শুক্রবার, জুলাই ৩, ২০২০
চট্টগ্রামে ছাত্রদল নেতা খুন: ৪ ভাই গ্রেফতার
০৩,জুলাই,শুক্রবার,রাজিব দাশ,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং এলাকার ছাত্রদল কর্মী মীর ছাদেক অভি খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আপন চার ভাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসময় খুনের কাজে ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার (২ জুন) দুপুর থেকে শুক্রবার (৩ জুন) ভোর রাত পর্যন্ত নগরীর আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতাল এলাকা, আকবরশাহ এলাকা ও হাটহাজারী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে ডবলমুরিং থানা পুলিশ। ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) জহির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মো. ইব্রাহীম মুন্না (২৬), মো. শাহরিয়া ফারদিন (তুহিন ) (১৯ ), মো. ইয়াছিন আরাফাত (টিটু) (৩০) ও মো. ইরফান (বাবু) (২৩)। তারা ডবলমুরিং এলাকার হাজিপাড়ার মো. কামালের সন্তান। পুলিশ বলছে, গ্রেফতারকৃত চারজনের মধ্যে ইব্রাহিম মুন্না ছাড়া বাকী তিনজন মৃত্যুর আগে মীর ছাদেক অভির দায়েরকৃত মামলার এজহারভুক্ত আসামি। ইব্রাহিম মুন্না এজহারভুক্ত আসামি না হলেও ঘটনাস্থলে সেদিন সে উপস্থিত ছিল। গত ১৫ জুন রাত ১১ টায় ডবলমুরিংয়ের হাজীপাড়া মসজিদের পাশে ইমরানের রিকশার গ্যারেজের সামনের রাস্তার উপর ছাত্রদলকর্মী মীর ছাদেক অভিকে ছুরিকাঘাত করে জখম করলে এলাকার লোকজন তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসা শেষে গত ২৪ জুন মীর ছাদেক অভি সুস্থ হয়ে তার দেওয়ানহাটের বাসায় চলে যায়। পরদিন ২৫ জুন নিজ বাসায় ভমি শুরু হলে তাকে ফের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং একপর্যায়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক মীর ছাদেক অভিকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর পর মীর ছাদেক অভি ও নগর বিএনপি বলে আসছে- মাদক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় সেদিন গত ১৫ জুন ছাত্রদল কর্মী মীর ছাদেক অভিকে ছুরিকাঘাত করা হয়। ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) জহির হোসেন বলেন, মীর ছাদেক অভি খুনের ঘটনায় ৪ জনকে নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা চারজনই আপন ভাই। ঘটনার সময় চারজনই ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। অভির খুনে ব্যবহৃত ছুরিটিও উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতার পরবর্তী দুপুরে (শুক্রবার ৩ জুন) তাদের চারজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানায় পুলিশ কর্মকর্তা জহির হোসেন।
অন্ধের মতো সমালোচনা গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় সহায়ক নয়: তথ্যমন্ত্রী
০৩,জুলাই,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ করোনা মহামারির মধ্যে কোনো সংবাদকর্মীকে চাকরিচ্যুত না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, করোনা মহামারির মধ্যে কোনো মানুষের চাকরিচ্যুতি অমানবিক। মালিকপক্ষকে বিষয়টি অনুধাবন করতে হবে। শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে) আয়োজিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিশ্রুত সাংবাদিকদের করোনাকালীন সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, কোভিড-১৯ জনিত পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের সহায়তা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করলে তিনি আমাকে উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। প্রথমে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে ২ কোটি ৩১ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছিলাম। এরপর তথ্য মন্ত্রণালয়ের অব্যয়িত অর্থ থেকে আরও ২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মোট ৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করে কারা সহায়তা পাবেন তারা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সাংবাদিক ইউনিয়নগুলোই তালিকা করেছেন। যারা ইউনিয়নের বাইরে আছেন তাদের জন্য ডিসির সুপারিশ নিয়ে অন্তর্ভুক্তের অপশন রাখা হয়েছে। প্রথম দফায় ১ হাজার ৫০০ সাংবাদিককে এ সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে। সেখানে চট্টগ্রাম থেকে ২৫০ জন সাংবাদিক পাচ্ছেন। এবার যারা বাদ যাবেন তারা পরবর্তীতে পাবেন। সিইউজের সভাপতি মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ম. শামসুল ইসলামের সঞ্চালনায় চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে’র সহ-সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি আলহাজ্ব আলী আব্বাস, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব মহসীন কাজী প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিশ্বের কোনো দেশ করোনা মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত ছিলো না। মানব সভ্যতার ইতিহাসে এ ধরণের কোন মহামারি মোকাবিলা করার ইতিহাস নেই। এতো ছোট ভাইরাস চোখেও দেখা যায় না। এ ভাইরাস ছড়িয়ে না দিয়ে মানব জাতিকে সুরক্ষা দিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রথম দিকে চীন করোনা ভাইরাসকে অস্বীকার করেছে। যে ডাক্তার করোনা ভাইরাস চিহ্নিত করেছেন, চীন সরকার তাকে গ্রেফতারও করেছ। সেই ডাক্তার শেষ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তিনি বলেন, ইউরোপের দেশগুলোতে মৃত্যুর মিছিল হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মানুষকে সুরক্ষা দিয়েছেন। শুরু থেকে ত্রাণ তৎপরতা চালু করেছেন। ত্রাণ অব্যাহত আছে। এখনও কোনো মানুষ না খেয়ে মারা যায়নি। ইমাম-মোয়াজ্জিন থেকে শুরু করে সবার কাছে সাহায্যের টাকা পৌঁছে গেছে। ৭ কোটি মানুষকে ত্রাণ দিয়েছে সরকার। সরকারের মন্ত্রী-এমপি সাধারণ মানুষকে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সার্বিকভাবে সরকার করোনায় মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে দাবি করে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশে মৃত্যুর হার ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে কম। তাই অন্ধের মত সমালোচনা না করে আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে। অনুষ্ঠানে ১৩৬ জন সাংবাদিককে করোনাকালীন সহায়তার চেক তুলে দেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। এর বাইরেও এ সময় চট্টগ্রামের ২৫ জন সাংবাদিককে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের নিয়মিত সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়েছে। করোনাকালীন সহায়তার চেকে প্রতিজনকে ১০ হাজার টাকা করে অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আর বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট্রের চেকে চট্টগ্রামের ২৫ জন সাংবাদিক ৫০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পেয়েছেন।
করোনা হাসপাতাল প্রতিষ্টায়-সাংসদ সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর পক্ষে ২৫ লক্ষ টাকা প্রদান
০৩,জুলাই,শুক্রবার,সজল চক্র বত্তী,ফটিকছড়ি,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশন (বিটিএফ) এর সম্মানিত চেয়ারম্যান, ফটিকছড়ি থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী ফটিকছড়ি বাসীর চিকিৎসা সেবার কথা চিন্তা করে ফটিকছড়ি সদর ২০ শয্যা হাসপাতালকে (কোভিট-১৯) করোনা বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। এ হাসপাতাল সংস্কারে সহায়তার জন্য মানবতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে সাংসদ আলহাজ্ব সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী তাঁর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ২০,০০,০০০/- (বিশ লক্ষ) টাকা এবং সাংসদ সুযোগ্য পুত্র বিটিএফ এর সম্মানিত যুগ্ম মহাসচিব, সেভ এন্ড সার্ভ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সৈয়দ তৈয়বুল বশর মাইজভান্ডারী তাহার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৫,০০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ) টাকা সহ মোট ২৫ লক্ষ টাকার অনুদান প্রদান করেছেন।১লা জুলাই উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সায়েদুল আরেফিন এর হাতে সাংসদের পক্ষে প্রতিশ্রুত অনুদানের টাকা হস্তান্তর করেন ফটিকছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হুসাইন মোঃ আবু তৈয়ব। এ সময় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জেবুন নাহার মুক্তা, ফটিকছড়ি পৌরসভা মেয়র আলহাজ্ব মোঃ ইসমাইল হোসেন, বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশন (বিটিএফ) এর ফটিকছড়ি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলমগীর আলম, বিটিএফ এর নাজিরহাট পৌরসভা সভাপতি মোঃ শাহ জালাল ও মুহাম্মদ নাঈম উদ্দিন শাহ্‌ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এই করোনা হাসপাতাল সংস্কারে সাংসদ আলহাজ্ব সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর পক্ষে করোনা হাসপাতাল প্রতিষ্টায় ২৫ লক্ষ টাকার অনুদান দেয়ায় ফটিকছড়ির সর্ব্ব স্তরের জনসাধারনের পক্ষ থেকে আন্তরিক মোবারকবাদ ও প্রানঢালা অভিনন্দন জানানো হয়।
চট্টগ্রামে করোনায় নতুন আক্রান্ত ২৮২ জন
০৩,জুলাই,শুক্রবার,শারমিন আকতার,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ২৮২ জন। মৃত্যুবরণ করেছেন ৩ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৭ জন। এ নিয়ে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজার ৪০৫ জন। শুক্রবার (৩ জুলাই) সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ৬টি ল্যাব ও কক্সবাজার ল্যাবে মোট ১ হাজার ৩২৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এরমধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ল্যাবে ১০৯টি নমুনা পরীক্ষা করে ৩৪ জন করোনা পজেটিভ রোগী শনাক্ত হয়। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসে (বিআইটিআইডি) ৩৬০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে শনাক্ত হয় আরও ৩৭ জন। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) ল্যাবে ৪০৩টি নমুনা পরীক্ষা করে ৭০ জন করোনা পজেটিভ পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিভাসু) ১৪০টি নমুনা পরীক্ষা করে ১৯ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস পাওয়া যায়। এছাড়া বেসরকারি ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ১৪৬টি নমুনা পরীক্ষা করে ২৫জন এবং শেভরণ ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরিতে ১৫৭টি নমুনা পরীক্ষা করে ৯৪ জন শনাক্ত হয়। অন্যদিকে কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজে চট্টগ্রামের ৮টি নমুনা পরীক্ষা করে ৩ জন করোনা শনাক্ত হয়। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৩২৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নতুন আক্রান্ত হয়েছে ২৮২ জন। এদের মধ্যে নগরে ১৮২ জন এবং উপজেলায় ১০০ জন।
জেলা প্রশাসনের ৩ কর্মকর্তা পেলেন শুদ্ধাচার পুরস্কার
০২,জুলাই,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার পেয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের তিন কর্মকর্তা। শুদ্ধাচার পুরস্কার পাওয়া তিন কর্মকর্তা হলেন- হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমীন, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) মো. মাসুদ রানা ও জেলা নাজির মো. জামাল উদ্দীন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তিন কর্মকর্তার হাতে শুদ্ধাচার পুরস্কার হিসেবে ক্রেস্ট, সনদপত্র ও নগদ অর্থ তুলে দেন জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন। স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক ইয়াছমিন পারভিন তিবরীজির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. দেলোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. কামাল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. আবু হাসান সিদ্দিক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. বদিউল আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এজেডএম শরীফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, জনসেবায় জনপ্রশাসন- এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টিমওয়ার্কের মাধ্যমে কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই সরকারি সেবা জনগণের দৌরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছেন বলে সরকারের সুনাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রে সততা ও দক্ষতার কারণে যারা পুরস্কৃত হয়েছে তারা অবশ্যই শুদ্ধাচারী। এ স্বীকৃতি ধরে রাখতে হবে। যারা শুদ্ধাচার পুরস্কার পায়নি, কিন্তু প্রতিযোগিতায় ছিল তারাও অনেক ভালো করেছে। আগামীতে তাদের মধ্যে থেকে শুদ্ধাচারী কর্মকর্তা-কর্মচারী বেরিয়ে আসবে। কর্মক্ষেত্রে পেশাগত দক্ষতা, তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার, উদ্ভাবন চর্চা, অভিযোগ প্রতিকারে সহযোগিতা ও স্বপ্রণোদিত হয়ে তথ্য প্রকাশে আগ্রহসহ নিষ্ঠার সঙ্গে সরকারি দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি হিসেবে এই তিন কর্মকর্তাকে জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার দেওয়া হয়েছে বলে জেলা প্রশাসনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
জুয়ার খেলার নামে প্রতারণার ফাঁদ, আটক ১
০২,জুলাই,বৃহস্পতিবার,রাজিব দাশ,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: কয়েকজন সদস্যের একটি চক্র। এদের প্রধান কাজ বিভিন্ন স্বাবলম্বী মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা। পরে সুযোগ বুঝে লোভ দেখিয়ে কিংস প্লেয়ার নামে একটি জুয়া খেলায় প্রলুব্ধ করে। যখন টার্গেট হওয়া ব্যক্তি এ ফাঁদে পা দেন তখনই তিনি তাদের হাতে খোয়ান লাখ লাখ টাকা। এমন একটি প্রতারক চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়া এক ব্যক্তি বিষয়টি বুঝতে পেরে পুলিশকে জানালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে একজনকে আটক করে। আটক ব্যক্তির নাম মো. ফয়েজ (৬০)। তিনি নোয়াখালী জেলার কবিরহাট থানাধীন শ্রীনন্দী এলাকার নূর মোহাম্মদের ছেলে জানিয়েছে পুলিশ। কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন নিউজ একাত্তরকে জানান, কিংস প্লেয়ার নামে জুয়া খেলার নামে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের দায়ে একজনকে আটক করা হয়েছে। প্রতারক চক্রের অন্য সদস্যদের আটকের চেষ্টা চলছে। কোতোয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সজল দাশ বলেন, আসামিরা মূলত তিন কার্ডের কিংস প্লেয়ার নামে একটি জুয়া খেলার মাধ্যমে লোভ দেখায় টার্গেট ব্যক্তিদের। এ চক্রের সদস্যরা দুইটি ভাগে ভাগ হয়ে কাজ করে। তারা ভিকটিমের সঙ্গে আপন সেজে তাকে খেলায় সহযোগিতার প্রলোভন দেখায়। তিনি বলেন, টার্গেট ব্যক্তিকে খেলায় বড় অংকের টাকা পেয়েছে বলে জানিয়ে সে টাকা পেতে হলে সম পরিমাণ টাকা তার কাছে থাকতে হবে বলে জানায়। তখন ভিকটিম লোভে পড়ে সে টাকা নিয়ে আসলে প্রতারক চক্রের হাতে টাকা খোয়ান। সজল দাশ জানান, প্রতারক চক্রের সদস্য হাজি মনসুর বিদেশে ছিলেন অনেকদিন। সেখান থেকে এ প্রতারণার খেলা আয়ত্ত করে দেশে এসে একটি চক্র গড়ে তোলেন। এসআই সজল দাশ জানান, সম্প্রতি এক ব্যবসায়ীকে এ খেলার প্রলোভন দেখায় প্রতারক চক্রের সদস্যরা। ৬ হাজার টাকার বিনিময়ে খেলায় অংশগ্রহণ করে ওই ব্যবসায়ী ২৫ লাখ টাকা জিতেছেন বলে প্রতারক চক্রের সদস্যরা জানান। সেই টাকা পেতে হলে আরও ১ লাখ টাকা দিতে হবে বলে জানায় তারা। তখন ওই ব্যবসায়ীর সন্দেহ হলে তিনি পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের এক সদস্যকে আটক করে। তিনি জানান, এর আগে একাধিক ব্যক্তি তাদের কাছে প্রতারণার শিকার হয়েছে। তারা থানায় মৌখিক অভিযোগ করলেও আসামিদের শনাক্ত করা যায়নি। প্রতারক চক্রের পলাতক সদস্যদের আটকের চেষ্টা চলছে।
পার্কভিউ হাসপাতালের অবহেলায় আ.লীগ নেতার মৃত্যুর অভিযোগ
০২,জুলাই,বৃহস্পতিবার,রাজিব দাশ,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: দুই দফায় চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ হোসেন। একদিনের ব্যবধানে ফের অসুস্থতা বেড়ে গেলে তাকে নিয়ে আসা হয় একই হাসপাতালে। কিন্তু তাকে ভর্তি করাতে গড়িমসি করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এমন অভিযোগ উঠেছে নগরের বেসরকারি পার্কভিউ হাসপাতালের বিরুদ্ধে। মোহাম্মদ হোসেনকে ভর্তি করাতে তার স্বজনদের ছোটাছুটির মধ্যেই পার্কভিউ হাসপাতালে জরুরি বিভাগে মারা যান তিনি। মোহাম্মদ হোসেন কর্ণফুলী থানার শিকলবাহা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। মোহাম্মদ হোসেনের ভাতিজা ইসহাক ইমন নিউজ একাত্তরকে বলেন, আমার চাচা মোহাম্মদ হোসেন পার্কভিউতে ভর্তি ছিলেন। বুধবার বিকেলে তিনি কিছুটা সুস্থ বোধ করায় তাকে বাড়িতে নিয়ে যাই। রাতে উনার শ্বাসকষ্ট হলে বৃহস্পতিবার সকালে পার্কভিউ হাসপাতালে নিয়ে আসি। কিন্তু তখন তারা চাচাকে ভর্তি করাতে চায়নি। তিনি অভিযোগ করেন, দুই ঘণ্টা রোগীকে কেউ দেখতেও আসেনি। একপর্যায়ে একজন ডাক্তার এসে বলেন উনি করোনা সাসপেক্টেড। আইসিইউ লাগবে। এরপর বলে একবার ৪ তলায় যান, আবার বলে ৮ তলায় যান। এভাবে করতে করতে রোগী মারা যায়। এ ঘটনায় তারা আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান ইসহাক ইমন। এ বিষয়ে জানতে পার্কভিউ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এটিএম রেজাউল করিমকে মোবাইলে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
চট্টগ্রামে করোনায় নতুন আক্রান্ত ২৭১, মোট ৯১২৩ জন
০২,জুলাই,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ২৭১ জন। মৃত্যুবরণ করেছেন ৬ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৯ জন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ৬টি ল্যাব ও কক্সবাজার ল্যাবে মোট ১ হাজার ৩৭৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এরমধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ল্যাবে ১৪২টি নমুনা পরীক্ষা করে ৫১ জন করোনা পজেটিভ রোগী শনাক্ত হয়। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসে (বিআইটিআইডি) ৩১৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে শনাক্ত হয় আরও ২৩ জন। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) ল্যাবে ৪০৮টি নমুনা পরীক্ষা করে ১০০ জন করোনা পজেটিভ পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিভাসু) ২৫৪টি নমুনা পরীক্ষা করে ২৫ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস পাওয়া যায়। এছাড়া বেসরকারি ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ১৫৭টি নমুনা পরীক্ষা করে ৪১জন এবং শেভরণ ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরিতে ৯৬টি নমুনা পরীক্ষা করে ৩০জন শনাক্ত হয়। অন্যদিকে কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজে চট্টগ্রামের একটি মাত্র নমুনা পরীক্ষা করে করোনা শনাক্ত হয়। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৩৭৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নতুন আক্রান্ত হয়েছে ২৭১ জন। এদের মধ্যে নগরে ১৮৭ জন এবং উপজেলায় ৮৪ জন। করোনায় এ পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হলেন ৯ হাজার ১২৩ জন।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর