লোহাগাড়ায় ১৫ হাজার ইয়াবাসহ ৪ মাদক কারবারি আটক
১১সেপ্টেম্বর,শুক্রবার,এম.ইহসানুল হক,লোহাগাড়া প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ১৫ হাজার ইয়াবাসহ চার মাদক কারবারিকে আটক করেছে লোহাগাড়া থানা পুলিশ। এই সময় তাদের ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কার সহ ২০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়। আটককৃতরা হলেন কক্সবাজার জেলার টেকনাফ পৌরসভার ইসলামাবাদ এলাকার আলী আহম্মদের পুত্র ইব্রাহীম (২২), কক্সবাজার সদরের ইসলামপুর এলাকার রশিদ আহমদের পুত্র জাহেদ হোসেন (২২), ঢাকা গোলশান ছোলমাইদ পুর্ব পাড়ার মহির উদ্দিনের পুত্র মনির হোসেন (৩২) ও পশ্চিম কলাউজান করাইল্যা পুকুর পাড় চাচী রাম কান্তি নাথের পুত্র সজিব কান্তি নাথ (৩০)। থানা সুত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতরাতে একটি পুলিশি টিম উপজেলার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতি ফরেস্ট রেঞ্জ কার্যালয়ের সামনে হতে প্রাইভেট কারে তল্লাশী চালিয়ে ইব্রাহীম,জাহেদ, মনিরের কাছ থেকে ১৫হাজার পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট এবং উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের রাজঘাটা ০৯নং ওয়ার্ড গরম মসজিদ এর সামনে টংকাবতী সড়কে উপর অভিযান চালিয়ে ২০(বিশ) লিটার দেশীয় তৈরী চোলাইমদ সজীব কান্তি নাথকে আটক করে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক পৃথক ২টি মামলা রুজু করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে তাদেরকে চট্টগ্রাম আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে থানা সুত্রে জানা গেছে।
ভালুকায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় স্বেচ্ছাসেবীরা
১১সেপ্টেম্বর,শুক্রবার,মামুন সরকার,ভালুকা,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভালুকায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে জনসচেতনতার জন্য রাস্তায় নেমেছে স্বেচ্ছাসেবীরা। শুক্রবার সকালে বাসট্যান্ড এলাকায় ২ঘন্টা ব্যাপী সড়কে চলাচলকারী পথচারী ও যানবাহনের চালকদের সচেতন করেন তারা। হ্যালো ভালুকা ও ভালুকা হেল্পলাইনের আয়োজনে ওই কর্মসূচি পালিত হয়। এসময় অন্যান্নদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, ভালুকা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবুল কালাম আজাদ, শিক্ষক ও সাংবাদিক মো. রফিকুল ইসলাম রফিক, শিক্ষক ও সমাজকর্মী শফিকুল ইসলাম খাঁন, অভ্যুদয় সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান সুমন, ভালুকা হেল্পলাইনের এডমিন ইমন তালুকদার সাগর, হ্যালো ভালুকার এডমিন মোন্তাসিম বিল্লাহ রাহাত, ব্লাড ডোনার্স সোসাইটি ভালুকার সভাপতি ফিরুজ আহাম্মেদ প্রমুখ।
বরগুনায় জরাজীর্ণ ব্রিজ পুনর্নির্মাণের দাবি
১১সেপ্টেম্বর,শুক্রবার,বরগুনা প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ ব্রিজ পুনর্নির্মাণের দাবিতে বরগুনার আমতলীতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা। আজ শুক্রবার বেলা ১১টায় উপজেলার তক্তাবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন করেন ৫ শতাধিক নারী-পুরুষ। এতে বক্তারা বলেন, বিদ্যালয় সংলগ্ন বাঁশবুনিয়া খালের উপর নির্মিত একটি ব্রিজ ভেঙ্গে দীর্ঘদিন জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। বিচ্ছিন্ন রয়েছে দু পাড়ের যোগাযোগ ব্যবস্থা। যার কারণে দুটি মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি মাদ্রাসাসহ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী ও এলাকাবাসীর দুর্ভোগের শেষ নেই। কিন্তু এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে বারবার অবগত করা হলেও কোন কর্ণপাত করছেন না। উল্লেখ্য, আমতলী ও তালতলী উপজেলায় এ রকম ২৭টি জরাজীর্ণ ব্রিজ রয়েছে। সেগুলোও পুনর্নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর। তক্তাবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবি এম আব্দুস সোবহানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সত্তার, তক্তাবুনিয়া মাদ্রাসার সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আবু ছালেহ, জেবি শেনেরেহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওসিম হালদার, সমাজসেবক রেজাউল মোল্লা প্রমুখ।
ময়মনসিংহ পিজিসিবি গ্রিড উপকেন্দ্রে ফের আগুন
১০সেপ্টেম্বর,বৃহস্পতিবার,ময়মনসিংহ প্রতিনিধি,,নিউজ একাত্তর ডট কম: পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) ময়মনসিংহের কেওয়াটখালি উপকেন্দ্রে ফের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আবুল হোসেন বলেন, আজ বড় ধরনের আগুন লাগেনি। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তবে একটি ইউনিট কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে এখনও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে উপস্থিত আছেন। এর আগে মঙ্গলবার বেলা ১টা ১৫ মিনিটে ময়মনসিংহের কেওয়াটখালী এলাকায় ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রের টি-টু, ৮০/১০০ এমভিএ নামে একটি বৃহৎ ট্রান্সফরমারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে টি-টু, ৮০/১০০ এমভিএ পুড়ে যায় এবং কন্ট্রোল রুমের একটি প্যানেল বোর্ড পুড়ে যায়। আগের অগ্নিকাণ্ডে ১০ কোটি টাকা মূল্যের ৮০/১২০ এমভিএ ট্রান্সফরমার, কন্ট্রোল প্যানেল, পাওয়ার ট্রান্সফরমার, সার্কিট ব্রেকার ক্ষতি হয়েছে। বড় ট্রান্সফরমারটি মেরামতের জন্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এনার্জিপ্যাকের প্রকৌশলীরা কাজ শুরু করেন। মেরামতের পর বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু ফের শুরু হয়। ময়মনসিংহ অঞ্চলের পিডিবির প্রধান প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, মঙ্গবার সন্ধ্যার পর জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোনাসহ তিন জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ দেয়া হয়। রাত ৮টার পর ময়মনসিংহ জেলার উপজেলাগুলোয় এবং রাত সাড়ে ১০টার পর ময়মনসিংহ শহরে রেশনিং করে বিদ্যুৎ দেয়া হয়।
নেত্রকোনায় ট্রলারডুবি, পাঁচ শিশুসহ ১০ জনের লাশ উদ্ধার
০৯সেপ্টেম্বর,বুধবার,নেত্রকোনা প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: নেত্রকোনার কলমাকন্দা উপজেলার গোমাই নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। এখন পর্যন্ত পাঁচ শিশুসহ ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন আরও ২৬ জন। বুধবার বেলা ১১টার দিকে ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের পরিচয় জানা যায়নি। কলমাকন্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সুনামগঞ্জের মধ্যনগর থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী ট্রলারটি নেত্রকোনার ঠাকুরাকোনর উদ্দেশে রওয়ানা দেয়। কলমাকন্দার রাজনগর এলাকায় পৌঁছালে বালুবাহী ট্রলারের সঙ্গে ধাক্কা লাগলে এ ঘটনা ঘটে। ডুবে যাওয়া ট্রলারটিতে ৩৫ জন যাত্রী ছিল বলে জানান তিনি। তিনি আরও জানান, স্থানীয়রা উদ্ধারের চেষ্টা করছে। উদ্ধার কাজে যাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস।
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন: নাগরিক সেবা নিশ্চিতে ৩৩টি ওয়ার্ড তিনটি অঞ্চলে বিভক্ত
০৮সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার,ময়মনসিংহ প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের (মসিক) আওতাধীন ৩৩টি ওয়ার্ডকে তিনটি অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে। প্রশাসনিক, দাপ্তরিক কাজের সুবিধার্থে ও প্রায় নয় লাখ নাগরিকের সেবা সুনিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে মসিক মেয়র ইকরামুল হক টিটু নিউজ একাত্তরকে বলেন, আমরা নগরবাসীর দোরগোড়ায় উন্নত সেবা পৌঁছে দিতে চাই। এর মাধ্যমে হাতের কাছেই সেবাগ্রহীতারা সেবা নিতে পারবেন। অঞ্চলগুলো হচ্ছে ১ নং অঞ্চলের সম্ভাব্য অফিস হতে পারে নগরীর সানকিপাড়ায়, এর ১০টি ওয়ার্ড হচ্ছে: ১, ২, ৪, ৬, ১১, ১২, ২৭, ২৮, ২৯ ও ৩০। ২ নং অঞ্চলের অফিস হতে পারে সুপার মার্কেটের পাশে (ব্রহ্মপুত্র কলেজ), এর ১২টি ওয়ার্ড হচ্ছে ৩, ৫, ৭, ৮, ৯, ১০, ১৬, ১৭, ১৮, ৩১, ৩২ ও ৩৩। ৩ নং অঞ্চলের অফিস হতে পারে দিগারকান্দায় বয়রা ইউনিয়ন অফিসে, এর ১১টি ওয়ার্ড হচ্ছে: ১৩, ১৪, ১৫, ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৩, ২৪, ২৫ ও ২৬। মকিস প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, নতুন তিনটি অঞ্চলে সিটি করপোরেশনের ৩৩টি ওয়ার্ডের সাধারণ প্রশাসনিক কাজ, প্রকৌশল (পুর), প্রকৌশল (বিদ্যুৎ), প্রকৌশল (পানি), স্বাস্থ্য বিভাগ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব, সমাজকল্যাণ, হিসাব বিভাগ ও পরিবহন বিভাগের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ (২০০৯ সালের ৬০ নং আইন) এর ৪৭ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের (মসিক) প্রশাসনিক, দাপ্তরিক কাজের সুবিধার্থে ও নাগরিক সেবা সুনিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ৩৩টি ওয়ার্ডকে তিনটি অঞ্চলে বিভক্ত করল। এ মর্মে ৬ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-২ শাখার উপসচিব নাজনীন ওয়ারেস স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, নতুন তিনটি অঞ্চল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
চুয়াডাঙ্গায় আন্তঃজেলা গাড়ি চোরচক্রের ছয় সদস্য গ্রেফতার
০৭সেপ্টেম্বর,সোমবার,চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: চুয়াডাঙ্গায় আন্তঃজেলা গাড়ি চোরচক্রের এক নারীসহ ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে তাদের স্বীকারোক্তিতে একটি মোটরসাইকেল ও নয়টি ব্যাটারি চালিত পাখি ভ্যান উদ্ধার করা হয়। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম এক সংবাদ সন্মেলনে এ তথ্য জানান। গ্রেফতারকৃতরা হলো- চুয়াডাঙ্গার ভান্ডারদহ গ্রামের মৃত খাদের আলীর ছেলে মহাম্মদ আলী (৩০), বহালগাছি গ্রামের শফিকুল ইসলামের স্ত্রী লিপি খাতুন (২৮) জীবননগর উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের মসলেম মিয়ার ছেলে রবিউল ইসলাম ডাবলু (২৯), ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর থানার লাটিমা গ্রামের সামসুল খাঁর ছেলে শফিকুল ইসলাম (২৬), আব্দালপুর গ্রামের বাহার আলির ছেলে আলী হোসেন (২৮) ও একই এলাকার আয়ুব আলীর ছেলে সোহাগ হোসেন (২২)। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম জানান, বেশ কিছুদিন ধরে গাড়ি চোরচক্রের সদস্যরা বিভিন্ন কৌশলে মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, পাখি ভ্যান চুরি করে আসছিল। চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ এ চক্রকে ধরতে অভিযানে নামে। এতে চোর চক্রের মূল হোতা মোহাম্মদ আলীকে আটক করতে সক্ষম হয়। তার স্বীকারোক্তিতে গতকাল রোববার রাতভর চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন এলাকা অভিযান চালিয়ে এক নারীসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে চুরি হওয়া নয়টি পাখিভ্যান ও চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পুলিশ। এই চক্রের অন্য সদস্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
সুন্দরবনের করমজলে কুমিরের প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস- ৪৪ ডিমে ফুটেছে ৪ ছানা
০৬সেপ্টেম্বর,রবিবার,মো.জিল্লুর রহমান,বাগেরহাট প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: সুন্দরবনের একমাত্র বন্যপ্রাণি প্রজননকেন্দ্র করমজলের কুমির পিলপিলের ৪৪টি ডিমে মাত্র ৪টি ছানা ফুটেছে। গতকাল শনিবার সকালে নতুন ইনকিউবেটরে রাখা ১১টি ডিম থেকে মাত্র চারটি বাচ্চা জন্ম নেয়। ৪৪টি ডিম থেকে মাত্র ৪টি কুমির ছানা ফোটায় হতাশা প্রকাশ করেছেন প্রাণিদের রক্ষণাবেক্ষণে নিয়োজিত বনকর্মীরা। তবে প্রাণি সম্বদ বিশেষজ্ঞরা বলছেন বয়স বৃদ্ধি হওয়ার কারণে করমজলের মা কুমির দুটির ফার্টিলিটি (বাচ্চা উৎপাদনের ক্ষমতা) অনেক কমে গেছে। এর আগে এবছরের ১২ জুন দুপুরে প্রজনন কেন্দ্রের পুকুর পাড়ে নিজের বাসায় ৪৪টি ডিম দেয় পিলপিল। ডিমগুলোর মধ্যে ২১টি ডিম পিলপিলের নিজে বাসায়, ১২টি পুরোতন ইনকিউবেটরে এবং ১১টি নতুন ইনকিউবেটরে রেখে বাচ্চা ফোটানোর চেষ্টা করেন বনকর্মীরা। এর মধ্যে নতুন ইনকিউবেটরে রাখা ১১টি ডিমের মধ্যে ৪টি ডিমে বাচ্চা ফুটেছে। এছাড়াও এবছরের ২৯ মে অন্য কুমির জুলিয়েট ৫২টি ডিম দিয়েছিল। সেগুলোর মধ্যে ১৪টি ডিম জুলিয়েটের জুলেয়েটের বাসায়, ২৬টি পুরোতন ইনকিউবেটরে এবং ১২টি নতুন ইনকিউবেটরে রাখা হয়েছিল। কিন্তু জুলেয়েটের ৫২টি ডিমে কোন বাচ্চা ফোটেনি বলে জানিয়েছেন সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির । আজাদ কবির বলেন করমজল দেশের একমাত্র সরকারি কুমির প্রজনন কেন্দ্র। এখান প্রজননের জন্য দুটি মা কুমির রয়েছে। আমরা খুব যত্নের সাথে এই কুমিরের প্রজননের চেষ্টা করি। কুমির ডিম পাড়ার পর থেকে বাচ্চা ফোটানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। কিন্তু জুলেয়েট এবং পিলপিল দুটি কুমিরেরই অনেক বয়স হয়েছে। যার ফলে তাদের ডিমে ফার্টিলিটি হার খুবই কম। তিনি আরও বলেন, এখানে বর্তমানে পুরোনো যে ইনকিউবেটর রয়েছে সেগুলো অনেক সেকেলে। নতুন যে ইনকিউবেটরটি তৈরি করা হয়েছে তার ধারণ ক্ষমতা মাত্র ২৪টি। এ ধরনের আরও দুএকটি ইনকিউবেটর তৈরি করা গেলে সফলতা আসলেও আসতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি। বাগেরহাট জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. লুৎফর রহমান বলেন, কুমির খুবই সেন্সিটিভ প্রাণি। এর ডিম থেকে বাচ্চা ফোটাতে অনেককিছু মানতে হয়। আর মা কুমির পূর্ণ বয়স্ক হওয়ার পর থেকে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে তাদের বাচ্চা উৎপাদন ক্ষমতা কমে যায়। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মাদ বেলায়েত হোসেন বলেন, কুমির গুলোর বয়স হওয়ার কারণে ফারটিলিটি কমে গেছে।আমরা চেষ্টা করছি মা কুমির দুটোকে পরিবর্তণ করে নতুন করে মা কুমির আনার। করমজলই বাংলাদেশের একমাত্র সরকারি কুমির প্রজনন কেন্দ্র। ২০০০ সালে করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের শুরু হলে এখানে কুমির প্রথ, ডিম দেয় ২০০৫ সালে। এখন পর্যন্ত করমজলে বিভিন্ন সময় ২৯২টি কুমিরের ছানা জন্ম নিয়েছে। যার মধ্যে ১৯৫টি ছানা এখনও প্রজনন কেন্দ্রে রয়েছে। ৯৭টি কুমিরের ছানা সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খালে অবমুক্ত করা হয়েছে।- বণিক বার্তা
ভাসানচর দেখতে গেলেন ৪০ রোহিঙ্গা নেতা
০৫সেপ্টেম্বর,শনিবার,মো.জুনায়েদুল হক,কক্সবাজার প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ থেকে রোহিঙ্গাদের একটি প্রতিনিধিদল শনিবার নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। সেখানে তৈরি করা আবাসন ব্যবস্থা বসবাসের উপযোগী কি না, তা দেখতে যাচ্ছেন তারা। উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি আশ্রয়শিবিরে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গা বাস করে। সেখান থেকে এক লাখ রোহিঙ্গাকে বঙ্গোপসাগর ও মেঘনার মোহনায় জেগে ওঠা ভাসানচরে পাঠানো হবে। এর অংশ হিসেবে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে একটি প্রতিনিধিদলকে সেখানে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টায় ২ নারীসহ ৪০ রোহিঙ্গা নেতা ভাসানচরের উদ্দেশে উখিয়ার কুতুপালং ট্রানজিট শরণার্থী শিবির থেকে রওনা দেয়। এর আগে শুক্রবার রাতে বিভিন্ন শিবিরের রোহিঙ্গা নেতারা সেখানে পৌঁছান। সেখান থেকে তারা মাইক্রোবাসে করে চট্টগ্রামে যান। সেখান থেকে নৌবাহিনীর জাহাজে করে বেলা আড়াইটার দিকে ভাসানচরের দিকে রওনা হওয়ার কথা। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, সরকারের আশা, রোহিঙ্গা নেতারা ঘুরে এসে বোঝালে শরণার্থীরা ভাসানচর যেতে রাজি হবেন। এ দলের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের সহায়তাকারী জাতিসংঘের কোনো সংস্থার প্রতিনিধি বা গণমাধ্যমকর্মী থাকছেন না। তবে আগে থেকে ভাসানচরে আরআরআরসি কার্যালয়ের তিন কর্মকর্তা অবস্থান করছেন। টেকনাফের নয়াপাড়া, লেদা, শালবাগান ও জাদিমোরা শিবিরের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোহিঙ্গা নেতারা তিন-চার দিন আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে শরণার্থী শিবিরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কার্যালয়ে পৌঁছান। সেখান থেকে তারা সেনা প্রহরায় মাইক্রোবাসে করে উখিয়া রওনা দেন। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা কুতুপালং ট্রানজিট শরণার্থী শিবিরে পৌঁছানোর পর শুক্রবার রাতে তাদের সঙ্গে মাহবুব আলম তালুকদার দেখা করেন। তিনি ভাসানচরের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। প্রতিনিধিদলের সদস্যদের করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হয়েছে। জাদিমোরা শিবিরের মাঝি মো. কালাম হোসেন বলেন, শুক্রবার রওনা দেওয়ার আগে তাদের সবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। শনিবার ভোরে ২ নারীসহ ৪০ জনের একটি দল ভাসানচরের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। সব ঠিক থাকলে হয়তো রাতের মধ্যে তারা সেখানে পৌঁছাবেন। শালবাগান রোহিঙ্গা শিবিরের মাঝি জাফর আলম বলেন, ভাসানচর যদি বসবাসের উপযুক্ত হয়, তবে অবশ্যই রোহিঙ্গারা সেখানে যাবেন। আমরা দেখে এলে সবাইকে বোঝাতে পারব। সেই উদ্দেশ্য নিয়ে তাঁদের দলটি সেখানে যাচ্ছে। শরণার্থী শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন-১৬) পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ হেমায়েতুল ইসলাম বলেন, পরিদর্শনের পর রোহিঙ্গা নেতারা ভাসানচরে যাওয়ার পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। গত জুলাইয়ের শেষ দিকে রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদলের তালিকাটি তৈরি করা হয়। সেনাবাহিনীর রামু-১০ পদাতিক ডিভিশনের মুখপাত্র মেজর ওমর ফারুক বলেন, ভাসানচর দেখতে রোহিঙ্গা নেতাদের আগস্টের শুরুতে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে তা সম্ভব হয়নি। শনিবার ভোরে তাদের সড়কপথে চট্রগ্রাম হয়ে জাহাজে করে ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তারা মঙ্গলবার সেখান থেকে ফিরবেন।

সারা দেশ পাতার আরো খবর