নগদ থেকে ১.১২ কোটি টাকা লাভ করল ডাক বিভাগ
০৬সেপ্টেম্বর,রবিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনার কারণে সবকিছুতে যখন মন্দাভাব ঠিক সেই সময়ে ভাগাভাগির অংশ হিসেবে ডাক বিভাগকে এক কোটি ১২ লাখ ১৫ হাজার ৫৭৬ টাকা দিয়েছে সরকারি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস- নগদ। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ডাক বিভাগের সদ্য নির্মিত ডাক ভবনে এক অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের হাতে এই চেক তুলে দেন- নগদ ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ মিশুক। করোনার কারণে সবকিছুতে যখন মন্দাভাব ঠিক সেই সময়ে ভাগাভাগির অংশ হিসেবে ডাক বিভাগকে এক কোটি ১২ লাখ ১৫ হাজার ৫৭৬ টাকা দিয়েছে সরকারি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস- নগদ। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ডাক বিভাগের সদ্য নির্মিত ডাক ভবনে এক অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের হাতে এই চেক তুলে দেন নগদ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ মিশুক। সদ্য সম্পন্ন হওয়া ২০১৯-২০ অর্থ বছরের সেবার ওপর থেকে আয়ের অংশ হিসেবে নগদ ডাক বিভাগকে এই অর্থ প্রদান করে। ডাক বিভাগ তার অন্য কোনো সেবা থেকে কখনো নেট আয় না পলেও নগদ এর যাত্রার মাত্র দেড় বছরের মাথায় তারা পেয়ে গেল বাড়তি এই আয়। কোনো ধরনের বিনিয়োগ না করেই আয়ের অংশ পাওয়া ডাক বিভাগের জন্য এক অনন্য নজির। নগদ এর মাধ্যমে ডাক বিভাগের এমন আয় সামনের দিনে ডিজিটাল আর্থিক সেবার দুয়ারকে আরও সম্প্রসারিত করবে। এ সময় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. নূর-উর-রহমান এবং ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সুধাংশু শেখর ভদ্রসহ নগদ এর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রথমত সারাদেশের ওপর কোভিডের মতো অতিমারির আক্রমণ, দ্বিতীয়ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার দিক থেকেও আছে একচেটিয়াত্বের দাপট। এসব কিছুর পরও নিজেদেও সেবার মান বাড়িয়ে কোভিডের মধ্যেও আয়ের চাকা সচল রাখে- নগদ। আর তা থেকেই আসে এই আয়। এই অঞ্চলে ডাক সেবার ২শ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার কোনো সেবা থেকে এমন আয় জমা পড়ল ডাক বিভাগের অ্যাকাউন্টসে। শেষ হওয়া ২০১৯-২০ অর্থ বছরের ডাক বিভাগের আয়-ব্যয়ের হিসেব এখনো পাওয়া যায়নি। তবে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ডাক বিভাগের আয় আর ব্যয়ের মাঝে ঘাটতি ছিল ৪৩৩ কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ডাক বিভাগের লোকসান হয় ৪৩৬ কোটি টাকা। স্বাধীনতার পর প্রথম বছরও ডাক বিভাগের শুরু হয়েছিল লোকসান দিয়ে। সেবার এক কোটি ৬০ লাখ টাকার লোকসান দিয়ে বাংলাদেশের ডাক বিভাগের যাত্রা শুরু হয়। তারপর থেকে সময় যত গড়িয়েছে, ঘাটতির পরিমাণ ততই বেড়েছে। তবে নগদ এর মতো ডিজিটাল আর্থিক সেবা চালু হওয়ায় গোটা ডাক বিভাগও যেন নতুন করে জেগে ওঠার সুযোগ পেয়েছে। নগদ এর এই সাফল্য যাত্রায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তিনি বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ডাক বিভাগ এমন অর্জন করতে পারবে, এটা অকল্পনীয় ব্যাপার ছিল। আমার বিশ্বাস নগদ এর এই পথ ধরেই সামনের দিনে ডাক বিভাগ ঘুরে দাঁড়াবে। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের আদলে সরকারি সহায়তার সঙ্গে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের ইনোভেশনে যুক্ত হয়ে প্রায় অসম্ভব কাজটি সম্ভব হয়েছে। এমএফএস সার্ভি থেকে নগদ এখন একটি ডিজিটাল ব্যাংকে পরিণত হওয়ার স্বপ্নও দেখছে। সেটি হলে দেশের সব মানুষকে সহজেই ডিজিটাল আর্থিক সেবার মধ্যে নিয়ে আসা সম্ভব হবে। কোভিডের সময় সেবা চালু রেখে মানুষের জীবন-যাত্রাকে সহজ করতে কর্মীদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে যে কোনো কর্মী আক্রান্ত হলে পাঁচ লাখ টাকার ঝুঁকিভাতার ঘোষণা দেয় নগদ। এর মধ্যেই একেরপর পর এক সরকারি সহায়তা গ্রাহকেদের পৌঁছে দেওয়া এবং নতুন নতুন সেবা নিজেদের প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করে মানুষে ঘরে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে নগদ। সেই ধারাবাহিকতায়ই আয় বাড়তে থাকে নগদ এর। এসব বিষয়ে নগদ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ মিশুক বলেন, শুরু থেকেই আমরা মানুষের চাহিদাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে আমাদের সেবা কাঠামো সাজিয়েছি। সে কারণে সবচেয়ে কম খরচে সর্বাধুনিক সেবা নিয়ে আসতে পেরেছে- নগদ। আর তার ফলস্বরূপ সেবা শুরুর মাত্র এক বছরের মধ্যে নগদ-কে বিশ্বের দ্রুতবর্ধনশীল ডিজিটাল আর্থিক সেবা হিসেবে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় পোস্টাল ইউনিয়ন স্বীকৃতি দিয়েছে। সেই দিন বেশি দূরে নয়, যখন নগদ এর মাধ্যমেই গোটা বিশ্বে বাংলাদেশের ডাক বিভাগের সুনাম ছড়িয়ে পড়বে। আর নগদ-ই হবে দেশের জাতীয় ডিজিটাল আর্থিক সেবা সংস্থা।
এশিয়ার ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে আধুনিক দাসপ্রথার ঝুঁকি বাড়ছে
০৪সেপ্টেম্বর,শুক্রবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নভেল করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের প্রভাবে এশিয়ার ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে আধুনিক দাসপ্রথার ঝুঁকি বাড়ছে। এই বৈশ্বিক মহামারীর কারণে অর্থনীতিতে প্রভাব যতো গুরুতর হচ্ছে, পাশাপাশি এই অঞ্চলে শ্রম অধিকার লঙ্ঘন এবং আইন প্রয়োগে দুর্বলতার কারণে এই পরিস্থিতি ততো ঘনীভূত হচ্ছে। আজ শুক্রবার প্রকাশিত এক বৈশ্বিক সূচকে এমন ইঙ্গিতই মিলছে। ঝুঁকি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভেরিস্ক ম্যাপলক্রফট আধুনিক দাসপ্রথা সূচক (মডার্ন স্ল্যাভারি ইনডেক্স) বিশ্লেষণ করে দেখেছে, দাস শ্রমিকের পর্যায়ে পড়ার মতো মারাত্মক ঝুঁকিতে চীন ও মিয়ানমারসহ ৩২টি দেশ। সেই গ্রুপে প্রথমবারের মতো এক্সট্রিম রিস্ক (চরম ঝুঁকি) ক্যাটাগরিতে স্থান পেয়েছে ভারত ও বাংলাদেশ। কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামের শ্রমিকরাও চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এ সূচকে ১৯৮টি দেশের মধ্যে যথাক্রমে ৩২তম এবং ৩৫তম স্থানে উঠে এসেছে এ দুটি দেশ। আর সবচেয়ে মারাত্মক শ্রমদাসের ঝুঁকিতে রয়েছে উত্তর কোরিয়া, সিরিয়া ও ইয়েমেন। এ ব্যাপারে ভেরিস্ক ম্যাপলক্রফটের মানবাধিকার বিশ্লেষক সোফিয়া নাজালিয়া বলেন, বৈশ্বিক মহামারীর কারণে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি যেভাবে চাপের মুখে পড়ছে তাতে আধুনিক দাসপ্রথার ঝুঁকি আরো আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। কর্মপরিবেশ ক্রমেই সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে। রয়টার্সকে ইমেইলে দেয়া এক মন্তব্যে তিনি বলেন, পরিস্থিতির চাপে শ্রমিকরা ক্রমেই অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত হচ্ছে, এতে আরো বেশি শোষণমূলক কর্মপরিবেশের মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। এর মধ্যে অনেকে বাধ্যতামূলক শ্রমের পরিস্থিতিতেও পড়তে পারে। এশিয়ার পোশাককর্মীরা যারা বিশ্বব্যাপী ফ্যাশল ব্র্যান্ডগুলো পোশাক সরবরাহের মূল কারিগর হিসেবে কাজ করেন গত মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত তারা প্রায় ৫৮০ কোটি ডলার মজুরি হারিয়েছেন। শ্রমকি অধিকার আদায়ের প্রেসার গ্রুপ ক্লিন ক্লথ ক্যাম্পেইন গত মাসে এমন তথ্যই দিয়েছে। কভিড-১৯ মহামারীতে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শোরুম বন্ধ এবং ক্রয়াদেশ বাতিলের পরিপ্রেক্ষিতে শ্রমিকদের এভাবেই মূল্য দিতে হয়েছে। শিল্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এশিয়ার পোশাক শিল্পে প্রায় ৬ কোটি শ্রমিক কাজ করেন। পোশাক সামগ্রীর বিক্রি কমে যাওয়ায় তাদের একটি বড় অংশের চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অনেক কারখানা শ্রমিক ছাঁটাই করছে। এতে শ্রমিকরা শোষণের শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছেন। আয় কমে যাওয়ায় অনেকে সন্তানদেরও কর্মে নিয়োজিত করছেন।- রয়টার্স
ইবিএল ডাচ্-বাংলা ব্র্যাক ব্যাংকই শীর্ষে
২৩আগস্ট,রবিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ২০১৯ সালজুড়ে নয়-ছয়ের ডামাডোল ছিল দেশের ব্যাংকিং খাতে। ছিল নজিরবিহীন তারল্য সংকটও। এছাড়া বেসরকারি খাতে ইতিহাসের সর্বনিম্ন ঋণ প্রবৃদ্ধি, খেলাপি ঋণের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, সুশাসনের ঘাটতি ও ছোট-বড় ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় বছরজুড়েই আলোচনা-সমালোচনায় মুখর ছিল ব্যাংকিং খাত। বহুমাত্রিক এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ভালো করছে বেশকিছু ব্যাংক। আবার কিছু ভালো ব্যাংক যাচ্ছে ক্রমে খারাপের দিকে। দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো নিয়ে ২০১৩ সাল থেকেই প্রতি বছর ধারাবাহিকভাবে Ranking করে আসছে বণিক বার্তা। ২০১৯ সালের আর্থিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অষ্টম Ranking তৈরি করা হয়েছে এবার। লংকাবাংলা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের রিসার্চ টিমের সহায়তায় প্রস্তুত করা Ranking এ দেখা যাচ্ছে, ২০১৮ সালে শীর্ষে থাকা ব্যাংকগুলোর স্কোর কমেছে, আবার স্কোর বেড়েছে নিচের দিকে থাকা বেশকিছু ব্যাংকের। সব মিলিয়ে সাতটি সূচক বিবেচনায় নিয়ে তৈরি করা Ranking এ ৭০ স্কোরের মধ্যে ৩০-এর বেশি পেয়েছে মাত্র দুটি ব্যাংক। স্কোরের এ দীনতা দেশের ব্যাংকিং খাতের ভঙ্গুর স্বাস্থ্যেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একটি ব্যাংকের প্রকৃত অবস্থা বুঝতে বৈশ্বিক কিছু মানদণ্ড রয়েছে। এগুলো হচ্ছে সম্পদের বিপরীতে আয় (রিটার্ন অন অ্যাসেট বা আরওএ), শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানার বিপরীতে আয় (রিটার্ন অন ইকুইটি বা আরওই), শ্রেণীকৃত ঋণ (এনপিএল) অনুপাত, কর-পরবর্তী নিট মুনাফা, শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস), মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত (ক্যাপিটাল অ্যাডেকোয়েসি রেশিও বা সিএআর) ও শাখাপ্রতি পরিচালন মুনাফা (ওপিবি)। আগের বছরগুলোয় শেয়ারপ্রতি আয়কে (ইপিএস) সেরা ব্যাংক নির্ধারণের ক্ষেত্রে অন্যতম নির্দেশক হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তবে ২০১৯ সালের সেরা ব্যাংক নির্ধারণের ক্ষেত্রে নির্দেশক হিসেবে ইপিএসের পরিবর্তে কর-পরবর্তী নিট মুনাফাকে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। মূলত স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা করার কারণে ব্যাংকের নিট মুনাফায় হেরফের না হলেও ইপিএস কমে যায়। এ কারণে এবার ইপিএসের পরিবর্তে নিট মুনাফাকে হিসাব করা হয়েছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩০টি ব্যাংকের ২০১৯ সালের আর্থিক প্রতিবেদনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাত নির্দেশকের ভিত্তিতে তৈরি করা Ranking এ প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল), ডাচ্-বাংলা ও ব্র্যাক ব্র্যাংক। এর আগের দুই বছরের Ranking ও এ তিনটি ব্যাংক শীর্ষ তিনে ছিল। নিট মুনাফা ও এনএভিপিএস-বহির্ভূত তালিকায় ২০১৯ সালে শীর্ষ তিনের মধ্যে রয়েছে ইবিএল, ডাচ্-বাংলা ও প্রিমিয়ার ব্যাংক। ২০১৯ সালের সেরা ব্যাংকের সার্বিক তালিকায় শীর্ষ দশে জায়গা করে নেয়া অন্য ব্যাংকগুলো হচ্ছে প্রিমিয়ার, ইসলামী ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ট্রাস্ট ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক ও ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড। অন্যদিকে নিট মুনাফা ও এনএভিপিএস বাদে করা Ranking এ শীর্ষ দশে থাকা বাকি ব্যাংকগুলো যথাক্রমে ব্যাংক এশিয়া, ট্রাস্ট ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। দুই বছরের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে স্কোর বেড়েছে ১৬টি ব্যাংকের। একই সময়ে ১৩টি ব্যাংকের স্কোর কমেছে। অপরিবর্তিত ছিল একটি ব্যাংকের স্কোর। ২০১৯ সালে স্কোর বেড়েছে এমন ১৬টি ব্যাংক হলো ইবিএল, প্রিমিয়ার, ব্যাংক এশিয়া, ট্রাস্ট, সিটি, যমুনা, ঢাকা, ইউসিবি, এনসিসি, শাহজালাল ইসলামী, এক্সিম, আইএফআইসি, উত্তরা, ফার্স্ট সিকিউরিটি, স্ট্যান্ডার্ড ও এবি ব্যাংক। অন্যদিকে স্কোর কমে যাওয়া ব্যাংকগুলো হলো ডাচ্-বাংলা, ব্র্যাক, ইসলামী, সাউথইস্ট, মার্কেন্টাইল, আল-আরাফাহ্, প্রাইম, এনবিএল, এমটিবি, পূবালী, ওয়ান, এসআইবিএল ও রূপালী ব্যাংক। আর স্কোর অপরিবর্তিত রয়েছে Ranking এর একেবারে তলানিতে থাকা আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের। খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ ও শাখাপ্রতি পরিচালন মুনাফার টেবিলে শীর্ষস্থান ধরে রেখে এবার সার্বিক টেবিলে এক নম্বরে উঠে এসেছে ২০১৮ সালে তিন নম্বরে থাকা ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড। ব্যাংকটির সার্বিক স্কোর ২০১৮ সালের ৩২ দশমিক ১৯ থেকে এবার ৩৫ দশমিক ২৫-এ উন্নীত হয়েছে। একইভাবে নিট মুনাফা ও এনএভিপিএস বাদ দিয়ে করা Ranking এ ৫০-এর স্কেলে ২০১৮ সালের ২৫ দশমিক ৯২ থেকে এবার স্কোর বেড়ে ২৮ দশমিক শূন্য ৬ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। ২০১৮ সালের মতোই এবার ব্যাংকটি ৫০-এর স্কেলে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। ২০১৮ সালে শীর্ষে থাকা ডাচ্-বাংলা ব্যাংক এবার দ্বিতীয় অবস্থানে নেমে গেছে। এবার ব্যাংকটি এনএভিপিএসে শীর্ষে অবস্থান করছে। তাছাড়া আরওইতে দ্বিতীয় এবং নিট মুনাফায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। ২০১৮ সালে ব্যাংকটি আরওই ও এনএভিপিএসে প্রথম এবং আরওএতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। ৭০ স্কেলে ২০১৯ সালে ব্যাংকটির প্রাপ্ত স্কোর এর আগেরবারের তুলনায় কমে গেছে। এবার ব্যাংকটি ৩৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ স্কোর অর্জন করেছে, যেখানে এর আগের বছর স্কোর ছিল ৩৭ দশমিক ৪৯। এদিকে নিট মুনাফা ও এনএভিপিএস বাদ দিয়ে ৫০ স্কেলে করা স্কোরিংয়েও ব্যাংকটির প্রাপ্ত স্কোর ২৩ দশমিক ২৯ থেকে ২৩ দশমিক ৯১-এ উন্নীত হয়েছে, যার সুবাদে ৫০ স্কেলের Ranking এ ৩ থেকে এবার ২ নম্বরে উঠে এসেছে ব্যাংকটি। স্কোর আগের বছরের চেয়ে কমে যাওয়ার কারণে সেরা ব্যাংকের তালিকায় দ্বিতীয় থেকে তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে বাজার মূলধনে দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাংক ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড। ব্যাংকটির সার্বিক স্কোর ৩৪ দশমিক শূন্য ৯ থেকে ২৯ দশমিক ৪০-এ নেমে এসেছে। পাঁচ নির্দেশকে স্কোর ২৫ দশমিক ১৩ থেকে ২১ দশমিক ৫৩-তে নেমে আসায় ৫০ স্কেলের Ranking এ দ্বিতীয় থেকে ৬ নম্বরে নেমে গেছে ব্র্যাক ব্যাংক। গত বছর ব্যাংকটি আরওএ চ্যাম্পিয়ন হলেও এবার তারা ৩ নম্বরে নেমে গেছে। ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, বিদায়ী বছরে আমরা ব্যাংকের প্রযুক্তিগত উন্নয়নে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করেছি। এজন্য ব্র্যাক ব্যাংকের মুনাফা কিছুটা কমেছে। এর প্রভাবই ব্যাংকের অন্যসব সূচকে পড়েছে। প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগকে আমরা ব্যয় হিসেবে না দেখে বিনিয়োগ হিসেবে দেখছি। এ বিনিয়োগের সুফল আমরা সহসা পেতে শুরু করব। ব্র্যাক ব্যাংকের সামাজিক দায়দায়িত্ব রয়েছে। এজন্য আমরা শুধুই মুনাফার পেছনে ছুটতে চাই না। তিন বছর ধরে Ranking এ ধারাবাহিক উন্নয়ন করেছে প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড। ২০১৭ সালে Ranking এ ব্যাংকটির অবস্থান ছিল ১৫। প্রত্যাশার চেয়েও ভালো করায় ২০১৮ সালে সার্বিক Ranking তালিকায় ৫ নম্বরে উঠে এসেছিল প্রতিষ্ঠানটি। এবার আরো এক ধাপ এগিয়ে Ranking এ প্রিমিয়ার ব্যাংক স্থান পেয়েছে শীর্ষ ৪-এ। আবার ৫০ স্কেলের Ranking এ ৪ থেকে ৩ নম্বরে উঠে এসেছে ব্যাংকটি। Ranking এ পাশাপাশি প্রাপ্ত নম্বরেও উন্নতি করেছে প্রিমিয়ার ব্যাংক। ৭০-এ তাদের স্কোর ২৬ দশমিক ২১ থেকে ২৮ দশমিক ৮৬ এবং ৫০ স্কেলে ২২ দশমিক শূন্য ১ থেকে ২৩ দশমিক ৪৯-এ উন্নীত হয়েছে। দেশের শীর্ষ চার ব্যাংকের মধ্যে স্থান করে নেয়াকে গৌরবের বলে জানান প্রিমিয়ার ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম রিয়াজুল করিম। তিনি বলেন, গত কয়েক বছর ধরে আমরা গণমানুষের ব্যাংক হওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। এ চেষ্টায় আমরা শতভাগ সফল। ব্যাংকের প্রতিটি সূচকে উন্নতি হয়েছে। উদ্বৃত্ত তারল্য দিয়ে আমরা প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার সরকারি বিল-বন্ড কিনেছি। এর মাধ্যমে ব্যাংকের ভিত আরো মজবুত হয়েছে। এম রিয়াজুল করিম জানান, প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পরিচালনা পর্ষদের সার্বক্ষণিক দিকনির্দেশনা আমাদের সমৃদ্ধির পথে চলতে অনুপ্রাণিত করেছে। আমরা ব্যাংকের কস্ট অব ফান্ড কমিয়ে এনেছি। বড় ঋণ থেকে বেরিয়ে এসএমই ও রিটেইল ব্যাংকিংয়ে জোর দেয়া হয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রিমিয়ার ব্যাংক ছড়িয়ে পড়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে ব্যাংককে ঢেলে সাজানো হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রিমিয়ার ব্যাংক যে ভিতের ওপর দাঁড়িয়েছে, তাতে আগামীর পথ চলা আরো উজ্জ্বল হবে। আকারের দিক থেকে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যাংক হলো ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড। ব্যাংকটির দায় ও ইকুইটির পরিমাণ ছাড়িয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। তবে বিদায়ী বছরে Ranking এ এক ধাপ পিছিয়েছে ব্যাংকটি। একই সঙ্গে ব্যাংকটির প্রাপ্ত নম্বরও কিছুটা কমেছে। মূলত আরওএ, আরওই এবং সিএআরের দিক থেকে পিছিয়ে থাকায় ইসলামী ব্যাংকের Ranking অবনমন হয়েছে। ২০১৮ সালে ব্যাংকটির সার্বিক Ranking ছিল ৪। এবার এক ধাপ পিছিয়ে ইসলামী ব্যাংক ৫ নম্বরে নেমেছে। তবে নিট মুনাফার দিক থেকে ব্যাংকটির অবস্থান সবার শীর্ষে। এনপিএলের হারে তৃতীয় এবং এনএভিপিএসের দিক থেকে চতুর্থ অবস্থানে আছে ইসলামী ব্যাংক। সব মিলিয়ে সার্বিক সূচকে ইসলামী ব্যাংক নম্বর পেয়েছে ২৮ দশমিক ৭৪, ২০১৮ সালে মোট ২৯ দশমিক ৬৩ নম্বর পেয়েছিল ব্যাংকটি। এনএভিপিএস ও নিট মুনাফা বাদ দিয়ে করা Ranking এ ইসলামী ব্যাংকের অবস্থান নবম থেকে দশম স্থানে নেমেছে। ৫০ স্কেলে ব্যাংকটির স্কোর ১৯ দশমিক ৫৭। ইসলামী ব্যাংক বিশ্বের শীর্ষ এক হাজার ব্যাংকের একটি বলে জানান মো. মাহবুব-উল-আলম, যিনি দেশের বৃহৎ ব্যাংকটির শীর্ষ নির্বাহীর দায়িত্বে রয়েছেন। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক Ranking এ বাংলাদেশের অন্য কোনো ব্যাংক গণনায়ই আসেনি। এক্ষেত্রে ইসলামী ব্যাংক অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ব্যাংকিংকে ব্যবসা হিসেবে না দেখে আমরা মানব সেবা হিসেবে দেখি। এজন্য দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইসলামী ব্যাংকের সেবা ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সম্পদের আকার বড় হওয়ায় আমাদের সিএআরের আকারও অনেক বড়। আমরা ব্যাসেল-৩ অনুযায়ী পর্যাপ্ত মূলধন সংরক্ষণ করতে পেরেছি। গত এক মাসে ইসলামী ব্যাংকে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার আমানত বেড়েছে। গ্রাহকদের আস্থা ও বিশ্বাসের কারণেই আমানতের এ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ভবিষ্যতে ইসলামী ব্যাংক আরো ভালো করবে। Ranking টেবিলে ধারাবাহিক উন্নতি করছে ব্যাংক এশিয়া। ২০১৬ সালে সাত নির্দেশকে ২১ দশমিক ৫৩ স্কোর নিয়ে ব্যাংকটি ছিল ১৯ নম্বরে। ২০১৭ সালে ২৪ দশমিক ৫৯ স্কোর নিয়ে তারা উঠে আসে ১০ নম্বরে। এরপর ২০১৮ সালে ব্যাংক এশিয়া Ranking এ সপ্তম স্থানে উঠে আসে। আর বিদায়ী বছরে ব্যাংকটি স্থান করে নিয়েছে শীর্ষ ৬-এ। আর ৫০ স্কেলের Ranking এ ব্যাংক এশিয়া চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে। সিএআর সূচকে ব্যাংকটির অবস্থান দেশসেরা। আর শাখাপ্রতি আয়ের দিক থেকে ব্যাংক এশিয়ার অবস্থান দ্বিতীয়। সব মিলিয়ে সাতটি সূচকে ব্যাংক এশিয়া পেয়েছে ২৬ দশমিক ৩২ নম্বর। ৫০ স্কেলে ব্যাংকটির স্কোর ২২ দশমিক ২৫। ২০১৮ সালে এ দুটি স্কেলে ব্যাংক এশিয়ার প্রাপ্ত নম্বর ছিল যথাক্রমে ২৫ দশমিক ৪৮ ও ২১ দশমিক ১৬। ব্যাংক এশিয়ার শীর্ষ নির্বাহী মো. আরফান আলী বলেন, গত কয়েক বছর ধরেই ব্যাংক এশিয়া ধারাবাহিক উন্নতি করেছে। বণিক বার্তার Ranking এ আমাদের উন্নতি তার প্রমাণই দিচ্ছে। গত কয়েক বছর ডিভিডেন্ড কম দিয়ে আমরা ব্যাংকের ভিত মজবুত করার দিকে বেশি নজর দিয়েছি। ফলে মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত বা সিএআরের দিক থেকে ব্যাংক এশিয়া দেশসেরা অবস্থান পেয়েছে। করোনাকালে দেশের অনেক ব্যাংকই ঝুঁকিতে আছে, এক্ষেত্রে ব্যাংক এশিয়া অনেকটাই ঝুঁকিমুক্ত। ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করছে এমন ব্যাংকগুলোর একটি ট্রাস্ট। ২০১৮ সালে Ranking এ ট্রাস্ট ব্যাংকের অবস্থান ছিল অষ্টম। এবারের Ranking এ ব্যাংকটি এক ধাপ এগিয়ে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে। এনএভিপিএস ও নিট মুনাফা বাদ দিয়ে ৫০ স্কেলের স্কোরে ট্রাস্ট ব্যাংক স্থান করে নিয়েছে পঞ্চম স্থানে। সবকটি সূচক মিলিয়ে ট্রাস্ট ব্যাংকের প্রাপ্ত নম্বর ২৬ দশমিক ২৪। ২০১৮ সালে ২৫ দশমিক শূন্য ১ নম্বর পেয়েছিল ব্যাংকটি। ট্রাস্ট ব্যাংকের শক্তির জায়গা হলো আরওই এবং শাখাপ্রতি মুনাফা। আর দুর্বলতার জায়গা হলো খেলাপি ঋণের উচ্চহার। ট্রাস্ট ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী ফারুক মঈনউদ্দীন বলেন, অতীতের কিছু খেলাপি ঋণ না থাকলে Ranking এ ট্রাস্ট ব্যাংক আরো ভালো করত। তবে কিছু সূচক আছে যেগুলো সংখ্যা বা অর্থের পরিমাপে মাপা যায় না। করপোরেট সুশাসনের দিক থেকে ট্রাস্ট ব্যাংকের অবস্থান সবার ঊর্ধ্বে। আর কস্ট-টু-ইনকাম রেশিওর দিক থেকে আমরা সবার শীর্ষে। ১০০ টাকা আয় করতে ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যয় হয় মাত্র ৩৫ টাকা। এজন্যই করোনাকালে ব্যয় সংকোচন নিয়ে আমাদের দুশ্চিন্তা করতে হয়নি। অথচ দেশের অনেক ব্যাংকই কর্মীদের বেতন কমিয়ে কস্ট-টু-ইনকাম রেশিও কমানোর চেষ্টা করছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকগুলোর একটি দ্য সিটি। ২০১৬ সালে বণিক বার্তার Ranking এ ব্যাংকটির অবস্থান ছিল তৃতীয়। এর পর থেকেই Ranking এ পেছাতে থাকে ব্যাংকটি। তবে ২০১৯ সালে আবারো ঘুরে দাঁড়িয়েছে সিটি ব্যাংক। এবারের Ranking এ সামগ্রিকভাবে ব্যাংকটির চার ধাপ উন্নতি হয়েছে। সাতটি সূচকে দেশসেরা ব্যাংকের তালিকার অষ্টম স্থান পেয়েছে সিটি ব্যাংক। ২০১৮ সালে ব্যাংকটির অবস্থান ছিল ১২তম। সামগ্রিক সূচকে সিটি ব্যাংকের প্রাপ্ত নম্বর ২৫ দশমিক ৯৮। আগের বছর ২৩ দশমিক শূন্য ৩ স্কোর পেয়েছিল ব্যাংকটি। সিটি ব্যাংকের শক্তির জায়গা হলো শাখাপ্রতি আয়, সিএআর, আরওএ ও আরওই। অন্যদিকে দুর্বলতার জায়গা হলো খেলাপি ঋণের উচ্চহার ও এনএভিপিএস। Ranking এ চার ধাপ উন্নতিতে খুশি সিটি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী মাসরুর আরেফিন। তিনি বলেন, সিটি ব্যাংক তার হারানো Ranking ফিরে পাচ্ছে, এটি আনন্দের সংবাদ। সমগ্রিক দিক থেকে আমাদের ব্যাংকের ভিত অনেক শক্তিশালী। তবে দুর্বলতার দিক হলো খেলাপি ঋণ কিছুটা বেড়ে গেছে। খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনাকে আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। আশা করছি, এক্ষেত্রে দ্রুতই আমরা সফলতা পাব। একই সঙ্গে সিটি ব্যাংকের শাখাগুলো পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে, এর মাধ্যমে শাখাপ্রতি ব্যাংকের আয় আরো বাড়বে। Ranking তালিকায় নিজের জায়গা ধরে রাখতে পেরেছে যমুনা ব্যাংক লিমিটেড। ২০১৮ সালে সমগ্রিক Ranking এ ব্যাংকটির অবস্থান ছিল নবম। ২০১৯ সালেও একই অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে ব্যাংকটি। তবে ২০১৯ সালে যমুনা ব্যাংকের প্রাপ্ত স্কোর বেড়েছে। একই সঙ্গে ৫০ স্কোরের সূচকে এক ধাপ এগিয়ে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে ব্যাংকটি। সাতটি সূচকে বিদায়ী বছর যমুনা ব্যাংক পেয়েছে ২৫ দশমিক ৭৮ নম্বর, যা ২০১৮ সালে ছিল ২৪ দশমিক ৭৮। যমুনা ব্যাংকের শক্তির জায়গা হলো খেলাপি ঋণের নিম্নহার, আরওএ ও আরওই। অন্যদিকে দুর্বলতা হলো শাখাপ্রতি কম আয় ও এনএভিপিএস। জনসেবার প্রতি গুরুত্ব দেয়ার কারণেই যমুনা ব্যাংকের শাখাপ্রতি আয় কম বলে মনে করেন ব্যাংকটির শীর্ষ নির্বাহী মির্জা ইলিয়াছ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, যমুনা ব্যাংক দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে শাখার সংখ্যা বাড়ানোয় গুরুত্ব দিয়েছে। এজন্যই আমাদের শাখাপ্রতি আয় কিছুটা কম। তবে খেলাপি ঋণের লাগাম টেনে ধরাটি আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় সফলতা। ব্যাংকের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আমরা ব্যাসেল-৩-এর সবকটি সূচক সফলতার সঙ্গে পালন করেছি। এছাড়া করপোরেট সুশাসন যথাযথভাবে বাস্তবায়নের কারণে বাজারে যমুনা ব্যাংকের কোনো বদনাম নেই। Ranking তালিকায় ছয় ধাপ এগিয়ে এবার শীর্ষ ১০-এ উঠে এসেছে ঢাকা ব্যাংক। ব্যাংকটির সার্বিক স্কোর ২২ দশমিক ৮২ থেকে এবার ২৪ দশমিক ১৩-এ উন্নীত হয়েছে। এবার ব্যাংকটি মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাতের তালিকায় ১০ থেকে ৪-এ উঠে এসেছে। অন্যদিকে শাখাপ্রতি পরিচালন মুনাফার দিক দিয়ে ৪ থেকে ৯-এ নেমে গেছে। পাঁচ নির্দেশকে ৫০-এর স্কেলে ব্যাংকটির স্কোর ১৯ দশমিক ২৮ থেকে ২০ দশমিক ৪১ এ উন্নীত হয়েছে। এতে ব্যাংকটি এ তালিকায় ১১ থেকে ৯-এ উন্নীত হয়েছে। ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমরানুল হক বলেন, Ranking এ এক সঙ্গে ছয় ধাপ উন্নয়ন আমাদের জন্য আনন্দের। উন্নতির ধারাবাহিকতা আমরা ধরে রাখতে চাই। এজন্য আরওএ, আরওই, নিট মুনাফা ও এনএভিপিএসসহ যেসব সূচকে আমরা কিছুটা পিছিয়ে আছি, তা উন্নয়নে জোর দেয়া হবে। তবে এ বছর ও আগামী বছরে আমরা ঢাকা ব্যাংকের ব্যালান্সশিটের আকার খুব বেশি বাড়াব না। এই দুই বছর আমরা ব্যাংকের স্বাস্থ্য ভালো করায় জোর দিচ্ছি। সেরা ব্যাংকের তালিকায় এবার সবচেয়ে বেশি উত্থান হয়েছে ইউসিবি ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের। এর মধ্যে ইউসিবি ১৯ থেকে ১১-তে এবং শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ২৪ থেকে ১৬-তে উঠে এসেছে। ইউসিবির সার্বিক স্কোর ২২ দশমিক শূন্য ৫ থেকে ২৩ দশমিক ৯১ এবং শাহজালাল ইসলামীর ১৯ দশমিক ৮৬ থেকে ২২ দশমিক ৭৪-এ উন্নীত হয়েছে। আর ৫০-এর স্কেলে ইউসিবি ২২ থেকে ১৭ এবং শাহজালাল ইসলামী ২১ থেকে ১২তম অবস্থানে উঠে এসেছে। মূলত মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাতের দিক দিয়ে উন্নতির কারণে ইউসিবির এবং শ্রেণীকৃত ঋণ অনুপাতে উন্নতির কারণে সেরা ব্যাংকের তালিকায় শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের উত্থান হয়েছে। Ranking এ উন্নতির ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়ে আশাবাদী শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী মো. শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, গত দুই বছরে আমরা ব্যাংকের কস্ট অব ফান্ড কমানো, খেলাপি ঋণের লাগাম টানা ও মূলধনের ভিত শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছি। বণিক বার্তার Ranking এ এসবের প্রতিফলনই ফুটে উঠেছে। যে শক্তিশালী ভিতের ওপর ব্যাংক দাঁড়িয়েছে, তাতে আগামীতে আমরা আরো ভালো করব। এদিকে সেরা ব্যাংকের তালিকায় সবচেয়ে বড় অবনমন হয়েছে এমটিবি, পূবালী, মার্কেন্টাইল ও এনবিএলের। এর মধ্যে এমটিবি ১৫ থেকে ২৩, পূবালী ১৭ থেকে ২৪, মার্কেন্টাইল ৬ থেকে ১৩ এবং এনবিএল ১১ থেকে ১৮-তে নেমে গেছে। এমটিবির সার্বিক স্কোর ২২ দশমিক ৮৭ থেকে ২০ দশমিক ৫৩, পূবালীর ২২ দশমিক ৬৭ থেকে ১৯ দশমিক ৭২, মার্কেন্টাইলের ২৬ দশমিক ১৫ থেকে ২৩ দশমিক ৭৫ এবং এনবিএলের ২৩ দশমিক শূন্য ৪ থেকে ২২ দশমিক ৪৪-এ নেমে গেছে। আর ৫০-এর স্কেলে এমটিবি ১২ থেকে ২০, পূবালী ২৪ থেকে ২৬, মার্কেন্টাইল ব্যাংক ৬ থেকে ১৩ এবং এনবিএল ১৭ থেকে ২২-এ নেমে গেছে। আরওইতে অবনমনের কারণে এমটিবির; আরওএ, আরওই, নিট মুনাফা ও এনএভিপিএসে অবনমনের কারণে পূবালীর; আরওএ, আরওই, নিট মুনাফা ও শ্রেণীকৃত ঋণ অনুপাতে অবনমনের করণে মার্কেন্টাইলের এবং আরওই, মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত ও শাখাপ্রতি পরিচালন মুনাফায় অবনমনের ফলে এনবিএলের Ranking এর অবনতি হয়েছে। তাছাড়া এনসিসি ব্যাংক ১৮ থেকে ১৪, আইএফআইসি ২৬ থেকে ২০, উত্তরা ব্যাংক ২৩ থেকে ২১, ফার্স্ট সিকিউরিটি ২৫ থেকে ২২, এক্সিম ব্যাংক ২০ থেকে ১৯ এবং এবি ব্যাংক ২৯ থেকে ২৮তম স্থানে উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে সাউথইস্ট ব্যাংক ১০ থেকে ১২, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক ১৪ থেকে ১৫, প্রাইম ব্যাংক ১৩ থেকে ১৭, এনবিএল ১১ থেকে ১৮, ওয়ান ব্যাংক ২২ থেকে ২৫, এসআইবিএল ২১ থেকে ২৬ এবং রূপালী ব্যাংক ২৮ থেকে ২৯তম স্থানে নেমে এসেছে। স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক (২৭) ও আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের (৩০)Ranking গত বছরের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে। সাতটি নির্দেশকে করা Ranking এ মোট নম্বর ছিল ৭০। কিন্তু ইবিএল ও ডাচ্-বাংলা বাদে আর সব ব্যাংকই নম্বর পেয়েছে ৩০-এর নিচে। অর্থাৎ দেশের প্রায় শতভাগ ব্যাংকই অর্ধেক নম্বরও পায়নি। অন্যদিকে পাঁচ নির্দেশকের ভিত্তিতে করা Ranking এর মোট নম্বর ছিল ৫০। এর মধ্যে ইবিএল বাদে আর সব ব্যাংকই অর্ধেকের কম নম্বর পেয়েছে।- প্রতিবেদক: হাছান আদনান ও মেহেদী হাসান রাহাত, বণিক বার্তা অনলাইন
মাথাপিছু আয় দুই হাজার ডলার ছাড়ালো
১১আগস্ট,মঙ্গলবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনার মহামারীতেও সদ্যবিদায়ী ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে মাথাপিছু আয় বেড়েছে ১৫৫ ডলার। বর্তমানে দেশে মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৬৪ মার্কিন ডলারে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রাক্কলিত হিসাবে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশী মুদ্রায় মানুষের মাথাপিছু আয় বছরে দাঁড়াচ্ছে গড়ে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৮৮৮ টাকা। অর্থাৎ, মাসে গড় আয় প্রায় ১৪ হাজার ৫৭৪ টাকার মতো। প্রসঙ্গত, মাথাপিছু গড় আয় কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত আয় নয়। একটি দেশের মোট আয়কে মাথাপিছু ভাগ করে দেওয়া হয়। বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশের মাথাপিছু আয় ছিল এক হাজার ৬১০ ডলার, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এক হাজার ৭৫১ ডলার, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এক হাজার ৯০৯ ডলার এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে দুই হাজার ৬৪ ডলার। এদিকে বিবিএস জানিয়েছে, মহামারী করোনার মধ্যেও বিদায়ী ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। এর আগে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিল বাংলাদেশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরেই বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়। তবে করোনার প্রভাবে আগের অর্থবছরের তুলনায় কমেছে ২ দশমিক ৯১ শতাংশ। এছাড়া চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরেও ৮ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
জুলাইয়ে ২.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা
০৩আগস্ট,সোমবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাসের প্রকোপের মধ্যেও শুধু জুলাই মাসে ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা । বিশ্বজুড়ে ইতিহাসে একক মাসে এর আগে কখনো এত পরিমাণ রেমিট্যান্স আসেনি। গত জুন মাসের পুরো সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১ দশমিক ৮৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রবাসী আয়ের এ ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকার জন্য সরকারের সময়োপযোগী ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের ইতিহাসে এযাবতকালের মধ্যে সর্ব্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৭ দশমিক ২৮৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। গত ৩০ জুন ২০২০ তারিখে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ০১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসে যেটি ছিল সর্বোচ্চ। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে সেটি পৌছেছে ৩৭ দশমিক ২৮৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেকর্ডে। রিজার্ভের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধিতে গুরূত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে রেমিট্যান্সের আন্তঃপ্রবাহ। করোনার মধ্যে প্রতিকূল পরিবেশে থেকেও নিয়মিত রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। কঠিন সময়ে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করেছে। এক্ষেত্রে দেশ ও পরিবারের প্রতি তাদের ভালোবাসা এবং দায়বদ্ধতার বহি:প্রকাশ ঘটেছে। অর্থনীতির চাকাকে বেগবান রাখতে বড় অবদান রাখছে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স। রেমিট্যান্সে দেশের এ অনন্য রেকর্ডে প্রবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় গত অর্থবছরের শুরু থেকে প্রবাসীদের প্রেরিত আয়ের উপর ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনা প্রদান অব্যাহত আছে যার ফলে গতবছর ১৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। চলতি অর্থবছরে ৩-৫ বিলিয়ন ডলার বাড়তি অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি। সামনের দিনে রেমিট্যান্স বৈধ পথে আনতে যত কৌশল অবলম্বন করতে হয় সেটা আমরা নেব। তিনি বলেন, প্রবাসীদের রয়েছে দেশের প্রতি অকৃতিম ভালোবাসা আর মমত্ববোধ। তাদের টাকা প্রেরণে যত বাধা রয়েছে সেগুলো দূর করা হবে। উল্লেখ্য, চিকিৎসার ফলোআপের পরে লন্ডন থেকে আজ সকালে অর্থমন্ত্রী ঢাকায় ফিরে নিয়মিত দাপ্তরিক কাজকর্ম শুরু করেছেন।
পানির দামে চামড়া বিক্রি
০৩আগস্ট,সোমবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ও রপ্তানির ঘোষণা দেয়ার পরও রাজধানীসহ সারা দেশে পানির দামে বিক্রি হয়েছে চামড়া, ঠেকানো যায়নি বিপর্যয়। অনেকে চামড়া বেচতে না পেরে শেষ পর্যন্ত এতিমখানায় দিতে বাধ্য হয়েছেন। পথে বসেছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীতে গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে প্রকারভেদে ১০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত। আর ছাগলের ২ থেকে ১০ টাকা। রাজধানীর বাহিরে আরও ভয়াবহ অবস্থা। অনেক স্থানে গত বছরের চেয়েও নাজুক পরিস্থিতি। যেখানে মৌসুমী ব্যবসায়ী না থাকার পাশাপাশি, সাড়া নেই পাইকারদেরও। রাজধানীর জিগাতলা, পোস্তগলা, বাড্ডা এলাকা ঘুরে এমন চিত্রই উঠে এসেছে। অথচ গতবারের চেয়ে এ বছর ২০-২৯ শতাংশ কমে চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়। যাতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীরাও। যদিও, চলমান করোনা মহামারির কথা চিন্তা করে আগেই চামড়া বিক্রি কম বলে আশঙ্কা করেছিলেন অর্থনীতিবিদরা। দেশের আড়তদার ও ট্যানারির মালিকরা বলছেন, এ বছর গতবারের চেয়ে ৩০-৩৫ শতাংশ কম চামড়া আসবে। তাই চামড়ার বেশি চাহিদা রয়েছে। তারপরও দাম কমার সেই পুরনো অজুহাতই দেখাচ্ছেন তারা। এদিকে, ঢাকার বাহিরে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর ও বরিশালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিবছর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত মূল্যের হেরফের করে চামড়া কিনলেও এবার যেন সম্পূর্ণই নিরব ভূমিকায় স্থানীয় মৌসুমী ব্যবসায়ী ও পাইকাররা। তাই কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ বিক্রেতারা। অনেক স্থানে খুচরা ও মৌসুমী ব্যবসাীয় না থাকায় কোরবানির পশুর চামড়া কেটে ভাগীদারদের মাঝে বন্টন করতেও দেখা গেছে। প্রসঙ্গত, চলতি বছর ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়া নির্ধারণ করা হয় প্রতি বর্গফুট ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দরে, যা গতবার ছিল প্রতি বর্গফুট ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। সে হিসেবে দাম কমানো হয়েছে ২৯ শতাংশ। আর ঢাকার বাইরে ধরা হয় প্রতি বর্গফুট ২৮ থেকে ৩২ টাকা, যা গত বছর ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। এক্ষেত্রে গতবছরের চেয়ে দাম কমানো হয় প্রায় ২০ শতাংশ। এ ছাড়া সারাদেশে খাসির চামড়া গত বছরের প্রতি বর্গফুট ১৮ থেকে ২০ টাকা থেকে ২৭ শতাংশ কমিয়ে ১৩ থেকে ১৫ টাকা করা হয়। আর বকরির চামড়া গত বছরের ১৩ থেকে ১৫ টাকা বর্গফুটের দর থেকে কমিয়ে এবার ১০ থেকে ১২ টাকা করা হয়।- একুশে টেলিভিশন
বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
৩০জুলাই,বৃহস্পতিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বন্যা কবলিত এলাকায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। একইসঙ্গে বন্যা কবলিত এলাকায় স্বাভাবিক মৎস্য ও প্রাণিজ উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়নে কর্মকৌশল নির্ধারণেরও তাগিদ দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) মৎস্য অধিদপ্তর ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এসব নির্দেশ দেন মন্ত্রী। তার নির্দেশনার আলোকে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে নির্দেশনা পত্র পাঠিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। মৎস্য অধিদপ্তরে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, বন্যা পরবর্তী মৎস্যখাতের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের কারিগরী সহায়তা দিতে মাঠ পর্যায়ের মৎস্য কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বন্যা পরবর্তী মৎস্য চাষে পোনার চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারিদের অতিরিক্ত পোনা উৎপাদন ও মজুদ করে পরবর্তীতে ব্যবহারের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এ আলোকে সরকারি-বেসরকারি খামারে পোনা মজুদের ব্যবস্থা নেওয়া এবং চাষ করা মাছের সুরক্ষায় করণীয় সম্পর্কে মৎস্য চাষি, উদ্যোক্তা ও খামারিদের পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়ার জন্য মৎস্য অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, বন্যাদুর্গত এলাকায় গবাদিপশু-পাখির রোগব্যাধি প্রতিরোধ ও প্রতিকার কার্যক্রম জোরদারকরণ এবং বন্যাপীড়িতদের পরামর্শ দান ও কারিগরি সহায়তা দেওয়ার জন্য মাঠ পর্যায়ের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই পত্রে বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসনের জন্য সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলোর চেকলিস্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ও সে অনুযায়ী কার্যক্রম নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া, বন্য কবলিত এলাকায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের চলমান ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত পশু খাদ্যখাতে বাজেট বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে পত্র দিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এদিকে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কন্ট্রোল রুম চালু করে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রাণিসম্পদ খাতের সর্বশেষ চিত্র এবং বন্যাকবলিত এলাকায় নেওয়া পদক্ষেপের তথ্য প্রতিদিন মন্ত্রণালয়ে পাঠাচ্ছে। কন্ট্রোল রুম থেকে ২৯ জুলাই তারিখে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বন্যা কবলিত এলাকায় মোট ১২ লাখ ১৯ হাজার ৬শ ২২টি গবাদিপশু ও ৪৯ লাখ ৬০ হাজার ৪শ ২১টি হাঁস-মুরগি উঁচু জায়গায় স্থানান্তর করা হয়েছে। ২৪৯টি ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিম গঠন করে ৮১ হাজার ১শ ৬৮টি গবাদিপশু ও ৪ লাখ ১৩ হাজার ৬শ ৩৪টি হাঁস-মুরগিকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। বিতরণ করা হয়েছে ১ হাজার ৭শ ১৩ মেট্রিক টন গো-খাদ্য।- বাংলা নিউজ
4G ব্যবহারে ভারত - পাকিস্তানের পেছনে বাংলাদেশ
২১,জুলাই,মঙ্গলবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি মানুষ এখন মুঠোফোন ব্যবহার করেন। তবে তাদের বেশির ভাগই এখনো ফিচার ফোনে রয়ে গেছেন। আবার দ্রুত গতির চতুর্থ প্রজন্মের ইন্টারনেট (ফোরজি) সেবার ব্যবহারকারীও তুলনামূলক কম। দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি মানুষ এখন মুঠোফোন ব্যবহার করেন। তবে তাদের বেশির ভাগই এখনো ফিচার ফোনে রয়ে গেছেন। আবার দ্রুত গতির চতুর্থ প্রজন্মের ইন্টারনেট (ফোরজি) সেবার ব্যবহারকারীও তুলনামূলক কম। এ চিত্র উঠে এসেছে মুঠোফোন অপারেটরদের বৈশ্বিক সংগঠন জিএসএমএর মোবাইল ইকোনমি ২০২০: এশিয়া-প্যাসিফিক' শীর্ষক এক প্রতিবেদনে। এতে বাংলাদেশসহ এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের টেলিযোগাযোগ খাতের পরিস্থিতি উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, আঞ্চলিকভাবে ফোরজি ব্যবহারে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। জিএসএমের হিসাবে, ২০১৯ সালে দেশে মোট মুঠোফোন গ্রাহকের ১০ শতাংশ ফোরজি ব্যবহার করেছে। ৪০ শতাংশ করেছে তৃতীয় প্রজন্মের ইন্টারনেট সেবা বা থ্রিজি ব্যবহার। বাকিরা ছিল পুরোনো টুজি প্রযুক্তিতে। আলোচ্য সময়ে ভারতে ৫৬ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ায় ৫৫, পাকিস্তানে ২৬ শতাংশ, মালয়েশিয়ায় ৬৯, দক্ষিণ কোরিয়ায় ৮২ ও জাপানে ৮৮ শতাংশ গ্রাহক ফোরজি ব্যবহার করেছে। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে ফোরজি সেবা চালু হয়। সরকার আগামী বছর উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা ফাইভজি চালুর পরিকল্পনা করছে। তবে জিএসএমের প্রাক্কলন বলছে, ২০২৫ সাল নাগাদ দেশের ৬ শতাংশ গ্রাহক ফাইভজি সেবার আওতায় আসবে। তখন ফোরজি গ্রাহক দাঁড়াবে মোট গ্রাহকের ৪৬ শতাংশে। বাকি ৩০ শতাংশ থ্রিজি ও ১৮ শতাংশ টুজিতে থাকবে। দেশে ফোরজি গ্রাহক এত কম কেন জানতে চাইলে রবি আজিয়াটার চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম বলেন, ২০১৮ সালে দেশে ফোরজি সেবা চালুর পরে মোবাইল অপারেটররা এখন পর্যন্ত দেশের ৮০ শতাংশ এলাকা ফোরজি নেটওয়ার্কের আওতায় এনেছে। সে তুলনায় বাংলাদেশে ফোরজি গ্রাহক ততটা বেশি নয়, এর প্রধান কারণ হলো ফোরজি ব্যবহার উপযোগী মুঠোফোনের স্বল্পতা। তিনি বলেন, আরও বেশি গ্রাহককে ফোরজি সেবায় আনতে হলে মুঠোফোনের দাম কমাতে হবে। জিএসএমের হিসাবে, দেশের মুঠোফোন ব্যবহারকারীর ৪০ শতাংশ স্মার্টফোন ব্যবহার করে। ২০২৫ সালে দেশের মুঠোফোন ব্যবহারকারীর ৬৯ শতাংশ স্মার্টফোন ব্যবহারকারী দাঁড়াবে। অবশ্য স্মার্টফোন মানেই ফোরজি ব্যবহার উপযোগী নয়। জিএসএমের হিসাবে, মোট জনসংখ্যার ৫৪ শতাংশের হাতে মুঠোফোন রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৫৬ লাখ। আর দেশে মুঠোফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৮ কোটি ৯৪ লাখ। এটি মূলত 'ইউনিক ইউজার', যার মানে হলো, এক ব্যক্তির একাধিক সিম (গ্রাহক শনাক্তকরণ নম্বর) থাকলেও তাঁকে একজন গ্রাহক হিসেবেই ধরা হয়েছে। জিএসএমের হিসাবে, মোট ইউনিক ইউজারের ২৫ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। সংখ্যার হিসাবে যা প্রায় ২ কোটি ২৪ লাখে দাঁড়ায়। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) হিসাবে, মে মাস শেষে দেশে মুঠোফোন গ্রাহক দাঁড়িয়েছে (সিম সংখ্যা) ১৬ কোটি ১৫ লাখ। আর মুঠোফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৯ কোটি ৪০ লাখ। অবশ্য এ ক্ষেত্রে ৯০ দিনের মধ্যে একবার কথা বলা ও খুদেবার্তা পাঠানো বা ইন্টারনেট ব্যবহার করলেই তাকে একজন গ্রাহক হিসেবে ধরা হয়েছে।

অর্থনীতি পাতার আরো খবর