রূপালী ব্যাংকে ডাকাতির চেষ্টা
১২জুলাই২০১৯,শুক্রবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম:নিরাপত্তারক্ষীকে কুপিয়ে রূপালী ব্যাংকের রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) শাখায় ডাকাতির চেষ্টা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এসময় দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন নিরাপত্তারক্ষী লিটন। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা ব্যাংকের ফটকের তালা ভেঙে ফেলে। পরে ব্যাংকের ভোল্ট ভাঙার চেষ্টা চালায়। ব্যর্থ হয়ে একপর্যায়ে তারা পালিয়ে যায়।মতিহার থানার ওসি শাহাদাত হোসেন খান গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুর্বৃত্তরা পালিয়ে গেলে লিটন ব্যাংকের ম্যানেজারকে ফোন দেন। ম্যানেজার পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। নিরাপত্তারক্ষী লিটনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে লিটন কিছু কথা পুলিশকে জানিয়েছেন। তাঁর কথা রেকর্ড করে রাখা হয়েছে। রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র সহকারী উপকমিশনার রুহুল কুদ্দুস বলেন, ব্যাংকে ডাকাতির জন্যই দুর্বৃত্তরা ভেতরে ঢুকেছিল। তারা ভল্ট ভাঙার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পারেনি। পরে তারা পালিয়ে যায়।
নড়াইলে শ্বশুরবাড়ি এলাকার একটি বাগান থেকে জামাতার মরদেহ উদ্ধার
১১জুলাই২০১৯,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: নড়াইলের কালিয়ার নড়াগাতি থানার জয়নগর গ্রামের শ্বশুরবাড়ি এলাকার একটি বাগান থেকে জামাতা আক্কেল মোল্যার (৩৫) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকাল নয়টার দিকে নড়াগাতি থানা পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। আক্কেল গোপালগঞ্জ সদরের চরতালা গ্রামের এলেম মোল্যার ছেলে। পরকীয়া প্রেমের কারণে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় কথিত প্রেমিকা মারুফা বেগমকে (৩০) আটক করা হয়েছে। তবে মারুফার স্বামী মাহবুব শেখসহ পরিবারের লোকজন পলাতক রয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আক্কেল মোল্যার সঙ্গে জয়নগর গ্রামের মাহবুব শেখের স্ত্রী মারুফার দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাহবুবদের বাড়ির কাছেই দেবদুন গ্রামে আক্কেল মোল্যার শ্বশুরবাড়ি। তার শ্বশুরের নাম সরোয়ার মোল্যা। আক্কেল শ্বশুরবাড়িতে যাওয়া-আসার সূত্র ধরেই মারুফার সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। এ ব্যাপারে নড়াগাতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির বলেন, পরকীয়ার জের ধরে আক্কেলকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তার ডান চোখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং রক্তক্ষরণ হয়েছে। এ ঘটনায় মারুফাকে আটক করেছে পুলিশ।
সাগর থেকে ভেসে আসা ট্রলার থেকে ৬ জেলের লাশ উদ্ধার
১০জুলাই২০১৯,বুধবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে সাগর থেকে ভেসে আসা একটি ফিশিং ট্রলার থেকে ছয় জেলের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার সকাল ৮টার দিকে সৈকতের সীগাল পয়েন্ট থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। তবে জীবিত দুজনের নাম- রাসেল ও জুয়েল বলে জানা গেছে। তাদেরকে মুমূর্ষু অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের প্রত্যেকের শরীরে কোনো ধরনের বস্ত্র নেই এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পঁচে দুর্গদ্ধ বের হয়েছে। মৃতদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ ও সৈকতের উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবন্ত অবস্থায় সাগরের কূলে আটকা পড়েছে- বুধবার ভোররাতে স্থানীয়দের কাছ থেকে এমন খবর পেয়ে কক্সবাজার সদর থানার পুলিশের সহায়তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। এ সময় ছয়জনকে মৃত ও দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
পাবনায় সিমেন্টবাহী ট্রাক চাপায় প্রাণ গেল ৩ বন্ধুর
৮জুলাই২০১৯,সোমবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: পাবনায় সিমেন্টবাহী ট্রাকের চাপায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তিন মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। সোমবার (৮ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের সুজানগর উপজেলার বিরাহিমপুর নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- উপজেলার চিনাখড়া আজমপুর গ্রামের শাহাদতের ছেলে রফিকুল ইসলাম ডাব্লু (২৭), বিরাহিমপুর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে মোক্তার (৩২) ও সাঁথিয়া উপজেলার আত্রাইসুখা গ্রামের দুলালের ছেলে ঈশা (৩২)। প্রত্যক্ষদর্শী দুলাই ডা. জহুরুল কামাল কলেজের প্রভাষক সালাউদ্দিন আহমেদ জানান, নিহতদের মরদেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। তাদের সহজে চেনার উপায় নেই। আমিনপুর থানার ওসি মোমিনুল ইসলাম জানান, মোটরসাইকেল আরোহী তিন বন্ধু কাশীনাথপুর থেকে পাবনার দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় বসুন্ধরা সিমেন্টবাহী একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো ট্র ১৩-৩৫৪২) ও পাবনার দিকে যাচ্ছিল। ট্রাকটি তাদের পেছন দিক থেকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল আরোহী তিন বন্ধু নিহত হন।
আটক হতে পারেন রিফাতের স্ত্রী মিন্নিও
৮জুলাই২০১৯,সোমবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে রিফাত শরীফ হত্যার ঘটনায়। শনিবার (৬ জুলাই) বেরিয়েছে আরেকটি ভিডিও। ৯ মিনিট ৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি সন্দেহের তীর তাক করেছে রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির দিকে। ভিডিওতে দেখা গেছে, নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজীসহ ১০-১২ জন রিফাত শরীফকে মারধর করতে করতে বরগুনা সরকারি কলেজ থেকে বের হচ্ছেন। এদের মধ্যে একজন পেছন থেকে রিফাতকে ধরে রেখেছেন। বাকি দুজন দুইহাত ধরে রেখেছেন। মিন্নির বাম হাতে একটি পার্স ছিল। তিনি পার্স হাতে স্বাভাবিকভাবে হাঁটছিলেন। একবার ডান দিকে তাকিয়েছেন। ভিডিওর ৫ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডে যখন নয়ন বন্ডের সঙ্গীরা রিফাতের মাথায় হাত দিয়ে আঘাত করেন; মিন্নি তখনও স্বাভাবিক ছিলেন। ৫ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডে যখন সব বন্ধুরা একসঙ্গে রিফাতের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন, মিন্নি তখন প্রথমবারের মতো দৌড়ে গিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা চালান। একপর্যায়ে রিফাতকে দা দিয়ে কোপানো শুরু হয়, এ সময় দেখা যায় মিন্নি পেছন থেকে প্রতিরোধের চেষ্টা করছেন। মর্মান্তিকভাবে কোপানোর পর নয়ন বন্ড ও তার সঙ্গীরা পালানোর সময় কোনো একজন মিন্নিকে তার পার্সটি মাটি থেকে তুলে হাতে দেন। মিন্নি পার্সটি নিয়ে স্বাভাবিকভাবে সামনের দিকে হাঁটতে শুরু করেন। এ ঘটনার ৮ মিনিট পর পুলিশের দুইজন কর্মকর্তা একটি মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে আসেন। এ ভিডিও রিফাত শরীফের স্ত্রী মিন্নিকে একেবারে নির্দোষ বলছে না, বরং তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়কে ইঙ্গিত করেছে। সংশ্লিষ্ট একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, প্রশাসন এ ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান চায়। প্রকাশ হওয়া নতুন ভিডিও ও বেশ কিছু তথ্যে ঘটনার সঙ্গে মিন্নির সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে এসেছে। তাই সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক হতে পারেন। মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদের ব্যাপারে জানতে চাইলে বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন বলেন, তদন্ত সাবলীল ও স্বচ্ছ করতে প্রয়োজনীয় সবই করা হবে। তিনি এ মামলার সাক্ষীদের একজন। তাই তদন্তের স্বার্থে যতবার প্রয়োজন ততবারই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ ব্যাপারে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক মো. সোহেল রানা বলেন, রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনে যে কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, হত্যার ঘটনার পরদিন থেকেই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বললেও পুলিশের কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে কো-অপারেট করছেন না রিফাতের স্ত্রী মিন্নি। বাড়িতে গেলে তিনি স্বামীর শোকে কাতর বলে পুলিশের সঙ্গে খুব বেশি কথা বলেননি। তবে তাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। বর্তমানে মিন্নি পুলিশি নিরাপত্তায় বরগুনায় বাবার বাড়িতে রয়েছেন। পুলিশ জানায়, মিন্নি এ মামলার প্রধান সাক্ষী। তার নিরাপত্তার জন্য তার বাড়ির বাইরে পুলিশ রাখা হয়েছে। গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয় রিফাত শরীফকে। মিন্নি হামলাকারীদের প্রাণপণ বাধা দিয়েও স্বামীকে বাঁচাতে পারেননি। গুরুতর অবস্থায় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে মারা যান রিফাত।- সূত্র: আলোকিত বাংলাদেশ
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় মদপান করে ৫ জনের মৃত্যু
৬জুলাই২০১৯,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছে চোলাই মদপান করে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে আরও দুইজন। মাত্র তিন দিনের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। তবে ভুক্তভোগীদের পরিবার মদপানে মারা যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। এলাকাবাসী জানায়, গত সোমবার (১ জুলাই) সন্ধ্যায় হারাগাছের ধুমগড়া গ্রামের মৃত আব্বাছ আলীর ছেলে আমরুল ইসলাম (৪০), ক্যালেনটারী গ্রামের মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে আনারুল ওরফে মেডিকেল (৪৪), একই গ্রামের চাঁন মিয়া (৩৬), মিলনবাজার গ্রামের মৃত আবদার আলীর ছেলে এজারুল ইসলাম (৩৮), সারাই কাসাইটারী গ্রামের মৃত রহিম উদ্দিনের ছেলে ফুলবাবু (৫২), একই গ্রামের ওবায়দুল (৪৭) এবং পশ্চিম পোদ্দারপাড়া গ্রামের মৃত মতিয়ার রহমানের ছেলে নুর আমিন ড্রাইভার (৪৩) হারাগাছ থানার চরচতুরা গাছবাড়ী এলাকার এক ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে দেশীয় চোলাই মদপান করে বাড়ি ফিরে। পরে অতিরিক্ত চোলাই মদপানে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সোমবার (১ জুলাই) রাতেই ধুমগড়া গ্রামের আমরুল ইসলাম, মঙ্গলবার (২ জুলাই) দুপুরে ক্যালেনটারী গ্রামের আনারুল ওরফে মেডিকেল নিজ বাড়িতে ও মিলনবাজার গ্রামের এজারুল ইসলাম রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়। এছাড়া বুধবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যায় পশ্চিম পোদ্দারপাড়া গ্রামের নুর আমিন ড্রাইভার নিজ বাড়িতে এবং কাসাইটারী গ্রামের ফুলবাবু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এছাড়া কাসাইটারী গ্রামের ওবায়দুল নিজ বাড়িতে এবং ক্যালেনটারী গ্রামের চান মিয়া রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এলাকাবাসী অতিরিক্ত চোলাই মদপানে পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করলেও নিহতদের পরিবার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তারা বলেন, মদপানে নয়, ব্রেইন স্ট্রোকে মৃত্যু হয়েছে। নিহত ফুলবাবুর স্ত্রী গুলশান আরা বলেন, তার স্বামী মুরগির ব্যবসা করতেন। সোমবার রাতে বাড়ি ফিরে মাথায় প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন। প্রথমে তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি ঘটলে রংপুর মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার বিকেলে মারা যান। ফুলবাবু আগে মাদকসেবন করলেও বেশ কিছুদিন ধরে তিনি নেশা ছেড়ে দিয়েছেন। একই কথা জানান নিহত এজারুলের ভাই আলা মিয়া। তিনি বলেন, তার ভাই এজারুল ব্রেইন স্ট্রোকে মারা গেছেন। এদিকে তাদের এ বক্তব্যে পাঁচজনের মৃত্যু নিয়ে এলাকায় ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী বলছেন, সঠিকভাবে তদন্ত হলে মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসবে। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (মাহিগঞ্জ জোন) ফারুক আহমেদ জানান, বিষয়টি সবেমাত্র জেনেছি। মাদকসেবী বা ব্যবসায়ী কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্বপ্ন পূরণের আশায় গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন যশোরের ইমামুল
৩জুলাই২০১৯,বুধবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: বুক চাপড়ে বিলাপ করছেন হালি খাতুন। মাঝেমধ্যে জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। জ্ঞান ফিরলে বলছেন বাবা, তুই আমারে কী করে গেলি! আমি এখন কাকে নিয়ে বাঁচবো? ছেলের মরদেহ দেখে এভাবেই আহাজারি করছেন মা হালি খাতুন। দিনবদলের স্বপ্ন নিয়ে মাস খানেক আগে মালয়েশিয়া গিয়েছিলেন ইমামুল হোসেন (১৯)। স্বপ্ন পূরণ হয়নি তার। বুধবার মালয়েশিয়া থেকে বাড়ি ফিরেছে সেখানের একটি ভবন থেকে পড়ে নিহত ইমামুলের লাশ। দুপুর ১২টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে তার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে এক হৃদয় বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মা-বাবা আর ছোট ভাইয়ের কান্নায় কাঁদতে বাদ যায়নি কেউ। ইমামুল মালয়েশিয়ায় নির্মাণশ্রমিকের কাজ করতেন। দুপুরে জানাজা শেষে ইমামুল হোসেনের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। ইমামুল হোসেনের বাড়ি যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার উত্তর দেউলি গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের সবজিবিক্রেতা হাসান আলীর ছেলে। হাসান আলীর দুই ছেলে। বড় ছেলে ইমামুল হোসেন কয়েক বছর আগে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে অকৃতকার্য হন। ছোট ছেলে হাবিবুর রহমান (৮) উপজেলার উত্তর দেউলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র। ইমামুল হোসেনের বাবা হাসান আলী জানান, এক মাস পাঁচ দিন আগে স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় যান ইমামুল। এ জন্য ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। মাত্র দেড় বিঘা ধানি জমি আছে হাসান আলীর। সেই জমি বন্ধক দিয়ে এবং ভাইদের কাছ থেকে ধার নিয়ে টাকার ব্যবস্থা করা হয়। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে একটি নির্মাণাধীন ভবনে নির্মাণশ্রমিকের কাজ করতেন ইমামুল। গত ২৫ জুন স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ওই দোতলা ভবনে রড ওঠানোর সময় পা ফসকে মাটিতে পড়ে যান ইমামুল। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। সেখানে কর্মরত শ্রমিকেরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। ২৭ জুন বেলা দুইটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে মারা যান ইমামুল। ইমামুলের বাবা বলেন, তরকারি বেচে ঠিকমতো সংসার চলে না। সংসার একটু ভালো করে চালাতে জমি বন্ধক রেখে, ধারদেনা করে ইমামুলকে মালয়েশিয়ায় পাঠিয়েছিলাম। আমার সব শেষ হয়ে গেছে। আমি কী নিয়ে বাঁচবো, আর কী করে ধারদেনা শোধ করবো?
রাঙামাটিতে গুলি করে মা-মেয়েকে হত্যা
২জুলাই২০১৯,মঙ্গলবার,নিউজ একাত্তর ডট কম:রাঙামাটিতে উপজাতীয় বৃদ্ধ মা ও মেয়েকে গুলি করে হত্যা করেছে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা। সোমবার গভীররাতে জেলার চন্দ্রঘোনা থানাধীন রাইখালী ইউনিয়নের গবাছড়ার আগাপাড়া এলাকায় এই হত্যাকা- ঘটে। রাঙামাটি জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অজ্ঞাতনামা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা ৩০ বছর বয়সী পাহাড়ি নারী ও তার বৃদ্ধ মাকে গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে গেছে। নিহতরা হলেন, কং সু ইউ মারমার স্ত্রী ম্রা সাং খই মারমা (৬০) ও তার মেয়ে মে সাংনু মারমা (২৯)। সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে সেনাবাহিনী এবং চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশের একটি টিম নিহতদের লাশ উদ্ধারে ঘটনাস্থল গবাছড়ার আগা পাড়ার হ্লাম্রাউয়ের বাড়ি নামক এলাকাটিতে গেছে। স্থানীয় একটি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, নিহত মা-মেয়ে উভয়ের স্বামী ইতিপূর্বে মারমা লিবারেশন পার্টি এমএলটির সক্রিয় সদস্য ছিলো। সম্প্রতি তারা সেই দল ত্যাগ করে পাহাড়ের একটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলে যোগ দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এমএলটির সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা রাতের অন্ধকারে তাদের বসতঘরে হামলা চালিয়ে মা-মেয়েকে হত্যা করে চলে যায়। এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীসহ দুজনের ফাঁসি
২জুলাই২০১৯,মঙ্গলবার,নিউজ একাত্তর ডট কম:চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার সফিবাদ গ্রামে পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রী শাহনাজা বেগমকে হত্যার দায়ে স্বামী মো. মঞ্জিল মিজি ও তার বন্ধু মো. মিজানুর রহমানকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। আকেইসঙ্গে উভয়কে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। আজ দুপুরে চাঁদপুরের জেলা ও দায়রা জজ মো. জুলফিকার আলী খান এই রায় দেন। মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৩শে সেপ্টেম্বর গভীররাতে শাহনাজ বেগমকে তার স্বামী মঞ্জিল ও বন্ধু মিজান গলাচেপে করে হত্যা করে। এই ঘটনায় ওই দিন শাহনাজ এর পিতা মো. শাহ্ আলম কচুয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কচুয়া থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নিজাম উদ্দিন ২০১২ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারি আসামীদের বিরুদ্ধে ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। সরকার পক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. আমান উল্যাহ জানান, দীর্ঘ ৮ বছর মামলাটি চলমান অবস্থায় আদালত ১৫ জনের মধ্যে ১২ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করে। আদালত স্বাক্ষ্য প্রমাণ ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আসামীদের মৃত্যুদন্ড এবং প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন।

সারা দেশ পাতার আরো খবর