আজ পর্দা উঠছে বিপিএলের
ক্রীড়া ডেস্ক: দেশের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টির সবচেয়ে বড় আসর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পর্দা উঠছে আজ। গত বছর অক্টোবরে আসরটি মাঠে গড়ানোর কথা থাকলেও জাতীয় নির্বাচনের কারণে পিছিয়ে নতুন বছরে শুরু হচ্ছে। আজ শনিবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী দিনে মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্স ও চিটাগং ভাইকিংস। দিনের অন্য ম্যাচে ঢাকা ডায়নামাইটস ও রাজশাহী কিংস লড়াইয়ে নামবে। তবে প্রথম ম্যাচে থাকচ্ছে অন্য রকম একটি আকর্ষণ, প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ক্রিকেট ম্যাচ খেলতে নামবেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। নড়াইল-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এই ক্রিকেটার রংপুর রাইডার্সের অধিনায়ক। এবারের আসরে অংশ নেবে সাতটি দল। দলগুলো হলো ঢাকা ডায়নামাইটস, রাজশাহী কিংস, সিলেট সিক্সার্স, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস, রংপুর রাইডার্স, খুলনা টাইটানস ও চিটাগং ভাইকিংস। আসরের তিনটি ভেন্যু ঠিক হয়েছে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম, চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম ও সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হবে ম্যাচগুলো। বর্তমান সূচি অনুযায়ী ঢাকায় প্রথম পর্বের খেলা হবে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত। এরপর সিলেটে ১৮ ও ১৯ জানুয়ারি দুদিন চারটি ম্যাচ হবে। ২১ থেকে ২৩ জানুয়ারি তিনদিন মিরপুরে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে হয়েই চট্টগ্রামে চলে যাবে বিপিএল। ২৫ থেকে ৩০ জানুয়ারি খেলা হবে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। এরপর ১ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে হবে শেষ পর্বের খেলা। বিপিএল শেষে ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে বাংলাদেশ জাতীয় দল নিউজিল্যান্ড সফরে যাবে।
কে কোন দলে খেলছে বিপিএলে?
ক্রীড়া ডেস্ক: দেশের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টির সবচেয়ে বড় আসর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ষষ্ঠ পর্ব শুরু হওয়ার কথা ৫ জানুয়ারি। দেশের তিনটি ভেন্যুতে হবে খেলা— ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামে। উদ্বোধনী দিনে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে গতবারের চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্স ও চিটাগং ভাইকিংস। দিনের অন্য ম্যাচে ঢাকা ডায়নামাইটস লড়বে রাজশাহী কিংসের। আসরে কে কোন দলে খেলছে তা জেনে নেওয়া যাক এক নজরে : কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস : তামিম ইকবাল, শহিদ আফ্রিদি, থিসারা পেরেরা, শোয়েব মালিক, আসেলা গুনারত্নে, লিয়াম ডসন, সাইফউদ্দিন, ইমরুল কায়েস, আবু হায়দার রনি, এনামুল হক বিজয়, জিয়াউর রহমান, মেহেদী হাসান, মোশাররফ হোসেন রুবেল, মোহাম্মদ শহীদ, শামসুর রহমান, সঞ্জিত সাহা, এভন লুইস, ওয়াকার সালমাখেল, আমের ইয়ামিন। রাজশাহী কিংস : মুমিনুল হক, সেকুগে প্রসন্ন, রায়ান টেন ডেসকাটে, মোহাম্মদ সামি, কামরুল ইসলাম রাব্বি, মার্শাল আইয়ুব, লরি ইভান্স, ইসুরু উদানা, আলাউদ্দিন বাবু, আরাফাত সানি, ফয়জলে মাহমুদ রাব্বি, সৌম্য সরকার, জাকির হাসান, ক্রিস্টিয়ান জোনকার, কাইস আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ। রংপুর রাইডার্স : মাশরাফি বিন মুর্তজা, নাজমুল ইসলাম অপু, ক্রিস গেইল, এবি ডি ভিলিয়ার্স, অ্যালেক্স হেলস, শফিউল ইসলাম, সোহাগ গাজী, ফরহাদ রেজা, মেহেদী মারুফ, রবি বোপারা, রিলি রুশো, নাহিদুল ইসলাম, নাদিফ চৌধুরী, আবুল হাসান রাজু, বেনি হাওয়েল, ফারদিন হোসেন অনি, ওশানে থমাস। ঢাকা ডায়নামাইটস : সাকিব আল হাসান, সুনীল নারিন, কাইরন পোলার্ড, আন্দ্রে রাসেল, হজরতুল্লাহ যাযাই, রুবেল হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, রনি তালুকদার, শুভাগত হোম, এন্ড্রু বার্চ, ইয়ান বেল, কাজী অনিক, মিজানুর রহমান, আসিফ হাসান, শাহাদাৎ হোসেন রাজীব, নাঈম শেখ। চিটাগং ভাইকিংস : মুশফিকুর রহিম, লুক রঙ্কি, সিকান্দার রেজা, সানজামুল ইসলাম, মোহাম্মদ শেহজাদ, রবার্ট ফ্রাইলিঙ্ক, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, আবু জায়েদ রাহি, খালেদ আহমেদ, নাঈম হাসান, ক্যামেরন ডেলপোর্ট, দাসুন শনাকা, মোহাম্মদ আশরাফুল, রবিউল হক, শাদমান ইসলাম, নিহাদ উজ জামান, নাজিবুল্লাহ জাদরান। খুলনা টাইটানস : মাহমুদউল্লাহ, কার্লোস ব্রেথওয়েট, দাউইদ মালান, আলি খান, আরিফুল হক, নাজমুল হোসেন শান্ত, আল আমিন, তাইজুল ইসলাম, জহুরুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম, জহির খান, রাদারফোর্ড, শুভাশীষ রায়, জুনায়েদ সিদ্দিকী, তানভীর ইসলাম, মাহিদুল অঙ্কন, লাসিথ মালিঙ্গা, ইয়াসির শাহ, ব্রেন্ডন টেলর। সিলেট সিক্সার্স : নাসির হোসেন, সাব্বির রহমান, সোহেল তানভীর, লিটন দাস, ডেভিড ওয়ার্নার, সন্দিপ লামিচানে, আফিফ হোসেন, আল আমিন হোসেন, তৌহিদ হৃদয়, আন্দ্রে ফ্লেচার, গুলবাদিন নাইব, অলক কাপালি, এবাদত হোসেন, নাবিল সামাদ, মোহাম্মদ ইরফান, ফ্যাবিয়ান অ্যালেন, মেহেদী হাসান রানা, তাসকিন আহমেদ।
বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ এপ্রিলে গড়াচ্ছে মাঠে
ক্রীড়া ডেস্ক: ৬ দলের অংশগ্রহণে এপ্রিলে প্রথমবারের মতো মাঠে গড়াবে বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ফুটবল টুর্নামেন্ট। স্বাগতিক বাংলাদেশ ছাড়াও আসরে অংশ নেবে সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ইউএইর মতো দল। এমনটাই জানিয়েছেন বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দীন। এছাড়া কাতার বিশ্বকাপের প্রাক বাছাইকে সামনে রেখে, জাতীয় দলের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি কথাও জানান তিনি। এদিকে এ মাসের ১৮ তারিখ থেকে শুরু হচ্ছে প্রিমিয়ার লিগ ফুটবলের ১১তম আসর। দেশের নারী ফুটবল মানেই যেন একরাশ নতুন সম্ভাবনা আর প্রাপ্তির গল্প। গেল কয়েক বছর ধরে প্রতিপক্ষের চোখ চোখ রেখে যা বরাবর-ই প্রমাণ করেছেন বাংলার জয়িতা'রা। নতুন বছরেও ফুটবলে যতটুকু প্রত্যাশা তার বেশিভাগ-ই ছোটনের দলকে ঘিরে। সেখানেও আছে সুসংবাদ। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের সফলতায়, এবার বাফুফে স্বপ্ন দেখছে বঙ্গমাতা আন্তর্জাতিক নারী চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় এপ্রিলে হবে এই আসর। যেখানে অংশ নেয়া ৬ দলের নামও প্রায় চূড়ান্ত। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী সালাউদ্দীন। ব্যস্ততা বাড়ছে ছেলেদের ফুটবলেও। কাতার বিশ্বকাপের প্রাক বাছাই-তো আছেই, বাড়ছে প্রীতি ম্যাচের সংখ্যাও। অক্টোবরে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ। আর এসব টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে ক্যাম্প হবে কোরিয়া, জাপান ও কাতারে। কাজী সালাউদ্দীন বলেন, ফিফার প্রত্যেকটা উইন্ডোতে আমরা খেলবো। এটা নিশ্চিত। আমাদের ইচ্ছা আছে, পরিকল্পনা আছে। কিন্তু, এটা নির্ভর করবে ক্লাবগুলোর ওপর। ক্লাবগুলো থেকে আমি যদি প্লেয়ার রিলিজ পাই তাহলে আমি এটা করতে পারবো। জাপান, কোরিয়া, কাতার আমাকে ওপেন বুক দিয়েছে রেখেছে, আমি যখন ইচ্ছা তখনই তাদেরকে টিম পাঠাতে পারবো।
কন্যা সন্তানের বাবা হলেন ভারতের ক্রিকেটের রোহিত শর্মা
ক্রীড়া ডেস্ক: ভারতের ক্রিকেটের অন্যতম সফল ওপেনার রোহিত শর্মা। কন্যা সন্তানের বাবা হলেন এই ওপেনার। মেলবোর্নে সিরিজ জয়ের মাঝেই এই খুশির খবর দিলেন রোহিতের স্ত্রী রীতিকা সাজদে। রোহিতের শ্যালিকা সীমা খান ইনস্টাগ্রামে এই খুশির খুশির খবর জানিয়েছেন। রোহিত এবং রীতিকা অনেক দিনই এই খুশির খবর গোপন করেই রেখেছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনকে প্রচারের আলো থেকে দূরে রাখতেই ভালবাসেন এই দম্পতি। রোহিতের বাবা হাওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসায় অত্যন্ত খুশি ভারতীয় দলের ক্রিকেটাররাও। রোহিতের শ্যালিকা সীমা সম্পর্কে অভিনেতা সোহেল খানের স্ত্রী। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে লেখেন, বেবি গার্ল, মাসিজ এগেইন। রোহিত সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ককে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, বাবা হতে চলেছেন তিনি। তিনি বলেছিলেন, স্ত্রীর পাশে এই সময়ে থাকতে পারছেন না। রোহিত তখন বলেছিলেন, আমি অপেক্ষা করছি, আমার আর তর সইছে না। আমার জীবনটা আমূল বদলে দেবে ওই মুহূর্তটা। আমি জানি। আমি অপেক্ষা করছি সেই মুহূর্তের। রোহিত অবশ্য বলেছিলেন, সতীর্থরা তার বাবা হাওয়ার খবর জানতে পেরে, তার ভুলো মন নিয়ে ঠাট্টাও করেছে। তবে বাবা হওয়ার পর সন্তানের দায়িত্ব সামলাতে যে একেবারেই ভুলবেন না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত জানিয়েছিলেন রোহিত।
রাজশাহী কিংসে মোহাম্মদ হাফিজ!
ক্রীড়া ডেস্ক: এবার বিপিএলে সাবেক পাকিস্তানি অধিনায়ক মোহাম্মদ হাফিজকে দলভুক্ত করে বড় ধরনের চমক দেখিয়েছে রাজশাহী কিংস। কিছুদিন আগে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে বাড়তি মনোযোগ দেওয়ার জন্য টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া হাফিজকে টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই পেতে যাচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজি দলটি। রাজশাহী কিংসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিদ হক হাফিজের সঙ্গে দলের চুক্তি সম্পাদনের ব্যাপারটি নিশ্চিত করেছেন। টপঅর্ডারে চারজন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান থাকায় একজন বিশেষজ্ঞ ডানহাতি ব্যাটসম্যানের সন্ধানে ছিল রাজশাহী দলটি। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিদ হক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, হাফিজের দলভুক্তির পর রাজশাহীর দুর্ভাবনা অনেকটাই দূর হয়েছে বলা যায়। টপ-অর্ডারে তাঁর ধুন্ধুমার ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতি অফস্পিন বোলিংটাও আমাদের জন্য বিরাট পাওয়া। সবচেয়ে বড় কথা, তার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলার বিশাল অভিজ্ঞতা আমাদের সমৃদ্ধ করবে। ২৫২ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার রান করা হাফিজের জন্য এবারই প্রথম বিপিএলে অংশ নেওয়া হতে যাচ্ছে। গত আসরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস তাকে দলে নিলেও ত্রুটিপূর্ণ বোলিং অ্যাকশন শোধরানোতে মনোযোগ দিতে গিয়ে টুর্নামেন্ট খেলেননি হাফিজ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পাকিস্তান দলের টি-টোয়েন্টি অভিযান শুরুর আগে এবার অন্তত পাঁচটি ম্যাচের জন্য বিপিএলে দেখা যাবে এই তারকা খেলোয়াড়কে। আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার কথা ঘরোয়া টি-টোয়েন্টির সবচেয়ে বড় আসর বিপিএলের।
ভালবাসায় সিক্ত হয়ে শাড়ির আঁচলে মাশরাফি
ক্রীড়া ডেস্ক: উন্নত ও সমৃদ্ধশালী নড়াইল গড়ে তুলতে তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নড়াইল -২ আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী মাশরাফি বিন মুর্তজা। ক্রিকেটের মাঠের অধিনায়ক এখন জনগণের সেবক হওয়ার পথে। যার জন্য শিশু থেকে বুড়ো-সব বয়সী নারী পুরুষের অপেক্ষা। কাছে পেয়ে তাই উচ্ছ্বসিত তারা। তাই ভালবাসায় সিক্ত হয়ে এবার নারীদের শাড়ির আঁচলে ঠাই হল মাশরাফির। নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসাবে মঙ্গলবার বিকালে কোটাকোল ইউপির কলাগাছি এলাকায় যুবলীগ নেতা সৌদি প্রবাসী এস এম মিজানুর রহমান আয়োজিত বিশাল জনসভায় মাশরাফি বক্তব্য রাখেন। ভালোবাসার প্রকাশ স্বরূপ প্রবাসী মিজানুরের স্ত্রী ঝুমা নিজ অর্থায়নে তিন শতাধিক নারীকে পরিয়ে দেন বিশেষ ধরনের এই শাড়ি। নারীদের সেই বিশেষ শাড়ির আঁচলে দেখা মেলে মাশরাফির। পাশেই প্রবাসী যুবলীগ নেতা মিজানের ছবি শোভা দেখা যাচ্ছিল। এক ভোটার বলেন, মাশরাফি আমাদের আপনজন। আমাদের কাছে এসেছে। তাই আমরা গর্বিত। এক নারী ভোটার বলেন, ভাই আমাদের মাঝে এসেছে। আমরা তাকে টিভিতে দেখেছি এখন সরাসরি দেখছি। খুবই ভালো লাগছে। ২০টি ইউনিয়ন আর ২টি পৌরসভা নিয়ে নড়াইল-২ সংসদীয় আসন। সার্বিক সুযোগ সুবিধার দিক থেকে অনেকটাই পিছিয়ে নড়াইল। এবার তাই এই দৃশ্য পাল্টে ফেলার প্রতিশ্রুতি মাশরাফির। এক পথসভায় ম্যাশ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে নৌকা মার্কা দিয়েছেন। আপনাদের সহযোগিতা এখন খুবই প্রয়োজন। আপনাদের সহযোগিতা থাকলে আশা করি, একটি সুন্দর এবং শক্তিশালী নড়াইল আমরা গড়ে তুলতে পারবো। ৩০ তারিখে আপনারা সবাই ভোটকেন্দ্রে যাবেন এবং সকাল সকাল নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন বলে আশা করি।
রেকর্ড জয়ের বছর বাংলাদেশের !
ক্রীড়া ডেস্ক: কথায় আছে শেষ ভালো যার, সব ভালো তার। কিন্তু সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে হেরে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হাতছাড়া হলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৩২ বছরের পথচলায় ম্যাচ জয়ের সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের সফলতম বছর ছিল ২০১৮ সাল। টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের এই তিন সংস্করণ মিলিয়ে ২০১৮ সালে মোট ২১টি ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ জাতীয় দল। এর আগে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে জয় এসেছিল ২০০৬ সালে। ওই বছর বাংলাদেশ দল জিতেছিল ১৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। অবশ্য এ বছর নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচও খেলেছে বাংলাদেশ। এ বছরের ২১ জয় এসেছে ৪৪টি ম্যাচ থেকে। অন্যদিকে ২০০৬ সালের ১৯ জয় এসেছিল ৩৩টি ম্যাচ থেকে। জয়ের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য ২০০৬ সালের তুলনায় বেশি ম্যাচ খেলতে হলেও চলতি বছরটি বাংলাদেশ ক্রিকেটের এগিয়ে চলার স্মারক হয়েই থাকবে। এ বছরের আগে দুবার পঞ্জিকাবর্ষে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ৩৭টি করে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিল । কিন্তু ওই দুই বছরই জয়ের সংখ্যা ছিল অনেক কম। ২০০৮ সালে ৩৭ ম্যাচে জয় ছিল কেবল পাঁচটি, আর ২০১০ সালে ৩৭ ম্যাচে মাত্র নয়টি। ১৯৮৬ এশিয়া কাপ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রেখেছিল বাংলাদেশ। তবে শুরুর দিকে অনেক বছর ম্যাচ খেলার সুযোগ মিলত কালেভদ্রে। ফলে প্রথম ১২ বছরে বাংলাদেশ দল কেবল ২৫টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু ১৯৯৯ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনের পর ম্যাচ খেলার সংখ্যা একটু একটু করে বাড়তে থাকে। ২০০০ সালে টেস্ট মর্যাদা অর্জনের পর এই সংখ্যা আরো বাড়ে। ২০০২ সালে প্রথমবারের মতো ২০টির বেশি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। ওই বছরের পর শুধু ২০১৩ সালে ২০টির চেয়ে কম (১৯টি) ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। ম্যাচ খেলার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার ধারাবাহিকতায় দল এ বছরই প্রথম ৪০টির অধিক ম্যাচ খেলল। যথারীতি এ বছরও সবচেয়ে বেশি সাফল্য এসেছে প্রিয় ফরম্যাট ওয়ানডেতে। নিজেদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা বছর কাটিয়ে এবার ২০ ওয়ানডের ১৩টিই জিতেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ ক্রিকেটে খাদের কিনারা থেকে কামব্যাক করে ফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ দল। শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে মাত্র ২২২ রানের পুঁজি নিয়েও শেষ বলের রোমাঞ্চে তিন উইকেটে হেরে রানার্সআপ হয় বাংলাদেশ। পুরো টুর্নামেন্টে দারুণ লড়াকু মানসিকতার ক্রিকেট খেলে বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটপ্রেমী ও বিশেষজ্ঞদের অকুণ্ঠ প্রশংসা কুড়ায় দল। টেস্টে এ বছর জয় এসেছে তিনটি ম্যাচে। এর আগে ২০১৪ সালে তিনটি টেস্ট জয়ের মুখ দেখেছিল বাংলাদেশ। সেবার খেলতে হয়েছিল সাতটি টেস্ট ম্যাচ, এ বছর আটটি। টি-টোয়েন্টিতে এ বছরটি ছিল ভালো-মন্দ মিশিয়ে। গত মার্চে শ্রীলঙ্কায় ত্রিদেশীয় নিদাহাস ট্রফিতে দুর্দান্ত খেলা বাংলাদেশ ফাইনালে হেরে যায় শেষ বলে। তবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার হতাশাও এসেছে এবারই। অবশ্য জুলাই-আগস্টে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জয় এসেছিল তাদের মাঠেই। আর বছরের শেষে নিজেদের মাঠে শেষ ম্যাচে হেরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই সিরিজ খোয়ায় বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে এ বছর ১৬ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দলের জয় মাত্র পাঁচটি। শুধু জয় বা ম্যাচ খেলার সংখ্যাতেই নয়, জয়-পরাজয়ের ব্যবধান কমানোর ক্ষেত্রেও সফলতম বছরগুলোর একটি কাটিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট। ২০০৯ সালে ২৫ ম্যাচের ১৬টিতে জয় ও নয়টিতে হেরে জয়-পরাজয়ের হার ছিল ১.৭৭। ২০১৫ সালে ২৮ ম্যাচে ১৫ জয়, নয়টি হার ও চারটি ড্রয়ে এই হার ছিল ১.৬৬ আর ২০০৬ সালে ৩৩ ম্যাচে ১৯ জয় ও ১৪ পরাজয়ে এই হার ছিল ১.৩৫। তার পরই এই বছরের সাফল্য, জয়-পরাজয়ের হার এবার ০.৯৫। প্রথমবারের মতো এক পঞ্জিকাবর্ষে ২০টির বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ জয়ের স্বাদ পাওয়া গেছে এ বছর। ২০১৮ সাল তাই বাংলাদেশের ক্রিকেটে একটি মাইলফলক হয়েই থাকবে।
খেলা বন্ধ থাকায় ছন্দ হারিয়েছে বাংলাদেশ: রোডস
ক্রীড়া ডেস্ক: আম্পায়ার তানভীর আহমেদের 'নো' বলের সিদ্ধান্তে উইন্ডিজদের প্রতিবাদে খেলা বন্ধ থাকায় ছন্দ হারিয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচ হারের জন্য এটিকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন কোচ স্টিভ রোডস। এদিকে এই সিরিজে বেশ কয়েকবার আম্পায়ারদের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট উইন্ডিজ অধিনায়ক কার্লোস ব্রাফেট। তবে দলগত পারফরম্যান্সের মাধ্যমেই এই জয় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। ম্যাচ শেষে হারের কারণ-হতাশা ছাপিয়ে আলোচনায় 'নো বল'। বাংলাদেশের আম্পায়ার তানভীর আহমেদের যে সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ম্যাচ রেফারি পর্যন্ত গিয়েছিলেন কার্লোস ব্রাফেট। সংবাদ সম্মেলনে পুরো ঘটনা এবং নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন উইন্ডিজ অধিনায়ক। সঙ্গে জানিয়েছেন দীর্ঘ প্রায় তিন মাসের উপমহাদেশ সফরে হতাশা শেষে এই সিরিজ জয় কতোটা স্বস্তির। কার্লোস ব্রাফেট বলেন, আমি আম্পায়ারদের ওপর পূর্ণ সম্মান রেখে বলছি, কিছু সিদ্ধান্ত একেবারেই পছন্দনীয় ছিলো না। এজন্য আমি টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে পরামর্শ করে ম্যাচ রেফারির কাছে বিষয়টি জানতে চেয়েছি যে ঐ নো বলের সিদ্ধান্তের রিভিউ করার সুযোগ ছিলো কিনা। আর ভারত ও বাংলাদেশে দীর্ঘ সফরের শেষটা জয় দিয়ে করতে পারায় সুখস্মৃতি নিয়ে ফিরতে পারবো। বড় টার্গেট তাড়ায় ব্যাটিংয়ের সূচনায় স্বপ্ন দেখিয়েছিলো টাইগাররা। আগের ম্যাচে দুইশ'র বেশি রান করা দলটাকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা অস্বাভাবিক ছিলো না। কিন্তু নো বল বিতর্কের আগে-পরের দৃশ্য যে একেবারেই ভিন্ন। উচ্চাভিলাষী শট খেলে যেন উইকেট বিলিয়ে দেয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছিলো স্বাগতিক ব্যাটসম্যানরা। স্টিভ রোডস বলেন, 'বাংলাদেশ যেভাবে ব্যাটিং শুরু করেছিলো, তারপর ঐ ঘটনায় মূলত ছন্দ হারিয়ে ফেলেছে। তবে এমন স্নায়ুচাপের মুহূর্তে আরো পরিণত পারফরম্যান্স আশা করি। আর টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারলেও বিশ্বকাপের প্রস্তুতির যে পরিকল্পনা ছিলো, তা ঠিকঠাকই আছে। বছরের শেষটায় কিছুটা অপূর্ণতা থাকলেও, দলের মাঝে ইতিবাচকতার বার্তা পৌঁছে দেন কোচ।
৩৬ রানের বড় ব্যবধানে দারুণ জয়ে সিরিজ সমতায় বাংলাদেশ
ক্রীড়া ডেস্ক: অনলাইন ডেস্ক: লক্ষ্য বিশাল, ২১২ রান। এই রান তাড়া করতে নেমে দলীয় ১৮ রানে এক হারিয়ে বসলেও শুরুতেই বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে গিয়েছিল ক্যারিবীয়রা। কিন্তু তারকা ব্যাটসম্যান শেই হোপ ফিরে গেলেই বেশ চাপে পড়ে যায় সফরকারীরা। শেষ পর্যন্ত এই বিপর্যয় থেকে আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি তারা। বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে ১৭৫ ইনিংস গুটিয়ে নেয় তারা। আজ বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে তাই বাংলাদেশ জিতেছে ৩৬ রানের বড় ব্যবধানে। এই জয়ে সিরিজ সমতায় (১-১) ফিরেছে তারা। এর আগে প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আট উইকেটের বড় ব্যবধানে জিতেছিল। আগের কয়েকটি ম্যাচে দারুণ খেলা শেই হোপ এই ম্যাচে ৩৬ রানের একটি চমৎকার ইনিংস খেলে মেহেদী হাসান মিরাজের শিকার হয়ে সাজঘরে ফিরে যান। পরে রোভম্যান পাওয়েল ৩৪ বলে ৫০ রানের চমৎকার একটি ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরে গেলে সব আশা শেষ হয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের। এদিন ব্যাট হাতে দুর্দান্ত একটি ইনিংস খেলার পর বল হাতেও উজ্জ্বলতা ছড়িয়েছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। চার ওভার বল করে মাত্র ২০ রান খরচায় পাঁচ উইকেট তুলে নিয়েছেন তিনি। আর একটি করে উইকেট পান মেহেদী হাসান মিরাজ, মুস্তাফিজুর রহমান ও আবু হায়দার রনি। এর আগে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে লিটন দাস, সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহর দারুণ ইনিংসের ওপর ভর করে ২১১ রানের রেকর্ড সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ড বাংলাদেশের বিপক্ষে এই মিরপুরেই গড়েছিল ২০৪ রানের রেকর্ড সংগ্রহ। সেটিকে টপকে ২১১ রানের রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশ। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে বাংলাদেশ চার উইকেট হারিয়ে এই বিশাল সংগ্রহ গড়ে। অবশ্য তামিম ইকবাল ১৬ বলে ১৫ রান করে কটরেলের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়েছেন ফ্যাবিয়ান অ্যালেনের বলে। তবে ঝড় তুলেছেন লিটন দাস। ২৭ বলে পাঁচটি চার এবং চারটি ছক্কার মারে অর্ধশতক তুলে নিয়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। অবশ্য ব্যক্তিগত ৫৫ রানে কিমো পলের বলে একবার জীবন পেয়েছেন লিটন। অন্য প্রান্ত থেকে সৌম্য সরকার উপযুক্ত সঙ্গ দিচ্ছিলেন তাঁকে। মাত্র ৩৪ বলে দুজনে জুটির অর্ধশতক পূর্ণ করে। তবে ৬৮ রানের জুটি গড়ে ব্যক্তিগত ৩২ রানে আউট হয়েছেন সৌম্য। ২২ বলে একটি ছক্কা ও তিনটি চারের মারে এই ইনিংস সাজিয়েছিলেন সৌম্য। ৩৪ বলে ৬০ রানের একটি ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর এই ইনিংসে ছিল ছয়টি চার ও চারটি ছক্কার মার। মিস্টার ডিপেনডেবল খ্যাত মুশফিকুর রহিমও সঙ্গ দিতে পারেননি সাকিবকে। একটি রান করেই আউট হয়েছেন তিনি। তবে মাঠে নেমেই শেলডন কটরেলকে প্রথম তিন বলে তিনটি চার মেরে রানের চাকা সচল রেখেছেন সহ-অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। ৪২ বলে ৯১ রানের জুটি গড়েন দুজনে। এই জুটিতেই ২১১ রানের বড় সংগ্রহ জমা হয় বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে। তবে ২১ বলে ৪৩ রান করেন মাহমুদউল্লাহ এবং ২৬ বলে ৪২ রান করেছেন সাকিব। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে চার উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হওয়া কটরেল আজ চার ওভারে ৩৮ রান দিয়ে মাত্র দুটি উইকেট পেয়েছেন তিনি। শেলডন থমাস ও ফ্যাবিয়ান অ্যালেন পেয়েছেন একটি করে উইকেট। তবে বাংলাদেশের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেননি কেউই।