সরকারি নির্দেশনা না মানায় নগরীতে পাঠাওসহ ১৫৭টি মোটরসাইকেল আটক
২৭মে,বুধবার,কমল চক্রবর্তী,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা হতে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে মোটরসাইকেল চালানোর দায়ে মহানগর এলাকার বিভিন্ন স্থানে চেকপোষ্ট স্থাপন করে ১৫৭ টি মোটরসাইকেল আটক করা হয়। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ মাহাবুবর রহমান বিপিএম, পিপিএম এর নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) শ্যামল কুমার নাথের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ২৬ মে রাত ৮টা থেকে ১০ টা পর্যন্ত সিএমপির সকল থানার বিভিন্ন টিম কর্তৃক পরিচালিত চেকপোস্ট কার্যক্রমকালে সরকারী নির্দেশনা অমান্য করায় এবং বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর দায়ে পাঠাও রাইড সহ এসব মোটরসাইকেল আটক করা হয়। আটককৃত মোটরসাইকেল গুলোর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্হা গ্রহন করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ও বিস্তার প্রতিরোধের লক্ষ্যে সন্ধ্যা ৬ টার পর থেকে যানবাহন চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা আছে।এ বিধি নিষেধ এখনো বহাল আছে এবং চেকপোস্টের কার্যক্রম চলমান থাকবে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ও বিস্তার প্রতিরোধের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক জারীকৃত নির্দেশনা সমূহ মেনে চলার জন্য সম্মানিত নগরবাসীর প্রতি আবারো অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
করোনা ভাইরাস সংক্রমণে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম হটস্পটে পরিণত হয়েছে
২৭মে,বুধবার,সৈয়দুল ইসলাম,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: আক্রান্ত জেলা থেকে অবাধে প্রবেশের সুযোগে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ক্ষেত্রে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম হটস্পটে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই দেড়শ থেকে দু'শ করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে এখানে। হাসপাতালেও এখন আর রোগীদের স্থান হচ্ছে না। ১৩০ শয্যার দু'টি হাসপাতালের বিপরীতে বর্তমানে রোগী সংখ্যা দু হাজারের বেশি। আর চিকিৎসা ব্যবস্থাও সীমিত হয়ে যাওয়ায় আক্রান্তসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে ৩ এপ্রিল প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর এক মাসে রোগী সংখ্যা ছিল মাত্র ৮৯ জন। কিন্তু পরের ২০ দিনে রোগী সংখ্যা দু'হাজারের বেশি। বিশেষ করে ২০ মে'র পর থেকে প্রতিদিন দেড়শো কিংবা তার চেয়েও বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছে চট্টগ্রামে। এর মধ্যে ওই দিনই রোগী সংখ্যা ছিলো ২শ ৫৭ জন। সে অনুযায়ী, চট্টগ্রামকে করোনা সংক্রমণের হটস্পট হিসেবেই চিহ্নিত করছেন সিভিল সার্জন। সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি বলেন, জনগণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে পারে নাই। তাই আজ এই ভয়াবহ পরিস্থিত হয়েছে। নগরীতেই প্রতিদিন দেড়শোর বেশি রোগী শনাক্ত হলেও করোনা বিশেষায়িত হাসপাতাল রয়েছে মাত্র দু'টি। যেখানে আবার শয্যা সংখ্যা মাত্র ১শ ৩০। করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পরও রোগী নিয়ে হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরছে স্বজনেরা। ফলে আক্রান্ত রোগী থেকে সংক্রমণের হারও ক্রমশ বেড়ে চলেছে। স্বাচিপ সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আ ন ম মিনহাজুর রহমান বলেন, আড়াই মাস ধরে এসমস্ত গল্প শুনছি। প্রাতিষ্ঠানিক হাসপাতাল হবে, তবে এরকম কিছুই এখনও হয়নি। চট্টগ্রামে করোনা রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ার বেশক'টি কারণ চিহ্নিত করেছেন চিকিৎসকরা। গার্মেন্টস এবং বেশ কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠান খোলা রাখাকে কারণ হিসেবে দেখছেন তারা। বিএমএ সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. এস এম মুইজ্জুল আকবর চৌধুরী বলেন, রোগী আছে কিন্তু হাসপাতালে নেই কোনো বেড। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভয়াবহ চিত্র। তবে শেষ পর্যায়ে এসে চট্টগ্রামের বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতাল এবং খুলশীর ইম্পেরিয়াল হাসপাতালকে করোনা রোগীদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসেবে বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।
সুবিধাবঞ্চিত ছোট্ট সোনামনিদের মুখে ঈদের হাসি ফুটালো রেলওয়ে থানার ওসি মোস্তাফিজ ভুইয়া
২৬মে,মঙ্গলবার,কমল চক্রবর্তী,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রামের সুবিধাবঞ্চিত পথ শিশুদের মুখে হাসি ফুঁটাতে চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মোস্তাফিজ ভুইয়াসহ থানার সকল অফিসার ও ফোর্স তাদের ব্যক্তিগত টাকায় ফান্ড গঠন করে ঈদের দিনের বিশেষ খাবার তুলে দিয়ছে অযত্ন অবহেলায় বেড়ে উঠা ছিন্নমূল পথ শিশুদের জন্য গড়া- আলোর ঠিকানার সুবিধাবঞ্চিত ছোট্ট সোনামনিদের মুখে। যাদের মুখে ঈদের খুশি নেই আনন্দ নেই। আছে বুকভরা কষ্ট আর অযত্ন অবহেলা। এই সকল ছোট্ট সোনামনিদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেছে রেলওয়ে থানা। অন্য সকল শিশুদের মত হাসিতে ভরে উঠুক ওদের জীবন এমনটাই প্রত্যাশা সকলের। গতকাল ২৫ মে সোমবার ঈদের দিনে পুরাতন রেলস্টেশনে অবস্থিত আলোর ঠিকানায় চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মোস্তাফিজ ভুইয়া স্কুলের প্রধান ঋত্বিক নয়নের উপস্থিতিতে সুবিধাবঞ্চিত ছোট্ট সোনামনিদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন। রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মোস্তাফিজ ভুইয়া বলেন, আলোর ঠিকানা- সুবিধাবঞ্চিত ছোট্ট সোনামনিদের নিয়ে কাজ করছে। আমরা রেলওয়ে থানা টিম নিজেদের টাকায় ফান্ড গঠন করে সুশৃঙ্খলভাবে সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের মাঝে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিয়েছি। পাশাপাশি ওদের মাঝে ঈদের দিনের বিশেষ খাবার বিলি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও নতুন কিছু এই কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে আসব ।এর বাইরেও আমরা অন্য পথ শিশুদের নিয়ে কাজ করব। এবারের ঈদ ওদের জন্য আমাদের নয়। আমরা পোলাও বিরিয়ানী খেলে ওরাও খাবে। তাই এ বছর আমরা পথ শিশুদের জন্য ঈদের বিশেষ খাবার বিতরণ করেছি। ঈদে পথ শিশুদের মুখে হাসি থাকুক এটা সবাই চায়। সেই জন্যই আমরাও এর ব্যতিক্রম নই। এভাবে সবাই যদি এদের পাশে এসে হাত বাড়িয়ে দেয় তবে হাসি মাখা মুখের সংখ্যা দিন দিন বাড়বে। আমাদের এতটুকু মানবিকতা আর ভালোবাসাই হোক ওদের বেঁচে থাকার অবলম্বন। তাই আনন্দটা ওদের সাথে শেয়ার করতে পেরে আমরা নিজেদের ভাগ্যবান মনে করছি। তিনি আরও বলেন, এছাড়া আমরা করোনা পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় মানুষদের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করছি। দুই দফায় আমরা নিজের অর্থায়নে বেশ কিছু অসহায় মানুষদের খাদ্য সহায়তা দিয়েছি। তৈরী খাবার ও বিলিয়েছি। আগামী কাল পরশু আমরা আরো প্রায় ২০০ জনকে খাদ্য সহায়তা দিব। পথ শিশুদের নিয়ে কাজ করা বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন আমাদের এ কাজে সহযোগিতা করছে। গত এক বছর আগে আমি নিজে উপস্থিত থেকে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের ১ টাকার খাবার কর্মসূচির উদ্ভোধন করেছিলাম। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন কে ধন্যবাদ জানাই আমাদের এই ভাবে সহযোগিতা করার জন্য।
নগরীর বিনোদন কেন্দ্রেগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান,৫ মোটরবাইক চালক আটক
২৫মে,সোমবার,কমল চক্রবর্তী,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঈদের দিনেও বিনোদন কেন্দ্র ও রাস্তায় লোক সমাগম ঠেকাতে জেলা প্রশাসন চট্টগ্রামের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রেখেছে। কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতুর উপর স্ট্যান্টবাজি করে বেপরোয়া ভাবে মোটরবাইক চালনার সময় উঠতি বয়সের ৫ মোটরবাইক চালক আটক ও সামর্থ্য বিবেচনায় জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন স্থানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মামনুন আহমেদ অনিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস.এম. আলমগীর এর নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। আজ সোমবার ২৫ মে বিকাল ৪ঃ৩০ টা থেকে জেলা প্রশাসন চট্টগ্রামের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তৌহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে সিএমপি সদস্য সহযোগে চট্টগ্রাম মহানগরীর অভয়মিত্র ঘাট এবং কর্ণফুলী শাহ আমানত ব্রীজ এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তৌহিদুল ইসলাম জানান, ঈদ উপলক্ষে লোক সমাগম ঠেকাতে অভিযান চালানো হয়।অভিযানে কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতুর উপর স্ট্যান্টবাজি করে বেপরোয়া ভাবে মোটরবাইক চালনার সময় উঠতি বয়সের ৫ মোটরবাইক চালককে আরোহীদের সহ গ্রেফতার করা হয়। বেপরোয়াভাবে বাইক চালনার সময় হেলমেটও ছিলো অনেকের। এসময় সকলের চাবি জব্দ এবং সামর্থ্য বিবেচনা করে অনুযায়ী জরিমানা করা হয়েছে। একজন প্রাপ্ত বয়স্ককে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তিনি আরও জানান, এছাড়া অভয়মিত্র ঘাটে প্রাইভেট কার, মোটর সাইকেলের বহর তৈরি করে আড্ডা দেয়ার সময় তরুণ-তরুণীদের ঘরে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসময় গাড়ির মালিকানা দাবীকারীকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এদিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মামনুন আহমেদ অনিক এর নেতৃত্বে নগরীর আকবরশাহ ও পাহাড়তলি এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। উক্ত অভিযানে মোট ৪টি মামলায় ১৭০০ টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযান চলাকালীন সময় জনগণকে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার জন্য সচেতন করা হয়। বিভিন্ন যানবাহন যেমনঃ ব্যাক্তি মালিকানাধীন গাড়ি , রিক্সা ও সিএনজি প্রভৃতিতে অপ্রয়োজনীয় কারণে চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়। বিভিন্ন দোকান এর সামনে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার জন্য জনগণকে সচেতন করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস.এম. আলমগীর এর নেতৃত্বে বিকাল ৩.০০ টা থেকে বিকাল ৫.৪৫ টা পর্যন্ত নগরীর চান্দগাও ও চকবাজার এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। আজ ঈদ উপলক্ষে নগরীর পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্রসমূহে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। কিছু গণপরিবহন চলতে দেখা যায়। এদের মৌখিকভাবে সতর্ক করেন তবে কোন মামলা করা হয়নি।
ঈদের দিনেও থেমে নেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম
২৫মে,সোমবার,কমল চক্রবর্তী,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: আজ পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর। মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। এই দিনটি অনেক আনন্দ উদ্দীপনার দিন। কিন্তু করোনা মহামারীতে সবকিছু ম্লান করে দিয়েছে। এ যেন এক অচেনা ঈদ। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা মহামারীর বিস্তার রোধে সরকার গত ২৬ মার্চ থেকে দেশব্যাপী চলছে সাধারণ ছুটি ।কার্যত অঘোষিত লকডাউন চলছে । এইদিকে সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত ও সরকারী নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সচেতনতা কার্যক্রমের পাশাপাশি বাজার মনিটরিং এ একটানা মাঠে কাজ করছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। তারই ধারাবাহিকতায় ঈদের দিনেও থেমে নেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম। লোকসমাগম ঠেকাতে আজ নগরীর পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্রসমূহে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আজ সোমবার ২৫ মে নগরীর বাকলিয়া, সদরঘাট, কোতোয়ালী, ডবলমুরিং ও হালিশহর এলাকায় সিএমপির পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আশরাফুল আলম এর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আশরাফুল আলম জানান, আজ আমাদের পবিত্র ঈদ। তবে এইবার একটু অন্যরকম ঈদ। আজকেও আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আজ নগরীর বাকলিয়া, সদরঘাট, কোতোয়ালী, ডবলমুরিং ও হালিশহর এলাকায় করোনা ভাইরাসের সংক্রামণ নিয়ন্ত্রণে সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। ঈদ উপলক্ষে নগরীর পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্রসমূহে লোক সমাগম ঠেকাতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় উক্ত এলাকার বিনোদন কেন্দ্র সমূহ বন্ধ পাওয়া যায়। তিনি আরও জানান, আজকে ঈদ উপলক্ষ্যে রাস্তায় মানুষের চলাচল আগের চেয়ে তেমন বেশি পরিলক্ষিত হয়নি। তবে কিছু গণপরিবহন চলতে দেখা গেছে। এসময় বিভিন্ন অপরাধ আমলে নিয়ে ৬ টি মামলায় ৬,০০০(ছয় হাজার) টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার জন্য উক্ত এলাকাগুলোতে প্রচার প্রচারণা চালানো হয়। জনস্বার্থে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান জেলা প্রশাসনের এই নির্বাহী কর্মকর্তা।
করোনায় আক্রান্ত হলেন জেলা প্রশাসনের আরেক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
২৫মে,সোমবার,কমল চক্রবর্তী,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা মহামারীর বিস্তার ঠেকাতে সরকার দেশব্যাপি তিন দফায় সাধারণ ছুটি ঘোষনা করেছে। বন্ধ রেখেছে গনপরিবহন। সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর গত ২৬ মার্চ থেকে সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত ও সরকারী নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সচেতনতা কার্যক্রমের পাশাপাশি বাজার মনিটরিং এ একটানা মাঠে কাজ করছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। করোনা পরিস্থিতিতে বাজার অনেকটাই অস্থিতিশীল হয়ে পরে ছিল। রমযান মাসে বাজার নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। জেলা প্রশাসনের একটানা সাঁড়াশি অভিযানে সেই বাজারও নিয়ন্ত্রনে আসে। এছাড়া সমাজের দুস্থ, অসহায় ও মধ্যবিত্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরন কার্যক্রমও অব্যাহত রেখেছে ।এইভাবে নিরবিছিন্ন একটানা অভিযান চালাতে গিয়ে শারিরিক ভাবে অসুস্থ হয়েছেন কয়েকজন ম্যাজিস্ট্রেট এবং করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন দুই জন। তবুও থেমে নেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম। গতকাল রোববার ২৪ মে ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডি ল্যাবের নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদনে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদুর রহমান এর করোনা রিপোর্ট এ পজিটিভ আসে। এছাড়া গত (১৬ মে) নাজমুন নাহার নামের আরেক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তিনিও বর্তমানে বাসায় আইসোলোশনে রয়েছেন। করোনায় আক্রান্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও স্টাফ অফিসার টু ডিসি মো. মাসুদুর রহমান করোনা পরিস্থিতিতে ত্রাণ বিতরণ ও সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত ও সরকারী নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সচেতনতা কার্যক্রমসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কাজে অংশ নিয়েছিলেন। গত কয়েকদিন ধরে তিনি জ্বর, কাশি ও মাথাব্যথায় ভুগছিলেন। পরে জ্বর না কমায় তিনি বিআইটিআইডি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করান। কিন্তু নমুনা প্রতিবেদনে তার শরীরে করোনা পজিটিভ আসে। বর্তমানে তিনি সিভিল সার্জনের পরামর্শে বাসায় আইসোলোশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদূর রহমান বলেন, বিআইটিআইডি'র ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা্য় করোনা পজিটিভ আসার পর থেকে সিভিল সার্জনের পরামর্শে বাসায় আইসোলোশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছি। আমি আমার পাঁচ বছরের সন্তান ও স্ত্রীর কাছ থেকে আলাদা রুমে রয়েছি। কষ্ট হলেও পরিবারের অন্যদের সংক্রমণ থেকে ঠেকাতে আলাদা থাকতে হবে এর কোন বিকল্প নেই। দ্রুত করোনা মুক্তির পাশাপাশি আমি যেন দ্রুত কাজে ফিরতে পারি সেই জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।
ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কাউন্সিলর নিছার উদ্দিন আহম্মেদ মঞ্জু
২৪ মে,রবিবার,রাজিব দাশ, চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঈদ মনে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ, পৃথীবিতে মনে হয় এবারই প্রথম সেই খুশি ও আনন্দে কিছুটা ভাটা পড়ছে, চলমান করোনা পরিস্থিতিতে আনেকটা বিবর্ণ ও মলিন হয়েছে এবারের ঈদে। এক কথাই আনন্দ ছাড়াই উদযাপিত হচ্ছে এবারের ঈদুল ফিতর। সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাসের মহামারী পাল্টে দিয়েছে সবকিছু। এবারের ঈদই হচ্ছে কোলাকুলি বিহীন ও মাস্কযুক্ত প্রথম ঈদ। দেশের এই মহামারীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষের কল্যানে সকল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের পাশাপাশি করোনা রোগীর চিকিৎসার বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা রেকেছেন। তিনি ঈদের উপহার স্বরুপ সারাদেশে কর্মহিন ৫০ লক্ষ মানুষকে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে ২৫০০ টাকা করে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহার আমি আমার উক্ত ওয়ার্ডে সঠিক ভাবে বিলি বন্টন করেছি। এবং অত্র ওয়ার্ডের বসবাস কারীদের সর্ব্বক্ষনিক খোজ খবর নিয়েছি। ইতিমধ্যে অত্র ওয়ার্ডকে মেগা ওয়ার্ডে পরিণত করেছি। এখনো আমি আপনাদের সেবায় জাগ্রত রয়েছি। আপনারা ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন, সরকারী দিক নির্দ্দেশনা মেনে চলুন। সারাদেশে করোনা ভাইরাসে এই পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করা সকলের আত্মার মাগফেরাত কামনা ও শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আমার নির্বাচনী ১০নং উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডে ও সর্ব্বস্থরের জনগনকে, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সকল নেতাকর্মিকে এবং চট্টগ্রামবাসিকে জানাই পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। ঈদ মোবারক।
পচা মাংস বিক্রি ও সরকারি নির্দেশনা না মানায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা
২৪ মে,রবিবার,কমল চক্রবর্তী,চট্টগ্রাম ,নিউজ একাত্তর ডট কম: সীতাকুণ্ড উপজেলা ও এর আশপাশ এলাকার বাজারগুলোতে কেউ মানছে না শারীরিক দূরত্ব । মানা হচ্ছে না সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি। দোকান গুলোতে ছিলনা মূল্য তালিকা। আবার দেখা গেছে মূল্য তালিকায় প্রদর্শিত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে পণ্য বিক্রয় করছে। এমন পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসন সীতাকুণ্ড পৌরসভা, কলেজগেট, বাড়বকুণ্ডের শুকলালহাট বাজার, কুমিরা ইউনিয়নের বড় কুমিরা বাজার ও ছোট কুমিরা বাজার এলাকায় করোনা ভাইরাসজনিত প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধের লক্ষ্যে শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ, বাজার মনিটরিং এর লক্ষ্যে একটানা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে। আজকের অভিযানে ১১ টি মামলায় ২১,১০০ (একুশ হাজার একশত) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। আজ রবিবার ২৪ মে সকাল ১১ টা থেকে বিকাল দুপুর আড়াই টা পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহযোগিতায় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গালিব চৌধুরীর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গালিব চৌধুরী জানান, গত কয়েকদিন যাবত একটানা অভিযান চালানো হচ্ছে এই এলাকাগুলোতে। মুলত এইএলাকা গুলোতে কেউ মানছিলনা সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি । তাছাড়া এসব এলাকার দোকানগুলোতে মূল্য তালিকা না থাকা, মূল্য তালিকায় প্রদর্শিত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে পণ্য বিক্রয় রোধ করাসহ বাজার মনিটরিং এর উদ্দেশ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। তিনি বলেন, বাজার মনিটরিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শুকলালহাট বাজারের এক মাংস বিক্রেতাকে পচা মাংস বিক্রয়ের অপরাধে দশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে বড় কুমিরা বাজারের ঝন্টু স্টোরকে দুই হাজার) টাকা ও রাসেল স্টোরকে এক হাজার পাঁচশত টাকা এবং ছোট কুমিরা বাজারের খাজা ট্রেডার্স কে দুই হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে দোকান খোলা রাখায় সীতাকুণ্ড পৌর বাজারের বেবি ফ্যাশনকে এক হাজার পাঁচশত টাকা, আতিক কসমেটিকসকে এক হাজার টাকা, গিফট গ্যালারিকে এক হাজার টাকা, রাজ টেলিকম এন্ড গিফট কর্নারকে পাঁচশত টাকা ও কুটুম্ববাড়ি সেলুনকে এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়া ছোট কুমিরা বাজারের একটি সেলুনকে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় পাঁচশত টাকা ও সীতাকুণ্ড পৌর বাজারে শারীরিক দূরত্ব না মানায় একজনকে একশত টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়। করোনা পরিস্থিতিতে জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান ম্যাজিস্ট্রেট গালিব চৌধুরী।
ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ওসি মঈনুর রহমান
২৪ মে,রবিবার,সৈয়দুল ইসলাম,চট্টগ্রাম ,নিউজ একাত্তর ডট কম: একমাস সিয়াম সাধনার পর মুসলমানদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠান পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পাহাড়তলী থানা এলাকাবাসী সহ সকলকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)ও পাহাড়তলী থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মঈনুর রহমান। করোনা মহামারিতে তিনি উক্ত থানা এলাকায় বেশ কিছু অসহায়, দিনমজুর, নিন্মবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রধান, করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের হাসপাতালে প্রেরন, আক্রন্ত ব্যক্তির বাড়ী লকডাউন করে সার্ব্বক্ষণিক খোজ খবর নেওয়া রমজানে ট্রাফিক পুলিশদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরনের পাশাপশি উক্ত থানা এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উল্লেখ যোগ্য ভূমিকা পালন করেন । তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নির্দেশমতে এবং মাননীয় পুলিশ কমিশনার মহোদয়ের দিক নির্দেশনায় উক্ত থানা এলাকায় করোনা মহামরিতে যা যা করণীয় আমি করেছি, তাবে করোনার মহামারিতে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করলেও থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখেছি। বর্তমানে এই করোনা ভাইরাস থেকে নিজেকে এবং পরিবারের সকলকে নিরাপদে রাখতে আমাদের আরো সচেতন হতে হবে। সরকারের দেওয়া দিক নির্দেশনা যথাযথ ভাবে পালন করতে হবে। আমি ইতি মধ্যে আমাদের সহকর্মী পুলিশ বাহিনীর সদস্য, ডাক্তার, সাংবাদিক সহ করোনা ভাইরাসে মৃত্যুবরণ করা সকলের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। সেই সাথে আমার পাহাড়তলী থানা এলাকার সকলকেও করোনা যুদ্ধের লড়াইয়ের সকল সৈনিকদেরকে জানাচ্ছি পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক, এবারের ঈদ আমাদের জন্য ভিন্ন আঈীকে। সবাই ঘরে থাকুন, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখুন, সরকারের নিয়মাবলী মেনে চলুন, নিরাপদে ও সুস্থ থাকুন।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর