সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২০
বণিকতন্ত্রের নিকট মানবতন্ত্র অসহায় হয়ে পড়েছে: খোরশেদ আলম সুজন
০৬মে,বুধবার,রাজিব দাশ, চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: বণিকতন্ত্রের নিকট মানবতন্ত্র অসহায় হয়ে পড়েছে বলে মত প্রকাশ করেছেন নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন। তিনি গতকাল ৪ই মে ২০২০ইং সোমবার রাত ১০টায় উত্তর কাট্টলীস্থ নিজ বাসভবনে তার ফেসবুক পেইজে লাইভে দেশে এবং প্রবাসে অবস্থানরত নেতা-কর্মী, সমর্থক এবং শুভানুধ্যায়ীদের সাথে আলাপচারিতায় উপরোক্ত মন্তব্য করেন। এ সময় সুজন বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দিনরাত পরিশ্রম করছেন। তিনি এ ভাইরাস মোকাবিলাকে যুদ্ধ জয়ের মতো উল্লেখ করে জনগনকে ঘরে থাকার আহবান জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি করোনাভাইরাসের মহাদূর্যোগ থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করার জন্য প্রতিনিয়ত নিত্য নতুন কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করছেন। জনগনের ঘরে থাকার সুবিধার্থে গত ২৬শে মার্চ থেকে ধারাবাহিকভাবে টানা সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি যে সরকারের এতোসব কার্যকরী উদ্যোগকে বাঁধাগ্রস্ত করছে এক শ্রেণীর বণিকতন্ত্র। যারা ছলে বলে কৌশলে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে শুরু করেছে। তাদের কাছে মানুষের জীবনের চেয়ে অর্থটাই মূখ্য। তাই তারা সরকারের নির্দেশনা উপেক্ষা করে নিজেদের ইচ্ছেমতো তাদের কর্মকান্ড পরিচালনা করছে। তারা সরকারকে জিম্মি করে তাদের অসৎ ফায়দা হাসিলে সদা তৎপর রয়েছে। এতে করে করোনাভাইরাসে সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ছে দ্রুতগতিতে। মানুষের জীবন রক্ষা আজ বানিজ্যিকরণের কাছে বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে। এসব বণিকতন্ত্রের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার উদাত্ত আহবান জানান তিনি। লাইভে নগরবাসী বিভিন্ন দুর্ভোগের কথা জনাব সুজনকে অবহিত করেন। বেশীরভাগ নগরবাসীই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখা, বেসরকারি হাসপাতালের নৈরাজ্য বন্ধ, ওয়াসার অনিয়মিত পানি সরবরাহ, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং নগরজুড়ে মশার উৎপাত বন্ধ করাসহ বিভিন্ন জনদুর্ভোগ নিরসনে জনাব সুজনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তিনি বলেন বেসরকারি হাসপাতালগুলো এখনো জনগনের চিকিৎসায় কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। তাদের গাফিলতির কারণে মৃত্যুর মুখে পতিত হচ্ছে সাধারণ অসুস্থ রোগী। অথচ নূন্যতম সেবা পেলে এসব রোগীদের জীবন বাঁচানো কোন কঠিন বিষয় ছিলো না। তিনি বেসরকারি হাসপাতালের মালিকদের জনগনের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি না খেলার জন্য বিনীত অনুরোধ জানান। এছাড়া হলি ক্রিসেন্টের মতো একটি পরিত্যক্ত হাসপাতালকে করোনা রোগীর চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করছি, করবো বলে সময়ক্ষেপণ করছে যা জনগনের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি চট্টগ্রামে করোনা চিকিৎসায় সমন্বয়হীনতা রয়েছে উল্লেখ করে অতিসত্বর তা দূর করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানান। এছাড়া করোনা চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইসিইউ বেড, ভেন্টিলেটর, কিট এবং ঔষধপত্রসহ অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জামও বৃদ্ধি করার বিশেষ আহবান জানান। তিনি আরো বলেন আমরা বারবার ওয়াসার এমডির নিকট অনুরোধ জানিয়েছি যে নগরীর যে সমস্ত এলাকায় ওয়াসার পানির সরবরাহ স্বাভাবিক নয় সে সব এলাকায় রেশনিংয়ের মাধ্যমে হলেও ওয়াসার পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা। কারণ সরকারি নির্দেশনা হচ্ছে জনগনকে ঘরে থাকা। সেই নির্দেশনা পালন করতে হলে অবশ্যই ব্যবহার্য পানির ব্যবস্থাও করতে হবে ওয়াসাকে। তাছাড়া রমজান মাসে গৃহস্থালি কাজে পানির ব্যবহার পূর্বের তুলনায় কম হলেও গ্রাহকগণ কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তিনি যে কোন মূল্যে ওয়াসার পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার উদাত্ত আহবান জানান এবং যে সকল এলাকায় পানি সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে সে সকল এলাকায় ভাউচারের মাধ্যমে পানি সরবরাহ প্রদানের আহবান জানান। নচেৎ নৈতিক দায়িত্ব পালনে বর্তমান পরিস্থিতিতেও ওয়াসা অফিসে অবস্থান নিতে বাধ্য হবেন বলে হুশিয়ারি উচ্চারন করেন জনাব সুজন। করোনাভাইরাসের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে পবিত্র রমজান এবং ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সীমিত পরিসরে আগামী ১০ মে থেকে দোকান পাট ও শপিংমলগুলো খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত দোকান পাট ও শপিংমল খোলা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে পালনের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। তিনি শপিংমল এবং দোকান পাটে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার উদাত্ত আহবান জানান। এছাড়া শপিংমলের প্রবেশমুখে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখার অনুরোধ জানান। এছাড়া উপরোক্ত নির্দেশাবলী যারা অমান্য করবেন তাদের জরিমানা সহ শাস্তি প্রদানের জন্য প্রশাসনের নিকট বিনীত আহবান জানান। তিনি কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানীকে অনলাইনে গ্যাসের বিল জমা নেওয়ার জন্য উদাত্ত আহবান জানিয়ে বলেন দেখা যাচ্ছে যে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা পালন করতে গিয়ে একজন গ্রাহকের বিল জমা নিতে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় ব্যয় হচ্ছে। এতে করে গ্রাহকগণ ভোগান্তিতে পড়ছে। তাছাড়া রমজান মাসে এভাবে লাইনে দাড়িয়ে থাকতে গিয়ে অনেক গ্রাহক অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। যদি কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানীর অনলাইনে বিল নেওয়ার কোন ব্যবস্থা না থাকে সে ক্ষেত্রে সাধারন ছুটি শেষ হওয়ার পর গ্রাহকদের কাছ থেকে বিল জমা নেওয়ার জন্য কেজিডিসিএল এর এমডির হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। তিনি করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে নিঃস্বার্থভাবে রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিতে টাকার যোগান দেওয়া রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের প্রতি নজর দেওয়ার জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন। বর্তমান লক ডাউন অবস্থায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আমাদের প্রবাসী ভাইয়েরা মানবেতর জীবন যাপন করছে। এ মূহুর্তে তাদের পাশে দাড়ানো সরকারের একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য। কারণ প্রবাসীরা স্ব-উদ্যোগে জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখছে। তাদের এ অবদানের পিছনে কারো কোন সাহায্য নেই।
শরীরে বিশেষ কায়দায় লুকানো ইয়াবাসহ Rab এর হাতে আটক ৩ মাদক ব্যবসায়ী
০৫মে,মঙ্গলবার,কমল চক্রবর্তী,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া থানাধীন চক্রশালা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১১,৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারসহ ৩ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে Rab-7। মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ (ঢাকা-মেট্রো-ন-১৭-৪৪৯৪) জব্দ করা হয়। মঙ্গলবার ৫ মে দুপুর ১ঃ০০ টার সময় চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া থানাধীন চক্রশালা কৃষি উচ্চ বিদ্যালয়ের বিপরীতে কক্সবাজার টু চট্টগ্রাম মহাসড়কের উপর অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান ইয়াবাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে বলে জানান Rab-7 এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি মাহ মুদুল হাসান মামুন। আটককৃত আসামীরা হলেন, মোঃ মামুন মিয়া (২৫), পিতা- মোঃ আলী হোসেন, সাং- কোনাডহর, থানা- পূর্বধলা, জেলা- নেত্রকোনা, ড্রাইভার মোঃ আব্দুল মান্নান (৩০), পিতা- মৃত আব্দুল জব্বার, সাং- গিটুরয়ারাী, থানা- তারাকান্দী, জেলা- ময়মনসিংহ এবং হেলপার মোঃ রিপন (৩৫), পিতা- মোঃ আলেপ আলী, সাং- সানোয়া, থানা- তারাকান্দী, জেলা- ময়মনসিংহ। Rab-7 এর সহকারী পরিচালক (অপারেশন) মেজর মুশফিকুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারি যে, কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী কক্সবাজার হতে একটি পিকআপ যোগে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট নিয়ে চট্টগ্রামের দিকে আসছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে Rab-7 এর একটি টহল দল পটিয়া থানাধীন চক্রশালা কৃষি উচ বিদ্যালয়ের বিপরীতে কক্সবাজার টু চট্টগ্রাম মহাসড়কের উপর একটি বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে করে গাড়ি তল্লাশী শুরু করে। এ সময় কক্সবাজার হতে চট্টগ্রামগামী একটি পিকআপ এর গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে Rab সদস্যরা গাড়িটিকে থামানোর সংকেত দিলে মাদক ব্যবসায়ীরা রRabর উপস্থিতি টের পেয়ে গাড়িটিকে রাস্তার পাশে থামিয়ে ড্রাইভারসহ ৩ জন ব্যক্তি দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে Rab সদস্যরা দের আটক করে। পরে আটককৃত আসামীদের দেহ তল্লাশী করে তাদের পাঁয়ের হাটুর নিচে কালো কস্টেপ মোড়ানো নীল রংয়ের পলিজিপার প্যাকের মধ্য থেকে ১১,৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার কতা হয়। এসময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপটি (ঢাকা-মেট্রো-ন-১৭-৪৪৯৪) জব্দ করা হয়। তিনি আরও জানান,গ্রেফতারকৃত আসামীদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা দীর্ঘদিন যাবত বিভিন্ন কৌশলে কক্সবাজার হতে ইয়াবা ট্যাবলেট সংগ্রহ করে আটক পিকআপের মাধ্যমে নেত্রকোনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার করছে এবং এইসব এলাকা সমূহে নিজস্ব প্রতিনিধির মাধ্যমে খুচরা ও পাইকারী ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রয় করে আসছে। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের আনুমানিক মূল্য ৫৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা এবং জব্দকৃত পিকআপের আনুমানিক মূল্য ২০ লক্ষ টাকা। গ্রেফতারকৃত আসামীদের পটিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এবার ফলের বাজার অস্থিরে ব্যবসায়ীদের নতুন অপকৌশল,ভুয়া রশিদে ফল বিক্রি
০৫মে,মঙ্গলবার,কমল চক্রবর্তী,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম ও ঢাকা ভিত্তিক মাল্টা আমদানিকারকরা আমদানি মূল্য সংক্রান্ত এবং আড়তদারকে সরবরাহ মূল্য সংক্রান্ত কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই মাল্টা চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাস করে পাঠিয়ে দিচ্ছে ফলমুন্ডিতে। কমিশন এজেন্ট, আড়তদার, পাইকারি বিক্রেতা এবং খুচরা বিক্রেতারা যোগসাজশ করে মাল্টা এখনো বেশি দামে সাধারণ ভোক্তাদেরকে বিক্রি করছে। আজও চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন খুচরা বাজার থেকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে সেইসব খুচরা ব্যবসায়ীদেরকে স্টেশন রোড এলাকার ফলমন্ডিতে নিয়ে যান জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তৌহিদুল ইসলাম। সেনাবাহিনীর টহল টিমের লিডার ক্যাপ্টেন রাকিব এবং সিএমপি সদস্যদের সহযোগে আরেক দফা অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তৌহিদুল ইসলাম এবং গালিব চৌধুরী। আজকের অভিযানে প্রথমে ম্যাজিস্ট্রেট গালিব চৌধুরী রেয়াজুদ্দিন বাজারে মনিটরিং করেন। সেখানকার ব্যবসায়ীদেরকে মাল্টার খুচরা পর্যায়ে অতিরিক্ত মূল্যের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা ভ্রাম্যমাণ আদালতের নিকট স্বীকারোক্তি দেন যে, ফলমুন্ডির ব্যবসায়ীরা জেলা প্রশাসন চট্টগ্রামের অব্যাহত কঠোর ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের চাপে মাল্টা এখন আমদানিকারক এবং কমিশন এজেন্টদের সাথে যোগসাজশ করে কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণ করছেন। এরপর ভোরবেলা সেসকল কোল্ড স্টোরেজ থেকে মাল্টা এনে আজকে ৫ মে তারিখেও প্রতি কার্টুন ২৪০০ টাকা দরে ( প্রতি কেজি ১৬০ টাকা) বিক্রি করছে। কিন্তু রশিদ দিচ্ছে ১৫০০টাকার। এমনকি কিছু অসাধু আড়তদার রশিদ ছাড়া বাকীতে খুচরা বিক্রেতাদের হাতে মাল্টা দিয়ে দিচ্ছে। অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করে পরে যাতে তাদেরকে মূল্য পরিশোধ করে। এখানে উল্লেখ্য যে, মাল্টার গড় আমদানি খরচ ৬৫-৭০ টাকা ( সকল খরচ সহ)। সে হিসেবে পাইকারিতে দাম হওয়ার কথা কেজিপ্রতি ৮০-৮৫ টাকা এবং খুচরা পর্যায়ে ৯০-৯৫ টাকা। ফলমন্ডি এলাকায় অভিযানে গেলে দেখা যায়, অধিকাংশ মাল্টা ব্যবসায়ীরা দোকান কৌশলে মাল্টা বিহীন করে অন্যান্য ফল বিক্রি করছেন। রেয়াজুদ্দিন বাজারের খুচরা বিক্রেতা খোকন মিয়ার সূত্র ধরে ফলমুন্ডির আল-আমিন ট্রেডার্স এ অভিযান করা হলে ঐ আড়তের ম্যানেজার সুমন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নিকট স্বীকারোক্তি দেন যে মূলতঃ তারা কোল্ড স্টোরেজে মাল্টা সরিয়ে রেখেছেন। কৌশলে তারা চট্টগ্রাম ও ঢাকাভিত্তিক মাল্টা আমদানিকারক চক্রের সাথে সংঘবদ্ধ হয়ে কমিশন এজেন্ট, ব্রোকার, অসাধু কোল্ড স্টোরেজ, আড়তদার, পাইকারি এবং খুচরা ব্যবসায়ীদের যোগসাজশে মাল্টার দাম বেশি রাখছেন। এসময় আল-আমিন ট্রেডার্স এর মালিক মোঃ আলী হোসেন মার্কেট থেকে পালিয়ে যান। পরে আড়তের ম্যানেজারকে আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অব্যাহত অভিযানের পর-ও ফলমুন্ডি বাজার ফল ব্যবসায়ী সমিতি কার্যকর পরে পদক্ষেপ না নেয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের সমিতির ব্যর্থতার বিষয়ে মুচলেকা আদায় করেন। চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষে সভাপতি আবদুল মালেক এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলমগীর যৌথভাবে ফল ব্যবসায়ীদের নতুন অপকৌশলের বিষয়ে সাক্ষ্যমূলক মুচলেকা দেন। যেসকল ফল ব্যবসায়ী এ অভিনব কারসাজিতে যুক্ত হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হবে। আজকের অভিযানে ফলমণ্ডি বাজার এলাকায় অবস্থিত মাল্টা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান গুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় চিটাগাং ফল বাণিজ্য (প্রাঃ) লিঃ, জি.এস ট্রেডিং, মেসার্স নুবাইদ, ইব্রাহিম এন্টারপ্রাইজ সবাই অফিস ফেলে পালিয়ে যান। মেসার্স এন.এস ফ্রুটস ইন্টারন্যাশনাল এর অফিস খোলা পাওয়া গেলেও সেখানে দোকানের এক কর্মচারী পাওয়া যায়। যিনি ভ্রাম্যমাণ আদালত কে জানান তার মালিক ঐ প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা ব্যবহার করলেও সেখানে কোনো মাল্টা/ফল আমদানির কোনো দাপ্তরিক কাগজপত্র নাই। উক্ত অফিসে ঢুকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেখেন যে, সেখানে অফিস কাম বাসার আদলে থাকা-খাওয়ার আয়োজন করা রয়েছে। এরপর আরেকটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সরেজমিন পরিদর্শন করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর নিকট প্রতীয়মান হয় যে, প্রশাসনকে ফাঁকি দেয়ার জন্য আমদানিকারক সম্প্রতি দোকানের স্যাটারের সামনে যে স্থানে প্রতিষ্ঠানের নাম লেখা থাকে সেটি কৌশলে কেঁটে ফেলেছেন। ফলমন্ডির বাজারে নিয়মিত আসা-যাওয়া করে এমন কয়েকজনের তথ্যমতে ফলমুণ্ডির ব্যবসায়ীরা মাল্টার পাশাপাশি আঙ্গুরের দাম বৃদ্ধির দিকে ঝুঁকছে। এর জন্য নতুন কৌশল নিচ্ছে। মূলত আগে বন্দর থেকে ফল খালাস করেই সেগুলো ফলমণ্ডি বাজারে নিয়ে আসতো। দ্রুত ফলমন্ডি থেকে বিক্রি করে দিতো বিভিন্ন জাতের ফল। কিন্তু বর্তমানে প্রশাসন, সেনাবাহিনী এবং পুলিশের কঠোর মনিটরিং থাকায় ফল ব্যবসায়ীরা কোল্ড স্টোরেজ মালিকদের সাথে আঁতাত করে নতুন সিন্ডিকেট গড়ে তুলে ফলের বাজার অস্থির করতে চাইছে। তবে ফলমুন্ডি থেকে নিয়মিত ফল কিনেন এমন কয়েকজন জানান, জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটগণ সেনাবাহিনী ও পুলিশ সহ যেভাবে কাজ করছেন এ করোনাদুর্যোগে এবং রমজানে বাজার মনিটরিং এর ক্ষেত্রে তাতে ব্যবসায়ীদের সকল অপকৌশলই ধরা পড়বে।
বাজার মনিটরিং ও সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান
০৫মে,মঙ্গলবার,কমল চক্রবর্তী,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: দ্রব্যমুল্যের পাশাপাশি ফলের বাজার ও অস্থির করে তুলেছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা ব্যবহার করছে নিত্য নতুন সব অপকৌশল। কখনো করছে ভুয়া রশিদ দিয়ে ফল বিক্রি। তাই ভোগ্যপন্যের পাশাপাশি ফলের বাজারও নিয়মিত টহল অব্যাহত আছে। নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসাবে আজ নগরীর বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয় এবং মুল্যতালিকা প্রদর্শন না করায় বেশ কিছু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়। আজ মঙ্গলবার ৫ মে সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৫:৩০ পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ বাজার ও স্থান গুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ উমর ফারুক বন্দর, ইপিজেড, পতেঙ্গা সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের নিয়ে এলাকাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে সচেতন করেন। বাজার মনিটরিং করতে বন্দর থানাধীন শনখোলা বাজারের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার ও কাচা বাজারে অভিযান পরিচালনা করেন।অভিযানে বাজার মূল্য তালিকা পর্যবেক্ষণ করে বাজার অস্থিতিশীল না করতে বাজার মুল্য তালিকায় ক্র‍য় মুল্য ও বিক্রয় মুল্য প্রদশর্নের ব্যাবস্থাসহ সকল ব্যাবসায়িক কর্যক্রমের কাগজপত্র সংরক্ষণ করার আহবান জানান।পাশাপাশি বাজার মুল্য তালিকা না থাকা ও অধিক মূল্যে পণ্য বিক্রয়ের কারনে শন্দ্রি এন্ড ট্রেডার্স কে ৩০০০টাকা, আশিক এন্টারপ্রাইজ কে ২০০০ টাকা, মনসুর আলীর মাংসের দোকান কে ১০০০ টাকা ও একজন মটর বাইক চালক কে ২০০ টাকা অর্থদন্ড করেন। তিনি ৪ টি মামলায় ৬২০০ টাকা জরিমানা করেন। ম্যাজিস্ট্রেট গালিব চৌধুরী কোতোয়ালি, চকবাজার, সদরঘাট, বাকলিয়া এলাকায় অভিযান চালায়। বাজার মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে চকবাজার ও রিয়াজউদ্দিন বাজারে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে বাজার মূল্য তালিকা পর্যবেক্ষণ করে বাজার অস্থিতিশীল না করতে বাজার মুল্য তালিকায় ক্র‍য় মূল্য ও বিক্রয় মুল্য প্রদশর্নের ব্যবস্থাসহ সকল ব্যবসায়িক কার্যক্রমের কাগজপত্র সংরক্ষণ করার আহবান জানান। পাশাপাশি বাজার মূল্য তালিকা না থাকা ও অধিক মূল্যে পণ্য বিক্রয়ের কারণে দুইজন মুদি দোকানদারকে মোট ৫০০০টাকা ও একজন ফল বিক্রেতাকে ২০০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। পাশাপাশি সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে দোকান খোলা রাখা একটি সেলুনকে ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড দেন। তিনি ৪টি মামলায় ৭৫০০ টাকা জরিমানা করেন। ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তাহমিনা সারমিন ডবলমুরিং, হালিশহর, পাহাড়তলী ও আকবরশাহ এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন।অলংকার মোড়ের একটি বেকারি দোকানকে মেয়াদ বিহীন পণ্য বিক্রির অভিযোগে ১০০০০ টাকা জরিমানা করেন, বড়পোল বাজারের একটি মুদি দোকানকে মূল্য তালিকা না রাখায় ৫০০০ টাকা এবং আকবরশাহ এলাকায় একজন মোটরবাইক চালককে ২০০ টাকা জরিমানা করেন। তিনি ৩ টি মামলায় ১৫২০০ টাকা জরিমানা করেন। ম্যাজিস্ট্রেট সুরাইয়া ইয়াসমিন বায়েজিদ,খুলশি,পাঁচলাইশ ও চাঁন্দগাও এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। বাজার মনিটরিংয়ে নগরীর বায়েজিদ বাজার এবং বহদ্দারহাট বাজারে মূল্য তালিকা না থাকায় দুইটি দোকানকে ৩০০০ টাকা ও ১ টি সেলুন কে ৫০০ টাকা জরিমানা করেন। তিনি ৩টি মামলায় ৩,৫০০ টাকা জরিমানা করেন। ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আলী হাসান বাকলিয়া,চকবাজার,কোতায়ালী, সদরঘাট এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। তিনি ৭ টি মামলায় ৪,৭০০ টাকা জরিমানা করেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজওয়ানা আফরিন বায়েজিদ,খুলশি,পাঁচলাইশ ও চাঁন্দগাও এলাকায় দুপুর ২ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত বাজার মনিটরিং করেন এবং সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করতে হ্যান্ডমাইকে প্রচারণা চালান। কোনো মামলা করেন নি। নগরীর বন্দর, ইপিজেড, পতেঙ্গা এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: আশরাফুল আলম এর নেতৃত্বে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একটি দল মূল রাস্তার পাশাপাশি বিভিন্ন অলিতে গলিতে তল্লাশি ও অভিযান পরিচালনা করে। পাশাপাশি সুশৃঙ্খলভাবে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে টিসিবির পণ্য বিক্রয় নিশ্চিত করেন এবং বাজার মনিটরিং করে ২ টি মামলার মাধ্যমে ৬,৫০০ টাকা জরিমানা করেন।
করোনা রোগীদের চিকিৎসায় প্রস্তুত হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতাল
০৫মে,মঙ্গলবার,শারমিন আকতার,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা রোগীদের চিকিৎসায় প্রস্তুত নগরীর জাকির হোসেন রোডের হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতাল। সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সাথে সংশ্লিষ্টদের বৈঠকে অবসান হয়েছে জটিলতা। চিকিৎসক-নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছেছেন সকলেই। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত পেলেই করোনা রোগীদের সেবা শুরু হবে হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালে। আজ রবিবার বিকেলে চসিক নগরভবনে এ সংক্রান্ত বিষয়ে চট্টগ্রাম প্রাইভেট ক্লিনিক মালিকদের সংগঠন ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিএমএ চট্টগ্রাম, জেলা প্রশাসন ও চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন এর সাথে বৈঠক করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। আজকের বৈঠকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি ইউনিট হিসেবে এই হলিক্রিসেন্ট হাসপাতালে প্রস্তুতকৃত করোনা হাসপাতালটি পরিচালিত হবে বলে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়। এছাড়া চমেক হাসাপাতাল এবং সরকারি হাসপাতালগুলো থেকে চিকিৎসক-নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মী দিয়েই পরিচালিত হবে এ হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতাল। এ হাসপাতালে থাকছে ভেন্টিলেটর সুবিধা সহ ১০ শয্যার আইসিইউ। বৈঠকে এটি পরিচালনা করতে গেলে মাসে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। যা সরকারের অনুদান ছাড়া সম্ভব নয়। তাই আজ বৈঠকের সিদ্ধান্ত মতে এই বিষয়ে দ্রুত নির্দেশনার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানোর জন্য বৈঠকে একমত পোষন করেন। মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই করোনা সেবা প্রদানে চালু করা সম্ভব হবে হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালটি। এসময় উপস্থিত ছিলেন চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো.সামসুদ্দোহা, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রি. জেনারেল হুমায়ুন কবির, ডিজিএফআই চট্টগ্রামের পরিচালক ব্রি. জেনারেল কবীর আহাম্মদ, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাক্তার হাসান শাহরিয়ার কবির, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. শামীম হাসান, সিভিল সার্জন ডাক্তার শেখ ফজলে রাব্বী, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার অসীম কুমার নাথ, বি.এম.এ চট্টগ্রাম এর সভাপতি মুজিবুল হক খান, সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার ফয়সল ইকবাল চৌধুরী, ডাক্তার লিয়াকত আলী খাঁন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সিএমপি উত্তর বিভাগের ব্যবস্থাপনায় বিপন্ন মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী হস্তান্তর
০৫মে,মঙ্গলবার,রাজিব দাশ,চট্টগ্রাম,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) এর কার্যালয়ে সিটি ব্যাংক লিঃ এর উদ্যোগে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তর বিভাগের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত হয় বিপন্ন রোজাদার মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী হস্তান্তর কার্যক্রম। এ কার্যক্রমের আওতায় সিটি ব্যাংক লিঃ এর পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম নগরীতে করোনার প্রাদুর্ভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া বিপন্ন ও অসহায় রোজাদার ৭০০ (সাতশত) পরিবারের প্রতিটির জন্য ০৫ কেজি চাল, ০১ কেজি মসুর ডাল, ০১ কেজি ছোলা, ০১ লিটার ভোজ্য তেল, ০১ কেজি লবন ও ০১টি সাবান সহ সর্বমোট ০৯ কেজি খাদ্য দ্রব্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) বিজয় বসাক, বিপিএম, পিপিএম (বার) হস্তান্তর করা হয়। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্তৃপক্ষ নগরীতে করোনার প্রাদুর্ভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া বিপন্ন ও অসহায় মানুষদের প্রত্যেকের বাসায় বাসায় গিয়ে এই খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করবে।
করোনা আক্রান্ত ওমর আলীর পরিবারের পাশে পায়েল ফাউন্ডেশন
০৫মে,মঙ্গলবার,মুহাম্মদ মহরম হোসাইন,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা আক্রান্ত ওমর আলী (৫০) এর পাশে দাড়িয়েছে পায়েল ফাউন্ডেশন। সম্প্রতি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে দুই সপ্তাহ চলার মতো খাদ্য ও ইফতার সামগ্রী তুলে দেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ফাহাদ চৌধুরী দিপু। ওমর আলীর নগরির উত্তর কাট্টলীতে অবস্থিত গারটেক্স গার্মেন্টের কমার্শিয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিল। (গত ৮ এপ্রিল তিনি করোনাভাইরাস আক্রান্ত হন। এর এক সপ্তাহ পর তাঁর ৬ সদস্যের পরিবারের আরও ৪ জন করোনা আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের একই ওয়ার্ডে। শুধু পরিবারের সর্ব কনিষ্ঠ সদস্য সাড়ে ৩ বছরের মেয়েটি বেঁচে যান করোনার ভয়াল থাবা থেকে।) তবে এই পরিবারের করোনা আক্রান্ত ৫ সদস্যই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ওমর আলী পায়েল ফাউন্ডেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, আমার অফিস থেকে প্রতিনিয়তই খোঁজ নেওয়া হয়েছে। আর খোঁজ নিয়েছেন কয়েকজন সংবাদকর্মী। তাঁদের কাছ থেকে আমি যে সহযোগিতা পেয়েছি তা কোনদিন ভুলবো না। আর পায়েল ফাউন্ডেশন এমন এক সময় এগিয়ে এসেছেন যখন আমার পরিবার অনেকটা স্বেচ্চা গৃহবন্ধি। তাঁরা মানবতার সেবায় যেভাবে এগিয়ে এসেছেন সেজন্য তাঁদের প্রতি আমি ও আমার পরিবার কৃতজ্ঞ। পায়েল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ফাহাদ চৌধুরী দিপু বলেন, এমন দূর্যোগের সময় বিপন্ন মানুষের প্রতি সামর্থ্যবানদের এগিয়ে আসা মানবিক দায়িত্ব। সেই মানবিকতার ডাকেই আমরা সাড়া দিয়েছি। শুনে অভাক হয়েছি যে পরিবারটির এমন বিপদের দিনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কোন সহযোগিতা পাননি। অথচ সরকার প্রতিটি ওয়ার্ডে ত্রাণ সহায়তা পাঠিয়েছে। পায়েল ফাউন্ডেশন ভবিষ্যতেও পরিবারটির পাশে থাকবেন বলে আশ্বস্ত করেন তিনি। এদিকে বিশ্বব্যাপী করোনার ভয়াবহতার মধ্যেও পুরো পরিবার সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরায় স্বস্থি প্রকাশ করলেও চিকিৎসকের নিদের্শনা মেনে তাদের ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিন পালন করতে হচ্ছে। এদিকে করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর গত এক মাসে স্থানীয় সেভাবে কেউ খবর নেননি পরিবারটির। হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরার পর পাড়া প্রতিবেশীরাও জানতে চাননি তারা কেমন আছেন? সবার মনেই ভয়। যেন অপরাধ করেছে পরিবারটি। পাহাড়তলী থানা থেকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ((ওসি) এসে দুই দফায় চাল, ডাল, তেলসহ কিছু খাদ্যসামগ্রী দিয়ে গেছেন। ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কিংবা জনপ্রতিনিধিদের কেউ একটু খবর পর্যন্ত নেওয়ার প্রয়োজনবোধ করেনি বলে জানান ওমর আলী।
কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ চমেককে পিসিআর মেশিন দিল সিভাসু
০৫মে,মঙ্গলবার,শারমিন আকতার,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালকে নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) শনাক্তকরণের জন্য একটি রিয়েল-টাইম পিসিআর (পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন) মেশিন দিয়েছে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) কর্তৃপক্ষ। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সিভাসু উপাচার্য প্রফেসর ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ চমেকের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. এম. শামীম হাসান-এর নিকট সিভাসুতে এই পিসিআর মেশিনটি হস্তান্তর করেন। সিভাসু এবং চমেকের উর্ধ্বতন কর্মকর্ত এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ এসময় উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত ২৯ এপ্রিল একই উদ্দেশ্যে সিভাসু কর্তৃপক্ষ শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ, জামালপুর-কে একটি রিয়েল-টাইম পিসিআর মেশিন দিয়েছিল। উল্লেখ্য, গত ২৫ এপ্রিল থেকে সিভাসু কর্তৃপক্ষ নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) শনাক্তকরণ কার্যক্রমও শুরু করে। চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি) কর্তৃক সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে সিভাসুর ল্যাবরেটরিতে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনামতে কোন পরিবার যেন অভুক্ত না থাকে সে ব্যাপারে কাজ করছি
০৫মে,মঙ্গলবার,সৈয়দুল ইসলাম,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: সিটি মেয়র ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক আ.জ.ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সারাদেশে ত্রাণ বিতরন অব্যাহত রেখেছে। তারই আলোকে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেছে । পাশাপাশি তালিকা প্রস্তুত কাজও চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা সকল ওয়ার্ড থেকে তালিকা চেয়ে পত্র পাঠিয়েছি। এ তালিকা কেন্দ্রের নিকট প্রেরণ করা হবে। তিনি বলেন, মহানগর আওয়ামীলীগ তৃণমূল কর্মীদের খোঁজ খবর নিচ্ছে। উপহার সামগ্রী প্রদান অব্যাহত রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনামতে ছুটি কালীন সময়ে কোন পরিবার যেন অভুক্ত না থাকে সে ব্যাপারে কাজ করছে। আজ ৪২ নং নাছিরাবাদ ওয়ার্ড, ৪৩ নং আমিন শিল্প ওয়ার্ড ও ৭ নং পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডে ইউনিট আওয়ামীলীগের তৃণমূল পর্যায়ে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ হতে ভোগ্যপন্য উপহার সামগ্রী বিতরণকালে মেয়র এসব কথা বলেন। মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এসময় মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুক, আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, কাউন্সিলর মোরশেদ আলম, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক লায়ন মোহাম্মদ হোসেন, মহানগর আওয়ামী লীগ সদস্য ও পাঁচলাইশ থানা আওয়ামী লীগের আহবায়ক মো. ইয়াকুব, সৈয়দ আমিনুল হক, মহব্বত আলী খাঁন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর