মঙ্গলবার, আগস্ট ২০, ২০১৯
শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষকদের আগৈলঝাড়ায় বিক্ষোভ মিছিল-মানববন্ধন
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে কলেজ, স্কুল ও মাদ্রাসা শিক্ষকদের বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন, স্মরকলিপি প্রদান করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে শিক্ষক কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের আয়োজনে উপজেলা সদরের বিক্ষোভ মিছিল শেষে উপজেলা চত্বরের নিবার্হী কর্মকর্তার অফিসের সামনে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। শিক্ষক কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক শিক্ষক সুনীল কুমার বাড়ৈর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক যতীন্দ্রনাথ মিস্ত্রী, অমিয় লাল চৌধুরী, মোজাম্মেল হক হাওলাদার, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান মিজান, নাসির ইকবাল, রনজিত কুমার মধু মোতালেব হোসেন, পদ্মাবতী হালদার প্রমুখ। সভা শেষে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
৫০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড
তীব্র শৈত্যপ্রবাহে গত ৫০ বছরের রেকর্ড ভেঙে দেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। দেশের উত্তরের শেষ প্রান্ত পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে ১৯৬৮ সালে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। এত দিন পর্যন্ত সেটাই ছিল দেশের সবচেয়ে কম তাপমাত্রার রেকর্ড। আজ সোমবার আবহাওয়া অধিদপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে। এ ছাড়া সৈয়দপুর জেলায় আজ দেশের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এরপরই রয়েছে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় সর্বনিম্ন ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী ঢাকায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে চলেছে। এখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আরও দু-এক দিন এই শৈত্যপ্রবাহ থাকবে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানান সকাল ছয়টার দিকে সৈয়দপুরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। ভোরের পর আরেক দফা তাপমাত্রা কমে যায়। সকাল নয়টার দিকে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। গত ৫০ বছরে এটা দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড। এর আগে ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপর ২০১৩ সালের ১০ জানুয়ারি সৈয়দপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। সৈয়দপুরের পর নীলফামারীর ডিমলায় আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। ঢাকায় ৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সারা দেশে আরও দু-এক দিন এমন পরিস্থিতি থাকবে। ১০ জানুয়ারির পর সারা দেশে তাপমাত্রা বাড়বে। গতকাল রোববার দেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল দিনাজপুরে ৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপরে রাজশাহীতে ঠান্ডা ছিল বেশি। সেখানকার তাপমাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল কক্সবাজারের টেকনাফে ২৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আনসার ও ভিডিপি দিবসে নগরীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা
চট্টগ্রাম জেলা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী গত ৫ জানুয়ারি ভিডিপি (গ্রাম প্রতিরক্ষা বহিনী) দিবস উদযাপন করেছে। দিবসটি উপলক্ষে এক বিশাল শোভাযাত্রাটি জেলা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী কার্যালয় আসকারদিঘীর পশ্চিম পাড় হতে শুরু হয়ে সাইফুদ্দিন খালেদ রোড, জামালখান মোড়, প্রেস ক্লাব চট্টগ্রাম, চেরাগী পাহাড় মোড়, লাভলেইন কাজির দেউড়ী মোড় হয়ে পুনরায় আসকারদিঘী পাড়ে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রাতে চট্টগ্রাম ১২ আনসার ব্যাটলিয়ন জেলা কমান্ড্যার আশীষ কুমার ভট্টাচার্য, অধিনায়ক মোঃ আশরাফ হোসেন সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও শোভাযাত্রাতে সার্কেল এডজুট্যান্ট, চট্টগ্রাম মহানগর আনসার উত্তর ও দক্ষিন জোনে কর্মরত থানা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা, উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত আনসার ভিডিপি কর্মকর্তাম কর্মচারী এবং চট্টগ্রাম জেলার তৃণমূল পর্যায়ের প্রায় পাঁচ শতাধিক আনরসার ও ভিডিপি সদস্য অংশগ্রহণ করেন। বিশাল র্যাজলিটি চট্টগ্রাম জেলা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মিলন মেলায় পরিনত হয়। আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে গঠিত বাদক দলের মনোজ্ঞ বাদ্য যন্ত্রের মাধ্যমে র্যারলিটি আরো আকর্ষনীয় ও উৎসবমুখর করে তোলেন।
গণতন্ত্রের মুক্তি দিবসে বাঁশখালীতে মহিলা যুবলীগের রেলী ও সমাবেশ
বাংলাদেশ আওয়ামী যুব মহিলালীগ বাঁশখালী উপজেলা শাখার উদ্যোগে ৫ জানুয়ারী গণতন্ত্রের মুক্তি দিবস উপলক্ষে র‍্যালী ও সমাবেশের আয়োজন করেন। শুক্রবার বিকেল তিনটায় বাঁশখালী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বাঁশখালী উপজেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি রোকসানা আক্তারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সদস্যা ও দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি শাহিদা আকতার জাহান, র্যা লী ও সমাবেশ বক্তব্য রাখেন সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও কারা পরিদর্শক ইয়ামুন নাহার, বাঁশখালী পৌরসভা মহিলা কাউন্সিলর রোজিয়া সুলতানা, মহিলা আওয়ামী লীগ ও যুব মহিলা লীগের বাঁশখালী উপজেলার নেত্রী কহিনুর আকতার, নার্গিস সুলতানা, হাফসা বেগম, জেবুন নেচা, শাহিন আকতার, ফাতেমা বেগম, নাহিদা সুলতানা, রেহেনা আকতার, রেহেনা বেগম, কানিজ ফাতেম, বেবি আকতার, রুবি আকতার, ডেজি আকতার, মিনু আকতার, রোকেয়া বেগম, বুল বুল রানী প্রমুখ। র‍্যালী ও সমাবেশে বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকার কয়েক শতাধিক মহিলা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সদস্য শাহিদা আকতার জাহান বলেন, বিএনপি-জামায়ত চক্র আন্দোলনের নামে হাজার হাজার নিরহ নারী পুরষকে হত্যা করেছে, এইদিন যদি আওয়ামী লীগ সরকার গঠন না করত তাহলে দেশকে তারা পাকিস্তানি পরিনত করত। পাকিস্তানের চিন্তা ধারায় বিএনপি এ দেশেকে পরিচারিত করতে চাই। পাকিস্তানি হানাদার বাহীনি এদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষকে নির্মমভাবে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা করেছে।
সাতকানিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বই উৎসব ২০১৮ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
সাতকানিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সরকার ঘোষিত ;বই উৎসব ২০১৮ইং; উপলক্ষে ১ জানুয়ারী সোমবার শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন বই বিতরণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় সকাল ১০টায় স্কুল মিলনায়তনে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবারেক হোসেন, প্রধান আলোচক ছিলেন কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামীলীগের সদস্য, এমপি নদভী পতী মিসেস রিজিয়া রেজা চৌধুরী। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সাতকানিয়া উপজেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি শফিউল ইসলাম শফির সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও বই বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজিম শরীফ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশিষ বরন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পরিমল কান্তি পাল। অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন, অভিবাবক সদস্য খোকন নন্দী, খালেদা বেগম, শিউলি দাশ, উত্তম কুমার দাশ, সাবেক শিক্ষক হারুনর রশিদ প্রমুখ।
পদুয়া ফরিয়াদিরকুলে দুঃস্থদের মাঝে কম্বল বিতরণ ও নারী সমাবেশে রিজিয়া রেজা চৌধুরী
বিশিষ্ট নারী নেত্রী, বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য, আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী মিসেস রিজিয়া রেজা চৌধুরী বলেন, দেশের বিভিন্ন স্তরে নারী সমাজের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি পেলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে নারীরা এখনও পিছিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ মহিলারা এখনও বৈষম্যের শিকার। তিনি বলেন, গ্রামীণ নারী সমাজের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তারই সহায়ক শক্তি হিসেবে দেশের শীর্ষ স্থানীয় এনজিও সংস্থা আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশন গ্রামীণ নারী সমাজের উন্নয়নে ও ক্ষমতায়নে নানামুখী প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তিনি ৪ জানুয়ারী ২০১৮ইং বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় লোহাগাড়া উপজেলা পদুয়া ইউনিয়নে ফরিয়াদিরকুল এলাকায় গরীব দুঃস্থদের মাঝে কম্বল বিতরণ ও মহিলা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুব রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন লোহাগাড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান পিপিএম বার। লোহাগাড়া উপজেলা বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগারের প্রধান উপদেষ্টা আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন পদুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন, পদুয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবছার আহমদ, লোহাগাড়া উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদিকা জেসমিন আক্তার, ডা. জয়নাল আবেদিন, সাতকানিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগের সভাপতি মোহাম্মদ রাজিব, মোহাম্মাদ আইয়ুব আলী, সুদর্শন বডুয়া, জয় সেন ইন্দ্রিয় ভিক্ষুক, লোহাগাড়া নারী উন্নয়ন পরিষদের সাধারন সম্পাদক কহিনুর আক্তার, সাতকানিয়া মহিলা উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি নার্গিস আক্তার মুন্নি, ইউপি সদস্যা সুলেকা বডুয়া, হামিদা আক্তার প্রমুখ। পদুয়া ফরিয়াদিরকুলে দুঃস্থদের মাঝে কম্বল বিতরণ ও নারী সমাবেশে রিজিয়া রেজা চৌধুরী আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশন গ্রামীণ নারী সমাজের উন্নয়নে ও ক্ষমতায়নে নানামুখী প্রকল্প হাতে নিয়েছে বিশিষ্ট নারী নেত্রী, বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য, আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী মিসেস রিজিয়া রেজা চৌধুরী বলেন, দেশের বিভিন্ন স্তরে নারী সমাজের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি পেলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে নারীরা এখনও পিছিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ মহিলারা এখনও বৈষম্যের শিকার। তিনি বলেন, গ্রামীণ নারী সমাজের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তারই সহায়ক শক্তি হিসেবে দেশের শীর্ষ স্থানীয় এনজিও সংস্থা আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশন গ্রামীণ নারী সমাজের উন্নয়নে ও ক্ষমতায়নে নানামুখী প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তিনি ৪ জানুয়ারী ২০১৮ইং বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় লোহাগাড়া উপজেলা পদুয়া ইউনিয়নে ফরিয়াদিরকুল এলাকায় গরীব দুঃস্থদের মাঝে কম্বল বিতরণ ও মহিলা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুব রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন লোহাগাড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান পিপিএম বার। লোহাগাড়া উপজেলা বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি পাঠাগারের প্রধান উপদেষ্টা আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন পদুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন, পদুয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবছার আহমদ, লোহাগাড়া উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদিকা জেসমিন আক্তার, ডা. জয়নাল আবেদিন, সাতকানিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগের সভাপতি মোহাম্মদ রাজিব, মোহাম্মাদ আইয়ুব আলী, সুদর্শন বডুয়া, জয় সেন ইন্দ্রিয় ভিক্ষুক, লোহাগাড়া নারী উন্নয়ন পরিষদের সাধারন সম্পাদক কহিনুর আক্তার, সাতকানিয়া মহিলা উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি নার্গিস আক্তার মুন্নি, ইউপি সদস্যা সুলেকা বডুয়া, হামিদা আক্তার প্রমুখ।
৫ জানুয়ারী বাংলাদেশে একটি ঐতিহাসিকগণতন্ত্র হত্যা ও কালো দিবস
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ৫ জানুয়ারী বাংলাদেশে একটি ঐতিহাসিক গণতন্ত্র হত্যা ও কালো দিবস। বিগত ৫ জানুয়রী একদলীয় ও ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে দেশে একটি ফ্যাসিষ্ট সরকারে পরিণত হয়েছে। শুধু তাই নয় ১৫৪ জন বিনা ভোটে সংসদ সদস্য নিয়ে সরকার গঠন করে এ দেশের ইতিহসাকে কলংকিত করেছে। যা বিদেশে আমাদের দেশের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে ক্ষুন্ন করেছে। তিনি আজ ৫ জানুয়ারী বিকালে নগরীর কাজীর দেউড়ীস্থ ভিআইপি টাওয়ার সম্মুখে গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির কলো পাতাকা মিছিল ও বিক্ষোভ সভাবেশে সভাপতির বক্তব্য রাখছিলেন। ডা. শাহাদাত বলেন, রাস্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্টিত হয়ে ফ্যাসিষ্ট কায়দায় গুম, খুন, নির্যাতন নিপীড়নের মাধ্যমে বিরোধী দলকে দমন করছে সরকার। গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, মানবাধিকার হরণ করে ক্ষমতায় ঠিকে থাকার নীল নকশা বাস্তবায়ন করেছে। তাই গণতন্ত্র পুন:রুদ্ধার ভোটাধিকার, বাক স্বাধীনতা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় চট্টগ্রামবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসতে হবে। ডা. শাহাদাত আরো বলেছেন, এ অবৈধ সরকার জনগণের আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। তাদেরকে এদেশের জনগণ আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তারা তথ্য সন্ত্রাস চালিয়ে বিএনপির চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। কিন্তু কোন মিথ্যাকে সত্য বানিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে দমিয়ে রাখা যাবে না। এ সরকারের দুর্নীতি দু:শাসন, অপশাসনের বিরুদ্ধে জনগণ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে পদত্যাগে বাধ্য করবে। প্রধান বক্তার বক্তব্যে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেছেন, দেশ ব্যাপি গুম, খুন, অপহরণ ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের নারকীয় কর্মযজ্ঞে তো মনে হয় সরকারের এক ধরনের খেলা হয়ে গেছে। মানুষের রক্তে হাত রঞ্জিত করে উল্লাস প্রকাশ করা যেন আওয়ামী সন্ত্রাসীদের এক ধরনের নেশা। এ সব ঘৃণ্য অপকর্মের উদ্দেশ্যই হল দেশের জনগণকে ভীতির মধ্যে রেখে বিএনপিকে নিশ্চিন্ন করা। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেছেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী বাংলাদেশে হয়েছিলো একটি তামাশার নির্বাচন। যে নির্বাচনে দেশের ৫% জনগণও ভোট দেয়নি। সেদিন আওয়ামী মহাজোটের শরীকদের মধ্যে ক্ষমতার ভাগাভাগি হয়েছিলো। তিনি বলেন, অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করে বিএনপিসহ সকল বিরোধী দলকে নিশ্চিন্ন করতে নীল নকশার রোড ম্যাপ বাস্তবায়নে অতি দ্রুততার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় আগামীতেও ৫ জানুয়ারী মার্কা ভোটারবিহীন নির্বাচন করতে আদালতের মাধ্যমে মিথ্যা সাজা দিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার পাঁয়তারা করছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ৫ জানুয়ারী মার্কা আর কোন নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য আলহাজ্ব শামসুল আলম, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান, সহ-সভাপতি আলহাজ্ব এম এ আজিজ, মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলী, সৈয়দ আজম উদ্দিন, সবুক্তগীন ছিদ্দিকী মক্কি, হারুন জামাল, কমিশনার মাহবুবু আলম, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী, এস এম আবুল ফয়েজ, এম এ হান্নান, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক এস এম সাইফুল আলম, কাজী বেলাল উদ্দিন, মো. শাহআলম, ইসকান্দর মির্জা, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আবদুল মান্নান, জাহাঙ্গির আলম দুলাল, কাউন্সিলর আবুল হাশেম, মঞ্জুর আলম মঞ্জু, আনোয়ার হোসেন লিপু, গাজী মোহাম্মদ সিরাজউল্লাহ, উপদেষ্টা জাহিদুল করিম কচি, হাজী বাবর মিয়া, হাজী নবাব খান, শেখ নুরুল্লাহ বাহার, সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জুর আলম মঞ্জু, কামরুল ইসলাম, হাজী মো. তৈয়ব, কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম মনি, জেলী চৌধুরী, সহ-সাধারণ সম্পাদক জহির আহমেদ, ইব্রাহিম চৌধুরী, মো. শাহআলম, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য শিহাব উদ্দিন মুবিন, মোহাম্মদ আলী মিঠু, এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, মাঈনুদ্দিন মোহাম্মদ শহীদ, এম আই চৌধুরী মামুন, হামিদ হোসাইন, দিদারুল আলম চৌধুরী, আলহাজ্ব কামাল উদ্দিন, আবদুল নবী প্রিন্স, আবদুল বাতেন, থানার সভাপতি মঞ্জুর রহমান চৌধুরী, হাজী বাবুল হক, মোশারফ হোসেন ডেপতী, আবদুল্লাহ আল হারুন, সহসম্পাদকবৃন্দ এ কে এম পেয়ারু, আবদুল হালিম স্বপন, মো. সেলিম, রফিকুল ইসলাম, মো. ইদ্রিস আলী, খোরশেদ আলম কুতুবী, আজাদ বাঙালী, আরিফ মেহেদী, ইউনুস চৌধুরী হাকিম, আবু মুছা, সফিক আহমেদ, আলমগীর নূর, নকীব উদ্দিন ভূঁইয়া, আবুল খায়ের মেম্বার, আবদুল হাই, আলী আজম, থানার সাধারণ সম্পাদক আফতাবুর রহমান শাহীন, আলহাজ্ব জাকির হোসেন, হাজী মো. বাদশা মিয়া, মনির আহমদ চৌধুরী, নূর হোসেন, আবদুল কাদের জসিম, জাহাঙ্গির আলম, বেলায়েত হোসেন ভুলু, ডা. মো. ছাদেক প্রমুখ।
বিএনপির ক্ষমতার উৎস বন্দুকের নল: চট্টগ্রাম সিটি মেয়র
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেছেন, গণতন্ত্র রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে সুদৃঢ় করতে আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। মনে রাখতে হবে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি এখনো তৎপর। এই অশুভ শক্তির কালো হাত ভেঙে দিতে হবে। আজ বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ শহীদ মিনার চত্বরে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষা দিবসে আনন্দ সম্মিলনী সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, কোন ভাবেই প্রতিপক্ষ অপশক্তিকে দুর্বল ভাবা যাবে না। কারণ তাদের পেট্রোডনার আছে। এরা আগুনে সন্ত্রাস চালিয়ে নিরীহ বাঙালিকে হত্যঅ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আমার বাবা দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজপথে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। এই যুদ্ধ অব্যাহত রাখাতে দলীয় শ্রদ্ধেয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়রের সাথে নিজেকে নিবেদিত করবো। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিন বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি সাধারণ নির্বাচন না হলে গণতন্ত্র ও সংবিধান মুছে যেত। তখন অগণতান্ত্রিক সরকার আসতো এবং জাতিকে অপশক্তি গ্রাস করতো। আমরা সেই বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছি। তিনি আরো বলেন, বিএনপি আজ গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালন করছে। জাতি জানে বিএনপি গণতন্ত্রের দুষমন। তারা বন্দুকের নলের মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ ছিনতাই করেছিল। এই জাতীয় শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রাম অব্যাহত রেখে সামনের জাতীয় নির্বাচনে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। সভাপতির ভাষণে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন- কঠিন চ্যালেঞ্জকে মোকাবেলার শক্তি আওয়ামী লীগ রাখে। গণতন্ত্র স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অতীতের মত রাজপথে থাকবো। তিনি দলীয় পদ-পদবী নিয়ে যারা নিষ্ক্রিয় হয়ে আছেন তাদের সক্রিয়ভাবে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান। সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, সহ-সভাপতি আলহাজ্ব নঈম উদ্দিন চৌধুরী, এডভোকেট সুনীল কুমার সরকার, এডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, আলহাজ্ব খোরশেদ আলম সুজন, জহিরুল আলম দোভাষ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম.এ. রশীদ, উপদেষ্টা ও কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগ নেতা আলহাজ্ব সফর আলী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক চন্দন ধর, নির্বাহী সদস্য এম.এ. জাফর, থানা আওয়ামী লীগের আলহাজ্ব শাহাবুদ্দিন আহমেদ, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ ইয়াকুব। সমাবেশে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, অর্থ সম্পাদক সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, উপদেষ্টা শেখ মোহাম্মদ ইসহাক, সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য নোমান আল মাহমুদ, চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম ফারুক, সৈয়দ হাসান মাহমুদ শমসের, মোহাম্মদ হোসেন, হাজী জহুর আহমদ, দেবাশীস গুহ বুলবুল, ইঞ্জিনিয়ার মানস রক্ষিত, আবদুল আহাদ, আবু তাহের, হাজী শহিদুল আলম, নির্বাহী সদস্য হাজী মোহাম্মদ ইয়াকুব, আবুল মনসুর, মোহাম্মদ নুরুল আলম, কামরুল হাসান বুলু, গাজী শফিউল আজিম, গৌরাঙ্গ চন্দ্র ঘোষ, ছৈয়দ আমিনুল হক, বখতেয়ার উদ্দিন খান, সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার, অমল মিত্র, আবদুল লতিফ টিপু, নেছার উদ্দিন মনজু, গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী, জাফর আলম চৌধুরী, মোহাম্মদ জাবেদ, মোহাম্মদ ইলিয়াস, মোরশেদ আকতার চৌধুরী, হাজী বেলাল আহমেদ, থানা আওয়ামী লীগের ছিদ্দিক আলম, হারুনুর রশীদ, আবু তাহের, আলহাজ্ব ফিরোজ আহমেদ, এম.এ. হালিম, মোমিনুল হক, অধ্যক্ষ আসলাম হোসেন, আনছারুল হক সহ ৪৪টি সাংগঠনিক ওয়ার্ড ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর সহ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বাদ্যবাদন সহযোগে একটি আনন্দ র্যাসলী পুরাতন রেল স্টেশন হয়ে দারুল ফজল মার্কেট চত্বরে এসে শেষ হয়।
তীব্র শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত ঘন কুয়াশায় যান চলাচল
জনজীবন বিপর্যস্ত ঘন কুয়াশায় যান চলাচল, ফেরি পারাপার ব্যাহত এ মাসে আরও শৈত্যপ্রবাহ শীতে কাঁপছে সারাদেশ। অব্যাহত শৈত্যপ্রবাহের কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। শীতের তীব্রতা বাড়ার পাশাপাশি ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে দেশের বেশিরভাগ অঞ্চল। এতে যান চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। হিমেল হওয়ায় হাড় কাঁপিয়ে দিয়ে যাচ্ছে। তবে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুক্রবার আগের দিনের চেয়ে তাপমাত্রা একটু বেড়েছে। কিন্তু শীতের তীব্রতা কমেনি এতটুকুও। এদিনে দেশের সর্ব নিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে ৭.২ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এদিকে ঘন কুয়শার কারণে ফেরি পারাপার এবং বিমান ওঠানামাও ব্যাহত হয়। আবহাওয়া অধিফতর জানিয়েছে, দুদিনের উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের কারণে মেঘ কেটে গেছে। ফলে শীতল বায়ু দেশের অভ্যন্তরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। তাই হঠাৎ করে শীত বেড়ে গেছে। এই অবস্থা আরও কয়েকদিন থাকতে পারে। তারা আরও জানায়, উপ-মহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমী লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, যার বর্ধিতাংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার আভাস দেয়া হয়েছে। তা দেশের কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, নেত্রকোনা, শ্রীমঙ্গল ও বরিশাল অঞ্চলসহ রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগসমূহের ওপর দিয়ে হাল্কা থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে মাঝারি মাত্রার শৈত্যপ্রবাহ বইলেও এই মাসে আরও একাধিক শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যা তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। আবহাওয়াবিদরা উল্লেখ করেন, শুক্রবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭.২ ডিগ্রী পর্যন্ত নেমে এসেছে। সাধারণত মাঝারি মানের শৈত্যপ্রবাহে তাপমাত্রা এই পর্যায়ে নেমে আসে। তবে ৬ ডিগ্রী সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে শৈত্যপ্রবাহ তীব্র আকার ধারণ করবে। এদিকে অব্যাহত শৈত্যপ্রবাহের কারণে উত্তরের পাশাপাশি সারাদেশে শীতের তীব্রতা অনেক বেড়েছে। স্থানীয় জনসাধারণ বলছেন শীত নয়, বরফ পড়ছে। গরম কাপড়েও শীত মানছে না। তীব্র শীতের কারণে ঘর থেকে বের হতে পারছে না বেশিরভাগ মানুষ। গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষগুলো বেশি বিপদে পড়েছে। শ্রম দিয়ে যাদের জীবন চলে তাও যেন স্থবির করে দিয়েছে শীত। রাস্তার মোড়ে মোড়ে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা দেখা গেছে অনেকের। কনকনে শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষসহ প্রাণিকুলও। দেশের অনেক এলাকায় সূর্যের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। কুয়াশায় ঢেকে আছে রাজপথ। যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। এবারের শীতের প্রকোপ এতই বেশি যে খোদ রাজধানীবাসীও হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। অফিস-আদালতের জরুরী তাড়া ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। সন্ধ্যা হলেও রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার রাজধানীতে সকাল থেকে রোদের দেখা মিললেও তাতে উত্তাপ যেন একটু কমই ছিল। সকাল এবং সন্ধ্যায় শীত যেন ঘিরে ধরছে। ফলে সন্ধ্যা হলেও ঘরে ফেরার তাড়া বাড়ছে মানুষের। শিশু এবং বৃদ্ধরা পড়েছে সব চেয়ে বেশি বিপদে। নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে তারা। এদিকে ঘন কুয়াশার কারণে যান চলাচল যেমন ব্যাহত হচ্ছে তেমনি বিমান ওঠানামাও বন্ধ রাখতে হয়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে শুক্রবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সাড়ে ৭ ঘণ্টা সব আন্তর্জাতিক বিমান ওঠানামা বন্ধ ছিল বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। তারা জানায়, ঘন কুয়াশার কারণে বৃহস্পতিবার রাত ২টা ৪৫ মিনিট থেকে শুক্রবার সকাল ১০টা ১১ মিনিট পর্যন্ত বিমান ওঠানামা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ সময় শারজাহ থেকে এয়ার এরাবিয়ার দুটি এবং বাংলাদেশ বিমানের একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট কলকাতায় পাঠানো হয়। এছাড়া দুবাই থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি এবং কুয়ালালামপুর থেকে আসা ইউএস বাংলার একটি ফ্লাইট চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে। তারা জানান অবস্থা একটু ভাল হলে সকাল ১০টা ১১ মিনিটে অভ্যন্তরীণ এবং ১০টা ৩৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়। বিমান চলাচল বাতিল করায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট কলকাতা ও রিজেন্ট এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট ব্যাঙ্কক যেতে দেরি হয়। ঘন কুয়াশার কারণে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ছাড়াও নভোএয়ারের চারটি, ইউএস বাংলার তিনটি, বাংলাদেশ বিমানের দুটি ও রিজেন্ট এয়ারওয়েজের একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বিলম্বে ছেড়েছে এদিকে ঘন কুয়াশার কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এবং কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া ফেরি চলাচল ব্যাহত হয়। ভোর ৬টা থেকেই ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া মাঝ পদ্মায় আটকে পড়ে ৫টি ফেরি। তীব্র শীতে ফেরিতে আটকে থাকা যাত্রীরা পড়ে চরম দুর্ভোগে। ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় ঘাট এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তীব্র শীতে যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন। তবে সারাদেশ শীতে কাঁপলেও আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবারের চেয়ে শুক্রবার দেশের অনেক স্থানে আগের চেয়ে তাপমাত্রা বেড়েছে। কিন্তু শীতের তীব্রতা আগের মতো রয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন ৫.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। সেখানে শুক্রবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে ৭. ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এছাড়া শুক্রবার ঢাকায় তাপমাত্রা বেড়েছে। আগের দিন ঢাকায় তাপমাত্রা ১০.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবার ঢাকায় তাপমাত্রা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসে। এদিকে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে তাপমাত্রা এক লাফে ৮ থেকে ১০ ডিগ্রী পর্যন্ত কমে গেছে। এ কারণে হঠাৎ করেই শীতের তীব্রতা বেড়ে গেছে। এর আগে শীত আছে তো শীত নেই অবস্থা বিরাজ করছিল। আবহাওয়াবিদ রুহুল কুদ্দুস বলেন, সাধারণত কয়েকটি কারণে ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে তাপমাত্রা কমে যায়। গত দুই দিনে উপমহাদেশীয় উচ্চ চাপবলয়ের কারণে মেঘ কেটে গেছে। ফলে শীতল বায়ু দেশের বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। তাই হঠাৎ শীত বেড়ে গেছে। আগামী দু-এক দিন এ শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যশোরের জনজীবন। গত দুদিন ধরে কনকনে শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষসহ প্রাণিকুল। সূর্যের দেখা মিললেও ঠান্ড বাতাসে হাড় কাঁপিয়ে দিচ্ছে। শুক্রবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যশোরে। এদিন এ জেলায় ৭ দশমিক ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। যশোরসহ খুলনাঞ্চলে দুদিন আগে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়। কমতে শুরু করে তাপমাত্রা। যশোর আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, শুক্রবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছিল যশোরে। এদিন যশোরে সর্বনিম্ন ৭ দশমিক ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এ তাপমাত্রার সঙ্গে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় এবং বাতাসের কারণে শীত অনুভূতও হচ্ছে খুব বেশি। আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্যমতে, খুলনা বিভাগজুড়ে এখন হাল্কা থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে চলেছে। শুক্রবার ভোরও ছিল কুয়াশায় ঘেরা। সকালে কুয়াশা ভেদ করে ওঠে সূর্য। ক্ষীণ আলো কুয়াশাকে ভেদ করে মাটি ছুঁয়ে নিলেও গায়ে উষ্ণতা জাগাতে পারেনি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা সরে যায়। রোদের দেখা দেয়। কিন্তু তাতে ছিল না তেজ। ফলে মানুষজনের স্বাভাবিক কর্মকান্ড ব্যাহত হয়। মোটা জ্যাকেট, মাফলারে ঢেকে মানুষজনকে জবুথবু হয়ে পথ চলতে দেখা যায়। হাড় কাঁপানো শীতে ঘর থেকে বের হননি অনেকে। খুব সকালে ক্ষেতে প্রতিদিনের মতো চাষীদের দেখা মেলেনি। বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে দিন আনা দিন খাওয়া মানুষগুলোকে। প্রতিদিন শহরের লালদীঘির পাড়ে শ্রমিক জনগোষ্ঠীর বহর বসলেও, কাল তা ছিল কম। বিকেলের দিকেও শীতের প্রকোপ দেখা দেয়। রোদ পড়ে যাওয়ায় সৃষ্টি হয় অসহ্য শীতের কাঁপুনি। রাস্তায় রিক্সা, অটোরিক্সা কম থাকায় অফিস থেকে ঘরে ফেরা মানুষগুলোর অনেককেই ধীর পায়ে হেঁটে ঘরে ফিরতে দেখা যায়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও বাড়ে শীতের তীব্রতা। শহরের রেলস্টেশন, বাসটার্মিনাল, অফিস-আদালতের বারান্দায় রাত কাটানো মানুষগুলো জবুথবু পড়ে থাকতে দেখা যায়। শীতের জাঁতাকলে এসব মানুষ এখন তাকিয়ে আছেন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও প্রশাসনের দিকে। প্রতিবারের মতো হয়ত সংগঠনগুলোর সহযোগিতায় তাদের গায়ে চড়বে গরম কাপড়, কম্বল। মৃদু শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন কাহিল হয়ে পড়েছে। কনকনে ঠান্ড বাতাসের দাপটে জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী, খেটে খাওয়া মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। অনেকেই প্রচ- শীতের কারণে ঘরের বাইরে কাজে যেতে পারছে না। বাড়ির বাইরে রাস্তায় বা খলিয়ানে মানুষ খড়কুটোতে আগুন জ্বালিয়ে শরীর তাপাতে চোখে পড়ে। এই কনকনে ঠান্ড বাতাসের সঙ্গে ঘন কুয়াশাও চারদিকে আচ্ছন্ন করে আছে। গত ৩/৪ দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে বিকেলে। টানা শৈত্যপ্রবাহ আর কনকনে শীতে আর ঘন কুয়াশায় ঢাকা সড়কে যানবাহন চলাচল করতে দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে হচ্ছে। শিশু-বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। শৈত্যপ্রবাহে তৃতীয় দিনের মতো জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শুক্রবার শীতের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করছে। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে। ফলে যানবাহন চলাচলে মারত্মক ব্যাঘাত হচ্ছে। শিশু ও বৃদ্ধরা নিউমোনিয়া, জর ও কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছে। হাসপাতাল ও ক্লিনিকে শিশু রোগীদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ১০ বেডের মাগুরা সদর আধুনিক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শতাধিক শিশুরোগী ভর্তি রয়েছে। বোরো বীজতলা ও বোরো চাষে ব্যাঘাত ঘটছে। শীতের কারণে কৃষক ও শ্রমিকরা সকালে জমিতে প্যাক দিতে পানিতে নামতে পারছেন না।