বুধবার, মার্চ ৩, ২০২১
বিনা মূল্যে ফেসবুক ব্যবহারের প্যাকেজে বিটিআরসির নিষেধাজ্ঞা
১৭,জুলাই,শুক্রবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিনা মূল্যে অথবা প্রায় বিনা মূল্যে যেসব ইন্টারনেট প্যাকেজ দেওয়া হচ্ছে, তাতে নিষেধাজ্ঞা দিল বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। সংস্থাটি বলছে, এ সেবা নিয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের অপ্রয়োজনীয় অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। মোবাইল অপারেটরগুলো ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে নানা ধরনের ইন্টারনেট প্যাকেজ দিয়ে থাকে। সেগুলোর মূল্য তুলনামূলক কম। এসব প্যাকেজেই লাগাম টানল বিটিআরসি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিনা মূল্যে অথবা প্রায় বিনা মূল্যে যেসব ইন্টারনেট প্যাকেজ দেওয়া হচ্ছে, তাতে নিষেধাজ্ঞা দিল বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। সংস্থাটি বলছে, এ সেবা নিয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের অপ্রয়োজনীয় অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। মোবাইল অপারেটরগুলো ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে নানা ধরনের ইন্টারনেট প্যাকেজ দিয়ে থাকে। সেগুলোর মূল্য তুলনামূলক কম। এসব প্যাকেজেই লাগাম টানল বিটিআরসি। বিটিআরসি ইন্টারনেট সরবরাহকারীদের চিঠিটি দেয় ১৪ জুলাই। পরদিন, অর্থাৎ ১৫ জুলাই থেকে নির্দেশনা কার্যকর করতে বলা হয়। চিঠিতে উল্লেখ করে, এ ধরনের প্যাকেজ বাজারে অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি করছে। চিঠিতে সই করেন বিটিআরসির উপপরিচালক সাবিনা ইসলাম। চিঠিটি দেওয়া হয় তথ্য মন্ত্রণালয়ের এক পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে। এতে বলা হয়, সম্প্রতি লক্ষ করা যাচ্ছে টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারী অপারেটরসমূহ তাদের গ্রাহকদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে সোশ্যাল মিডিয়া সম্পর্কিত সেবা আংশিক বা কোনো ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে প্রদান করতে বাজারে অসুস্থ প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করছে। এসব ফ্রি সোশ্যাল মিডিয়া সম্পর্কিত সেবা গ্রহণ করে কিছু অসাধু ব্যক্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ধরনের অপ্রয়োজনীয় অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিটিআরসির জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) জাকির হোসেন খান বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিটিআরসি অপারেটরদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে রাখে। বাজারে যাতে স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা বজায় থাকে এবং গ্রাহকেরা যাতে নিরাপদে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এ পদক্ষেপ। অপারেটরগুলো জানায়, তাদের বিভিন্ন ইন্টারনেট প্যাকেজের অনেক সময় ফেসবুক বা অন্যান্য সামাজিক মাধ্যম বিনা মূল্যে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়। আবার অনেক সময় ফেসবুক, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ, টুইটারের মতো সামাজিক মাধ্যমের অল্প মূল্যে ইন্টারনেট প্যাকেজ দেওয়া হয়। অপারেটরগুলো বিটিআরসির এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে। রবি আজিয়াটার চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম বলেন, তাঁরা নির্দেশনা পেয়েছেন। বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। বাংলালিংকের করপোরেট কমিউনিকেশনস বিভাগের সিনিয়র ম্যানেজার আংকিত সুরেকা জানিয়েছেন, তাঁরা বৃহস্পতিবার নির্দেশনাটি পাওয়ার পর বাস্তবায়ন করছেন। বিটিআরসির হিসাবে, দেশে মে মাস শেষে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি ২১ লাখের কিছু বেশি। এর মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করে ৯ কোটি ৪০ লাখ গ্রাহক, যা মার্চ শেষে ৯ কোটি ৫২ লাখ ছিল।
কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ৩০২০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন
১৪,জুলাই,মঙ্গলবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কৃষি যান্ত্রিকীকরণে তিন হাজার ২০ কোটি ছয় লাখ ৮৫ হাজার টাকার প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। কৃষি যান্ত্রিকীকরণসহ আট প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এগুলো বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১০ হাজার ১০২ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় হবে ১০ হাজার ৬৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা দেবে ৩৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা। মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গণভবন থেকে ভার্চুয়াল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ভার্চুয়াল ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী। সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পটির উদ্যোগী মন্ত্রণালয় কৃষি মন্ত্রণালয় আর বাস্তবায়ন করবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)। এ প্রকল্পের সব টাকাই সরকারে নিজস্ব তহবিল থেকে দেয়া হবে। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্না বলেন, কৃষি যান্ত্রিকীকরণের বিকল্প নেই। আমাদের এগিয়ে যেতে হলে কৃষিকে আধুনিক করতে হবে। উৎপাদন খরচ কমিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এছাড়া দুর্গম পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের জন্য সোলার প্যানেলের মাধ্যমে সৌর বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। দেশের ৬৪ জেলার সবগুলো উপজেলায় এটি বাস্তবায়ন করবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)। কৃষিতে ব্যয় কমিয়ে উৎপাদন বাড়াতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ অপরিহার্য। প্রকল্পটির আওতায় আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির সরবরাহ ও ব্যবহার বৃদ্ধি করে ফসলের অপচয় রোধ, চাষাবাদে সময় এবং অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে কৃষিকে ব্যবসায়িকভাবে অধিক লাভজনক ও বাণিজ্যিকভাবে টেকসই করে ফসল উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব বলে প্রকল্প সূত্র জানা গেছে। চলতি মাস (জুলাই) থেকে শুরু হয়ে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও ব্যবহার বাড়িয়ে ফসলের ১০-১৫ শতাংশ অপচয় রোধ করা যাবে। এছাড়া চাষাবাদে ৫০ শতাংশ সময় এবং ২০ শতাংশ অর্থ সাশ্রয় করা যাবে। পাশাপাশি সমন্বিত সবজি জাতীয় ফসল আবাদ করে কৃষি যন্ত্রপাতির ৫০ শতাংশ কর্মদক্ষতা বাড়ানো যাবে। একনেকে অনুমোদন পাওয়া অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে- ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নসহ নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নতুন ১৮টি ওয়ার্ডেও সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার নির্মাণ ও উন্নয়ন-ফেজ-১, তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি, ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপ করার জন্য ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের ডিজিটাল জরিপ পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ, ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্প এবং বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন, রংপুর জোন (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প।
টিসিবির ডিলারশিপ নবায়নে নতুন নীতিমালা
১১,জুলাই,শনিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: খোলা বাজারে ন্যায্য মূল্যে পণ্য বিক্রি করতে ডিলারদের ডিলারশিপ নবায়নে নতুন নীতিমালা করেছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এজন্য ডিলারদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে টাকা জমা দিতে হবে প্রায় দ্বিগুণ। সস্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করেছে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) প্রধান কার্যালয়। প্রায় সাড়ে তিন হাজার ডিলারের মাধ্যমে খোলা বাজারে ন্যায্য মূল্যে পণ্য বিক্রি করে টিসিবি। প্রতিবছর এসব ডিলারদের নির্দিষ্ট অংকের টাকা দিয়ে ডিলারশিপ নবায়ন করতে হয়। টিসিবি অফিস আদেশে বলা হয়েছে, সব আঞ্চলিক কার্যালয় ও ক্যাম্প অফিস প্রধানদের জানানো যাচ্ছে যে, চলতি ২০২০ সালের ১ জুলাই থেকে যেসব ডিলার ডিলারশিপ নবায়ন করবেন, তাদের কাছ থেকে নতুন ডিলারশিপ নীতিমালা অনুযায়ী নবায়ন ফি বাবদ ১০ হাজার টাকা, বিলম্ব ফি বাবদ প্রতিবছরের জন্য এক হাজার টাকা (অফেরতযোগ্য) ও জামানত বাবদ ৩০ হাজার টাকা (ফেরতযোগ্য) গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে পূর্বে জামানত বাবদ জমাকৃত ১৫ হাজার টাকা সমন্বয়সহ মোট ৩০ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা নিশ্চিত করে নির্ধারিত ফরমেটে চুক্তি নবায়ন করতে হবে। এছাড়া ডিলারশিপ মেয়াদ নবায়ন অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। ফলে অর্থবছরের যে সময়েই ডিলারশিপের মেয়াদ উত্তীর্ণ হোক না কেন নবায়ন করার পর দ্বিতীয় বর্ষের ৩০ জুন পর্যন্ত তার মেয়াদ কার্যকর থাকবে।
শত শত বিজ্ঞাপন হারালেও ফেসবুকের শেয়ার মূল্য রেকর্ড বৃদ্ধি
০৮,জুলাই,বুধবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঘৃণাপূর্ণ উক্তির জন্যে ফেসবুককে বহুজাতিক কোম্পানি কোকাকোলা, স্টারবাকসহ সাড়ে ৬শ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞাপন দেয়া থেকে সরিয়ে নিলেও শেয়ারবাজারে এর শেয়ারপত্রের মূল্য মঙ্গলবার ২৪৭.৬৫ ডলার ওঠে। দিন শেষে তা ২৪০.৮৬ ডলারে নামে। ফেসবুকের সিওও সেরিল স্যান্ডবার্গ একই দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটিকে ঘৃণাপূর্ণ উক্তি বাদ দিতে আরো তৎপর হতে হবে এমন মন্তব্যের পর শেয়ারমূল্য বৃদ্ধি পায়। ভার্চুয়ালি স্যান্ডবার্গ বিষয়টি নিয়ে মার্ক জাকারবার্গের সঙ্গে কথা বলেন। ফেসবুকের বিরুদ্ধে ইদানিং কিছু বক্তব্য পোস্টের সমালোচনা করে বলা হয় এর ফলে বিদ্বেষ ও সন্ত্রাস বাড়ছে। আর বিজ্ঞাপন সরিয়ে নেয়ায় ফেসবুকের মোট লোকসানের পরিমান দাঁড়ায় ৬০ বিলিয়ন ও এর প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গের ব্যক্তিগত ক্ষতি হয় ৭ বিলিয়ন ডলার। ফেসবুকের সিওও স্যান্ডবার্গ বলেন আরো অধিক দায়িত্বশীল হয়েই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটিকে ঘৃণাপূর্ণ ও আপত্তিকর বক্তব্য সরিয়ে ফেলতে হবে। কারণ এটি এমন একটি প্লাটফর্ম যেখানে প্রত্যেকের কণ্ঠস্বর জাগ্রত করাই মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু তার মানে এই নয় যে তা ঘৃণা ছড়াবে। স্যান্ডবার্গ এও জানান ঘৃণাপূর্ণ উক্তি যাতে ছড়িয়ে না পড়ে তার জন্যে কয়েক বছর ধরে আমরা সত্যিকারের অগ্রগতি অর্জন করেছি তবে কাজটি কখনই শেষ হয়নি এবং ঘৃণ্য বিষয়বস্তু সন্ধানে ও অপসারণে আরো বড় দায়িত্ব পালন করতে হবে। অর্থনৈতিক কারণ বা বিজ্ঞাপন হারানোর জন্যে নয় এটি আমরা করছি সঠিক দায়িত্ব থেকেই।
গাছে ঝুলছে সবুজ মাল্টা, চাষিদের মনে আনন্দের ঢেউ
০৬জুলাই,সোমবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাস। মাল্টা চাষি এক বন্ধুর পরামর্শে এ ফল চাষের উদ্যোগ নেন শহিদুল ইসলাম সাচ্চু এবং ঢাকায় বসবাসরত তার আরও ৫ বন্ধু আনোয়ার হোসেন মিঠু, মেজবাহুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, মো. মাসুম ও মো. মনিরুজ্জামান। তাদের করা বাগান ভরে গেছে সবুজ মাল্টায়, ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে বহু গাছ। যা দেখতে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন মানুষ। আর মাল্টার এ বাম্পার ফলনে চাষিদের মনে জেগেছে আনন্দের ঢেউ। স্বপ্ন দেখছেন ব্যবসায়ীকভাবে লাভবান হওয়ার। গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বরাব এলাকায় দুলাল মার্কেটের পাশে শহিদুল ইসলাম সাচ্চুদের এ বাগানের অবস্থান। বাগানের আয়তন ১১ বিঘা। সাচ্চু ও তার বন্ধুরা এ জমি ১০ বছরের জন্য ভাড়া নেন। বছরপ্রতি জমির ভাড়া প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। পরে সেখানে বাণিজ্যিকভাবে বারি-১ ও ভারতীয় জাতের মাল্টা চাষ শুরু করেন। আলাদা দুটি বাগানে প্রায় দেড় হাজার মাল্টা গাছ রয়েছে। জানা যায়, এবছর তারা মাল্টা বিক্রি করবেন। যদিও গত বছর থেকে তাদের বাগানে মাল্টা ধরতে শুরু করে। কিন্তু সেসময় তেমন একটা মাল্টা বিক্রি করতে পারেননি। মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান থানার কোলা এলাকার বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম সাচ্চু। ৮ থেকে ১০ বছর আগে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কোনাবাড়ী পুকুরপাড় এলাকায় বাড়ি করে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছেন তিনি। তিনি জানান, ১৯৯৭ সালে তিনি সিঙ্গাপুর যান। কিছু টাকা জমা হলে ২০১১ সালে দেশে ফিরে আসেন। এক বছর পর মিনি গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করেন। লোকসানের কারণে তিনি এ ব্যবসা ছাড়তে বাধ্য হন। পরে এক বন্ধুর পরামর্শে ২০১৭ সালে মাল্টা চাষ শুরু করেন। বাগানে মাল্টার ফলন ভালো হওয়ায় লাভবান হওয়ার বিষয়ে আশাবাদী শহিদুল ইসলাম সাচ্চু ও তার বন্ধুরা। জানা যায়, আগস্ট-সেপ্টেম্বর থেকে এ বাগানের মাল্টা বাজারে বিক্রি করা হবে। পাইকারিতে কেজিপ্রতি মাল্টার দাম হতে পারে ১০০ থেকে ১২০ টাকা। শহিদুল ইসলাম সাচ্চু জানান, তাদের মাল্টা বাগানে কোনো ধরনের রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয় না। তাদের বাগানে ব্যবহার করা হয় তরল জৈব সার। উদ্যোক্তাদের একজন আনোয়ার হোসেন মিঠু। তিনি জানান, তিনি ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। পাশাপাশি কয়েক বন্ধু মিলে গাজীপুরে মাল্টা চাষ শুরু করেছেন। এ বছর তাদের বাগানে প্রচুর মাল্টা ধরেছে। প্রতিটি গাছে গড়ে ৭০ থেকে ৮০টি মাল্টা ধরেছে।
১ লাখ কোটি টাকা আমানতের মাইলফলক অতিক্রম করলো ইসলামী ব্যাংক
০১,জুলাই,বুধবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড এখন এক লাখ কোটি টাকা আমানতের ব্যাংক। ৩০ জুন (মঙ্গলবার) এ মাইলফলক অতিক্রম করেছে দেশের শীর্ষ এই বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক। ২০১৯ সালে ব্যাংকের আমানত ছিল ৯৪৬৮১ কোটি টাকা, ২০১৮ সালে ৮২২৫৭ কোটি, ২০১৭ সালে ৭৫৫০২ কোটি এবং ২০১৬ সালে ছিল ৬৮১৩৫ কোটি টাকা। আমানতের পাশাপাশি এবছরের মে ও জুন মাসে অতীতের সব রেকর্ড অতিক্রম করে সর্বোচ্চ বৈদেশিক রেমিট্যান্স আহরণ করেছে ইসলামী ব্যাংক। এর পরিমাণ মে মাসে ৪৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং জুন মাসে ৫৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অতীতে কখনো রেমিট্যান্স আহরণ ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেনি। রেমিট্যান্স আহরণে ২০১৯ সালের জুন মাসের তুলনায় ২০২০ সালের জুন মাসে ইসলামী ব্যাংকের প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১১৬ শতাংশ। বর্তমানে রেমিট্যান্স আহরণে ইসলামী ব্যাংকের মার্কেট শেয়ার ৩২ শতাংশ। ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স আহরণ বাড়িয়ে জাতীয় রিজার্ভে (বিদেশি মুদ্রার মজুদ) উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে এই ব্যাংক। ইসলামী ব্যাংক দেশের সুষম উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সার্বিক অবদানের পাশাপাশি অনগ্রসর ও পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়তে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পরিপালনের সংস্কৃতি লালন করা ও যথাযথ পেশাদারিত্বের সঙ্গে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে জনগণের সঞ্চয়ের বিশ্বস্ত আমানতদার হিসেবে কাজ করছে এই ব্যাংক। শরীআহ ভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের অগ্রপথিক ইসলামী ব্যাংক বর্তমানে ৩৫৭টি শাখা, ৪৩টি উপশাখা, ১২০০ এজেন্ট আউটলেট ৬৬০টি নিজস্ব ও প্রায় ১১ হাজার শেয়ারড এটিএম ও সিআরএম বুথের মাধ্যমে গ্রাহকদের সেবা প্রদান করছে। আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তিসমৃদ্ধ ও আন্তরিক গ্রাহক সেবার মাধ্যমে এই ব্যাংক শ্রেণি-পেশা, ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সব মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের অনন্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। চলতি বছরে ব্যাংকটির গ্রাহকসংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বর্তমানে ব্যাংকের গ্রাহক সংখ্যা দেড় কোটি। আর্থিক সেবা বঞ্চিত মানুষের কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছাতে ইসলামী ব্যাংক ২০১৭ সালে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে ব্যাংকের এজেন্ট আউটলেটসমূহের গ্রাহক সংখ্যা ৭ লাখ ৫৩ হাজার এবং আমানতের পরিমাণ দেশের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের সর্বোচ্চ ২৬০০ কোটি টাকা। দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে ইসলামী ব্যাংক অতীতের মতোই শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। যা চলমান আর্থিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সময়ে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখছে। গ্রাম ও শহরের অর্থনৈতিক বৈষম্য কমিয়ে এবং বণ্টনমূলক সুবিচার নীতি অনুসরণ করে বিনিয়োগ প্রদানের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক দেশের টেকসই উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করছে। ইসলামী ব্যাংকের রয়েছে সর্বোচ্চ এসএমই বিনিয়োগ যা এসএমই সেক্টরের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তারুণ্যদীপ্ত, সৎ, যোগ্য ও চৌকস নারী-পুরুষের সমন্বয়ে গঠিত একদল পেশাদার কর্মকর্তা দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে এই ব্যাংক। সৎ, আত্মবিশ্বাসী ও গ্রাহকসেবায় সদা প্রস্তুত কর্মী বাহিনীই এই ব্যাংকের বড় সম্পদ। ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এ পর্যন্ত অসংখ্য পদক পেয়েছে এ ব্যাংক। বিশ্বের শীর্ষ এক হাজার ব্যাংকের তালিকায় বাংলাদেশের একমাত্র ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকের এই সাফল্যের কৃতিত্ব দেশ ও প্রবাসের সব গ্রহক, শুভাকাঙ্খী ও ইসলামী ব্যাংক পরিবারের সব সদস্যের। স্থানীয় মালিকানা পরিবর্তনের কারণে ব্যাংকের গ্রহণযোগ্যতা আরও বেড়েছে সর্বত্র। সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও গ্রাহকসহ সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।
প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য : অর্থমন্ত্রী
১২জুন,শুক্রবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট সরকার বাস্তবায়ন করতে পারবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন,প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এবার আমরা গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে বাজেট প্রণয়ন করেছি। আমাদের ভৌত অবকাঠামো আছে,পাশাপাশি অতীতের অনেক সাফল্য আমাদের সামনে আছে এবং আমরা এবার বাজেটটি যেভাবে সাজিয়েছি, তাতে আশা করি প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারব। তিনি আরো বলেন, এবারের বাজেটে মূলত মানুষকে রক্ষা করার ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা হলো মানুষকে বাঁচানোর জন্য আগে খরচ কর, টাকা কোথা থেকে আসবে সেটা পরে দেখা যাবে। তাই এবার আমরা আগে খরচ করব, পরে আয় করব। অর্থমন্ত্রী জানান, মানুষকে খাবার দিতে হবে, চিকিৎসা দিতে হবে এবং যারা চাকরি হারিয়েছেন,তাদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরিসহ জরুরি বিষয়কে এবারের বাজেটে অগ্রাধিকার দিয়েছি। শুক্রবার বাজেটোত্তর এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড, মসিউর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ;ালানী ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থসচিব আব্দুর রউফ কালুকদার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম প্রমূখ যুক্ত হন। অর্থমন্ত্রী গতকাল জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন। এটি দেশের ৪৯তম বাজেট। বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য উল্লেখ করে মুস্তফা কামাল বলেন,আমাদের প্রত্যাশা হলো করোনা বেশিদিন প্রলম্বিত হবে না। আইএমএফ বলছে, বাংলাদেশ ২০২০-২১ অর্থবছরে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। আমাদের অবকাঠামো ও জনবল আছে, সুতরাং আমরা বিশ্বাস করি ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট আমরা বাস্তবায়ন করতে পারব। কোভিড-১৯ প্রেক্ষিতে বাজেটে স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ প্রাধিকার দেয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যখাতে এবার টাকার কোন অভাব হবে না। কিন্তু শর্ত হলো স্বাস্থ্য বিভাগকে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। কার্যকরভাবে দ্রুত সেবার মান বাড়াতে হবে। তিনি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা উল্লেখ করে বলেন,প্রধানমন্ত্রী বলেছেন,স্বাস্থ্য খাতে সেবা বাড়ানোর জন্য যা কিছু করার দরকার, তা করা হবে। সেবা বাড়ানো মানে নামে সেবা বাড়ানো নয়। সেবা যতদূর বাড়ানো যাবে এবং সুযোগ থাকে বাড়ানোর, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা টাকার জন্য না করব না। তিনি বলেন, করোনা মোকাবেলায় ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ আছে, এটা অনেক টাকা। এটা খরচ করতে অনেক দিন লাগবে। এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানান, স্বাস্থ্য ও কৃষিখাতকে এবার এতটা গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে যে, এই দুই খাতে প্রয়োজন হলে জরুরি ভিত্তিতে নতুন প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, এবার আমরা অনেক নতুন নতুন খাত উন্মোচনের চেষ্টা করেছি। এর পাাশাপাশি আশা করি অটোমেশন ঠিকঠাক মত করা গেলে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যাবে। তিনি বলেন, করোনার কারণে ইএফডি মেশিন ব্যবহার বিলম্বিত হয়েছে। তবে শীঘ্রই এর ব্যবহার শুরু হবে বলে তিনি জানান। এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম জানান, প্রস্তাবিত রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য রাজস্ব বোর্ড প্রস্তুত আছে। তিনি বলেন, মোবাইল ফোনে কথা বলার ওপর মাত্র ৫ শতাংশ মূসক বাড়ানো হয়েছে, অর্থাৎ এক টাকায় ৫ পয়সা বাড়বে, অনেকে এটাকে ভুল বুঝছেন, যেটা বাড়ানো হয়েছে-সেটা খুব সীমিত। তিনি রাজস্ব আয় বাড়ানোর জন্য করনেট সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। করোনাভাইরাস মহামারির প্রেক্ষিতে কোন মানুষ যেন অভুক্ত না থাকে, সে বিষয়ে সরকার অত্যন্ত সতর্ক উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বার বার বলছেন, এখন আমাদের শিকড়ের সন্ধানে বেরিয়ে পড়তে হবে। অর্থাৎ কৃষিখাতকে অধিকতর সচল করতে হবে। তাই আমরা কৃষিখাতে এবার বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের কর সুবিধা প্রদান করেছি। এ বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমরা যেন কোন ধরনের খাদ্য সংকটে না পড়ি,এজন্য এবার আমাদের বিশেষ উদ্যোগ হলো এক ইঞ্চি ফসলি জমি অনাবাদি রাখতে চাই না। কৃষিখাতে এবার ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকার প্রণোদনা রাখা হয়েছে। এই অর্থ সার, বীজ, কীটনাশনক সহ অন্যান্য কৃষি উপকরণ বিতরণের ক্ষেত্রে ব্যয় করা হবে। মুস্তফা কামাল বলেন, করোনার কারণে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেটাকে কাজে লাগানোর জন্য এবারের বাজেটে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর রেয়াত ও কর আইন সহজ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে ১৭টি অর্থনৈতিক অঞ্চল বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত আছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব অঞ্চলে এবার বড় আকারে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে, যা নতুন কর্মসংস্থান তৈরির ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া, তিনি মনে করেন যে, বর্তমানে সুদহার ৯ শতাংশে নেমে আসায় এবার বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ প্রবাহ যথেষ্ট পরিমাণে বাড়বে। এক প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী জানান, মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে অর্থ পাচারের ঘটনা গত দেড় বছরে অনেক কমে এসেছে। তিনি বলেন, আমরা চাই দেশের একটি টাকাও যেন বাইরে পাচার না হয়। এজন্য আমরা অটোমেশনের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহবান জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এবার আমরা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বাজেট প্রণয়ন করতে পারিনি। একটা প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে দিয়ে সময় পার করছি। এমতাবস্থায় বাজেট বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি দেশবাসী বিশেষ করে সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করছি। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও এগিয়ে আসার আহবান জানান।
৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়ালো ভর্তুকি-প্রণোদনা-নগদ ঋণ খাতের বরাদ্দ
১২জুন,শুক্রবার,সুমন মজুমদার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতীয় বাজেটে প্রথমবারের মত ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়ালো ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ খাতের বরাদ্দ। ২০২০-২১ অর্থবছরে বাজেট প্রস্তাবনায় এ খাতে রাখা হয়েছে ৫২ হাজার ৮৩৮ কোটি টাকা। যা জিডিপির ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ ও চলতি অর্থবছরের চেয়ে ৫ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা বেশি। বিশেষ নজর দেয়া হয়েছে তথ্য-প্রযুক্তি ও এসএমই খাতে। বরাদ্দ ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করাকেই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এবারের বাজেটে থোক বরাদ্দের ১৬ হাজার কোটি টাকার মধ্যে করোনা পরবর্তী ধাক্কা সামলাতেই ব্যয় করা হবে ১০ হাজার কোটি টাকা; ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প, সেবাখাত, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের মূলধন বিবেচনায় সুদ ভর্তুকি বাবদ সাড়ে ৩ হাজার, বিজেএমসি'র শ্রমিক কর্মচারীদের জন্য আড়াই হাজার ও আয়কর দাতার সংখ্যা বৃদ্ধিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ বরাদ্দ। করোনায় টালমাটাল ব্যবসা-বাণিজ্য, ঝুঁকির মুখে উৎপাদন ব্যবস্থা, খাদ্য নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান। তাই মন্দার কবলে ঝুঁকে পড়া অর্থনীতির পুর্নবাসনে এবারের বাজেটে বিশেষ উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এরই অংশ, আগামী অর্থবছরের বাজেটে ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫২ হাজার ৮৩৮ কোটি টাকা। যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ১১ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি। প্রণোদনার ভাগবণ্টনে সবচেয়ে বেশি রাখা হয়েছে কৃষিতে, সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা। এরপর রপ্তানিতে ৬ হাজার ৮২৮ কোটি ও রেমিটেন্সে ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা। প্রণোদনা ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাটাই চ্যালেঞ্জ জানালেন কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. সদরুল আমিন। এবার ৫শ কোটি টাকা কমানো হয়েছে বিদ্যুৎখাতের ভর্তুকি। তারপরও সর্বোচ্চ বরাদ্দ এ খাতেই, ৯ হাজার কোটি টাকা। এরপর গুরুত্ব পেয়েছে করোনা ভাইরাসের কারণে ঝুঁকিতে পড়া খাদ্যনিরাপত্তা। বিদ্যুৎখাতের ভর্তুকি নিয়ে প্রশ্ন তুলে এ খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পরামর্শ দিয়েছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল আলম। এবার বাজেটে নগদ ঋণখাতে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ৬ হাজার কোটি টাকা। কর্মসংস্থান ও দক্ষতার উন্নয়নে তথ্য-প্রযুক্তিখাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে.কোটি টাকা। যা আগের অর্থবছরের চেয়ে.কোটি টাকা বেশি/কম। বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এসএমই খাতে। জিডিপি'র প্রায় ২৫ ভাগ যোগান দেয়া এই খাত পেয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটের.শতাংশ। যাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ী নেতারা। অথবা নগদ ঋণখাতে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও মোট জিডিপির প্রায় ২৫ ভাগ যোগান দেয়া এসএমই খাতের উন্নয়নে বিশেষ নজর দেয়া হয়নি এবারের বাজেটে।
করোনাকালেও ১৪ কোটি টাকার লিচু বিক্রি হবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়
৩জুন,বুধবার,সুমন মজুমদার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাগানে বাগানে সারিবদ্ধ লিচু গাছ। প্রতিটি গাছে ঝুলে আছে থোকা থোকা বিভিন্ন জাতের রসালো লিচু। লিচুর ভারে গাছের ঢালগুলো মাটিতে নুয়ে পড়েছে। প্রতিটি থোকাতেই ১০/ ১২টি করে লিচু ধরেছে। গাছগুলোতে চোখ পড়লে নজর কাড়বে যেকোনো মানুষের। এ মনোরম দৃশ্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা আখাউড়া, কসবা, ও বিজয়নগরে। এরই মধ্যে রসালো এই ফল কিনতে বাগানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় জমছে। চলমান করোনা সংকটে ব্যাপক আকারে না হলেও সীমিতভাবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতারা এই লিচু ক্রয় করতে আসছেন। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলে বাগান মালিকদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। সরেজমিনে বাগানগুলো ঘুরে দেখা যায়, চলতি মৌসুমে পাটনায়, বম্বে, চায়না থ্রি এবং দেশীয় জাতের লিচু আবাদ করা হয়েছে। মধুমাস জ্যৈষ্ঠের মাঝামাঝি হওয়ায় লিচুগুলো রসালো তো বটেই সুমিষ্ট ও মাংসল হয়েছে। পরিপক্ব লিচুগুলো বাগান থেকে পাড়তে ব্যস্ত সময় পার করছেন লিচু চাষিরা। প্রতিটি গাছ থেকে দুই/তিন জন করে লিচু পাড়ছেন। অন্যদিকে মাটিতে আরেকদল সারিবদ্ধভাবে বসে লিচু বাছাই করে ১০০টির থোকা বানাচ্ছেন। জাত ভেদে ১শ লিচু বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। ক্রেতারাও দরদাম করে লিচু কিনে তা বিভিন্ন পরিবহনে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছেন। কৃষিবিভাগ জানিয়েছে, জেলায় ২০০১ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে লিচুর আবাদ শুরু হয়। তারপর থেকে বছর বছর বাড়ছে আবাদের পরিমাণ। এবার ৪৫৫ হেক্টর জমিতে লিচু আবাদ হয়েছে। ছোট বড় মিলিয়ে বাগান রয়েছে ৪২০টির মত। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা হলো ১৩৬৮ মেট্রিকটন। জেলা কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ রবিউল হক মজুমদার বলেন, করোনার মধ্যেও নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছি। ফল ধরার সময় গাছে যাতে পোকামাকড় আক্রমণ না করতে পারে সময়ে সময়ে আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা নিয়মিত বাগানগুলো পরিদর্শন করেছেন এবং চাষিদের পরামর্শ দিয়েছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলন ভাল হয়েছে। জেলায় এ বছর প্রায় ১৪ কোটির টাকার মত লিচু বিক্রি হবে। চাষিরাও ভাল দাম পাবে।

অর্থনীতি পাতার আরো খবর