লেনদেন শুরু পুঁজিবাজারে
১জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাসের কারণে টানা ৬৬ দিন বন্ধের পর কার্যক্রম শুরু হয়েছে দেশের দুই শেয়ারবাজারে। দীর্ঘ বিরতির পর শুরুটি বেশ ভালোই হয়েছে। প্রথম দিনে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই মূল্যসূচকের ঊর্ধ্বমুখী ধারায় শেষ হয়েছে লেনদেন। কারণ ফ্লোর প্রাইসের কারণে শেয়ারের দাম কমতে পারেনি বলে সূচকে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। কিন্তু অল্প হলেও যে কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে তার প্রভাবে বেড়েছে সূচক। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার গত ২৬শে মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার পর তার সঙ্গে সমন্বয় করে শেয়ারবাজারের লেনদেনও বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়। সেই হিসেবে শেয়ারবাজারে সর্বশেষ লেনদেন হয়েছিল ২৫শে মার্চ। এরপর দুই মাসেরও বেশি সময় লেনদেন বন্ধ থাকে। এরই মধ্যে বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে লেনদেন চালুর দাবি জানানো হয়। পরে গত বৃহস্পতিবার লেনদেন শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৫২ দশমিক ১৫ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৩০ শতাংশ বেড়েছে। দিন শেষে সূচকটির অবস্থান দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৬০ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট। এদিন ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩১ পয়েন্ট বেড়ে ৯৫২ পয়েন্টে এবং ডিএসই৩০ সূচক ৩৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৩৬৫ পয়েন্টে উন্নীত হয়। দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৩২টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৬০টির, দর কমেছে ৬৮টির এবং দর অপরিবর্তীত রয়েছে ১৯৫টির। ডিএসইতে ১৪৩ কোটি ২৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। যা আগের দিন থেকে ২০৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা কম। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৩৪৮ কোটি ১৩ লাখ টাকার। এদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সব সূচক বেড়েছে। সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৪১ পয়েন্ট বেড়ে ১১ হাজার ৪৬৯ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। সিএসইতে ১০৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। তার মধ্যে ৩১টির দর বেড়েছে, কমেছে ২৪টির আর ৫৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
করোনা:ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের রেমিট্যান্স আয় কমতে যাচ্ছে ২০ শতাংশ
২৫এপ্রিল,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নভেল করোনাভাইরাসের ব্যাপক বিস্তারের কারণে বড় ধরনের বিপর্যয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতি। দেশে দেশে লকডাউনের কারণে বহু মানুষের উপার্জন বন্ধ হয়ে গেছে। অর্থনীতি সংকটে পড়ায় চাকরি ও ব্যবসা নিয়ে অনিশ্চয়তায় জনসাধারণ। একই দশায় দিনাতিপাত করছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত অভিবাসী শ্রমিকরাও। ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর জন্য রেমিট্যান্স আয়ের পথ সংকুচিত হয়ে আসছে। এ পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাংক আশঙ্কা করছে, চলতি বছর শেষে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর রেমিট্যান্স আয় কমতে যাচ্ছে ২০ শতাংশ। কভিড-১৯ ক্রাইসিস থ্রু এ মাইগ্রেশন লেন্স শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এ আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশ থেকে মধ্যম ও নিম্ন আয়ের দেশগুলোয় শ্রমিকদের রেমিট্যান্স পাঠানোর পরিমাণ চলতি বছর ৪৪৫ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণে এসে ঠেকতে পারে। ২০১৯ সালে এর পরিমাণ ৫৫৪ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে এসব দেশের রেমিট্যান্স আয় কমতে যাচ্ছে ২০ শতাংশ। এ চিত্রের প্রতিফলন দেখা যাবে দক্ষিণ এশিয়ায় তিন শীর্ষ রেমিট্যান্স আহরণকারী দেশ ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের আয়ের ক্ষেত্রেও। বিশ্বব্যাংক বলছে ২০২০ সালে ভারত ও পাকিস্তানের রেমিট্যান্স প্রবাহ ২৩ শতাংশ কমবে। অন্যদিকে বাংলাদেশে চলতি বছর রেমিট্যান্স আসতে পারে ১৪ বিলিয়ন ডলার। নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বিশ্বব্যাপী চলতি বছরের শুরু থেকেই অভিবাসন ও কর্মসংস্থান ব্যাপক হারে হ্রাস পেয়েছে। নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে মজুরির ওপরও। স্বাস্থ্যবীমাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়ছেন অভিবাসী শ্রমিকরা। করোনার কারণে ভ্রমণে নিয়ন্ত্রণ আরোপের আগেই বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয় বিদেশ থেকে প্রচুর শ্রমিক ফেরত এসেছেন। বিদেশের কর্মস্থলে কাজে যোগ দিতে পারছেন না তারা। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের সরকার প্রবাসী শ্রমিকদের চলে যেতেও নির্দেশ দিয়েছে এরই মধ্যে। নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাবে চলতি এপ্রিলের প্রথম ১৬ দিনেই বাংলাদেশের রেমিট্যান্স ৩৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ কমেছে। যদিও পবিত্র রমজান মাস ও ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় প্রবৃদ্ধি আসে। আর গত মার্চে রেমিট্যান্স কমেছে ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০১৯ সালের এপ্রিলে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৪৩ কোটি ৪৩ লাখ ডলার। সে হিসাবে গড়ে ওই মাসের প্রথম ১৫ দিনে ৭১ কোটি ৭১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। চলতি এপ্রিলের প্রথম ১৬ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৪৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। এ হিসাবে চলতি এপ্রিলের প্রথম পক্ষেই বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ ৩৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ কমেছে। ২০১৯ সালের মার্চে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৪৫ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। চলতি বছরের মার্চে ১২৮ কোটি ৬৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। এ হিসাবে আগের বছরের তুলনায় ২০২০ সালের মার্চে ১৭ কোটি ১৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স কম এসেছে। মার্চে রেমিট্যান্স কমেছে ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এর আগে চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছিল আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ দশমিক ২০ শতাংশ। এ সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১ হাজার ২৪৯ কোটি ৮৫ লাখ ডলার। এর আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৯ দশমিক ৬০ শতাংশ। সে সময় দেশে মোট রেমিট্যান্স আসে ১ হাজার ৬৪১ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। টাকার অংকে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ৪১ হাজার ২০৮ কোটিতে। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসে সৌদি আরব থেকে। দেশটি থেকে গত অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩১১ কোটি ডলার। দেশে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। তৃতীয় স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসে এমন শীর্ষ ২০টি দেশের তালিকায় থাকা অন্য দেশগুলো হলো কুয়েত, মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য, ওমান, কাতার, ইতালি, বাহরাইন, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা, ফ্রান্স, লেবানন, জর্দান, দক্ষিণ কোরিয়া, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি ও জাপান। নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরুর পর থেকেই বাংলাদেশের বৃহত্তম রেমিট্যান্স আয়ের উৎস প্রায় সব দেশেই লকডাউন চলছে। ওই সব দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশীদের বড় অংশই বেকার হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থায় নিজেদের দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহের সামর্থ্যই হারিয়েছেন প্রবাসীরা। বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রকৃত চিত্র পূর্বাভাসের চেয়েও খারাপ হাতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী এক কোটির বেশি বাংলাদেশীর অর্ধেকেরই এখন কোনো আয় নেই। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্থায়ী চাকরি করেন, এমন প্রবাসীর সংখ্যাও খুব বেশি নয়। ফলে বিদ্যমান দুর্যোগ শেষ হলেও বহু বাংলাদেশী কাজ পাবেন না। এ কারণে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি খারাপ হতে পারে।বণিক বার্তা। ড. জাহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের শ্রমবাজারের বৃহৎ অংশ মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক। ওই সব দেশের অর্থনীতির ভিত্তিই হলো জ্বালানি তেল। বর্তমানে জ্বালানি তেলের দাম ইতিহাসের সর্বনিম্ন স্তরে। এতে সহসাই মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে এমন সম্ভাবনাও নেই। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের নিজ নিজ দেশে টিকে থাকাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় বেকার প্রবাসীরা বাংলাদেশে ফিরে আসা শুরু হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছবে। রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে উল্লেখ করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, এমন একটি অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্য সংকটের মধ্যে রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর আয় উল্লেখযোগ্য হারে কমবে। এতে তাদের অন্যান্য যেসব দুর্দশা রয়েছে সেগুলো আরো জটিল হয়ে উঠবে। এরই মধ্যে রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার প্রবণতা এটাই নির্দেশ করছে, যারা বিদেশে আছেন, তারাও কম আয় করছেন। হয়তো আয়ই নেই অনেকের। তাদের সঞ্চয়ও অনেক কম। আমাদের সামষ্টিক অর্থনীতির দিক থেকেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের রিজার্ভ, আমাদের আমদানি সক্ষমতা, আমাদের বিনিময় হারএগুলোর ক্ষেত্রে রেমিট্যান্স একটা বড় ভূমিকা রাখে। সেখানেও একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি আরো বলেন, আমাদের শ্রমবাজার যে একটা স্বস্তি দিত, বছরে একটা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ দেশের বাইরে যেত, তার ওপরও একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে বোঝা যাচ্ছে। সবটা মিলিয়ে আমাদের অর্থনীতির ব্যষ্টিক ও সামষ্টিকদুই দিক থেকেই দুঃসংবাদই বলব আমি। এ পরিস্থিতি থেকে উঠে আসাটা কভিডের ওপর আংশিকভাবেই নির্ভর করবে। কারণ কভিড যে একটা ফুটপ্রিন্ট রেখে যাচ্ছে, সবাই যে বৈশ্বিক মন্দার আশঙ্কা করছে, সবটা মিলিয়ে আগের জায়গায় ফিরে যাওয়াটাও কঠিন হবে।
করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ১০০ মিলিয়ন ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক
0৪এপ্রিল,শনিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় বাংলাদেশকে দেয়া জরুরি সহায়তার প্রথম ধাপ অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। প্রথম দিকে বাংলাদেশকে ১০০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা দেয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।আজ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই জরুরি সহায়তার মাধ্যমে করোনা ভাইরাস রোগী শনাক্তকরণ, মহামারীকে প্রতিরোধ, কিভাবে তারা আক্রান্ত হয়েছেন, তার অনুসন্ধান, ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি, ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী ও নতুন আইসোলেশন ওয়ার্ড স্থাপনে ১০০ মিলিয়ন ডলার ব্যবহার করা হবে। বাংলাদেশ যাতে নিজেদের অর্থনৈতিক ক্ষত ও স্বাস্থ্যগত বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পারে, সে জন্যই এই সহায়তা বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।এছাড়া এই অর্থ সন্দেহজনক, সংক্রমণ হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ জনসংখ্যা ও স্বাস্থ্য কর্মীদের পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকরি পরিষেবা সরবরাহকারী এবং জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের উন্নয়নে ব্যয় হবে। বাংলাদেশ ও ভুটানের বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মের্সি টেম্বন বলেন, করোনা ভাইরাস প্রসারের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। এই প্রকল্পটি করোনা মহামারীর প্রাদুর্ভাব জানতে বাংলাদেশের জাতীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।পাশাপাশি এটি নজরদারি এবং ডায়াগনস্টিক সিস্টেমগুলি রয়েছে কিনা তা নির্ধারণে গ্রুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এছাড়া দেশের স্বাস্থ্যবিধি, ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম, ভেন্টিলেটর এবং হাসপাতালে আইসোলেশন ইউনিট স্থাপনে জোরালো ভূমিকা রাখেতে সহায়তা করবে। তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে করোনা ভাইরাস কঠিন আঘাত হানতে পারে। কাজেই চলমান সংকট উত্তরণে আঞ্চলিক ও দেশভিত্তিক সমাধানে জোর দেয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশকে ৩ হাজার কোটি টাকা অনুদান দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক
0১এপ্রিল,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশকে ৩৫ কোটি ডলার অনুদান দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণ এবং রোহিঙ্গাদের জন্য ইতোমধ্যেই এ অনুদান অনুমোদন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) প্রতি ডলার সমান ৮৬ টাকা ধরে বাংলাদশি মুদ্রায় প্রায় তিন হাজার ১০ কোটি টাকা অনুদান অনুমোদন করে বাংলাদেশের অন্যতম সহযোগী সংস্থাটি। তিন প্রকল্পের আওতায় এই অর্থ খরচ করা হবে। বুধবার (০১ এপ্রিল) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানায়। এই অনুদান স্বাস্থ্যসেবা, লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতার প্রতিক্রিয়া, সামাজিক সুরক্ষা, মৌলিক পরিষেবা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে কক্সবাজার জেলায় ব্যবহার করা হবে। বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন বলেন, বাংলাদেশ প্রায় ১.১ মিলিয়ন রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বিশাল উদারতা দেখিয়েছে। আশ্রয় পাওয়া এই জনগোষ্ঠী টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলার স্থানীয় জনসংখ্যার চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি। স্বাভাবিকভাবেই এটি বিদ্যমান অবকাঠামো এবং সমাজসেবা সরবরাহের ওপর প্রচুর পরিমাণে চাপ সৃষ্টি করছে। এবং স্বাস্থ্য ও দুর্যোগ ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে। তিনি বলেন, এই অনুদান দেশের পরিষেবা সরবরাহের ক্ষমতা আরও জোরদার করবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও স্থিতি বাড়িয়ে তুলবে। কক্সবাজার জেলার জন্য ১৫ কোটি ডলারের হেলথ এবং জেন্ডার সহায়তা প্রকল্পটি রোহিঙ্গাসহ তিন দশমিক ছয় মিলিয়ন মানুষকে স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং পরিবার পরিকল্পনা পরিষেবায় অ্যাক্সেস করতে সক্ষম করবে এবং প্রতিরোধমূলক ও প্রতিক্রিয়াশীল পরিষেবার মাধ্যমে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা মোকাবিলা করতে সক্ষম করবে। প্রকল্পটি উন্নত পাবলিক অবকাঠামোতে স্থানীয় লোকসহ প্রায় সাত লাখ ৮০ হাজার ৮০০ মানুষকে উপকৃত করবে। এরমধ্যে রয়েছে তিন লাখ ৬৫ হাজার ৮০০ মানুষের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা। এক লাখ ৭১ হাজার ৮০০ জনের জন্য আরও ভালো স্যানিটেশন। এছাড়া জেলাটির দরিদ্র মোকাবিলায় আরেকটি প্রকল্পের আওতায় খরচ করা হবে ১০ কোটি ডলার। দারিদ্র্য নিরসন কর্মসংস্থান জেনারেশন প্রোগ্রাম ব্যবহার করে হোস্ট সম্প্রদায়ের দরিদ্র ও দুর্বল পরিবারগুলোকে জীবিকা এবং আয়ের সহায়তা দেওয়া হবে।
পুঁজিবাজারে আসছে আরও ৪ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক
০৯ফেব্রুয়ারী,রবিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শেয়ারবাজার চাঙ্গা করতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ দরকার। আমরা যেকোনো মূল্যে পুঁজিবাজার শক্তিশালী করতে চাই। তাই আগামী অক্টোবরের মধ্যে আরও চারটি রাষ্ট্রীয় ব্যাংক পুঁজিবাজারে আসছে। এছাড়া বাজারে তালিকাভুক্ত রূপালী ব্যাংকের শেয়ার আরও বাড়ানো হবে। জানালেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। আজ রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করে তিনি এ কথা জানান। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিএল), অগ্রণী, জনতা ও সোনালী ব্যাংকে ২৫ শতাংশ শেয়ার ছাড়া হবে। তবে এরমধ্যে সোনালী ব্যাংকের একটু সময় লাগবে। একই সঙ্গে বাজারে তালিকাভুক্ত রূপালী ব্যাংকের শেয়ার ১০ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে। বৈঠকে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম খায়রুল হোসেন, অর্থসচিব আবদুর রউফ তালুকদার, আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মৌলভীবাজারে এক বছরে ৯ কোটি ৬০ লাখ কেজি চা উৎপাদন
২১জানুয়ারী,মঙ্গলবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশের চা শিল্পের ইতিহাসে উৎপাদনে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছিল ২০১৯ সালে । সে বছর মোট চা উৎপাদন হয়েছিল ৯ কোটি ৬০ লাখ কেজি, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ কোটি ৬০ লাখ কেজি বেশি। বাংলাদেশ চা বোর্ডের পক্ষ থেকে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশ চা বোর্ডের প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. একে এম রফিকুল হক এই তথ্য নিশ্চিত করেন। বিটিবি সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে উৎপাদিত চায়ের পরিমাণ ৮ কোটি ২১ লাখ ৩০ হাজার কেজি, যা দেশের চা উৎপাদন মৌসুমের (২০১৮) দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর আগে, ২০১৬ সালে আগের সব রেকর্ড ভেঙে ৮ কোটি ৫৫ লাখ কেজি চা পাতা উৎপাদন হয়েছিল। বাংলাদেশ চা বোর্ডের উপ-পরিচালক (পরিকল্পনা) মো. মুনির আহমদ বলেন, চা উৎপাদনে সর্বকালের রেকর্ড করলো বাংলাদেশ। ২০১৯ সালে ৯৬ দশমিক ৭ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদন হয়েছে। বিদেশি কোম্পানি, সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন ছোটবড় মিলিয়ে বাংলাদেশে ১৬২টি চা বাগান গড়ে উঠেছে। এরমধ্যে ৯২টি চা বাগানই মৌলভীবাজারে। শ্রীমঙ্গল জেমস ফিনলে টি কোম্পানির ভাড়াউড়া ডিভিশনের জিএম ও বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশন সিলেট ব্রাঞ্চের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ শিবলী বলেন, চায়ের উৎপাদন ভালো হলেও ন্যায্য মূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। ভারত থেকে নিম্নমানের চা চোরাইপথে বাংলাদেশে আসছে। যা অত্যন্ত নিম্নমানের, খাওয়ার অযোগ্য। ভারত থেকে নিম্নমানের চা আমদানি ও চোরাপথে আসা চা-পাতা বন্ধ করতে হবে। তা না হলে দেশীয় চায়ের মূল্য থাকবে না। আর এদেশের চা শিল্পকে বাচানো যাবে না।- আমাদের সময়
বাংলাদেশকে পেঁয়াজ কেনার অনুরোধ করলো ভারত
১৫জানুয়ারী,বুধবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের সরকারের চাহিদার ভিত্তিতে পেঁয়াজ আমদানি করার পর বিপদে পড়েছে দেশটির ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন সরকার। কেন্দ্রীয় সরকার পেঁয়াজ আমদানির পর ভারতের বেশিরভাগ রাজ্য সরকার তাদের চাহিদা প্রত্যাহার করে নেয়ায় এ বিপদ দেখা দিয়েছে। সোমবার ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার রকিবুল হকের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দেশীয় চাহিদার ভিত্তিতে আমদানিকৃত পেঁয়াজ রাজ্য সরকাররা কিনতে রাজি না হওয়ায় বাংলাদেশকে কিনে নেয়ার প্রস্তাব দেন ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী। বৈঠকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভারতের জ্যেষ্ঠ এক সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দেশটির ইংরেজি দৈনিক দ্য প্রিন্ট এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, ভারত বিদেশ থেকে মোট ৩৬ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির চুক্তি করেছে। ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশটিতে ১৮ হাজার টন পেঁয়াজ পৌঁছেছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রদেশের সরকার আমদানিকৃত পেঁয়াজের মাত্র ৩ হাজার টন নিয়েছে। অবশিষ্ট পেঁয়াজ মুম্বাইয়ের জওহরলাল নেহরু বন্দরে খালাসের অপেক্ষায়। চলতি মাসের শুরুর দিকে ভারতের ভোক্তা কল্যাণবিষয়ক মন্ত্রী রাম বিলাস পাসওয়ান জানান, আমদানিকৃত পেঁয়াজের মহারাষ্ট্র সরকার ১০ হাজার টন, আসাম ৩ হাজার টন, হরিয়ানা ৩ হাজার ৪৮০ টন, কর্ণাটক ২৫০ টন ও ওড়িশ্যা প্রদেশ সরকার ১০০ টন চাহিদা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। গত নভেম্বর এবং ডিসেম্বরে পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ১০০ রুপি পেরিয়ে যাওয়ার পর এসব রাজ্য এই নিত্যপণ্যটি আমদানি করতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল। এখন তারা আমদানিকৃত পেঁয়াজের উচ্চমূল্য এবং স্বাদের ভিন্নতার অজুহাত দেখিয়ে সেগুলো নিতে রাজি হচ্ছে না। রাজ্যগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের আমদানিকৃত পেঁয়াজ নিতে রাজি না হওয়ায় সেগুলো পচে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, ভারত এসব পেঁয়াজ প্রতি টন ৫০ হাজার থেকে ৫৯ হাজার (৬০০ থেকে ৭০০ ডলারে) টাকায় আমদানি করেছে। এখন বাংলাদেশকে এসব পেঁয়াজ প্রতি টন ৫৫০ থেকে ৫৮০ ডলারে কিনে নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে মোদি সরকার। ওই বৈঠকে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার রকিবুল হক বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে চীন থেকে পেঁয়াজ আমদানি করেছে এবং নেপাল হয়ে আরও পেঁয়াজ দেশের বাজারে ঢোকার অপেক্ষায় আছে। সুতরাং বিনামূল্যে পরিবহনসহ ভারতের কিছু প্রণোদনা দেয়া উচিত। প্রায় তিন মাস আগে ভারত সফরে গিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নয়াদিল্লিতে প্রকাশ্যে নরেন্দ্র মোদি সরকারের সমালোচনা করেছিলেন। ওই সময় বাংলাদেশকে না জানিয়ে হঠাৎ পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয় ভারত। যে কারণে বাংলাদেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ২০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। চারদিনের ওই সফরে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, আমি আশা করেছিলাম ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়ার আগে আমাদের অন্তত জানাবে। আমি রাঁধুনিকে বলেছি, আমার কোনো বিকল্প নেই। সুতরাং পেঁয়াজ ছাড়াই রান্না করতে হবে। আমি অনুরোধ করবো, আপনারা এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার আগে দয়া করে আমাদের অবগত করবেন।
ইসলামী ব্যাংকের ব্যবসায় উন্নয়ন সম্মেলন ২০২০-এর উদ্বোধন
১১জানুয়ারী,শনিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর তিন দিনব্যাপী ব্যবসায় উন্নয়ন সম্মেলন ১০ জানুয়ারি (শুক্রবার) হোটেল রয়েল টিউলিপ সী পার্ল বীচ রির্সোট, কক্সবাজারে উদ্বোধন করা হয়েছে। ব্যাংকের বোর্ড অব ডাইরেক্টরস-এর চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. নাজমুল হাসান, পিএইচডি প্রধান অতিথি হিসেবে এ সম্মেলন উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ও সিইও মো. মাহবুব উল আলম। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. সেলিম উদ্দিন, এফসিএ, এফসিএমএ, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মতিন, অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সোলায়মান, এফসিএ, পরিচালক মো. জয়নাল আবেদীন, প্রফেসর ডা. কাজী শহিদুল আলম, সৈয়দ আবু আসাদ, ডা. তানভীর আহমেদ, মো: কামরুল হাসান, প্রফেসর ড. মো. সালেহ জহুর, প্রফেসর ড. মো. ফসিহ উল আলম ও মো. নাছির উদ্দিন, এফসিএমএ এবং শরী আহ সুপারভাইজরি কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুস সামাদ। স্বাগত বক্তব্য দেন অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মুহাম্মদ কায়সার আলী। অনুষ্ঠানে ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর, প্রধান কার্যালয়ের উর্ধ্বতন নির্বাহী, জোনপ্রধান ও ৩৫৭ টি শাখার ব্যবস্থাপকগণ অংশ নেন। সম্মেলনে জানানো হয় ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৪ হাজার ৭৯৮ কোটি টাকা যা গত বছরের তুলনায় ১২ হাজার ৬৯০ কোটি টাকা বেশি। একই সময়ে সাধারণ বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯০ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা এবং গ্রাহক সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৪০ লাখ। ২০১৯ সালে ইসলামী ব্যাংক আমদানি, রপ্তানি বাণিজ্য ও রেমিট্যান্স আহরণ করেছে যথাক্রমে ৩৯ হাজার ৯৮৮ কোটি, ২৩ হাজার ৪৪৪ কোটি এবং ৩০ হাজার ৫৪৯ কোটি টাকা। চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. নাজমুল হাসান, পিএইচডি প্রধান অতিথির ভাষণে ২০১৯ সালে ব্যাংকের ব্যবসায়িক সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেন। ব্যাংকের অগ্রগতিকে আরও বেশি ত্বরান্বিত করতে অভ্যন্তরীণ গবেষনা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের জন্য আহবান জানান। আগামী দিনের অর্থনৈতিক ও ব্যাংকিং সেক্টরের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তিনি তরুণ নেতৃত্বকে আরো বেশি সুযোগ দেয়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। ইসলামী ব্যাংকের প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ব্যাংকিং সেবা জনপ্রিয় করতে তিনি ব্যাংক কর্মকর্তাদের প্রতি আহবান জানান। ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ও সিইও মো. মাহবুব উল আলম সভাপতির ভাষণে বলেন, ইসলামী ব্যাংক বিগত বছর সমূহের ধারাবাহিকতায় এ বছরও ব্যবসায়িক বিভিন্ন সূচকে প্রথম স্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সরকার ঘোষিত মুজিববর্ষের ক্ষনগণনার মুহুর্তে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন তথা দেশের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে অগ্রণী ভুমিকা রাখার দৃঢ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আর্থিক অন্তর্ভূক্তিমূলক ব্যাংকিয়ের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের রুপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নেও ইসলামী ব্যাংক অগ্রণী ভুমিকা পালন করছে। তথ্য প্রযুক্তিসমৃদ্ধ পেপারলেস ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে শহর ও গ্রামের সকল শ্রেণীপেশার মানুষের নিকট ইসলামী ব্যাংকের সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য তিনি সর্বস্তরের কর্মকর্তাদের প্রতি আহবান জানান। অন্যান্য বক্তারা বলেন, ২০১৯ সালে ইসলামী ব্যাংক ১০০০ এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট খোলার মাইলফলক অতিক্রম করেছে। উপশাখা ব্যাংকিংয়ের কার্যক্রমও দ্রুততার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে। টানা ৮ বারের মতো বিশ্বব্যাপী এক হাজার ব্যাংকের তালিকায় ইসলামী ব্যাংক নিজেদের ক্রমোন্নতির ধারা অব্যাহত রাখায় বক্তারা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। তারা বলেন, বিশ্বসেরা সিবাফি অ্যাওয়ার্ড, স্ট্রংগেস্ট ব্যাংক অ্যাওয়ার্ড, সেরা করদাতা ও বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিটেন্স অ্যাওয়ার্ড প্রমাণ করে ইসলামী ব্যাংক তার সক্ষমতা ও উৎকর্ষতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করছে।
বিশ্বের সেরা অর্থমন্ত্রী ভূষিত হলেন মুস্তফা কামাল
০২জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: গ্লোবাল ফিন্যান্স মিনিস্টার অব দ্য ওয়ার্ল্ডে ভূষিত করা হয়েছে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিজনেস পত্রিকা ‘দ্য ব্যাংকার’ বিশ্বের সেরা অর্থমন্ত্রী নির্বাচিত করেছে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীকে। গেল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে দলটি। গতবছরের ৭ জানুয়ারি মন্ত্রিসভায়ও আনা হয় চমক। নতুনদের জায়গা দিতে বাদ দেয়া হয় কয়েকজন হেভিওয়েট মন্ত্রীকে। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তার পরিবর্তে অর্থ মন্ত্রাণালয়ের দায়িত্ব পান আ হ ম মুস্তফা কামাল। এর আগে তিনি পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, অর্থমন্ত্রী একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ এবং এই মন্ত্রণালয়ের অধীনে অর্থ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ রয়েছে। একটি দেশকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিতে হলে প্রয়োজনীয় নীতি সংস্কার ও প্রয়োগের দিকটি গুরুত্বপূর্ণ। সেক্ষেত্রে তত্ত্বীয় জ্ঞানের তুলনায় ব্যবহারিক বা বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন কাউকেই নতুন অর্থমন্ত্রী বানানো জরুরি। এ জন্যই আ হ ম মুস্তফা কামালকে এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেয়া হয়। আ হ ম মুস্তফা কামাল ১৯৪৭ সালের ১৫ জুন জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও ক্রিকেট সংগঠক। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-১০ সংসদীয় আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সংসদ সদস্য তিনি। এছাড়াও মুস্তফা কামাল ২০১৪-১৫ মেয়াদে আইসিসি এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট কামাল এ পর্যন্ত চারবার এমপি হিসেবে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি চতুর্থ মেয়াদে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সদস্যরূপে কুমিল্লা-১০ সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত হন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কুমিল্লা জেলা (দক্ষিণ)-এর আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়াও, তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা সচিব পদে আসীন। বর্তমানে তিনি সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর পূর্বে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ত্রিশ বছর ধরে ক্রিকেটের সাথে সম্পৃক্ত থেকে এর উন্নয়নে বিভিন্ন দায়িত্বে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯০-এর দশকে লোটাস কামাল পেস বোলিং ক্রিকেট একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন।

অর্থনীতি পাতার আরো খবর