সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২০
পুলিশ পরিদর্শক নুরুল আজম চৌধুরীর হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা Rab এর হাতে আটক
১১ফেব্রুয়ারী,মঙ্গলবার,কমল চক্রবর্তী,বিশেষ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাউজানের উরকিরচর হাড়পাড়া গ্রামে প্রকাশ্যে দিবালোকে কুপিয়ে সাবেক পুলিশ পরিদর্শক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আজম চৌধুরীকে (৭২ ) হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করেছে Rab-7। রবিবার ৯ ফেব্রুয়ারি রাত ৯:০৫ মিনিটের সময় রাউজান পথেরহাট এলাকা থেকে শেখ সোহরাব হোসেন ওরফে সাদিচ (২৬) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন Rab-7 এর সহকারী পরিচালক(মিডিয়া) এএসপি মাহমুদুল হাসান মামুন। গেপ্তারকৃত আসামীর নাম শেখ সোহরাব হোসেন ওরফে সাদিচ (২৬) রাউজান থানার হারপাড়া গ্রামের মৃত ফিরোজ আহমেদ ওরফে সোনা মিয়া মুন্সির ছেলে। Rab-7 এর সহকারী পরিচালক এএসপি কাজী মো. তারেক আজিজ চাঁদগাও ক্যাম্পে আয়োজিত এক সংবাদ সন্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি জানান, গত ৮ ফেব্রুয়ারি সকাল আনুমানিক ১১ টার সময় চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানাধীন উরকিরচর ইউনিয়নের হারপাড়া গ্রামে পুলিশের সাবেক উপ-পরিদর্শক বীরমুক্তিযোদ্ধা নুরুল আজম চৌধুরী (৭২) এর মাথা ও কব্জিবিচ্ছিন্ন অবস্থায় লাশ পাওয়া যায়। এই হত্যাকাণ্ডের পরে Rab-7 হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও অজ্ঞাতনামা আসামীদের গ্রেপ্তারে ছায়াতদন্ত শুরু করে।পরে ব্যাপক গোয়েন্দা নজরদারির এক পর্যায়ে গতকাল রবিবার ৯ ফেব্রুয়ারি রাত ৯:০৫ মিনিটের সময় রাউজান পথেরহাট এলাকা থেকে শেখ সোহরাব হোসেন ওরফে সাদিচ নামে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে Rab। তিনি আরো জানান, আটককৃত ব্যক্তিকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সে নুরুল আজম চৌধুরীকে হত্যার কথা স্বীকার করে। জিজ্ঞাসাবাদে সে আরো জানায় যে সে ওইদিন সকাল আনুমানিক ১০ টার সময় রাউজান বৈজ্জ্যাখালী গেট এলাকার একটি কামারের দোকান থেকে একটি লম্বা ছুরি ক্রয় করে। ওই ছুরি দিয়ে সে নুরুল আজম চৌধুরীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে মাথা ও কবজি বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ড শেষে ছুরিটি পরিষ্কার করে কামারের দোকানে ফেরত দেয়। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই কামারের দোকান থেকে ৩৩.২ ইঞ্চি লম্বা ছুরি ও মাখা জামাকাপড় উদ্ধার করা হয়। আসামীকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সে আরো জানায়, নিহত ব্যক্তি তাকে বিভিন্ন সময়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপপূর্ণ কথা বলায় সে অপমানবোধ করে। এই জন্য গত ৫ মাস ধরে সে তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করে আসছিলো।
রাস্তা কর্তনজনিত ধুলো বালি প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে দায়িত্বশীল হতে হবে: মেয়র
১০ফেব্রুয়ারী,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: সিটি মেয়র বলেন, সংশ্লিষ্ট সেবাসংস্থাগুলোকে রাস্তা কাটার পর উত্তোলিত মাটি ঢেকে রাখার জন্য বলা হয়েছে। যেন নগরবাসীর ধুলোময়লা জনিত দুর্ভোগ না হয়। কিন্তু তা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের গড়িমসি দেখা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে জনস্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সেবা সংস্থাকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে। গণমাধ্যম কে এই বিষয়টির বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে ভূমিকা রাখার আহবান জানান মেয়র। আজ ১০ ফেব্রুয়ারি বিকালে আখতারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভারের রক্ষনাবেক্ষন ও সৌন্দর্য বর্ধন কাজের শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন একথা বলেন। বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, সিডিএ র কাছ থেকে কিছু দিন আগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ফ্লাইওভার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বুঝে নিয়েছে। নগরের সৌন্দর্য বর্ধন কাজের জন্য আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে আমরা তা বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে নগর জুড়ে একই ধারাবাহিকতায় সৌন্দর্য্য বর্ধন কাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে। দেওয়ান হাট কদমতলী ফ্লাইওভার এলাকায়ও একই ধরণের সৌন্দর্য্য বর্ধন কাজ বাস্তবায়িত হবে। অনুষ্ঠানে চসিক প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা মো সামসুদ্দোহা, কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ একেএম রেজাউল করিম চৌধুরী, আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের স্বত্তাধিকারী মো হেলাল উদ্দিন, লালখান বাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম মাসুম, আলহাজ্ব সিদ্দিক আলম, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট কেন্দ্রীয় কমিটির শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক আজাদ খান, আওয়ামী লীগ নেতা ওয়াহিদুল আলম শিমুল, লিটন রায় চৌধুরী, মোস্তাক আহমেদ টিপু, মামুনুর রশীদ মামুন, যুবলীগ নেতা তাজ উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রামের অলংকার সাম্পান মাঝিদের বিতাড়ির করার চক্রান্ত প্রতিহত করা হবে
১০ফেব্রুয়ারী,সোমবার,প্রেস বিজ্ঞপ্তি,নিউজ একাত্তর ডট কম:বৈঠা যার ঘাট তার সরকার প্রবর্তিত আইন এই আইন অমান্য করে কর্ণফুলী নদীর তিন হাজার সাম্পান মাঝিকে কর্মহীন করার প্রতিবাদে মানব বন্ধন বৈঠা বর্জন করেছে ১০টি সাম্পান মাঝি কল্যান সতিতির সদস্যরা। সোমবার সকাল ১১টা দুই ঘন্টা কর্ণফুলীর অভয়মিত্র ঘাট থেকে ১৫ নম্বর পর্যন্ত সকল ঘাটে যাত্রী পারাপার বন্ধ করে মাঝিরা বৈঠা বর্জন ও মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে। নগরীর সদরঘাটে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্যে চট্টগ্রামের প্রেস ক্লাবের সাধারন সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ বলেন,মাঝিদের ঘাট বংশানুক্রমে ইজারা দেয়ার বিষয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও সরকার বিরোধি চক্র কর্ণফুলী থেকে সাম্পান মাঝিদের বিতাড়ির করার চেষ্টা করছে। মেয়র সাহেব অনুমতি দেয়ার পরও চসিক প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ঘাট ইজারা দেয়ার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কিভাবে। আসন্ন চসিক নির্বাচনে মেয়রের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে সুনির্দিষ্ট চক্রান্ত যে কোন মূল্যে প্রতিরোধ করতে হবে। মাঝিদের ঘাট তাদের ইজারা না দিলে আরো বড় কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে। চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আলীউর রহমান বলেন, ২০০৩ সালের হস্তান্তরি ফেরিঘাট ইজারা ও ব্যবস্থাপনা এবং উদ্ভূদ আয় বন্টন সম্পর্কে নীতিমালায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে বংশ পরম্পরায় একজন ঘাট মাঝি জীবিত থাকলেও তার অনুকূলে ঘাট ইজারা দিতে হবে। সিটি কর্পোরেশন এই আদেশ অমান্য করে ঘাট ইজারা দেয়ায় এডভোকেট মনজিল মোর্শেদ হাইকোর্টে রিট পিটিশন (৩৪৬৫/২০১৫) সালে দায়ের করেন। হাইকোর্টের বিচারক ওবায়দুল হাসান ও বিচারক কৃষ্ন দেবনাথ প্রদত্ত আদেশে বলা হয়েছে পূর্ববর্তী বছরের চেয়ে দশ শতাংশ বৃদ্ধি করে পাটনীজীবী সাম্পান মাঝিদের ঘাট ইজারা দিতে হবে। চসিক প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এই আদেশ অমান্য করে সর্বসাধারনের জন্য ঘাট ইজারা দেয়ার টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কোন সাহসে। কর্ণফুলী গবেষক অধ্যাপক ড. ইদ্রিচ আলী বলেন, কর্ণফুলীর পরিবেশ প্রতিবেশ রক্ষা করেই হাজার বছর ধরে সাম্পান মাঝিরা কর্ণফুলীর অলংকার হিসাবে জীবনযাপন করে আসছে। তাদের বিতাড়ন করার এই চক্রান্ত চট্টগ্রামের ইতিহাস ঐতিহ্যে আঘাত করা। যা প্রতিরোধ করতে হবে। চরপাথরঘাটা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছৈয়দ আহমদ বলেন, চসিক রাজস্ব কর্মকর্তা পুরো টেন্ডার বিজ্ঞাপনে কোথাও সাম্পান বা নৌকা শব্দ উচ্চারন করেননি। তিনি সাম্পানের পরিবর্তে লাইফবোট দিয়ে যাত্রী পারাপারের জন্য টেন্ডার আহবান করেছেন। সরকারের ভাবমূর্তি চট্টগ্রামের জনগনের কাছে ক্ষুন্ন করার জন্য তিনি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এই কাজ করেছেন। যা কিছুতেই মেনে নেয়া হবেনা। কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যান সমিতি ফেডারেশন সভাপতি এস এম পেয়ার আলীর সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগ নেতা আমির আহমদ আমু, চরপাথরঘাটা ব্রীজঘাট সাম্পান মাঝি সমিতির সভাপতি জাফর আহমদ, সব সভাপতি জিন্নাত আলী, ইছানগর বাংলাবাজার সাম্পান চালক সমিতির সভাপতি মো: লোকমান দয়াল, সাধারণ সম্পাদ মোহাম্মদ ইউসুফ, অর্থ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, ইছানগর সদরঘাট সাম্পান মাঝি সমিতির সাধারণ সম্পাদ মিজানুর রহমান, অর্থ সম্পাদ ফরিদ আহম্মদ, পতেঙ্গা তেলের টেংকার কর্মচারী পারাপার সাম্পান মাঝি পাটনি শ্রমিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ সোহেল, ১১নম্বর মাতব্বর ঘাট ও জুলধা লাইফ বোট সাম্পান টেম্পু মাঝি মালিক (পাটনি) সমবায় সমিতির সভাপতি আবদুস শুক্কর,সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইয়াসিন হাসনাত, সদরঘাট সাম্পান চালক সমিতির সভাপতি আবসার উদ্দিন বাপ্পি সাধারন সম্পাদক এয়ার মোহাম্মদ, ১২ নম্বর তিনটিংগা ঘাট যাত্রী পারাপার সাম্পান মাঝি ও শ্রমিক সমবায় লিমিটেড এর জাফর আহম্মদ, ১৪ নম্বর গুচ্ছগ্রাম ঘাট নৌকা পারাপার ও লাইটার টেংকার শ্রমজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি ফরিদুল আলম সাধারন সম্পাদক সোলেমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।- প্রেস বিজ্ঞপ্তি
শিশুদের পদচারণায় মুখর রেডিসন ব্লুর আঙ্গিনা
১০ফেব্রুয়ারী,সোমবার,প্রেস বিজ্ঞপ্তি,নিউজ একাত্তর ডট কম: রিহ্যাব চট্টগ্রাম ফেয়ার-এর ২য় দিন, শুক্রবার সকালে হোটেল রেডিসনের আঙ্গিনা শিশুদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে। ফেয়ারের ২য় দিন সকাল ১০ টায় হোটেল রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে-ভিউ এর মোহনা বলরুমে রিহ্যাব চট্টগ্রাম ফেয়ার ২০২০ উপলক্ষে শিশু চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। চট্টগ্রামে রিহ্যাব ফেয়ার উপলক্ষে ১০ম বারের শিশু চিত্রাংকন প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হল। চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রামের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাত শতাধিক কোমলমতি ক্ষুদে চিত্রশিল্পী অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির চেয়ারম্যান জনাব আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী। বিচারক ছিলেন চিত্রশিল্পী আহমেদ নেওয়াজ, দেওয়ান মামুন, ডিজাইনার ও চিত্রশিল্পী আইভি হাসান। সভাপতির বক্তব্যে রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী বলেন, শিশুদের মেধা, সৃজনশীলতা বিকাশের জন্য চট্টগ্রামে রিহ্যাব ফেয়ার চলাকালীন ধারাবাহিকভাবে রিহ্যাব শিশু চিত্রাংকন আয়োজন করে আসছে। শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল তাঁর বক্তব্যে কোমলমতি শিশুদের মেধা ও মানসিক বিকাশে উৎসাহিত করেন এবং শিশুদের জন্য চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যার) প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ, আগামী দিনে এই শিশুরাই দেশের নেতৃত্ব দিবে, সুতরাং শিশুদের মেধা বিকাশের জন্য আমাদেরই সুন্দর পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রিহ্যাবের পরিচালক ও চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির কো-চেয়ারম্যান (১) ইঞ্জিনিয়ার মোঃ দিদারুল হক চৌধুরী, পরিচালক ও চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির কো-চেয়ারম্যান (২) মাহবুব সোবহান জালাল তানভীর, চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান, রেজাউল করিম, নাজিম উদ্দিন, মোরশেদুল হাসান, ইঞ্জিনিয়ার শেখ মোঃ নিজামুদ্দিন, ফেয়ার অর্গানাইজিং কমিটির সদস্য হাজী দেলেয়ার হোসেন, আশীষ রায় চৌধুরী। প্রতিবারের ন্যায় এবারও ২টি বিভাগে এবং ২টি নির্ধারিত বিষয়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ক শাখা (২য় শ্রেণি হতে ৫ম শ্রেণি) বিষয় : লাল সবুজের বাংলাদেশ, খ শাখা (৬ষ্ঠ শ্রেণী হতে ৮ম শ্রেণি) বিষয় : তর্জনীতে স্বাধীনতা। ক শাখায় ১ম স্থান অধিকার করেছে ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল ও কলেজের ৫ম শ্রেণির ছাত্র শীর্ষদীপ বিশ্বাস, ২য় স্থান অধিকার প্রেসিডেন্সি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ৫ম শ্রেণির ছাত্র সুজাইল বিন আব্দুল্লাহ, ৩য় স্থান অধিকার সাইডার ইন্টারন্যাশনার স্কুলের ৩য় শ্রেণির ছাত্র শ্রেয়স্বীনি দাশ, ৪র্থ স্থান অধিকার সিএমপি স্কুল এ্যান্ড কলেজের ৩র্থ শ্রেণীর ছাত্র উপান্ত রায়, ৫ম স্থান অধিকার বাকলিয়া সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্রী জারীফা তাকিয়া। খ শাখায় ১ম স্থান অধিকার করেছে চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র অরিজিৎ দত্ত, ২য় হয়েছে সানশাইন গ্রামার স্কুল এ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র দেবনীলা পাল, ৩য় হয়েছে অপর্ণা চরণ সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ৮ম শ্রেণির ছাত্র পূজা দাশ, ৪র্থ হয়েছে সেন্ট্রাল পাবলিক স্কুল এ্যান্ড কলেজের তাসমিয়া সামারা অরিন, ৫ম হয়েছে ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল এ্যান্ড কলেজের ৭ম শ্রেণির ছাত্র সাদ আরেফিন আরীব। চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় উভয় শাখায় ১ম থেকে ৫ম স্থান অধিকারীদের হাতে সার্টিফিকেট ও ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।- প্রেস বিজ্ঞপ্তি
চট্টলার কল্যানে আমি কাজ করে যেতে চাই:মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন
০৯ফেব্রুয়ারী,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা রুপকল্প নির্ধারণ করেছেন ২০৪১ এর মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ। সেই উন্নত বাংলাদেশের জন্য আমাদের নতুন প্রজন্মকে আগামীর প্রজন্মকে সব ধরনের সন্ত্রাস,জঙ্গিবাদ ,মাদক, দূর্নীতিও যৌতুক থেকে নিজেদের রক্ষা করতে হবে। ৬ ফেব্রুয়ারী নগরীর লালদিঘীর পাড়ে মাদক বিরোধী এক জনসভায় মেয়র আ.জ.ম. নাছির উদ্দিন কথাগুলো বলেছেন। উক্ত সমাবেশে আগত লক্ষ নারী পুরুষকে মেয়র শপতবাক্য ও পাঠ করিয়ে ছিলেন। সম্প্রতি অন্য আরেক সমাবেশে মেয়র বলেন, জনগন এমন গল্পে নয় কাজে বিশ্বাসী। চট্টলার কল্যাণে আমি কাজ করে যেতে চাই। আমি নির্বাচিত হওয়ায় চট্টগ্রাম নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে উন্নয়নের ছোয়া লেগেছে। এই নগরী আগে কী ছিলো আর এখন কি হয়েছে তা নগরবাসী ভালো করে জানে। তিনি বলেন, কাজ করতে গেলে আলোচনা সমালোচনা হবেই। তবে আমি চেষ্টা করেছি নগর বাসিকে ভালোমানের সেবা দিতে। আমি আশাবাদি আগামী নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে আমাকে আবারও মনোনয়ন দিবেন এবং আমি মনোনয়ন পেলে গত বারের চেয়েও বেশি ভোটে আমি জয়ি হবো ইনশাআল্লাহ। ২০১৫ সালের চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী আ.জ.ম নাছির উদ্দিন দায়ীত্ব পালনকালে (প্রাপ্ত তথ্য মতে) নগরীর ১নং ওয়ার্ডে ৩১ কোটি ৭০ লক্ষ ৩৮ হাজার টাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন , ২নং ওয়ার্ডে একই কেটাগরীতে ৭৪ কোটি ৫২ লক্ষ ৪৮ হাজার টাকার উন্নয়ন , ৩নং ওয়ার্ডে একই কেটাগরীতে ৪৬ কোটি ৯৯ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকার উন্নয়ন, ৪নং ওয়ার্ডে ৯৬ টি প্রকল্পের মধ্যে ১০৮ কোটি ৮৭ লক্ষ ৬ হাজার টাকার উন্নয়ন, ৫ নং ওয়ার্ডে শিক্ষা, সাস্থ্যাও অবকাঠামোগত খাতে ৬৮ কোটি ৪৮ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকার উন্নয়ন, ৬ নং ওয়ার্ডে ৭০ টি প্রকল্পের মধ্যে ৬৬ কোটি ৫৭ লক্ষ ৯৩ হাজার টাকার উন্নয়ন। ৭নং ওয়ার্ডে ৯৮ টি প্রকল্পের মধ্যে ৯৭ কোটি ৬৭ লক্ষ ৪৮ হাজার টাকার উন্নয়ন, ৮ নং ওয়ার্ডে ১১৩ টি প্রকল্পের মধ্যে ১০৪ কোটি ৯৪ লক্ষ ১ হাজার টাকার উন্নয়ন, ৯ নং ওয়ার্ডে ৭৮ টি প্রকল্পের মধ্যে ৭০ কোটি ৫০ লক্ষ ১ হাজার টাকার উন্নয়ন, ১০ নং ওয়ার্ডে ৫৪ টি প্রকল্পের মধ্যে ২৬ কোটি ৯৭ লক্ষ ৪২ হাজার টাকার উন্নয়ন, ১১ নং ওয়ার্ডে ৬৪ টি প্রকল্পের মধ্যে ৯৩ কোটি ২৬ লক্ষ ২৪ হাজার টাকার উন্নয়ন, ১২ নং ওয়ার্ডে ৪৭ টি প্রকল্পের মধ্যে ৩৪ কোটি ৮০ লক্ষ ৬৬ হাজার টাকার উন্নয়ন, ১৩ নং ওয়ার্ডে ৫৯ টি প্রকল্পের মধ্যে ৯২ কোটি ২৩ লক্ষ ৮ হাজার টাকার উন্নয়ন, ১৪ নং ওয়ার্ডে ৪২ টি প্রকল্পের মধ্যে ৫২ কোটি ২৯ লক্ষ ৮ হাজার টাকার উন্নয়ন, ১৫ নং ওয়ার্ডে ৫১ টি প্রকল্পের মধ্যে ৩৬ কোটি ৮২ লক্ষ ৪৮ হাজার টাকার উন্নয়ন, ১৬ নং ওয়ার্ডে ৯৫ টি প্রকল্পের মধ্যে ৯৪ কোটি ৮ লক্ষ টাকার উন্নয়ন, ১৮ নং ওয়ার্ডে ৬৫টি প্রকল্পের মধ্যে ৫১ কোটি ১২ লক্ষ ৫৭ হাজার টাকার উন্নয়ন, দক্ষিন বাকলিয়া ওয়ার্ডে ৪৫ টি প্রকল্পের মধ্যে ৫৭ কোটি ২৬ লক্ষ ৮৯ হাজার টাকার উন্নয়ন, ২০ নং ওয়ার্ডে ৪৩ টি প্রকল্পের মধ্যে ২২ কোটি ৭ লক্ষ ৯৪ হাজার টাকার উন্নয়ন, ২১ নং ওয়ার্ডে ৫ টি প্রকল্পের মধ্যে ২৫ কোটি ৬০ লক্ষ ৫৭ হাজার টাকার উন্নয়ন, ২২ নং ওয়ার্ডে ৩৩ টি প্রকল্পের মধ্যে ৪৪ কোটি ৮৭ লক্ষ ৪১ হাজার টাকার উন্নয়ন,২৩ নং ওয়ার্ডে ৫৯ টি প্রকল্পের মধ্যে ২৮ কোটি ৫১ লক্ষ ৭ হাজার টাকার উন্নয়ন সহ নগর ভবনে ডিজিটাল সেবা চালু। নগরের ৪১ হাজার সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে মেয়র হেলথ কার্ড বিতরন, মুক্তিযুদ্ধাদের পূনবাসন করা সহ অনেক উন্নয়ন মূলক কাজ করেছেন এবং করে যাচ্ছেন। মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিনের উন্নয়ন মূলক ও সেবা মূলক কর্মকান্ডের কারনে তার যতেষ্ট জনসমর্তন বেড়েছে, বেড়েছে ভোটারদের আস্থা ও । এক মেয়াদেই ভবনের ভিত্তি প্রস্তরস্থাপন ও উদ্বোধনের রেকর্ড করলেন মেয়র নাছির।সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন দায়িত্ব গ্রহণ করার পর হালিশহর মহব্বত আলী সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর ফলক উন্মোচন করেছিলেন। আবার তার এই পাঁচ বছর মেয়াদের মধ্যেই ছয় তলার আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত এই ভবনটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ৫ ফেব্রূয়ারি নব নির্মিত এই ভবনটি উদ্বোধন করেছেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।এক মেয়াদের মধ্যে ভবন নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর ফলক উন্মোচন ও উদ্বোধন করার রেকর্ড আর কোন মেয়রের নেই বলে জানাযায়।আ.জ.ম নাছির উদ্দিন চট্টগ্রামের সিটি মেয়রের পাশাপাশি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সহ সভাপতি এবং চট্টগ্রাম জেলা ক্রিড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়ীত্বে নিয়োজিত রয়েছেন।
সীতাকুণ্ডে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় মিনিবাস খাদে পড়ে আহত ৭
০৯ফেব্রুয়ারী,রবিবার,সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: সীতাকুণ্ডে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় মিনিবাস খাদে পড়ে ৭ বাস যাত্রী আহত হয়েছে। এদের মধ্যে গুরুতর আহতদের মধ্যে মোঃ শাহ আলম (৫৫) নামের একজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। অন্যান্যদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (৯ফেব্রুয়ারি)সকাল আটটার সময় উপজেলার ফকিরহাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসে। জানা যায়, সীতাকুণ্ড থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ৮ নং মিনিবাস (চট্রমেট্রো১১-২১০২) উপজেলার ফকিরহাট এলাকায় অতিক্রম করার সময় একইমূখী একটি কাভার্ডভ্যান বাসটিকে ধাক্কা দিলে পার্শ্ববর্তী খাদে পড়ে যায়। এতে ৭ যাত্রী হালকা আহত হয়। গুরুতর আহত মোঃ শাহ আলম রাস্তার পাশে বাঁশের ব্যবসা করতেন। তিনি স্থানীয় ফকিরহাট, নলুয়া পাড়া এলাকার নোয়া মিয়ার পুত্র। অপরদিকে একই স্থানে ভোররাতে একটি বড় মালবাহী কাভার্ডভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে কয়েকটি দোকানের উপর গিয়ে পড়ে। ভোররাত থাকায় সকল দোকান বন্ধ থাকায় এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি । এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড ফায়ার স্টেশন কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলাম বলেন, সকাল আটটার সময় একটি লোকাল বাস রাস্তার পাশে বসে থাকা এক বাঁশ ব্যবসায়ীকে চাপা দিয়ে নিচে পড়ে যায়। তাকে উদ্ধার করে মেডিকেলে প্রেরণ করি।
শিশুর মনকে রাঙিয়ে দিতে চিত্রাংকন একটি অন্যতম মাধ্যম
০৮ফেব্রুয়ারী,শনিবার,প্রেস বিজ্ঞপ্তি,নিউজ একাত্তর ডট কম: ছোট শিশুর মনে নানা রকম দুষ্টামি বিরাজ করে। তারা সবসময় নতুন নতুন ভাবনায় মত্ত থাকে। প্রকৃতি, গাছ-পালা, ফুল-ফল ও পশু-পাখি নিয়ে নিজের ইচ্ছামত ছবি আঁকে। ক্ষুদে আঁকিয়েদের রং তুলিতে সব কিছু মনে হয় চিরসুন্দর। তাই শিশুর মনকে রাঙিয়ে দিতে এবং মানবিকতা বোধ জাগ্রত করতে চিত্রাংকন একটি অন্যতম মাধ্যম। চিত্রশিল্পীরা অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের চিত্রকর্ম অংকন করে থাকে। তাই চিত্রশিল্পীর রং তুলিতে জাতীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস স্থান পেয়ে থাকে। গত ৬ ফেব্রæয়ারি পরিষদ অঙ্গনে সঙ্গীত পরিষদ আয়োজিত ২৩তম চিত্র প্রদর্শনী ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ২০২০ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তগণ উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন। পরিষদের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব:) আবদুল মতিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত ২দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রবীণ চিত্রশিল্পী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক সৌমেন দাশ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিষদ সম্পাদক তাপস হোড়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আঁলিয়েন্স ফ্রান্সেস চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক শিক্ষাবিদ ড. গুরুপদ চক্রবর্তী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন পরিষদের আবৃত্তি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক দেবাশীষ রুদ্র। পরিষদের ৪০ জন ক্ষুদে শিল্পীদের অংকিত ১০০টি ছবি নিয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। তাদের অংকিত ছবিগুলি উপস্থিত দর্শকবৃন্দ প্রশংসা করেন। তাদের আঁকা ছবিগুলি নিয়ে পরিষদ একটি প্রকাশনা বের করে। উদ্বোধকসহ অতিথিরা প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করেন। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে পরিষদের সঙ্গীত বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা ধন্য ধন্য বলি তারে শীর্ষক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন পরিষদের সংগীত বিভাগের শিক্ষক বণানী চক্রবর্তী, প্রমিত বড়ুয়া, বহ্নি শিখা মজুমদার, প্রিয়তী বড়ুয়া, ত্রিদিব বৈদ্য, দীপ্ত দত্ত ও প্রান্ত আচার্য্য। চিত্রকলা প্রদর্শনী তত্ত্বাধান করেন পরিষদের চালুকলা বিভাগে শিক্ষক অঞ্চন দাশ, সুখ রঞ্জন হালদার, দীপ্তি মজুমদার ও ইসরাত জাহান। ২দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানে আগামীকাল রয়েছে বেলা ২টায় এনায়েত বাজার মহিলা কলেজ প্রাঙ্গনে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও পরিষদ অঙ্গনে পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান।- বিজ্ঞপ্তি
আমরা চট্টগ্রাম মহানগরকে সন্ত্রাস,জঙ্গিবাদ,মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত রাখবো
০৬ফেব্রুয়ারী,বৃহস্পতিবার,কমল চক্রবর্তী,বিশেষ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: লালদীঘি মাঠে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, যৌতুক ও দুর্নীতি প্রতিরোধে লাখো নারী পুরুষকে শপথ করিয়েছেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চসিক আয়োজিত মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ শপথ বাক্য পাঠ করান। মেয়র বলেন, আপনারা জানেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এ বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর সুস্পষ্ট লক্ষ্য ছিলো-একটি সমৃদ্ধ জাতি ও উন্নত বাংলাদেশ, দেশের সব মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং প্রত্যেকটি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা রূপকল্প নির্ধারণ করেছেন ২০৪১ এর মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ। সেই উন্নত বাংলাদেশের জন্য আমাদের নতুন প্রজন্মকে, আগামীর প্রজন্মকে সব ধরনের সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক, দুর্নীতি ও যৌতুক থেকে নিজেদের রক্ষা করতে হবে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জনগণের প্রতি যে দায়বদ্ধতা, অঙ্গীকার, জনগণের প্রতি যে সেবা আমরা দিয়ে থাকি সেই অঙ্গীকার থেকে ৪১টি ওয়ার্ডের সব শ্রেণি পেশার মানুষকে নিয়ে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক, যৌতুক ও দুর্নীতিবিরোধী জনমত তৈরি করতে সভা সমাবেশ করেছি। আজ চট্টগ্রামের এ ঐতিহাসিক লালদীঘি মাঠে মহাসমাবেশের আয়োজন করেছি। আমাদের মূল লক্ষ্য নগরবাসীকে শপথ করানো। আমরা শপথ করবো- মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি ও যৌতুক থেকে আমাদের পরিবারকে রক্ষা করবো, এ নগরকে সন্ত্রাস, মাদক ও জঙ্গিবাদ ও যৌতুক মুক্ত রাখবো। মেয়রের বক্তব্যে চট্টগ্রামের বার আউলিয়া, মাস্টারদা সূর্য সেন, প্রীতিলতা, মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, এমএ আজিজ, জহুর আহমেদ চৌধুরী, এমএ হান্নান, এমএ মান্নান, আতাউর রহমান খান কায়সার, আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু, এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, ইসহাক মিয়াকে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, অতীতেও পাকিস্তান আমল থেকে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের সূতিকাগার ছিলো চট্টগ্রাম। আজ পূর্বসূরিদের দেখানো পথ অনুসরণ করে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে, প্রধানমন্ত্রীর নগণ্য কর্মী হিসেবে আমিও চট্টগ্রাম মহানগরকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক, দুর্নীতিমুক্ত করতে বদ্ধপরিকর। ওয়ার্ড কাউন্সিলর এইচএম সোহেলের সভাপতিত্বে মহাসমাবেশ পরিচালনা করেন চসিকের প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী। প্যানেল মেয়র নিছারউদ্দিন আহমেদ মঞ্জু বলেন, মেয়র নাছিরের মধ্যে চট্টগ্রামের প্রতি ভালোবাসা ও অন্যায়ের প্রতিবাদের সাহস দেখেছি। তিনি মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, যৌতুক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে এ মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছেন। প্যানেল মেয়র জোবাইরা নার্গিস খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। চট্টগ্রামকে মাদকমুক্ত করতে আজ আমাদের শপথ নিতে হবে। চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামশুদ্দোহা বলেন, মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অলিখিত যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। ওয়ার্ডগুলোতে সমাবেশ করেছেন, জনমত গড়ে তুলেছেন। আজ মহাসমাবেশে চট্টগ্রামের মানুষ মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, যৌতুক ও দুর্নীতিবিরোধী শপথ নিতে এসেছেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার এক বছরে ৬ বিলিয়ন ডলারের ইয়াবার ব্যবসা করেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়েছে। সময় এসেছে মাদক রুখে দাঁড়ানোর। মাদক সহ্য করলে, মাদক আমাদের ধ্বংস করে দেবে। বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে লালদীঘি মাঠে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, যৌতুক ও দুর্নীতি প্রতিরোধ মহাসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কয়েকজন মাদকাসক্তের সঙ্গে আলাপের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, তাদের জিজ্ঞেস করেছিলাম, তোমরা মাদক খেলে মস্তিষ্ক শেষ হয়ে যায়, পুরুষত্ব নষ্ট হয়ে যায়। নারী হলে বন্ধ্যা হয়ে যায়। লিভার, কিডনি নষ্ট হয়ে যায়। এত কিছু ক্ষতি করে তোমরা কেন মাদক গ্রহণ করেছো? এ কথা শোনার পর তারা কেঁদে বলে, এ কথাতো কেউ জানায়নি। মাদক খেলে যে মানুষ আর মানুষ থাকে না জন্তু জানোয়ারে পরিণত হয়, সেটি আগে কেউ জানায়নি। তিনি বলেন, মাদকাসক্ত সন্তানের হাতে বাংলাদেশে তিনশর বেশি মা-বাবা খুন হয়েছে। কীভাবে পেরেছে মা-বাবাকে হত্যা করতে। মাদক গ্রহণের পর তারা আর সন্তান ছিলো না, পুত্র ছিলো না, কন্যা ছিলো না। জন্তু জানোয়ারে পরিণত হয়েছিলো। এ কারণে তারা নৃশংসভাবে আপন মা-বাবাকে হত্যা করতে পেরেছে। কয়েকদিন আগে এক মাদকাসক্ত মা-বাবাকে কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন মাদক স্তব্দ করে দেওয়ার আশঙ্কা জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। পৃথিবীর মধ্যে বিস্ময়ে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। ছোট্ট এ দেশের উৎপাদন বিশ্বকে বিস্মিত করেছে। আপনারা নিশ্চয় জেনেছেন, বাংলাদেশ ধান উৎপাদনে দ্বিতীয়। সবজি উৎপাদনে দ্বিতীয়। তৈরি পোশাক উৎপাদনের দ্বিতীয়। মাছ উৎপাদনে দ্বিতীয়। ছোট্ট একটি দেশ বিশ্বের মধ্যে শীর্ষস্থান ধরছে। এ অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিতে প্রতিবেশী দেশ থেকে লক্ষ লক্ষ ইয়াবা ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মিয়ানমার ২০১৮ সালে ৬ বিলিয়ন ডলারের ইয়াবার ব্যবসা করেছে। তারা বাংলাদেশ থেকে হাজার কোটি টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। এভাবে মাদক আগ্রাসন চললে উন্নত বাংলাদেশ কখনোই অর্জিত হবে না। তাই আজ সময় এসেছে মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর। প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতা ঘোষণা করেছেন। এর অর্থ কোনোভাবেই মাদককে সহ্য করা হবে না। কারণ মাদককে যদি সহ্য করি তবে মাদক আমাদের ধ্বংস করে দেবে। মাদকের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে-মাদককে রুখে দিতে চট্টগ্রামবাসী প্রথম কাতারে আসীন থাকবে। আমি বিশ্বাস করি, এ যুদ্ধে চট্টগ্রামবাসী জয়ী হয়ে জানান দেবে, চট্টগ্রাম মাদক আগ্রাসনের জায়গা নয়। যেখানে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয় সেখানে জয় সুনিশ্চিত। আরও আন্দোলন দুর্বার করবো, দুর্জয় গতিতে এগিয়ে যাবো। চট্টগ্রামকে মাদকশূন্য করবোই করবো। মাদকের বিরুদ্ধে গর্জন শুনতে চাই। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আছেন চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে আছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) আমেনা বেগম।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর