বুধবার, অক্টোবর ১৬, ২০১৯
যে ১০ জেলা ভাসছে বন্যায়
১৩জুলাই২০১৯,শনিবার,স্টাফ রিপোর্টার,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্টি হয়েছে বন্যা। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের ১০ জেলা বন্যা কবলিত হয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘন্টায় আরও অন্তত ৩টি জেলা বন্যা আক্রান্ত হতে পারে। বৃষ্টির বিদ্যমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বানের পানি আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ ঢাকা ও নারায়নগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করতে পারে। সিকিম-আসামে ভারী বৃষ্টির কারণে তিস্তা এবং ব্রহ্মপূত্র-যমুনা নদীতে পানি প্রবাহ বেড়েছে। দেশের উত্তরাঞ্চলসহ নেপাল এবং ভারতের বিহারে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত আছে। এই বৃষ্টি চলতে থাকলে গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় পানি প্রবাহ বেড়ে যাবে। এদিকে আসাম-মেঘালয়ে বৃষ্টি হচ্ছে। ওই এলাকার বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলের পানি নেমে আসছে মেঘনা অববাহিকার বিভিন্ন নদীতে। চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলেও ভারী বৃষ্টি অব্যাহত আছে। এসব মিলে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল, পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল বন্যায় ভেসে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে লালমনিরহাট, নীলফামারী, গাইবান্ধা, বগুড়া, নেত্রকোণা, সিলেট, সুনামগঞ্জ, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, কক্সবাজার জেলায় বন্যা পরিস্থির অবনতি হয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘন্টায় জামালপুর, সিরাজগঞ্জ এবং মানিকগঞ্জে বন্যা বিস্তৃত হতে পারে। বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে এই মুহূর্তে একটি মাঝারি ধরনের বন্যা চলছে। ইতিমধ্যে মেঘনা এবং ব্রহ্মপূত্র অববাহিকা সক্রিয় হয়েছে। সাধারণত এই দুই অববাহিকা একসঙ্গে সক্রিয় হলে ২৪-২৫টি জেলা বন্যায় আক্রান্ত হয়। তাই আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বড় বন্যা হয় উল্লিখিত দুই অববাহিকার সঙ্গে গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকা সক্রিয় হলে। যদিও ভারতের বিহারে এবং নেপালে বন্যা হচ্ছে। এর কারণে গঙ্গায় পানি বাড়ছে। পদ্মায়ও প্রবাহ বাড়বে। কিন্তু এই বন্যার পানি বাংলাদেশকে আক্রান্ত কতটা করবে সেটার জন্য আরও দুই-আড়াই সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে। যদি গঙ্গা-পদ্মায়ও বন্যা হয় তাহলে বাংলাদেশে বড় বন্যা হতে পারে। তবে আমি এখন পর্যন্ত তেমন আশঙ্কা দেখছি না। গত ৯ জুলাই থেকে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় কয়েকটি রাজ্যে ব্যাপক বৃষ্টিপাত শুরু হয়। সেটি চারদিন ধরে অব্যাহত আছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের ভেতরেও মৌসুম সক্রিয় থাকায় ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে প্রথম দিকে দেশের নেত্রকোনা, সিলেট, সুনামগঞ্জসহ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে পূর্বাঞ্চল হয়ে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত বিভিন্ন জেলা বন্যায় আক্রান্ত হয়। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এসব এলাকার ৭ নদী ১০টি পয়েন্টে বিপৎসীমার উপরে প্রবাহিত হয়। কিন্তু বৃষ্টিপাত বেড়ে যাওয়ায় শুক্রবার এসব নদী আরও নতুন নতুন এলাকায় বিপদসীমা পার করে প্রবাহিত হতে থাকে। শুক্রবার নতুন করে কুশিয়ারা বিপৎসীমা পার করে তিনটি স্থানে। সুরমাও তিনটি স্থানে বিপদসীমা পার করে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া খোয়াই, সোমেশ্বরী, কংস, সাঙ্গু ও তিস্তা বই বিপদসীমার উপরে। এদিন অবশ্য দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জেলার নদীগুলো বিপদসীমার নীচে চলে আসে। কিন্তু ফেণী, হালদা, মাতামুহুরী যে কোনো সময়ে বিপদসীমা পার করতে পারে। যমুনা ও ধরলার পানিও দ্রুত বাড়ছে। বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে দায়িত্বরত সরকারি প্রতিষ্ঠান বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভূইয়া জানিয়েছেন, ভারী বৃষ্টির কারণে দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব এবং ভারতের সিকিম, আসাম ও মেঘালয় রাজ্যে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে আগামী ৭২ ঘণ্টায় দেশের সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। ইতিমধ্যে যমুনা নদীর জামালপুর জেলায় বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপৎসীমা পার করেছে। কুড়িগ্রামের চিলমারী, গাইবান্ধার ফুলছড়ি পয়েন্টে যমুনা, কুড়িগ্রামে ধরলা কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা ২৪ ঘন্টার মধ্যে বিপদসীমা পার করতে পারে।
থানার ভিতরই নারীকে পেটালেন পুলিশ কর্মকর্তা
১২জুলাই২০১৯,শুক্রবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম:বগুড়ার ধুনটে পাওনা টাকা চাওয়ায় থানার ভিতরই কোহিনুর খাতুন (৪২) নামে এক নারীকে পিটিয়ে আহত করেছে এক পুলিশ কর্মকর্তা। শুক্রবার (১২ জুলাই) দুপুর ১২টায় ধুনট থানায় এঘটনা ঘটে। আহত ওই নারীকে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। জানাগেছে, বগুড়া শহরের নাটাইপাড়া বৌ-বাজার এলাকার জাবেদ আলীর মেয়ে স্বামী পরিত্যক্ত দুই সন্তানের জননী কোহিনুর খাতুন বগুড়া জজ কোর্টের সামনে খাবারের দোকান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। সেই সুবাদে ২০১০ সালে বগুড়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কর্মরত থাকা অবস্থায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া গ্রামের হবিবর রহমানের ছেলে এএসআই শাহানুর রহমানের সাথে কোহিনুরের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কোহিনুরের বাসায় শাহানুর রহমানের অবাধ যাতায়াত ছিল। ওই সময় শাহানুর কৌশলে কোহিনুরের নিকট থেকে ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এদিকে ২০১৬ সালে নভেম্বর মাসে শাহানুর রহমান বগুড়া থেকে বদলি হয়ে ধুনট থানায় যোগদান করেন। এরপরই কোহিনুরের সাথে যোগাযোগ বন্ধ রাখে শাহানুর। কিন্তু দীর্ঘদিনেও পাওনা না পেয়ে দুই মাস আগে এএসআই শাহানুরকে উকিল নোটিশ দেয় কোহিনুর। খবর পেয়ে শাহানুুর রহমান এক সপ্তাহ আগে কোহিনুর খাতুনকে ৬০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধুনট থানায় আসতে বলেন। শুক্রবার সকাল ১১টায় কহিনুর খাতুন পাওনা টাকার জন্য ধুনট থানায় আসে। কিন্তু এ বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে শাহানুর রহমান পিটিয়ে থানা থেকে কোহিনুর খাতুনকে বের করে দেয়। পরে কোহিনুর খাতুন ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানেও পেটাতে থাকে শাহানুর। এ সময় স্থানীয় লোকজন কোহিনুর খাতুনকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। খবর পূর্বপশ্চিমবিডি । ধুনট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কোহিনুর খাতুন জানান, শাহানুর কৌশলে আমার নিকট থেকে ৬০ হাজার টাকা নিয়েছে। দীর্ঘদিনেও টাকা ফেরত না দেওয়ায় তাকে উকিল নোটিশ দেওয়া হয়। এ বিষয়টি জানার পর শাহানুর টাকা দেওয়ার কথা বলে শুক্রবার থানায় ডেকে এনে পিটিয়ে আহত করেছে। তবে এবিষয়ে ধুনট থানার এএসআই শাহানুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সে আমাকে মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করছিল। অবশেষে ঝামেলা এড়াতে তাকে ৬০ হাজার টাকা দিয়ে আপোষ নামায় স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। তারপরও বৃহস্পতিবার সকালে থানায় এসে আমাকে মামলার ভয়ভীতি দেখালে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে চড় থাপ্পর মেরেছি। এদিকে ঘটনার সংবাদ পেয়ে শুক্রবার দুপুরে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোকবুল হোসেন ও গাজিউর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আহত কোহিনুরের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে জেলা পুলিশের উর্দ্ধতন ২ কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে এসেছেন। তারা এ বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মসজিদের ভেতর ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ
১২জুলাই২০১৯,শুক্রবার,স্টাফ রিপোর্টার,কক্সবাজার,নিউজ একাত্তর ডট কম:কক্সবাজারের উখিয়ায় ৭ বছরের শিশুকে মসজিদের ভেতর ধর্ষণের অভিযোগ ওঠেছে মুয়াজ্জিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর থেকে উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের ডেইলপাড়া মসজিদের মুয়াজ্জিন হাফেজ নুরুল আমিন পলাতক রয়েছে। নির্যাতিতা শিশুর চাচা বলেন, গত ১১ জুলাই দুপুর ১২ টার দিকে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার পথে দ্বিতীয় শ্রেণির ওই ছাত্রীকে মসজিদ ঝাড়ু দেয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে যায় মুয়াজ্জিন হাফেজ নুরুল আমিন। মসজিদের ভেতর ঢুকিয়ে তাকে ধর্ষণ করে সে। পরে মেয়েটি রক্তাক্ত অবস্থায় ঘরে এসে তার মাকে বিষয়টি জানায়। এই ঘটনা পুরো এলাকায় জানাজানি হওয়ায় ধর্ষক স্থানীয় মেম্বারের মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা করে। নির্যাতিতার পরিবারকে এক লাখ টাকা দেয়ার জন্যও প্রস্তাব দেন ধর্ষক। কিন্তু নির্যাতিতার পরিবার না মানায় তা স্থানীয়ভাবে সমঝোতা হয়নি। পরে শিশুটির পরিবার এই ঘটনার বিষয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করে। উখিয়া থানার ওসি (তদন্ত) নুরুল ইসলাম মজুমদার গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এই ঘটনার বিষয়ে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। ধর্ষক মুয়াজ্জিনকে আটকের জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
তিস্তা-ধরলার পানি বিপদসীমার ওপরে
১২জুলাই২০১৯,শুক্রবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম:টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে লালমনিরহাট জেলার ৫ উপজেলায় প্রায় ২৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় নতুন করে দেখা দিয়েছে বন্যা। এ ছাড়া জেলার আদিতমারী মহিষখোচা ও হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারীর ধুবনী এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ পানির তোড়ে ভেঙে গেছে। তিস্তা এমন ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করায় চরাঞ্চলে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান। আজ শুক্রবার সকাল ৯টায় দোয়ানি পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে পানির পরিমাণ ৫২.৮৫ সেন্টিমিটার। এলাকাবাসী জানান, উজানের পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গত ৫ দিনের ভারি বৃষ্টি। এতে লালমনিরহাটের ৫ উপজেলার তিস্তা ও ধরলা অববাহিকার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। জেলার ২৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। চরাঞ্চলে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হয়ে উঠেছে নৌকা বা ভেলা। ধেয়ে আসা পানির স্রোতে গবাদি পশু-পাখি নিয়ে বিপদে পড়েছেন চরাঞ্চলের খামারি ও চাষিরা। গত দুই দিন ধরে উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারি বৃষ্টিতে সৃষ্ট এ বন্যায় জেলার পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, হাতীবান্ধার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ী, সিংগিমারী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, কাকিনা, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর, গোকুন্ডা, কুলাঘাট ও মোগলহাট ইউনিয়নের তিস্তা ও ধরলার নদীর চরাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। এসব ইউনিয়নের প্রায় ২৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পানিবন্দি পরিবারগুলো এখনো সরকারিভাবে কোনো ত্রাণ পায়নি বলেও জানান স্থানীয়রা। তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, তিস্তার পানিপ্রবাহ শুক্রবার সকাল ৬টায় বিপদসীমার ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা চর এলাকার লোকজনকে নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে।
রূপালী ব্যাংকে ডাকাতির চেষ্টা
১২জুলাই২০১৯,শুক্রবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম:নিরাপত্তারক্ষীকে কুপিয়ে রূপালী ব্যাংকের রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) শাখায় ডাকাতির চেষ্টা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এসময় দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন নিরাপত্তারক্ষী লিটন। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা ব্যাংকের ফটকের তালা ভেঙে ফেলে। পরে ব্যাংকের ভোল্ট ভাঙার চেষ্টা চালায়। ব্যর্থ হয়ে একপর্যায়ে তারা পালিয়ে যায়।মতিহার থানার ওসি শাহাদাত হোসেন খান গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুর্বৃত্তরা পালিয়ে গেলে লিটন ব্যাংকের ম্যানেজারকে ফোন দেন। ম্যানেজার পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। নিরাপত্তারক্ষী লিটনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে লিটন কিছু কথা পুলিশকে জানিয়েছেন। তাঁর কথা রেকর্ড করে রাখা হয়েছে। রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র সহকারী উপকমিশনার রুহুল কুদ্দুস বলেন, ব্যাংকে ডাকাতির জন্যই দুর্বৃত্তরা ভেতরে ঢুকেছিল। তারা ভল্ট ভাঙার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পারেনি। পরে তারা পালিয়ে যায়।
নড়াইলে শ্বশুরবাড়ি এলাকার একটি বাগান থেকে জামাতার মরদেহ উদ্ধার
১১জুলাই২০১৯,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: নড়াইলের কালিয়ার নড়াগাতি থানার জয়নগর গ্রামের শ্বশুরবাড়ি এলাকার একটি বাগান থেকে জামাতা আক্কেল মোল্যার (৩৫) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকাল নয়টার দিকে নড়াগাতি থানা পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। আক্কেল গোপালগঞ্জ সদরের চরতালা গ্রামের এলেম মোল্যার ছেলে। পরকীয়া প্রেমের কারণে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় কথিত প্রেমিকা মারুফা বেগমকে (৩০) আটক করা হয়েছে। তবে মারুফার স্বামী মাহবুব শেখসহ পরিবারের লোকজন পলাতক রয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আক্কেল মোল্যার সঙ্গে জয়নগর গ্রামের মাহবুব শেখের স্ত্রী মারুফার দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাহবুবদের বাড়ির কাছেই দেবদুন গ্রামে আক্কেল মোল্যার শ্বশুরবাড়ি। তার শ্বশুরের নাম সরোয়ার মোল্যা। আক্কেল শ্বশুরবাড়িতে যাওয়া-আসার সূত্র ধরেই মারুফার সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। এ ব্যাপারে নড়াগাতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির বলেন, পরকীয়ার জের ধরে আক্কেলকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তার ডান চোখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং রক্তক্ষরণ হয়েছে। এ ঘটনায় মারুফাকে আটক করেছে পুলিশ।
সাগর থেকে ভেসে আসা ট্রলার থেকে ৬ জেলের লাশ উদ্ধার
১০জুলাই২০১৯,বুধবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে সাগর থেকে ভেসে আসা একটি ফিশিং ট্রলার থেকে ছয় জেলের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার সকাল ৮টার দিকে সৈকতের সীগাল পয়েন্ট থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। তবে জীবিত দুজনের নাম- রাসেল ও জুয়েল বলে জানা গেছে। তাদেরকে মুমূর্ষু অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের প্রত্যেকের শরীরে কোনো ধরনের বস্ত্র নেই এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পঁচে দুর্গদ্ধ বের হয়েছে। মৃতদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ ও সৈকতের উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবন্ত অবস্থায় সাগরের কূলে আটকা পড়েছে- বুধবার ভোররাতে স্থানীয়দের কাছ থেকে এমন খবর পেয়ে কক্সবাজার সদর থানার পুলিশের সহায়তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। এ সময় ছয়জনকে মৃত ও দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
পাবনায় সিমেন্টবাহী ট্রাক চাপায় প্রাণ গেল ৩ বন্ধুর
৮জুলাই২০১৯,সোমবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: পাবনায় সিমেন্টবাহী ট্রাকের চাপায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তিন মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। সোমবার (৮ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের সুজানগর উপজেলার বিরাহিমপুর নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- উপজেলার চিনাখড়া আজমপুর গ্রামের শাহাদতের ছেলে রফিকুল ইসলাম ডাব্লু (২৭), বিরাহিমপুর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে মোক্তার (৩২) ও সাঁথিয়া উপজেলার আত্রাইসুখা গ্রামের দুলালের ছেলে ঈশা (৩২)। প্রত্যক্ষদর্শী দুলাই ডা. জহুরুল কামাল কলেজের প্রভাষক সালাউদ্দিন আহমেদ জানান, নিহতদের মরদেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। তাদের সহজে চেনার উপায় নেই। আমিনপুর থানার ওসি মোমিনুল ইসলাম জানান, মোটরসাইকেল আরোহী তিন বন্ধু কাশীনাথপুর থেকে পাবনার দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় বসুন্ধরা সিমেন্টবাহী একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো ট্র ১৩-৩৫৪২) ও পাবনার দিকে যাচ্ছিল। ট্রাকটি তাদের পেছন দিক থেকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল আরোহী তিন বন্ধু নিহত হন।
আটক হতে পারেন রিফাতের স্ত্রী মিন্নিও
৮জুলাই২০১৯,সোমবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে রিফাত শরীফ হত্যার ঘটনায়। শনিবার (৬ জুলাই) বেরিয়েছে আরেকটি ভিডিও। ৯ মিনিট ৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি সন্দেহের তীর তাক করেছে রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির দিকে। ভিডিওতে দেখা গেছে, নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজীসহ ১০-১২ জন রিফাত শরীফকে মারধর করতে করতে বরগুনা সরকারি কলেজ থেকে বের হচ্ছেন। এদের মধ্যে একজন পেছন থেকে রিফাতকে ধরে রেখেছেন। বাকি দুজন দুইহাত ধরে রেখেছেন। মিন্নির বাম হাতে একটি পার্স ছিল। তিনি পার্স হাতে স্বাভাবিকভাবে হাঁটছিলেন। একবার ডান দিকে তাকিয়েছেন। ভিডিওর ৫ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডে যখন নয়ন বন্ডের সঙ্গীরা রিফাতের মাথায় হাত দিয়ে আঘাত করেন; মিন্নি তখনও স্বাভাবিক ছিলেন। ৫ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডে যখন সব বন্ধুরা একসঙ্গে রিফাতের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন, মিন্নি তখন প্রথমবারের মতো দৌড়ে গিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা চালান। একপর্যায়ে রিফাতকে দা দিয়ে কোপানো শুরু হয়, এ সময় দেখা যায় মিন্নি পেছন থেকে প্রতিরোধের চেষ্টা করছেন। মর্মান্তিকভাবে কোপানোর পর নয়ন বন্ড ও তার সঙ্গীরা পালানোর সময় কোনো একজন মিন্নিকে তার পার্সটি মাটি থেকে তুলে হাতে দেন। মিন্নি পার্সটি নিয়ে স্বাভাবিকভাবে সামনের দিকে হাঁটতে শুরু করেন। এ ঘটনার ৮ মিনিট পর পুলিশের দুইজন কর্মকর্তা একটি মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে আসেন। এ ভিডিও রিফাত শরীফের স্ত্রী মিন্নিকে একেবারে নির্দোষ বলছে না, বরং তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়কে ইঙ্গিত করেছে। সংশ্লিষ্ট একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, প্রশাসন এ ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান চায়। প্রকাশ হওয়া নতুন ভিডিও ও বেশ কিছু তথ্যে ঘটনার সঙ্গে মিন্নির সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে এসেছে। তাই সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক হতে পারেন। মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদের ব্যাপারে জানতে চাইলে বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন বলেন, তদন্ত সাবলীল ও স্বচ্ছ করতে প্রয়োজনীয় সবই করা হবে। তিনি এ মামলার সাক্ষীদের একজন। তাই তদন্তের স্বার্থে যতবার প্রয়োজন ততবারই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ ব্যাপারে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক মো. সোহেল রানা বলেন, রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনে যে কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, হত্যার ঘটনার পরদিন থেকেই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বললেও পুলিশের কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে কো-অপারেট করছেন না রিফাতের স্ত্রী মিন্নি। বাড়িতে গেলে তিনি স্বামীর শোকে কাতর বলে পুলিশের সঙ্গে খুব বেশি কথা বলেননি। তবে তাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। বর্তমানে মিন্নি পুলিশি নিরাপত্তায় বরগুনায় বাবার বাড়িতে রয়েছেন। পুলিশ জানায়, মিন্নি এ মামলার প্রধান সাক্ষী। তার নিরাপত্তার জন্য তার বাড়ির বাইরে পুলিশ রাখা হয়েছে। গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয় রিফাত শরীফকে। মিন্নি হামলাকারীদের প্রাণপণ বাধা দিয়েও স্বামীকে বাঁচাতে পারেননি। গুরুতর অবস্থায় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে মারা যান রিফাত।- সূত্র: আলোকিত বাংলাদেশ

সারা দেশ পাতার আরো খবর