শনিবার, জানুয়ারী ১৬, ২০২১
নোয়াখালী লকডাউন ঘোষণা
১০এপ্রিল,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে কুমিল্লার পর এবার নোয়াখালী জেলা লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। আজ শুক্রবার বিকেলে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক ও করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জেলা কমিটি সভাপতি তন্ময় দাস স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়। গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামীকাল শনিবার ভোর ৬টা থেকে পরবর্তি নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ লকডাউন কার্যকর থাকবে। নোয়াখালী জেলায় জনগণের প্রস্থান ও গমন নিষিদ্ধ। এতে সড়ক ও নৌ-পথে অন্য জেলা থেকে কেউ এ জেলায় প্রবেশ করতে বা অন্য কোনো জেলায় গমন করতে পারবে না। জেলার অভ্যন্তরে আন্তঃউপজেলায় যাতায়তের ক্ষেত্রেও একইরূপ নির্দেশনা বহাল থাকবে। কেউ জেলা প্রশাসনের এ সিদ্ধান্ত অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইননানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস। এর আগে শুক্রবার দুপুরে কুমিল্লা জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর।
অনাহারে অজ্ঞান শ্রমিক,উদ্ধার করলো পুলিশ
১০এপ্রিল,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:অনাহারে অচেতন হয়ে পড়েছিলেন। করোনা সন্দেহ করে কেউ তার কাছে যাননি। পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছিলেন। খবর যায় সিলেটের কোম্পানীঞ্জের ইউএনও সুমন আচার্য ও ওসি সজল কুমার কানুর কাছে। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ। কাজের সন্ধানে বহু মানুষ যায় কোম্পানীগঞ্জে। পাথর কোয়ারি বন্ধ। কাজকর্ম নেই। শ্রমিকরা পড়েছেন বেশি বেকায়দায়। সরকারের তরফ থেকে প্রতিদিনই খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। কিন্তু সেগুলো পর্যাপ্ত নয়। অনেক মানুষ অভুক্ত দিন কাটাচ্ছে।মানবজমিন। ওয়াহেদ আলী। পঞ্চাশোর্ধ এক মাটি কাটার শ্রমিক। বাড়ি কিশোরগঞ্জে অষ্টগ্রামে। প্রায় তিন মাস আগে তিনি কোম্পানীগঞ্জে আসেন। টুকেরবাজারের একটি কলোনিতে বসবাস করেন। বৃহস্পতিবার রাতে টুকের বাজারের পাশে বঙ্গবন্ধু সড়কে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন। অনেকেই দেখছেন তাকে। কিন্তু করোনা ভেবে কেউ তার পাশে যায় না। অবশেষে স্থানীয় সূত্রে খবর পান কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও ও ওসি। ঘটনাস্থলে পুলিশ দল নিয়ে ছুটে যান ওসি সজল কানু। পুলিশ তাকে ভ্যানে তুলে নিয়ে আসে কোম্পানীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আব্দুল খালিক ওয়াহেদের শাররীক পরীক্ষা করেন। তিনি নিশ্চিত হন- ওয়াহেদ আলী ফিজিক্যাল উইকনেসর কারণে সেন্সলেস হন। এ সময় হাসপাতালে তাকে খাবার দেওয়া হয়। চেতনা ফিরে এলে ওয়াহেদ আলী জানান, তিনি মাটি কাটার শ্রমিক। করোনার কারণে কর্মহীন। বেশ কদিন ধরে খাদ্য সংকটে ভুগছেন। তার পরিবারের সবাই থাকেন কিশোরগঞ্জে। কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি সজল কুমার কানু জানিয়েছেন- ওয়াহেদ আলী দিনমজুরের কাজ করেন। সে দীর্ঘক্ষণ মহাসড়কের পাশে পড়ে থাকলেও ভয়ে কেউ কাছে আসেনি। রাত সাড়ে ৯টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। পরে তার দেয়া তথ্যমতে, মেয়ের জামাতা স্বপন আহমেদের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়। এখন তিনি সুস্থ আছেন।
হ্যান্ড স্যানিটাইজার বানানোর নকল কারখানা,এক লাখ টাকা জরিমানা
১০এপ্রিল,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:রং আর কেমিক্যালের মিশ্রনে ইচ্ছেমতো বানানো হচ্ছিলো হ্যান্ড স্যানিটাইজার। ঘরে তৈরী এসব বোতলে ভরে জনসনের নামের বাজারজাত করা হচ্ছিলো। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের কালীসীমা গ্রামে এমন কারখানার সন্ধান পেয়ে শুক্রবার দুপুরে প্রশাসন অভিযান চালায় সেখানে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কারখানাটি সিলগালা করে দেয়া ছাড়াও এক লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। অভিযানের নেতৃত্বদানকারী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কে.এম.বি আর এন্ড কোং নামের ওই নকল কারখানায় অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। কারখানাটিতে রং ও কেমিক্যাল দিয়ে নকল হ্যান্ড স্যানিটাইজার বানানো হচ্ছে এবং জনসন নামে সেগুলো বাজারজাত করা হচ্ছে। তাদের কাছে বিএসটিআই'র কোন অনুমোদনও পাওয়া যায়নি। নেই কোন ল্যাব ও ল্যাব টেকনিশিয়ান।মানবজমিন। তারা নিজেরাই ঘরে বসে এসব তৈরী করে বোতলে ভরে বাজারজাত করে আসছিলো। অভিযানের সময় কারখানার মালিকদের মধ্যে একজন ইয়াছিনকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি দুইড্রাম কেমিক্যাল উদ্ধার করে ধ্বংস ও কারখানাটিতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
কুমিল্লা জেলা লকডাউন ঘোষণা
১০এপ্রিল,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস এর সংক্রমণের ঝুঁকি মোকাবেলায় কুমিল্লা জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসক। শুক্রবার দুপুরে এ সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেন তিনি। করোনাভাইরাস প্রতিরোধের লক্ষ্যে গঠিত কুমিল্লা জেলা কমিটির সভার সিদ্ধান্তের আলোকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা কমিটির সভাপতি এবং কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর এ সিদ্ধান্ত নেন। গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ জেলায় জনসাধারণের প্রবেশ ও প্রস্থান নিষিদ্ধ করা হলো। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত জাতীয় ও আঞ্চলিক সড়ক/মহাসড়ক ও নৌপথে অন্য কোন জেলা হতে কেউ এ জেলায় প্রবেশ করতে কিংবা এ জেলা হতে অন্য কোন জেলায় গমন করতে পারবেন না। জেলার অভ্যন্তরে আন্তঃউপজেলা যাতায়াতের ক্ষেত্রেও একইরূপ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। সকল ধরণের গণপরিবহন, জনসমাগম বন্ধ থাকবে। তবে জরুরী পরিসেবা, চিকিৎসা সেবা, কৃষি পণ্য, খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ ও সংগ্রহ ইত্যাদি এর আওতা বহির্ভূত থাকবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কযোগে কুমিল্লা জেলার উপর দিয়ে অন্যান্য জেলার আন্তঃসংযোগ এর আওতা বহির্ভূত থাকবে। জেলা ও উপজেলার যে কোন সীমানা দিয়ে যানবাহনের প্রবেশ ও প্রস্থান বন্ধ থাকবে। শুক্রবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত জনস্বার্থে জারীকৃত এ আদেশ বলবৎ থাকবে। এ আদেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রাতের আঁধারে মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা
১০এপ্রিল,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:বৈশ্বিক দুর্যোগ করোনা পরিস্থিতিতে রাতের আঁধারে অস্বচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ হতদরিদ্র মানুষের বাড়ি বাড়ি খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছে আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সংগঠন। সংগঠনের পক্ষ থেকে সারাদেশে অপেক্ষাকৃত অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা ও হতদরিদ্র মানুষের তালিকা করে সংগঠনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে উপহার হিসেবে এসব খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। গতরাতে আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সুনামগঞ্জ জেলা শাখা সদর উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় এসব মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি পৌঁছে দেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এসময় সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোঃ. সাজ্জাদ হোসেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য শহীদ সন্তান ড. কাজী সাইফুদ্দিন, শহীদ এমপি নূরুল হকের কন্যা জোবায়দা হক অজন্তা, সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আল-আমিন মৃদুল, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, দপ্তর সম্পাদক আহমাদ রাসেল, সিলেট মহানগর শাখার সভাপতি মোঃ আতাউর রহমান, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ডাঃ আবুল বাশার জুয়েল ভিডিও কনফারেন্সে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলেন এবং এসব উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেয়ার ব্যাপারে দিক নির্দেশনা দেন। নেতৃবৃন্দ সকলকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নিরাপদে ও সতর্কতার সাথে এসব উপহার সামগ্রী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেয়ার আহ্বান জানান। এসময় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সামাজিক আত্মসম্মানও যাতে অক্ষুন্ন থাকে, এদিকেও বিশেষ নজর রাখতে হবে। উপহার সামগ্রীর প্রতিটি প্যাকেটে চাল, ডাল, আলু, পিঁয়াজ, তেল, লবন, আটা, সাবান ও ডিটারজেন্ট সরবরাহ করা হয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের প্যাকেট সরবরাহ কার্যক্রম সমন্বয় করেন আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সুনামগঞ্জ জেলার সভাপতি মোঃ শিবলু আহমেদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাজমুল হক সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মুমিনুল হক। আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা শাখার সভাপতি মোঃ রুহেল আহমেদ চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমেদ শফিক।
সুনামগঞ্জে হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরন
১০এপ্রিল,শুক্রবার,দিলাল আহমদ, সুনামগঞ্জ প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান (আমুস) কেন্দ্রীয় কমিটি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উপহার সামগ্রী বিতরনের অংশ হিসেবে আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সুুনামগঞ্জ সদর ও জেলা কমিটির উদ্যোগে,৫০ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরন করা হয়। বৃহষ্পতিবার রাতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সহায়তা প্রদান করা হয়। খাদ্য উপহার সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম ভিডিও কলের মাধ্যমে তদারকি করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোঃ সাজ্জাদ হোসেন,এবং সাধারণ সম্পাদক আল আমিন ও আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সিলেট মহানগর শাখার সভাপতি মোঃ আতাউর রহমান,সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ডাঃ আবুল বাশার জুয়েল। উপহার সামগ্রী বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সুনামগঞ্জ জেলার সভাপতি মোঃ শিবলু আহমেদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাজমুল হক সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মুমিনুল হক। আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা শাখার সভাপতি মোঃ রুহেল আহমেদ চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমেদ শফিক।
ময়মনসিংহে আরও পাঁচজন করোনা আক্রান্ত
১০এপ্রিল,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচজনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত সন্দেহে ৯৪ জনের নমুনা পরীক্ষা শেষে নতুন করে এ আক্রান্ত ধরা পড়ে বলে জানান মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ চিত্ত রঞ্জন সাহা। আক্রান্তদের মাঝে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার একজন, জামালপুরের বকশীগঞ্জ ও মেলান্দহ উপজেলার দুইজন এবং শেরপুরের শ্রীবর্দী ও ঝিনাইগাতির দুইজন বলে জানা গেছে। এর আগে পিসিআর ল্যাবে ৫০ জনের নমুনা পরীক্ষা করে দুজনের দেহে করোনাভাইরাস পাওয়া যায়। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা সাত জনে দাড়ালো।
নুসরাত হত্যার এক বছর
১০এপ্রিল,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার এক বছর আজ। ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল পরীক্ষা দিতে গেলে হল থেকে ডেকে পাশের ভবনের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা তুলে নিতে বললে, রাজি না হওয়ায় তাকে গায়ে কেরোসিন ঢেলে হত্যার চেষ্টা চালায় আসামিরা। এতে তার শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে যায়। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় নুসরাত। মৃত্যুর এক বছর পরেও তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তায় তিনজন পুলিশ পাহারায় রয়েছেন। নুসরাতের মা বলেন, করোনা রোগে মারা গেলে মনকে সান্তনা দেয়া যেতো। কিন্তু খুনিরা কত নির্মমভাবে হাত বেধে জীবিত অবস্থায় হত্যা করেছে। তাদের ফাঁসির দণ্ড দ্রুত কার্যকর করা হোক। মামলার বাদি নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান জানান, আমরা বিচারিক আদালতে ন্যায় বিচার পেয়েছি। উচ্চ আদালতেও আমরা ন্যায় বিচার প্রত্যাশী। গত বছরের ২৪ অক্টোবর রায়ে ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ। পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে একলাখ টাকা করে জরিমানাও করেন। আসামিরা হলেন- সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ-দৌলা (৫৭), নুর উদ্দিন (২০), শাহাদাত হোসেন শামীম (২০), কাউন্সিলর ও সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম (৫০), সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের (২১), জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন (১৯), হাফেজ আব্দুল কাদের (২৫), আবছার উদ্দিন (৩৩), কামরুন নাহার মনি (১৯), উম্মে সুলতানা পপি (১৯), আব্দুর রহিম শরীফ (২০), ইফতেখার উদ্দিন রানা (২২), ইমরান হোসেন মামুন (২২), সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদরাসার সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল আমিন (৫৫), মহিউদ্দিন শাকিল (২০) ও মোহাম্মদ শামীম (২০)। ২৯ অক্টোবর আসামিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য (ডেথ রেফারেন্স) মামলার যাবতীয় কার্যক্রম হাইকোর্টে পৌঁছে। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ হলে মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় কার্যক্রম উচ্চ আদালতে পাঠাতে হয়। সে অনুসারে ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুক (মামলার যাবতীয় নথি) ছাপানো শেষ করা হয়েছিলো। পরে প্রয়োজনীয় কাজ শেষে শুনানির জন্য মামলাটি প্রধান বিচারপতি বরাবর উপস্থাপন করা হয়। বাদীপক্ষের আইনজীবী শাহজাহান সাজু বলেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য বেঞ্চ গঠন করেছেন প্রধান বিচারপতি। করোনা ভাইরাসের সংকটময় পরিস্থিতি কেটে গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি হবে। করোনা সংক্রমণে রাষ্ট্র কিছু আসামীদের সাধারণ ক্ষমা করলোও নুসরাত মামলার আসামিরা সে ক্ষমার আওতায় আসবে না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। এই মামলায় ২৮ মে অভিযোগপত্র দাখিলের পর ২০ জুন অভিযোগ গঠন করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। মামলাটিতে মাত্র ৬১ কার্যদিবসে ৮৭ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্ততর্ক গ্রহণ করা হয়।

সারা দেশ পাতার আরো খবর