বুধবার, মার্চ ৩, ২০২১
আগামীকাল থেকে ৩৫ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি
২২ডিসেম্বর,রবিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ১০ টাকা কমিয়েছে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। আগামীকাল সোমবার থেকে খোলাবাজারে ৩৫ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি করবে সরকারি এ সংস্থা। রোববার টিসিবির নিজস্ব ওয়েবসাইটে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে টিসিবি জানিয়েছে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে আগামীকাল ২৩ ডিসেম্বর সোমবার থেকে টিসিবির পেঁয়াজ খোলাবাজারে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি করা হবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উল্লিখিত দরে পেঁয়াজ বিক্রির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। উল্লেখ্য, এর আগে টিসিবি ৪৫ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করে গত ৩০ সেপ্টেম্বর। গত সেপ্টেম্বরে ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়ায় দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম দ্রুত বাড়তে থাকে। তখন বাজারদর নিয়ন্ত্রণে টিসিবি খোলাবাজারে ৪৫ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করে। প্রাথমিকভাবে এ কার্যক্রম ঢাকায় শুরু করা হলেও পরবর্তীতে সারাদেশে উক্ত দরে পেঁয়াজ বিক্রি করে টিসিবি।
অ্যান্টিবায়োটিকমুক্ত ফিড উৎপাদন বাড়ছে, জনপ্রিয় হচ্ছে ফার্মের মাংস ডিম
২১ডিসেম্বর,শনিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সরকার আইন করে পোলট্রি ও মাছের খাবারে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। অ্যান্টিবায়োটিকের দায়িত্বহীন ব্যবহারের বিরুদ্ধে আদালতের রুল জারি হয়েছে। বিগত কয়েক বছরে অ্যান্টিবায়োটিকের বিকল্প হিসেবে প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিকের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে (কেআইবি) গোলটেবিল বৈঠকটি আয়োজন করে বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি)। বৈঠকে মিডিয়া প্যানেলে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিবিসি নিউজের সম্পাদক প্রণব সাহা, আরটিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক লুৎফর রহমান, ইনডিপেন্ডেন্ট টিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক আশীষ সৈকত এবং এসএ টিভির বার্তা সম্পাদক সালাহউদ্দীন বাবলু। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. নাথু রাম সরকার, পোলট্রি বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো: মকবুল হোসেন, অধ্যাপক ড. শওকত আলী, অধ্যাপক ড. এস সি দাস, অধ্যাপক ড. কে এম এস ইসলাম প্রমুখ। ওয়ার্ল্ডস পোলট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হাসান তার প্রেজেন্টেশনে জানান, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী ২০১৭ সালে প্রায় তিন হাজার মেট্রিক টন এজিপি অলটারনেটিভ এডিটিভস (এএএ) দেশে আমদানি হয়েছে এবং প্রায় তিন দশমিক চার মিলিয়ন টন মুরগি ও মাছের খাবার তৈরিতে তা ব্যবহৃত হয়েছে, যা দেশে উৎপাদিত মোট ফিডের প্রায় ৮০ শতাংশ। তিনি বলেন, অ্যান্টিবায়োটিকমুক্ত ফিড উৎপাদনের ক্ষেত্রে এটি একটি ইতিবাচক অগ্রগতি। তবে তিনি বলেন, নিরাপদ ডিম ও মাংস উৎপাদনে ফিড একটি অন্যতম নিয়ামক হলেও নানাভাবেই এতে জীবাণুর সংক্রমণ ঘটতে পারে। যেমন, জবাই, প্রসেস ও স্টোরেজ করার সময়, এমনকি রান্নার সময়ও জীবাণুর সংক্রমণ ঘটতে পারে। তাই এক দিকে যেমন নজরদারি বাড়ানো, আইন ও নীতিমালা প্রয়োগে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরকে আরো বেশি কঠোর হতে হবে, অন্য দিকে তেমনি ভোক্তাদেরও সচেতন হতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের প্রফেসর খালেদা ইসলাম বলেন, দেশের মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ এবং পুষ্টিসূচকের উন্নতিতে বড় ভূমিকা রেখে চলেছে পোলট্রি শিল্প। ব্রয়লার মাংস ও পোলট্রির ডিম স্বাস্থ্যসম্মত এবং বিশ্বজুড়েই হোয়াইট মিট খাওয়ার পরিমাণ বাড়ছে।
এক কেজি পেঁয়াজের বিমান ভাড়া ১৫০ টাকা : বাণিজ্যমন্ত্রী
১২ডিসেম্বর,বৃহস্পতিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশে পেঁয়াজের ঘাটতি মেটাতে উড়োজাহাজে করে প্রতি কেজি ১৫০ টাকা ভাড়া দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। মানুষের উপকারের জন্য সরকার এটা করেছে। বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে টিসিবি ভবনে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মন্ত্রী এ কথা বলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধিতে ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিয়েছে। ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত যখন পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। সেদিন সন্ধ্যায় ঢাকার বাজারে পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ হয়ে যায়। কিন্তু সেসময় বাজারে যে পেঁয়াজ ছিল তাতো আমদানি আগেই করা হয়েছে। তাদের ধরলে বলে এখন সুযোগ পেয়েছে বলে লাভ করছে। তারা আসলে সুযোগ নিয়েছে। পেঁয়াজের দাম এমন একটা পর্যায়ে থাকা উচিত, যেখানে থাকলে কৃষকের লোকসান হবে না আবার সাধারণ মানুষেরও ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকবে বলে মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপারসন মো. মফিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন ড. শামসুল আলম, বাণিজ্য সচিব ড. জাফর উদ্দিন, এফবিসিসআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম প্রমুখ। পাশাপাশি, প্রতিযোগিতা কমিশনের কার্যক্রমের বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর ড. ফরাসউদ্দিন।
সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে
২৮নভেম্বর,বৃহস্পতিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজধানীর খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের দাম বাড়লেও উৎপাদকরা বলছেন, এর পেছনে তাদের কোনো হাত নেই। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনও বলছে, এই সময়ে কোম্পানিগুলো তেলের দাম বাড়াবে না। কিন্তু খুচরা বাজারে তেলের দাম ঠিকই বেড়ে গেছে। পাইকারি ব্যবসায়ীদের অজুহাত, আন্তর্জাতিক বাজারে বুকিং রেট বাড়ায় তেলের দাম বাড়ছে। যদিও এখনকার বুকিং করা তেল বাজারে আসবে কয়েক মাস পর। খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ১৫ দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫-৭ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে বিক্রি হতো ৭৮-৮০ টাকায়। আর পামওয়েলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বেড়ে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বাড়েনি। কোম্পানিভেদে প্রতি লিটার সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ১০০-১১০ টাকা দরে। জানতে চাইলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের তেল বিক্রেতা আবুল কাশেম জানান, প্রতি লিটার খোলা সয়াবিনে ৫-৭ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। পাইকারি বাজারে দাম বৃদ্ধির কারণেই এই দাম বাড়ানো হয়েছে। রাজধানীর বৃহৎ পাইকারি বাজার মৌলভীবাজারের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তি। বুকিং রেট (এলসি মূল্য) বেড়ে যাওয়ায় প্রতি মণ সয়াবিনে ২০০ টাকা এবং পাম ওয়েলে ৩৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। রাষ্ট্রীয় বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজার বিশ্লেষণ বলছে, এক মাসের ব্যবধানে খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রায় দুই শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। যেখানে পামওয়েলের দাম বেড়েছে ৮ শতাংশ পর্যন্ত। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে পামওয়েলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে বলে এর প্রভাব দেশি বাজারেও পড়েছে। তবে এ বিষয়টি স্বীকার করছে না ট্যারিফ কমিশন। তারা বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। তবে চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে পামওয়েলের দাম বেড়েছে। জানা যায়, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন সয়াবিন ৬৭১-৬৮০ ডলার এবং পামওয়েল ৬৩১-৬৫০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। দুটি কোম্পানি বোতলজাত তেলের দাম বৃদ্ধির একটি প্রস্তাবনা দিয়েছিল ট্যারিফ কমিশনের কাছে। তবে ট্যারিফ কমিশন তাদের আবেদনটি বাতিল করে দিয়ে বলেছে, দাম বৃদ্ধি করতে হলে ভোজ্যতেল পরিশোধন ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়ে সম্মিলিতভাবে আবেদন করতে হবে। তখন যাচাই-বাছাই শেষ করে তবেই দাম বৃদ্ধির অনুমতি দেয়া হবে। গতকাল বুধবার ট্যারিফ কমিশনে ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী, পরিশোধনকারী শিল্পের বিদ্যমান সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে শীর্ষস্থানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, টিকে গ্রুপ, বাংলাদেশ এডিবল ওয়েল, এস আলমসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান উপস্থিত ছিলো। বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান মো. নূর-উর-রহমান বলেন, উৎপাদনকারী ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা তেলের দাম বাড়াবে না বলে আমাদের জানিয়েছে। তাই আপাতত তেলের দাম বৃদ্ধির কোনো সুযোগ নেই। খোলা সয়াবিনের দাম বৃদ্ধিতে কোম্পানিগুলোর কোনো ভূমিকা রয়েছে কিনা- জানতে চাইলে সিটি গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক বিশ^জিত সাহা বলেন, বোতলজাত তেলের দাম বাড়েনি, আগের দামেই আমরা বিক্রি করছি। তবে খোলা তেলের বাজার আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। এ বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারব না।
দেশে যানজটের কারণে রপ্তানি মূল্য বাড়ছে: বিশ্বব্যাংক
১৪ নভেম্বর,বৃহস্পতিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সড়কে যানজটের কারণে পণ্য রপ্তানির মূল্য বাড়ছে। এজন্য রপ্তানি প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় মসৃণ পরিবহন অবকাঠামো তৈরিতে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। বললেন বিশ্ব ব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধি মার্সি টেম্বন। আজ বুধবার বিশ্ব ব্যাংকের মুভিং ফরওয়ার্ড: কানেক্টিভিটি অ্যান্ড লজিস্টিকস টু সাসটেইন বাংলাদেশ জ সাকসেস শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, যানজটমুক্ত সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার পাশাপাশি সাশ্রয়ী যোগাযোগ মাধ্যম রেল ও জলপথের অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে রপ্তানি সক্ষমতাকে পুরোপুরি কাজে লাগানো উচিত। অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন বিশ্ব ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ম্যাটিয়াস হেরেরা ড্যাপে, প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা মশিউর রহমান। মার্সি টেম্বন আরও বলেন, আন্তর্জাতিক রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। এই প্রতিযোগিতায় যে দেশ যত বেশি কম দামে পণ্য দিতে পারছে, সে দেশ রপ্তানি বাজারে ততই এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশকে পণ্য পরিবহণে লজিস্টিক সহায়তা বাড়িয়ে বিশেষ করে যানজট কমানোর মাধ্যমে পণ্য পরিবহণ ব্যয় কমিয়ে রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। টেম্বন বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতিযোগী দেশগুলো রপ্তানি পণ্য পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়ন করে এগিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো মসৃণ সংযোগ অবকাঠামোতে তৈরিতে পিছিয়ে আছে। বাংলাদেশের সড়ক যোগাযোগ খাতের যানজট রপ্তানি পণ্য গন্তব্যে পৌঁছানোর খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি বলেন, বিশ্ববাজারের প্রায় ৭ শতাংশ পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ। বর্তমান অবস্থায়ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ১০ শতাংশ রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ আছে। এছাড়াও বিশ্ববাজারে রপ্তানি বাড়ানোর ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। কিন্তু আমদানিকারকরা কম দামে পণ্য চায়। যে দেশ কম দামে পণ্য দিতে পারে তারা সেই দেশ থেকেই পণ্য কেনে। রপ্তানি বাড়িয়ে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশের দিকে এগিয়ে যেতে বাংলাদেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, কম খরচের পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো।
বুলবুলে ২৬৩ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি
১২নভেম্বর,মঙ্গলবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে ৭২ হাজার ২১২ টন ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য ২৬৩ কোটি পাঁচ লাখ টাকা। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক এ তথ্য জানিয়েছেন। গত রোববার ভোররাতে বাংলাদেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৬টি জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। জেলাগুলো হচ্ছে- খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, নড়াইল, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, নোয়াখালী, ফেনী এবং লক্ষ্মীপুর। ঝড়ের পরপরই ফসলের ক্ষক্ষতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া না গেলেও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ১৬ জেলার দুই লাখ ৮৯ হাজার হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হওয়ার তথ্য দিয়েছিল, যার মধ্যে রোপা আমন, খেসারি ও পানের বরজসহ রবি শস্য ও শীতকালীন সবজি রয়েছে । সংবাদ সম্মেলনে একই তথ্য দেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। ১৬ জেলার ১০৩ উপজেলায় ঝড়ের প্রভাব পড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্য মোতাবেক আক্রান্ত ফসলি জমির পরিমাণ দুই লাখ ৮৯ হাজার ছয় হেক্টর (মোট আবাদকৃত জমির ১৪%) এবং ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ ২২ হাজার ৮৩৬ হেক্টর (মোট আক্রান্ত জমির ৮%)। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে ৫০ হাজার ৫০৩ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন,আক্রান্ত ফসলগুলো হচ্ছে রোপা আমন, শীতকালীন সব্জি, সরিষা, খেসারি, মসুর ও পান। ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের পরিমাণ ৭২ হাজার ২১২ টন। ক্ষতিগ্রস্ত ফসলি জমির মধ্যে রোপা আমনের দুই লাখ ৩৩ হাজার ৫৭৮ হেক্টর, সরিষার এক হাজার ৪৭৬ হেক্টর, শীতকালীন সবজির ১৬ হাজার ৮৮৪ হেক্টর, খেসারির ৩১ হাজার ৮৮ হেক্টর, মসুরের ১৯৫ হেক্টর, পানের দুই হাজার ৬৬৩ হেক্টর এবং অন্যান্য তিন হাজার ১২৬ হেক্টর জমি রয়েছে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী। ধানে কি পরিমাণ ক্ষতি হবে জানতে চাইলে কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান বলেন,অনুমান করছি ৪৭ কোটি টাকা রোপা আমনে এবং৭৯ কোটি টাকা সবজিতে ক্ষতি হবে। ঘূর্ণিঝড়ে ফসলের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তাতে বাজারে তেমন প্রভাব পড়বে না জানিয়ে মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, গত বোরো ও আমন মৌসুমে অতিরিক্ত উৎপাদন হয়েছিল। এবার আমন মাঠে যে ফসল আছে, ধান কাটা কেবল শুরু হয়েছে। আমার আশা করছি খুব ভালো ফলন হবে। এছাড়া এবার ধানে চিটা কম হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পাওয়ার পর দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কৃষি পুনর্বাসন শুরু হবে বলেও জানান মন্ত্রী। আর্থিক বরাদ্দের পরিমাণ এবং কবে নাগাদ তা দেওয়া হতে পারে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, সরিষা পুনর্বাসন করা যাবে, বিএডিসির কাছে বীজ আছে, সরিষা বা খেসারি তারা আবার করতে পারবে। দক্ষিণাঞ্চলে শীতকালীন সবজিও খুব কম হয়। চুলচেরা হিসাব করার পর জানানো যাবে কত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে। এবার ঘূর্ণিঝড়ে দুর্বল হয়ে যাওয়ায় যেমনটা আশঙ্কা করা হয়েছিল, তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ক্ষয়ক্ষতি আরও বেশি হতে পারত, কৃষিতে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য আমরা তৎপর রয়েছি।
৪৫ টাকায় পেঁয়াজ মিলছে রাজধানীতে
১১নভেম্বর,সোমবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বেড়েই চলছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পেঁয়াজের দাম। খুচরা বাজারে এখন পেঁয়াজের প্রতিকেজি ১১০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ক্রেতাসহ সাধারণ মানুষ। এদিকে, নিন্ম আয়ের মানুষের কথা মাথায় রেখে রাজধানীতে ৪৫ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি করছে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পেঁয়াজ কিনছেন সাধারণ মানুষ। সরেজমিনের গিয়ে দেখা যায়, সোমবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ট্রাকে করে ৪৫ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি করছে টিসিবি। এসময় দেখা যায়, পেঁয়াজ কিনতে মানুষের লম্বা সারি। প্রায় এক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়ালে মিলছে পেঁয়াজ। ঘণ্টাখানেক লাইনে দাঁড়িয়ে পেঁয়াজ কিনেছেন জসিম উদ্দীন। তিনি বলেন,দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া আর কোনো সমস্যা হয়নি। প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪৫ টাকা দরে কেনা যাচ্ছে। কিন্তু দুই কেজি পেঁয়াজ নিলে ১০০ টাকা নিচ্ছেন তারা। তবে দুই কেজির চেয়ে কিছু বেশি পেঁয়াজ দিয়ে দিচ্ছেন। টিসিবির মুখপাত্র মো. হুমায়ুন কবির বলেন, পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীর বিভিন্ন স্পটে ৩৫টি ট্রাকে ন্যায্যমূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে। একজন ডিলার কেজিপ্রতি ৪৫ টাকা দরে প্রতিদিন এক হাজার কেজি (এক টন) পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। গত মাসে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের ঘোষণা দেয় প্রতিবেশী দেশ ভারত। এর পরপরই হু হু করে বাড়তে থাকে পেঁয়াজের দাম। আমদানি করা পেঁয়াজ আজ বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি। মিয়ানমারের পেঁয়াজ কেজি ৯০-১০০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ১৪০-১৫০ টাকা।
আবারও অস্থির পেঁয়াজের বাজার
২৮অক্টোবর,সোমবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পেঁয়াজের ঝাঁজ ক্রমেই বেড়ে চলেছে। কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না পেঁয়াজের বাজার। খুচরা বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১৩০ টাকা করে। একমাস আগে, হঠাৎ করে ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিলে হু হু করে বাড়তে থাকে পেঁয়াজের দাম। সে সময় প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩০ টাকা বেড়ে নব্বই থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হতে থাকে। এরপর মিয়ানমার, তুরস্ক ও মিশর থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করে সরকার। এছাড়া টিসিবিও পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করে। বাজার নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালতও। দাম সামান্য কমে আসলেও আবারও বৃষ্টির অজুহাত ও মিয়ানমারের পেঁয়াজের মান খারাপের অজুহাতে অস্থির হয়ে পড়েছে বাজার। ভারত থেকে আগের এলসি করা পেঁয়াজ প্রবেশ করলেও বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। এক শ্রেণির মুনাফালোভী ব্যবসায়ী দাম বাড়ার জন্য দায়ী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অর্থনীতিতে নোবেল জিতলেন বাঙালিসহ ৩ জন
১৫অক্টোবর,মঙ্গলবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: এ বছর অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন এক বাঙালিসহ তিন অর্থনীতিবিদ। বৈশ্বিক দারিদ্র্য লাঘবে অবদান রাখায় তাদের ২০১৯ সালের নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়। সোমবার স্টকহোমে দ্য রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস এ পুরস্কার ঘোষণা করে। নোবেল বিজয়ী তিন অর্থনীতিবিদ হলেন- অভিজিত ব্যানার্জি, এস্তার দুফলো এবং মাইকেল ক্রেমার। এদের মধ্যে অভিজিত ব্যানার্জি ও এস্তার দুফলো স্বামী-স্ত্রী। নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দারিদ্র্য লাঘবে পরীক্ষামূলক গবেষণার কারণে অভিজিত ব্যানার্জি, এস্তার দুফলো এবং মাইকেল ক্রেমারকে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়েছে। ৫৮ বছর বয়সী ভারতীয় বংশোদ্ভূত অভিজিত বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অমর্ত্য সেন ও ড. মুহম্মদ ইউনুসের পর চতুর্থ বাঙালি হিসেবে নোবেল পুরস্কার পেলেন কলকাতায় জন্ম নেয়া অভিজিত ব্যানার্জি। অভিজিত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেছেন। তিনি বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। অভিজিতের সঙ্গেই নোবেল পেয়েছেন তার স্ত্রী মার্কিন অর্থনীতিবিদ এস্তার দুফলো। তিনি ফরাসি বংশোদ্ভূত। দ্বিতীয় নারী অর্থনীতিবিদ হিসেবে অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন তিনি। সর্বকনিষ্ঠ অর্থনীতিবিদ হিসেবে অর্থনীতিতে নোবেল পাওয়ার কৃতিত্বও দেখালেন দুফলো। বর্তমানে তিনি ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির অধ্যাপক হিসেবে কাজ করছেন। দুফলো এমআইটি থেকে পিএইচডি করেন। এদিকে ৫৫ বছরের মাইকেল ক্রেমার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন। সোমবার চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পাওয়া তিনজনের নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে এ বছর নোবেল পুরস্কারজয়ীদের নাম ঘোষণা শুরু হয়। প্রাণিকোষ কীভাবে অক্সিজেনের উপস্থিতি বোঝে এবং এর সঙ্গে মানিয়ে নেয় সে বিষয়টি আবিষ্কারের জন্য এ বছর চিকিৎসা বিজ্ঞানেও তিনজন যৌথভাবে নোবেল পেয়েছেন। তারা হলেন– যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী উইলিয়াম কায়েলিন ও গ্রেগ সেমেনজা এবং যুক্তরাজ্যের পিটার র‌্যাটক্লিফ। মঙ্গলবার ঘোষণা করা হয় পদার্থে এ বছর নোবেলজয়ীদের নাম। পদার্থ বিজ্ঞানেও এ বছর তিনজন নোবেল পেয়েছেন। তারা হলেন– কানাডিয়ান-আমেরিকান বিজ্ঞানী জেমস পিবলস এবং সুইস বিজ্ঞানী মিচেল মেয়র ও দিদিয়ের কুইলজ। কসমোলজি নিয়ে গবেষণার জন্য তাদের নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। বুধবার রসায়নে এ বছর নোবেলজয়ী তিন বিজ্ঞানীর নাম ঘোষণা করা হয়। তারা হলেন– যুক্তরাষ্ট্রের জন গুডেনাফ, যুক্তরাজ্যের স্ট্যানলি হুইটিংহাম ও জাপানের আকিরা ইয়োশিনো। লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির উন্নয়ন ঘটিয়ে নোবেল পেয়েছেন তারা। বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা সাহিত্যে নোবেল বিজয়ীদের নাম। গত বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার প্রদান স্থগিত থাকায় গত বছরেরটিসহ এ বছর সাহিত্যে দুটি নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। পোলিশ লেখক ওলগা তোকারচজুক ২০১৮ সালের জন্য এবং পোলিশ লেখক পিটার হান্দকে এ বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। শুক্রবার শান্তিতে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়। এ বছর শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলি। ২০১৮ সালের এপ্রিলে ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করা ৪৩ বছর বয়সী আবি আহমেদ শান্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অর্জনে প্রচেষ্টার জন্য এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন।

অর্থনীতি পাতার আরো খবর