সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২০
চমেক করোনা ব্লক ও হলিক্রিসেন্ট হাসপাতালের যাত্রা হলো শুরু: মেয়র
২১মে,বৃহস্পতিবার,শারমিন আকতার,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা রোগী চিকিৎসায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রস্তুতকৃত করোনা ব্লক ও হলিক্রিসেন্ট হাসপাতালের যাত্রা শুরু হয়েছে। চমেকের করোনা ব্লকটিতে একশ শয্যা এবং হলিক্রিসেন্ট হাসপাতালে ৮০ শয্যা নিয়ে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ভেন্টিলেশন সুবিধাসহ দশটি ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) বেড স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল প্রশাসন। আজ ২১ মে বৃহস্পতিবার সকালে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ব্লকটি উদ্বোধন করেছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত ৩০ জন চিকিৎসক ও ১৬৬ জন জন নার্স করোনা ব্লকে দায়িত্ব পালন করবে। হলিক্রিসেন্ট হাসপাতালেও শয্যা,অক্সিজেন লাইন প্রস্তুত সম্পন্ন হয়েছে। দুপুরে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন করোনা বিশেষায়িত হলিক্রিসেন্ট হাসপাতালটিও উদ্বোধন করেছেন। এসময় তিনি ঘুরে ঘুরে হাসপাতালের চুড়ান্ত প্রস্তুতি কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। মেয়র বলেন, চমেকে স্বতন্ত্র করোনা ব্লক ও হলিক্রিসেন্ট হাসপাতাল চালু হওয়ার মাধ্যমে চিকিৎসা সেবার গতি একধাপ এগিয়ে গেল। চট্টগ্রামে দিন দিন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সংক্রমণ বর্তমানে চরম আকার ধারণ করেছে। এতে করে চিকিৎসা সেবার চাহিদা দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। বর্তমানে চট্টগ্রামে করোনা চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রের সংখ্যা দাঁড়ালো পাঁচটিতে। তিনি জনগণকে শারীরিক দূরত্ব, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ধৈর্য্যশীলতার সাথে দুর্যোগ মোকাবেলার আহবান জানান। উদ্বোধনের সময় বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক ডা হাসান শাহরিয়ার কবির, জেলা সিভিল সার্জন ডা শেখ ফজলে রাব্বি, চমেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ুন কবীর , চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্তবধায়ক ডা অসীম কুমার নাথ, বিএমএ চট্টগ্রাম সভাপতি ডা মুজিবুল হক খান, সাধারণ সম্পাদক ডা ফয়সল ইকবাল চৌধুরী, প্রাইভেট ক্লিনিক এসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক ডা লিয়াকত আলী খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
দূর্যোগ, দূর্ভোগ ও দু:সময় জনগনের পাশে কাউন্সিলর নিছার উদ্দিন মঞ্জু
২১মে,বৃহস্পতিবার,রাজিব দাশ, চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: একদিকে করোনা ভাইরাসের মহামারীতে দূর্যোগের কবলে দেশ। তার সাথে ঘূর্ণিঝর আম্পানের কারনে আরো দূর্ভোগে দেশের বিভিন্ন উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ সব মিলিয়ে কঠিন এক দু:সময়ে দেশের জনগন ঠিক তখনি বেচে থাকার আশা জাগিয়ে নিজের নিরাপত্তার কথা চিন্তা না করে মাঠে প্রান্তরে জনগনের সেবায় ছুটে চলেছেন চট্টগ্রাম সিটি কপোরেশনের ১০নং উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব ড.নিছার উদ্দিন আহামেদ মঞ্জু দেশের করোনা মহামারীতে বর্তমান সরকার সাধারন ছুটি ঘোষনার পাশাপাশি দেশের কোন মানুষ যাতে অভুক্ত না থাকে সে কারনে দেশ ব্যাপি জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ত্রাণ সামগ্রী (যা পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে রূপ নেয়) সাধারন জনগনের মধ্যে পৌছে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই উপহার সামগ্রী যথাযথ ভাবে সঠিক ব্যক্তিদের নিকট পৌছানোর জন্য এলাকা ভিত্তিক কমিটি গঠন করে কমিটির মাধ্যমে নিজে উপস্থিত থেকে বন্টন করেছেন কাউন্সিলর নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু। শুধু সরকারি উপহার নয়, তিনি নিজ উদ্যেগে ও নিজ অর্থায়নে ও ১০নং ওয়ার্ডের জনগনের মাঝে ভাসমান ব্যক্তিদের, খেলোয়ারদের, গাড়ি শ্রমিক, নির্মান শ্রমিক সহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষদেরকে সহায়তা করে চট্টগ্রামে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সরকারী উপহার থেকে শুরু করে ওএম.এসের কার্ডের তালিকা , দূর্যোগ মন্ত্রনালয়ের পরিবার ভিত্তিক কার্ড সহ সরকারের এই পর্যন্ত নেওয়া সকল কার্যক্রম অত্যান্ত সুক্ষ্ম ও দক্ষতার সাথে পরিচালনা করলেও একশ্রেণীর কু-মতলববাজ ব্যাক্তিরা তার এমন সচ্ছ কর্মকান্ডে হিংসা ও আক্রোসের বশবর্তী হয়ে বিভিন্ন অপপ্রচার চালানোর পাশাপাশি বিভিন্ন ভাবে সম্মান নষ্ঠ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন বলে সূত্র মতে জানাযায়। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে গুটিকয়েক লোভী জনপ্রতিনিধির আপকর্মের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের ফলে, উক্ত ওয়ার্ডের ত্রাণ, ও এম.এস কার্ড, দুর্যোগ মন্ত্রনালয়ের পরিবার ভিক্তিক তালিকার বিষয়ে ঐ কু-মতলববাজ চক্র বিভিন্ন ভাবে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে চেষ্ঠা চালিয়েছেন এবং চালাচ্ছেন অনিয়ম ধরার জন্য। তারা উক্ত কাউন্সিলরের অনিয়ম দূনীর্তি খুজতেই মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছেন একশ্রেণী স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি বা মহলকে খুশি করার জন্য। কাউন্সিলর নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু অত্যন্ত দক্ষতা, সচ্ছতা ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য ঐ কু-চক্রী ব্যক্তিরা ধরাশায়ী হচ্ছেন বলে অত্র এলাকার অনেকে জানান। উল্লেখ্য যে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ২০২০ এ বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের পক্ষথেকে ৩য় বারের মতো উক্ত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রাথী মনোনীত হন ড. নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু। একই ওয়ার্ডে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থী ও রয়েছেন। করোনা পরিস্থিতি, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, মশক নিধন, এর মধ্যে ঘুর্নিঝড় আম্পান মোকাবেলায় গতকাল সকাল থেকে কাউন্সিলর নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু নিজে উদ্যোগ নিয়ে সাগর পাড়ের লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনেন এবং তাদের মধ্যে শুক্ষ্ম খাদ্য বন্টন সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের কারনে উক্ত এলাকায় ঘূর্নিঝড় আম্পানের সকল প্রকার ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভম হয়েছে। উল্লেখ্য উক্ত ওয়ার্ড ও সাগরপাড়ের উপকূলীয় এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। এই প্রসংগে কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র ড. আলহাজ্ব নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু বলেন, আমি একজন জনসেবক হিসেবে অত্র ওয়ার্ডের জনগণ বিগত দিনে বিপুল ভোটে আমাকে নির্বাচিত করেছেন তাদের ও এলাকার সেবা করার জন্য, আমি আমার সাধ্যমত নিষ্টা, সততা ও দক্ষতার সাথে এলাকার জনগণের পাশে থেকে সেবা দিয়ে যাচ্ছি। যত দিন আল্লাহ আমাকে সুস্থ রাখবেন আমি আমার মানবসেবার কাজ চালিয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ। উক্ত বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো: ইলিয়াস হোসেনের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপহার সামগ্রী ও বিভিন্ন কার্যত্রুমের বিষয়ে উক্ত ওয়ার্ডের কোন অনিয়মের অভিযোগ এখনো পায়নি, তিনি সুন্দর ভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
চট্টগ্রামের বায়তুশ শরফের পীর ও খতিবের মৃত্যু
২০মে,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন বায়তুশ শরফের পীর হযরত মাওলানা কুতুবউদ্দিন ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। তিনি ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন। আজ বুধবার (২০ মে) দুপুরে ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন পীর মাওলানা কুতুবউদ্দিনের ভাগনে আবু জাহেদ মো. সাদেক। এদিকে কেন্দ্রীয় বায়তুশ শরফ জামে মসজিদের সম্মানিত খতিব বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন,বায়তুশ শরফের মরহুম হুজুর কেবলা শাহ সুফি মওলানা আবদুল জব্বার রহ. এর বড় জামাতা মওলানা নুরুল ইসলাম আজ দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন(ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নাইলাহি রাজিউন)। এশিয়ান স্পেশালাইজড হসপিটালের নিচ তলায় চিকিৎসারত অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। দুই প্রখ্যাত আলেমের মৃত্যুতে চট্টগ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। মাওলানা কুতুব উদ্দীন দীর্ঘ দিন ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন। সোমবার (১৮ মে) তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করানো হয়। পরদিন মঙ্গলবার রাতে তাঁকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী হওয়ার কারণে তিনি ধর্মীয় মহলে বাহরুল উলুম (জ্ঞানের সাগর) নামেও পরিচিত।
গাউসিয়া কমিটি উত্তর সর্তা শাখার উদ্যোগে ২৫০ পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ
২০মে,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ উত্তর সর্তা শাখার উদ্যোগে এবং খানক্বায়ে কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া তাহেরিয়া ও ওমদা মিয়া নূরানী কমপ্লেক্স এর সৌজন্যে ২০ মে বুধবার সকালে রাউজান হলদিয়া উত্তর সর্তা গ্রামের বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ২৫০ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে ছিলো গরুর মাংস, আলু, পেয়াজ সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ চট্টগ্রাম উত্তর জেলার প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আলহাজ্ব আহসান হাবীব চৌধুরী হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ হলদিয়া ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী। আরো উপস্থিত ছিলেন গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ উত্তর সর্তা শাখার সাবেক সভাপতি মাওলানা দিদারুল আলম, সভাপতি মাস্টার ওসমান গনি, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম সিকদার, জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন, মুহাম্মদ ইউসুফ, মাওলানা ইয়াসিন, মাওলানা মহিউদ্দিন, মোঃ মাসুদ পারভেজ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহিম তসলিম, মুহাম্মদ জিয়া ফারহান, আবু বক্কর সোহেল, মুহাম্মদ সাকিব, মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন, মুহাম্মদ জিয়াউল হায়দার প্রমুখ। খাদ্যসামগ্রী বিতরণকালে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের কিছুটা সামর্থ্যবান করেছেন। স্বল্প সামর্থ্য থেকে এ ক্রান্তিলগ্নে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমরা আনন্দিত। সৃষ্টির সেবাই স্রষ্টা মিলে। আর স্রষ্টার কৃতজ্ঞতা স্বীকারের মাধ্যম এটি। শেষে করোনা হতে মুক্তি ও মুসলিম বিশে^র মঙ্গল কামনায় বিশেষ মুনাজাত করা হয়।
চট্টগ্রামে মুক্তিযোদ্ধাসহ করোনায় আরও ৩ জনের মৃত্যু
২০মে,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ও ফিল্ড হাসপাতালে করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) এক মুক্তিযোদ্ধাসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে তাদের মৃত্যু হয়। এছাড়া করোনার উপসর্গ নিয়ে বুধবার কামাল নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন কিনা তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। করোনায় মৃত মুক্তিযোদ্ধার নাম রফিকুল আলম। তিনি মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কোতোয়ালী থানা শাখার ডেপুটি কমান্ডার ছিলেন। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম শহর কেন্দ্রিক বেশ কয়েকটি গেরিলা অপারেশনে নেতৃত্ব দেন তিনি। রফিকুল আলমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ডা. বিদুৎ বড়ুয়া বলেন, রাত তিনটার দিকে হাসপাতাল থেকে বাসায় নেয়ার পর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল আলমের মৃত্যু হয়। গতকাল রাতে তিনি কিছুটা অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন, কিন্তু অবস্থা ভালো ছিল। বারবার ভেন্টিলেটরে অক্সিজেন দেয়া হলেও তিনি অক্সিজেনের সরবরাহ লাইনটি খুলে ফেলছিলেন। পরে তার পরিবারের সদস্যরা তাকে বাড়িতে নিয়ে যান। তিনি আরও বলেন, আজ দুপুর ১২টার দিকে করোনা উপসর্গ নিয়ে কামাল নামের এক যুবক মারা গেছেন। গতকাল রাতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। তবে অবস্থা খুব খারাপ ছিল। এদিকে, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক জামাল মোস্তফা বলেন, মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। তাদের একজনের বয়স ৫৫ অপরজনের ৫৮ বছর।
আল্লামা সাখাওয়াত হোসেনের জানাজা সম্পন্ন
২০মে,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসার সাবেক প্রিন্সিপাল, জমিউতুল মোদাচ্ছেরিন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি, বাংলাদেশ মাদ্রাসা বোর্ডের সদস্য প্রখ্যাত ইসলামী গবেষক আল্লামা সাখাওয়াত হোসেনের নামাজে জানাজা আজ বাদে জোহর তাঁর দীর্ঘদিনের কর্মস্থল চট্টগ্রাম নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। প্রখ্যাত ইসলামী এই গবেষকের জানাজায় ইমামতি করেন মরহুমের ২য় পুত্র মারুফ চৌধুরী। মুনাজাত পরিচালনা করেন মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল মাওলানা রফিকুল ইসলাম। জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ছাড়াও মরহুমের অসংখ্য ছাত্র অংশ নেন।
জামিয়াতুল ফালাহ জামে মসজিদে জীবানুনাশক মেশিন উদ্বোধন
২০মে,বুধবার,শারমিন আকতার,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: নগরীর জামিয়াতুল ফালাহ জামে মসজিদে জীবাণুনাশক মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। জীবাণুনাশক মেশিন স্থাপনাটি উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের মনোনীত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মেয়র পদপ্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এম. রেজাউল করিম চৌধুরী। মঙ্গলবার ১৯ মে বিকালে নগরীর জামিয়াতুল ফালাহ জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক,বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব বদিউল আলমের নিকট চেম্বারটি উপহার স্বরুপ তুলে দেন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের বেসরকারি পরিদর্শক আজিজুর রহমান আজিজ। এরপরই এটি উদ্বোধন করেন আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এম. রেজাউল করিম চৌধুরী। এসময় তিনি বলেন, দেশ ও জনপদ আজ করোনা ভয়াবহতায় হুমকির মুখে। মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধিতে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আমাদের দলীয় সংগঠক আজিজ মহামারী শুরুর প্রথম থেকেই চট্টগ্রাম শহরের জনসাধারণের জন্য জনসেবা মূলক কাজ করে যাচ্ছেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের চট্টগ্রামের জামিয়াতুল ফালাহ জামে মসজিদে জীবাণুনাশ স্প্রে চেম্বার বসানোর উদ্যোগ গ্রহণ করায় আমি তাকে ধন্যবাদ জানচ্ছি। আজিজের এই জনসচেতনতামূলক কর্মকান্ডগুলোকে আমি সাধুবাদ জানাই। এই সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মশিউর রহমান, ১৪নং লালখান বাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব সিদ্দিক আলম, ১৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন, চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের আহবায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু, যুগ্ম আহবায়ক ফরিদ মাহমুদ, যুবলীগ নেতা মনির উদ্দিন, সৈয়দ শওকত, খুলশি থানা সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জামশেদ, ওমরগণি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা ইলিয়াস, ফরহাদুল ইসলাম রিন্টু, পিয়ারু, মাসুদ রানা, জুয়েল, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক রনি মির্জা, সদস্য ফরহাদ সায়েম, ফয়সাল অভি, মোরশেদ বাবলু, জুয়েল, হাসান আলী, রাসেল ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রসংসদের শাহিন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আল-আমিন, উপ সাংস্কৃতিক সম্পাদক মাহফুজ, সহ-সম্পাদক নিশান সানি, ডবলমুরিং থানা ছাত্রলীগ নেতা রিয়াদ, লালখান বাজার ওয়ার্ড ছাত্রলীগ নেতা নাছির মোবিন, ১৫নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগ নেতা অপি, আবির সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
চট্টগ্রামে সাংবাদিকসহ আরো ৫৯ জনের করোনা শনাক্ত
২০মে,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রামে আরো ৫৯ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে চট্টগ্রাম জেলার ৫৪ জন। বাকি দুজন খাগড়াছড়ি জেলার। এরমধ্যে চট্টগ্রামে কর্মরত তিন সাংবাদিক ও চারজন পুলিশ সদস্য রয়েছে। এ নিয়ে চট্টগ্রাম জেলায় করোনা আক্রান্ত বেড়ে দাঁড়ালো ৮৪৫ জনে। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন শেখ ফজলে রাব্বি এ তথ্য জানান। তিনি জানান, সোমবার রাতে চট্টগ্রামের দুটি ও কক্সবাজারের একটি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এরমধ্যে চট্টগ্রামের বিআইটিআইডি ল্যাবে ১২৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২৭ জনের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ২১ জন চট্টগ্রাম নগরীর। বাকি ৬ জনের মধ্যে পটিয়া, চন্দনাইশ, মীরসরাই, সীতাকুন্ড, হাটহাজারী ও বাঁশখালী উপজেলার ১ জন করে আছেন। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) ল্যাবে ৭৪টি নমুনা পরীক্ষায় ২৪ জনের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এদের মধ্যে ২২ জন চট্টগ্রামের ও দুই জন খাগড়াছড়ি জেলার বাসিন্দা। চট্টগ্রামের ২২ জনের মধ্যে পটিয়া উপজেলার ৮ জন, সীতাকুন্ডের ৭ জন, হাটহাজারীর ৬ জন এবং কর্ণফুলী উপজেলার ১ জন আছেন। এছাড়া কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাবে চট্টগ্রামের ২৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৫ জনের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এরা সবাই চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বাসিন্দা। এদের মধ্যে আক্রান্ত চট্টগ্রামে কর্মরত ৩ সাংবাদিক হলেন, চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের স্টাফ রিপোর্টার জোবায়ের মনজুর ও ক্যামেরাপারসন হারুনুর রশীদ এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনেরর ক্যামেরাপারসন মোহাম্মদ আলমগীর। চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের আবাসিক স¤পাদক কামাল পারভেজ বলেন, এক সপ্তাহ আগে আমাদের দুজন সহকর্মীর শরীরে হালকা জ্বর আসে। অফিসের নির্দেশে তখনই তাদের বাসায় কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। ১৬ই মে তাদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। সোমবার রাতের ফলাফলে পজিটিভ এসেছে। এখন তাদের শরীরে কোনো উপসর্গ নেই। তারা বাসাতেই আইসোলেশনে আছেন। ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের ব্যুরো প্রধান অনুপম শীল বলেন, আমাদের ক্যামেরাপারসন আলমগীর অসুস্থবোধ করায় গত ৮ই মে থেকে ছুটিতে আছেন। তার শরীরে এখন কোনো লক্ষণ নেই। নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ এসেছে। তাকে বাসায় আইসোলেশনে থাকতে বলা হয়েছে। এ নিয়ে চট্টগ্রামে ৫ জন সাংবাদিক করোনায় আক্রান্ত হলেন। এর আগে ইউএনবির চট্টগ্রাম প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম শিল্পী এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার আহসানুল কবির রিটন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এদিকে, চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের ৩ জন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) এবং ১ জন জেলা পুলিশের। সিএমপি উপকমিশনার (বিশেষ শাখা) আব্দুল ওয়ারিশ খান জানিয়েছেন, আক্রন্তদের মধ্যে ২ জন কনস্টেবল। তারা বিভিন্ন থানায় কর্মরত। এছাড়া ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত ১ জন সার্জেন্টও আক্রান্ত হয়েছেন। সিএমপিতে এ নিয়ে ৬৭ জন পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছে। ডসভিল সার্জন সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম জেলায় এ নিয়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাড়াল ৮৪৫ জনে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১১১ জন। মারা গেছেন ৩৮ জন।
ঘূর্ণিঝড় আস্ফান মোকাবেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি চসিকের
১৯মে,মঙ্গলবার,সৈয়দুল ইসলাম,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিশ্বময় মহামারি করোনার মধ্যেই বিধ্বংসী রূপ নিয়ে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। এটি আরো শক্তি সঞ্চয় করে সুপার সাইক্লোনে রূপ নেয়া ঝড়টি উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে মঙ্গলবার শেষ রাতেই। এর প্রভাবে চট্রগ্রামসহ সারাদেশে বেড়েছে তাপপ্রবাহ, জনজীবনে নেমে এসেছে অস্বস্তি। আবহাওয়া অধিদপ্তর হতে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরের জন্য রয়েছে ৬ নম্বর সতর্ক সংকেত। পশ্চিম মধ্যবঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় আম্ফান উত্তর দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে সুপার ঘূর্ণিঝড় আকারে বর্তমানে একই এলাকায় অবস্থান করছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে এটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হতে পারে এবং পরবর্তীতে দিক পরিবর্তন করে উত্তর-উত্তর পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে খুলনা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে ১৯ মে শেষরাত থেকে ২০ মে বিকাল/সন্ধ্যার মধ্যে বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে। আজ সকালে দামপাড়স্থ চসিক কন্ট্রোলরুমে ঘূর্ণিঝড় আস্ফান বিষয়ে প্রস্তুতি বৈঠকে চসিকের পক্ষ থেকে এইসব তথ্য জানানো হয় । দামপাড়াস্থ কন্ট্রোলরুম হতে ঝূকিপূর্ণ ওয়ার্ড এর স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। ঝুঁকি এড়াতে চসিকের পক্ষ থেকে পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থানরত ও উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে মাইকিং করা হচ্ছে । এছাড়া দূর্যোগ পূর্ববর্তী, দুর্যোগকালিন ও দূর্যোগ পরবর্তী সময়ে অবস্থানের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে তৎসংশ্লিষ্ট সাইক্লোন শেল্টার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এইসব আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে জীবনুনাশক স্প্রে করে জীবানুমুক্ত করা হচ্ছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য প্রশিক্ষিত ভোলান্টিয়ার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পর্যাপ্ত শুকনো খাবার ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জরুরী চিকিৎসাসেবায় চসিকের মেডিকেল টীম প্রস্তুত রয়েছে। চসিকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যেহেতু করোনার প্রাদুর্ভাব রয়েছে তাই অবশ্যই তাড়াহুড়ো না করে অবশ্যই সামাজিক দূরত্ব মেনে ও সরকারি স্বাস্থ্য বিধি মেনে কার্য সম্পাদন করতে হবে। ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কীত যে কোন প্রয়োজনে চসিকের কন্ট্রোল রুম ০৩১-৬৩০৭৩৯, ০৩১-৬৩৩৬৪৯-তে যোগাযোগ করলে সাথে সাথে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আজ বৈঠকে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল সোহেল আহমদ,প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ এ.কে.এম রেজাউল করিম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌলশী সুদীপ বসাক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর