ভালবাসায় সিক্ত হয়ে শাড়ির আঁচলে মাশরাফি
ক্রীড়া ডেস্ক: উন্নত ও সমৃদ্ধশালী নড়াইল গড়ে তুলতে তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নড়াইল -২ আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী মাশরাফি বিন মুর্তজা। ক্রিকেটের মাঠের অধিনায়ক এখন জনগণের সেবক হওয়ার পথে। যার জন্য শিশু থেকে বুড়ো-সব বয়সী নারী পুরুষের অপেক্ষা। কাছে পেয়ে তাই উচ্ছ্বসিত তারা। তাই ভালবাসায় সিক্ত হয়ে এবার নারীদের শাড়ির আঁচলে ঠাই হল মাশরাফির। নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসাবে মঙ্গলবার বিকালে কোটাকোল ইউপির কলাগাছি এলাকায় যুবলীগ নেতা সৌদি প্রবাসী এস এম মিজানুর রহমান আয়োজিত বিশাল জনসভায় মাশরাফি বক্তব্য রাখেন। ভালোবাসার প্রকাশ স্বরূপ প্রবাসী মিজানুরের স্ত্রী ঝুমা নিজ অর্থায়নে তিন শতাধিক নারীকে পরিয়ে দেন বিশেষ ধরনের এই শাড়ি। নারীদের সেই বিশেষ শাড়ির আঁচলে দেখা মেলে মাশরাফির। পাশেই প্রবাসী যুবলীগ নেতা মিজানের ছবি শোভা দেখা যাচ্ছিল। এক ভোটার বলেন, মাশরাফি আমাদের আপনজন। আমাদের কাছে এসেছে। তাই আমরা গর্বিত। এক নারী ভোটার বলেন, ভাই আমাদের মাঝে এসেছে। আমরা তাকে টিভিতে দেখেছি এখন সরাসরি দেখছি। খুবই ভালো লাগছে। ২০টি ইউনিয়ন আর ২টি পৌরসভা নিয়ে নড়াইল-২ সংসদীয় আসন। সার্বিক সুযোগ সুবিধার দিক থেকে অনেকটাই পিছিয়ে নড়াইল। এবার তাই এই দৃশ্য পাল্টে ফেলার প্রতিশ্রুতি মাশরাফির। এক পথসভায় ম্যাশ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে নৌকা মার্কা দিয়েছেন। আপনাদের সহযোগিতা এখন খুবই প্রয়োজন। আপনাদের সহযোগিতা থাকলে আশা করি, একটি সুন্দর এবং শক্তিশালী নড়াইল আমরা গড়ে তুলতে পারবো। ৩০ তারিখে আপনারা সবাই ভোটকেন্দ্রে যাবেন এবং সকাল সকাল নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন বলে আশা করি।
রেকর্ড জয়ের বছর বাংলাদেশের !
ক্রীড়া ডেস্ক: কথায় আছে শেষ ভালো যার, সব ভালো তার। কিন্তু সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে হেরে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হাতছাড়া হলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৩২ বছরের পথচলায় ম্যাচ জয়ের সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের সফলতম বছর ছিল ২০১৮ সাল। টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের এই তিন সংস্করণ মিলিয়ে ২০১৮ সালে মোট ২১টি ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ জাতীয় দল। এর আগে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে জয় এসেছিল ২০০৬ সালে। ওই বছর বাংলাদেশ দল জিতেছিল ১৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। অবশ্য এ বছর নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচও খেলেছে বাংলাদেশ। এ বছরের ২১ জয় এসেছে ৪৪টি ম্যাচ থেকে। অন্যদিকে ২০০৬ সালের ১৯ জয় এসেছিল ৩৩টি ম্যাচ থেকে। জয়ের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য ২০০৬ সালের তুলনায় বেশি ম্যাচ খেলতে হলেও চলতি বছরটি বাংলাদেশ ক্রিকেটের এগিয়ে চলার স্মারক হয়েই থাকবে। এ বছরের আগে দুবার পঞ্জিকাবর্ষে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ৩৭টি করে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিল । কিন্তু ওই দুই বছরই জয়ের সংখ্যা ছিল অনেক কম। ২০০৮ সালে ৩৭ ম্যাচে জয় ছিল কেবল পাঁচটি, আর ২০১০ সালে ৩৭ ম্যাচে মাত্র নয়টি। ১৯৮৬ এশিয়া কাপ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রেখেছিল বাংলাদেশ। তবে শুরুর দিকে অনেক বছর ম্যাচ খেলার সুযোগ মিলত কালেভদ্রে। ফলে প্রথম ১২ বছরে বাংলাদেশ দল কেবল ২৫টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু ১৯৯৯ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনের পর ম্যাচ খেলার সংখ্যা একটু একটু করে বাড়তে থাকে। ২০০০ সালে টেস্ট মর্যাদা অর্জনের পর এই সংখ্যা আরো বাড়ে। ২০০২ সালে প্রথমবারের মতো ২০টির বেশি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। ওই বছরের পর শুধু ২০১৩ সালে ২০টির চেয়ে কম (১৯টি) ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। ম্যাচ খেলার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার ধারাবাহিকতায় দল এ বছরই প্রথম ৪০টির অধিক ম্যাচ খেলল। যথারীতি এ বছরও সবচেয়ে বেশি সাফল্য এসেছে প্রিয় ফরম্যাট ওয়ানডেতে। নিজেদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা বছর কাটিয়ে এবার ২০ ওয়ানডের ১৩টিই জিতেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ ক্রিকেটে খাদের কিনারা থেকে কামব্যাক করে ফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ দল। শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে মাত্র ২২২ রানের পুঁজি নিয়েও শেষ বলের রোমাঞ্চে তিন উইকেটে হেরে রানার্সআপ হয় বাংলাদেশ। পুরো টুর্নামেন্টে দারুণ লড়াকু মানসিকতার ক্রিকেট খেলে বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটপ্রেমী ও বিশেষজ্ঞদের অকুণ্ঠ প্রশংসা কুড়ায় দল। টেস্টে এ বছর জয় এসেছে তিনটি ম্যাচে। এর আগে ২০১৪ সালে তিনটি টেস্ট জয়ের মুখ দেখেছিল বাংলাদেশ। সেবার খেলতে হয়েছিল সাতটি টেস্ট ম্যাচ, এ বছর আটটি। টি-টোয়েন্টিতে এ বছরটি ছিল ভালো-মন্দ মিশিয়ে। গত মার্চে শ্রীলঙ্কায় ত্রিদেশীয় নিদাহাস ট্রফিতে দুর্দান্ত খেলা বাংলাদেশ ফাইনালে হেরে যায় শেষ বলে। তবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার হতাশাও এসেছে এবারই। অবশ্য জুলাই-আগস্টে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জয় এসেছিল তাদের মাঠেই। আর বছরের শেষে নিজেদের মাঠে শেষ ম্যাচে হেরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই সিরিজ খোয়ায় বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে এ বছর ১৬ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দলের জয় মাত্র পাঁচটি। শুধু জয় বা ম্যাচ খেলার সংখ্যাতেই নয়, জয়-পরাজয়ের ব্যবধান কমানোর ক্ষেত্রেও সফলতম বছরগুলোর একটি কাটিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট। ২০০৯ সালে ২৫ ম্যাচের ১৬টিতে জয় ও নয়টিতে হেরে জয়-পরাজয়ের হার ছিল ১.৭৭। ২০১৫ সালে ২৮ ম্যাচে ১৫ জয়, নয়টি হার ও চারটি ড্রয়ে এই হার ছিল ১.৬৬ আর ২০০৬ সালে ৩৩ ম্যাচে ১৯ জয় ও ১৪ পরাজয়ে এই হার ছিল ১.৩৫। তার পরই এই বছরের সাফল্য, জয়-পরাজয়ের হার এবার ০.৯৫। প্রথমবারের মতো এক পঞ্জিকাবর্ষে ২০টির বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ জয়ের স্বাদ পাওয়া গেছে এ বছর। ২০১৮ সাল তাই বাংলাদেশের ক্রিকেটে একটি মাইলফলক হয়েই থাকবে।
খেলা বন্ধ থাকায় ছন্দ হারিয়েছে বাংলাদেশ: রোডস
ক্রীড়া ডেস্ক: আম্পায়ার তানভীর আহমেদের 'নো' বলের সিদ্ধান্তে উইন্ডিজদের প্রতিবাদে খেলা বন্ধ থাকায় ছন্দ হারিয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচ হারের জন্য এটিকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন কোচ স্টিভ রোডস। এদিকে এই সিরিজে বেশ কয়েকবার আম্পায়ারদের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট উইন্ডিজ অধিনায়ক কার্লোস ব্রাফেট। তবে দলগত পারফরম্যান্সের মাধ্যমেই এই জয় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। ম্যাচ শেষে হারের কারণ-হতাশা ছাপিয়ে আলোচনায় 'নো বল'। বাংলাদেশের আম্পায়ার তানভীর আহমেদের যে সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ম্যাচ রেফারি পর্যন্ত গিয়েছিলেন কার্লোস ব্রাফেট। সংবাদ সম্মেলনে পুরো ঘটনা এবং নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন উইন্ডিজ অধিনায়ক। সঙ্গে জানিয়েছেন দীর্ঘ প্রায় তিন মাসের উপমহাদেশ সফরে হতাশা শেষে এই সিরিজ জয় কতোটা স্বস্তির। কার্লোস ব্রাফেট বলেন, আমি আম্পায়ারদের ওপর পূর্ণ সম্মান রেখে বলছি, কিছু সিদ্ধান্ত একেবারেই পছন্দনীয় ছিলো না। এজন্য আমি টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে পরামর্শ করে ম্যাচ রেফারির কাছে বিষয়টি জানতে চেয়েছি যে ঐ নো বলের সিদ্ধান্তের রিভিউ করার সুযোগ ছিলো কিনা। আর ভারত ও বাংলাদেশে দীর্ঘ সফরের শেষটা জয় দিয়ে করতে পারায় সুখস্মৃতি নিয়ে ফিরতে পারবো। বড় টার্গেট তাড়ায় ব্যাটিংয়ের সূচনায় স্বপ্ন দেখিয়েছিলো টাইগাররা। আগের ম্যাচে দুইশ'র বেশি রান করা দলটাকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা অস্বাভাবিক ছিলো না। কিন্তু নো বল বিতর্কের আগে-পরের দৃশ্য যে একেবারেই ভিন্ন। উচ্চাভিলাষী শট খেলে যেন উইকেট বিলিয়ে দেয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছিলো স্বাগতিক ব্যাটসম্যানরা। স্টিভ রোডস বলেন, 'বাংলাদেশ যেভাবে ব্যাটিং শুরু করেছিলো, তারপর ঐ ঘটনায় মূলত ছন্দ হারিয়ে ফেলেছে। তবে এমন স্নায়ুচাপের মুহূর্তে আরো পরিণত পারফরম্যান্স আশা করি। আর টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারলেও বিশ্বকাপের প্রস্তুতির যে পরিকল্পনা ছিলো, তা ঠিকঠাকই আছে। বছরের শেষটায় কিছুটা অপূর্ণতা থাকলেও, দলের মাঝে ইতিবাচকতার বার্তা পৌঁছে দেন কোচ।
৩৬ রানের বড় ব্যবধানে দারুণ জয়ে সিরিজ সমতায় বাংলাদেশ
ক্রীড়া ডেস্ক: অনলাইন ডেস্ক: লক্ষ্য বিশাল, ২১২ রান। এই রান তাড়া করতে নেমে দলীয় ১৮ রানে এক হারিয়ে বসলেও শুরুতেই বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে গিয়েছিল ক্যারিবীয়রা। কিন্তু তারকা ব্যাটসম্যান শেই হোপ ফিরে গেলেই বেশ চাপে পড়ে যায় সফরকারীরা। শেষ পর্যন্ত এই বিপর্যয় থেকে আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি তারা। বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে ১৭৫ ইনিংস গুটিয়ে নেয় তারা। আজ বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে তাই বাংলাদেশ জিতেছে ৩৬ রানের বড় ব্যবধানে। এই জয়ে সিরিজ সমতায় (১-১) ফিরেছে তারা। এর আগে প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আট উইকেটের বড় ব্যবধানে জিতেছিল। আগের কয়েকটি ম্যাচে দারুণ খেলা শেই হোপ এই ম্যাচে ৩৬ রানের একটি চমৎকার ইনিংস খেলে মেহেদী হাসান মিরাজের শিকার হয়ে সাজঘরে ফিরে যান। পরে রোভম্যান পাওয়েল ৩৪ বলে ৫০ রানের চমৎকার একটি ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরে গেলে সব আশা শেষ হয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের। এদিন ব্যাট হাতে দুর্দান্ত একটি ইনিংস খেলার পর বল হাতেও উজ্জ্বলতা ছড়িয়েছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। চার ওভার বল করে মাত্র ২০ রান খরচায় পাঁচ উইকেট তুলে নিয়েছেন তিনি। আর একটি করে উইকেট পান মেহেদী হাসান মিরাজ, মুস্তাফিজুর রহমান ও আবু হায়দার রনি। এর আগে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে লিটন দাস, সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহর দারুণ ইনিংসের ওপর ভর করে ২১১ রানের রেকর্ড সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ড বাংলাদেশের বিপক্ষে এই মিরপুরেই গড়েছিল ২০৪ রানের রেকর্ড সংগ্রহ। সেটিকে টপকে ২১১ রানের রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশ। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে বাংলাদেশ চার উইকেট হারিয়ে এই বিশাল সংগ্রহ গড়ে। অবশ্য তামিম ইকবাল ১৬ বলে ১৫ রান করে কটরেলের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়েছেন ফ্যাবিয়ান অ্যালেনের বলে। তবে ঝড় তুলেছেন লিটন দাস। ২৭ বলে পাঁচটি চার এবং চারটি ছক্কার মারে অর্ধশতক তুলে নিয়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। অবশ্য ব্যক্তিগত ৫৫ রানে কিমো পলের বলে একবার জীবন পেয়েছেন লিটন। অন্য প্রান্ত থেকে সৌম্য সরকার উপযুক্ত সঙ্গ দিচ্ছিলেন তাঁকে। মাত্র ৩৪ বলে দুজনে জুটির অর্ধশতক পূর্ণ করে। তবে ৬৮ রানের জুটি গড়ে ব্যক্তিগত ৩২ রানে আউট হয়েছেন সৌম্য। ২২ বলে একটি ছক্কা ও তিনটি চারের মারে এই ইনিংস সাজিয়েছিলেন সৌম্য। ৩৪ বলে ৬০ রানের একটি ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর এই ইনিংসে ছিল ছয়টি চার ও চারটি ছক্কার মার। মিস্টার ডিপেনডেবল খ্যাত মুশফিকুর রহিমও সঙ্গ দিতে পারেননি সাকিবকে। একটি রান করেই আউট হয়েছেন তিনি। তবে মাঠে নেমেই শেলডন কটরেলকে প্রথম তিন বলে তিনটি চার মেরে রানের চাকা সচল রেখেছেন সহ-অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। ৪২ বলে ৯১ রানের জুটি গড়েন দুজনে। এই জুটিতেই ২১১ রানের বড় সংগ্রহ জমা হয় বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে। তবে ২১ বলে ৪৩ রান করেন মাহমুদউল্লাহ এবং ২৬ বলে ৪২ রান করেছেন সাকিব। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে চার উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হওয়া কটরেল আজ চার ওভারে ৩৮ রান দিয়ে মাত্র দুটি উইকেট পেয়েছেন তিনি। শেলডন থমাস ও ফ্যাবিয়ান অ্যালেন পেয়েছেন একটি করে উইকেট। তবে বাংলাদেশের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেননি কেউই।
আইপিএল ২০১৯-এর খেলোয়াড়দের নিলামে ১৭ কোটিপতি
ক্রীড়া ডেস্ক: ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ২০১৯-এর খেলোয়াড়দের নিলাম মঙ্গলবার সম্পন্ন হয়েছে। সর্বাধিক দামে বিক্রি হয়েছেন ভারতীয় পেসার জয়দেব উনাদকাট ও বিক্রম চক্রবর্তী। আইপিএলের সবশেষ আসরেও সবচেয়ে দামি ক্রিকেটার ছিলেন জয়দেব উনাদকাট। এবার ৮ কোটি ৪০ লাখ ভারতীয় রুপিতে তাকে দলে ভিড়িয়েছে রাজস্থান রয়্যালস। এবার আইপিএলে মোট ১৭ জন কোটি রুপির ওপরে বিক্রি হয়েছেন। তারা হলেন; ১. জয়বেদ উনাদকাট (রাজস্থান রয়্যালস) : ৮ কোটি ৪০ লাখ রুপি ২. বরুন চক্রবর্তী (কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব) : ৮ কোটি ৪০ লাখ রুপি ৩. স্যাম কারেন (কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব) : ৭ কোটি ২০ লাখ রুপি ৪. কলিন ইনগ্রাম (দিল্লি ক্যাপিটেলস) : ৬ কোটি ৪০ লাখ ৫. অক্ষর প্যাটেল (দিল্লি ক্যাপিটেলস) : ৫ কোটি রুপি ৬. মোহিত শর্মা (চেন্নাই সুপার কিংস) : ৫ কোটি রুপি ৭. কার্লোস ব্রাফেট (কলকাতা নাইটরাইডার্স) : ৫ কোটি রুপি ৮. মোহাম্মদ সামি (কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব) : ৪ কোটি ৮০ লাখ রুপি ৯. শিমরন হেটমায়ার (রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বাঙ্গালোর) : ৪ কোটি ২০ লাখ রুপি ১০. নিকোলাস পুরান (কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব) : ৪ কোটি ২০ লাখ রুপি ১১. বরুন অ্যারন (রাজস্থান রয়্যালস) : ২ কোটি ৪০ লাখ রুপি ১২. জনি বেয়ারস্টো (সানরাইজার্স হায়দরাবাদ) : ২ কোটি ২০ লাখ রুপি ১৩. হনুমান বিহারি (দিল্লি ক্যাপিটেলস) : ২ কোটি রুপি ১৪. লাসিথ মালিঙ্গা (মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স) : ২ কোটি রুপি ১৫. ঋদ্ধিমান সাহা (সানরাইজার্স হায়দরাবাদ) : ১ কোটি ২০ লাখ রুপি ১৬. ইশান্ত শর্মা (দিল্লি ক্যাপিটেলস): ১ কোটি ১০ লাখ রুপি ১৭. ময়সেস হেনরিকস (কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব) : ১ কোটি রুপি
বাংলাদেশকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ক্রীড়া ডেস্ক: ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশকে বড় ভুগিয়েছিলেন শাই হোপ। টি-টুয়েন্টিতে এসেও সেই হোপের তাণ্ডব। সিলেটে সিরিজের প্রথম টি-টুয়েন্টিতে ক্যারিবীয়ান এই ওপেনারের ঝড়ে উড়ে গেল বাংলাদেশ। ক্রিকেটের সংষ্করণ যত ছোট হয়, ততই ভয়ংকর হয়ে ওঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফের এর প্রমাণও পাওয়া গেল। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে দাপট দেখিয়ে জিতল ক্যারিবীয়রা। বাংলাদেশকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে তারা। শুধু তাই নয়, ৫৫ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে ব্রাফেট বাহিনী। দাপুটে এ জয়ে ৩ ম্যাচ সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল তারা। সোমবার প্রথমে ব্যাট করে ১৯ ওভারে অল আউট হওয়ার আগে ১২৯ রান করে স্বাগতিকরা। জবাবে ১০.৫ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১৩০ রান করে জয় তুলে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফলে ৩ ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল তারা। এদিন মাত্র ১৬ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন হোপ। মাহমুদউল্লাহর বলে আউট হওয়ার আগে ২৩ বলে ৫৫ রান করেছেন তিনি। মেরেছেন ৬টি ছক্কা ও ৩টি চারের মার। এর আগে দলীয় ৫১ রানে প্রথম উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মোহাম্মদ সাইফউদ্দীনের বলে আরিফুল হকের কাছে ক্যাচ দিয়ে ব্যক্তিগত ১৮ রানে সাজঘরে ফিরে যান এভিন লুইস। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দলীয় রান তখন ৯৮। এরপর নিকোলাস পুরান ও কেমো পল মিলে দলকে জয়ের দিকে টেনে নিয়ে যান। পুরান ১৭ বলে ২৩* রানে ও পল ১৪ বলে ২৯* রানে অপরাজিত ছিলেন। এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। টাইগারদের টপ অর্ডারের পাঁচ ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল, লিটন দাস, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহীম ও মাহমুদউল্লাহর রান যথাক্রমে ৫, ৬, ৫, ৫, ১২। এই বিপর্যয়ের সামনে দাঁড়িয়ে ব্যাট হাতে একাই লড়াই করেছেন সাকিব। তুলে নিয়েছেন টি-টুয়েন্টি ক্যারিয়ারের অষ্টম হাফ সেঞ্চুরি। আউট হওয়ার আগে ৪৩ বলে করেছেন ৬১ রান। দুর্দান্ত এই ইনিংসের পথে মেরেছেন ৮টি চার ও ২টি ছক্কা। সাকিবের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর আরিফুল হকের। ১৮ বল খেলে তিনি করেছেন ১৭ রান। এছাড়া মাহমুদউল্লাহই শুধু দুই অংকের ঘরে পৌঁছাতে পেরেছেন। তিনি করেছেন ১২ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ২৮ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন কটরেল। এছাড়া ২টি উইকেট নিয়েছেন কেমো পল।
আজ মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ক্রীড়া ডেস্ক: সিলেটের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ফেব্রয়ারিতে বাংলাদেশ সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি খেলেছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। সেটাই ছিল সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে এই স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের একমাত্র ম্যাচ। এবার দীর্ঘ ১০ মাস পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে টাইগাররা। টেস্ট ও ওয়ানডেতে দুর্দান্ত পারফর্মেন্স করছে বাংলাদেশ। তবে ক্রিকেটের শর্ট ভার্সনে রেকর্ড ভাল নয়। তাই টি-টোয়েন্টির বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে সাকিব-মুশফিকদের। হেড কোচ স্টিভ রোডস জানিয়েছেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জেতা কঠিন। তবে সেরা দিয়ে জয় পাওয়াটা অসম্ভব কিছু নয়। অন্যদিকে টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজে ব্যর্থ হলেও টি-টোয়েন্টি সিরিজে ঘুরে দাঁড়াতে প্রস্তুত ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশকে ছোট করে দেখছেন না- জানিয়েছেন অধিনায়ক ব্রাথওয়েট। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে বেলা সাড়ে ১২টায় শুরু হবে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি।
বাংলাদেশের মিশন এবার টি-টোয়েন্টি
ক্রীড়া ডেস্ক: টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেও দারুণভাবে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত ক্যারিবীয়দের একমাত্র সাফল্য ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানো। আগামীকাল সোমবার টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে সিলেটে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। তবে ক্রিকেটের এই সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের বিপক্ষে সেরা দল নিয়েই নামতে চাইবে স্বাগতিকরা। বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা নিজেদের প্রমাণ করতে চাইবেন টি-টোয়েন্টি সিরিজে। আসন্ন বিশ্বকাপের আগে ফর্ম ধরে রাখার জন্য কালকের ম্যাচে জ্বলে উঠতে চাইবেন সৌম্য সরকার, লিটন দাস ও মোহাম্মদ মিঠুন। তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান কিংবা মুশফিকুর রহিমের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দেরও যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে হবে দলের জন্য। লিটন দাস কিংবা সৌম্য সরকারের মধ্যে যেকোনো একজন বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যানের পরিবর্তে রুবেল হোসেন এবং নাজমুল ইসলাম অপুর দলে খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। অবশ্য টি-টোয়েন্টিতে শুরুটা ভালো করলেও ইনিংস বড় করতে পারছেন না লিটন, যা অনেকের নজর কেড়েছে। অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ফর্মে আছেন সৌম্য সরকার। গত দুদিনে ফ্লাড লাইটে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী টাওয়ারে সমস্যার কারণে দুবার এগিয়েছে টি-টোয়েন্টির সময়সূচি। আগামীকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় সিলেটে মুখোমুখি হবে দুই দল। তবে আবহাওয়া বার্তায় বৃষ্টির সম্ভাবনা দল নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। পরবর্তী দুটি টি-টোয়েন্টি যথাক্রমে ২০ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার এবং ২২ ডিসেম্বর শনিবার ঢাকার মিরপুরে বিকেল ৫টা থেকে অনুষ্ঠিত হবে। সম্ভাব্য একাদশ : সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, লিটন দাস, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, মোহাম্মদ মিঠুন, মাহমুদউল্লাহ, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, রুবেল হোসেন ও মুস্তাফিজুর রহমান।
পার্থ টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৩২৬ রান অলআউট অস্ট্রেলিয়া
ক্রীড়া ডেস্ক: ভারতের বিপক্ষে পার্থ টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৩২৬ রান অলআউট হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭০ এসেছে রান এসেছে মার্কাস হ্যারিসের ব্যাট থেকে। ২০.৩ ওভার বল করে ৪১ রানের বিনিময়ে চার উইকেট পেয়েছে ভারতের পেসার ইশান্ত শর্মা। শুক্রবার সকালে টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। প্রথম দিনের ৯০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৭৭ রান তুলেছে স্বাগতিকরা। টিম পেইন ১৬ ও প্যাট কামিন্স ১১ রানে অপরাজিত ছিলেন। আজ দিনের শুরুতেই ব্যক্তিগত ৩৮ রান করে বুমরার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে পেইন। এর পরের ওভারের প্রথম বলেই উমেশ যাদবের বলে বোল্ড হন প্যাট কামিন্স। লায়ন ৯ রান করে অপরাজিত থাকেন। দ্বিতীয় দিনে ১৮.৩ ওভার খেলে ৪ উইকেট হারিয়ে আর মাত্র ৪৯ রান যোগ করতে পেরেছে অস্ট্রেলিয়ার লেজের সারির ব্যাটসম্যানরা।