বুধবার, অক্টোবর ১৬, ২০১৯
দ্বিতীয় জয়ে বাংলাদেশ স্বাগতিকদের উড়িয়ে দিয়ে
মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে টানা দ্বিতীয় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে সালমা খাতুনের দল। রোববার নেদারল্যান্ডসের আটরেচটে টস জিতে স্বাগতিকদের ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ। ১৮ ওভারে মাত্র ৪২ রানেই গুটিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। নেদারল্যান্ডসের ইনিংসে দুই অঙ্ক ছুঁতে পেরেছেন মাত্র দুজন। ডেনিসে হ্যানেমা ১৫ ও স্টেরি ক্যালিস করেন ১৪ রান। ডাক মেরেছেন ছয়জন! ডাচদের ইনিংস গুঁড়িয়ে দিয়েছেন মূলত বাংলাদেশের দুই লেগ স্পিনার রুমানা আহমেদ ও ফাহিমা খাতুন। রুমানা ৩ ওভারে ২ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। ফাহিমা ৩ ওভারে ৩ রানে ৩ উইকেট। পান্না ঘোষ নেন ২ উইকেট। একটি করে উইকেট পান সালমা খাতুন ও নাহিদা আকতার। জবাবে শামিমা সুলতানা ও আয়েশা রহমান গড়েন ২২ রানের উদ্বোধনী জুটি। অবশ্য ৪ রানের ব্যবধানে ফেরেন দুজনই। শামিমা ১৬, আয়েশা করেন ৬ রান। এরপর ৩২ রানে নিগার সুলতানা (৪) ফিরলেও বাকি কাজটা সারেন ফারজানা হক (১১) ও রুমানা (৪)। বাংলাদেশ ম্যাচ জিতেছে ৭৩ বল বাকি থাকতেই! আগে প্রথম ম্যাচে পাপুয়া নিউগিনিকে ৮ উইকেটে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। মঙ্গলবার গ্রুপের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ সংযুক্ত আরব আমিরাত। দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে আট দল লড়ছে এই বাছাইপর্বে। বাছাইপর্বের দুই ফাইনালিস্ট আগামী নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠেয় মূল প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে।
কে-কার মুখোমুখি হচ্ছে সেমিতে
বিশ্বের ৩২টি দলের অংশগ্রহণে ১৪ জুন লুঝনিকি স্টেডিয়ামে জমকালো আয়োজনে পর্দা উঠেছিল রাশিয়া বিশ্বকাপের। মাস পেরিয়ে দিন কয়েকের ব্যবধানে সেই লুঝনিকিতেই ১৫ জুলাই পর্দা নামবে বিশ্ব ফুটবলের এই মহাযজ্ঞের। গ্রুপ পর্ব শেষ ষোল’র পর বিদায় নিল কোয়ার্টার ফাইনালের জমজমাট লড়াইও। এবার অপেক্ষা সেমিফাইনাল ও ফাইনালের। আসুন দেখি কী দাঁড়ালো সেমিফাইনালে লাইনআপটি। ৬ জুলাই শেষ আটের প্রথম ম্যাচে উরুগুয়েকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে উঠে ফ্রান্স। অপর ম্যাচে সবসময়ের ফেভারিট ব্রাজিলের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জিতে দ্বিতীয় দল হিসেবে শেষ চার নিশ্চিত করে এবারের শিরোপা প্রত্যাশী বেলজিয়াম। দ্বিতীয় দিনের (৭ জুলাই) প্রথম ম্যাচে সুইডেনের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে তৃতীয় দল হিসেবে শেষ চারে উঠে ইংল্যান্ড। দিনের অপর ম্যাচে রাশিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে সেমির লড়াইয়ে সামিল হয়েছে ক্রোয়েশিয়া। আগামী ১০ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে মোকাবেলা করবে বেলজিয়াম। পরদিন অর্থাৎ ১১ জুলাই একই সময় ইংলিশদের মুখোমুখি হবে ক্রোয়েশিয়া।
সেমিফাইনালে উঠলো ফ্রান্স
অনলাইন ডেস্ক :প্রথম দল হিসেবে ২১তম ফুটবল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠলো ফ্রান্স। শেষ আটে আজ ফ্রান্স ২-০ গোলে হারায় দু’বারের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়েকে। ফলে ২০০৬ সালের পর আবারো বিশ্বকাপের সেমিতে উঠলো ১৯৯৮ সালের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। আর্জেন্টিনাকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছিলো ফ্রান্স। অন্যদিকে পর্তুগালকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ আটে ওঠে উরুগুয়ে। এছাড়া মুখোমুখি লড়াইয়েও সমান-সমান ফ্রান্স ও উরুগুয়ে। তবে বিশ্বকাপ আসরে আগের তিন দেখায় দু’টিতে ড্র ও একটিতে জয় পায় উরুগুয়ে। ১৯৬৬ সালে ২-১ গোলে জয় পেয়েছিলো উরুগুয়ে। তারপরও এবারের আসরে দু’দলের পারফরমেন্সে কেউ কারও চেয়ে এগিয়ে ছিলো না। নিজনি নভগোরোদ সমান অবস্থানে থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে লড়াই শুরু করে ফ্রান্স ও উরুগুয়ে। তবে ম্যাচের ৫ মিনিটে প্রথম আক্রমণে যায় উরুগুয়েই। স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজের পাস থেকে ফ্রান্সের গোলমুখে শট নিয়েছিলেন আক্রমণভাগের আরেক খেলোয়াড় ক্রিস্টিয়ান স্টুয়ানি। কিন্তু স্টুয়ানির বল বাড়ের বাইরে দিয়ে চলে যায়। উরুগুয়ের আক্রমণের পর পাল্টা আক্রমণে যায় ফ্রান্স। ৭ মিনিটে স্ট্রাইকার আঁতোয়োন গ্রিজম্যানের যোগান দেয়া বলে শট নিয়েছিলেন ডিফেন্ডার লুকাস হার্নান্দেজ। কিন্তু ঐ শট থেকে গোল আদায় করে নিতে পারেননি হার্নান্দেজ। এরপর আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে চলে দু’দলের লড়াই। তবে এতে সফল হয় ফ্রান্স। ৪০ মিনিটে ডিফেন্ডার রাফায়েল ভারানের গোলে ম্যাচে প্রথম গোলের স্বাদ নেয় ফরাসির (১-০)। গ্রিজম্যানের ক্রস থেকে হেডে বলকে উরুগুয়ের জালে পাঠান ভারান। গোল হজম করে দমে যায়নি উরুগুয়ে। ৪৩ মিনিটে ফরাসি সীমানায় আক্রমণ করে তারা। মিডফিল্ডার লুকাস টোরেইরা ক্রস থেকে ফ্রান্সের বক্সের ভেতর থেকে হেড নিয়েছিলেন ডিফেন্ডার মার্টিন ক্যারোস। ক্যারোসের হেড ডান দিকে ঝাঁপিয়ে এক হাতে বলকে ফিরিয়ে দেন ফরাসি গোলরক্ষক হুগো লরিস। ফলে গোল বঞ্চিত হয় উরুগুয়ে। তাই ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে ম্যাচের বিরতিতে যায় ফ্রান্স। ম্যাচে লিড নিয়ে দ্বিতীয়ার্ধেও আধিপত্য বিস্তার করে খেলে ৪-২-৩-১ ফরমেশনে ম্যাচ শুরু করা ফ্রান্স। প্রথমার্ধে ৬০ শতাংশ বল দখলে রাখা ফরাসিরা ৫৩ মিনিটেই ব্যবধান দ্বিগুণ করার দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু ডিফেন্ডার বেঞ্জামিন পাভার্ডের শট উরুগুয়ের গোলবারের উপর দিয়ে চলে যায়। ৫৩ মিনিটে গোলের ব্যবধান দ্বিগুণ করতে না পারলেও ৬১ মিনিটে ম্যাচে দ্বিতীয় গোল করে ফ্রান্স। মিডফিল্ডার কোরেনটিন তোলিসোর পাস থেকে উরুগুয়ের বক্সের বাইরে বল পেয়ে যান গ্রিজম্যান। বল পেয়েই উরুগুয়ের গোলমুখে শট নেন গ্রিজম্যান। তার শট রুখতে পারেননি উরুগুয়ের গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরা। তার হাত ফসকে বল প্রবেশ করে উরুগুয়ের জালে। ফলে ম্যাচে ২-০ লিড নেয় ফ্রান্স। ৬৪ মিনিটে গোলের ব্যবধান কমানোর সুযোগ পেয়েছিলো উরুগুয়ে। ডিফেন্ডার হোসে গিমেনেজের যোগান দেয়া বল বক্সের ভেতর পেয়ে গিয়েছিলেন মিডফিল্ডার ক্রিস্টিয়ান রডরিগুয়েজ। কিন্তু তার দুর্বল শট ফ্রান্সের বারের পাশ দিয়ে চলে যায়। এরপর আরও দু’টি আক্রমণ করেছিলো উরুগুয়ে। কিন্তু ঐ দু’টি ফ্রান্সের জাল স্পর্শ করতে পারেনি। তবে ম্যাচের শেষ মূর্হুতে আরও একটি গোল পেয়ে যেত পারতো ফ্রান্স। ৮৯ মিনিটে ফ্রান্সের দ্বিতীয় গোলের মালিক গ্রিজম্যানের শট উরুগুয়ের গোলবারের উপর দিয়ে চলে যায়। ফলে গোল বঞ্চিত হয় ফ্রান্স। তবে ২-০ গোলে ম্যাচ জিতে ঠিকই মাঠ ছাড়ে ফ্রান্স।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বেলজিয়াম
অনলাইন ডেস্ক :ব্রাজিলকে হারিয়ে দ্বিতীয় দল হিসেবে ২১তম ফুটবল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠলো বেলজিয়াম। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় কোয়ার্টারফাইনাল ম্যাচে বেলজিয়াম ২-১ গোলে হারায় পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে। ম্যাচের ১৩ মিনিটে আত্মঘাতি গোলে এগিয়ে যায় বেলজিয়াম। এরপর ৩১ মিনিটে মিডফিল্ডার কেভিন ডি ব্রুয়ইয়ানের গোলে ম্যাচে ডাবল লিড পায় বেলজিয়াম। ফলে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে ম্যাচের বিরতিতে যায় বেলজিয়াম। দ্বিতীয়ার্ধে একটি গোল পরিশোধ করে ব্রাজিল। ম্যাচের ৭৬ মিনিটে মিডফিল্ডার রেনাটো অগাস্টো গোল করে ব্যবধান কমান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বেলজিয়ামই।
টানটান উত্তেজনা শেষ আটের যুদ্ধ শুরু কাল
কী খেলাটাই না হচ্ছে রাশিয়ায়! প্রায় প্রতি ম্যাচেই স্নায়ুবিকল করা টানটান উত্তেজনা। অঘটনের ঘনঘটা। তাতে ফুটবল রোমান্টিকদের তৃষিত নয়ন জুড়াচ্ছে কিনা, বলা মুশকিল। তবে এটা নিশ্চিত যে, এমন অঘটনপ্রসবা বিশ্বকাপ খুব কমই দেখেছে ফুটবল। গ্রুপপর্ব ও দ্বিতীয় রাউন্ড শেষে ৩২ দলের বিশ্বকাপ নেমে এসেছে আট দলে। আগামীকাল শুরু হবে শেষ আটের যুদ্ধ। কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয়া আট দলের চারটিই সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। ব্রাজিল, উরুগুয়ে, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড। বাকি চার দলের মধ্যে বেলজিয়াম ও ক্রোয়েশিয়াকে নিয়ে কোনো প্রশ্ন না থাকলেও স্বাগতিক রাশিয়া ও সুইডেনের শেষ আটে উঠে আসাটা বড়সড় চমকই। আরও বড় চমক ঝরে যাওয়া নামগুলো। জার্মানি, আর্জেন্টিনা, স্পেন, পর্তুগাল। তবে শেষ ষোলোতে যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা গেছে তাতে স্পষ্ট বড়-ছোটর ব্যবধান এখন ঊনিশ-বিশ। দ্বিতীয় রাউন্ডে আট ম্যাচের তিনটি নিষ্পত্তি হয়েছে টাইব্রেকারে। বাকি পাঁচ ম্যাচে একাধিক গোলের ব্যবধানে জিতেছে শুধু ব্রাজিল। শুধু স্কোরলাইন নয়, পারফরম্যান্সেও একমাত্র ব্রাজিলই সত্যিকারের ফেভারিটের মতো পা রেখেছে শেষ আটে। মেক্সিকোর বিপক্ষে ২-০ গোলে জেতা ম্যাচে সেলেকাওদের ছন্দময় আক্রমণাত্মক ফুটবল মন ভরিয়ে দিয়েছে সমর্থকদের। দ্বিতীয় রাউন্ডে ব্রাজিল ছাড়া শুধু সুইডেন গোল হজম করেনি। আগামীকাল দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে আসরের ‘কালো ঘোড়া’ বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। এবারের আসরে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১২ গোল করা বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্ম বড় স্বপ্নই দেখছে। কিন্তু ব্রাজিল-বাধা পেরোতে অবিশ্বাস্য কিছুই করে দেখাতে হবে তাদের। দ্বিতীয় রাউন্ডে পুঁচকে জাপানের কাছেই প্রায় আটকে গিয়েছিল বেলজিয়াম। শেষ ২১ মিনিটে তিন গোল করে এ যাত্রায় শেষ রক্ষা হলেও ব্রাজিলের জমাট রক্ষণ এভাবে ভাঙা যাবে না। চার ম্যাচে সাত গোল করার বিপরীতে মাত্র একটি গোল হজম করেছে সেলেকাওরা। ছন্দে ফেরা নেইমারকেও সামলাতে হবে বেলজিয়ামকে। একই দিনে প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে দেখা হবে ফ্রান্স ও উরুগুয়ের। সাদা চোখে ফ্রান্সকে ফেভারিট মনে হলেও উরুগুয়েকে পিছিয়ে রাখার সুযোগ নেই। টানা চার জয়ের পাশাপাশি ব্রাজিলের সঙ্গে যুগ্মভাবে সবচেয়ে কম এক গোল হজম করেছে উরুগুয়ে। শেষ ষোলোর হিরো এডিনসন কাভানি চোট কাটিয়ে সুয়ারেজের সঙ্গে জুটি বাঁধতে পারলে অগ্নিপরীক্ষাই অপেক্ষা করছে ফরাসি রক্ষণের জন্য। কিলিয়ান এমবাপ্পের গতির ঝড়ে আর্জেন্টিনার নড়বড়ে রক্ষণ ধসে পড়লেও ওই ম্যাচে ফ্রান্সও কিন্তু তিন গোল হজম করেছিল। উরুগুয়ের রক্ষণ যেমন বালির বাঁধ নয়, তেমনি আক্রমণভাগও নয় ক্ষুরধার। শনিবার শেষ আটের শেষ দুই ম্যাচে দেখা হবে রাশিয়া-ক্রোয়েশিয়া এবং ইংল্যান্ড-সুইডেনের। সুইডেন ছাড়া বাকি তিন দলই কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে টাইব্রেকারের ভাগ্য-পরীক্ষায় জিতে। স্পেনের করুণ পরিণতি দেখার পরও ঝুঁকি নিয়ে বলে দেয়া যায় সোচিতে রাশিয়ার বিপক্ষে পরিষ্কার ফেভারিট মডরিচের ক্রোয়েশিয়া। তবে সামারায় সুইডেন-বাধা পেরোনো মোটেও সহজ হবে না ইংল্যান্ডের জন্য। অধিনায়ক হ্যারি কেন সর্বোচ্চ ছয় গোল করে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এগিয়ে থাকলেও দলের অন্য স্ট্রাইকাররা একদমই ছন্দে নেই। বিপরীতে সুইডেন শেষ আটে উঠে এসেছে পুরোপুরি দলীয় প্রচেষ্টায়। সু ইডেনের স্বপ্নযাত্রা থামাতে কেন-নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে ইংল্যান্ডকে। এখানেও চলে আসছে ব্রাজিলের কথা। দলে নেইমারের মতো মহাতারকা থাকার পরও ব্রাজিলের বড় শক্তি দলের গভীরতা ও ভারসাম্য। রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এগিয়ে আরেকটি দিকেও। গত বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল যে আটটি দল, তাদের মধ্যে এবার টিকে আছে কেবল ব্রাজিল, ফ্রান্স ও বেলজিয়াম। সেবার শেষ আটেই থেমেছিল ফ্রান্স ও বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ যাত্রা। এবার তার পুনরাবৃত্তি হলে ব্রাজিলের ‘হেক্সা’ আর কে আটকাবে!
কোয়ার্টারে ইংল্যান্ড
নকআউট পর্বের প্রায়সব ম্যাচই উত্তেজনার রেণু ছড়িয়েছে। ব্যতিক্রম হলো না কলম্বিয়া-ইংল্যান্ডের মহারণটাও। কাল মস্কোতে ল্যাটিন আমেরিকা ও ইউরোপিয়ান জায়ান্ট দল দুটির লড়াইটা শেষ অবধি নিষ্পত্তি হলো টাইব্রেকারে। যেখানে কলম্বিয়াকে হারিয়ে বাজিমাত করল ইংল্যান্ড। রাশিয়া বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডের শেষ লড়াইটা জমে উঠেছিল ম্যাচের শুরু থেকেই। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ম্যাচের রোমাঞ্চ উঠে গিয়েছিল বৃহস্পতির তুঙ্গে। কিন্তু মুহুর্মুহু আক্রমণের পরও গোলমুখ খুলতে পারেনি কোনো দলই। তাই নিষ্ফলাভাবেই শেষ হয়েছে প্রথমার্ধের খেলা। বিরতির পর পুরোদমে জমে ওঠে দুই মহাদেশের দুর্দান্ত লড়াইটা। অবশেষে ৫৭ মিনিটে গর্জে ওঠে গ্যালারি। এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ৫৪ মিনিটে কর্নার কিকের সময় হ্যারি কেনকে কোমড় ধরে টানতে টানতে ডি-বক্সে ফেলে দেন কার্লোস সানচেজ। অবধারিতভাবেই পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। পেনাল্টি থেকে রাশিয়া বিশ্বকাপে নিজের ছয় নাম্বার গোলটি করেন হ্যারি কেন। তন্মধ্যে ইংলিশ অধিনায়কের তিনটি গোলই হলো স্পট কিক থেকে। এতে নিজেকে সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে গেলেন এই টটেনহাম স্ট্রাইকার। গোল্ডেন বুট জয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রোমেলু লুকাকু এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তারা দুজনই করেছেন সমান ৪টি গোল। শেষের জন ইতোমধ্যে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ায় কেনের নাগাল আর তিনি পাচ্ছেন না। তিনটি করে গোল করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, এডিনসন কাভানি, আর্টেম ডিজুবা, ডেনিশ চেরিশেভ ও ডিয়েগো কস্টা। কেনের গোলকে অবলম্বন করে জয়ের স্বপ্নই দেখছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু নাটকটা জমে উঠল দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি টাইমে। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে কুয়াদ্রাদোর দুর্দান্ত ক্রসে মাথা ছুঁয়ে ইংল্যান্ডের জালে বল জড়ান ইয়েরি মিনা। আর তাতেই নির্ধারিত সময়ে ম্যাচটা অমীমাংসিত থাকল ১-১ গোলে। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। কিন্তু তাতেও দ্বিতীয়বার গোলের দেখা পায়নি কোনো দল। ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে চূড়ান্ত আশ্রয় হিসেবে নেওয়া হয় পেনাল্টি শ্যুট আউটের।
কোয়ার্টার ফাইনালে সুইডেন
১২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে আসা সুইডেন রাশিয়া বিশ্বকাপে এগিয়ে গেছে আরেক ধাপ। এমিল ফোর্সবার্গের একমাত্র গোলে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠেছে ১৯৫৮ বিশ্বকাপের রানার্সআপরা। রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে শেষ আটে যাওয়ার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছিলো দুই ইউরোপিয়ান দেশ সুইডেন এবং সুইজারল্যান্ড। সুইডেন গ্রুপ পর্বের ম্যাচে জার্মানির কাছে হারলেও গ্রুপ সেরা হয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে। আর সুইজারল্যান্ড গ্রুপ পর্বে প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলকে ১-১ গোলে আটকে দেয়। গ্রুপ সেরা হয়ে শেষ ষোলোয় না আসলেও শক্তির বিচারে এগিয়ে সুইজার‌ল্যান্ড। র‌্যাংকিংও তাদের হয়ে কথা বলছে। তবে হিসেবে নিকেষ বাদ দিয়ে গোল শূন্য সমতায় প্রথমার্ধ শেষ করে দল দুটি। এরপর ম্যাচের ৬৬ মিনিটে ফোর্সবার্গের গোলে এগিয়ে যায় সুইডেন। সুইসদের বিপক্ষে ১-০ গোলের লিড নেয়। ম্যাচে বল দখলের হিসেবেও সুইডেনের থেকে এগিয়ে ছিল সুইজার‌ল্যান্ড। তবে সুইডেন গোল দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার মতো ভালো কিছু আক্রমণ করেছে এ ম্যাচের শুরুতে। গোল করে এগিয়ে যাওয়ার ভালো সুযোগ সুইজারল্যান্ডও পেয়েছে। মঙ্গলবার ম্যাচের শুরুতেই গোল দেওয়ার সুযোগ পায় সুইডেন। এবারের বিশ্বকাপে কাউন্টার অ্যাটাকের দারুণ প্রয়োগ দেখা গেছে। সুইডেনও কাউন্টার অ্যাটাক নির্ভর খেলেছে গ্রুপ পর্বে। শেষ ষোলোয়ও তা থেকে গোল পেয়ে যাচ্ছিল স্ক্যান্ডিনেভিয়ান জায়ান্ট কিলাররা। সাত মিনিটে আবার আক্রমণ করে সুইডেন। তার পরের মিনিটে আর সুযোগ বলা চলে না। গোল মিস করেছে সুইডেন। ২৪ মিনিটে সুইসদের আক্রমণে গোল খেতে বসেছিল সুইডেন। ২৮ মিনিটে আবার গোলের সুযোগ পায় সুইজারল্যান্ড। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি সে সুযোগ। ৩৪ মিনিটে গোল মিস করে জাকা মাথায় হাত তুলেছেন। ৩৮ মিনিটে প্রথমার্ধের সেরা সুযোগটি পায় সুইডেন। পায়ের টাস দিয়ে গোল করতে চেয়েছিলেন সুইডেন ফুটবলার। কিন্তু হেড দিলে হয়তো গোল পেয়ে যেতেন তিনি। প্রথমার্ধে কোন গোল করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত গোল শূন্য সমতা নিয়ে শেষ করেছে দু'দল।
কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিল নেইমার ম্যাজিকে
এখন পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ যেসব ম্যাচে নেইমার গোল করেছেন তার কোনোটি হারেনি ব্রাজিল। আবার বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে কখনো জেতেনি মেক্সিকো। শুধু তাই না, এই আসরের জায়ান্ট কিলার এবং প্রতিভাবান দলটি কোনো বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে পিছিয়ে পড়ে কখনো জিততে পারেনি। আরো আছে। গেল ৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোল থেকেই বাদ পড়েছে তারা। এবারও তাই হলো। নেইমার একটি রেকর্ড গোলের জন্ম দিলেন গোলশূন্য প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ৬ মিনিট পরই। আর সেই গোলেই ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেল ব্রাজিল। ১-০ গোলের হারে ‘কুফা’ শেষ ষোল থেকেই বিদায় মেক্সিকোর। brazil neymarসোমবার ভোলগা নদীর কাছের শহর সামারায় সমানে সমান প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধটাও রোমাঞ্চ ছড়িয়েছে। হয়েছে গতির খেলা। কিন্তু প্রথমার্ধের শুরুতে প্রবল গতিতে ঝড়ের মতো আক্রমণে গিয়েই বুঝি ক্লান্তির মুখে পড়েছিল মেক্সিকানরা। তাদের ক্লান্ত করে তারপরই গোছানো আক্রমণে গেছে রেকর্ড ৫বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। প্রথমার্ধে তারপরও গোল পায়নি। বিরতি থেকে ফিরেই অন্য ব্রাজিল, অন্য নেইমার। চেনা ব্রাজিল, চেনা নেইমার। ম্যাজিকাল নেইমার। ৪৮ মিনিটে কুতিনহো নেইমারের কর্নার থেকে একটুর জন্য গোল মিস করলেন। কিন্তু ৫১ মিনিটে ৫১ মিনিটে নেইমার এবারের বিশ্বকাপে তার দ্বিতীয় গোল করে ১-০ গোলের লিড এনে দিলেন। উৎসবমুখর ব্রাজিল। কিন্তু মেক্সিকোর কফিনে শেষ পেরেকটা ঠুকে দেওয়ার ব্যবস্থাটাও করেছেন সেই নেইমার। গেল তিন ম্যাচে যাকে অপেক্ষাকৃত বিবর্ণ লেগেছে। এবার ফিরমিনহোকে দিয়ে ৮৮ মিনিটে গোল করালেন। চ্যাম্পিয়নদের মরণফাঁদ হয়ে ওঠা রাশিয়া বিশ্বকাপে ব্রাজিল সেরা দল হিসেবেই দেখা দিল যেন। জার্মানি, আর্জেন্টিনা ও স্পেনের বিদায় হয়ে গেছে। কিন্তু এটা ব্রাজিল দল! নেইমার-কুতিনহো ছাড়াও তারা ভরা দুর্দান্ত নৈপুণ্যের দল। একসাথেই যেন এদিন জ্বলে উঠলেন তারা। রাত ১২টায় বেলজিয়াম-জাপান ম্যাচের বিজয়ীর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল লড়াই ব্রাজিলের।
ব্রাজিলের দিকেই চোখ আজ
তাতারদের সেনা ছাউনি নয়তো এটা! মধ্যযুগে তাতার সেনাবাহিনীর দৌরাত্ম্যে কাঁপন ধরত সভ্য জগতের মানুষদের। সেই তাতারদের ছাউনিই যেন সামারা অ্যারিনা। গেটটা দূর থেকে দেখা যায় না। গোলকধাঁধার মতো। ভলান্টিয়াররা হাতের ইশারায় দেখালেও বুঝতে কষ্ট হয়। গেট পেরিয়ে দুর্গের ভিতরে আসতেই থমকে যেতে হয়। ভিন্ন জগৎ থেকে ছুটে এসেছে কোনো ইউএফও! এই বুঝি বেরিয়ে এলো কোনো এলিয়েন! ইউএফওর আদলে তৈরি করা হয়েছে সামারা অ্যারিনা। রাশিয়া বিশ্বকাপ এই একটা দিক থেকে দারুণ বৈচিত্র্যময়। একেকটা স্টেডিয়ামের বৈশিষ্ট্য একেক রকম। তাতার ঐতিহ্য আর মহাজাগতিক ইউএফওর আধুনিক ধ্যান-ধারণা নিয়ে তৈরি করা লড়াইয়ের ময়দানেই আজ মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল মেক্সিকো। নকআউট পর্বের প্রথম রাউন্ড থেকে আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালের বিদায়ের পর বেশ চাপে আছে ব্রাজিল সমর্থকরা। এই চাপমুক্ত হতেই মাঠে নামবেন নেইমাররা। হেক্সা জয়ের মিশনে এগিয়ে যেতে আজ যে জিততেই হবে তিতের দলটাকে! পরীক্ষায় ফেল মারলেই বাড়ির পথ ধরতে হবে! ব্রাজিলের সামনে এ এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বিশ্ববিখ্যাত দুই ফুটবলার মেসি ও রোনালদোর দল বিদায় নিয়েছে। নেইমার কী পারবেন সেই চ্যালেঞ্জে বিজয়ী হতে।মেসি চাও, মেসি চাও (বিদায় মেসি, বিদায় মেসি)। গ্রুপ পর্বে ক্রোয়েশিয়ার কাছে আর্জেন্টিনা হেরে যাওয়ার পর ব্রাজিলীয় সমর্থকরা এই সুর তুলেছিল বিশ্বকাপের শহরগুলোতে। কিন্তু নকআউট পর্বের প্রথম রাউন্ডে ফ্রান্সের কাছে হেরে যাওয়ার পর সেই সুরটা আর শোনা গেল না। কেমন যেন নিষ্প্রভ হয়ে গেছে ব্রাজিলও! আর্জেন্টিনার বিদায় ভয় ধরিয়ে দিয়েছে হলুদ জার্সিধারীদেরও! সামারাতে আর্জেন্টিনার প্রতি কটাক্ষ করে কেউ কিছু আর বলে না। ব্রাজিল সমর্থকরা নানা দিক থেকে এসে মিলে গেছে সামারায় মূল স্রোতের সঙ্গে। এই স্রোতটা আজ হবে সামারা অ্যারিনা অভিমুখী। তবে মেক্সিকান সমর্থকরাও কম নয় সংখ্যায়। তাদের বৈচিত্র্যময় পোশাক আর মোহনীয় অঙ্গ-ভঙ্গি মন কাড়ে অনেকেরই। রঙিন মেক্সিকানদের দিকে তাকিয়ে অনেক রাশানই তাদের পক্ষ নিয়েছে। গতকাল মেক্সিকানদের জন্যই বিশেষ একটা কার্নিভালের আয়োজন করেছিল সামারা। বর্ণিল এই কার্নিভালে মেক্সিকানরা তাদের সংস্কৃতি তুলে ধরেছে। সঙ্গে ছিল ব্রাজিল সমর্থকরাও। সাম্বা নাচের দেখা মিলেছিল এই কার্নিভালে। আর ছিল স্বাগতিক রাশানরা। কার্নিভালের এই আয়োজনটা যেন যুদ্ধের আগের সৈনিকদের মধ্যে উন্মাদনা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্যই! আজ মাঠে নামবেন নেইমার, কটিনহো, পলিনহো, মার্সেলোরা। অন্যদিকে রাফায়েল মারকুয়েজ আর হার্নান্দেজরা। দুই দলের মধ্যে এই কার্নিভাল কতটা উন্মাদনা ছড়াতে পেরেছে বলা কঠিন। তবে নকআউট পর্বের এই ম্যাচ ঘিরে এরই মধ্যে উত্তেজনার পারদ চড়েছে অনেকটা। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালের বিদায়ের পর ব্রাজিল এখন খুব সতর্ক। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিল কোচ তিতেও করে গেলেন একই মন্তব্য।মেক্সিকো খুব ভালো দল। আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক থেকেই ম্যাচটা খেলতে নামব। অতীত পরিসংখ্যান একটা বড় বিষয়। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে এটা আরও সত্যি হয়ে উঠে। ব্রাজিল-মেক্সিকো লড়াই নতুন শতাব্দীতে এক ভিন্ন মাত্রাই পেয়েছে। ১৯৯৯ সালের পর দুই দলের ১৫ বারের লড়াইয়ে ৭ বারই জিতেছে মেক্সিকো। ব্রাজিল জিতেছে কেবল ৫ বার! অবশ্য দুই দলের মোট ৪০ বারের লড়াইয়ে ব্রাজিলের জয় ২৩টি। মেক্সিকোর জয় ১০টি। বিশ্বকাপে নিজেদের মধ্যে শেষ ম্যাচটা গোল শূন্য ড্র করেছিল ব্রাজিল-মেক্সিকো। দুটিই আমেরিকান দল। একটি ল্যাটিন, অপরটি উত্তর আমেরিকার। ব্রাজিল ছন্দে আছে। নেইমার দারুণ খেলছেন। কটিনহো নিয়মিতই গোল বানিয়ে দিচ্ছেন সতীর্থদের। বিশ্বকাপে এখনো পর্যন্ত হলুদ জার্সিতে শৈল্পিক ফুটবল উপহার দিয়েছেন কটিনহোই। অবশ্য নেইমার ইনজুরি থেকে ফিরেও ভালোই করছেন। দিনে দিনেই তার উন্নতি চোখে পড়ছে। এবারের বিশ্বকাপে বেশিরভাগ দলই খেলছে অলআউট ফুটবল। আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স অলআউট খেলেছে বলেই তো ৭টা গোলের ম্যাচ নিয়ে উৎসব করেছে সমর্থকরা। ব্রাজিল-মেক্সিকোও তেমনই উৎসবমুখর হোক, এটাই সমর্থকদের কামনা। জয়-পরাজয় তো কাউকে না কাউকে মেনে নিতেই হবে!