ধরার পরেই তদবির আসা শুরু হয়-ভেজালকারীদের তো আমরা ধরতেই পারি
রমজান উপলক্ষে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখতে সড়ক-মহাসড়কে পুলিশের বিশেষ কার্যক্রম থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। গতকাল রাজধানীতে নিত্যপণ্যের দাম ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা চেম্বার আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি একথা বলেন। অসাধু চক্র নিয়ন্ত্রণে কেবল রোজা নয় সারা বছরই পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান ব্যবসায়ীরা। বিশ্বের মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায় রমজান এলেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার পরিবর্তে কমে যায়। অথচ বাংলাদেশে এ চিত্র পুরোটাই উল্টো। পণ্যের দামের লাগাম টানতে যেনো সব প্রচেষ্টাই বিফলে যায়। এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন রমজানে ভোগ্য পণ্যের দাম ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে করণীয় ঠিক করতে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান বলেন, সারাদেশে সিন্ডিকেট চক্রের দৌরাত্ম্য কমাতে সরকারি খাদ্য কর্মকর্তাদের বিচারিক ক্ষমতা দেয়া উচিত। অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান বলেন, '২০০৯ সালে আমরা ভোক্তা আইন পেয়েছি। কিন্তু এগুলো কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। শুধু পুলিশ-প্রশাসনের সীমিত লোক দিয়ে তা প্রয়োগ করা সম্ভব না হলে, খাদ্য কর্মকর্তাদের পাওয়ার দিতে হবে।' ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, অসাধু চক্র নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘ মেয়াদী পদক্ষেপ না নিয়ে রমযানের এক থেকে দুই মাস আগে তোড়জোড় শুরু করে সরকার। এতে ভোক্তারা তেমন সুফল পায় না। এদিকে, ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালাতে গেলে বিভিন্ন মহলের তদবিরের কারণে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয় না বলে নিজেই স্বীকার করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বেতন-ভাতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে শ্রমিকরা অসন্তোষ থাকবে না
বেতন-ভাতার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে তৈরি পোশাক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন, সিপিডি'র গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ আয়োজিত সংলাপে একথা বলেন তিনি। এসময় গোলাম মোয়াজ্জেম আরো বলেন, দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা ধরে রাখতে শিক্ষিত তরুণদের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে আরো বেশি সম্পৃক্ত করতে হবে। তার মতে, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে বেড়েছে বেতন বৈষম্য। এ অবস্থায় সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণে 'জাতীয় মজুরী বোর্ড' গঠনের সুপারিশ করেন সংলাপে অংশ নেয়া বক্তারা।
বাংলাদেশে ঝুঁকির ক্ষেত্রে ব্যাংকিং খাতই সবচেয়ে বেশি
বাংলাদেশে ঝুঁকির ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে ব্যাংকিং খাতই সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বলে মন্তব্য করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব ব্যাংক। সংস্থাটির ঢাকা কার্যালয়ের মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘দুর্নীতি দমন করে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় উদ্যোগ নিতে হবে। এ জন্য ব্যাংক খাতে তদারকি বাড়াতে হবে। আবার ঋণ আদায়ে আইনগত ও আর্থিক কাঠামোর উন্নতি করতে হবে।’ সোমবার (৯ এপ্রিল) অর্থনীতির হালনাগাদ পরিস্থিতি তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকে তারল্য সংকট না থাকলেও খেলাপি ঋণ অনেক বেশি। আবার বেশ কিছু বেসরকারি ব্যাংকে তারল্য সংকট আছে। আগারগাঁওয়ের বিশ্বব্যাংক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রকাশ করা হয়। বিশ্বব্যাংক আরো বলেছে, সাম্প্রতিক সময়ে খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রে তেমন উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। এটি মূলধন ঘাটতির অন্যতম কারণ। গত কয়েক বছর ধরে এই ঘাটতি নিরসনে বাজেটের মাধ্যমে অর্থ দেয়া হচ্ছে। তার মতে, মুদ্রানীতি এখন সম্প্রসারণমূলক হয়ে গেছে। বিশ্ব অর্থনীতির গতি প্রকৃতি অনুযায়ী, সতর্কতামূলক মুদ্রানীতি হওয়া উচিত। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) সাময়িক হিসাব করে বলেছে, চলতি অর্থবছরের ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি হবে। এই হিসাব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। প্রবৃদ্ধির হিসাব নিয়ে কিছু প্রশ্ন করেছে বিশ্বব্যাংক। প্রশ্নগুলো হলো-এত প্রবৃদ্ধি কি অর্থনীতির সক্ষমতার অতিব্যবহার নাকি কৃত্রিমভাবে তৈরি করা? এত প্রবৃদ্ধির জন্য কাঠামোগত পরিবর্তনের কোনো প্রমাণ নেই নাকি উৎপাদনশীলতা বেড়েছে? আবার আইনি পরিবর্তন হয়নি, তেলের দামও কমেনি, স্বস্তিবোধের কোনো কারণও নেই। তবে বিশ্বব্যাংক মনে করেন, এ দেশে ৬ দশমিক ৫ থেকে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের সম্ভাবনা আছে। সরকারি হিসাবে তা অতিক্রম করে ফেলেছে।
ট্যুরিজম মেলায় উপচে পড়া ভিড় রাজধানীতে
রাজধানীতে তিন দিনব্যাপী ট্রাভেল মার্ট-২০১৮ এর শেষ দিন ছিল উপচে পড়া ভিড়। দর্শনীয় স্পটসহ বিভিন্ন মানের হোটেলে বুকিং এর ক্ষেত্রে ছিল নানা অফার। কিন্তু অভ্যন্তরীণ স্পটগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ অভিযোগ ছিল বিভিন্ন বিষয়ে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মেলায় দেশীয় পর্যটন কেন্দ্রগুলোর পরিচিত তুলে ধরার পরামর্শও দেন দর্শনার্থীরা। পরিবার পরিজন নিয়ে দেশের বা বিশ্বের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে প্রতিনিয়ত। ভ্রমণ পিপাসুদের যাত্রা সহজ ও নান্দনিক করতে পর্যটন খাতে সেবা দিয়ে যাচ্ছে নতুন-পুরাতন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠান নিয়ে বৃহস্পতিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজন করা হয়েছিল ঢাকা ট্রাভেল মার্ট-২০১৮। দর্শনার্থীরা জানান, 'বাংলাদেশে পর্যটন খাতের উন্নতি হয়েছে তা বুঝা যাচ্ছে এ মেলা থেকে। মানুষ আসলে ভ্রমণের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে।' আরেকজন দর্শনার্থী বলেন, 'ব্যাংককে প্রাধান্য দিচ্ছি। কারণ আগেও সেখানে গিয়েছি। সময়ের কারণে সবগুলো দ্বীপ দেখা হয় নি। এবার গেলে বাকিগুলো দেখে আসবো।' পর্যটকের সংখ্যা বাড়াতে হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও হোটেল ভাড়া কম হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন অংশগ্রহণকারীরা। দেশীয় স্পটগুলোর প্রচারণা ও সংরক্ষণে সরকারী প্রতিষ্ঠানের আন্তরিকতার অভাব আছে বলেও মনে করেন অনেকে। তবে ট্যুরিজম করপোরেশন জানায়, নানা তৎপরতার কথা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানান, 'ঢাকা টু কক্সবাজার পর্যন্ত ট্রেনের ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা করতে পারলে পর্যটনের দ্রুত উন্নতি হতো।' আগামীতে মেলার প্রচারণা বাড়ানোর পরামর্শ দেন সংশ্লিষ্টরা। এবারের আয়োজনে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ৪৮টি প্রতিষ্ঠান ৫টি প্যাভিলিয়ন ও ৬০টি স্টলে অংশ নেয়।
মিরসরাই পোশাক শিল্প পার্কের কাজ চলতি বছরেই শুরু হতে যাচ্ছে
চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে পোশাক শিল্প পার্কের অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুরু হবে । বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ বেজা ও পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ'র মধ্যে জমি বরাদ্দের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে একথা বলা হয়। চুক্তির আওতায় পোশাক শিল্প গড়ে তুলতে বিজিএমইএ'কে ৫শ' একর জমি উন্নয়ন করে দিবে বেজা কর্তৃপক্ষ। শিল্প পার্কে মোট ২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে মোট ৫ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে বলেও জানানো হয়। এর আগে পোশাক খাতের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে ৮শ' একর জায়গা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি পোশাক শিল্প সম্প্রসারণের জন্য আরো ৭শ' একর জায়গা রাখা হয়েছে বলে জানান বেজার চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, সরকার ও ব্যবসায়ীদের সম্মিলিত চেষ্টায় দেশের উন্নয়ন বেগবান হয়েছে। বিজিএমইএ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, 'আলাদাভাবে জায়গা কিনে কিনে আমরা কৃষি জমি নষ্ট করেছি, ইন্ডাস্ট্রিগুলো থেকে বিল পেতে আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। আশা করি এসব থেকে আমরা বের হয়ে আসতে পারব।' এসডিজি মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, 'এ বছরের মধ্যে কাজ শুরু করতে হবে।এখন এক হাতে তালি বাজে না। তালি বাজতে হলে আপনাকেও লাগবে। আপনি আপনার বিনোয়োগ নিয়ে যাবেন, আর আমাদের চেয়ারম্যানের কাজ হবে এই বিনিয়োগকে উপযোগী করে তোলা।'
সিদ্ধান্ত মোতাবেক ডব্লিউটিও'র সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে না: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ডব্লিউটিও-এর দোহা রাউন্ডে গৃহীত সিদ্ধান্ত সমুহ বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববাণিজ্য ক্ষেত্রে অনেক সমস্যার সমাধান হবে। এলডিসি ভুক্ত দেশগুলোকে ডব্লিউটিও-এর সিদ্ধান্ত মোতাবেক যে সকল সুযোগ-সুবিধা দেয়ার কথা, সেগুলো সকল উন্নত দেশ দিচ্ছে না। ডব্লিউটিও-কে কার্যকর করতে দোহা মিনিস্টিরিয়াল কনফারেন্সে গৃহীত সকল সিদ্ধান্তের পূর্ণ বাস্তবায়ন প্রয়োজন। মঙ্গলবার (২০ মার্চ) ভারতের নয়াদিল্লীতে অনুষ্ঠিত ইনফরমাল ডব্লিউটিও মিনিস্টেরিয়াল মিটিং এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানের সময় তিনি এসব কথা বলেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী সুরেশ প্রুভুর সভাপতিত্বে বাণিজ্যমন্ত্রীদের এ মিটিং-এ ইউরোপিয়ন ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, জাপান, কানাডা, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনামসহ বিশ্বেরর ৫৩টি দেশের বাণিজ্যমন্ত্রী অথবা তাদের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত থেকে তাদের মতামত প্রদান করেন। তোফায়েল আহমেদ বলেন, হংকং, বালী এবং নাইরোবিতে অনুষ্ঠিত মিনিস্টেরিয়াল কনফারেন্স গুলোও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ডব্লিউটিও-কে কার্যকর করতে নতুন করে ভাবতে হবে। নতুন কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে পূর্বের সিদ্ধান্ত সমুহ বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর বাণিজ্য সক্ষমতা সীমিত, ক্রমেই পিছিয়ে পরছে রফতানি বাণিজ্যে। রফতানি বাণিজ্যে এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর অবদান শতকরা একভাগের নিচে। দারিদ্র্য বিমোচন ও শিল্পায়নের জন্য এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অবদান রাখার সুযোগ দেয়া প্রয়োজন। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে প্রবেশ করেছে। সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে ২০২৭ সাল থেকে উন্নয়নশীল দেশের যাত্রা শুরু করবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল মধ্যআয়ের বাংলাদেশ গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এখন তা বাস্তব। উন্নয়নশীল দেশের জন্য যে সকল চ্যালেঞ্জ রয়েছে বাংলাদেশ সেগুলো মোকাবেলা করতে সক্ষম। তোফায়েল আহমেদ বলেন, ইউরোপিয়ন ইউনিয়নের দেয়া এভ্রিথিংস বাট আর্মস এর আওতায় বাংলাদেশকে দেয়া ডিউটি ফ্রি ও কোটা ফ্রি বাণিজ্য সুবিধা বাংলাদেশকে অনেক সহায়তা প্রদান করেছে। এর ফলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে অনেক এগিয়ে গেছে। এজন্য বাংলাদেশ ইউরোপিয়ন ইউনিয়নের প্রতি কৃতজ্ঞ। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের উন্নয়নের রোল মডেল। তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল মধ্য আয়ের বাংলাদেশে ২০২১ সালের মধ্যে মানুষের মাথাপিছু আয় হবে ২ হাজার মার্কিন ডলার হবে, যা ২০১১ সালে ছিল মাত্র ৭৫৫ মার্কিন ডলার। দারিদ্র্যসীমা ৪০ শতাংশ থেকে নেমে আসবে ১৫ শতাংশে। রফতানি বাণিজ্যে বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। ডব্লিউটিও-র বিগত মিনিস্টিরেয়িাল কনফারেন্সে এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর জন্য ডিউটি ফ্রি-কোটা ফ্রি বাণিজ্য সুবিধা, প্রিফারেন্সিয়াল রুলস অফ অরিজিন, সার্ভিস ওয়েভার, ট্রিফস চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করার মতো প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর জন্য খুবই প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রেই এগুলোর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয়নি। বাণিজ্যমন্ত্রী পরে কনফারেন্সের ওয়ে ফরওয়ার্ড ডেভেলপমেন্ট বিষয়ক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় যে পাঁচজন বক্তব্য রাখেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ তাদের মধ্যে অন্যতম।
চার কোটি ডলার পাচ্ছে বাংলাদেশ
গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড থেকে চার কোটি ডলার পাচ্ছে বাংলাদেশ। স্থানীয় মুদ্রায় যা ৩২০ কোটি টাকারও বেশি। জলবায়ু সহিষ্ণু অবকাঠামো প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ (ক্লাইমেট রেসিলেন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার মেইনস্ট্রিমিং ইন বাংলাদেশ) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ অর্থ ব্যয় হবে। জার্মান দাতা সংস্থা কে এফ ডব্লিউ-এর সঙ্গে বৃহস্পতিবার (০৮ মার্চ) দুপুরে সরকারের এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ইআরডি সম্মেলন কক্ষে চুক্তিতে সই করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব কাজী শফিকুল আযম এবং কে এফ ডব্লিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য (এশিয়া এবং ইউরোপ বিভাগ) রোলান্ড সিলার। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের (জিসিএফ) আওতায় এটি প্রথম প্রকল্প। উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা ও সাতক্ষীরার ২০ উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। মুহিত বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের ভূমিকা অতি নগণ্য। অথচ বাংলাদেশই জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির সম্মুখীন। একক দেশ হিসেবে প্রতিবেশী ভারত ও চীন সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণ করে। আশার কথা হচ্ছে, দেশ দুটি জলবায়ু ঝুঁকির বিষয়টি বর্তমানে আমলে নিচ্ছে এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপও নিচ্ছে। জলবায়ু সহিষ্ণু অবকাঠামো প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ (ক্লাইমেট রেসিলেন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার মেইনস্ট্রিমিং ইন বাংলাদেশ) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ অর্থ ব্যয় হবে। এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ কোটি ২৭ লাখ ৫০হাজার ডলার। এর মধ্যে জিসিএফের ৪ কোটি ডলার পাওয়া যাচ্ছে অনুদান হিসেবে। এছাড়াও জার্মানি সরকার অনুদান সহায়তা হিসেবে দিচ্ছে আরও দেড় কোটি ডলার। আর বাংলাদেশ সরকার অর্থায়ন করছে ২ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার। প্রকল্পের আওতায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ ও সংস্কার, দুর্গম উপকূলীয় এলাকায় রাস্তা নির্মাণ, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ নগরবাসীর নিরাপত্তার জন্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। তাছাড়া আবহাওয়া সংক্রান্ত সকল প্রয়োজনীয় তথ্য ও দুযোর্গ মোকাবেলার প্রস্তুতিমূলক তথ্যের জন্য একটি জলবায়ু সহিষ্ণু অবকাঠামো উৎকর্ষ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। ছয় বছর মেয়াদী প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)। প্রসঙ্গত, জিসিএফ জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (ইউএনএফসিসিসি)-এর আওতায় ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত তহবিল। এর মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রচেষ্টায় অর্থায়ন করা হয়। বাংলাদেশে জিসিএফের অনুমোদন পাওয়া এটিই প্রথম প্রকল্প।
বিজেএমসি বন্ধ করে দেয়া উচিত :অর্থমন্ত্রী
সরকারের লোকসানি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি) একেবারে বন্ধ করে দেয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। পাটের বিকাশে বাধা অর্থমন্ত্রী, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের এমন অভিযোগের দুই দিনের মাথায় এই মন্তব্য করলেন মুহিত। বুধবার সচিবালয়ে অর্থ বিভাগ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির স্মরণিকা ‘প্রয়াস’ এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। গত সোমবার বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এ অনুষ্ঠানে বলেন, ‘পাট নিয়ে অর্থমন্ত্রী নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। অর্থমন্ত্রীর এ নেতিবাচক মনোভাবের প্রভাব অর্থ মন্ত্রণালয়েও পড়েছে। ফলে পাটের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাট প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটা তার ব্যক্তিগত অভিমত। সুতরাং এটার ব্যাপারে আমি কোন মন্তব্য করতে চাই না। অসুবিধা যেটা আমাদের হয়, পাটকে আমরা রিভাইস করতে চাই। পাটের একটা নতুন বাজারও সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু রিভিশনের প্রক্রিয়াটা আমার ভালো লাগছে না। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ায় ওল্ড বিজেএমসি’র এক্সিসটেন্সের (থাকার) কোন প্রয়োজন নেই বলে আমি মনে করি। আমি তাদের (বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়) বলেছি বিজেএমসির কোন জায়গা নেই এই নতুন ব্যবস্থায়। নতুন ব্যবস্থা আমরা বলছি পিপিপি (সরকারি বেসরকারি অংশীদারত্ব) প্রজেক্ট হবে সবগুলো। সেখানে বিজেএমসি ইট সুড বি অ্যাবুলিশ (বিলোপ করা)। অর্থমন্ত্রী বলেন, বিজেএমসি একদম বন্ধ করে দেয়া উচিত। ইট সুড নট হ্যাভ এনি এক্সিসটেন্স, মন্ত্রণালয়ে সমন্বয়ের একটা সেল থাকবে, তারাই সব দেখবে। আমি তাদের অফিসিয়ালি পর্যন্ত বলেছি। বাট দে ডু নট অবলাইজ। তারা বিজেএমসির খপ্পরে পড়েছে। বিজেএমসি বহাল তবিয়তে রয়েছে।
বছরের ব্যবধানে ডলারপ্রতি দাম বেড়েছে ৪ টাকা
বছরের ব্যবধানে ডলারপ্রতি দাম বেড়েছে ৪ টাকা : বাড়ছে বাণিজ্য ঘাটতি, বিপাকে ভোক্তারা হু হু করে বাড়ছে ডলারের দাম। বিশ্বব্যাপী ক্রয় বিক্রয়ের বিনিময়ের অন্যতম এই মুদ্রাটির বাজারে (বিনিময় মূল্য) যেন আগুন লেগেছে। জুলাইয়ে যে ডলারের দর ছিল ৮০ দশমিক ৬৬ টাকা; গত বৃহস্পতিবার সে ডলার বিক্রি হয়েছে ৮৫ দশমিক ২৫ টাকায়। জুন থেকেই দেশে ডলারের বাজারে সংকট চলছে। বাজারে ডলার ছেড়েও সক্রিয় সিন্ডিকেটের কারণে দাম নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। অথচ গত অর্থ বছরে কোন ডলারই বিক্রি করতে হয়নি। আর তাই ডলারের বিপরীতে টাকার মান প্রতিনিয়তই কমছে। এক বছর আগের চেয়ে এখন বেড়েছে প্রায় চার টাকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে সম্প্রতি বৈঠকও করেছে বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা)। সংগঠনটি ডলারের বাজারে অস্থিরতা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে নিয়োজিত অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক বাণিজ্য বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্প্রতি এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ডলারের দর বাড়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। এদিকে গত বছরের নভেম্বর মাসে ডলার নিয়ে কারসাজির অভিযোগে তিনটি বিদেশী ও ১৭টি দেশীয় ব্যাংককে সতর্ক করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তারপরও থামানো যায়নি ডলারের উচ্চ মূল্য বৃদ্ধি। এদিকে ডলারের বিনিময় হার বাড়ায় বাড়ছে আমদানি ব্যয়। এটি মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধিতে অন্যতম নিয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের মূল্য এক শতাংশ বাড়ার অজুহাতে দেশের আমদানিকারকরা পণ্যের মূল্য দুই শতাংশ বাড়িয়ে দেন। এতে সাধারণ ভোক্তার ভোগান্তিও বেড়ে যায়। অপরদিকে আমদানির তথ্যের আড়ালে বিদেশে অর্থ পাচারকেও এর একটি কারণ বলে মনে করছেন কেউ কেউ। তাই কোনো বিশেষ পদক্ষেপ নয়, আমদানি চাহিদা নিয়ন্ত্রণ ছাড়া ডলারের মূল্যবৃদ্ধির গতি ঠেকানো সম্ভব নয় বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। পাশাপাশি রপ্তানি বহুমুখীকরণে গুরুত্বারোপ করেছেন তাঁরা। একই সঙ্গে ডলার সংকট আরও তীব্র হতে পারে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুরের ধারণা, আমদানি বাড়ার পাশাপাশি প্রচুর অর্থ বিদেশে পাচার হচ্ছে। তিনি বলেন, এ কথা ঠিক যে আমদানি বাড়ার কারণে ডলারের চাহিদা বেড়েছে। আমদানি ব্যয় যেভাবে বাড়ছে; রপ্তানি আয় তার চেয়ে অনেক কম হারে বাড়ছে। রেমিট্যান্স প্রবাহের গতিও খুব বেশি নয়। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় স্বাভাবিকভাবেই দর বাড়ছে। কিন্তু উদ্বেগের বিষয়টি হল, বিরাট একটা অংশ বিদেশে পাচার হচ্ছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি সংস্থার বরাত দিয়ে ফরাসউদ্দিন গতবছর এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ২০০৪ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। আহসান মনসুর বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই এটা হয়ে আসছে। সামনে জাতীয় নির্বাচন। এ কারণে এটা আরও বাড়বে বলে মনে হচ্ছে। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সজাগ দৃষ্টি দরকার। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশ মোট দুই হাজার ৬৩১ কোটি ৪০ লাখ ডলার ব্যয় করেছে। এই সময়ে বিভিন্ন দেশে পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশের আয় হয়েছে এক হাজার ৭৬৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এই হিসাবে সামগ্রিক বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৮৬২ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৯১ দশমিক ২৬ শতাংশ বেশি। অর্থবছর শেষে এই ঘাটতি ১৩ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়ার আশঙ্কা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অথচ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ঘাটতি ছিল ৯ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার। যা ২০১৫-১৬ অর্থবছরের তুলনায় ৪৬ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি। যদিও বাণিজ্য ঘাটতি কখনোই ১০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেনি। আর তাই বাণিজ্য ঘাটতি বৈদশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। এ কারণে চলতি অর্থ বছরের জুলাই-ডিসেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসেবেই স্থানীয় মুদ্রার মান ৩ টাকা ৬৪ পয়সা হ্রাস পেয়েছে। যদিও বাস্তবে এটা ৫ টাকার বেশি। এতে করে চাপে পড়েছে বৈদেশিক মুদ্রাবাজার। সূত্র মতে, চলতি অর্থবছরের জুলাই শেষে আন্তঃব্যাংক ডলারের দর ছিল ৮০ দশমিক ৬৬ টাকা। গত জানুয়ারি শেষে এই দর বেড়ে হয়েছে ৮২ দশমিক ৯০ টাকা। গত বৃহস্পতিবার ডলার বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ৮৫ দশমিক ২৫ টাকায়। গত সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছে ৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ। অপরদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২০ ফেব্রæয়ারি প্রতি ডলারের মূল্য ছিল ৭৯ টাকা ৩০ পয়সা। এ বছরের ২০ ফেব্রæয়ারি প্রতি ডলার কিনতে ব্যয় হয়েছে ৮২ টাকা ৯৪ পয়সা। সে হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে ডলারপ্রতি দাম বেড়েছে ৩ টাকা ৬৪ পয়সা। যদিও বাস্তবে তা আরও বেশি। গত বৃহষ্পতিবারও ব্যাংকগুলোর ঘোষিত প্রতি ডলারের দাম ছিল ৮৩ টাকা ৫০ পয়সা। কিন্তু কিছু কিছু ব্যাংক ঘোষিত দামের চেয়েও দেড় থেকে দুই টাকা বেশি দরে ডলার বিক্রি করে। আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির বিপরীতে রফতানি ও রেমিটেন্স প্রবাহ কম হওয়ায় ডলার বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে কোন কোন ব্যাংক ডলার ধরে রেখে ব্যবসা করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও এই মুহূর্তে ব্যাংকগুলোর আয়ের একটি বিশেষ অংশই ডলার কেনাবেচা থেকে হচ্ছে। সূত্রমতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম থেকে এ পর্যন্ত প্রায় দেড়শকোটি ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অথচ গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে বিক্রি করেছিল মাত্র ১৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। বিপরীতে কিনেছিল ১৯৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। গত কয়েক মাসে বাজারে প্রচুর ডলার ছেড়ে দাম ঠিক রাখার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য গত দুই-তিন মাসে দাম ব্যাপকহারে না বাড়লেও ডলারের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। এক বছর আগের চেয়ে এখন বেড়েছে প্রায় চার টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে দেখা গেছে, আন্তঃব্যাংক দরের সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ডলার প্রতি আরও প্রায় দেড় টাকা বেশি রাখছে আমদানি পর্যায়ের গ্রাহকদের কাছ থেকে। গত বৃহস্পতিবার ডলারের আন্তঃব্যাংক দর ছিল ৮২ দশমিক ৯৬ টাকা। অন্যদিকে আমদানি পর্যায়ে ব্যাংকগুলোর ডলারের দর ছিল সর্বোচ্চ ৮৩ দশমিক ৫০ টাকা। বিদেশি ওরি ব্যাংকের ডলারের দর ছিল আন্তঃব্যাংক দরের থেকেও কম, ৮২ দশমিক ৪০ টাকা। ওই দিন বেশির ভাগ ব্যাংকেরই নগদ ডলারের দর ছিল ৮৪ দশমিক ৩০ থেকে ৮৫ দশমিক ৩০ টাকার মধ্যে। সূত্রমতে, বৈদশিক মুদ্রার বিনিময় হার নিয়ে একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন থেকে সক্রিয়। কয়েকটি ব্যাংকও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ডলারের প্রকৃত বিক্রয়মূল্যের তথ্য গোপন করছে। আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, এসব ব্যাংকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। অন্যদিকে আমদানিকারকদের পাশাপাশি সাধারণ বিদেশগামী রোগীরাও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এর প্রভাবে বিভিন্ন ধরনের আমদানি পণ্যের দাম বাড়তে পারে এমন আশঙ্কায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। জানা গেছে, বিশেষ একটি গোষ্ঠী হুন্ডির মাধ্যমে বিশাল অঙ্কের অর্থ পাচার বাড়িয়ে দেওয়ায় টাকার বিপরীতে হু হু করে দাম বেড়ে চলেছে ডলারের। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডায় চলে যাচ্ছে বাংলাদেশের অর্থ। হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠিয়ে এসব দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য ও প্রাসাদ গড়ে তুলছে চিহ্নিত ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। অনেকে বাণিজ্যিক ভবনও ক্রয় করছেন। আবার কেউ কেউ ভুয়া এলসি অথবা ওভার ইনভয়েস করে অর্থ পাচার করছেন বিভিন্ন দেশে। অব্যাহতভাবে ডলারের দাম বাড়ায় সংকটে পড়েছেন আমদানিকারকরা। তাই বাড়ছে আমদানি ব্যয়। ফলে আমদানি পণ্যের দামও বাড়ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সার্বিক অর্থনীতিতে। ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, মূলত আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং দেশের বৈদেশিক লেনদেনে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হওয়ায় ডলারের চাহিদা বাড়ছে। চাহিদা পূরণ করতে পর্যাপ্ত ডলারের জোগান দিতে গিয়ে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে ব্যাংকগুলোকে। যে কারণে সাপ্রতিক সময়ে ডলারের দরে কিছুটা উর্ধমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে গত মঙ্গলবার বৈঠক করেছে বাফেদা। সংকট উত্তোরণের বিষয়ে বৈঠকে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে- বাজারের পরিস্থিতি ও ব্যাংকগুলোর সংকট নিয়ে বাফেদার পক্ষ থেকে একটি লিখিত প্রস্তাবনা তৈরি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করা। এছাড়া রফতানি আয় বৃদ্ধিতে উদ্যোগ গ্রহণ এবং রেমিটেন্স বাড়াতে জোরালো পদক্ষে গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বাফেদা চেয়ারম্যান সোনালী ব্যাংকের সিইও ও এমডি মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ ইনকিলাবকে বলেন, ডলারের দর বৃদ্ধির প্রধান কারণ আমদানি বৃদ্ধি। ব্যাংকগুলোতে ঋণপত্র খোলার তুলনায় নিষ্পত্তি কম। চাহিদার তুলনায় যোগানের স্বল্পতার কারণে দর বাড়ছে। পাশাপাশি রপ্তানি ও রেমিটেন্স প্রবাহ কম হওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পদক্ষেপে রেমিটেন্স প্রবাহ কিছুটা বেড়েছে। রেমিটেন্স বাড়লে আস্তে আস্তে ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ বলেন, বায়েদার সভায় টেকনিক্যাল কমিটিকে দুই কার্যদিবসের মধ্যে একটি রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলী হোসেন প্রধানিয়ার নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি কমিটি কাজ করছে। এছাড়া বাফেদার পক্ষ থেকে বিদেশী মুদ্রার বাজারের ওপর প্রতিনিয়ত নজরে রাখা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া ইনকিলাবকে বলেন, আজ (রোববার) সভা রয়েছে। সভায় ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণ তুলে ধরা হবে। মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া বলেন, ‘সময়ে সময়ে ডলারের দাম বাড়ে। পেমেন্ট প্রেসার ও ডিমান্ড ও সাপ্লাই ব্যবধানের কারণেও হয়ে থাকে। তবে কিছুদিন থেকে এটা একটু বেশি বেড়েছে।পাশাপাশি বেশ কিছু বড় প্রকল্পের কাজ চলছে। এসব প্রকল্পের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানিতে অনেক খরচ হচ্ছে। গত বছর বন্যায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় খাদ্যশস্য আমদানি অনেকগুণ বেড়েছে। কিন্তু সে তুলনায় রফতানি আয় না বাড়ায় ডলারের চাহিদা বেড়ে এর দরকে একটু একটু করে বাড়িয়ে তুলছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ডলার ছেড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পদক্ষেপে রেমিটেন্স প্রবাহ আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। আরও বাড়বে। তাই তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, খুব শিগগিরই ডলারের বাজার ঠিক হয়ে যাবে। সূত্রমতে, চলতি অর্থবছরের ছয় মাসেই এলসি খোলার পরিমাণ ৪০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বছর শেষে এই অঙ্ক ৬০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। আমদানি বাড়ার কিছু ক্ষেত্র যেমন বড় উন্নয়ন প্রকল্পের যন্ত্রাংশ উপকরণ আমদানি বেড়েছে। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে আমদানি ব্যয় বেড়েছে ২৬ শতাংশ। যেখানে রফতানি আয় বেড়েছে মাত্র ৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এই সময়ে খাদ্য (চাল ও গম) আমদানি বেড়েছে ২১২ শতাংশ। শিল্প স্থাপনের প্রয়োজনীয় মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি বেড়েছে ৩৫ শতাংশের মতো। জ্বালানি তেলের আমদানি বেড়েছে ২৮ শতাংশ এবং শিল্পের কাঁচামালের আমদানি বেড়েছে ১৫ শতাংশের বেশি। জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৭৬ কোটি ৭০ লাখ ডলারে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৯ গুণ (৯০০ শতাংশ) বেশি। সাধারণত চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ঘাটতি তৈরি হলে দেশকে ঋণ করে ওই ঘাটতি মেটাতে হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে তিন হাজার ২৭৬ কোটি ডলারের বেশি বিদেশী মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে। ডলারের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর কাছে ১৫০ কোটির বেশি ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে ব্যাংকের মতো মানি এক্সচেঞ্জার প্রতিষ্ঠানগুলোতেও ডলারের দর বেড়েছে। জানা গেছে, গত সপ্তাহে বিভিন্ন মানিচেঞ্জার প্রতিষ্ঠানগুলোতে এক ডলার বিক্রি হয়েছে প্রায় ৮৫ টাকায়। ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ আমদানি এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে, সে পরিমাণ রফতানি আয় ও রেমিটেন্স দেশে আসেনি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ব্যাংকগুলোয় ডলারের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে খোলা এলসিগুলো আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি হবে। ফলে বাজারে ডলার সংকট আরো তীব্র হবে। তিনি বলেন, বিদ্যমান সংকট কাটাতে বাংলাদেশ ব্যাংককে আমাদের পাশে চাচ্ছি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক চাহিদার আলোকে বাজারে ডলার ছাড়লে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে। অন্যথায় বিদ্যমান সংকট আরো তীব্র হয়ে আমদানি পণ্যের দাম বেড়ে অস্থিতিশীলতা তৈরি হবে। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র দেবাশিস চক্রবর্তী বলছেন, ডলারের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে। ফলে বাজার স্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর