জ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর সমাজ বিনির্মাণে মাতৃভাষাকেও গুরুত্ব দিতে হবে
২৫ফেব্রুয়ারী,সোমবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিকুল আলম বলেছেন, একটি জ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর সমাজ বিনির্মাণে মাতৃভাষায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষা সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে। কিন্তু বাস্তবতা হলো উন্নত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি চর্চার ক্ষেত্রে মাতৃভাষা উপেক্ষিত হওয়ায় সাধারণ বাঙালির ঘরে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি চর্চায় এগিয়ে আসতে পারছে না। গত শনিবার নগর ভবন চত্বরে একুশ মেলা পরিষদ আয়োজিত ভাষা ও সংস্কৃতি উৎসবের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ৫২র ভাষা আন্দোলন বাঙালির আত্মজাগরণে মাইলফলক। এ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাঙালি জাতিসত্ত্বা নির্মাণের যাত্রা শুরু হয়। এই যাত্রা পথে আমাদের মাতৃভাষা ও নিজস্ব সংস্কৃতি ছিল সবচেয়ে বড় অনুুপ্রেরণা। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে এসে উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারে বিদেশী ভাষা ও আগ্রাসনী সংস্কৃতির প্রভাব পড়ায় আমাদের নিজস্ব ভাষা সংস্কৃতির বিকাশ রুদ্ধ হয়েছে। এটা অপ্রিয় হলেও সত্য যে, আমাদের দেশে ত্রিমুখী শিক্ষা ব্যবস্থায় সামাজিক বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে এবং শ্রেণী বিভাজন সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে আমরা দীর্ঘদিন পিছিয়ে ছিলাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সত্যটিকে উপলব্ধি করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ সকল ক্ষেত্রে মাতৃভাষা চর্চার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ভৌত বিজ্ঞানী প্রয়াত প্রফেসর ড. জামান নজরুল ইসলাম জীবনের দীর্ঘসময় ইউরোপ আমেরিকায় কাটিয়ে নিজ ভূমে ফিরে এসে বলতেন আমাদের সন্তানদের শিক্ষা দীক্ষার ক্ষেত্রে বাংলা ভাষাকেই প্রাধান্য দিতে হবে। তা না হলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশ প্রেমের বীজ বপিত হবে না। আমি এই মনীষীর সহজ সরল উক্তিটিকে অন্তর দিয়ে ধারণ করে বলতে চাই আমরা স্বাধীন হলেও মানসিকভাবে এখনো ঔপনিবেশিক মনোবৃত্তি সম্পন্ন। এই মনোবৃত্তি পরিহার করে মাতৃভাষার সম্মান ধারণ ও এর বিকাশের ক্ষেত্রে সকল বাধা অপসারণ করতে হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শহীদ সরওয়ার্দ্দী মেডিকেল কলেজের পরিচালক অধ্যাপক ডা: উত্তম কুমার বড়ুয়া বলেন, মানুষের পাঁচটি মৌলিক অধিকার অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, এই পাঁচটি মৌলিক চাহিদা পূরনের মধ্য দিয়ে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। ঔপনিবেশিক আমলে বাঙালিরা পাঁচটি মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল বলেই ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই একাত্তরে একটি সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের সফল পরিণতিতে স্বাধীন বাঙালি জাতি সত্ত্বা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সভাপতির ভাষণে ভাষা ও সংস্কৃতি উৎসব উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক এবং চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী বলেন, ভাষা ও সংস্কৃতি উৎসবের আনন্দময় চারটি দিনে ভাষা সংস্কৃতি নিয়ে বক্তাদের অনেক মূল্যবান বক্তব্য এসেছে। একটা বিষয় সুস্পষ্ট যে, ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে আমাদের রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে এখনো অনেক কাজ করার বাকি রয়েছে। এ কাজটি পূর্ব শর্ত হচ্ছে আত্মকেন্দ্রিকতা মুক্ত নিখাদ দেশ প্রেম। এই দেশপ্রেম বোধ নিয়ে বাঙালির ভাষা সংস্কৃতির বিকাশের মাধ্যমে একটি জ্ঞানভিত্তিক প্রযুক্তি নির্ভর সমাজ বিনির্মাণ হলেই এদেশের মানুষ অর্থনৈতিক মুক্তির সঠিক ঠিকানা পাবে। শেষে প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানে প্রফেসর ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবায় ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়ার হাতে একুশে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া ভাষা ও সংস্কৃতি উৎসবের প্রণোদনা ও পৃষ্ঠপোষকতার জন্য প্রকৌশলী রাজীব বড়ুয়াকে একুশে স্বীকৃতি সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। ভাষা ও সংস্কৃতি উৎসব উদযাপন পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব নজরুল ইসলাম মোস্তাফিজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন, সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য জাহেদুর রহমান সোহেল। শেষে দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন, চারুতা নৃত্যকলা একাডেমী, পরিচালনায় ফজল আমিন শাওন। সংগীত পরিবেশন করেন বেতার ও টেলিভিশন শিল্পী প্রিয়া ভৌমিক, রুপি চৌধুরী, শানু মার্মা, সঞ্চিতা দে প্রমুখ। প্রেসবিজ্ঞপ্তি।
চট্টগ্রাম উইম্যান চেম্বারে বসন্ত মেলা শুরু
২৫ফেব্রুয়ারী,সোমবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম উইম্যান চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র উদ্যোগে গতকাল ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে ৩ দিনব্যাপী বসন্ত মেলা-১৪২৫। বেলা ১১ টায় চট্টগ্রাম উইম্যান চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সেমিনার হলে মেলার উদ্বোধন করেন দৈনিক আজাদীর পরিচালনা সম্পাদক ওয়াহিদ মালেক। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম উইম্যান চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র ভাইস- প্রেসিডেন্ট আবিদা মোস্তফা, ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেসমিন আক্তার, ডা. মুনাল মাহবুব, মেলা কমিটির চেয়ারম্যান ও পরিচালক রেবেকা নাসরিন, পরিচালক নিশাত ইমরান, নূজহাত নূয়েরী কৃষ্টি, রোজিনা আক্তার লিপি, মোস্তারী মোর্শেদ স্মৃতি, ফেরদৌস ইয়ামসিন খানম, প্রাক্তন পরিচালক নূর আক্তার জাহান-সহ সিডব্লিওসিসিআইয়ের সদস্যবৃন্দ এবং মেলায় অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মেলায় বিভিন্ন ধরনের ছোট-বড় তৈরি পোশাক, কসমেটিকস্ পিঠা-পায়েস, আচার, শাড়ি, থ্রি-পিস, সালোয়ার-কামিজ এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সকল ধরনের পণ্যের সমাহার রয়েছে। মেলা চলবে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
সভাপতি আলী আব্বাস, সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ
২৪ফেব্রুয়ারী,রবিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে আলী আব্বাস সভাপতি এবং চৌধুরী ফরিদ সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন। গতকাল শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ শেষে রাত সাড়ে ৯টায় ফল ঘোষণা করেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ওমর কায়সার। সভাপতি পদে এটিএন বাংলার ব্যুরো প্রধান আলী আব্বাস ১২৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্ব দ্বী দৈনিক পূর্বকোণের ফিচার সম্পাদক এজাজ ইউসুফী পেয়েছেন ৪৯ ভোট। সিনিয়র সহ সভাপতি পদে দৈনিক ইত্তেফাকের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান সালাউদ্দিন রেজা (১৩৭) ও সহ-সভাপতি পদে এটিএন বাংলার মনজুর কাদের মনজু ১৩০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক পদে চ্যানেল আইর ব্যুরো প্রধান চৌধুরী ফরিদ পেয়েছেন ১২৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্ব দ্বী বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক আজাদীর সিনিয়র রিপোর্টার শুকলাল দাশ পেয়েছেন ৮৬ ভোট। যুগ্ম সম্পাদক পদে দৈনিক আজাদীর ক্রীড়া প্রতিবেদক নজরুল ইসলাম ৮৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্ব দ্বী দেশ টেলিভিশনের ব্যুরো প্রধান আলমগীর সবুজ পেয়েছেন ৮১ ভোট। অর্থ সম্পাদক পদে দৈনিক পূর্বদেশের দেবদুলাল ভৌমিক ১১৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। ক্রীড়া সম্পাদক পদে দৈনিক পূর্বকোণের দেবাশীষ বড়ুয়া দেবু (১২৪), গ্রন্থাগার সম্পাদক পদে রাশেদ মাহমুদ (৮৭), সমাজসেবা ও আপ্যায়ন সম্পাদক পদে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে দৈনিক ইনকিলাবের মো. আইয়ুব আলী (১৪১) জয়ী হয়েছেন। সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে বৈশাখী টেলিভিশনের রূপম চক্রবর্তী (১২৮) এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সিনিয়র রিপোর্টার মিন্টু চৌধুরী (১০৯) ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এছাড়া কার্যকরী সদস্য পদে ম. শামসুল ইসলাম (১১৯), স ম ইব্রাহীম (১০৪), মোহাম্মদ আলী (৮৯) ও কাজী আবুল মনসুর (৮৪) ভোট পেয়ে জয়ী হন। -নব নির্বাচিত সকল সদস্যগনের প্রতি নিউজ একাত্তর ডট কম ও সংবাদের কাগজের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
চবি আইন বিভাগের ওয়ার্কশপ
২৪ফেব্রুয়ারী,রবিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগ এবং দ্য নেটওয়ার্ক ফর ইন্টারন্যাশনাল ল স্টুডেন্টস (নিলস)-বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে Law Career Guideline শীর্ষক দিনব্যাপী একটি ওয়ার্কশপ গত ২২ ফেব্রুয়ারি চবি আইন অনুষদ গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ওয়ার্কসপের উদ্বোধন করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। চবি আইন অনুষদের ডিন ও নিলস-এর উপদেষ্টা প্রফেসর এ বি এম আবু নোমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওয়ার্কশপে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, নিলস-বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট নাসরিন সুলতানা। অনুষ্ঠানে উপাচার্যকে নিলস-বাংলাদেশ-এর পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। ওয়ার্কশপে রিসোর্সপার্সন ছিলেন, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মাসুমা জামান, চবি আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঈন উদ্দীন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আপিল বিভাগের এডভোকেট মোহাম্মদ জিয়াউল হক, চবি আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাইদ আহসান খালিদ ও হাসান মুহাম্মদ রোমান এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার রুমানা আনিস।অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, নিলস-বাংলাদেশের ট্রেজারার মোহাম্মদ সাজ্জাদ। সেমিনারে বাংলাদেশের সরকারী- বেসরকারী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাড়ে চারশত শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
২৬ ফেব্রুয়ারি টিআইসি-তে গ্রিক ট্র্যাজেডি ইডিপাস
২৪ফেব্রুয়ারী,রবিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: তির্যক নাট্যদলের প্রাচীন গ্রীক ট্;্র্যাজেডি সফোক্লিসের ইডিপাস নাটক আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টায় থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম (টিআইসি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে। তির্যক নাট্যদলের ৩৮তম প্রযোজনা আহমেদ ইকবাল হায়দার নির্দেশিত ইডিপাস নাটকের প্রথম মঞ্চায়ন হয় ১৯৯৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম মুসলিম হলে। এ পর্যন্ত তির্যক ইডিপাস নাটকের ১৪৫টি প্রদর্শনী সম্পন্ন করেছে। নাটকের অগ্রিম টিকেট টিআাইসি হল কাউন্টারে পাওয়া যাচ্ছে। গ্রিক ট্ট্যাজেডিতে মানুষের অপরিসীম হতাশা আর অসহায়ত্ব চিত্রিত হয়েছে। এরকম অব্যক্ত চিত্তদহনের ছবি পৃথিবীর অন্য ভাষার সাহিত্যে আগে দেখা যায় নি। গ্রীক ট্;্র্যাজেডির অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাহিনী ইডিপাস যেখানে জীবন একই সঙ্গে নিষ্ঠুর এবং মহিমান্বিত। ভাগ্যহত ইডিপাস, বিপর্যস্ত জীবনের মধ্যে তার বিধাতাকে প্রত্যক্ষ করেছেন যে বিধাতা ভয়ংকর। সত্যান্বেষণের পাশাপাশি অনিশ্চয়তার বিপুল তরঙ্গে ভেসে চলেন ইডিপাস তৃণখণ্ডের মতো। এই নাটকে অভিনয়ে ও নেপথ্যে রয়েছেন, সুজিত চক্রবর্ত্তী, মাহবুবুল ইসলাম রাজিব, রিপন বড়ুয়া, অমিত চক্রবর্ত্তী, মফিজুর রহমান, রমিজ আহমেদ, প্রবাল বড়ুয়া, নুসরাত জাহান, ফারজানা ইসলাম টিনা, সালমা চৌধুরী, রঙি দেব তুলি, তাহমিদ তাজওয়ার, শায়লা শারমিন, সাইদুর রহমান চৌধুরী ও আহমেদ ইকবাল হায়দার। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকুন : এমপি লতিফ
২৪ফেব্রুয়ারী,রবিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: মহান একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম-১১ আসনের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আগ্রাবাদস্থ পুরাতন চেম্বার হাউস মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভার সভাপতি এম এ লতিফ এমপি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান। তিনি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ৫২ থেকে ৭১ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিক আন্দোলনের ফল আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিজয়। তিনি বলেন- স্বাধীনতার বিপক্ষের ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় ৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির জনককে সপরিবারে হত্যা হয়। এখন বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে স্বাধীনতা বিরোধীদের সেই ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি দেশ ও নেত্রীর বিরুদ্ধে সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পতাকা তলে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান। এম.এ.লতিফ এমপি ২১ ফেব্রুয়ারি প্রথম প্রহরে দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তিনি দিবস এর কর্মসূচির সূচনা করেন। উক্ত কর্মসুচির অংশ হিসেবে আগ্রাবাদস্থ পুরাতন চেম্বার হাউস মিলনায়তনে দুপুর ১১ টায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগ উপদেষ্টা যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো.এনামুল হক চৌধুরী সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মাহাবুবুল হক মিয়া, বন্দর থানা আওয়ামীলীগ সভাপতি নুরুল আলম, ইপিজেড থানা আওয়ামীলীগ আহবায়ক হারুনুর রশিদ, ৩৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগর আহবায়ক এসকান্দর মিয়া, পতেঙ্গা থানা আওয়ামী লীগর যুগ্ম আহবায়ক মো. ইসলাম, ৩৭নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হোসন মুরাদ, সহ সভাপতি মো: জানে আলম, ৩৯ ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আসলাম, ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ-র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুলতান মো: নাছির উদ্দিন,সাধারন সম্পাদক শফিউল আলম, ৪০নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগর সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আকবর ৩০নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ-র সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন ইবনে আহম্মদ,৩৮নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগর সভাপতি এম.হাসান মুরাদ, সাধারণ সম্পাদক হাজী মো: হাসান, ২৮নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগর সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্যও দেবাশীষ পাল দেবু বন্দর সিবিএর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নায়েবুল ইসলাম ফটিক, সি এন্ড এজেন্ট কর্মচারী ইউনিয়ন সভাপতি জহুরুল আলম মজুমদার, সভায় উপস্থিত ছিলেন- ৩০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী, ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি জহির আহম্মদ ২৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম মোহাম্মদ জোবায়ের, ২৯নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি আলহাজ্ব আলী বঙ, ২৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাফরুল হায়দার সবুজ, বন্দর থানা আওয়ামীলীগর সহ-সভাপতি সৈযদ মাহাবুব আলম, ৩৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগর যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ মো: হোসেন, ৩৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগর যুগ্ম আহবায়ক মো: মোরশেদ আলী ইউনিট সভাপতি মো: মোক্তার, সাধারন সম্পাদক রিফাত আলম, ৪০নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগর দপ্তর সম্পাদক সেকান্দর আজম, ইপিজেড থানা আওয়ামী লীগর যুগ্ম-আহবায়ক আবু তাহের, বন্দর থানা বঙ্গবন্ধু পরিষদ এর সাধারণ সম্পাদক ৩০নং ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি আবদুল মালেক ২৯নং ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি আফসার উদ্দিন, সহ-সভাপতি রাশেদ যোবায়েরী, সাধারণ সম্পাদক শাহীন সরোয়ার, ৩৮নং ওয়ার্ড যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মোঃ আক্তার, ৩৯ নং ইউনিট আওয়ামী লীগর সভাপতি মো: আব্দুল রউফ ৪০নং ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মোঃ সালাউদ্দিন, ৪১নং ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি মাইনুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন রাজু, স্বাধীনতা নারী শক্তি পরিচালক অধ্যাপিকা বিবি মরিয়ম। সিটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ সাধারণ সম্পাদক মো: ইকবাল হোসেন, ব্যারিস্টার কলেজ ভিপি জাহেদ হোসেন খোকন মহানগর ছাত্রলীগর ক্রীড়া সম্পাদক আবু তারেক রনি,সহ-সম্পাদক মোঃ আরিফ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, শ্রমিকলীগ নেতৃবৃন্দ এবং স্বাধীনতা নারী শক্তির পরিচালক, সহকারী পরিচালক, ইউনিট নেত্রী ও সদস্যবৃন্দ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
চট্টগ্রামে ডবলমুরিং থানা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বাবা-ছেলের
২৩ফেব্রুয়ারী,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: মহানগরীর ডবলমুরিং থানার কদমতলী এলাকায় কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় মোটর সাইকেল আরোহী বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাত পৌনে ১২টার দিকে কদমতলীর ধনিয়ালাপাড়া মসজিদের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মো. সগীর (৪২) মনসুরাবাদ এলাকায় মুদি দোকানী ও তার ছেলে মো. জোনায়েদ (১২) আগ্রাবাদ গণপূর্ত বিদ্যা নিকেতনের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। ডবলমুরিং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জহির হোসেন জানান, শুক্রবার রাতে ধনিয়ালাপাড়া মসজিদের সামনে দ্রুতগতির একটি কাভার্ড ভ্যান মোটর সাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই মোটর সাইকেল আরোহী বাবা ও ছেলে মারা যায়। তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া মোটর সাইকেলটি থানায় এনে রাখা হয়েছে।
একুশে ফেব্রুয়ারি বিশ্বের ইতিহাসে অনন্য দিন
২৩ফেব্রুয়ারী,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. অনুপম সেন বলেন, মাতৃভাষার জন্য বাঙালির আত্মদানের ঘটনা স্বীকৃতি পেয়েছে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে। ১৯৯৯ সালে ইউনেসকো একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। তারপর থেকে এদিনে বাঙালির সঙ্গে সারা বিশ্বেই দিনটি উদযাপিত হচ্ছে। সুতরাং একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির ইতিহাসে একটি অনন্য দিন হলেও, এখন বিশ্বের ইতিহাসেও অনন্য ও অসাধারণ দিন। গত ২১ ফেব্রুয়ারি জিইসি মোড়স্থ প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে পুষ্পমাল্য অর্পণ করার প্রাক্কালে তিনি এসব কথা বলেন। উপাচার্য প্রফেসর ড. অনুপম সেন বাংলা ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিক ইতিহাস বর্ণনা করে বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ যে ভাষাভিত্তিক জাতীয় রাষ্ট্র হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এক রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ করল, তার বীজ অঙ্কুরিত হয়েছিল ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলনের মহান সংগ্রামে। বস্তুত এই স্বাধীনতা সংগ্রাম ভাষা আন্দোলনেরই যৌক্তিক পরিণতি। উপাচার্য প্রফেসর ড. অনুপম সেন শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করার পরে ইউনিভার্সিটির কর্মকর্তা-কর্মচারী, গণিত বিভাগ, তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগ, ইংরেজি বিভাগ, ব্যবসা-শিক্ষা অনুষদ, আইন বিভাগ, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, স্থাপত্য বিভাগ, অর্থনীতি বিভাগ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি, রোবটিক্স ক্লাব, আইইইই প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট ব্রাঞ্চ, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি ল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (পুলা), অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অব ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার্স পুষ্পমাল্য অর্পণ করে। এসময় উপস্থিত ছিলেন ব্যবসা-শিক্ষা অনুষদের প্রফেসর অমল ভূষণ নাগ, প্রকৌশল অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. তৌফিক সাঈদ, ব্যবসা-শিক্ষা অনুষদের সহকারী ডিন মঈনুল হক, প্রক্টর আহমদ রাজীব চৌধুরী, গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইফতেখার মনির, স্থাপত্য বিভাগের চেয়ারম্যান সোহেল এম শাকুর, আইন বিভাগের চেয়ারম্যান তানজিনা আলম চৌধুরী, ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান সাদাত জামান খান, অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ফারজানা ইয়াসমিন চৌধুরী, তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান টুটন চন্দ্র মল্লিক প্রমুখ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপাচার্যের উপদেষ্টা ও প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু তাহের, রেজিস্ট্রার খুরশিদুর রহমান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শেখ মুহাম্মদ ইব্রাহিম, উপ-পরিচালক (হিসাব) হাছানুল ইসলাম চৌধুরী এবং ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান কাউসার আলম প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
আগামীতেও বৃহত্তর পরিসরে বইমেলা আয়োজনে সহযোগিতা চাইলেন মেয়র
২৩ফেব্রুয়ারী,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভাষা সৈনিক, মুক্তিযোদ্ধা, সমাজ সেবক, চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ, সংগীত শিল্পী, পেশাজীবী, সাংবাদিকতাসহ চৌদ্দটি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য চট্টগ্রামের চৌদ্দ গুণী ব্যক্তিকে একুশে স্মারক সম্মাননা পদক ও একুশে সাহিত্য পুরস্কার ২০১৯ দিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন । গত বৃহস্পতিবার এমএ আজিজ স্টেডিয়ামস্থ জিমনেসিয়াম চত্বরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত ও সৃজনশীল প্রকাশনা পরিষদের সহযোগিতায় বইমেলা মঞ্চে সিটি মেয়র আলহাজ্ব আ.জ.ম.নাছির উদ্দীন পদক প্রাপ্ত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন। অমর একুশে বই মেলা চট্টগ্রাম-২০১৯ এর আহবায়ক কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউকের সভাপতিত্বে সভায় চসিক প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী,চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা ও প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া বক্তব্য রাখেন। সংবর্ধিত ব্যক্তিদের মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য প্রফেসর ড.শিরিন আখতার, প্রকৌশলী আলী আশরাফ, সাফিয়া গাজী রহমান, মানজুর মুহাম্মদ, মোস্তফা কামাল, মহিউদ্দিন শাহ আলম নিপু, মরহুম আইয়ুব বাচ্চুর পিতা হাজী মোহাম্মদ ইসহাক, দবির আহমদ চৌধুরীর এর পুত্র আবদুর রহমান চৌধুরী অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তব্য রাখেন। এসময় তারা এ আয়োজনের জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে ধন্যবাদ জানান এবং আগামীতে আরো বৃহত্তর পরিসরে আয়োজনে তাদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। বই মেলা মঞ্চে সংবর্ধিত গুণীজন,চসিক কাউন্সিলর,সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি মেয়র বলেন- নগরীর গুণীজনদের সংবর্ধনা প্রদান ও তাদের অবদানের স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমে হাজারো গুণীজন সৃষ্টি হবে। চট্টগ্রামের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে মেয়র বলেন- যেসব দেশের প্রধান ভাষা একাধিক, সেখানে কোনো একটি ভাষাকে দাপ্তরিক ভাষা ঘোষণা করা মানে সেই ভাষায় কথা বলা মানুষকে অন্যদের চেয়ে বেশী সুযোগ প্রদান করা, অন্য ভাষার মানুষের উপর কর্তৃত্ব করাতে রাস্ট্রীয় সমর্থন যোগানো। এর ফলে একাধিক ভাষাভাষির মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি হয়। এ প্রসংগে মেয়র বলেন- ভাষা রাজনীতি যে জাতি ও রাষ্ট্রকে বিভক্ত করতে পারে উর্দু নিয়ে তৎকালিন পাকিস্তানী রাজনীতির একটি উজ্জল উদাহরণ। তাই আমাদের উপর উর্র্দূ চাপিয়ে দেয়ার পরিণতি ভাষা আন্দোলন। ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা আন্দোলন এবং স্বাধীনতা। বই মেলা আয়োজনের কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন অতীতে চট্টগ্রামে বিক্ষিপ্তভাবে একাধিক বই মেলা আয়োজনের কারণে এখানে কোনো বই মেলাই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি। এই বাস্তবতা উপলব্ধি করে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের জনগণ ও পাঠক সমাজ দীর্ঘদিন থেকে দাবি জানিয়ে আসছিল চট্টগ্রামে ঢাকার আদলে একক বই মেলার আয়োজন করার। এই বাস্তবতা উপলব্ধি থেকে একটি গ্রহণযোগ্য ও সম্মিলিত বই মেলা আয়োজনের জন্য আমি বিভিন্নভাবে প্রকাশক, নাগরিক সমাজ, লেখক, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, শিক্ষক, গবেষক ও সাহিত্য সংস্কৃতি কর্মীদের সাথে আলোচনা করি। তাই এবারের আয়োজন ভিন্ন আঙ্গিকে হওয়ায় প্রাথমিকভাবে আমরা সফল হয়েছি। জিমনেসিয়ামের সামনের রাস্তাসহ সম্প্রসারণ করে আরো বৃহত্তর পরিসরে, কলবরে আগামী বছরও ১০ ফেব্রুয়ারি এই মঞ্চে ১৯ দিনব্যাপী এই বই মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এইজন্য তিনি চট্টগ্রামের সকল নাগরিকের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, ২১ শে ফেব্রুয়ারি মহান মাতৃভাষা দিবস। এই ভাষা আমার মায়ের এবং আমার মুখের ভাষা। এই ভাষাকে সমৃদ্ধ করার দায়িত্ব আমাদের সকলের। আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে সারা বিশ্বে যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে এই দিনটি পালিত হচ্ছে। এই ভাষাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিতি ও সমৃদ্ধ করার জন্য বেশি বেশি লেখনির উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন লেখনির মাধ্যমে এই ভাষা যতই সমৃদ্ধ হবে, ততই দেশ ও জাতি হিসেবে বিশ্বের কাছে অধিকতর সমাদৃত হবে। আমারা সমৃদ্ধ ও মানসম্মত লেখার বই চাই। যে লেখায় পাঠকের মনের চাহিদা পূরণ করবে। তিনি বলেন- ৭১ -এ বঙ্গবন্ধুর আহবানে আমরা যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলাম। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে এ দেশ স্বাধীন হয়। অনুরূপভাবে আমরা আমাদের ভাষাকে সমৃদ্ধ করার জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করি। এর আগে চট্টগ্রামের ভাষা সৈনিক,মুক্তিযোদ্ধা, সমাজ সেবক, চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ, সংগীত শিল্পী, পেশাজীবীদের সম্মাননা প্রদানের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ১৪জনের নাম ঘোষণা করে। এর মধ্যে একুশে সম্মাননা পদক পেয়েছেন ১০ গুণী ব্যক্তি এবং সাহিত্য ক্ষেত্রে পেয়েছেন ৪জন । এবার চসিক কর্তৃক পদকপ্রাপ্তরা হলেন- ভাষা সৈনিক, মুক্তিযোদ্ধা, সমাজসেবক, চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ, সংগীত শিল্পী, পেশাজীবী, সাংবাদিক, কবি, লেখকও রয়েছেন। এ একুশে স্মারক সম্মাননা পাওয়া চৌদ্দ জনের মধ্যে ভাষা আন্দোলনে দবির আহমদ চৌধুরী(মরণোত্তর), মুক্তিযুদ্ধে (মরণোত্তর) মোহাম্মদ ইব্রাহীম, স্বাধীনতা আন্দোলনে শহীদ আবদুর রব (মরণোত্তর), সঙ্গীতে আইয়ুব বাচ্চু (মরণোত্তর) এর পক্ষে তাঁদের পরিবারের সদস্যরা ক্রেস্ট ও সনদ গ্রহণ করেন । এছাড়া চিকিৎসা বিজ্ঞানে ডা. এস এম কামাল উদ্দীন, ক্রীড়ায় কামাল উদ্দীন আহমেদ, শিক্ষায় প্রফেসর (প্রকৌশলী) আলী আশরাফ, সমাজ সেবায় সাফিয়া গাজী রহমান, সংগঠক হিসেবে মহিউদ্দিন শাহ আলম নিপু, সাংবাদিকতায় মোস্তফা কামাল পাশা, সাহিত্যে গবেষণায় পুরস্কার পেয়েছেন ড.শিরীণ আখতার, কথাসাহিত্যে দেবাশীষ ভট্টচার্য্য, শিশু সাহিত্যে মানজুর মুহাম্মদ ও কবিতায় খালেদ হামিদী। তারা নিজেরাই মেয়রের নিকট থেকে ক্রেস্ট ও সনদ গ্রহণ করেন। মহান একুশে উপলক্ষে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ.জ.ম.নাছির উদ্দীনের নেতৃত্বে চসিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বুধবার দিবাগত রাত ১২ টা ১ মিনিটে নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ, বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টা ১ মিনিটে নগর ভবনস্থ বঙ্গবন্ধু চত্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র, কাউন্সিলর, সংরক্ষিত কাউন্সিলর, চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামশুদ্দোহা, ভারপ্রাপ্ত সচিব প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু শাহেদ চৌধুরী, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়াসহ বিভাগীয় শাখা প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া চসিক শ্রমিক-কর্মচারী লীগ(সিবিএ)এবং ওয়ার্ড সচিব ফোরাম নেতৃবৃন্দ নগর ভবন চত্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর