায়ক মাশরাফির জাদুর ছোঁয়ায়। মাশরাফি দলে যোগ দেয়ার পরই বদলে গেলো পুরো দলের চেহারা। দারুণ উজ্জীবিত একটি দল এখন ‘টিম বাংলাদেশ’। যে কারণে দেখা গেলো প্রোভিডেন্স স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে এনামুল হক বিজয়ের উইকেট হারানো সত্ত্বেও দুই সিনিয়র ব্যাটসম্যান সাকিব এবং তামিমের দৃঢ়তায় ২০৭ রানের বিশাল জুটি গড়ে ওঠে। শেষে তামিমের সেঞ্চুরি এবং মুশফিকের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ২৭৯ রানের বড় স্কোর গড়ে তোলে বাংলাদেশ। মাশরাফি আগেও সাকিব আল হাসানকে ওয়ানডাউনে ব্যাট করিয়ে সাফল্য পেয়েছেন। সেই কৌশল তিনি গায়ানায়ও কাজে লাগালেন এবং সফল হলেন। পরে তো বোলিংয়ে নিজে এবং ক্যাপ্টেন্সিতে পুরোপুরিভাবেই ক্যারিবীয়দের বিধ্বস্ত করলেন মাশরাফি। ম্যাচ শেষে উজ্জীবিত বাংলাদেশের রহস্য জানা গেলো মাশরাফির মুখেই। তিনি জানিয়েছেন, ‘খেলোয়াড়দের বলেছি ভয়-ডরহীন ক্রিকেট খেলতে। দেশের জন্য নিজেদের উজাড় করে দিতে। সে কারণেই সম্ভব হয়েছে, এমন জয় পাওয়া।’ বোঝাই যাচ্ছে মাশরাফি কিভাবে উজ্জীবিত করেছেন পুরো দলকে। সেই দলটিই, সেই স্পিরিট নিয়ে একই মাঠে নামবে একই প্রতিপক্ষকে মোকাবেলা করার জন্য। নিশ্চিতভাবেই আজ আরও উজ্জীবিত থাকবে বাংলাদেশ দল এবং তারা চাইবে এই সেন্ট কিটসে যাওয়ার আগে এই গায়ানা থেকেই সিরিজ নিশ্চিত করে ফেলার। দলের সিনিয়র ক্রিকেটার এবং সহ-অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের কণ্ঠেও শোনা গেলো একই কথা। তিনিও জানিয়েছেন, গায়ানা থেকেই সিরিজটা নিশ্চিত করেই সেন্ট কিটসে যাওয়ার। ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে মাঠে নামার আগেরদিন মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সাকিব আল হাসানও জানিয়েছেন এই ইচ্ছার কথা। যদিও, সাকিবের বিশ্বাস, প্রথম ম্যাচ হেরে যাওয়ার কারণে, এই ম্যাচে খুব শক্তিশালী মানসিকতা নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে স্বাগতিকরা। সুরতাং, এ বিষয়টা নিয়ে তারা খুব সতর্ক। সাকিব আল হাসান বলেন, ‘আমি শিউর যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আরও শক্তিশালীভাবে কামব্যাক করার চেষ্টা করবে। সুতরাং, আমাদেরকে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে এবং আরও বেশি এফোর্ট দিতে হবে।’ এই ম্যাচেই সিরিজ জয়ের দারুণ সুযোগ। সেই সুযোগটা নেয়ার জন্য কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ? সাকিব আল হাসান বলেন, ‘অবশ্যই, আমাদের তো প্রস্তুতি আছেই যেন প্রতিটা ম্যাচ জিততে পারি। আমরা যখন খেলতে পারি, তখন এ চিন্তা করেই নামি যে, যেন আমরা প্রতিটি ম্যাচে জিততে পারি। আমরা যদি এই ম্যাচটা জিতে রাখতে পারি, তাহলে সেন্ট কিটসে পরের ম্যাচের জন্য টেনশন করতে হবে না। আমরা চাইবো যেন ওই ম্যাচটাও জিততে পারি। তবেম, তার আগে আমাদের জন্য এই ম্যাচটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের চেষ্টা থাকবে যেন যতটা সম্ভব আমরা এখানেই ভালো করতে পারি।