চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানার চৌকস পুলিশ টিমকে পুরস্কৃত করলেন সিএমপি কমিশনার
০৭মে,বৃহস্পতিবার,রাজিব দাশ, চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: গত ৫ মে চট্টগ্রাম মহানগরীর কর্ণফুলী থানাধীন মইজ্যারটেক এলাকায় চেকপোস্ট ডিউটি পরিচালনা করে ৮০,০০০ পিস ইয়াবা ও ০১টি প্রাইভেট কার সহ ০২জনকে আটক করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্ণফুলী থানার চৌকস পুলিশ অফিসারগণ। করোনা ভাইরাসের এই দুঃসময়ে অপরাধ দমনে বন্দর বিভাগের এই তৎপরতা ও সাফল্যে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ মাহাবুবর রহমান, বিপিএম, পিপিএম ৭ মে অভিযানে নেতৃত্বদানকারী উপ-পুলিশ কমিশনার (বন্দর) মোঃ হামিদুল আলম, বিপিএম, পিপিএম, সহকারী পুলিশ কমিশনার (কর্ণফুলী) মোঃ ইয়াসির আরাফাত, অফিসার ইনচার্জ, কর্ণফুলী থানা মোঃ ইসমাইল হোসেন, এসআই/জাহিদুল ইসলাম আরমান ও টিম কর্ণফুলীকে পুরস্কৃত করেন।
চট্টগ্রাম বন্দরে সুরক্ষাসামগ্রীর দাবিতে বিক্ষোভ
০৭মে,বৃহস্পতিবার,শারমিন আকতার,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম বন্দরে ওয়ান স্টপ সার্ভিসে কর্মরত মৃত এক ব্যক্তির করোনা শনাক্তের পর সুরক্ষা সামগ্রীর দাবিতে কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করেছেন বন্দরের শতাধিক কর্মী। বৃহ¯পতিবার সকাল ১০টা থেকে তারা কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করেন। পরে বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. জাফর আলম সুরক্ষা সামগ্রী দেওয়ার আশ্বাস দিলে দুপুর ২টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং কাজে ফিরেন কর্মরতরা। বন্দরের ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারে কর্মরতরা জানান, মঙ্গলবার ওয়ান স্টপে কর্মরত একজন মারা যান। তার করোনা পজিটিভ এসেছে। এরমধ্যে আমাদের অনেককে তার সংস্পর্শে যেতে হয়েছে। অথচ আমাদের কোন রকম সুরক্ষা সামগ্রী বন্দর কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে দেয়নি। ফলে করোনা আতঙ্কে প্রায় দেড়শ কর্মী কাজ বন্ধ রেখে সুরক্ষা সামগ্রীর দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন সকাল ১০টা থেকে। কর্মরতরা বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের মাস্ক, গ্লাভস, স্যানিটাইজার কিছুই দেয়া হয়নি। আমরা বলেছি, সুরক্ষা সামগ্রী দিলে কাজ শুরু করবো। বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. জাফর আলম এসে আশ্বাস দিয়েছেন সুরক্ষা সামগ্রী দেবেন। তাই দুপুর ২ টা হতে আমরা কাজ শুরু করেছি। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, তাদেরকে সুরক্ষা সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। তাদের একজন সহকর্মী মারা যাওয়ায় প্যানিক অবস্থায় আছে। আর কিছু না। দুপুর থেকে আবার কাজ শুরু হয়েছে।
আগামী শনিবার থেকে করোনার নমুনা পরীক্ষা শুরু হচ্ছে চমেকে
০৭মে,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: আগামী শনিবার থেকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবে শুরু হচ্ছে করোনা পরীক্ষা । আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. নাসির উদ্দিন মাহমুদ এ তথ্য জানান। উপাধ্যক্ষ ডা. নাসির উদ্দিন মাহমুদ জানান, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) থেকে যে পিসিআর মেশিনটি দেওয়া হয়েছে তা ইতোমধ্যে ল্যাবে স্থাপন করা হয়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার) পরীক্ষামূলকভাবে কিছু টেস্ট করা হচ্ছে। আশা করছি আগামী শনিবার থেকে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা যাবে। চট্টগ্রামে নমুনা জট কমাতে গত ৪ মে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়ার অনুরোধে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি পিসিআর মেশিন ধার দেয়া হয় চমেক হাসপাতালে। পরের দিনই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মেশিনটি হস্তান্তর করে। এর আগে গত ৩ মে চমেকে স্থাপন করা পিসিআর মেশিনে ত্রুটি ধরা পড়ায় অনিশ্চিত হয়ে পড়ে করোনা পরীক্ষা। পরে ত্রুটি সারাতে ওই দিনই মেশিনটি ঢাকায় পাঠানো হয়।
দুইশ জন পত্রিকা হকারদেরকে ভোগ্যপন্য দিল বন্দর উইন্সম্যান
০৬মে,বুধবার,শারমিন আকতার,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: আজ বিকেলে নগরীর কেসিদে রোডস্থ হকার সমিতির কার্যালয় প্রাঙ্গণে চট্টগ্রাম বন্দর উইন্সম্যান(ক্রেন অপারেটর) কল্যাণ বহুমুখি সমবায় সমিতির পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম সংবাদ পত্র এজেন্ট সমিতির ২ শত জন পত্রিকা হকারদের মাঝে ইফতার ও সেহেরী সামগ্রী বিতরণ করা হয়। বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন বলেন, সাধারণ ছুটি শুরুর পর থেকে ছাপানো পত্রিকা বিক্রি কমে যাওয়ায় পত্রিকার হকাররা বিপাকে পড়েছেন। তারা সবাই কর্মজীবী। বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সংকটে পড়েছেন। তাদের পাশে থাকা আমাদের দায়িত্ব। শুভাকাঙ্খীদের সহায়তায় পেশাজীবী মানুষদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি মাত্র। তিনি বলেন, এমন সময় পত্রিকা হকারদের যা ক্ষতি হয়েছে তা হয়তো পুষিয়ে দিতে পারবো না। শুধু মাত্র চেষ্টা করা হচ্ছে পাশে দাঁড়ানোর, তা দিয়ে আপনারা সামান্য ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন। মেয়র বলেন, যারা প্রতিদিন সকালে আমাদের ঘরে ঘরে খবরের কাগজ পৌঁছে দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে, তাদের অন্য কোন বিকল্প পেশাও নাই। তিনি করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়াদের আরও সহযোগিতা করার জন্য বিত্তবান ও কর্পোরেট হাউসগুলোকে নজর দেয়ার আহবান জানান। এসময় চট্টগ্রাম বন্দর উইন্সম্যান(ক্রেন অপারেটর) কল্যাণ বহুমুখি সমবায় সমিতির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আকতার সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উল্লাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন মিজান, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহ আলম বিপ্লব, অর্থ সম্পাদক নুরুল আলম, সহ অর্থ সম্পাদক মো.সিরাজ, কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ হাসান, মোহাম্মদ দেলোয়ার, মোহাম্মদ লিটন,চট্টগ্রাম সংবাদ পত্র এজেন্ট সমিতির সভাপতি আইয়ুব খান, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, আল হারুন, বিক্রেতা লীগের সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম রিপন, সাধারণ সম্পাদক জহর লাল দেবনাথ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আজ নগরভবনের সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত মসজিদ সমূহের ৩১ জন ইমাম মুয়াজ্জিনদের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরন করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। এসময় উপস্থিত ছিলেন চসিক মাদ্রাসা পরিদর্শক মাওনালা মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ,মাওনালা আবদুল গাফফার, মাওলানা শফিকুল ইসলাম, মওলানা শহিদুল ইসলাম, মওলানা হাফেজ সেলিম উদ্দিন, মওলানা মোকলেসুর রহমান, মাওলানা তফসীর উল্লাহ মুয়াজ্জিন ও খাদেমগন
চন্দনাইশে বিদেশি পিস্তলসহ এক সন্ত্রাসীকে আটক করেছে Rab-7
০৬মে,বুধবার,কমল চক্রবর্তী,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি গুলি ও একটি ম্যাগাজিনসহ সন্ত্রাসী টিপু শীল(২৮)'কে আটক করেছে Rab-7। বুধবার ৬ মে দুপুর ১২ঃ১০ মিনিটের সময় চন্দনাইশ থানাধীন গাছবাড়িয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিদেশি পিস্তল একটি গুলি ও একটি ম্যাগাজিনসহ টিপু শীল(২৮) নামে এক সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে বলে জানান Rab-7 এর সহকারী পরিচালক(মিডিয়া)এএসপি মাহমুদুল হাসান মামুন। আটককৃত আসামি হল, টিপু শীল(২৫) চন্দনাইশ থানাধীন গাছবাড়িয়া (কানহাট) গ্রামের মৃত: গনেশ চন্দ্র শীলের ছেলে। Rab-7 এর সহকারী পরিচালক এএসপি সোহেল মাহমুদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি যে, কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী মাদকদ্রব্য বেচা কেনার জন্য চন্দনাইশ থানাধীন গাছবাড়িয়া উপ ডাকঘর বিল্ডিং এর পিছনে অবস্থান করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একজনকে আটক করা হয়। পরে আসামীর দেহ তল্লাশি করে পেন্টের ভিতর লুকানো একটি বিদেশি পিস্তল, একটি গুলি ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। তিনি আরও জানান, আটককৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে চাঁদাবাজি সহ বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কাজ করে আসছে এবং সে মাদক ব্যবসার সাথেও জড়িত। আটককৃত আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন শেষে চন্দনাইশ থানায় হস্থান্তর করা হয়েছে। উল্লেখ্য, আসামি টিপু শীল (২৫) এর বিরুদ্ধে চন্দনাইশ থানায় ১ টি এবং চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা থানায় ১ টি মামলাসহ ২টি মামলা আছে।
বণিকতন্ত্রের নিকট মানবতন্ত্র অসহায় হয়ে পড়েছে: খোরশেদ আলম সুজন
০৬মে,বুধবার,রাজিব দাশ, চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: বণিকতন্ত্রের নিকট মানবতন্ত্র অসহায় হয়ে পড়েছে বলে মত প্রকাশ করেছেন নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন। তিনি গতকাল ৪ই মে ২০২০ইং সোমবার রাত ১০টায় উত্তর কাট্টলীস্থ নিজ বাসভবনে তার ফেসবুক পেইজে লাইভে দেশে এবং প্রবাসে অবস্থানরত নেতা-কর্মী, সমর্থক এবং শুভানুধ্যায়ীদের সাথে আলাপচারিতায় উপরোক্ত মন্তব্য করেন। এ সময় সুজন বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দিনরাত পরিশ্রম করছেন। তিনি এ ভাইরাস মোকাবিলাকে যুদ্ধ জয়ের মতো উল্লেখ করে জনগনকে ঘরে থাকার আহবান জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি করোনাভাইরাসের মহাদূর্যোগ থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করার জন্য প্রতিনিয়ত নিত্য নতুন কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করছেন। জনগনের ঘরে থাকার সুবিধার্থে গত ২৬শে মার্চ থেকে ধারাবাহিকভাবে টানা সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি যে সরকারের এতোসব কার্যকরী উদ্যোগকে বাঁধাগ্রস্ত করছে এক শ্রেণীর বণিকতন্ত্র। যারা ছলে বলে কৌশলে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে শুরু করেছে। তাদের কাছে মানুষের জীবনের চেয়ে অর্থটাই মূখ্য। তাই তারা সরকারের নির্দেশনা উপেক্ষা করে নিজেদের ইচ্ছেমতো তাদের কর্মকান্ড পরিচালনা করছে। তারা সরকারকে জিম্মি করে তাদের অসৎ ফায়দা হাসিলে সদা তৎপর রয়েছে। এতে করে করোনাভাইরাসে সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ছে দ্রুতগতিতে। মানুষের জীবন রক্ষা আজ বানিজ্যিকরণের কাছে বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে। এসব বণিকতন্ত্রের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার উদাত্ত আহবান জানান তিনি। লাইভে নগরবাসী বিভিন্ন দুর্ভোগের কথা জনাব সুজনকে অবহিত করেন। বেশীরভাগ নগরবাসীই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখা, বেসরকারি হাসপাতালের নৈরাজ্য বন্ধ, ওয়াসার অনিয়মিত পানি সরবরাহ, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং নগরজুড়ে মশার উৎপাত বন্ধ করাসহ বিভিন্ন জনদুর্ভোগ নিরসনে জনাব সুজনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তিনি বলেন বেসরকারি হাসপাতালগুলো এখনো জনগনের চিকিৎসায় কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। তাদের গাফিলতির কারণে মৃত্যুর মুখে পতিত হচ্ছে সাধারণ অসুস্থ রোগী। অথচ নূন্যতম সেবা পেলে এসব রোগীদের জীবন বাঁচানো কোন কঠিন বিষয় ছিলো না। তিনি বেসরকারি হাসপাতালের মালিকদের জনগনের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি না খেলার জন্য বিনীত অনুরোধ জানান। এছাড়া হলি ক্রিসেন্টের মতো একটি পরিত্যক্ত হাসপাতালকে করোনা রোগীর চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করছি, করবো বলে সময়ক্ষেপণ করছে যা জনগনের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি চট্টগ্রামে করোনা চিকিৎসায় সমন্বয়হীনতা রয়েছে উল্লেখ করে অতিসত্বর তা দূর করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানান। এছাড়া করোনা চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইসিইউ বেড, ভেন্টিলেটর, কিট এবং ঔষধপত্রসহ অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জামও বৃদ্ধি করার বিশেষ আহবান জানান। তিনি আরো বলেন আমরা বারবার ওয়াসার এমডির নিকট অনুরোধ জানিয়েছি যে নগরীর যে সমস্ত এলাকায় ওয়াসার পানির সরবরাহ স্বাভাবিক নয় সে সব এলাকায় রেশনিংয়ের মাধ্যমে হলেও ওয়াসার পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা। কারণ সরকারি নির্দেশনা হচ্ছে জনগনকে ঘরে থাকা। সেই নির্দেশনা পালন করতে হলে অবশ্যই ব্যবহার্য পানির ব্যবস্থাও করতে হবে ওয়াসাকে। তাছাড়া রমজান মাসে গৃহস্থালি কাজে পানির ব্যবহার পূর্বের তুলনায় কম হলেও গ্রাহকগণ কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তিনি যে কোন মূল্যে ওয়াসার পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার উদাত্ত আহবান জানান এবং যে সকল এলাকায় পানি সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে সে সকল এলাকায় ভাউচারের মাধ্যমে পানি সরবরাহ প্রদানের আহবান জানান। নচেৎ নৈতিক দায়িত্ব পালনে বর্তমান পরিস্থিতিতেও ওয়াসা অফিসে অবস্থান নিতে বাধ্য হবেন বলে হুশিয়ারি উচ্চারন করেন জনাব সুজন। করোনাভাইরাসের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে পবিত্র রমজান এবং ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সীমিত পরিসরে আগামী ১০ মে থেকে দোকান পাট ও শপিংমলগুলো খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত দোকান পাট ও শপিংমল খোলা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে পালনের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। তিনি শপিংমল এবং দোকান পাটে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার উদাত্ত আহবান জানান। এছাড়া শপিংমলের প্রবেশমুখে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখার অনুরোধ জানান। এছাড়া উপরোক্ত নির্দেশাবলী যারা অমান্য করবেন তাদের জরিমানা সহ শাস্তি প্রদানের জন্য প্রশাসনের নিকট বিনীত আহবান জানান। তিনি কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানীকে অনলাইনে গ্যাসের বিল জমা নেওয়ার জন্য উদাত্ত আহবান জানিয়ে বলেন দেখা যাচ্ছে যে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা পালন করতে গিয়ে একজন গ্রাহকের বিল জমা নিতে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় ব্যয় হচ্ছে। এতে করে গ্রাহকগণ ভোগান্তিতে পড়ছে। তাছাড়া রমজান মাসে এভাবে লাইনে দাড়িয়ে থাকতে গিয়ে অনেক গ্রাহক অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। যদি কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানীর অনলাইনে বিল নেওয়ার কোন ব্যবস্থা না থাকে সে ক্ষেত্রে সাধারন ছুটি শেষ হওয়ার পর গ্রাহকদের কাছ থেকে বিল জমা নেওয়ার জন্য কেজিডিসিএল এর এমডির হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। তিনি করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে নিঃস্বার্থভাবে রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিতে টাকার যোগান দেওয়া রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের প্রতি নজর দেওয়ার জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন। বর্তমান লক ডাউন অবস্থায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আমাদের প্রবাসী ভাইয়েরা মানবেতর জীবন যাপন করছে। এ মূহুর্তে তাদের পাশে দাড়ানো সরকারের একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য। কারণ প্রবাসীরা স্ব-উদ্যোগে জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখছে। তাদের এ অবদানের পিছনে কারো কোন সাহায্য নেই।
শরীরে বিশেষ কায়দায় লুকানো ইয়াবাসহ Rab এর হাতে আটক ৩ মাদক ব্যবসায়ী
০৫মে,মঙ্গলবার,কমল চক্রবর্তী,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া থানাধীন চক্রশালা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১১,৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারসহ ৩ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে Rab-7। মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ (ঢাকা-মেট্রো-ন-১৭-৪৪৯৪) জব্দ করা হয়। মঙ্গলবার ৫ মে দুপুর ১ঃ০০ টার সময় চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া থানাধীন চক্রশালা কৃষি উচ্চ বিদ্যালয়ের বিপরীতে কক্সবাজার টু চট্টগ্রাম মহাসড়কের উপর অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান ইয়াবাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে বলে জানান Rab-7 এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি মাহ মুদুল হাসান মামুন। আটককৃত আসামীরা হলেন, মোঃ মামুন মিয়া (২৫), পিতা- মোঃ আলী হোসেন, সাং- কোনাডহর, থানা- পূর্বধলা, জেলা- নেত্রকোনা, ড্রাইভার মোঃ আব্দুল মান্নান (৩০), পিতা- মৃত আব্দুল জব্বার, সাং- গিটুরয়ারাী, থানা- তারাকান্দী, জেলা- ময়মনসিংহ এবং হেলপার মোঃ রিপন (৩৫), পিতা- মোঃ আলেপ আলী, সাং- সানোয়া, থানা- তারাকান্দী, জেলা- ময়মনসিংহ। Rab-7 এর সহকারী পরিচালক (অপারেশন) মেজর মুশফিকুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারি যে, কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী কক্সবাজার হতে একটি পিকআপ যোগে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট নিয়ে চট্টগ্রামের দিকে আসছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে Rab-7 এর একটি টহল দল পটিয়া থানাধীন চক্রশালা কৃষি উচ বিদ্যালয়ের বিপরীতে কক্সবাজার টু চট্টগ্রাম মহাসড়কের উপর একটি বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে করে গাড়ি তল্লাশী শুরু করে। এ সময় কক্সবাজার হতে চট্টগ্রামগামী একটি পিকআপ এর গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে Rab সদস্যরা গাড়িটিকে থামানোর সংকেত দিলে মাদক ব্যবসায়ীরা রRabর উপস্থিতি টের পেয়ে গাড়িটিকে রাস্তার পাশে থামিয়ে ড্রাইভারসহ ৩ জন ব্যক্তি দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে Rab সদস্যরা দের আটক করে। পরে আটককৃত আসামীদের দেহ তল্লাশী করে তাদের পাঁয়ের হাটুর নিচে কালো কস্টেপ মোড়ানো নীল রংয়ের পলিজিপার প্যাকের মধ্য থেকে ১১,৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার কতা হয়। এসময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপটি (ঢাকা-মেট্রো-ন-১৭-৪৪৯৪) জব্দ করা হয়। তিনি আরও জানান,গ্রেফতারকৃত আসামীদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা দীর্ঘদিন যাবত বিভিন্ন কৌশলে কক্সবাজার হতে ইয়াবা ট্যাবলেট সংগ্রহ করে আটক পিকআপের মাধ্যমে নেত্রকোনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার করছে এবং এইসব এলাকা সমূহে নিজস্ব প্রতিনিধির মাধ্যমে খুচরা ও পাইকারী ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রয় করে আসছে। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের আনুমানিক মূল্য ৫৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা এবং জব্দকৃত পিকআপের আনুমানিক মূল্য ২০ লক্ষ টাকা। গ্রেফতারকৃত আসামীদের পটিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এবার ফলের বাজার অস্থিরে ব্যবসায়ীদের নতুন অপকৌশল,ভুয়া রশিদে ফল বিক্রি
০৫মে,মঙ্গলবার,কমল চক্রবর্তী,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম ও ঢাকা ভিত্তিক মাল্টা আমদানিকারকরা আমদানি মূল্য সংক্রান্ত এবং আড়তদারকে সরবরাহ মূল্য সংক্রান্ত কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই মাল্টা চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাস করে পাঠিয়ে দিচ্ছে ফলমুন্ডিতে। কমিশন এজেন্ট, আড়তদার, পাইকারি বিক্রেতা এবং খুচরা বিক্রেতারা যোগসাজশ করে মাল্টা এখনো বেশি দামে সাধারণ ভোক্তাদেরকে বিক্রি করছে। আজও চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন খুচরা বাজার থেকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে সেইসব খুচরা ব্যবসায়ীদেরকে স্টেশন রোড এলাকার ফলমন্ডিতে নিয়ে যান জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তৌহিদুল ইসলাম। সেনাবাহিনীর টহল টিমের লিডার ক্যাপ্টেন রাকিব এবং সিএমপি সদস্যদের সহযোগে আরেক দফা অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তৌহিদুল ইসলাম এবং গালিব চৌধুরী। আজকের অভিযানে প্রথমে ম্যাজিস্ট্রেট গালিব চৌধুরী রেয়াজুদ্দিন বাজারে মনিটরিং করেন। সেখানকার ব্যবসায়ীদেরকে মাল্টার খুচরা পর্যায়ে অতিরিক্ত মূল্যের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা ভ্রাম্যমাণ আদালতের নিকট স্বীকারোক্তি দেন যে, ফলমুন্ডির ব্যবসায়ীরা জেলা প্রশাসন চট্টগ্রামের অব্যাহত কঠোর ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের চাপে মাল্টা এখন আমদানিকারক এবং কমিশন এজেন্টদের সাথে যোগসাজশ করে কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণ করছেন। এরপর ভোরবেলা সেসকল কোল্ড স্টোরেজ থেকে মাল্টা এনে আজকে ৫ মে তারিখেও প্রতি কার্টুন ২৪০০ টাকা দরে ( প্রতি কেজি ১৬০ টাকা) বিক্রি করছে। কিন্তু রশিদ দিচ্ছে ১৫০০টাকার। এমনকি কিছু অসাধু আড়তদার রশিদ ছাড়া বাকীতে খুচরা বিক্রেতাদের হাতে মাল্টা দিয়ে দিচ্ছে। অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করে পরে যাতে তাদেরকে মূল্য পরিশোধ করে। এখানে উল্লেখ্য যে, মাল্টার গড় আমদানি খরচ ৬৫-৭০ টাকা ( সকল খরচ সহ)। সে হিসেবে পাইকারিতে দাম হওয়ার কথা কেজিপ্রতি ৮০-৮৫ টাকা এবং খুচরা পর্যায়ে ৯০-৯৫ টাকা। ফলমন্ডি এলাকায় অভিযানে গেলে দেখা যায়, অধিকাংশ মাল্টা ব্যবসায়ীরা দোকান কৌশলে মাল্টা বিহীন করে অন্যান্য ফল বিক্রি করছেন। রেয়াজুদ্দিন বাজারের খুচরা বিক্রেতা খোকন মিয়ার সূত্র ধরে ফলমুন্ডির আল-আমিন ট্রেডার্স এ অভিযান করা হলে ঐ আড়তের ম্যানেজার সুমন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নিকট স্বীকারোক্তি দেন যে মূলতঃ তারা কোল্ড স্টোরেজে মাল্টা সরিয়ে রেখেছেন। কৌশলে তারা চট্টগ্রাম ও ঢাকাভিত্তিক মাল্টা আমদানিকারক চক্রের সাথে সংঘবদ্ধ হয়ে কমিশন এজেন্ট, ব্রোকার, অসাধু কোল্ড স্টোরেজ, আড়তদার, পাইকারি এবং খুচরা ব্যবসায়ীদের যোগসাজশে মাল্টার দাম বেশি রাখছেন। এসময় আল-আমিন ট্রেডার্স এর মালিক মোঃ আলী হোসেন মার্কেট থেকে পালিয়ে যান। পরে আড়তের ম্যানেজারকে আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অব্যাহত অভিযানের পর-ও ফলমুন্ডি বাজার ফল ব্যবসায়ী সমিতি কার্যকর পরে পদক্ষেপ না নেয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের সমিতির ব্যর্থতার বিষয়ে মুচলেকা আদায় করেন। চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষে সভাপতি আবদুল মালেক এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলমগীর যৌথভাবে ফল ব্যবসায়ীদের নতুন অপকৌশলের বিষয়ে সাক্ষ্যমূলক মুচলেকা দেন। যেসকল ফল ব্যবসায়ী এ অভিনব কারসাজিতে যুক্ত হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হবে। আজকের অভিযানে ফলমণ্ডি বাজার এলাকায় অবস্থিত মাল্টা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান গুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় চিটাগাং ফল বাণিজ্য (প্রাঃ) লিঃ, জি.এস ট্রেডিং, মেসার্স নুবাইদ, ইব্রাহিম এন্টারপ্রাইজ সবাই অফিস ফেলে পালিয়ে যান। মেসার্স এন.এস ফ্রুটস ইন্টারন্যাশনাল এর অফিস খোলা পাওয়া গেলেও সেখানে দোকানের এক কর্মচারী পাওয়া যায়। যিনি ভ্রাম্যমাণ আদালত কে জানান তার মালিক ঐ প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা ব্যবহার করলেও সেখানে কোনো মাল্টা/ফল আমদানির কোনো দাপ্তরিক কাগজপত্র নাই। উক্ত অফিসে ঢুকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেখেন যে, সেখানে অফিস কাম বাসার আদলে থাকা-খাওয়ার আয়োজন করা রয়েছে। এরপর আরেকটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সরেজমিন পরিদর্শন করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর নিকট প্রতীয়মান হয় যে, প্রশাসনকে ফাঁকি দেয়ার জন্য আমদানিকারক সম্প্রতি দোকানের স্যাটারের সামনে যে স্থানে প্রতিষ্ঠানের নাম লেখা থাকে সেটি কৌশলে কেঁটে ফেলেছেন। ফলমন্ডির বাজারে নিয়মিত আসা-যাওয়া করে এমন কয়েকজনের তথ্যমতে ফলমুণ্ডির ব্যবসায়ীরা মাল্টার পাশাপাশি আঙ্গুরের দাম বৃদ্ধির দিকে ঝুঁকছে। এর জন্য নতুন কৌশল নিচ্ছে। মূলত আগে বন্দর থেকে ফল খালাস করেই সেগুলো ফলমণ্ডি বাজারে নিয়ে আসতো। দ্রুত ফলমন্ডি থেকে বিক্রি করে দিতো বিভিন্ন জাতের ফল। কিন্তু বর্তমানে প্রশাসন, সেনাবাহিনী এবং পুলিশের কঠোর মনিটরিং থাকায় ফল ব্যবসায়ীরা কোল্ড স্টোরেজ মালিকদের সাথে আঁতাত করে নতুন সিন্ডিকেট গড়ে তুলে ফলের বাজার অস্থির করতে চাইছে। তবে ফলমুন্ডি থেকে নিয়মিত ফল কিনেন এমন কয়েকজন জানান, জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটগণ সেনাবাহিনী ও পুলিশ সহ যেভাবে কাজ করছেন এ করোনাদুর্যোগে এবং রমজানে বাজার মনিটরিং এর ক্ষেত্রে তাতে ব্যবসায়ীদের সকল অপকৌশলই ধরা পড়বে।
বাজার মনিটরিং ও সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান
০৫মে,মঙ্গলবার,কমল চক্রবর্তী,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: দ্রব্যমুল্যের পাশাপাশি ফলের বাজার ও অস্থির করে তুলেছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা ব্যবহার করছে নিত্য নতুন সব অপকৌশল। কখনো করছে ভুয়া রশিদ দিয়ে ফল বিক্রি। তাই ভোগ্যপন্যের পাশাপাশি ফলের বাজারও নিয়মিত টহল অব্যাহত আছে। নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসাবে আজ নগরীর বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয় এবং মুল্যতালিকা প্রদর্শন না করায় বেশ কিছু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়। আজ মঙ্গলবার ৫ মে সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৫:৩০ পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ বাজার ও স্থান গুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ উমর ফারুক বন্দর, ইপিজেড, পতেঙ্গা সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের নিয়ে এলাকাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে সচেতন করেন। বাজার মনিটরিং করতে বন্দর থানাধীন শনখোলা বাজারের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার ও কাচা বাজারে অভিযান পরিচালনা করেন।অভিযানে বাজার মূল্য তালিকা পর্যবেক্ষণ করে বাজার অস্থিতিশীল না করতে বাজার মুল্য তালিকায় ক্র‍য় মুল্য ও বিক্রয় মুল্য প্রদশর্নের ব্যাবস্থাসহ সকল ব্যাবসায়িক কর্যক্রমের কাগজপত্র সংরক্ষণ করার আহবান জানান।পাশাপাশি বাজার মুল্য তালিকা না থাকা ও অধিক মূল্যে পণ্য বিক্রয়ের কারনে শন্দ্রি এন্ড ট্রেডার্স কে ৩০০০টাকা, আশিক এন্টারপ্রাইজ কে ২০০০ টাকা, মনসুর আলীর মাংসের দোকান কে ১০০০ টাকা ও একজন মটর বাইক চালক কে ২০০ টাকা অর্থদন্ড করেন। তিনি ৪ টি মামলায় ৬২০০ টাকা জরিমানা করেন। ম্যাজিস্ট্রেট গালিব চৌধুরী কোতোয়ালি, চকবাজার, সদরঘাট, বাকলিয়া এলাকায় অভিযান চালায়। বাজার মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে চকবাজার ও রিয়াজউদ্দিন বাজারে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে বাজার মূল্য তালিকা পর্যবেক্ষণ করে বাজার অস্থিতিশীল না করতে বাজার মুল্য তালিকায় ক্র‍য় মূল্য ও বিক্রয় মুল্য প্রদশর্নের ব্যবস্থাসহ সকল ব্যবসায়িক কার্যক্রমের কাগজপত্র সংরক্ষণ করার আহবান জানান। পাশাপাশি বাজার মূল্য তালিকা না থাকা ও অধিক মূল্যে পণ্য বিক্রয়ের কারণে দুইজন মুদি দোকানদারকে মোট ৫০০০টাকা ও একজন ফল বিক্রেতাকে ২০০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। পাশাপাশি সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে দোকান খোলা রাখা একটি সেলুনকে ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড দেন। তিনি ৪টি মামলায় ৭৫০০ টাকা জরিমানা করেন। ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তাহমিনা সারমিন ডবলমুরিং, হালিশহর, পাহাড়তলী ও আকবরশাহ এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন।অলংকার মোড়ের একটি বেকারি দোকানকে মেয়াদ বিহীন পণ্য বিক্রির অভিযোগে ১০০০০ টাকা জরিমানা করেন, বড়পোল বাজারের একটি মুদি দোকানকে মূল্য তালিকা না রাখায় ৫০০০ টাকা এবং আকবরশাহ এলাকায় একজন মোটরবাইক চালককে ২০০ টাকা জরিমানা করেন। তিনি ৩ টি মামলায় ১৫২০০ টাকা জরিমানা করেন। ম্যাজিস্ট্রেট সুরাইয়া ইয়াসমিন বায়েজিদ,খুলশি,পাঁচলাইশ ও চাঁন্দগাও এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। বাজার মনিটরিংয়ে নগরীর বায়েজিদ বাজার এবং বহদ্দারহাট বাজারে মূল্য তালিকা না থাকায় দুইটি দোকানকে ৩০০০ টাকা ও ১ টি সেলুন কে ৫০০ টাকা জরিমানা করেন। তিনি ৩টি মামলায় ৩,৫০০ টাকা জরিমানা করেন। ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আলী হাসান বাকলিয়া,চকবাজার,কোতায়ালী, সদরঘাট এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। তিনি ৭ টি মামলায় ৪,৭০০ টাকা জরিমানা করেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজওয়ানা আফরিন বায়েজিদ,খুলশি,পাঁচলাইশ ও চাঁন্দগাও এলাকায় দুপুর ২ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত বাজার মনিটরিং করেন এবং সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করতে হ্যান্ডমাইকে প্রচারণা চালান। কোনো মামলা করেন নি। নগরীর বন্দর, ইপিজেড, পতেঙ্গা এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: আশরাফুল আলম এর নেতৃত্বে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একটি দল মূল রাস্তার পাশাপাশি বিভিন্ন অলিতে গলিতে তল্লাশি ও অভিযান পরিচালনা করে। পাশাপাশি সুশৃঙ্খলভাবে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে টিসিবির পণ্য বিক্রয় নিশ্চিত করেন এবং বাজার মনিটরিং করে ২ টি মামলার মাধ্যমে ৬,৫০০ টাকা জরিমানা করেন।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর