সোমবার, মে ১০, ২০২১
৬ হাজারের মাইলফলক অতিক্রম করলো চট্টগ্রামের করোনা রোগী
২০জুন,শনিবার,শারমিন আকতার,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রামে মহামারী করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছয় হাজারের মাইলফলক অতিক্রম করলো। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্ত ১৮৭ জন নিয়ে এই সংখ্যা এখন ৬০৯৮। এর মধ্যে নগরের ৪১৪৭ জন এবং চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার ১৯৫১ জন। একই সময়ে চট্টগ্রামে করোনায় মৃত্যু হয়েছে আরও ৩ জনের, যাদের ২ জন নগরের এবং একজন উপজেলার। ফলে মৃত্যুর সংখ্যা এসে দাঁড়ালো ১৩৯ জনে। ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে মুক্তি পেয়েছেন আরও ২০ জন। আর তাতে করে চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৫৯০ জন। শনিবার (২০ জুন) সকালে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, চট্টগ্রামের চারটি ল্যাব এবং কক্সবাজারের একটি ল্যাবে সর্বমোট ৭৭৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় আরও ১৮৭ জনের দেহে করোনাভাইরাস পজিটিভ পাওয়া গেছে। নতুন শনাক্তদের মধ্যে নগরের ৯২ জন এবং বিভিন্ন উপজেলার ৯৫ জন। আক্রান্তের দিক দিয়ে এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো নগরকে ছাড়িয়ে গেল উপজেলা। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় শনাক্ত হওয়াদের মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সবচেয়ে বেশি। সেখানে ২১৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৫৪ জনের করোনা পজিটিভ মিলেছে। যাদের মধ্যে ৪৯ জনই নগরের ও বাকি ৫ জন বিভিন্ন উপজেলার। একইদিনে, ফৌজদারহাটের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি)-তে ২৬৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। সেখানে করোনা পজিটিভ রোগী পাওয়া যায় ৪২ জনের দেহে। যাদের মধ্যে ২০ জন নগরের ও ২২ জন বিভিন্ন উপজেলার। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ইউনিভার্সিটির (সিভাসু) ল্যাবে ১৫৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে করোনাভাইরাসের জীবাণু পাওয়া গেছে ৩৯ জনের শরীরে। এদের মধ্যে ৪ জন নগরের ও ৩৫ জন বিভিন্ন উপজেলার। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে ১২৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৪৯ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। যাদের মধ্যে নগরের ১৯ জন ও বিভিন্ন উপজেলার ৩০ জন। এছাড়া, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে ৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে ৩ জনের। যাদের সবাই সাতকানিয়ার। অন্যদিকে, এদিন চট্টগ্রামের বেসরকারি করোনা পরীক্ষাকেন্দ্র ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের লাবের করোনা পরীক্ষার ফলাফলের কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। উপজেলা পর্যায়ে নতুন করোনা শনাক্ত ৯৫ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাঁশখালী উপজেলায়। সেখানে ২৯ জনের দেহে করোনাভাইরাস পাওয়া যায়। এছাড়া পটিয়ায় ১৫ জনের দেহে করোনার জীবাণু পাওয়া য়ায়। অন্যান্য উপজেলাগুলোর মধ্যে হাটহাজারী উপজেলায় ১২ জন, রাউজানে ১১ জন, ফটিকছড়িতে ১০ জন, চন্দনাইশের ৬ জন, আনোয়ারার ৫ জন, সাতকানিয়ায় ৪ জন এবং বোয়ালখালী, রাঙ্গুনিয়া ও সীতাকুণ্ডে ১ জন করে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
সমুদ্রপথে ইয়াবা পাচার, Rab-7এর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ১
২০জুন,শনিবার,রাজিব দাশ,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: সমুদ্রপথে ইয়াবা এনে চট্টগ্রাম শহরে প্রবেশ করার সময় Rapid Action Battalion (Rab) এর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) ভোরে নগরের ইপিজেড থানাধীন বেড়িবাঁধ এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। নিহতের পরিচয় জানাতে পারেনি Rab। তবে তার বয়স আনুমানিক ২২ বছর বলে জানা গেছে। ঘটনাস্থল থেকে ১ লাখ পিস ইয়াবা, একটি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন, একটি এলজি ও ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিউজ একাত্তরকে জানান Rab-7 এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. মাহমুদুল হাসান মামুন। Rab-7 এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মশিউর রহমান জুয়েল নিউজ একাত্তরকে বলেন, আমাদের কাছে তথ্য ছিল সমুদ্রপথে চট্টগ্রাম শহরে ইয়াবা প্রবেশ করবে। তার প্রেক্ষিতে ইপিজেড বেড়িবাঁধ এলাকায় চেকপোস্ট বসানো হয়। ইয়াবা ব্যবসায়ীরা আসার পথে চেকপোস্টের সামনে পড়লে Rab সদস্যদের লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি ছোঁড়ে। Rab ও পাল্টা গুলি করে। পরে ঘটনাস্থল থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত মাদক ব্যবসায়ীর পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি। লে. কর্নেল মো. মশিউর রহমান জুয়েল বলেন, সড়কপথে সেনাবাহিনী, Rab, পুলিশের টহল বেড়ে যাওয়ায় ইয়াবা ব্যবসায়ীরা সমুদ্রপথ বেছে নিয়েছে। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে এ পথ দিয়ে ইয়াবা নিয়ে আসছিল।
নিজে ভিজে রোগীর মাথায় ছাতা, মুখে মাস্ক দিলেন সাংবাদিক
১৯জুন,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: ট্রলির ওপর বৃষ্টিতে ভিজছেন বৃদ্ধা রোগী। মুখে নেই মাস্কও। চোখে পড়া মাত্রই দৌড়ে গেলেন আলোকচিত্র সাংবাদিক এসএম তামান্না। নিজে ভিজে ছাতা ধরলেন রোগীর মাথায়, ক্যামেরার ব্যাগ থেকে নতুন মাস্ক বের করে পরম মমতায় পরিয়ে দিলেন রোগীর মুখে। জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে থেকে তোলা সাংবাদিকের মানবিকতার এ ছবিটি ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিনের মতো করোনাকালে পেশাগত দায়িত্ব পালনে চমেকের সামনে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে অবস্থান করছিলেন আমাদের সময়ের স্টাফ ফটোগ্রাফার তামান্না। তিনি যখন মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন তখন সেটা নিজের ক্যামেরায় ধারণ করেন দ্যা ডেইলি স্টারের স্টাফ ফটো জার্নালিস্ট মো. রাজীব রায়হান। রাজীব বলেন, প্রায় প্রতিদিনই আমরা চমেক হাসপাতালের সামনে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের দুর্ভোগ-দুর্দশার ছবি তুলতে যাই। যখনই দেখলাম সহকর্মী তামান্না বৃষ্টিভেজা এক মুমূর্ষু রোগীর মুখে মাস্ক পরিয়ে দিচ্ছেন অমনি ক্লিক করি। আমরা পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দুর্দশাগ্রস্ত রোগীদের সাধ্যমতো সহায়তা ও পরামর্শ দিয়ে থাকি। কয়েকদিন আগে যখন চট্টগ্রামে অক্সিজেন সংকট প্রকট হলো, সিলিন্ডারের অস্বাভাবিক মূল্য বাড়িয়ে দেওয়া হলো তখন অনেক রোগীকে আমরা বিনামূল্যে যেসব স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অক্সিজেন সরবরাহ করে, অ্যাম্বুল্যান্স সার্ভিস দেয় তাদের নাম্বার দিয়ে ফোন করে সহায়তা করেছি। অনুভূতি জানতে চাইলে এসএম তামান্না বলেন, প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছিলো। একজন বৃদ্ধা রোগীকে ট্রলিতে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মাথার ওপর ছাতা নেই, মুখে নেই মাস্ক পর্যন্ত। মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে পাশে দাঁড়ালাম। আমরা সবাই যদি করোনাকালে অসহায়দের পাশে দাঁড়াই তাহলে তাদের দুঃখ-কষ্ট অনেক লাঘব হবে। আমরা যারা প্রতিদিন পেশাগত কাজে যাই সবাই চেষ্টা করি মানুষের পাশে থাকার। চট্টগ্রাম ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দিদারুল আলম বলেন, করোনার এ দুঃসময়ে আলোকচিত্র সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানবিকবোধ থেকে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। এটা আমাদের জন্য গর্বের।- বাংলানিউজ
চসিকের আইসোলেশন সেন্টারে রোগী ভর্তি রোববার শুরু
১৮জুন,বৃহস্পতিবার,রাজিব দাশ,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: নগরের আগ্রাবাদে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনায় গড়ে তোলা ২৫০ শয্যার সিটি হল কোভিড আইসোলেশন সেন্টারে রোববার (২১ জুন) রোগী ভর্তি শুরু হবে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) আইসোলেশন সেন্টারে স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীদের সঙ্গে পরামর্শমূলক সভায় মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন এ ঘোষণা দেন। মেয়র বলেন, চিকিৎসক ও নার্সসহ প্রশিক্ষিত জনবল এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরুর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। যারা প্রশিক্ষণ নিয়ে এখানে সেবা দিতে উদ্যোগী হয়েছেন তাদের সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, চসিকের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রশিক্ষিত করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় নিয়োজিত সম্মুখ যোদ্ধাদের স্বাস্থ্যসুরক্ষায় নিশ্চিদ্র নিরাপত্তাসহ বর্ধিত বেতন ও ঝুঁকিভাতা প্রদান এবং সরকারি প্রণোদনা প্রাপ্তির সব ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। এ সময় চসিক কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক, সিটি মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আলী, মেমন মাতৃসদন হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. প্রীতি বড়ুয়া, আইসোলেশন সেন্টারের পরিচালক ডা. সুশান্ত বড়ুয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। মেয়র আইসোলেশন সেন্টারটি শুরু হওয়ার আগে এখানে যাদের নিয়োজিত করা হবে তাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ১০ জন চিকিৎসক ও স্টোর কিপারের অনুপস্থিতিতে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, করোনা আক্রান্তদের সেবা প্রদানে তাদের অনীহা, শপথ ভঙ্গ ও পেশার প্রতি অবমাননা এবং রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যহীনতার শামিল। দেশপ্রেম বর্জিত এ অনৈতিক আচরণের জন্য তাদের তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাদের বাদ দিয়ে নব উদ্যোগ ও সামর্থ্য নিয়ে চসিক সিটি হল কোভিড আইসোলেশন সেন্টারটি চালু হওয়ার পর নগরে করোনা প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় কার্যকর ও ইতিবাচক সুফল বয়ে আনবে। তিনি আশা করেন করোনা শনাক্তরা যাতে এ আইসোলেশন সেন্টার থেকে উপযুক্ত ও যথাযথ সেবা পান, সে ব্যাপারে দায়িত্বরত কর্মকর্তা, চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হয়ে সারাদেশে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন। মেরিন সিটি হাসপাতালে বিনামূল্যে করোনা চিকিৎসা: মেয়র বলেন, চট্টগ্রামের কৃতী সন্তান, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের সঙ্গে মেরিন সিটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল কথা হয়েছে আমার। উনি আমাকে সম্মতি দিয়েছেন। এখন থেকে কাজ শুরু হয়েছে। বিনামূল্যে এ নগরের দরিদ্র জনগোষ্ঠীসহ সবাই চিকিৎসাসেবা পাবেন এ হাসপাতালে। উনার অর্থায়নে সেখানে আইসিইউ, এইচডিইউ, আইসোলেশন শয্যা, সেন্ট্রাল অক্সিজেন, হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা থাকবে। এস আলম গ্রুপ কোভিড ইউনিটের সঙ্গে সম্পৃক্ত চিকিৎসক, নার্স সবার ব্যয় নির্বাহ করবে। যত মাস কোভিড চিকিৎসা প্রয়োজন হয় আমরা তত মাসের জন্য সম্মতি দিয়েছি। লকডাউন প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, স্বাস্থ্য অধিদফতর চট্টগ্রাম মহানগরের যেখানে আক্রান্তের হার বেশি সেসব এলাকা লকডাউনের জন্য রেড জোন চিহ্নিত করছে। আমরা যত দ্রুত সম্ভব সেসব এলাকা লকডাউনের আওতায় নিয়ে আসবো। জীবন রক্ষার্থে জনস্বার্থে লকডাউন করা হচ্ছে। যেখানে প্রয়োজন নেই সেখানে লকডাউন করবো না। যাতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারি।
চট্টগ্রামে প্রথম লকডাউন ১০ নং ওয়ার্ড,পুরো এলাকা অবরুদ্ধ হলেও চালু রয়েছে গার্মেন্টস
১৭জুন,বুধবার,রাজিব দাশ,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: ১৪ প্রবেশপথ বন্ধ রেখে চলছে উত্তর কাট্টলীতে লকডাউন। পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা একধরনের অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। তবে এলাকার দোকানপাট বন্ধ থাকলেও চালু রয়েছে গার্মেন্টস এবং বিসিক শিল্প এলাকার কারখানাগুলো। রাস্তা ও গলিগুলোতে মানুষের বিচরণ ছিল কম। এলাকার সবচেয়ে ব্যস্ততম এলাকা কর্নেলহাট মোড় ছিল ব্লক। এছাড়া কর্নেলহাট বাজারও বন্ধ রয়েছে। আজ বুধবার সকাল ১০টায় সরেজমিনে লকডাউন পরিস্থিতি দেখতে গিয়ে দেখা যায়, কৈবল্যধাম মোড়ে বাঁশ দিয়ে বস্নক করে দেয়া হয়েছে। এতে ডিটি রোড থেকে কোনো গাড়ি এবং মানুষ ভেতরে যেমন প্রবেশ করতে পারবে না, তেমনিভাবে ভেতর থেকেও কেউ বের হতে পারবে না। আর এই স্থানে নিরাপত্তায় রয়েছে তিনজন আনসার ও একজন পুলিশ। নিউ মনসুরাবাদ এলাকার ভেতরের সব দোকানপাট বন্ধ থাকলেও কয়েকটি ফার্মেসির দোকান খোলা ছিল। পরিবর্তিত ঘোষণা অনুযায়ী ফার্মেসি খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ডিটি রোডে প্রশান্তি আবাসিক এলাকার গেট খোলা থাকলেও সেখানে পুলিশের প্রহরা রয়েছে। কাট্টলী নুরুল হক চৌধুরী বিদ্যালয়ের পাশে প্রধান সড়কের সব দোকানপাট বন্ধ দেখা যায়। কর্নেল হাট সিটি কর্পোরেশন মার্কেট হলো এই এলাকার মানুষের বাজারের প্রধান কেন্দ্র। কিন্ত এখানে আকবর শাহ থানার তিনজন পুলিশ বসে রয়েছে পাহাড়ায়। বাজারের সব দোকান বন্ধ রয়েছে। বিভিন্নস্থানে বসানে হয়েছে পুলিশ পাহারা কর্নেল হাট বাজারের অপর পাশে কর্নেল জোন্স সড়কের দিকে প্রবেশের প্রধান সড়কটি বাঁশ দিয়ে লকডাউন করে রাখা হয়েছে। সেখানে পুলিশের টিমও রয়েছে। আর এতে কর্নেল হাট এলাকা থেকে কেউ বের বা প্রবেশ করতে পারবে না। এদিকে এলাকার মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী কেনার সুবিধার্ধে নির্দিষ্ট ভ্যানে সবজি ও মাছ বিক্রি করার কথা। এছাড়া মানুষের প্রয়োজনে ৫টি হটলাইন নম্বর (০৩১-৪৩১৫১৩৬৮, ০৩১-৪৩১৫১৩৬৯, ০৩১-৪৩১৫১৩৭০, ০৩১-৪৩১৫১৩৭১, ০৩১-৪৩১৫১৩৭২, মোবাইল ০১৮১৯-০৫৬৮৪৪, ০১৮১১-৮৮৭০৮৪) দেয়া হয়েছে। এসব নম্বরে কল করা হলে মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পৌছে দেয়া হবে। এছাড়া স্থানীয়দের চিকিৎসা সেবা দিতে রাখা হয়েছে অ্যাম্বুলেন্স। করোনা রোগীরা যাতে নমুনা দিতে পারে সেজন্য এলাকায় বুথও চালু করা হয়েছে। অপরদিকে প্রশাসনের পক্স থেকে তিনজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি টিম থাকবে। অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের হলে তাদের জরিমানা করবে এই টিম। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ১২টি ওয়ার্ড লাল তালিকাভুক্ত রয়েছে। এই ওয়ার্ডগুলোর মধ্যে প্রাথমিকভাবে ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডকে মঙ্গলবার রাত ১২টার পর থেকে ২১ দিনের জন্য লকডাউন শুরম্ন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের তত্বাবধানে চলছে এই লকডাউন কার্যক্রম।
মুসল্লিদের মাক্স ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিলেন ছাত্রলীগ নেতা তুহিন বাবু
১৭জুন,বুধবার,শারমিন আকতার,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: খেঁটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ ও মসজিদের মুসল্লিদের মাঝে বিনামূল্যে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাক্স এবং করোনা সচেতন লিফলেইট বিতরণ করেছেন মহানগর ছাত্রলীগ নেতা এম.ও.আর তুহিন বাবু। ১১ জুন শুক্রবার নগরির ইপিজেড এলাকা ও মাদ্রজী শাহ্ জামে মসজিদে করোনার নিরাপত্তা সামগ্রী বিতর করা হয়। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্হিত ছিলেন ইপিজেড থানা ছাত্রলীগ নেতা রিমন গাজী, রুবেল হোসেন। চসিকের ২১ নং জামাল খান ওয়ার্ডের আলোকিত কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন ও চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগ নেতা মো সাহেদ হোসেন টিটু নির্দেশে এগুলো বিতরন করা হয়। নিরাপত্তা সামগ্রী বিতরণকালে মানুষের উদ্যেশে মহানগর ছাত্রলীগ নেতা এম.ও.আর তুহিন বাবু বলেন করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আতংক নয়, সচেতনতা ও সাবধানতাই জরুরী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে আমাদের জনগণকেই। আমরা সকলেই সরকার ও স্বাস্থ্য সংস্থার নিদের্শনাগুলো মেনে নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করি। নিজের সামথ্য অনুযায়ী মানুষের পাশে থাকার চেষ্টার কথা উল্লেখ করে তিনি করোনাকালে সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আশার জন্য অনুরোধ করেন।
কড়া নজরদারিতে রেড জোন কাট্টলীতে লকডাউন শুরু
১৭জুন,বুধবার,রাজিব দাশ,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: নগরের প্রথম রেড জোন হিসেবে কড়া নজরদারির মধ্য দিয়ে লকডাউন শুরু হয়েছে ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডে। রাত ১২টা ১ মিনিটে ওয়ার্ড কার্যালয়ে চসিকের কনট্রোল রুমে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু, সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবিদা আজাদ, মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, সেনাবাহিনী, নগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে লকডাউন শুরু হয়। মেয়র নিউজ একাত্তরকে বলেন, চট্টগ্রামের রেড জোনগুলোর মধ্যে প্রথম উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডে লকডাউন কার্যকর হলো। বিসিক শিল্প এলাকা বাদে পুরো ওয়ার্ডে বাইরের কেউ ঢুকতে পারবে না। অত্যাবশ্যকীয় যৌক্তিক কারণ ছাড়া কেউ বের হতে পারবে না। যদি পুলিশ সদস্য, ডাক্তার, নার্স, সাংবাদিক যারা লকডাউনে ছুটির বাইরে তাদের বাসা এ ওয়ার্ডে থাকে তবে পরিচয়পত্রসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে বের হতে পারবেন। এখানে শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। জেলা প্রশাসনের তিনজন ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবাহিনী, পুলিশের টিম কঠোর নজরদারি করবেন। তিনি জানান, শুধু ওষুধের দোকান নির্দিষ্ট সময়ের জন্য খোলা থাকবে। নির্দিষ্ট রিকশাভ্যানে করে সবজি, মাছ ইত্যাদি বিক্রি করা হবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে। হতদরিদ্রদের খাদ্য সহায়তা দেবো আমরা। ৫টি হটলাইন নম্বর (০৩১-৪৩১৫১৩৬৮, ০৩১-৪৩১৫১৩৬৯, ০৩১-৪৩১৫১৩৭০, ০৩১-৪৩১৫১৩৭১, ০৩১-৪৩১৫১৩৭২, মোবাইল ০১৮১৯-০৫৬৮৪৪, ০১৮১১-৮৮৭০৮৪) দিয়েছি, যাতে কল করে জানালে যৌক্তিক সময়ের মধ্যে জরুরি পণ্য পৌঁছানোর ব্যবস্থা করবেন স্বেচ্ছাসেবকরা। কোভিড, নন কোভিড রোগীদের হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সার্বক্ষণিক অ্যাম্বুল্যান্স রাখছি। নমুনা পরীক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন জানিয়ে মেয়র বলেন, আমরা স্বাস্থ্য বিভাগকে অনুরোধ করেছি লকডাউনের ওয়ার্ডটিতে নমুনা সংগ্রহ বুথে বেশি মানুষের নমুনা সংগ্রহ করতে এবং দিনে দিনে যাতে রেজাল্ট দিয়ে দেওয়া হয়। তাহলে দ্রুত আইসোলেশনে পাঠানো যাবে পজেটিভ রোগীদের। আমাদের মূল লক্ষ্য করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ। যাতে এ মহামারীর বিস্তার না ঘটে। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. বদিউল আলম নিউজ একাত্তরকে জানান, উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডে কঠোর লকডাউন বাস্তবায়ন করতে সিটি করপোরেশনকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, লকডাউন চলাকালীন কেউ সরকারি নির্দেশনা না মেনে বাইরে ঘোরাঘুরি করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ জন্য বুধবার সকাল থেকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে জেলা প্রশাসনের ৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উত্তর কাট্টলী এলাকায় মাঠে কাজ করবেন।
চসিকের ৫ম করোনার নমুনা সংগ্রহ বুথ উদ্বোধন
১৬জুন,মঙ্গলবার,শারমিন আকতার,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস ঢাকা, নারায়নগঞ্জের পর চট্টগ্রামে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় নগরের বিভিন্ন স্পটে ১২টি টেস্টিং বুথ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তন্মোধ্যে এখন পর্যন্ত ৫টি বুথ স্থাপন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, ‘করোনার এ সংকটে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আক্রান্ত ব্যক্তিকে সনাক্ত করা। নানা সীমাবদ্ধতার কারণে নমুনা সংগ্রহ নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে সবখানেই। এ সময় সংকট কাটাতে নমুনা সংগ্রহের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। আজ (১৬ জুন) সকালে নগরীর কুলগাঁও সিটি কর্পোরেশন কলেজে করোনা নমুনা সংগ্রহ বুথ উদ্বোধনকালে মেয়র এসব কথা বলেন। আজ কুলগাঁও সিটি কর্পোরেশন কলেজে যে বুথ স্থাপন করা হয়েছে, সে বুথে নমুনা দিতে হলে মোবাইল নম্বর এবং জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে নিয়ে আসতে হবে। বুথে আসার পর প্রশিক্ষিত কর্মীরা করোনা আক্রান্ত সন্দেহভাজন ব্যক্তির কাছে কয়েকটি তথ্য জানতে চাইবেন। তিনি ডায়াবেটিস কিংবা কিডনিজনিত রোগে ভুগছেন কি না। এমন কোনো ব্যক্তির সংস্পর্শে গেছেন কি না, যিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। সব তথ্য ডেটা ফর্মে লিপিবদ্ধ করার পর প্রশিক্ষিত কর্মীরা করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করবেন। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত সিটি করপোরেশন স্থাপিত বুথে কাজ করা কোনো কর্মী করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হননি। উদ্বোধনকালে কাউন্সিলর সাহেদ ইকবাল বাবু, ব্র্যাকের আঞ্চলিক পরিচালক হানিফ উদ্দীন, মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য বেলাল আহমদ, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ এয়াকুব, কুলগাঁও সিটি কর্পোরেশন কলেজের অধ্যক্ষ আমিনুল হক, স্কুলের প্রধান শিক্ষক এস এম এহসান উদ্দিন, প্রভাষক শহিদুল ইসলাম, মোহাম্মদ শহিদুল আকতার, এস এম মামুনুর রশিদ মামুন, মোহাম্মদ রাশেদ, আবু তাহের, আজগর আলী, আকতার জামাল, জুয়েল রানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। মেয়র আরো বলেন, বুথে সেবাদানকারী প্রত্যেক কর্মীকে যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর নমুনা সংগ্রহের কাজে পাঠানো হয়েছে। প্রত্যেক কর্মীকে পার্সোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই) সরবরাহ করাসহ সব ধরণের জিনিসপত্র সরবরাহ করা হয়েছে। সম্পূর্ণ বিনা পয়সায় যেকোনো মানুষ সিটি করপোরেশন স্থাপিত বুথে নমুনা দিয়ে করোনা পরীক্ষা করাতে সক্ষম হচ্ছেন। বুথের মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহ করা হলে স্বাস্থ্যকর্মী সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে না বলে মন্তব্য করেন মেয়র। মেয়র আ জ ম নাছির বলেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হলে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কারণ নাকের ভেতর থেকে সোয়াব সংগ্রহ করতে হলে স্বাস্থ্যকর্মীকে ওই ব্যক্তির খুব কাছাকাছি চলে যেতে হয়। আবার যখন নাকের ভেতর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়, তখন রোগী অবধারিতভাবে হাঁচি দেন। এতে নমুনা সংগ্রহকারী কিন্তু সব সময় ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। তিনি নগরবাসীকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়ে বলেন, বিজ্ঞাণীরা ভ্যাকসিন বা ঔষধ আবিস্কার করবেন, চিকিৎসকরা চিকিৎসা প্রয়োগ করবেন এটা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। কিন্তু এখন ধৈর্য্যসহকারে সাহসের সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে জীবন যাপন করতে হবে। লকডাউনের কার্যকারিতার কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, লকডাউন কার্যকর থাকাকালীন ওই এলাকায় কেউ প্রবেশ ও বের হতে পারবে না। সরকারি-বেসরকারি অফিস থাকবে সাধারণ ছুটির আওতায়। খাবার ও ওষুধসহ সবধরণের দোকানপাট বন্ধ থাকবে। চলবে না গণপরিবহন, থাকবে না স্টপেজও। লকডাউন এলাকায় অবস্থানকারী সকল সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারী সাধারণ ছুটির আওতায় থাকবেন। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তারা যাতে কোন ধরণের সমস্যার সম্মুখীন না হন সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, লকডাউন মানে লকডাউন। সবাইকে অবশ্যই ঘরে থাকতে হবে। ইতোমধ্যে সিটি করপোরেশন থেকে মাইকিং করা হয়েছে। প্রতিটি ঘরে ঘরে নির্দেশনা দিয়ে লিফলেট পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সবকিছু মনিটরিং করার জন্য কেন্দ্রের ফরম্যাট অনুযায়ী, স্থানীয় কাউন্সিলরকে আহবায়ক করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, ই-কমার্স এসোসিয়েশনের প্রতিনিধি, সমাজ কল্যাণ সমিতির প্রতিনিধি, এনজিও প্রতিনিধি ও স্থানীয় মসজিদের ইমাম সদস্য আছেন।
চট্টগ্রামের প্রথম রেড জোনে মধ্যরাত থেকে কড়া লকডাউন শুরু
১৬জুন,মঙ্গলবার,রাজিব দাশ,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রামের প্রথম রেড জোন হিসেবে পরীক্ষামূলকভাবে ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ড লকডাউন হচ্ছে আজ (মঙ্গলবার) মধ্যরাত থেকে। রাত ১২টার পর থেকে লকডাউন কার্যকর হবে। সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি গণমাধ্যমকে বলেন, স্বাস্থ্য অধিদফতর ও চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথভাবে চট্টগ্রাম নগরের ১১টি জোনকে রেড জোন হিসেবে শনাক্ত করেছে। লকডাউন বাস্তবায়ন করবে সিটি করপোরেশন। তাই সিটি করপোরেশনের নিজেদের সুবিধার জন্য এটিকে ১০টি ওয়ার্ডে ভাগ করে নিয়েছে। মূলত প্রতি এক লাখ জনসংখ্যায় বিগত ১৪ দিনে ৭ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে- এমন এলাকাগুলোকেই রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। জেলার প্রথম রেড জোন উত্তর কাট্টলী লকডাউন হচ্ছে আজ মধ্যরাত থেকে। লকডাউন চলাকালীন রেড জোন ঘোষিত এলাকায় প্রবেশ ও বাইরে যাওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ। এ লক্ষ্যে ওই এলাকার ২০টি প্রবেশপথ চিহ্নিত করে তা বন্ধ করার কাজ শুরু হয়েছে। প্রবেশপথগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- কর্নেল টোল রোড, ঈশান মহাজন রোড, মোস্তফা হাকিম কলেজ রোড, সাগরিকা বিটেক রোড, কৈবল্যধাম রোড, নিউ মনছুরাবাদ রোড, সিডিএ আবাসিক রোড, সাগরিকা আলিফ রোড। এছাড়া প্রধান সড়কে কোনো প্রকার যাত্রী ওঠানামা করতে পারবে না দূরপাল্লার গাড়ি, তবে রাত ১২টার পর পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল উন্মুক্ত থাকবে। প্রাথমিকভাবে ২১ দিনের জন্য এই লকডাউন কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছে সিটি করোরেশন। আর এই এলাকায় সেনাটহল থাকবে বলে জানিয়েছে আইএসপিআর। তবে এ সময়ে স্বাস্থ্যকর্মীসহ জরুরি সেবায় যারা নিয়োজিত তাদের বের হতে দেয়া হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছে সিটি করপোরেশন ও প্রশাসন। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। এলাকার মানুষের সার্বিক সহায়তার জন্য মহল্লাভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক টিমও কাজ করবে। কন্ট্রোল রুমের নম্বরগুলো হলো- ০৩১-৪৩১৫১৩৬৮, ০৩১-৪৩১৫১৩৬৯, ০৩১-৪৩১৫১৩৭০, ০৩১-৪৩১৫১৩৭১, ০৩১-৪৩১৫১৩৭২, ০১৮১৯-০৫৬৮৪৪ এবং ০১৮১১-৮৮৭০৮৪। লকডাউন কার্যকর থাকাকালীন স্থানীয় বাসিন্দারা যেকোনো সমস্যা এসব নম্বরে ফোন করে জানাতে পারবেন। হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য স্বেচ্ছাসেবক টিমের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হবে এবং সামর্থ্যবানদের জন্য নির্দিষ্ট ভ্যানে বা ই-কমার্সের আওতায় প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও জরুরি ওষুধ ন্যায্যমূল্য সরবরাহ করা হবে। সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, ১৬ তারিখ মধ্যরাত থেকে এই এলাকা পুরোপুরি লকডাউন থাকবে। যানবাহন চলবে না। বাসিন্দারা ঘরে থাকবেন। তাদের প্রয়োজন মেটাতে পাশে থাকবে সিটি করপোরেশন। মেয়র বলেন, আগামী ২১ দিন লকডাউন চলাকালীন এলাকার মানুষের সার্বিক সহায়তার জন্য থাকবে সিটি করপোরেশনের একাধিক কন্ট্রোল রুম ও এলাকাভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক টিম। বিশেষ প্রয়োজনে কন্ট্রোল রুমের নির্দিষ্ট নম্বরে যোগাযোগ করে মিলবে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা। স্বেচ্ছাসেবক দ্বারা প্রতিটি ঘরে জিনিসপত্র পৌঁছে দেয়া হবে। চসিকের পক্ষ থেকে চলবে দিনভর প্রচারাভিযান ও লিফলেট বিতরণ।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর